ইউজার লগইন

আমি আকাশ যাব

আমি আকাশ যাব
প্রথম পর্ব
ছোটবেলায় যখন দুর আকাশকে দেখতাম বাকা ও গোল হয়ে মাটির নিচে ঢুকে যাচ্ছে,ভাবতাম অই তো এক্টু দুরে গেলেই আকাশটাকে ছুতে পারব। আমার পিঠাপিঠি ছোট বোনটি যেদিন আমাদের ছেড়ে চলে গেল শুন্য আকাশে না ফেরার দেশে,আমার বুকের ভিতর যে দুটা কলিজা আছে, তা যে কত শত, হাজা্র, কোটি টুকরা হয়েছিল, কচি বুক তার হিসেব রাখতে পারেনি, তবে ওই বয়সেই আকাশের মালিককে প্রশ্ন করেছিলাম,কেন তুমি আমার খেলার সাথি ঝগড়ার পাখিকে আমার কাছ থেকে আকাশে নিয়ে গেলে। তোমার ওই আকাশে আমি আসব, আমাকে এক্টু তার সাথে দেখা করতে দিও।

আকাশ ধরার জন্য একদিন অতি প্রত্যুষে কাউকে না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু কোন দিকে গেলে আকাশ ধরা যাবে, ওই তো উত্তর দিকে,হাজার হাজার বিঘা সরকারি পতিত জমি যেখানে আমাদের বাড়ির বছরমারি কাম্লা আমাদের গরু চড়ায়। ওই জমিগুলো পার হলেই তো আকাশটাকে ধরতে পারব। শুনেছি আকাশে নাকি অনেক পাহাড়াদার থাকে,ইয়া মোটা লম্বা মোচ ওয়ালা বড় বড় চোখ, দেখলেই নাকি ভয়ে মুত চলে আসে। তা হউক ওদের আমি সব বুঝিয়ে বললে ওরা নিশ্চয় আমার কথা শুনবে।IMG_20150324_001951.jpgআজ থেকে চার দশক আগে না হলে বিল্ডিং এ চড়েই আকাশে যেতে পারতাম

অতি ভোরে কেউ যেন দেখতে না পায়,তাই সড়ক পথে না গিয়ে ধান ক্ষেতের আল ধরে ধরে হাটতে লাগলাম। ধানের গাছ গুলো উচু হয়েছে, আইলের দুই পাশের ক্ষেতের ধান গুলো এক বা দুই মালিকের হলেও গলা জড়াজড়ি করে এমন ভাবে আছে যেন কেউ রাস্তা দিয়ে যেতে না পারে। অথবা যে কটাদিন এক সাথে আছে মায়া মমতায়,সুখে দুঃখে এক সাথেই থাকবে। আচ্ছা ধান গাছ, কলা গাছ, পাট, সরিষা সবাই যদি বুড়া না হওয়া পর্যন্ত একসাথে থাকতে পারে তবে আকাশ ওয়ালা আমার বোন্টাকে কেন আগেই নিয়ে গেল।
চলার পথের আইল মাঝে মাঝে কাটা আর তাতে পানিও আছে।শীতের সকাল পানিতে পা ফেল্লে মনে হয় যেন বরফে পা পড়ছে।
গায়ে হাফ সার্ট আর পড়নে হাফ প্যাট। এক সময় গায়ে ঝালা অনুভব করলাম। দেখি জামার হাতার উপরে দুই হাত আর পেন্টের নিচের দুই পা ধানের পাতার ধারালো অংশে চিকন চিকন কাটা দিছে,,মাঝে মাঝে রক্ত উকিঝুকি মারলেও ঝলন বাবাজি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন।

আচ্ছা হাফ পেন্টের নিচে ব্যথা কিসের। হাত দিলাম তুল তুল করছে। অরে বাবারে চিনা যুগ।এত ক্ষনে চিনা না ভম্বল মার্কা আস্ট্রেলিয়ান আকার ধারন করেছে।
ভয়ে গা শিউরে উঠল।কি আর করা, কাউকে তো ঢাকাও যাবে না।তাইলেই তো আমার বুবুকে দেখার সব আশা শেষ। চার আইল যেখানে জোড়া লাগছে সেইটা এক্টু উচু ও শুক্না মনে হল। প্যান্টা খুলে বসে পড়লাম। আহ আর এক্টু হলেই তো নুনুতে ধরতো। শুনেছি নুনুতে জোক ধরলে নাকি মানুষ মারা যায়। যাক বাইচ্যা গেছি। তবে একদিকে ভালই হত। বুবুর সাথে দেখা করার জন্য আমাকে আকাশে চড়তে হতো না। (চলবে)
আবুল হোসেন
মার্চ,২৪,২০১৫ ঢাকা

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

luthfarrahman's picture


very nice blog , i find it today.From now i read it regularly.

আরাফাত শান্ত's picture


টাইপ করতে গিয়ে আপনার অনেক বানান ভুল হয়। আশা করি সতর্ক থাকবেন সামনে।

আহসান হাবীব's picture


ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।