ইউজার লগইন

ভাবনা দিয়েছি ছেড়ে, এত ভেবে হয় কি?

খুব লিখতে ইচ্ছে করছে, তাই নিরুপায় হয়ে লিখতে বসা। মাঝে মাঝে এমন হয় খুব লিখতে ইচ্ছে করে, বিশেষ করে এমন রোজার দিনগুলোতে। আগে তো রাতে জেগে থাকা মানেই আমার ব্লগ লেখা। সামান্য দিনগুলোকে নিয়ে লিখে গেছি সামান্য সব লেখা। এখনও রাত জাগি, লেখতে ইচ্ছে করে, কিন্তু লেখা আর হয় না। বই পড়ি, টিভি দেখি, মোবাইলে হেডফোন নিয়ে কেটে যায় সময়। আজ অনেকদিন পর লিখতে বসলাম শুধু লেখার ইচ্ছা পূরণ করার জন্য। সারাদিন অফিসে ব্যস্ত সময়, ইফতারীর পর আড্ডা, রাতে কম ঘুমানো সব মিলিয়ে এ কদিনে চেহারায় কেমন জানি বয়স্ক মানুষের ছাপ পড়ে গেল। তার ভেতরে চুল গুলো ঝড়ছে সমানে। এইসব নিয়ে আর ভাবি না, মানুষ মরে যায়, বানের জলে ভেসে যায় মানুষ, আর রূপ যৌবন দিয়ে কি হবে। যে অপ্রেমের অতি সাধারণ জীবন আমার তাতে ওতো ভেবে কি হয়, তাও ভাবি ভাবতে ভাবতে দিন চলে যায়। এখনও আমার পুরোনো লেখা অচেনা কেউ কেউ পড়ে, ফেসবুকে সেই ভালো লাগা জানায়। অবাক হই, কত আগের সব লেখা। আমি নিজেই ভুলে গেছি। ফেসবুকের মেমোরী জানান দেয়, শেয়ার কৃত লেখা আবার পড়ে আশ্চর্য হই। কি ছেলে মানুষী সব আবেগ থেকে লিখে যাওয়া। তবে খুশীর কথা এখনও তাই আছি। বন্ধুরা দেখলেই বলে আগের মতোই আছোস, আমি দাত বের করে হাসি দিয়ে বলি নতুন করে নিজেকে বদলানোর মত কিছু হয় না আমার জীবনে।

বাসে করে বাসায় ফিরছিলাম। এক লোক উঠলো, মানিব্যাগ বিক্রেতা। আগুন ধরিয়ে বলছে আসল চামড়ার মানিব্যাগ। দাম ২০০ টাকা। আমি জানি না আসল চামড়ার মানিব্যাগ বিক্রি কিভাবে এত কমে সম্ভব? যাই হোক বিক্রেতা এখন খেললো রমজান কার্ড। বলে ভাই রোজা রেখে মিথ্যা বললে আল্লাহ যেন পরকালে আমাকে শাস্তি দেয়। সাথে সাথে বিক্রি বেড়ে গেল। আমি ভাবছিলাম দুতিন বছর আগের এক কথা। এক মুরগী বিক্রেতা আমাকে বলেছিলো, ইস্তেমা থেকে ফিরছি ভাই, মিথ্যা কথা বললে যেন আমার উপর ঠাডা পড়ে। সেই ভর দুপুরে আল্লাহ কেন তার উপরে বজ্রপাত নিক্ষেপ করবে তার কারন আমি খুঁজে পেলাম না। এই যে কথায় কথায় ধর্মকে টেনে আনা এর মানে কি বুঝলাম না, যে সত্য বলবে তার ধর্মকে কেন লাগবে? আর ধর্মের দোহাই দিলেই কেন তার কথা সত্য মেনে নিতে হবে। মানুষ তো, মিথ্যা বলতেই পারে। এলিফ্যান্ট রোডে কত আল্লাহ খোদার নামে কসম খাওয়া দোকানী মিথ্যা কথা বলে তাঁরা দিব্যি সুখে আছে, ব্যাবসাও বড় হচ্ছে। এই শহরে অনেকের কাছেই ধর্ম একটা ঢাল- প্রতারণার, দাঁড়ি রেখে সত্যভাজন হবার অভিনয় করা মানুষরা কি ভাবে না তাদের ধর্মের পরকালের কথা। ভাবে হয়তো কিন্তু বিশ্বাস করে না,এরকম অসৎ ঠগ জোচ্চোর রাই ধর্মের নীতি জ্ঞান চান্স পেলেই ঝাড়ে। আমার এক বন্ধুর অফিসে বেশীর ভাগ লোকই ধর্মের ডায়লগ দিতে দিতে অজ্ঞান। রোজার ৩য় দিনে থেকে সব আলেমরা লাঞ্চ করে, এতই খায় যে অনেকে খেতে পায় না। ডায়লগের বেলায় ষোলোয়ানা, কাজের বেলায় দুই আনা, এই করেই চলছে আমাদের ধার্মিক জীবন।

রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্লোগান সরকারের উপর মহল থেকে শুরু করে লাল দাতের পান দোকানদার সবাই দেয়। কিন্তু রোজার পবিত্রতা ব্যাপারটা আসলে খায় না মাথায় দেয় তাই আমার চিন্তায় আসেই না। বাস্তবিক কারনেই শহরের ৭০ ভাগ মানুষ রোজা রাখে না। পর্দা দিয়ে আস্তরণ দেয়া সব চায়ের দোকানে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুন মানুষ থাকে, রুটি কলা কেক চা খেয়ে সব শেষ করে দেয়। এইসব ফ্যাক্ট। এখন রোজার পবিত্রতা রক্ষার নামে যদি আপনি খাবারের দোকান বন্ধ করে দেন, বা সেই পক্ষে থাকেন তাহলে আপনি মস্তিকের শুদ্ধতা নিয়ে আমার ডাউট আছে। চট্টগ্রামে শিবিরের দাপটের কারনে সব বন্ধ থাকতো, পাড়ার লোকজন তখন খেতে যেত,মহাজন ঘাটায় হিন্দু হোটেলে। আমার বন্ধুরা গিয়ে দেখতো চেনা পরিচিত সব আলেম মুরুব্বীরা সেই খানা দিচ্ছে। ভন্ডামীর সীমানা নাই। সংযমের যে কেনাকাটা আর হল্লাহাটি তাতে তিন মাসের খরচ চলে যায় এক মাসে। ভিআইপি বেগুন আর সি আইপি ছোলা কিনতে কিনতে পকেটের টাকা শেষ, এর নাম নাকি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আর ইফতার সেহরী নামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া চেকইন নিয়ে পাবলিকের যে আদিখ্যেতা, চড় মেরে সবার কান গরম করে দিতে ইচ্ছে করে। লোক দেখানোর নাম যদি ইসলাম হতো, অনেক কাল আগেই দুনিয়া থেকে হারিয়ে যেত।

পাকিস্তানি বিখ্যাত কাওয়ালী শিল্পী সাবরী ব্রাদার্সের আমজাদ সাবরীকে মেরে ফেলা হলো। সেদিন দেখলাম তসলিমা নাসরিন উদাহরন দিয়ে বুঝাচ্ছেন বাংলাদেশের অবস্থা কিভাবে পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ। আমি খালি চোখে দেখি গুলি বনাম চাপাতি। নিঃসন্দেহে চাপাতিতে সওয়াব বেশী, তাই দেশে এই কুটির শিল্পের অস্ত্র নিয়েই খুনের আগ্রহ বেশী। নায়ক সুলভ ভিক্টরি ল্যাপ দিয়ে বাড়ী ফেরা যায়। নতুন এক ট্রেন্ড আবার শুরু হলো,কয়েকজন জঙ্গীকে ক্রসফায়ারে দেয়া। আমি এর পক্ষে নই একদম। কারন আমি চাইনা কোনও জঙ্গি সহানুভুতিতে মরুক। ইতিমধ্যেই অনেকে ভাবা শুরু করেছে, উগ্রপন্থীরাই নির্যাতিত। যে প্রশাসনের আশ্রয় প্রশয় কিংবা নির্লিপ্ততায় যেভাবে খুন হয়েছে সারা বাংলায়, খুন হওয়া মানুষকেই ভিক্টিমাইজ করা হয়েছে তাতে ক্রসফায়ার পুরোনো এক উপদ্রব ছাড়া আর কিছু না। বিচার না করার শত বাহানা। ফাহিম কিংবা রানাদের কারা কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ে পাঠাচ্ছে তাদের বিচার করাই আসল কাজ। কিন্তু কেন করবে, কি লাভ, বকধার্মিকদের দেশে এইসব খুব মামুলি ইস্যু। কত বড় একটা ক্ষোভ ছিল তনু হত্যাকান্ড নিয়ে তারই কিছু হলো না। বরং তনুর পরিবারের বেঁচে থাকা সদস্যদের জান নিয়ে টানাটানি চলছে। তাই কথা সেটাই, যে যার এজেন্ডা নিয়ে বিজি, জনগনের এজেন্ডা নিয়ে কারও ভাবনা কখনই ছিল না, আর এই অটোপাশ সরকারের তো আরও নাই। আজ থেকে অনেক বছর আগে যে আদর্শ নিয়ে আওয়ামীলীগ অসাম্প্রদায়িক বাঙালী জাতীয়তাবাদের কথা বলতো, ক্ষমতার পরোটার সাথে কবে তা খাসীর নেহারী ভেবে খেয়ে হজম করে ফেলছে। সামান্য লেখাতেই মানুষের এই প্রতিক্রিয়া, আমি ভারতের কথা ভাবি, নরেদ্র মোদী-কেজরিওয়াল- রাহুলকে নিয়ে অজস্র কমেডিয়ান হাজারে হাজারে জোকস বলছে সবার সামনে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের নিয়ে এমন বললে রক্তের বন্যা বসে যেত।

আড্ডা জমে না আর। সন্ধ্যাতে বের হই না কোথাও। প্রিয় শহরে চিটাগাংয়ে যাই না দুবছরের বেশী, বাড়ীতে যাওয়া হয় না ছয় মাস। অবশ্য তেমন মিস করি না কোথাও। ভালো লাগে না। এক স্থবিরতা বিলাসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে অনেকটা সময়। সেদিন আমার একবন্ধু বললো ফেসবুকে তোর দিন যাপনের স্ট্যাটাস গুলো বাধিয়ে রাখার মতো, কিন্তু রাজনীতি নিয়ে তোর লেখা হয় নাই। আমি কিছুই বলি নাই। কি আসে যায়। যার ভাবনা তার তার। ব্লগে লিখেছি কত, পড়ে থাকে অলস ভাবে। কজনইবা আর লিখে এমনই এমনই। তানবীরা আপু বলছিলো-- দুইটা তিনটা বছর গেছে তোমার লেখা নিয়মিত পড়ে পড়ে, লেখো না কেন আর? এই ব্লগেই আসা হয় না আর তোমার লেখা পড়তে। আমিও অবাক হই কিভাবে বন্ধ করে দিলাম লেখা। এই লেখাই তো নিজের ভাবনা জানানোর জায়গা, আমার কথা তো শেষ হয়ে যায় নি। ফেসবুকে চষে বেড়াতে ক্লান্ত লাগে তাও স্ট্যাটাস দেয়া বন্ধ করি না। আর লেখা বন্ধ করে দিলাম। বর্ণ খুব ভালো পায় আমাকে, বলছিলো অনেক আগে আপনার লেখা না দেখলে মনে হয় আপনি অসুস্থ কিংবা ব্যস্ত, নয়তো লিখবেন না কেন? এত ভোরে লিখছি কারন নানু মামা মামী বাড়ীতে চলে যাচ্ছে, বাসায় থাকবো একা একা। একটু পরেই বের হবে সবাই। বাসায় একা থাকতে এখন বেশ লাগে, ফ্যামিলী বাসায় বাসায় থাকতে অনেকদিন নিজের মত একা থাকা হয় না। যদিও আমার সবচাইতে ভালো লাগে প্রিয় বন্ধুদের সাথে সুন্দর করে একাকী থাকতে। এই লেখাটা লিখতে গিয়ে ভাবছিলাম ইস যদি কারেন্ট চলে যেত, মুছে যেত পুরোটাই। আবার নতুন ভাবে শুরু করতাম পরের মাসে। দিনগুলো ভালো ছিল, কারেন্ট চলে যেত লেখার শেষদিকে, খুব মন খারাপ হতো, একরুমের সেই বাসা থেকে বের হয়ে ছাদের রেলিংয়ে মন খারাপ করে বসে থাকতাম। সামান্য দিনলিপি হারানোর শোকে আমার মরতে ইচ্ছে করতো। আমার বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করেছিল তিন বছর আগে যাপিত জীবনের উপর বিরক্ত হয়ে, যে আমরা আসলে বেচে থাকি কেন? কি লাভ? আমি বলেছিলাম তোর খবর জানি না, আমি বেচে আছি কারন আত্মহত্যার সাহস নেই বলে। সফল সুইসাইডের জন্য যে স্ট্রং মনোবল ও নিজ ইচ্ছায় মৃত্যুকে বরন করার জন্য যে নির্ভীক চিত্তের দরকার তা আমার ভয়াবহ অনুপস্থিত। আমার বন্ধুটি ভালো আছে, বিয়ের জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুজছে।

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


শান্ত এর লেখার সবচেয়ে ইউনিক দিক হলো, এতে খুব নিদারুন কিছু সত্যি লেখা থাকে যা আমাকে খুব টানে। সাদা-কালো সত্যি।।।

ইজিপ্টে-তিউনিশিয়াতেও দেখেছি আল্লাহ'র নামে কসম খেয়ে মিথ্যে বলে জিনিস বিক্রি করতে

আরাফাত শান্ত's picture


আপনি কষ্ট করে এসে কমেন্ট করে যান এরচেয়ে ভালো কিছু হয় না।

অতিথি's picture


ভাল লাগলো।লেখা থামাবেন না প্লিজ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই পয়সার মানুষ।চায়ের দোকানেই দিন পার করি তাই!