ইউজার লগইন

পেইন্ট ইট ব্ল্যাক!

সবাই জানেন শিরোনামটা রোলিং স্টোনের বিখ্যাত গান থেকে ধার করা। গানটা খুবই বিখ্যাত। মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই বিলবোর্ড চার্টের প্রথমে জায়গা করে নেয়। প্রচুর কাভার, প্রচুর জায়গায় ব্যাবহার হয়েছে গানটা। আমার কাছে রোলিং স্টোনের সব চাইতে প্রিয় গান। যদিও মানে ভিন্ন, আমিও সবকিছুকে কালো করে দিতে চাই, সব রং হারিয়ে যাক বেঁচে থাক শুধু কালো। এত রঙ্গিন দেখার, রঙ্গিন ভাবার কি আছে। সব কিছুই জাহান্নাম, সব সুন্দরই জঘন্য, আমাদের কোনও কারন নেই সুন্দর সুন্দর জিনিস ভাবার। রাতে ঘুম আসে না, সকালে ঘুমাই ক্লান্তিতে। দুদিন পরে ঈদ একফোটা আনন্দ নেই। একটু পর ট্রেনে চেপে বাড়ি যাবো কতদিন পর, সামান্যতম উত্তেজনা কাজ করছে না। মনে হচ্ছে কোথাও হারিয়ে যাই, কেউ খুঁজে পাবে না। একা একা গাছের নীচে বসে থাকি সারাদিন। যে দুর্বিষহ অবস্থা এই শহরের, মনে হয় একটা ভূমিকম্প হোক সব শেষ হয়ে যাক একবারেই।

ইতিমধ্যে ব্যাপারটা সাধারণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা এখন খুবই বিস্ময়কর। এই শহরে এত বড় ঘটনা ঘটবে তা স্বপ্নেও ভাবি না। যে লক্ষণ ছিল তাতে আমরা সবাই ভেবেছিলাম এরকম ঘটনা ঘটবে সামনে তবে এত জলদি তা আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে আসবে তা রীতিমত দুঃস্বপ্ন। পাঁচজন ছেলে এক কাল রাতে একটা দেশকে কার্যত স্তব্ধ করে দিলো। যে ছবি তাদের প্রকাশিত তাঁরা নিতান্তই তরুণ, উচ্চবিত্তের সন্তান, ভালো জায়গায় পড়াশুনা করা, আইএস প্রশিক্ষণ নিয়েই তাঁরা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালালো গুলশানে। বিদেশি-দেশী এলিট-পুলিশ-হোটেল স্টাফ মারা পড়লো সব মিলে আড়াই ডজন মানুষ। জঙ্গীরাও জিতলো, আর্মিও সফল অভিযান চালালো, সবার উইন উইন সিচুয়েশন। মারা গেল নিরপরাধ মানুষ। কি পরিমান জানোয়ার হলে পাঁচজন মানুষ ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে টানা, তাও নাকি তারা কোমলমতি। তাদেরকে যারা কোমলমতি বলে আমি তাদের কোমল গাল থাপ্পড় মেরে দাত ফেলতে চাই। অনেকে দিচ্ছেন ব্রেইনওয়াশের দোহাই, আমিও বলি ব্রেইনওয়াশ বড় ইস্যু, কিন্তু আমার কাছে সরকারের ব্রেইনটা ওয়াশ হওয়া জরুরী। বিভিন্ন জেলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন হতে হতে ডালভাত বানানোর পরেও সরকার উদ্বেগহীন। আইএস নেই নেই করে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলেছে। সরকারকে এই ব্রেইনওয়াশটা কে বা কারা করলো, তা আমার জানতে ইচ্ছে করে। আমার মনে পড়ে বছর পাঁচেক আগে সরকার খুব উৎসাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গী কানেকশনের লোক ধরে বাহবা নিতো, তাঁরাই এখন উল্টো পথে বলে-- কেউ নাই বাংলাদেশে। অবাক হতে হতে অভ্যাস হয়ে গেছে, তাই আর অবাক হই না। এই ঘটনা হতে পারতো টারনিং পয়েন্ট, সরকার সামনে কঠোর হস্তে দমন করবে জঙ্গী, রক্ষা পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু এত বড় ঘটনার প্রতিক্রিয়াতে যা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে হবে ঘোড়ার ডিম। এই ইস্যুই অলরেডী চাপা পড়বে ঈদের খুশী, ৮০০ টিভি নাটক ও টেলিফিল্মের কাছে, আর ফেসবুক তো আছেই সব কিছু ভুলিয়ে দেয়ার অব্যর্থ রেসিপি। সরকার থেকে বলা হচ্ছে, কোনটা ইসলাম কোনটা ইসলাম নয়। এইসব কথা শুনলে আমার হাসি পায়। যারা এই বর্বর হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তারা তাদের ইসলামকে মেনেই করেছে, আপনার কাছ থেকে সওয়াল জবাব চাইতে আসে নাই। আপনি মুফতী মাওলানা না, যে কোনটা ঠিক না ভুল তা বের করা। তা বের করলেও ওদের কোনও উপকার আসবে না। আপনার কাজ থামানোর, কিভাবে থামাবেন তা আপনি জানেন। এখন সরকার যদি ভাবে বিপদগামীরা সত্য বুঝবে, সত্য বুঝে আলোর পথে আসবে এরচেয়ে আজাইরা ভাবনা আর হতে পারে না। আর প্রধানমন্ত্রীর কথা ও দিক নির্দেশনা উনার পুত্রসম ছাত্রলীগ তথা নিজের দলের লোকজনই শুনে না, কোমল মতি জংগীরা কিভাবে শুনে আলোর পথে আসবে! জংগীরা শতভাগ ডিটারমাইন্ড, সরকার ও দলের লোকজন শত ভাগ পল্টিবাজ। তাই আমি আশাবাদীর কিছু দেখি না, একমাত্র আল্লাহর কাছে প্রে করা ছাড়া।

জনগন আছে মন্দ না। ব্যাপারটা নিয়ে থ্রিল অনুভব করে তাঁরা এখন আছে ব্লেইম গেমে। এমেরিকা, ভারত, পাকিস্তান, আওয়ামীলীগ বিএনপি জামাত সবার নামেই আছে ঘটনা ঘটানোর ষড়যন্ত্র। জঙ্গী সিমপ্যাথাইজারদের সংখ্যাও নেহায়েত মন্দ না। অল্পবয়সী ছেলেদের জঙ্গী হতে দেখে অনেকের দরদ আকাশ ছুইছে। কেউ কেউ বলছেন সবাইকে ভালোবাসার কথা। ভালোবাসা দিয়ে ও নিয়ে- বাংলা সিনেমা হয়, জঙ্গী দমন সম্ভব না। আপনার দিকে উদ্ধত গ্রেনেড, আপনার দিকে উদ্ধত চাপাতি, আপনার স্বদেশ পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে আর আপনি তার বদলে সবাইকে বুকে টেনে নিবেন এইটা মহাত্মা গান্ধীর আমলেও সম্ভব ছিল না এখন তো আরও সম্ভব না। ভালোবাসা বাড়াতে পারেন আপনার সন্তানের প্রতি, আপনার বন্ধু বান্ধবের প্রতি, আপনার কাছে যাদের ভালো লাগে তাদের প্রতি, কিন্তু যে ভাবছে আপনাকে খুন করলে জান্নাত, তার সাথে প্রেম করা আর যমদুতকে বাসায় পোলাও খেতে দাওয়াত দেয়া সেইম কাজ। যারা এইসব কথা বলেন তাঁরা আপাতত সুরা মুখস্থ করেন, কারন আপনাদের সেলফ ডিফেন্স হতে পারে এখন সেটাই। আপনারা কিউটনেসের অপেক্ষায় থাকেন। এই আওয়ামী লীগ যদি ভাবে গদি টেকানোই আসল, জনগন মরুক, গদি কিছুদিন টিকবে অবশ্যই, যখন গদি থাকবে না তখন অবস্থা কি ভয়াবহ একবার ভাবেন। নিজেদের জন্য হলেও জঙ্গীদেরকে দমন করতে সবচেয়ে বেশী চেষ্টা করেন। নয়তো আপনারাই হবেন দায়ী, জঙ্গীদের হাত মজবুত করলে জঙ্গী আপনার হাত কাটা ছেড়ে দিবে না। আমাদের না হয় জীবন নিয়ে ওতো আশা ভরসা নেই, সাধারন জনগন আমরা, আপনাদের প্রাণের মুল্য তো কম না, তাই ভাবেন, ভেবে কাজ করেন, সামনে আরও কত বিপদ আসবে তখন আপনারা আরও একাই হবেন। কাউকে পাবেন না পাশে।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অতিথি's picture


Sad

তানবীরা's picture


শান্ত, খুবই বাস্তব বিশ্লেষন --- ক্ষমতার কাছে সবাই অসহায়

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই পয়সার মানুষ।চায়ের দোকানেই দিন পার করি তাই!