ইউজার লগইন

মালায়লাম নিউ জেনারেশন মুভি!

আজ লেখার মুডে আছি। সাধারণত লিখতে ইচ্ছে করে না।সময় থাকে তাও লিখতে বসি না। সারাদিন পিসির সামনে থেকে রাতেও ল্যাপটপ নিয়ে বসতে ইচ্ছে করেনা। বসলেও সিনেমা দেখা ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না। লেখার মতো অনেক কিছুই থাকে তা কিছুটা ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দেই, আর বাকী সব চাপা পড়ে যায় প্রতিদিনের দিন যাপনে। আজ তাই লিখতে বসে গেছি। জানিনা পোষ্ট দেয়া হবে কিনা। শুরু করা যাক। ব্লগ লেখার চেয়ে আনন্দের আর কি। দিন গুলো যাচ্ছে আগের মতোই। আমার সব দিন যাপনই একরকম। পার্থক্য শুধু রাতে আমি এখনো বারেকের দোকানে যাই। আড্ডা মারি। বন্ধু ছোট ভাইদের কথা শুনি, নিজের কথা বলি। শুক্রবারে বন্ধু জেমস আসে, সপ্তাহের সব আলাপ করে ফেলি সকাল থেকে বিকাল। আম্মু ফোন দেয় খেয়েছি কিনা, আব্বু ফোন দেয় এখন কই কি অবস্থা। এই করে করেই যাচ্ছে দিন। ইউটিউবে গান শুনি, স্ট্যান্ডাপ কমেডির ভিডিও দেখি, ফেসবুকে ইস্যু মেপে স্ট্যাটাস দেই, দুটা টিব্যাগ দিয়ে চা খাই, সমানে রাতে সিনেমা দেখি। ব্লগ না লেখার কষ্ট তো ভুলতে হবে।

যে শিরোনাম শুরু করলাম পোষ্ট তা নিয়ে কিছু বলি। আমি মালায়লাম সিনেমা বেশীদিন ধরে দেখি না এই দেড় দু বছর ধরেই দেখি। নতুন বাসায় ব্রডব্যান্ড লাইন নেয়ার দু চার মাস পর থেকে হবে।তখন টানা কোরিয়ান সিনেমার উপরে ছিলাম। বেশীর ভাগ বিখ্যাত কোরিয়ান সিনেমার দেখার প্যাকেজ শেষের দিকে। ভারতের সাউথের সিনেমা তখন দেখা শুরু করলাম। তেলেগু সিনেমা দেখে যুত পাই না সবার মতো। তামিল কিছু ভালো ভালো সিনেমা দেখলাম ফেসবুকের এক সাউথের গ্রুপের কারনে। সেখানেই একটা মালায়লাম সিনেমার নাম পেলাম। সম্ভবত দ্রিশায়ম, যা পরে অজয় দেবগন কমল হাসান হিন্দি তামিল ভাষায় এডপ্টেশন করেছে। কোরিয়ান থ্রিলার থ্রিলার ভাব আছে। খুব ভালো লাগছে এমন না, আবারো খারাপও লাগে নাই। এরপর দেখলাম কানাড়া এক সিনেমা নাম ছিল 'লুসিয়া'। সেটা আরো বেশী ভালো লাগছিলো। দারুণ সাইকোলজিকাল থ্রিলার। তামিলে এটা এডপ্ট করেছে ইনাক্কুল অরুভান নামে, সিদ্ধার্থ থাকে মেইন ক্যারেক্টারে। তারপর কোন সিনেমাটা দেখে আবার মালায়লাম সিনেমা দেখা শুরু করলাম এই মুহূর্তে স্মৃতির প্রতারণার কারনে মনে পড়ছে না। তখন আবার পুরাতন হিন্দি সিনেমাও দিনে একাধিক দেখতাম। একদিন 'নেরাম' নামে একটা মালায়লাম সিনেমা দেখলাম তা বেশ মনে ধরলো। একটা শেয়ার বাজারে ধরা খাওয়া যুবকের একদিনের গল্প। সেদিনই তার বান্ধবীর ঘর থেকে চলে আসার দিন, পাওনাদারের সুদে আনা টাকা শোধ করার দিন, বন্ধুর সাথে দেখা করার দিন, সব এলেমেলো হয়ে যায় একটা বিপদে পড়ে। মুভিটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিলো। আমাদের জীবনের মত গল্প।তবে শেষটা সিনেম্যাটিক হ্যাপি এন্ডিং। এরপর থেকে যে মালায়লাম সিনেমা দেখা যে শুরু আর থামাথামি নাই। এখন যখন লোকজন মালায়লাম সিনেমা নানা মুগ্ধতার আলাপ শুনি ভালো লাগে। আমার এক ফেসবুকে ভারতীয় লোকের সাথে খাতির ছিল। চেন্নাইতে থাকে। তার ঋণ ভুলবো না। টরেন্টের অনেক লিংক তার দেয়া। ইংরেজী সাবটাইটেল জোগারেও তার জুড়ি মেলা ভার। টানা দেখতে দেখতে ভাষাও এখন কিছুটা বুঝি। মালায়লাম শব্দের সাথে বাংলার একটু মিল আছে তাও ভেবে আনন্দ লাগে। মালায়লাম সিনেমা নিয়েও পড়েছি। তাদের এক স্টার ছিল নাম প্রেম নাজির। অনেক অভিনয় করেছে, বেশির ভাগই গোয়েন্দা মুভি। অনুমান করি সেই কারনেই মালায়লাম সিনেমার এই ভিন্নতা সাউথের অন্য ভাষার মুভি থেকে।

মালায়লাম সিনেমা আমার কেন ভালো লাগে? কারন ড্রামা- থ্রিলার- কমেডি। তিন দিকেই তাদের সিনেমা খুবই বাস্তব ও সাধারণ। বেশীর ভাগ ভালো মালায়লাম সিনেমার প্রধান আকর্ষণ গল্প। এবং গল্পে তারা অত্যন্ত আধুনিক। ভারতের মত দেশে তাদের একটা গল্পে দুই বিখ্যাত নায়ক গে চরিত্রে অভিনয় করার সাহস রাখে। মজা করে সমকামিতা না, সিরিয়াস ভাবেই, থ্রিলারের চরিত্র হিসাবেই। আবার দেখা যায় প্রধান যে নারী নায়িকা যাকে বলে সে রেইপড। আবার দেখা যায় গল্পের প্রধান শিশু চাইল্ড এবইউসের শিকার। সিনেমা যে আধুনিক আর্ট তা মালায়লাম সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফি আর চরিত্র দেখলেই বুঝা যায়। নিজেদের রাজ্যেই তারা এত দারুণ দারুণ লোকেশনে শুটিং করে কেরালা নাকি ইন্দোনেশিয়া তা ডিফারেন্স করাই সম্ভব না, আর আছে জলের খেলা। এত দারুণ দারুণ সব নদী খাল বিল দেখায়, আর কোচি সমুদ্র সৈকতকে উপস্থাপন করে দেখলে মনে হয় কালই চলে যাই।মালায়লাম সিনেমার আরেকটা ব্যাপার হলো ড্রামা। তাদের ভালো সিনেমায় ড্রামাই সিনেমার প্রান। আমাদের মত মানুষের কথা বলে সিনেমায়, সাধারণ প্রেমের কথা বলে, সাধারণ সাইকোলজির কথা বলে, ভালোবাসা ও আশাবাদের কথা বলে, যে অমিত সম্ভাবনা আমাদের সবার তার জয়গান দেখায়। আমরা নব্বই দশকে যে বাংলা নাটক দেখতাম, মালায়লাম ভালো ড্রামা মুভি কিছুটা সেরকম। মুগ্ধতার রেশ রয়ে যাবে। কমেডি সিনেমায় মালায়লামরা অনেকদিন ধরেই বিখ্যাত, তামিল হিন্দি অনেক সিনেমাই তাদের গল্প নিয়ে সিনেমা করে টাকা কামিয়েছে রাশি রাশি। সিনেমার বাজেট অল্প তাদের কিন্তু কাহিনী আর অভিনয়ে সিনেমাকে মনে হয় কি অদ্ভুত ভালো বানিজ্যিক ছবি। হয়তো সেসব খুব বিখ্যাত আর্ট ফিল্ম তাও দেখলে মন ভালো হয়, সময় টা নষ্ট হলো এমন মনে হয় না। যেমন ধরেন আমার একটা প্রিয় মালায়লাম সিনেমার কথা বলি, সিনেমার নাম '১৯৮৩'। এক সাধারণ ছেলের গল্প। যে ক্রিকেট বড়দের মুখে শুনে ভারতের বিশ্বকাপ পাওয়ার কথা। তার জীবন থাকে ক্রিকেটময়। নিজে খুব ভালো খেলে বড় হয়। পাড়ায় বড় দল হয়ে উঠে তার দল। টেণ্ডুল্কারকে তার ভালো লাগে। কিন্তু জীবন তার সফল না। ফেইল করে কলেজ ড্রপ দেয়। ওদিকে বান্ধবী অনেক পড়াশুনা করে, ভালো বিয়ে হয়ে যায়। সে পারিবারিক ওয়ার্ক শপের দোকানেই কাজ করে। বাসার চাপে বিয়ে করে। ছেলে হয়। ছেলে একটূ বড় হতে হতেই দেখে সন্তান দারুণ ক্রিকেট খেলে। নিজে যা পারে নাই তা ছেলের জন্য ট্রাই করে। ছেলে কোচিং করে শহরে অনেক দূরে।কোচিং স্কুল গুটীবাজি ও আর্থিক অক্ষমতার জন্য সেই ছেলে চান্স পায় কম টিমে। তখন বোলিং মেশিন সে দেখে। নিজের সারাজীবনের ওয়ারকশপের শিক্ষা দিয়ে সে একটা হাতে বানানো বোলিং মেশিন বানায়। ছেলে তাতে প্র্যাক্টিস করে। নিজের প্রতিভা দেখিয়ে ১০ বছরের ছেলে আন্ডার থার্টিনের কোচিং দলে চান্স পায়। তার মাঝখানে তার নরমাল জীবন, ইন্ডিয়ার ক্রিকেটের হালচাল, কুয়েত থেকে ফেরত আশা গ্রামীন শ্রমিক বড়ভাই, এক সাথে বড় হওয়া বন্ধুদের গ্রামেই পরে থাকা সব আছে। আবার কিছুদিন আগে মালায়লাম এক বাজে সিনেমা দেখলাম। ভালো না তাও কি অসাধারণ গল্প। আমেরিকায় থাকে এক মালায়ালি ছেলে যার স্বপ্ন থাকে নব্বই দিকে সিনেমা বানানো। কিন্তু আমেরিকায় পরিবার থেকে শুরু করে কেউ তাকে দাম দেয় না। এমন সময় এক পুরোনো হিন্দি সিনেমার হিরো আমেরিকায় আসে। অনেক কষ্টে রাজী করিয়ে সিনেমা বানায় নিজের টাকা দিয়ে। হলেই দেখাতে পারে না। রাগে সে নিজের বাসার সামনে একটা লনে সেই হিন্দি নায়কের পুরাতন ছবি ও ভিডিও কেটে একটা ডকুমেন্টারী বানায়। যেখানে সে জানায় কেন মানুষ সিনেমা বানাতে চায়? কেন এই আদু গোপাল কৃষ্ণান, সত্যজিত রায়ের মত সিনেমা সে বানাতে চায়। অদ্ভুত ভাবে সেই ডকু অনেকের ভালো লাগে। কমিউনটির লোকজন বুঝে সে দোকানদারী করতে এমেরিকায় আসে নি। এরকম '৫সুন্দরীকাল' নামের এক সিনেমা আছে যেখানে পাচটা দারুণ গল্প। ডায়মন্ড নেকলেস নামে এক সিনেমা আছে মানুষের লোভ ও লোভ থেকে মুক্তির গল্প। হাউ অল্ড আর ইউ নামে এক সিনেমা যেখানে মধ্যবয়সী এক মধ্যবিত্ত নারীর বয়সকে জয় করার গল্প। ওস্তাদ হোটেল নামে এক সিনেমায় একটা প্রাচীন হোটেল তা নিয়ে দাদা ও নাতীর রিলেশন সাথে খাবার দাবার খাওয়ানো কত ইম্পোরটেন্ট এক জিনিস তার গল্প। 'প্রেমাম' একটা মানুষের তিন জীবনের প্রেমের গল্প। মুনিরাপ্পু, মেমোরিজ, মুম্বাই পুলিশ, সেভেনথ ডে,শাটার, পিকেট ফোরটি থ্রি, ইন্নু নিনতে মইয়দ্দিন, মহসিন্তে পাতথিকারাম দারুন সব মুভি।

যে ২০-২২ টা মালায়লাম সিনেমা দিয়ে আপনি মালায়লাম সিনেমা দেখা শুরু করতে পারেন। ভালো লাগবেই--

টুয়েন্টি ফোর কোট্টাম
চার্লি
নাইনটিন এইটি থ্রি
বেঙ্গালোর ডেইজ
টুয়েন্টি টু ফিমেল কোট্টাম
সল্ট এন্ড পিপার
নিলকাসাম পাচকাডাল চুবানা ভুমি
ঠাট্টিন মারিয়াথান
অনন্যাম রসুলাম
প্রেমাম
ওরু ভেড্ডাক্কান সেলফি
হানড্রেড ডেইজ অফ লাভ
ট্রাফিক
ওস্তাদ হোটেল
মুন্নিরিয়াপ্পু
বিক্রমাধিথিয়ান

আরো অনেক সিনেমার নাম দেয়া যায়। দিলাম না। মালায়লাম সিনেমার সমস্যা আমার কাছে একটাই, সিনেমা স্লো।কাহিনী প্রবেশে সময় লাগায়, ডায়লগ আর ন্যারেটিভে বেশী থাকে। এ ছাড়া মালায়লাম সিনেমা দেখা একটা ইউনিক এক্সপেরিয়েন্স। ভারতের মত জায়গায় বসে তারা এত দারুণ কাহিনীর সিনেমা বানাচ্ছে ভাবতেই অবাক লাগে। মালায়লামের আগে স্টার ছিল দু তিন জন। মোহন লাল, মামোত্তি, দীলিপ। এখন ভর্তি নানান চরিত্র অভিনেতায়। কুনচাকো বোবান, আসিফ, পৃথ্বীরাজ, ডাল্কির সালমান, নিভীন পলি। আমার নায়িকাদের ভেতরে খুব ভালো লাগে, নাজারিয়া নাজিম, মঞ্জু ওয়ারিয়ায়, পার্বতী মেনন নমিতা প্রমোদ এদের। আমার প্রিয় পরিচালক রাজেশ পিল্লাই মারা গেছেন এই বছরে অকালে। ভালো লাগে, লাল জোসে, সিদ্দিক, আব্রিদ সিনে, মারটিন প্রাক্কাট এদের।নতুন ভালো সিনেমার খবর পাচ্ছি না। পেলে আবার দেখতে বসে যাবো। মালায়লাম সিনেমা পজেটিভ ভাইব ক্রিয়েট করে মনে। মনে হয় আমাদের দিয়েও দুনিয়ায় কিছু না কিছু হবে। এইদিন দিন নয় আরো দিন আছে।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


তিনটে সিনেমা দেখে তারপর বিশদ মন্তব্য করবো Laughing out loud

আরাফাত শান্ত's picture


দেইখেন পারলে। না পারলে নাই। ওতো পেরেশানির কিছু নাই। এমনিতেই আপনার সময় কম Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই পয়সার মানুষ।চায়ের দোকানেই দিন পার করি তাই!