ইউজার লগইন

আনিকা'এর ব্লগ

ছেঁড়া মেঘে ছেঁড়া রূপকথা... (২)

batighar
''রাজকন্যা পড়ায় ফাঁকি দিতোনা বাবা?''
''তা দেবে কি করে? ও তো ফাঁকি দেয়া শেখেই নাই, আর তারপরেও যদি ওর কখনো পড়তে ইচ্ছা না করতো ও চুপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো। আর ও একটু বেশি সময় ধরে পড়াশুনা না করলেই ডাইনীটা ওর জন্যে অনেক কঠিন সব শাস্তির ব্যবস্থা করতো। যেমন সারারাত ধরে ভয়ানক চেহারার রোবট ওকে ভয় দেখাতো, নাইলে ওকে চিরতার রস গেলানো হতো কিংবা ইলিশ মাছের কাঁটা বাছতে দেয়া হতো। ওর তাই না পড়ে উপায়ই ছিলোনা যে।

ছেঁড়া মেঘে ছেঁড়া রূপকথা... (১)

batighar

দৃশ্যত...

(১)
ফ্রস্টের কবিতার মতো, পথের দুটো শাখা ছিলো অজানার দিকে এলিয়ে। মনে মনে কেমন করে যেন জানাই ছিলো দীর্ঘশ্বাসের শব্দ একদিন গাঢ়তর হবেই, তাই চোখ বুজে হেঁটেছি মন যেদিকে চেয়েছে। অনেক পথের পরে এক নিঃশ্ছিদ্র পাথরের দেয়াল আজ পথের সমান্তরাল। নিজেকেই প্রশ্ন করি, পৃথিবীর শেষ প্রান্তেও কি দেয়ালের কোথাও ফাটল পাওয়া যাবেনা? কিংবা সমান্তরালে হয়তো সবাই চলে, কারো চোখে অদৃশ্য থাকে দেয়াল, আবার কেউ অনেক দেরীতে খুঁজে পায়... কেউ হয়তোবা দেয়াল খুঁজে পাবার আগে নিজেই হারিয়ে যায়। আমি কি তবে সৌভাগ্যবানদের কেউ... যে দেয়ালের সমান্তরালেও ফাটলের স্বপ্ন দেখে?
chhobi
(২)

বিলাতের দিনরাত্রি...২

একে তো চরম মন খারাপ করা দিন কাটে, তার উপরে ক্লাস থেকে ফিরে রোজ দরজা খুলে ঘরে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই একটু, শুনি মহিলাটি আবার কাঁদছে। কাছে গিয়ে সান্ত্বনা দেবার লোভ সামলাই কোনরকমে। চোরের মত ত্রস্তপায়ে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা আটকে বসে থাকি। ল্যাপটপটা কোলের উপরে নিয়ে অন্যমনস্কের মত এই সেই ওয়েব পাতায় ঘুরে বেড়াই। পাশের ঘর থেকে খসখসে বয়স্ক আর তীক্ষ্ণ কিশোরী কন্ঠের চিৎকার ভেসে আসে। মহিলাটি সিলেটি ভাষায় কি বলে যাচ্ছেন, তার পুরোটা বুঝতে পারিনা, আধাআধি যা বুঝি তাতে মনে হয় বারো বছরের মেয়েটির ব্রিটিশ উচ্ছৃংখলতা সিলেটের পাড়াগাঁ থেকে লন্ডন চলে আসা মায়ের সহ্যের বাইরে চলে গেছে। মায়ের কথা না বুঝলেও, মেয়ের মুখের ''শাট আপ, ইউ ব্লাডি হোর'' শুনে আপাদমস্তক চমকে উঠি!

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে....৩

২০০৭ এর সফরে আমি, মৌসুম আর আমাদের তৎকালীন টিম লিডার একসাথে ঘুরে বেড়াতাম বেশিরভাগ সময়ে। একদিন গিয়েছিলাম সাগর সৈকতে, প্রথম বীচটাতে ঢুকে অবশ্য লিডার আমাদেরকে আর সেইখানে ঢুকতে দেননি, সেইটা নাকি ন্যুডিস্ট'দের জায়গা ( আহা! দেখা হইলো না Wink )। যাই হোক বীচে গিয়ে আমার আর মৌসুমের মোটামুটি স্বপ্নভংগ... কই আমাদের কক্সমামু'র বিশাল বালির সৈকত, আর কই এই পাথুরে খ্যাড়খ্যাড়ে বীচ! তবে যেইখানকারই হোক না কেন সাগরের একটা ভীষণরকম আকর্ষণ আছে, কেমন একটা নোনা জলের গন্ধ পাওয়া যায় বাতাসে, পাথরের উপরে বসে কিছুক্ষণ দৃশ্য দেখাদেখি, কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে পানি আর পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি করে চলে আসলাম। ফেরত আসার সময়ে রাস্তা হারিয়ে দুইটা ঘন্টা এদিক সেদিক হাঁটাহাঁটি করসিলাম এইটা বেশ ভালো মতো মনে আছে, পানির তেষ্টায় কলিজা শুকিয়ে গেসলো।

অনিকেত... ১

আমি নিজে আজকে দুপুরে ঘুমিয়ে গেসলাম.. ঘুম থেকে উঠে বেশ একটা কিছু লিখতে মন চাইলো... তাই এইটা লিখতে শুরু করছি... কি দাঁড়াবে জানিনা।
....................................................................................................

অ্যাডাল্ট কেক রেসিপি

cake

এই রান্না শুরু করার আগে বাসায় খুঁইজা দেখেন, কোন কঠিন পানীয় আছে কিনা... কঠিন পানিতে এলার্জি থাকলে ফলের জুস দিতে পারেন, তয় সেইটা আংগুর বা বেরী জুস হইলে ভালো হয়। যাউগ্গা জিনিসপাতি যা যা লাগবো সেইটার লিস্টি:

* লেডি ফিংগার বিস্কুট ( দুকানে পাওয়া যাওয়ার কথা, নামেই বুঝা যাইতেছে মহিলাদের আংগুলের মতো দেখতে বিস্কুট... ভুলে ঢেঁড়স কিন্ন্যা ফেল্লে আমার দুষ নাই)- ৮টা পিস ( এক প‌্যাকেট কিনলেই হওয়ার কথা)।
* তিন টেবিল চামচ কফি,
* ৫ টেবিল চামচ আইসিং সুগার,
* একটা ২৫০ মিলি হুইপিং ক্রিমের ডাব্বা,
* একটা ২০০ গ্রাম ফিলাডেলফিয়া ক্রিম চিজ,
* একটা কুকিং চকোলেটের বার (১৫০ গ্রাম)

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ২

আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিলো অসলো রয়্যাল প‌্যালেসের ঠিক পাশেই, বেশ পশ জায়গা... অবশ্য হোটেলটা ঠিক সেই অর্থে রাজকীয় সুলভ কিছুনা, তবে নেহায়েত মন্দও না। আমি, মৌসুম আর মাল্লিকা এই তিন মহিলা এক ঘরে। অফিস করি রোজ পাঁচটা-ছ'টা পর্যন্ত... এরপরে হোটেলে ফিরে কোন কোন দিন অন্য কলিগদের সাথে ঘুরতে বেরুই... কোনদিন একা একাই ঘুরি... রাত বারোটা পর্যন্ত দিনের আলো থেকে যায়... তাই সময়ের তেমন অভাব নাই... আর আমার শরীরের ভেতরে কেমনে জানি অ্যালার্ম সেট করা হয়ে যায়, তাই আমি ভোর পাঁচটায় উঠে পড়ি... খুটখাট করে বাইরে হাঁটতে চলে যাই... গ্রীষ্মের গাঢ় সবুজ পটভূমিতে যা দেখি তাতেই মুগ্ধ। আর হোটেলের সামনেই রাজার বাড়ি আর বাড়ি সংলগ্ন বাগান... হোটেল থেকে দশ পা গেলেই একটা ডাক-পন্ড... তার উপরে আবার কাঠের ব্রিজ... ওখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে হাঁস দেখি, সমুদ্রের চিল দেখি... রাজকীয় বাগানের বেঞ্চিতে বসে গল্পের বই পড়ি সাতটা পর্যন্ত...

বিলাতের দিনরাত্রি...১

বিলাত চলে আসার সিদ্ধান্তটা বড়ো আচমকা ছিলো, নিজের সাথে আড়াইটে বছর অন এন্ড অফ যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলছিলাম... তারপরে হঠাৎ করে মনে হলো... বাহ! বেশ ক্লান্ত লাগছে তো। একবার এই কথা মনে হলো তো আর যায় কোথা... দিনরাত মনে হতে লাগলো। তিন বছরের
চাকরি জীবনে যতোদূর সম্বল ছিলো একাট্টা করে চলে এলাম এই দেশে। বাপ-মাকে ম্যানেজ করতে গিয়ে অবশ্য তেরোটা বেজেছিলো। এর মাঝখানে নিশীথ সূর্যের দেশে একটা চাকরী'র অফার পেয়ে গেলাম... কিন্তু নিজের আবেগের লাগাম তখনো নিজের হাতে ছিলোনা, তাই সাহস করে উঠতে পারিনি... যাই হোক বিলাতের দশটা মাসের জীবন নিয়ে লিখার ইচ্ছে ছিলো অনেক, আর তাই এই সিরিজ।

ছবি: গ্রীনিচ সানডে মার্কেট
sunday market 1

ঘুরে ফিরে নিশীথ সূর্যের দেশে... ১

অনেক পুরনো ডায়েরী আর ব্লগ ঘেঁটে, তার সাথে স্মৃতির জোড়াতালিতে নূতন করে আবার লিখছি নিশীথ সূর্যের দেশে ঘুরে আসবার কাহিনী।
(কিছু ছবি অন্যদের ক্যামেরা থেকে চুরি করা.. আশা করি তারা জীবনেও আমার এই ব্লগ পড়ে আমাকে পিটুনি লাগাবে না)
.......................................................................................................................................

সত্যি জাদুকর

ভূমিকা:
ফেব্রুয়ারীর প্রথম দিকে... তখন মাত্র মাস খানিক হলো বিলাতে এসেছি... দেখি বই এর দাম সস্তা, আর যা কিনতে চাই তাই পাওয়া যায়। আমার আবার ছোটবেলা থেকেই ফ্যান্টাসি'র উপরে প্রবল টান... এক বন্ধুর উইশলিস্ট দেখে 'লয়েড আলেক্সান্ডার' এর একটা সিরিজ কিনে ফেললাম... প্রাইডেন নামের একটা ইমাজিনারি দুনিয়ার গল্প... মূলত ওয়েলস এর মিথ এর উপরে ভিত্তি করে লেখা। 'দ্য ফাউন্ডলিং এন্ড আদার স্টোরি'স অব প্রাইডেন' হইলো ওই সিরিজের শেষ বই... সিরিজের মূল বইগুলোর এপেনডিক্স মার্কা... এই বই এরই একটা ছোট গল্প এইটা। কি ভেবে যেন অনুবাদ করেছিলাম। এর আগে অন্য একটা ব্লগ ঠিকানায় ছদ্মনামে লিখেছিলাম ... তিন পর্বে... এইখানে একটু পরিমার্জন পরিশোধনের পরে একসাথে গোটা গল্পটা দিচ্ছি।

.............................................................................