ইউজার লগইন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে'এর ব্লগ

একটুখানি রবির গানে..

একটা সময় ছিল,
কোথাও রবিবুড়োর গান হবে শুনলেই দৌড়ে চলে যেতাম শুনতে।

বাসার কাছে হলে তো ভালোই, একটু দূরে হলেও সমস্যা নেই।

আজকাল আর তেমনটা হয় না, সময় করে আর যাওয়া হয় না।
সময়টাই খুব অস্থিরতার,
তাই আজকাল বলা চলে এইসব প্রোগ্রামের খবর চোখেই পড়ে না খুব একটা।

যাই হোক, প্রতিবছর রবি বুড়োর জন্মদিনে ৩/৪ দিনের রবীন্দ্র উৎসব আয়োজন করে থাকে বাংলাদেশ জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা বা পরিষদ। এবারও করেছিল।
৮ থেকে শুরু করে ১১ মে। আগে প্রায় প্রতিদিনই, এমনকি দিনে দুইবেলাও যাওয়া হত গান শুনতে। শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে।

এবার শুধু একদিনই যাওয়া হয়েছে, পরশু। কাল যাওয়ার ইচ্ছা ছিল ছায়ানটের প্রোগ্রামে। সাভারেরর ভবনধ্বসে ১৭ দিন টিকে থেকে ৩৯১ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়ে আসা মিরাকল রেশমার আনন্দের রেশে আর যাওয়া হয় নি ওখানে।

পাবলিক লাইব্রেরি অথবা ছায়ানট, এইসব জায়গায় গেলে সবচেয়ে ভালো লাগে যে ব্যাপারটা তা হল একসাথে এত্ত মানুষ চুপচাপ মুগ্ধ হয়ে রবি বুড়োর গান শোনা। আর এইসব প্রোগ্রামে গেলে চেনাজানা গানের পাশাপাশি অনেক অচেনা আনকমন গানও শোনা হয়ে যায়, এই ব্যাপারটাও খুব ভালো লাগে আমার।

এপিটাফ.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]

নিস্তব্ধতার নিঃস্ব দিনলিপি,
যখন নৈঃশব্দের গান গায়।
চেনা সুসময়ও,
তখন অচেনা অসময় মনে হয়;
নিমেষেই।

নেহাতই অসতর্কতায়,
তখন দেখেছি -

পাজরের অন্ধকার কারাগারে,
নেই বিন্দুমাত্র সূর্যের দিন।
খুঁজে না খুঁজে;
পেয়েছি কেবলই,
গাঢ় মহা অকালের লাল।

অনিচ্ছার ফাঁকা আওয়াজ,
যখন কুড়ে কুড়ে খায় -
ফাঁপা বুলির আস্তাকুড়ে;
ধ্বসে পড়ে আশার ইমারত।

তখন শুনেছি,
অমরত্বের আত্মপ্রলয়ে;
নিহত ভালোবাসার স্পন্দন।

তেপান্তরের মাঠ জুড়ে,
বৃষ্টিবিদায়।
অন্ধ আলোয়,
নিরব স্নানে হারায়;
নিয়ন ঝিকিমিকি রাত।

মর্মরের আদর আচ্ছাদনে;
ঢাকা থাক,
অন্তঃদৃষ্টির পরশপাথর -
মেঘলা মনের ডাক।

সুপ্রিয় শব্দপুঞ্জগুলো;
নিরর্থক
নিহত হবার পর,
নিরবতা বুক চেপে ধরে যখন -

তখন জেনেছি,
কিছুই বলার থাকে না আর।

অন্য কোথাও; অন্য কোনদিন, এইসব দিনরাত্রি.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]

একটা সকাল..
বৃষ্টিস্নাত;
স্নিগ্ধ হাওয়ায়,
নীল..।

একটা দুপুর..
তীব্র রোদে;
হাজার মুখোশ,
মন পুড়ে যায়..
তেপান্তরের,
পথ পানে ধায়..
ছিন্ন কায়া
ভিন্ন ছায়ায়;
মনের মানুষ
আপন মায়ায়,
পথ খুঁজে পথ
পথেই হারায়..।

একটা বিকাল..
ছন্নছাড়া;
গানের তালে,
এক পা দু পা -
হঠাত্ বুঝি;
আনমনা মন,
একলাটি গাঙচিল..।

এক দুটা রাত,
একলা ভীষন..
চোঁখ ধোয়া সব;
আলোর ভিড়েও,
আঁধার কথন..
ক্ষুদ্র প্রাণের;
আহ্বাণে সায়,
এক ফোঁটা জল..
বিসর্জনের মুক্তবায়ে,
আলোর মিছিল..
হারার পরেও;
জয়ের ছলে,
নতুন ভোরের ডাক..।

অনুপম অনুপম!

শিরোনামের দ্বিতীয় শব্দটুকু বিশেষ্য, প্রথম অংশটুকু বিশেষণ!

বলছি আমার একজন প্রিয় শিল্পী অনুপম রায়ের কথা। আমাদের সবার চেনা ভারতীয় বাংলা সিনেমার সুরকার কাম প্লেব্যাক শিল্পী নয়, আজ বরং একটু অচেনা কেবলই শিল্পী অনুপম রায়ের গান নিয়ে কিছু কথকতা হয়ে যাক।

অনুপম রায় কে কেবলই একজন প্লেব্যাক শিল্পী ভাবলে ভয়ংকর একটা অন্যায় হবে। কারন সে একই সাথে তার বেশিরভাগ গানের লেখক এবং সুরকারও বটে। আমার মতে একটা কবিতা বা গান তখনই সত্যিকার পূর্ণতা পেয়ে থাকে যখন কবি নিজেই তার কবিতাকে তার অনুভূতির সুরে সাজিয়ে একটি গানে পরিণত করে তুলতে পারেন। বর্তমান সময়ে দুই বাংলা মিলিয়েও এরকম শিল্পী হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র পাওয়া যায়। এজন্যই আমার মতে, অনুপম সত্যিই অনুপম।

বাদলা হাওয়ার রাত, হাওয়া বদল গান..

ইদানিং বেশ কিছু গান জমে আছে। শুনেছি তবুও যেন শোনা হয় নি।

কাল মধ্যরাতের কথা হবে। নাহ, আরো বেশ কিছু সময় পরে। বলা যায় প্রায় ভোর, ঘুমাবো বলে শুয়ে আছি।

তখনই শুনেও না শোনা এমনই কিছু গান শুনছিলাম। শুনতে শুনতেই হঠাত্‍ ঝড়ো হাওয়া আর শিলাবৃষ্টির ঝাপটা যেন আমার ছোট্ট ঘরটাকে মুগ্ধতায় ভরে দিল কোন কথা না বলেই।
খেয়াল করা হয় নি কখন যেন দুইটা গানে ঘুরেফিরে বারেবার হারিয়ে যাচ্ছি। আরো একটু মন দিয়ে শুনবো বলে ভাবতেই হাওয়াবদল নামের একটা মুভির দুটা গান মন পুরো আওলে দিল নিমিষেই।

প্রথমেই অরিজিত্‍ সিং এর গাওয়া 'মনে পড়লে'। শুনে নিতে পারেন এখানে ।

গানের কথাগুলো এরকম -

মনে পড়লে
অকারন
কাউকে বলা বারণ।

রিম ঝিমঝিম
বরষায়
তুই আজ ভেঁজার কারন।

মেঘেদের ডাকবাক্সে
তোর চিঠি পৌছে দিলাম।

হাওয়ায়
রাতপাখি গান গায়
চোঁখ মুঁছে যায়
রুমালে শুকায়
জ্বরের আরামে
ঘুম এসে যায়।

লাস্ট ট্রেন
হলে মিস
তোর কাছে করি আবদার।

বিষাদলোকের জোছনায় ভেসে যেতে, ভালোবেসে – কিছু কথকতা..

বেশ অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল আজকাল লুপে ফেলার মত নতুন গান বলতে গেলে আসছেই না। মাঝে মাঝে কালে কদাচিৎ কিছু হয়তো মিলে। কিন্তু তার জন্যও আজকাল হাত বাড়াতে হয় ওপার বাংলায়। কিছু কিছু সময়ে একসাথে যখন অনেকগুলি এলবাম রিলিজ পায় তখন দেখা যায় কয়েকটা গান পাওয়া যায় যা হয়তো কয়েকবার শোনা যায়। কিন্তু টানা শুনে নেয়া যাবে, আবার শোনা যাবে এমন কোন গানের এ্যালবামের কথা ভাবলে কিছুই মাথায় আসে না আমার।

খারাপই লাগে ভাবতে। সেই কবে পেয়েছিলাম কৃষ্ণকলি'র 'সূর্যে বাঁধি বাসা', অর্ণবের 'হোক কলরব' অথবা হাবিবের 'শোনো'। প্রায় সবগুলা গানই ছিল শোনার মত, দুয়েকটা ছাড়া কোন গানই স্কিপ করতে হত না। একবার ছেড়ে দিলেই হত, দিব্যি হারিয়ে যাওয়া যেত। তেমন এ্যালবাম আর পাওয়াই যায় না, এই আফসোস আমার মাঝে মাঝেই ঘুরে ঘুরে ফিরে আসে।

বন্ধু- আড্ডা - গান, এরই মাঝে প্রাণ!

শেষমেশ ফিরেই এলাম আবার।
এক কুঁড়ি দুই পাতার দেশ, সিলেট থেকে।
আবারও শুরু আমার চিরাচরিত অলস হাবিজাবি দুষ্টামি দিন।

একবার ভেবেছিলাম এই লেখাটার নাম দিবো, 'সিলেট থেকে ফিরে - ট্রাভেলগ!'। পরে মনে হল, তাহলে কথাটা মিথ্যা বলা হতে পারে! এগারো দিন থেকে এলাম বটে সিলেট, কিন্তু ঘুরতে যাইনি কোন খানেই। কেবল, আদর্শও ছুটির মেজাজে বেড়িয়ে এলাম এই কয়টা দিন।

আচ্ছা, শুরু থেকেই বলি।

পরীক্ষা তো সেই কবেই শেষ, তারও আগে থেকে সিলেট যাবো যাবো করছিলাম। হবে হবে করেও হচ্ছিল না। ১০ তারিখ হঠাৎ করেই মনে হল, যাই গা!
বায়াকে বললাম, ও অফিস থেকে কমলাপুর স্টেশন গিয়ে পেয়ে গেল পরের দিনের টিকেট! এমনিতে যেখানে ৩/৪ দিন আগেও টিকেট কাটতে গিয়ে ফেরত আসতে হয়।

আমাকে আর পায় কে!

টুকটাক কেনাকাটা সেরে সন্ধ্যার পরপরই ব্যাগ গুছিয়ে রেডি।

আজ হতে বহুদিন পরে.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]

বহুদিন;
হয়তো আজ হতে বহুদিন পরে,
হঠাত্‍ মনে পড়ে যাবে -
এই আমায়।

এক চিলতে রাস্তা ধরে;
আরও এক দিন হেঁটে যেতে যেতে,
এক টুকরো আদর মাখা রোদ্দুরে।
ধুসর প্রান্তর - সবুজ দিগন্ত ভুলে,
মনে পড়ে যাবে কোন মেঘলা দিনের গান।

পথ চলবেই,
চলতেই থাকবে।
হঠাত্‍ মেঘ কেটে যাবে;
দেখবে আকাশজোড়া নীল,
ভালোবেসে লীন হয়ে যাওয়া নীল।

হয়তো একটু বসতে চাইবে তুমিও,
ঠিক আমারই মত;
ছায়াসঙ্গী কোন পুরাতন স্মৃতির মত -
পথের পাশে কোন নদীর ধারে।

হয়তো কোন একাকী কালভার্টে -
পা দুলিয়ে চুপচাপ;
একা বসে থাকবে তুমিও,
চোখের পাতা পর্যন্ত স্হির -
হঠাত্‍ থেমে যাওয়া সময়ের হাত ধরে।

কচি সবুজ পাতার ডাকে;
হয়তো শুয়ে থাকবে ঘাসজমিনে,
ঠিক আমারই মত।
তোমার চোখেও খেলা করে যাবে,
আলো আঁধারির কথকতা।

আনমনা মন হারিয়ে যাবে,
হাওয়ায় হাওয়ায়;
চেনা অচেনা গানে।

এভাবেই;
কিছু থেমে থাকা সময়ের পরে,
আবারও ফিরবে পথে।
তোমাকে যে ফিরতেই হবে,
এমনটাই যে কথা ছিল -
তোমার না বলা কথায়।

পথ চলবে - তুমিও।
অপেক্ষায়,
গোধূলির সুপ্রিয় বিষণ্ণ ক্ষণ।

হঠাত্‍ দিনের শেষে এসে,
অথবা ভোরের মুগ্ধতা ছোঁয়া;
আলো অন্ধকারে -

বয়েজ ডু ক্রাই টু..

বাসায় মুভি নাইট ছিল আজ।

শুক্রবার দিন, সারাদিনই সবাই ফ্রি। রিল্যাক্স মোডের একটা দিন।
কিছু মুভি জমেছে দেখার মত, মুভিখোর সবাইকে একসাথে পাচ্ছিলাম না - তাই।

সারাদিনেও বেশ কয়েকবার ভেবেছি, সবাইকে নিয়ে দেখতে বসব একটা কিছু।
হয় নাই, সবাই যে যার মত ইজি কাজে বিজি।
ছুটির দিন এলেই একেকজন আমরা সবাই আলিস বালিশ।

বিকেলের দিকে একটু ঘুরাঘুরি আর কয়েক কাপ চা। ব্যাস, দিন শেষ!

রাতের খাবার খেয়ে মামা আর ভাইয়াকে নিয়ে বসলাম মুভি দেখতে।
প্রথমে ছেড়েছিলাম, 'দ্যা বিস্ট অব দ্যা সাউদার্ন ওয়াইল্ড'।
প্রিন্ট মোটামুটি, দেখে ফেলা যায় আর কি। কিন্তু কিছুক্ষণ দেখে মনে হল
একেকজনের যে উচ্চারন - এই মুভি সাবটাইটেল ছাড়া দেখাটা বোকামি হবে!
রেখে দিলেম আরও 'কোন একদিন' এর জন্য।

যাই হোক, কিছুক্ষণ এটা ওটা ঘেঁটে শেষে থিতু হলাম 'অসম্ভব'-এ এসে!

মুভির অরিজিনাল টাইটেল 'ল ইম্পসিবল' , ইংরেজিতে 'দ্যা ইম্পসিবল', এটা ২০১২ সালে ইংরেজি ভাষায় তৈরি একটি স্প্যানিশ ডিজাস্টার ড্রামা।

আবোল তাবোল - ১৫

# আমি; এবি, আমরা : বাউন্ডুলের জবানবন্দি #

আজকাল এবি তে আসলেই মন ভাল হয়ে যায়। আমি এবি'র খোঁজ পাওয়ার পর থেকেই দেখে আসছি, ভাল লেখা যত টা না চোখে পরে তার চাইতে ঢের বেশি লেখা অদেখাই রয়ে যায়। এর বড় একটা কারন হল ভাল লেখিয়েরা এখন আর লেখতেই চান না, প্রিয় লেখিয়েরা কেবলই হারিয়ে যাওয়াদের দলে নাম লেখিয়ে যান!

তাই বরাবরই আমার একটা আফসোস কাজ করত যে, এবি'র স্বর্ণযুগটা আমার দেখা হল না! ইদানিং সেই আফসোস টা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে।
প্রিয় লেখকেরা আবারও ফিরে আসছেন, লগ-ইন করছেন । চমৎকার সব লেখা পর্যন্ত দিচ্ছেন। আর এবি'র নিয়মিত প্রানের বন্ধুরা তো সাথে আছেন প্রতিদিনই।

সব মিলিয়ে প্রায় প্রত্যেকদিনই প্রথম পাতায় জায়গা করে নিচ্ছে অসাধারণ সব লেখা, প্রিয় ব্লগ কে এমন প্রাণচঞ্চল দেখতে কার না ভাল লাগে!

প্রায় মাসখানেক পার হয়ে গেছে, কিছু লিখতে বসা হয় না। বেশ কয়েকদিন ধরেই ভাবছি, হাবিজাবি একটা কিছু লিখব। লেখা হয় না। আসলে, লেখার সাহস আর উৎসাহ কোনটাই আগের মত পাই না আজকাল।

ঝরাপাতা কথকতা # ২ # আমার আমি

মন ভাল নেই;
মন ভাল হচ্ছে না,
মন ভাল হয় না।

আজ খুব হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে করছে, সেই সকাল থেকেই। পারছি না, কিছুতেই।
আবার ইচ্ছাটাকে ভুলে থাকাটাও সম্ভব হচ্ছে না, মনে পড়ে যাচ্ছে বারেবার।

খুব একলা থাকতে ইচ্ছে করছে আজ,
সব চাওয়া পূরণ হলে তো কোন কথাই ছিল না।

মাঝে মাঝে মনে হয়, নিজের মনের কাছেও বুঝি কিছু আড়াল থাকে।
সে সব জানে ও বোঝে জেনেও তার কাছেও খোলা মনে থাকতে মন চায় না! কি অদ্ভুত!

চেনা দুনিয়ার মাঝে থেকেও মাঝে মাঝে চেনা দুনিয়া থেকে একটু সরে দাঁড়ানো যায়,
মুঠোফোনের দুটি তার কানে গুঁজলেই 'লস্ট ইন মিউজিক'। ব্যাস!

কিন্তু তবুও মনে হয়,কিছু কিছু সময়ে নিজের কাছ থেকেও মাঝে মাঝে একটু লুকিয়ে থাকতে পারলে ভাল হত।

অবাক লাগে ভাবতে, ভাবনা গুলো সব আসে কোথেকে! ব্রেইন না মন?!
একটা মুহূর্তের বিরাম নেই, সারাক্ষণই একটা না একটা কিছু ভাবনা আসবেই আসবে। এটা কেমন ধারা কথা!

একদম ব্ল্যাঙ্ক একেকটা মুহূর্ত আসলে কেমন হতে পারে?
'পিস অফ মাইন্ড' জিনিসটা কি আসলে তাই? কিছুই না ভেবে একেকটা সময় কাটিয়ে দেবার সামর্থ্য? কে জানে, হয়তো বা হয়তো না!

হাওয়া লেগে ভেঙে গেল ভোর..

এক্সাম চলছে, আদ্দেকও শেষ হয়নি এখনও।
আপাতত হাবিজাবি আর কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল না খুব একটা,
তবুও আসতেই হল।

এমনিতেই এক্সাম টেক্সামের টাইমে মন মেজাজ খারাপ থাকে,
[গাধা টাইপ ইস্টুডেন্ট, এক্সাম খারাপ হবে আগেই জানি তাই মনে হয়!]
সবার সাথে শুধুশুধুই অভিমান হয় – গলার রগ ফুলিয়ে ঝগড়া করতে ইচ্ছা হয়!

তার উপর এই ছাতার পরীক্ষার যন্ত্রনায় আমাদের পিকনিকটায় পর্যন্ত যাওয়া হল না, এইডা কিছু হইল!
কালকে রাতেই শান্ত ভাই এর পিকনিক পোস্ট দেখছি, এখন আবার জেবীনা’পু।
ব্লগ পইড়া আর সব ফটুক দেইখা হিংসিত হওয়াটাই স্বাভাবিক,
আমার হইছে আজিব সমস্যা – পড়ি/দেখি আর মন আরও খারাপ হয়!

শান্ত ভাই ভাল আছে, একবার আমার কথা মনে করছে! আর সবাই পাষাণ!
কত্ত বড় সাহস সবার, আমারে ফালাইয়া সবাই একলা একলা চা খায় আবার তা লইয়া ব্লগ লেইখা দুনিয়া ভইরা ফালাইছে! কি নিষ্ঠুর, কি নিষ্ঠুর!

যাই হোক, কি আর করার!
প্রিয় কিছু মানুষ ভাল কিছু সময় কাটাইতে পারছে একসাথে - দেখতে খারাপ লাগতাছে না! আল্লাহ চাহে তো, নেক্সট টাইম আমারও দিন আসব নে!

মুক্তি [পরীক্ষামূলক পরমানু গল্প প্রয়াস!]

টানা ২২ দিন গিয়েও খালি মনেই ফেরত্‍ এসেছি,
আজ তেইশ দিন পর স্মিতার সাথে কথা হল।

কোমায় ছিল ও।
জ্ঞান ফিরেছে আজ ভোর রাতে।
সারাদিনে সময় করতে পারে নি,
একটু আগে ফোন করেছিল আর সবাই কে লুকিয়ে,
ওরা নাকি মামলা করতে চাইছে।

চায়ের দোকানে দাড়িয়ে ছিলাম রাতের শেষ কাপ চা খাব বলে,
তখনি ওর ফোন।
প্রায় সোয়া তিন মিনিট কথা হল। বলল, কাল পড়শু নাগাদ রেজিস্ট্রি ডাকে ডির্ভোস লেটার পাঠিয়ে দিবে - সাইন করে দিতে।

সাড়ে আট বছরের চেনা জানা,
তিন বছরের সংসার।
একটা এক্সিডেন্ট, কিছু নিরবতা -
ব্যাস্, তাতেই সব শেষ।

দোষ আমারই ছিল।
হঠাত্‍ করেই ঝোঁকের মাথায় ওকে নিয়ে লং ড্রাইভ। ফেরার পথে ভয়ংকর তীব্র কুয়াশা। হঠাত্‍ দৌড়ে গাড়ির সামনে এসে পড়া এক টোকাই মেয়ে কে বাঁচাতে গিয়েই গাড়ি উঠে গিয়েছিল রোড ডিভাইডারে,
আমার সবকিছুই আবার দুইভাগ করে দিয়ে গেল একটা মাত্র রাত।

তারপরই সেই ভয়ংকর অসহ্য ২৩ দিন।

নাহ, যা হয় ভালর জন্যই হয় হয়তো। অবশ্য এই রাতটার মাঝে ভাল কি থাকতে পারে তা আর এই জীবনে জানা হবে বলে মনে হচ্ছে না।

রাত অনেক হয়ে এসেছে,
বাতি নিভিয়ে দেওয়া দরকার।

ঘুম কিংবা মুক্তি,
একটা কিছু আসুক।।

আবোল তাবোল - ১৪

#

আর মাত্র কয়েকটা দিন। আরেকটা বছর শেষ হয়ে এলো।

২০১২, কেমন গেল তা নিয়ে কিছু বলে লাভ নেই আসলে। বছর শেষ হতে নিলেই মানুষজনের হিসাবনিকাশের বহর দেখলে একটু অবাক-ই হতে হয়। একদিকে চলে চলে যাওয়া বছর নিয়ে পোস্টমর্টেম, আরেকদিকে চলে যত নিউ ইয়ার রেজ্যুল্যুশনের লিস্ট বানানোর কাজ। এসব আমার ভাল্লাগে না। কি লাভ!

প্রত্যেকটা দিন পার হয় নানা রকমের দুঃসংবাদ হজম করে। এতসবকিছুর পরেও যে খেয়েপড়ে বেঁচে মুভি দেখে গান শুনে দিব্যি প্রতিদিন চায়ের কাপে ঝড় তুলে চলছি, এই জমানায় এর চাইতে বড় আশীর্বাদ আর কি ই বা হতে পারে!
বছর শেষে বেঁচে যখন আছি; বলতে হবে ভাল-ই আছি।

আর আসছে বছর কি কি করব তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করেও আসলে লাভের লাভ কিছুই হয় না। আমাদের একেকটা প্রিয় প্ল্যান ভণ্ডুল করে দেওয়ার চাইতে প্রিয় কাজ মনে হয় নেই অসময়ের হাতে। আগে করতাম, এখন তাই লাইফ নিয়ে বড়সড় কোন প্ল্যান করি না আর। আর কাউকে কোনরকম কষ্ট না দিয়ে নিজের মত থাকতে পারলেই অনেক, আর কিছু চাই না আমার।

উপরে তো একজন আছেনই, বাকিটা উনিই দেখবেন। তাইলে, যা হবার ভালই হবে!

#

তোমাকে..

একটা চিঠি লেখার কথা ছিল - তোমাকে..

কিছু প্রশ্ন ছিল..
ইচ্ছেভুলে হারিয়ে ফেলেছি..

কিছু কথা বলার ছিল - তোমাকে..

কিচ্ছুটি বলার জো হয়ে উঠে না।

কি ই বা বলবো -
'ভালোবাসি'?
হুহ! স্বপ্ন দেখার ঐ চোখ দুটো তো সেই ক'বেই হারিয়ে বসেছি..

বলতে পারো?
পথের শেষে কোন গন্তব্য নেই জেনেও কিভাবে পথ চলতে হয়?

শীতের সন্ধ্যায়,
অথবা বৃষ্টিতে ভিজে একদিন বিকালে -
নয় হারিয়েই যেতাম।
চোখের পাতায় জমা থেকে যেত এক টুকরো রোদ্দুর,
কি ই বা যায় আসতো তাতে?

আজকাল কেবল ঘড়ির কাটার টিক টকে পথ চলছি,
আর কিচ্ছুটি ভাবতে ইচ্ছে করে না..অস্থির লাগে।

আর কি বলবো..
তুমি ভালো থেকো, ভালোবাসা নিও।

আর কোন বইয়ের পাতা,
গানের লাইন কিংবা কবিতার খাতা -
একেকটা অসাবধান বাঁধনহারা মুহূর্তে আমায় মনে পড়িয়ে দিলে..

জেনো, তোমায় বলেছিলেম -
কিছু, না বলা কথা'য়..ভালোবাসি.. <3