ইউজার লগইন
ব্লগ
আমাদের গল্প
দীর্ঘ ৪ সপ্তাহ পর আমার মেয়ের সাথে আমার দেখা হওয়াটা খুব বেশী আনন্দময় অভিজ্ঞতা ছিলো না। জেলের নিয়মে সপ্তাহে এক দিন নির্দিষ্ট সময়ে নাপিত এসে চুল-দাড়ি পরিচর্যা করে, যেকোনো কারণেই হোক গত ৪ সপ্তাহে আয়নায় মুখ না দেখায় নিজের চেহারা বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা আমার ছিলো না।
হাসপাতালে এসে প্রথমবারের মতো আয়নায় মুখ দেখে মনে হলো নিজের অপরিচিত একটা মুখোশ এঁটে আছি, ব্লেড-রেজরের বিষয়ে এক ধরণের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এখানে আছে, বিক্ষুব্ধ, অপমানিত, নির্যতিত এবং বঞ্চনার শিকার কারাবন্দীদের অনেকেই নিজস্ব অপমানবোধ কমাতে হয়তো হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করে ফেলতে পারে সংশয় থেকে বন্দীদের এসব দেওয়ার নিয়ম নেই।
সেই দুশ্চিন্তাক্লিষ্ট, বিষাদগ্রস্ত অপরিচিতের মুখোশ নিয়ে আমি আমার ২০ মাস বয়সী মেয়েকে দেখলাম ৪ সপ্তাহ পরে, যার সাথে আমার সম্পর্ক শব্দে, স্পর্শ্বে, গন্ধে এবং চাক্ষুষ গড়ে উঠেছে কিন্তু স্মৃতি নির্মাণের সুযোগ এখনও তৈরি হয় নি।
দেশ প্রেমিক
আমি যুদ্ধ দেখি'নি। গল্প শুনেছি। শুনেছি ওরা নাকি অনেক খারাপ ছিল। আমাদের কোণঠাষা করে রাখতো। অনেক ছোট ছিলাম, কোন স্মৃতি নেই তখনকার সময়ের।স্বাধীন দেশে বড় হয়েছি। দেশের নাম করা সরকারী স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলতে গেলে একরকম বিনে পয়সায় পড়াশুনা শেষ করার সুযোগ পেয়েছি ( বেতনের পরিমান খুবি কম ছিল)। দেশের
স্বাধীন দেশে বিনে পয়সায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি (যা কিনা পৃথিবী'র আর কোন দেশে আছে কিনা আমার অন্তত জানা নাই) নিয়ে দেশ ছেড়ে নিজের জীবন আরো সুন্দর করার জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়ে দেশের কথা বেমালুম ভুলে গেলাম।বিদেশে আছি , ভাল কামাই, ভাল থাকি, আর ফেসবুকে জ্ঞ্যান গর্ব স্ট্যাটাস লিখি। দেশ আমাকে সব কিছুই দিলো বিনে পয়সায় কিন্তু আমি কিছুই দেই না তার বিনিময়ে। আমি প্রয়োজন হলে হুন্ডি করে টাকা পাঠাই, সোনালী একচেঞ্জে যাইনা, হুন্ডি করলে বেশি লাভ পাওয়া যায়।
আমি দেশের জন্য কিছু করিনা, নিজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি , আর তাই বিদেশে বসেও দেশের রাজনিতি;র সাথে সম্পর্ক রাখি যদি কখনো কাজে লেগে যায়।
বুয়েটের বাপ(পর্ব-৪)
চিফ ইঞ্জিনিয়ারগন কাজে যোগদানের নোটিশ পাবার পার চিফ ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্যাটাস কয়েকদিনের মাঝেই তিরোহিত হতে লাগল। আমাদের ক্যাডেট কলেজ বা ইংরেজী মাধ্যমে পড়ুয়া বন্ধুরা তেমন সমস্যায় না পড়লেও আমরা যারা বাংলা মাধ্যমে পড়াশুনা করেছি, তাদের কাছে সব কিছু যেন এভারেষ্টে আরোহণের চেয়েও কঠিন হয়ে দেখা দিল। কার কাছে জানি শুনেছিলাম মরাকে আরও মার, আমাদের মান্যবর স্যারেরা যেন তারই প্রতিযোগিতায় নামলেন। এস, এস,সি ও এইচ এস সি তে যে সব বিষয় গুলো বাংলায় পানির মত সহজ ও অত্যন্ত মজা করে পড়েছি, স্যারদের ইংরেজীর কচকচানিতে তাই যেন ইস্পাত কঠিন দৃঢ় হয়ে সামনে উপস্থিত হলো যা আমাদের/আমার খুপড়িতে ঢুকছিল না। ইংরেজী জানার যে দৌড় ছিল তাতে এক লাইন পড়তে কতবার ডিকশনারি খুলতে হতো হিসেবে নেই। আমার বন্ধুরা সবাই এমন ছিলে তা কিন্তু বলছি না।
অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ
বিটিআরসির বিজ্ঞাপনে বলা হয়, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে এমন ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করে দিতে হবে যাতে মূল সাইট চালু রেখেই সহজে আপত্তিকর বিষয়গুলো ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলা যায়।
“রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- ওয়েবসাইটগুলো থেকে এমন বিষয় সনাক্ত করে তা বন্ধ করে দেয়া হবে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।”
ফিল্টার চালু হলে সামাজিক যোগযোগের ওয়েবসাইট ব্যবকারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হবে কি না জানতে চাইলে মোস্তফা জব্বার বলেন, “বিষয়টি অন্যভাবে দেখতে হবে। কেউ যদি অন্য কাউকে সরাসরি কটাক্ষ বা ক্ষতির কারণ তৈরি করে, তা নিয়ন্ত্রণ বা ফিল্টার করা উচিত। তা না হলে সমস্যা থেকেই যাবে।”
উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন দেশে এ ধরণের নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে বলেও মোস্তফা জব্বার জানান।
অদ্ভুত সেই ছেলেটি
আজ আকাশের মন খারাপ। সে মুখ গোমড়া করে আছে। গোমড়া মুখে কষ্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে ......
এই কষ্ট হঠাৎ স্পর্শ করেছে জানালার ধারে বসে থাকা একাকী অদ্ভুত শ্রাবণ কে। শ্রাবণ আর কেউ না , ঢাকা শহরের যেকোন জানালা দিয়ে অসীম আকাশ পানে তাকিয়ে থাকা সাধারণ একটি ছেলে। নির্মম বাস্তবতা যার সুখ লুটে নিয়েছে। শুধু নিতে পারেনি পথচলার আগ্রহ ! আর তাই সর্বস্ব হারিয়েও বাস্তবতাকে কাচকলা দেখিয়ে সে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে চলে সামনের দিকে।
শ্রাবণ তাকিয়ে আছে আকাশের পানে। আকাশের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ। শ্রাবণের দৃষ্টি মেঘের পানে নয়। মেঘের সৌন্দর্য , প্রভাব , প্রতিপত্তি কিছুই শ্রাবণকে আকর্ষণ করে না। শ্রাবণ সর্বদা মেঘের মাঝে কাকে যেন খুজেঁ ফেরে। হয়তো বৃষ্টিকে , হয়তোবা চাদঁকে !!! নাকি রাতজাগা পাখিটাকে ? এর জবাব তো শুধুমাত্র শ্রাবণই দিতে পারে।
১১৭ তম গোলাপ
কুয়াশার চাদরে মোড়া সকালগুলোতে ভীষণ যন্ত্রণা নিয়ে ঘুম ভাঙে আমার। জানালার কার্নিশে বসে বসে একটা মেয়ে কাক আজন্ম কর্কশতা নিয়ে আমার ঘুম ভাঙায়। গলায় মাফলার পেঁচিয়ে, শতচ্ছিন্ন পাঞ্জাবীটা গায়ে জড়িয়ে আমি উঠে পডি।
কুয়াশা ভেদ করে লীলাবতীর লালপেড়ে শাড়ীটা দেখে আমি থমকে দাড়াই। ভোরের স্নিগ্ধ আলোর ছোঁয়ায় ভীষণ নিস্পাপ দেখায় লীলাবতীর মুখ।
আমাকে ডেকেছ লীলা? লীলা তার মায়াভরা চোখ নিয়ে তাকায় আমার দিকে। গায়ের সমস্ত জোর এক করে চর কষে আমার শুষ্ক-রক্ষ গালে। তুমি একটা কাপুরুষ! হিসহিসিয়ে বলে উঠে নীলা। কালনাগিনীর মত ফুঁসে ফুঁসে উঠে। ফণা তোলা সাপের মত মাথা দোলাতে থাকে এদিক-ওদিক। রাগে নাকি আবেগে? আমার জানা নেই।
এই যে তোমার সব গোলাপ! লীলা আমার হাতে গুঁজে দিল গত তিনবছরে দেওয়া আমার একশ ষোলটা গোলাপ।
একশ সতেরটা থাকার কথা ছিল, একটা কম কেন? চর খাওয়া গালে হাত বুলাতে বুলাতে হাসি হাসি মুখ করে জিজ্ঞেস করলাম।
সজল খালেদের মৃতু ও বন্ধু শুভ কিবরিয়ার ফেবু স্ট্যাটাস
আজ তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে চমকে গেলাম। আহারে কি সুন্দর একটা মানুষ! ওর এমন অকাল মৃত্যু হবে কেন?
( মাফ করো বন্ধু, তোমাকে জ্ঞান দেবার জন্য নয়, আমরা যে তাঁর কাছে কত অসহায় সেটাই শুধু শেয়ার করছি)
বন্ধু তুমি বা আমি কেউ কি জানি কখন আমদের মৃত্যু হবে। জানিনা, পৃথিবীর কেঊ জানে না কখন তার মৃত্যু হবে। এমন কি নবীরাসুলগনও জানতেন না তাদের মৃত্যু কখন হবে। কারন
নাহনু কাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়ামা নাহনু বিমাছবুকিন (সুরা ওয়াক্কিয়া,আয়াত-৬০)
অর্থঃআমি তোমাদের মৃত্যুকাল স্থির করেছি এবং আমি অক্ষম নই।
(৩১৫৯)সহীহ বোখারী শরীফ
এবি’ র প্রথম পাতায় যা সংযোজন করা যেতে পারে
এবির প্রথম পাতায় অন্যান্য অনেক কিছুর সাথে ডানদিকে দুটো গুরুত্ত্বপূর্ন হেড আছে ,
১। সাম্প্রতিক মন্তব্য
২।সপ্তাহের সেরা পাঁচ (আলোচিত, পঠিত, পছন্দকৃত)
আরেকটি যোগ করা যেতে পারে
৩। সপ্তাহের সকল লেখা ( লেখকের নামসহ)
এতে পাঠককূল পছন্দের লেখকের লেখা প্রথম পাতা না উল্টিয়ে সরাসরি লেখায় যেতে পারবে।
সুবিধা হল, আলসেমীর জন্য পাতা না উল্টিয়ে, প্রথম পাতা দেখেই অনেকের এবি থেকে সরে আসেন ( অন্তত আমি)। এতে ভালো লেখাগুলো (লেখার/ পোষ্টের ভীড়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পাতায় চলে যাওয়া) পড়া থেকে আড়ালে চলে যায়।এ সমস্যার সরাসরি সমাধান হবে।
অন্যটি হল, লেখকের লেখার শিরোনাম ও লেখকের নাম পুরো সপ্তাহ জুড়েই প্রথম পাতায় থাকবে। এটাও লেখকের জন্য কম প্রাপ্তি নয়।
তসলিমা নাসরিন
তসলিমা নাসরিনের সাক্ষাৎকার পড়ে ভীষন অসস্তিকর অনুভুতি হলো , মনে হলো পুরুষের বিরুদ্ধে তসলিমার বিদ্রোহ অবসান হলো, তিনি নিজেই তার পরাজয় মেনে নিয়ে পুরুষতন্ত্রের পতাকা উড়িয়েছেন তার ভাবনায়।
এই সাক্ষাৎকারটিও নতুন কোনো সাক্ষাৎকার নয়, বরং অনেক পুরোনো জঞ্জাল নতুন করে সামনে আনা।
সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে যা লিখেছিলাম সেটুকু মুছে ফেলছি।
তার স্মৃতিচারণে খোলামেলা কথার চেয়ে বেশী স্পষ্ট হয়ে থাকা কামনাকাতরতা অসস্তি তৈরি করে। সম্ভবত বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীর শরীরময় উপস্থিতির বয়ান শুরু হয় তসলিমা নাসরিনের হাতে।
মিষ্টি মিষ্টি কষ্ট কষ্ট
১
মেঘলা আকাশ
বৃষ্টি নামবে আজ
ঢেউ তুলো তুমি ঘূর্ণিত ছন্দে।
২
ঘনীভূত অন্ধকার ফিকে হয়ে এলে প্রভাত আলোর
রুপের সাথে তোমার মিলটি খুঁজি
হে দীর্ঘকায়া
কত হবে সঙ্গিন
এই মায়া রঙিন
বসন্ত বিনম্র ছায়া।
৩
ট্রেন এসেই প্লাটফর্ম থেকে কুড়িয়ে নিলো তাকে
ফিরে তাকালো না পেছনে একবার
অসহায় দৃষ্টি খুব খুব ভার
হৃদয় বীণায় ছিঁড়ে তার।
৪
জড়িয়ে এলে বুক কাব্যে
পীনোন্নত বক্ষ ভরে উঠে কবিতায়
আম-আঁটির ভেপু রসালো বেজে, সব
মিলে মিশে হয় একাকার।।
ঝরাপাতা দিন, অস্থিরতার পঙ্ক্তিমালা.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
.....................................................................................................।
......................................................................................................
.........................................................................................................
.......................................................................................................।
.....................................................................................................।
......................................................................................................
.........................................................................................................
.......................................................................................................।
আধো আধো বুলি,
আর;
এক পা দু পা চলার দিন -
না ফুরোলেই বেশ ভালো ছিল।
সত্যিই,
হয়তো ভালোই ছিল..!
ব্লগর ব্লগর
..................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
১.
যে যত বেশি নিরাপদ, সে তত বেশি তীব্র, তীক্ষ্ণ, দক্ষ সমালোচক
২.
ঘটনাস্থল থেকে যে যত বেশি দূরে সে তত বেশি সাহসী
৩.
আগে বিপ্লবীরা থাকতেন আন্ডারগ্রাউন্ডে অথবা কারাগারে, এখন বিপ্লবীরা থাকেন ফেসবুকে
৪.
চিরদীপ্ত সূর্যকে আড়াল করে দিয়ে যে মেঘমালা দিনের আলোকে অন্ধকারের বুকে ঢেকে দেয়;
চিরদীপ্ত সূর্যকে আড়াল করে দিয়ে যে মেঘমালা দিনের আলোকে অন্ধকারের বুকে ঢেকে দেয়; সে মেঘমালা আবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে পৃথিবীর মাটির উর্বরতা বাড়ায়। বৃক্ষরাজিকে সতেজ করে আর মানুষের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা চিরবিষাদকে করে প্রাণবন্ত। আবার কখনো এ মেঘমালা অবিরত বর্ষণে পথ-ঘাট করে কর্দমাক্ত, খাল-বিল, নদীকে ভরিয়ে বন্যার জলে ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষ ও মানুষের বাঁচার সব উপকরণ। একই জিনিসের কতো রূপ-বৈচিত্র্য প্রকাশ! বৃষ্টির ফলে যেমন মানুষের ভালোও হয়, আবার মন্দও হয়।
বর্ষার এক বৃষ্টিমুখর দিনে জীবনের সব লেনদেন ফেলে রেখে এসব বিষয় নিয়েই ভাবছি বসে নিরালায়। বাতায়ন খুলে রেখেছিলাম; ঝিরঝির বাতাস বইছে। সে বাতাস আমার শরীর-রন্দ্রে মৃদু শিহরণ তুলছে। আজ কেনো যেনো গান শুনতে বেশ মন চাইছে। কম্পিউটার ওপেন করলাম। একটি অডিও সিডি প্লে করলাম। সিডিটির নাম 'অভিপ্রায়'। সুরের মুচ্র্ছনা নিয়ে কর্ণকুহরে প্রবেশ করলো গানটি-
"কতটা দুঃখ দিলে দেখে যাও একবার
এ মনটা কাঁদে কেনো তোমার জন্যে বারেবার?
হয়তো ভেঙ্গে যাবো কোনো শ্রাবণের ঝড় এলে
দুঃখ পাখি হয়ে উড়ে যাবো আকাশে
থেমে থাকবেনা কিছুই!
মন মেজাজ অত্যন্ত খারাপ। গত দুইদিন ধরে আমার মেজাজ এতো খারাপ যে প্রিয় মানুষজন ছাড়া কারো সাথে কথা বলতেই ইচ্ছা করে না। বারবার মনে হয় এতো বাজে সময় আগে কখনো পার করি নি। তবে এটা নতুন কিছু না, প্রতিবারই একি কথা মনে হয় এবং তার চেয়েও ভয়াবহ খারাপ সময় আসে। খারাপ সময় সবার জীবনেই কম বেশী আসে। কিন্তু আমার বেশী আসে আর না আসলে আমি জোর করে আনাই। আর তাতেও কাজ না হলে অযথাই বিষণ্ণ থাকে। আমার এক বন্ধু এই সব দেখে টেখে আমার নাম দিছিলো স্যাডিস্ট শান্ত। আর যা বাংলাতেই ডাকতো লোকজন দুখু মিয়া শান্ত। আমি নিজেরে কাজী নজরুল বানাতে চাই না। যে অবিস্মরনীয় প্রতিভা কাজী নজরুলের ইসলামের ছিলো তার ধারে কাছের নখের সমানের মেধাও আমার নাই। তাই নামটা ভালো লাগে না। সেই বন্ধুও আর আমাকে এখন আর কোনো নামেই ডাকে না। এতোই ব্যাস্ত সবাই- সময় কই তাদের আমার নাম মনে রাখার! গত কাল সকালে ফেসবুকে বসে দেখি এক পরিচিত ক্লাস মেট বান্ধবী নক করলো। সবার খোজ খবর জিগেষ করলো?
আধ্যাত্মিক মন
বছর চারেক আগে মেজচাচা ফোন করে জানালেন যে চাচী সন্তানসম্ভবা। শুনে পরিবারে এক ধরণের খুশী আর উত্তেজনার ঢেউ বয়ে গেল! কারণ বাবা ছিলেন পরিবারের বড ছেলে এবং আমাদের দু'ভাইয়ের জন্মের অনেক বছর পর প্রথমবারের মতো কোন সন্তান আসতে যাচ্ছিল চাচাদের পরিবারে।
সবাই তখন চাচীর ছেলে হবে না মেয়ে হবে সেটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করতে লাগল। আমি এসব থেকে একটু দূরেই ছিলাম। একদিন খাবার টেবিলে বসে মা ফস করে আমাকে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা তোমার কি মনে হয়, তোমার চাচার ছেলে হবে না মেয়ে?"
আমি এক সেকেন্ডও দ্বিধা না করে বললাম, "মেয়ে ।" বলে আমি নিজেই অবাক! এতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে কিভাবে বললাম? মা-ও কিছুটা অবাক হল।
যাই হোক, দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল কয়েকটা মাস। চাচীর সন্তান পৃথিবীর আলো দেখতে পেল। সৌভাগ্যবশত সন্তানটা ছিল মেয়ে। আমার ভবিষ্যদ্বাণী ফলে গেল। তবে এটা নেহায়েতই কাকতালীয় ঘটনা। একজন বলল ছেলে হবে, আরেকজন বলল মেয়ে হবে, দু'জনের একজন তো সঠিক না হয়ে যায় না। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।