ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

রিস্টকাটার্স: আ লাভ স্টোরি

মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে?

এটা আলোচনার বিষয় হিসাবে আকর্ষণীয় কিন্তু অনেক বড়। তারচেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা ভাবি। সেই মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে? সেদিন রাজধানীর হাতিরঝিলে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ঝাপ দিয়েছিলো একটি যুগল। তাদের মাঝে ছেলেটা মারা গেছে। সাঁতার জানতো না কেউই। প্রেমে বাঁধা পেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিলো দু'জন। নিশ্চই খুব কষ্ট হচ্ছিলো তাদের। প্রেমিকার বাগদান হয়ে গেলে প্রেমিকদের কি এমন কষ্টই হয়? পৃথিবীর সব কষ্ট কি তখন তুচ্ছ মনে হয়? কোথায় যেন পড়েছিলাম, সবচেয়ে কষ্টের মৃত্যু হলো আগুনে পুড়ে মরা। শরীরের প্রতিটি কোষ পুড়তে থাকে এবং আলাদা আলাদা যন্ত্রণার জন্ম দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম কয়েকদিন যন্ত্রণা ভোগের পর মরে। দ্বিতীয় কষ্টের মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে মরা। ফুসফুস পানিপূর্ণ হয়ে যাবার পর সেটা ফেটে যায়। সেই কষ্ট বুকের মধ্যে নিয়ে মানুষ বাধ্য হয় মারা যেতে, কেননা একবার পানিতে তলিয়ে গেলে আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। এসব জানা আজকাল কঠিন কোনো বিষয় না। কঠিন হচ্ছে এসব জানার পরও স্বেচ্ছামৃত্যুকে আহ্বান করা। বুঝে হোক বা না বুঝে, সেই কঠিন কাজটি মানুষ কখন করে? কতটা নিরূপায় হলে?

ভালো লাগা ভাবনারা- ৬

ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই কবিতাটা ছোটবেলার কোনো এক ক্লাসের পাঠ্য ছিলো। সম্ভবত প্রথম ষোল লাইন। তখন মুখস্ত করার জন্য পড়েছিলাম কিন্তু বোঝার জন্য পড়ি নাই। পুরো কবিতাটা বিশাল ভাবের। বহুত ভালো লাগা ভাবনার তালিকায় চলে গেলো।

দূরের পাল্লা
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

ছিপখান তিন-দাঁড় -
তিনজন মাল্লা
চৌপর দিন-ভোর
দ্যায় দূর-পাল্লা!
পাড়ময় ঝোপঝাড়
জঙ্গল-জঞ্জাল,
জলময় শৈবাল
পান্নার টাঁকশাল |
কঞ্চির তীর-ঘর
ঐ-চর জাগছে,
বন-হাঁস ডিম তার
শ্যাওলায় ঢাকছে|
চুপ চুপ - ওই ডুব
দ্যায় পান্ কৌটি
দ্যায় ডুব টুপ টুপ
ঘোমটার বৌটি!
ঝকঝক কলসীর
বক্ বক্ শোন্ গো
ঘোমটার ফাঁক বয়
মন উন্মন গো|
তিন-দাঁড় ছিপখান
মন্থর যাচ্ছে,
তিনজন মাল্লায়
কোন গান গাচ্ছে?
রূপশালি ধান বুঝি
এইদেশে সৃষ্টি,
ধুপছায়া যার শাড়ী
তার হাসি মিষ্টি|
মুখখানি মিষ্টিরে
চোখদুটি ভোমরা
ভাব-কদমের - ভরা
রূপ দেখ তোমরা !
ময়নামতীর জুটি
ওর নামই টগরী,

যখন চোখের জন্য শরীরে কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না

তখন আমার একটা সিনেমা দেখতে খুব ইচ্ছে করে।

নাম্ব সময়ের দিনলিপি

পহেলা বৈশাখ আর একুশে ফেব্রুয়ারিতে রাত ১০টার আগে ক্যাম্পাসে যেতে ভালো লাগে না। গিজগিজে ভিড় আর ধাক্কাধাক্কি-ঠেলাঠেলি। বিজয় দিবসে কখনো এত মানুষ ক্যাম্পাসে আসে না। তাই বিজয়ের দিনে আমার ক্যাম্পাসে টো টো করতে খুব ভালো লাগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এবার বিজয় দিবসে (গতকাল) কয়েক লাখ মানুষ ক্যাম্পাসে হাজির হয়েছিলো কিন্তু সেই ভিড় দেখে খারাপ লাগে নি। কারণ কালকের ভিড়টা আজগুবি ছিলো না।

বিকেলের মাঝামাঝি সময়ে লাল আর সবুজ রং দেখতে দেখতে মাথা খারাপ হয়ে যাবার মুহুর্তে একবার আকাশী নীল রং চোখে পড়েছিলো। বহুদিন পর প্রিয় রংয়ের শাড়ি চোখে পড়লো। আবারও সেই ছিপছিপে লম্বা মেয়েটি। উবায়েদ ভাইয়ের দোকানে যাকে দেখেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম এবার ওর সাথে কয়েকটা কথা বলবো। অথচ ভিড় আমাদের দু'জনকে কাছাকাছি হতে দিলো না।

দুই প্রিয়জনের জন্মদিনে

১.

Twenty years from now you will be more disappointed by the things you did not do than by the things you did. So throw off the bowlines. Sail away from the safe harbor. Catch the winds in your sails. Dream. Explore. Discover.

উক্তিটি মার্ক টোয়েনের। ছেলেবেলা থেকেই এ ভদ্রলোককে আমি চিনি। টম সয়্যার আর হাকলবেরী ফিনকে বন্ধু মনে করি। তার বক্তব্যে ভরসা না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। অন্তত আমার কাছে। প্রিয় লীনা আপুর জন্মদিন। মার্ক টোয়েনের উক্তিটি উপলব্ধি করার জন্য উনার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি এবং সেই সঙ্গে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

২.

সেই পরিণতির অপেক্ষায়

সিগারেটের প্যাকেটে লিখে রেখেছে- ধূমপান হৃদরোগের কারণ। সাদা জমিনে কালো কালিতে বড় বড় হরফে কথাটা লিখে রাখা হয়েছে। আমি বুঝি না, যারা হৃদরোগ নিয়ে এত চিন্তিত; তারা ধূম্রশলাকা উৎপাদন করে কেন? পৃথিবীতে তামাশা ছাড়া আর কিছু হয় না নাকি?

সবসময় যানজটপূর্ণ রাস্তায় চলাচল করে অভ্যস্ত বলেই হয়তো যানবাহনমুক্ত রাস্তায় আজকাল আতঙ্ক অনুভব করি। মনে হয় রাস্তাটা নিরিবিলিতে আমাকে পেলেই গিলে ফেলবে। আগে একবার আশপাশে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাবে। যদি দেখে ধারেকাছে কেউ নেই, তাহলেই সাথে সাথে কোনো একটা অদৃশ্য মুখগহ্বর দৃশ্যমান হয়ে আমাকে উদরস্থ করে ফেলবে। পৃথিবীর কেউ জানবে না সেই ঘটনাটা।

বিলীন হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে কখনোই আক্রান্ত হই নি। জানি খুব দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার নিমিত্তেই আবির্ভূত হতে হয়েছিলো আমাকে। তারপরও মাঝে মাঝে হিম নামের মেয়েটির কথা ভেবে খারাপ লাগে। আমি যখন থাকবো না তখনও হিম বার বার ফিরে আসবে। মানুষ ঝরাপাতা আর শুকনো কাঠ কুড়িয়ে আগুন জ্বালবে। সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসবে এবং হাসাহাসি করবে। আমি আশপাশেই থাকবো কিন্তু প্রচ্ছন্নতার আবরণ ভেদ করে দৃশ্যমান হতে পারবো না।

ভাল লাগা ভাবনারা- ৫

সবুজ সাবমেরিন- হুমায়ুন আজাদ

আমার কবিতা, তোমার জন্য লেখা, ধাতব লাল
নগ্ন, এবং নিদ্রাহীন
সামনে এগোয়, পাথর ভেঙে আর তুষার ঠেলে
দূরপাল্লার সাবমেরিন;
কেউ ব’সে আছে ভেতরে মগ্নলোকে, চোখের মণি
স্বপ্ন খাচ্ছে ভীষণ নীল,
গোপন কবিতা তোমার বক্ষে ওঠে- উত্তেজিত,
বিবস্ত্র, আর অশ্লীল!

মাতাল কবিতা তোমার ওষ্ঠে ত্বকে ছড়ানো চুলে
তীক্ষ্ণ স্তনে বসায় দাঁত,
কেঁপে ওঠে দূর গোপন বস্তুরাশি, মাংসে নাচে
অক্টোবরের তৃতীয় রাত,
তাপে গলে তামা লোহা ও রৌপ্য সোনা, জমছে দ্যাখো
সঙ্গীত-ঢালা এক দ্বিনাট্য,
আমার কবিতা, তোমার জন্য লেখা, যতিবিহীন
অভদ্র, আর অপাঠ্য!

সমকালচ্যুত, অশীল স্বপ্নে গাঁথা, কবিতা সেই
জীবনের চেয়ে অবাস্তব
কামনায় কাঁপে, কঠিন অঙ্গে তার খচিত রাত
ওষ্ঠে বিদ্ধ অসম্ভব;
মাতাল মনিষী ব্যাপক বক্ষে ক্ষুধা, শরীর তার
ব্রোঞ্জের মতো বস্ত্রহীন,
অজর কবিতা তোমার মাংসে ঢোকে তুষার ঠেলে
সবুজ রঙের সাবমেরিন!

পাপ- হুমায়ুন আজাদ

হ'তে যদি তুমি সুন্দরবনে মৃগী
অথবা হংসী শৈবাল হ্রদে বুনো,
মাতিয়ে শোভায় রূপভারাতুর দিঘি
হ'তে যদি তুমি তারাপরা রুই কোনো

প্রিয় পাহাড়টার উপর থেকে যখন কাউকে শূন্যে ভাসিয়ে দেবো

মানুষ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে এবং তাদের আচরণে সেটা ফুটতে থাকে। পুরোপুরি বদল না ঘটা পর্যন্ত অবশ্য সেটা বোঝা যায় না। যখন কোনো একটা ঘটনার মধ্য দিয়ে একজনের আমূল পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তখন পুরোনো ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবলে বোঝা যায়; পরিবর্তন শুরু হয়েছিলো আরও আগে থেকেই।

স্টিভ জবস্ বলে গেছেন, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে জীবনের জরুরি বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া যায় না। আমরা সবসময় সেই ভুলটাই করি। একেকটা পরিবর্তনের চিহ্ন দেখি আর মনে করি বিষয়টা কিছু না। ভবিষ্যতে ঠিক হয়ে যাবে। আসলে তা হয় না। অতীত থেকে সবকিছু ঠিক হয়ে সামনের দিকে যেতে থাকে। জরুরি কিন্তু অদৃশ্য বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া সম্ভব কেবলমাত্র অতীতের দিকে তাকিয়েই।

সময়ের কাছে আছে জগতের প্রায় সব সমস্যারই সমাধান। তাই বিষয়গুলো সবসময় খানিকটা সময়ের দাবিদার। আমরা সেটা বুঝতে চেষ্টা করি না। অস্থির সময়ের দাবি মেনে নিয়ে নিজের ভেতর অস্থিরতাকে ঠাঁই দিই। অথচ বিশ্বাস করতে চাই না, জীবনে আবার হয়তো কখনো স্থিরতা আসবে। মানুষ আসলে প্রাণী হিসেবে যতটা উন্নত, ঠিক ততটাই অদ্ভুত। সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী যারা নিজেদের উন্নতির জন্য ডেসপারেট এবং অবনতির জন্যও।

মস্তিষ্কে বাসা বাঁধছে ঘূণপোকা

বুকে হাত দিয়ে বলো সূর্যের আলো রুখিতে কি পারে কেউ? আমাদের ধরে ঠেকানো যাবে না গণজোয়ারের ঢেউ। ডাকসুর দেয়ালে ঝুলে থাকা কালো হয়ে আসা চিকাটা মলয়দা'র লেখা। আর কয়দিন টিকবে কে জানে। যে রাতে মলয়দা' চিকাটা লিখেছিলেন সে রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম না কিন্তু পরদিন ক্যাম্পাসে গিয়ে চিকাটা দেখে সারা দিন মনের ভেতর অজানা উচ্ছ্বাস অনুভব করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম তখন। আমরা নিয়ম করে রাতের বেলা ক্যাম্পাসের দেয়ালে চিকা মারতাম। ভালো চিকা দেখতে খুব ভালো লাগতো। বিশেষ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কথাটা যত ভালোভাবে লিখতে পারতাম, তত বেশি সুখ পেতাম। তখনও গ্রাফিতির চল ঘটে নি সেভাবে। এখন ক্যাম্পাসে অনেক সুন্দর সুন্দর গ্রাফিতি দেখা যায়। আইএমএল-এর দেয়ালে একটা চমৎকার গ্রাফিতি দেখেছি সেদিন। আমাদের ঘাঁটিটায় একটা বড় গ্রাফিতি আঁকবার শখ জেগেছে সেটা দেখে। আর আফসোস জেগেছে যখন আমার সময় ছিলো, তখন এ বিষয়ে কেন কোনো জ্ঞান ছিলো না ভেবে।

গল্প: এক শীতে হারানো সুখের গল্প

আবার শীতকাল চলে এসেছে। অথচ এখনো চলছে কার্তিক মাস। তারপরও বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে।

শীতকালটা আমার খুব বেশি প্রিয় ঋতু না। আবার অপ্রিয়ও না। শীতের ভোরে ঘুম থেকে উঠতে ভালো লাগে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে কুয়াশার উড়ে বেড়ানো দেখতে ভালো লাগে। জিন্স-জ্যাকেট-কেডস্ ইত্যাদিতে নিজেকে আগাগোড়া মুড়িয়ে ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভালো লাগে। এরকম কয়েকটা বিষয় আছে যেগুলো ভালো না লাগার কোনো কারণ নেই। তবে খারাপ যেটা লাগে সেটা হচ্ছে- অসহ্য ঠান্ডার কারণে পানিতে হাত দিতে না পারা। যেসব কাজে পানির সংস্পর্শে যেতে হয়, সেসব কাজ করতে না পারা। বরফের মতো ঠান্ডা শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে সাইকেল চালিয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফেরা। এ কাজগুলো শীতকালে করতে খুব বিরক্ত লাগে কিন্তু না করলেও চলে না। সব মিলিয়ে এ ঋতুটি একটি মিশ্র ঋতু।

আর সবকিছু ডুবে আছে আগ্রহহীনতায়

১.
পার্কে একটা কুকুর বাচ্চা দিয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চাগুলো রাস্তার ওপর শুয়ে থাকে। খুব মায়াজড়ানো দৃশ্য। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা যায়। একটা পরিবার বাচ্চাগুলোর দেখাশোনা করে। তাদের অবশ্য নিজেদের দেখাশোনা করারই সামর্থ্য নেই। ওই পরিবারেও কয়েকটা শিশু আছে। তারা রাস্তার পাশেই পেতে রাখা ছোট ছোট চাটাইয়ে শুয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কুকুরের বাচ্চাগুলোকে কোলে নিয়ে বসে থাকে। কুকুরগুলোর গায়েও কোনো কাপড় নেই, বাচ্চাগুলোর গায়েও কোনো কাপড় নেই। কুকুরগুলোর লোম আছে, বাচ্চাগুলোর তাও নেই। মানুষ এখান থেকে হয়তো কুকুরগুলোকে বড় করার জন্য নিয়ে যাবে কিন্তু পরিবারটাকে সচল রাখার কাজে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসবে না। বরং পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি রুটি-রুজি জোগাড়ে বের হয়ে নানা উপায়ে মানুষেরই প্রতারণার শিকার হবে। আমার কুকুরের পরিবারের প্রতি যেমন মায়া লাগে, মানুষের পরিবারটির প্রতিও ঠিক তেমনি মায়া লাগে। কুকুর আর মানুষকে এক পর্যায়ে দেখে নিজের প্রতিও খানিকটা মায়া হয়।

যে কথাটা ওই পক্ষের জানা থাকা দরকার

জামাত-শিবিরের ভক্ত-অনুসারী-সমর্থকরা ছড়িয়ে আছে চারপাশে। বিশেষ করে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এদের সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করার বিষয়টা কঠিন হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এরা প্রথম থেকেই কাদের মোল্লা ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ না হয়, সে ব্যপারে সচেষ্ট ছিলো। কোনো কোনো পর্যায়ে সফল হয়েছে। সে সময় গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের কাজ করাটা কঠিন করে তুলতে এ গোষ্ঠী খুব চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে এরা হেফাজতের পক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমে গরম গরম প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এসব ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ গণমাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে এক ধরনের মেরুকরণও হয়ে গেছে।

নীল উইপোকাদের বাস্তবতা কিংবা কল্পনায় গন্তব্য খোঁজার চেষ্টা

একটি সমবায়ী পিঁপড়া তার নিজের চেয়ে অনেকবড় আকারের কিছু একটা দাঁতে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ঘরের কালো অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে কথাটা ভাবছিলাম। হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই, আবার হলেও খুব বেশি সুবিধা নেই। বাংলাদেশে ২০১৩ সালে বেঁচে থাকা একজন ছাপোষা কেরানী না হয়ে যদি ষাটের দশকের একজন বিটনিক হতাম, তাহলে কি ক্ষতি হতো?

কোনো এক প্রেম হাওয়ায় পেয়ে হাওয়ায় হারানোর পর চন্দ্রবিন্দুর অনিন্দ্য খুব সুন্দর একটি গান গেয়েছে। শিরোনাম হচ্ছে মন। শুনছি গানটা। আর কিছুই করা হচ্ছে না। মন আলেয়া পোড়ালো খালি হাত, মন জাগে না জাগে না সারারাত। রাত যত গভীর হচ্ছে, সুরটা তত মধুর হয়ে কানে প্রবেশ করছে। টেট্রা হাইড্রো ক্যানাবিনল মেশানো একটি সিগারেটের অভাবে ফুসফুস হাঁপিয়ে উঠছে। আধেক শোয়া অবস্থা ছেড়ে উঠে একটু কষ্ট স্বীকার করলেই নির্বাণলাভ সম্ভব। অথচ ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে এভাবে বুকের ভেতর একটা ক্লান্ত ফুসফুস নিয়ে শুয়ে থাকি অনন্তকাল। আর স্পিকারে বাজতে থাকুক, নাহয় পকেটে খুচরো পাথর রাখলাম।

গল্প: যখন আরো কয়েকশ' বছর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে অকারণে

কবি টং-এর ওপর বসেছিলাম অবন্তী আর আমি। মৃদুমন্দ বাতাসেই টংটা বিপজ্জনকভাবে দুলছিলো আর আমরা দু'জন ভয় পাচ্ছিলাম। কখন যে কাঠের গুড়ি-তক্তি সবসমেত আমাদের কবি টং উড়ে যায়, তাই নিয়ে চিন্তা হচ্ছিলো। ঝিরঝিরে বৃষ্টি বাতাসের মতো ভেসে বেড়াচ্ছিলো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচুতে, এই টংটা যে কে বানিয়েছে, জানি না আমরা কেউই।

ওখানে উঠলে একপাশে নাইক্ষংছড়ির পাহাড় আর অন্যপাশে বঙ্গোপসাগর চোখে পড়ে। একদিকে ঘন সবুজ, আরেকদিকে নীল। হালকা নীল। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায় কান পাতলে আর সমুদ্রের বিলম্বিত লয়ের গর্জন শোনা যায় সারাক্ষণই। এটা বোধহয় পৃথিবীর একমাত্র গর্জন যা মানুষের কানকে আতঙ্কিত করে তোলার বদলে শান্তি দেয়। ১৭ ইসিবি কন্টিনজেন্ট পাহাড় কেটে একটি রাস্তা বানিয়েছে। তার একদিকে পাহাড় আর একদিকে সমুদ্র। সেই রাস্তার ধারেই একটা ঢিবির ওপর ওই কাঠের তৈরি দোতলা কবি টংটা অবস্থিত। অবন্তী আর আমি সেখানে বসে বসে ১৭ ইসিবি কন্টিনজেন্টের প্রশংসা করছিলাম। আর ডালমুট সহযোগে ভদকা পান করছিলাম।

গল্প: সাধু জর্জের উপকূলে, অদ্ভুত ফেস রিডিং ক্ষমতাসম্পন্ন একজন মানুষের সাথে

লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডাকে সাড়া দিয়ে সেবার শেষ পর্যন্ত বেইরুত শহরে চলেই যেতে হয়েছিলো।