ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

ঘৃণ্য চক্রান্তের জাল বিছানো হচ্ছে, সাবধান থাকা খুব জরুরি

থাবা বাবা'কে নিয়ে ঘৃণ্য চক্রান্ত ফাঁদছে জামায়াত। যেটা আমরা সবাই জানি। নাস্তিকতাবাদের ধুয়া তুলে আন্দোলনকারীদের চিন্তাকে ঘুরিয়ে দেয়া। অনলাইনে এখন একটা তুমুল আস্তিক-নাস্তিক লড়াই বাঁধানোর পাঁয়তারা করছে ছাগুরা। যাতে অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের একটা অংশ সেটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফেসবুকে, ব্লগে শফিউল আলম ফারাবি নামে এক ছাগু নানারকম বায়বীয় হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফাপড়বাজি আর কাকে বলে। ওকে একটা আখেরি গদাম দিয়ে বসিয়ে দেয়া দরকার। এইসব মশা-মাছি ভ্যান ভ্যান করে শুধু মানুষকে বিরক্ত করার কাজটিই পারে, আর কিছু পারে না।

যাক সোনার বাংলাদেশ ব্লগ বন্ধ হয়েছে, এটা আপাতত একটা ভালো খবর। ওদের ওপর এই সরকারি আঘাতটা জরুরি ছিলো। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সব ষড়যন্ত্র, সব চক্রান্ত, নোংরামি, কুটিলতা, অমানবিকতা সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব। কেউ কাউকে কখনো ব্যাকফুটে যেতে দেখলে, সঙ্গে সঙ্গে ডিসহার্টেড হয়ে পড়া চলবে না। স্ট্যাটেজিক্যাল পয়েন্ট অব ভিউ থেকে সবকিছু চিন্তা করতে হবে। বিশ্বস্তদের ওপর অকারণে সন্দেহ করা যাবে না। নতুন কাউকে হুট করে বিশ্বাস করা শুরুও করা যাবে না।

থাবা বাবার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া প্রজন্ম চত্বরে, ৩টা-১০টার কর্মসূচি পরিবর্তন: ২৪ ঘন্টা আন্দোলন চলবে

আপডেট: শনিবার কালো ব্যাজ ধারণ এবং আছর নামাজের পর জানাজা নামাজ পড়া হবে প্রজন্ম চত্বরে। যদিও প্রজন্ম চত্বরে ‘থাবা বাবা’র (আহমেদ রাজীব হায়দার) লাশ আনার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকার সেটা করতে দেবে কিনা, তা এখন পর্যন্ত জানি না।

এদিকে ফেসবুকে একটা ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের লিংক ছড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ধর্মবিরোধী এমন কিছু কথা আছে, যেগুলো সাধারণ ধর্মভীরু মানুষের অনুভূতিকে আহত করতে সক্ষম।

ব্লগটিতে ১০টি পোস্ট রয়েছে। সবগুলো পোস্ট মিলিয়ে কমেন্ট সংখ্যা ২টি। একই রকম তারিখে দেয়া হয়েছে ৭টি পোস্ট। আগস্ট ২৬, ২০১২ তে দেয়া হয়েছে ৪টি পোস্ট, জুন ১৮, ২০১২-তে দেয়া হয়েছে ৩টি।

পোস্টগুলোর হিটসংখ্যা নগণ্য।

প্রশ্ন রয়ে যায় এ ব্লগটি আসলে কার? আমার ব্লগে 'থাবা' নিক থেকে দেয়া 'লাড়ায়া দে' লেখাটি ওই ব্লগে থাকা সত্বেও প্রশ্ন রয়ে যায়।

সাইবার যোদ্ধারা অপ্রতিরোধ্য : অনলাইনে কোনঠাসা জামায়াত-শিবির

আন্দোলনের এখন দু’টি ফ্রন্ট। প্রজন্ম চত্বর আর ইন্টারনেট। প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনে যেভাবে লাখো জনতা যোগ দিচ্ছেন প্রতিদিন, ঠিক তেমনিভাবে অনলাইনেও প্রতিদিন জামায়াত-শিবির তাড়ানোর কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন লাখো জনতা। অল্প সময়ে ব্লগস্ফিয়ার, ফেসবুক, টুইটারসহ সর্বত্রই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে তারা। প্রতিটি ব্লগেই তাদের বিরুদ্ধে ছাপানো লেখাগুলো ব্যপক পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে। ফেসবুকে শিবির বিরোধী স্ট্যাটাসগুলো শেয়ার হচ্ছে হাজার-হাজারবার। অপরদিকে নিজেদের ব্লগেও নিজেদের পক্ষে কিছু লিখে সুবিধা করতে পারছে না জামায়াত-শিবির। সোনার বাংলাদেশ ব্লগে তাদের পক্ষাবলম্বন করে ছাপানো লেখাগুলোয় গড়ে হিট পড়ছে ২৩টা-২৫ টা করে। মন্তব্যের সংখ্যা অধিকাংশ পোস্টেই শূন্য। গণপ্রতিরোধের মুখে জামায়াত-শিবির এখন আর নিজেদের ওপরেই ভরসা রাখতে পারছে না।

হে সহযোদ্ধা, এবার দেখা হবে রাজপথে, শুধুই রাজপথে

জীবনটা সবসময় সুন্দর নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে এত বেশি সুন্দর যে, তখন আবার মনে হয় এটা কি কোনো স্বপ্ন? প্রজন্ম চত্বরে স্বপ্নবান তরুণেরা এক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে। যে বিপ্লবের আগুন আজ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়লো, এটা সমাজকে পরিবর্তন না করা পর্যন্ত নিভবে না। আমি হলফ করে বলতে পারি। সামনে আসছে নতুন দিন।

আজ ৮ম দিন চলছে। বিপ্লবী জনতাকে হাত করার বহু চেষ্টা এরই মধ্যে হয়েছে। চেষ্টা হয়েছে চোখ রাঙিয়ে তাদের ঘরে পাঠানোর। শিবির সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়েছে লাকীকে। ছাত্রলীগ পর্যন্ত সুযোগ বুঝে হাত উঠিয়েছে তার গাএ। এত কিছুর করেও লাকীর কণ্ঠের আগুনকে নেভানো যায় নি। নেভানো যায় নি প্রজন্মের সৈনিকদের বুকের আগুন। এ আগুন কোনো কিছু না জ্বালিয়েই নিভে যাবে, এ কথা আমি বিশ্বাস করি না।

একলা চালা, ছেঁড়া চাদর, বন্ধু আসার নয়া খবর

"ভাঙা চালায় হাওয়া আসে, হাড় কাঁপুনি শীত
দুয়ার খুলে শুনতে পাই, বন্ধু আসার নয়া দিনের গীত।"

মলয়দা'র লেখা গান। লেখার শিরোনামটাও এই গানেরই একটা লাইন। মলয়দা' একজন প্রাণের মানুষ ছিলেন। তার ছোট-খাটো ভুড়িটার ওপর তবলার ঠুক-ঠাক করতে আমার এবং আমার জিরাফের খুবই আমোদ লাগতো। বয়সে বড়; তবুও বন্ধু আগে, পরে বড়ভাই। সেই মলয়দা' আজ নেই। যতবার মনে পড়ে, বুকের ভেতর খা খা করে। কক্সবাজারে থাকতেন জীবনের শেষ দিনগুলোতে। সেখানকার এয়ারপোর্ট রোডে এখনো উনার হাতে লেখা একটা চিকা আছে। ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র শব্দটা সোজা করে লিখে, ইউনিয়নটাকে রাউন্ড শেপে আগের শব্দটার ডানপাশ দিয়ে উঠিয়ে দিতেন। অমন করে চিকা মারতে উনিই শুধু পারতেন। আর আমি শিখছিলাম লেখার কৌশলটা। ক্লাসের খাতায়, হাতে লেখা পোস্টারে কিংবা মধুর টেবিলে চায়ের চামচ দিয়ে সারাদিন ট্রাই করতাম। শুধু দেয়ালেই আর লেখা হলো না।

এখন শুধু যোগ দিতে হবে, আর কিছু করতে হবে না

শাহবাগে সাইবার যুদ্ধ চলছে। প্রতি মুহূর্তে বীর সেনানিরা সেখানে যোগ দিচ্ছেন। কাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে যখন মাইকে ঘোষণা শুরু হলো এ যুদ্ধের ব্যপারে, তখন যাচ্ছি-যাবো করেও আর যাওয়া হয় নি। টানা চার দিনের ক্লান্তি মাথায় নিয়ে দেড়টায় বাড়ি ফিরে দেখি ২২০০ সৈনিক ততক্ষণে যোগ দিয়ে ফেলেছেন। আমি আর দেরি করলাম না। সকালে উঠতে দেরি হলো। ততক্ষণে ৩৫৫০ জন যোগ দিয়ে ফেলেছেন সাইবার যুদ্ধে। এ যুদ্ধে যারা এখনো যোগ দেন নাই, তাদের জন্য লিংক এখানে (ক্লিক করুন)। দেরি করার সুযোগ নাই। যোগ দিয়ে ফেলতে হবে এবং তারপর থেকে ছাগু আইডি/ ব্লগ প্রোফাইল যাই পান না কেন, শেয়ার করতে হবে পাতাটাতে। অন্যদের শেয়ার করা একই উপাদানগুলোর ব্যপারে রিপোর্ট করতে হবে। আমার-আপনার কাজ আপাতত এটুকুই।

কিছু কথা কিছু ছোট ছোট দৃশ্য আর কিছু পরিকল্পনা

বিষয়ভিত্তিক কিছু কার্যক্রম নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। হাজার দশেক বেঁতের লাঠি জোগাড় করে রাখা দরকার। অন্তত যেকোন রকম তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ নিশ্চিত করে রাখার জন্য। শিবিরগুলা শূকর বেশি। গতকাল ইস্ট-ওয়েস্টের ছেলেপিলেদেরকে ওরা ধাওয়া করেছিলো। মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসার সময়। রামপুরাতে। এদের যেকোন সময় প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

চট্টগ্রামে হরতাল কেমন হচ্ছে, সে খবর এখনো পাই নাই। আজকে যদি চট্টগ্রামে কোনো গণ্ডগোল হয়, তাহলে সেটা যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে। এখন একটা বারুদের ঘষাই যথেষ্ট স্ফূলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার জন্য। আজকের পত্রিকার শিরোনামগুলো নিয়ে একটা কোলাজ করার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিবিসি, সিএনএন-এর ওয়েবসাইটগুলোতে বাংলাদেশের খবর ফলাও করে ছাপা হচ্ছে। ইতিবাচকভাবেই হচ্ছে। সেগুলো নিয়েও কিছু করা যায় কিনা ভাবছি।

কিছু ছোট ছোট দৃশ্য

ক্ষমা নাই ওটার কোনো ক্ষমা নাই, শূকরটাকে বধ করবোই

poster courtesy_Bangladesh Old Photo Archive.jpg

১.

বেলা সাড়ে ১১টায় যখন টিভি স্ক্রীনের নিচের দিকে খবরটা গড়াতে শুরু করলো, তখন থেকেই মুখে থুথু জমে আছে। বারবার ফেলছি, বারবারই জমছে। মাঝে মাঝে মানুষ নিজে কোনো দোষ না করেও যে কি ভীষণ আত্মগ্লানিতে ভুগতে পারে, সেটা টের পেলাম এইবার।

কিন্তু আমি কেন আত্মগ্লানিতে ভুগছি? আমার কি দোষ? বুঝতে পারছিলাম না এবং মনকে কোনোভাবে বোঝাতেও পারছিলাম না। একটা প্ল্যকার্ড দেখলাম। লেখা আছে, অঝোর ধারায় কাঁদছে চোখ/ আমার নাহয় ফাঁসি হোক।

কি অর্থহীন একটা কথা! এ পর্যন্ত কোনো মানুষকে আমি এভাবে নিজের ফাঁসি চাইতে দেখি নি। এ ভাষায় প্রতিবাদ করতে দেখি নি। সে কেন ফাঁসি চায়? তার কি সমস্যা? সবই ভাবছি, সবই বুঝছি কিন্তু অর্থহীন কথা সম্বলিত ওই প্ল্যাকার্ডটিকে চোখের সামনে থেকে সরাতে পারছি না। ঘুরেফিরে ওটাই সামনে ভেসে উঠছে। কেন এমন লাগছে কোনোভাবেই বুঝতে পারছিলাম না।

গল্প : শেষ বিকেলের সোনালি আলো মিলেছে যখন চোখের কোণায়

অচেনা বন্ধুকে আমি সুন্দরী মনে করতাম। কিন্তু দেখা হওয়ার পর বুঝতে পারি, ধারণাটায় কি মারাত্মক রকমের ভুল ছিলো!

গল্প : ২০ কাপ চা আর ২০ টার বেশি সিগারেট খাওয়া দিনগুলো

১.
আমাদের অফিসের রানা ভাই তার নামের বানান লিখেন shuhel rana. তাকে যতই বলি এটা সোহেল রানা হয় নাই, এটা হইসে সুহেল রানা- তিনি ততই উদাসী হাসি দেন। বলেন; ভাইজান, বাপ-মায়ে আকিকা কইরা নাম রাখসে সোহেল রানা, বানান রাখসে shuhel rana. আমি কি করুম কন? আমি তার যুক্তি শুনে হাসি। জানতে চাই, বাপ-মায়ে এই বানান রাখসে নাকি মেট্রিকের ফর্ম ফিলাপের সময় কোনো ইংরেজি মাস্টার এই কাহিনী করছে? রানা ভাই বলেন, নারে ভাই। আমার ঘটনা বাপ-মায়েই ঘটাইসে। আর কেউ এর মধ্যে নাক গলানোর সাহস পায় নাই।

শান্ত, নিরীহ, নিরামিশাষী এই ভদ্রলোকের সবচেয়ে বড় গুণ, তিনি সবার প্রক্সি দিয়ে দেন। তার আর আমার ডিপার্টমেন্ট এক না। তাই আমাকে কখনো তার প্রক্সি নিতে হয় না। কিন্তু তার ডিপার্টমেন্টের কতজনের প্রক্সি যে তাকে আমি দিতে দেখি!

একটা ভ্রান্ত কথা মনে পড়বার অপেক্ষায়

নির্মলেন্দু গুণ একজন দারুণ কবি! এই কবির কবিতা আমার আপাদমস্তক ভালো লাগে। আজ অন্তর্জালে ঘুরে ঘুরে শুধু কবিতা পড়ছি সকাল থেকে। মন ভালো নেই। আকাশটারও মনে হয় একই অবস্থা। এখন পর্যন্ত এক টুকরো রোদও উঠতে দেখলাম না কোথাও। কাশেম ভাইএর দোকানে হয়তো কিছু বিমর্ষ ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। খুব বেশি উচ্চবাচ্য না করে চা-সিগারেট টানছে। আমি নিরাবেগ শুয়ে কবিতার পাতা উল্টে যাচ্ছি। চোখে পড়লো নির্মলেন্দু গুণের 'যাত্রা-ভঙ্গ' কবিতাটি-

"হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে,
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করি না
এক কে করি দুই৷

হেমের মাঝে শুই না যবে,
প্রেমের মাঝে শুই
তুই কেমন করে যাবি?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া
আমাকেই তুই পাবি৷

তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই৷

তখন আমি একটু ছোঁব,
হাত বাড়িয়ে জাড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে,
আমার বৈতরনী নায়ে৷

নায়ের মাঝে বসব বটে,
না-এর মাঝে শোব৷
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ,
দু:খ দিয়ে ছোঁব৷

তুই কেমন করে যাবি?"

তোমাকে নিয়ে কোনো গান লেখা হয় নি চেষ্টা করেছি বহুবার

আজকাল মনে হয় আমি একা একাই নায়াগ্রায় চলে এসেছি। উঁচু পাহাড়ের উপর দিয়ে হাঁটছি। একা, ওক গাছের সারির ভেতর। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা খড়িগুলো দেখলে অনেক লোভ হয়। কিন্তু তুলি না। প্রকৃতি সম্ভবত অপচয় পছন্দ করে না। হাঁটার সময় পড়ে থাকা খড়ি তুলে লাভ নেই। শক্তির অপচয়। সন্ধ্যা নামার পর খড়ি খুঁজতে বের হতে হয়। মোটা ধরনের একটা বা দু'টো ডাল হলেই সারারাতের চিন্তা শেষ। আর কিছু শুকনো পাতা। পাতা পাওয়াও যায় প্রচুর পরিমাণে। আমার একটা ঝুড়ি থাকলে ভালো হতো। কিন্তু সেটা নিয়ে হাঁটাহাটি করাটা খানিক কষ্টের হতো। তারপরও পাতা কুড়ানোর সময় প্রতিদিন একবার ঝুড়ির অভাব অনুভব করি।

তুমি কি দেখতে পাও আমাকে? আমার সবকিছুই ঠিক-ঠাক আছে। শুধু আমি আর থামতে পারছি না। তুমি দেখতে পাচ্ছো? আমি হেঁটে হেঁটে ক্রমাগত দূরে চলে যাচ্ছি। আমি জানি তুমি টের পাচ্ছো। হয়তো হৃদয়ে তোমারও চলচ্ছে ক্ষরণ, অবিরাম। কিন্তু, এই দূরে সরে যাওয়া ছাড়া আমাদের যে আর কোনো উপায় নেই। আমি জানি, এই কথাটা তুমিও জানো।

অল্প কিছু সময়ের জন্য মহাকালের উপরিভাগে ভেসে উঠেছি

ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে দেখা হলো অনেকদিন পর। বলছিলো, এই মেয়েটাই নাকি ওর জীবনের শেষ প্রেম।

আমি বললাম, বললাম না কিছু আসলে, হাসলাম। ব্যপারটা ক্রিস্টিয়ানোর চোখ এড়ালো না। ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার মজা একটাই। খানিকটা হলেও ছেলেবেলাটায় ফিরে যাওয়া যায়। সে সময়কার সুতার টেনশনটা এখনো মনের ভেতর টের পাই। আশা জাগে এখনো হয়তো বুড়িয়ে যাই নি।

সহ্যসীমার কাঁটাতারে বিদ্ধ শরীর

সময়টা কাটছে প্রতিকূল। আগুন, ভাঙচুর, অস্থিরতা সবকিছু একসঙ্গে ঝাপিয়ে পড়েছে। প্রতিটি দিন এমনভাবে কাটছে যে, দিনশেষে নিজেকে আনন্দিত মনে হয়; আরেকটা দিন পার করে দিতে পারার জন্যে। দি ডে আই গ্ল্যাড টু সার্ভাইভ।

শীত শুরু হচ্ছে। এখন চলছে আগুন পোহানোর কাল। ব্যাডমিন্টন খেলার কাল। পার্কে দেখলাম জটলায় জটলায় আগুন পোহানো চলছে। দু'টো ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা হয়েছে। এখনকার শীতে আগুন জ্বালানোর এবং সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে থাকার আলাদা মজা আছে। কিন্তু ক'দিন পরেই এ মজাটা থাকবে না। তখন আগুন জ্বালানোর মতো জ্বালানি থাকবে না। মানসিক ইচ্ছা থাকবে না। শুধু বদ্ধ কুঠুরিতে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে। মানুষও কি এককালে শীতনিদ্রায় যেতো নাকি?

ঘড়ির সময়ে আর মহাকালে যেখানেই রাখি এ হৃদয়

এর আগের দিন গিয়েছিলাম টাঙ্গাইল। সুন্দর জায়গা। বিশেষ করে পাহাড়ী এলাকার দিকে যাওয়ার রাস্তাটা বেশি সুন্দর। কক্সবাজার থেকে লামা যাবার সেই পাহাড়ী পথের মতোন। সেখানে একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে। ভেতরে আছে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল। অনেক পোশাকধারী সেনাসদস্য। কিন্তু ঢাকার জাহাঙ্গীর গেটের ভেতর থাকা সদস্যদের মতো খড়খড়ে নয় তারা। সাইকেলে চড়ে ঘুরে বেড়ায়, বাজার করে, বাজারের দোকানে বসে চা খায়, গুলতানি মারে; অনেক বেশি জনসম্পৃক্ত। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা থেকে শুরু করে সবই করে। শুধু নিয়মটা ভাঙ্গে না। আর আমাদের জাহাঙ্গীর গেটের ভেতরের গুলো সারাদিন গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং এমন একটা ভাব ধরে থাকে যে, ভেতরে না জানি কি রসগোল্লা-মন্ডা-মিঠাই পাকানো হচ্ছে!