ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ পর্ব

তাদের ১০ জনের ৮ জন বিশ্বাস করে নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পুরণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তারা বিশ্বাস করে সকল নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহন করার রাষ্ট্রের কর্তব্য। তারা মনে করে রাষ্ট্রের খাস জমি দরিদ্রদের সমবন্টন করতে হবে। তাদের ১০ জনের ৯জন বিশ্বাস করেন ভোট দেওয়া নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। তাদের ১০ জনের ৫ জন বিশ্বাস করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে নারীদের তুলনায় পুরুষেরা বেশী যোগ্য, দক্ষ।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ৩য় পর্ব

বাংলাদেশে মাদ্রাসা সম্প্রসারণের হার বাড়ছে। এমপিওভুক্তির তুলনা করলে দেখা যাবে প্রতিবছর যে পরিমাণ মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হচ্ছে অন্যান্য পাবলিক স্কুলের এমপিওভুক্তির পরিমাণ তার তুলনায় নগন্য। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ অনেকদিন পর অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে কিন্তু প্রতিবছরই কোনো না কোনো মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি পাবলিক স্কুল নির্মানের বদলে স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিরা মাদ্রাসা নির্মাণ এবং মাদ্রাসা অর্থায়নে আগ্রহী। এই নবগঠিত আলীয়া মাদ্রাসাগুলো দ্রুতই এমপিওভুক্ত হয়। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মাদ্রাসা সম্প্রসারণের ঘটনাকে "রাষ্ট্রের অর্থায়নে জঙ্গীবাদ সম্প্রসারণ উদ্যোগ" না কি রাষ্ট্রের অনীহায় বর্ধিত শিক্ষার্থীদের বিকল্প হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ২য় পর্ব

ঘোড়ায় চেপে যতদুর যাওয়া যায়, খ্রীষ্টীয় সপ্তম-অষ্টম শতাব্দীতেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী শাসকেরা ততটুকু ভূখন্ডই দখল করে ফেলেছিলেন এমন কি সমুদ্র অভিযান চাপিয়ে তারা স্পেনও দখল করে নেন। দখলকৃত ভূখন্ডগুলোর ভেতরে প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যধারী ইরাক এবং ইরান। রোমান সম্রাজ্যের অধীনস্ত সিরিয়া, মিশর, প্যালেস্টাইন, মরোক্কোর মতো দেশগুলোও ছিলো। নববিজিত রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা দখলে সমর্থ হলেও এই বিপূল সম্রাজ্যের সবাইকে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করানোর সামর্থ্য কিংবা উদ্যোগ মুসলিম শাসকদের ছিলো না। আসমানী কেতাবধারী নাগরিকদের সাথে সাথে বিজিত দেশে মুর্তি ও অগ্নিপূজারী নাগরিকদের অস্তিত্বও মেনে নিতে হয়েছে মুসলিম শাসকদের। ধর্মের ভিত্তিতে শাসক এবং শাসিতের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ এই প্রশ্নে ইসলামী চিন্তাবিদদের ভেতরে মতপার্থক্য এমন কি বৈরিতাও ছিলো। এমন মত পার্থক্য শাস্ত্রনিষ্ট বিতর্ক থেকে অস্ত্রনির্ভর সংঘাতে সমাপ্ত হয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ১ম পর্ব

চার ধারায় বিভক্ত বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় দেশের এক চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দেশে সরকার স্বীকৃত আলীয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং রয়েছে ক্বাওমী মাদ্রাসা ব্যবস্থা। এ দুই ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদ্রাসা প্রতি ছাত্র সংখ্যার ব্যবধান থাকলেও মোটা দাগে বলা যায় ক্বাওমী মাদ্রাসা এবং আলীয়া মাদ্রাসায় মোটামুটি সমান সংখ্যাক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। যেহেতু ক্বাওমী মাদ্রাসার সনদের সরকারী স্বীকৃতি নেই, সুতরাং আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর আট ভাগের একভাগ নিজেকে শিক্ষিত মনে করলেও এদের শিক্ষার কোনো স্বীকৃতি নেই। এরা শিক্ষিত বেকার এমনও বলা যাবে না কারণ এদের সরকারী কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহনের যোগ্যতা নেই।

বিশ্বাস করা কঠিন সম্রাট আকবরের সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে, সকল ধর্মের সকল শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা উন্মুক্ত করে দেওয়ার সাথে সাথে মাদ্রাসা পাঠ্যক্রমেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন গৃহীত হয়। ফলে সংস্কৃত, ফার্সী এবং আরবী ভাষা শিক্ষার সাথে সাথে মাদ্রাসাগুলোতে প্রতিটি শিক্ষার্থীই সংস্কৃত কাব্যের রস আস্বাদন করতে শিখতো।

দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকদের নিত্য দিনের জীবন

দু:খজনক বাস্তবতা হলো সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের দেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রতিনিয়ত দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হয়। নিম্নবর্ণের হিন্দু যাদের সহায়-সম্বল ভিটে মাটিটুকুই , এই মাটিতে জন্ম এ মাটিতে দাহ হওয়ার পরও প্রতিনিয়ত ভারতপ্রেমের গঞ্জনা শুনতে হয় যাদের, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট নয় এমন দেশগুলোর মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশী মুসলমান বসবাস করলেও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতায় ভারত এখনও আমাদের কাছে হিন্দু রাষ্ট্র এবং একই সাম্প্রদায়িক কারণে এই দেশের প্রতিটি হিন্দুই ভারতপ্রেমিক দেশদ্রোহী।

ক্রমাগত অবমাননা, লাঞ্ছনার এই ইতিহাস মনে রেখেই এই দেশে একজন হিন্দু বসবাস করে। সংখ্যালঘুদের ভেতরে সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন বাস্তবতার ছবিতে বাংলাদেশের অপরাপর সংখ্যালঘুদের জীবনযাপনের বাস্তবতা মূর্ত প্রতিনিয়তই। বৌদ্ধ অধ্যুষিত বার্মা কিংবা শ্রীলংকা কিংবা চীন কিংবা জাপানের স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাতের আঁচে পূড়ে যেতে পারে রামু যেভাবে ভারতের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে পুড়ে যায় এই দেশের হিন্দুবাড়ীগুলো। আমরা সাম্প্রদায়িক দানবপূজা করছি, ধর্মের আড়ালে মানুষ পোড়ানোর নৃশংসতায় সমঝোতা করছি।

এবং আমরা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছি

অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট আন্দোলনটা খুব দ্রুতই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেলো, পূঁজিবাদী ব্যবস্থার আভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় ভোক্তা-ব্যবসায়ী-রাষ্ট্র- আইন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মাণ অক্ষুন্ন রাখার ন্যুনতম নিশ্চয়তা নেই, অর্থের পরিমাপে মানুষের মূল্য নির্ধারিত হলে, প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর প্রাপ্যতা এবং মাণ অর্থে নির্ধারিত হলে শুধুমাত্র গুটিকয়েক মানুষ সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা কিনে ফেলতে পারে এবং গণমাধ্যম অশ্লীল ভাবে সেগুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করে সবার ভেতরে তেমন জীবনযাপনের স্বপ্ন তৈরি করতে পারলেও সে পথে সবার সহজ গতায়ত নেই। অর্থনীতি এবং প্রোডাক্টিভিটির ইঁদুর দৌড়ে শুধুমাত্র কয়েকজন সফল হবে, বাকীরা সেই সাফল্যের আশায় পূঁজিবাদী অর্থনীতের যাতাকলে পিষ্ট হবে। তবে অকুপাই ওয়ালস্ট্রীট আন্দোলনটা এই সহজ প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতার বিরুদ্ধে ছিলো না বরং বিদ্যমান ব্যবস্থায় ন্যায্যতার অভাবে আন্দোলনটা শুরু হয়েছিলো।

ভাঙচুরের ব্যবসা

হুমায়ুন আহমেদের নান্দাইলের ইউনুসের গল্পটা নিছক গল্প না বরং বঞ্চিত মানুষের আভ্যন্তরীণ ক্রোধের মাত্রাবোধহীনতার রূপায়ন। অবশ্য নান্দাইলের ইউনুসের উপখ্যান আমাদের জানতে হয় না, আমরা চলতি পথে বিচারের আড়ালে এমন অমানবিক নৃশংসতার উদাহরণ নিয়মিতই দেখতে পাই।
একটা সময়ে রাস্তায় ছিনতাইকারী কিংবা চাঁদাবাজ ধরা পরলে উত্তেজিত জনতা তাদের পিটিয়ে হত্যা করেছে, পকেটমার শিশু-কিশোরদের আঙ্গুল কেটেছে, আগুণে পুড়িয়ে মেরেছে, গণমাধ্যম নিয়মিতই এসব সংবাদ প্রকাশ করেছে কিন্তু এই অহেতুক বর্বরতার বিপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারে নি।
সমষ্টির ভেতরে অনেক ক্ষুব্ধ-ক্রুদ্ধ মানুষ থাকে, যারা জীবনে কোনো না কোনো সময় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে, যাদের বাজারের টাকা পকেটমার হয়েছে, যাদের ছোটো প্রতিষ্ঠান প্রাণের আতংকে চাঁদাবাজদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধে বাধ্য হয়েছে। অসংখ্য মানুষ যারা মূলত আইনী সুরক্ষা চেয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা চেয়েছে কিন্তু রাষ্ট্র আইনী সুরক্ষা কিংবা নিরাপত্তা প্রদাবে ব্যর্থ। এইসব ক্ষুব্ধ ক্রুদ্ধ মানুষেরা ভীড়ের আড়ালে ভয়ংকর নৃশংসতায় অমানবিক ভাবে নিজের ক্রোধের উপশম খুঁজে পায়।

আমাদের না লেখা ইতিহাস

বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ খুব সচেতন ভাবেই অনুচ্চারিত রয়ে গেছে, যারা প্রত্যক্ষদর্শী, রাজনীতিতে নিমজ্জিত ছিলেন তারাও এই সময়কালের রাজনীতি বিষয়ে খুব বেশী আলোচনা করতে অনাগ্রহী, একটি স্বাধীন দেশের সূচনার সাড়ে তিন বছর যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে, আমাদের সচেতন বুদ্ধিজীবীগণ এই হারানো সময়ের রাজনৈতিক আবর্তে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খা্চ্ছেন, বিভিন্ন ধরণের তথ্য উপস্থাপন করছেন, রাজনৈতিক বিরাগ থেকে কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের লোভে তারা যেসব তথ্য উপস্থাপন করছেন সেখান থেকে বাস্তবতা অনুধাবন করা দুরহ।

আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি নেই, সুতরাং অপরাপর ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ সম্বল করে এই সময়ের অস্পষ্ট একটা ছবি নিজের ভেতরে তৈরি হয়েছে। রওনক জাহানের বাংলাদেশ পলিটিক্স প্রবলেমস এন্ড প্রমিজেস কিংবা তালুকদার মনিরুজ্জামানের রেভ্যুলেশোন এন্ড আফটারম্যাথের একাডেমিক বিশ্লেষণের সাথে সে সময়ের বিভিন্ন ব্যক্তির স্মৃতিচারণ কিংবা দিনলিপি এক ধরণের সহায়তা করেছে।

অবদমন

"এমন সুন্দর মেয়েটাকে এইভাবে কেউ মারে" কান্না শুনে পাশের মসজিদ থেকে হেঁটে এসে মৌলভিসাহেব বললেন : বাবা, কাউকে মুখে মারতে হয় না, মুখটা আল্লাহ নিজের হাতে তৈরি করেন।" ঘাড়গোঁজ করে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষের রোষ তখনও কাটে নি, হাতের কঞ্চি এলোমেলো পাশের পুঁইলতার উপর চালিয়ে মাথানিচু করে ঘরের দাওয়ায় গিয়ে বসে।

শৈশব

মানুষ বদলায় না, ঘোর নিঃসঙ্গ ব্যস্ত শহরের মানুষের ভেতরেও নিস্তব্ধ অবসর থাকে, তারাও উত্তেজনার খোরাক চায়, এই যে বয়স্ক মানুষটা হুট করে চিৎকার করে উঠলো, ফ্ল্যাটবাড়ীর গ্যারেজের দরজায়, অমনি আশেপাশের চায়ের দোকান-মুদির দোকান থেকে ছেলে বুড়ো সবাই হই হই হাজির হয়ে গেলো মজা দেখতে। এর ভেতরেও নিখাদ গ্রাম্যতা যে যে গ্রাম্যতায় পোষা গরু ছাগলের মতো গ্রামের পোষা পাগলকে দেখে ভয় ভয় উত্তেজনায় চলে আসে। এইসব মানুষদের ভেতরের ক্ষোভ কাউকে ক্ষুব্ধ করে না বরং এক ধরণের কৌতুকের জন্ম দেয়।
গ্রামের নিস্তরঙ্গ আলুনি জীবনে উত্তেজনা বয়ে নিয়ে আসতো এইসব বায়ুচড়া মানুষেরা, হঠাৎ চৈত মাসের দুপুরে লোকটা মাঠ থেকে ফিরে কিরম হয়ে গেল, বললো বৌ ভালো লাগে না- আমি তো বুঝি নি বু, আমার কি যে সর্বনাশ হয়ে গেলো, মানুষটা হাসুয়া নিয়ে দৌড় দেয়, লোকজন আতংকে চিৎকার করে, আবার একটু দূরে দাঁড়িয়ে টিপটিপ হাসে। পরস্পরের গা টিপে, কাঁধ ঝাকিয়ে মৃদু উল্লাসে ফেটে পরা মানুষেরা আসলে সার্কাস দেখে। সার্কাসের জন্তুদের বলের উপরে বসে পরা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো এই বায়ুচড়া মানুষটার হাসুয়া চালানোও এক ধরণের মাংনার উত্তেজনা তাদের জীবনে।

অনৈতিক অবচয়ী অর্থনীতি

"অনৈতিক অবচয়ী অর্থনীতি" হয়তো কোথাও না কোথাও বৈধ ও অবৈধ উপার্জনের অর্থনৈতিক চক্রকে উপস্থাপনের জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে, কিংবা হতে পারে এই শব্দগুচ্ছ একান্তই আমার উদ্ভাবন( সেটা হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম)।
পণ্য উৎপাদন এবং বিপণনে রাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহন এবং নিস্ক্রিয় অংশগ্রহনের মাত্রাভেদে বাজারে পণ্যের ক্রয়মূল্যের উত্থানপতন অনেকাংশেই নির্ভরশীল। রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকা ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাকে সব সময়ই সীমিত করছে, সীমিত পর্যায়ের মূল্যস্ফ্রীতি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শর্ত হিসেবে ধরে নেওয়া হলেও " অনৈতিক অবচয়ী অর্থনীতি" চর্চা আসলে ভোক্তা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতে কোনো ভুমিকা রাখে না।

"অনৈতিক" কারণ এভাবে উপার্জিত কালো টাকা সরাসরি বাজারে প্রবেশ করলেও রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়ে সেটা কোনো ভুমিকা রাখে না। চাঁদাবাজী এবং মজুতদারী ধাঁচের পণ্যমুল্য স্ফ্রীতি ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাকে ধারাবাহিক শোষণ করতে করতে ভোক্তাকে নিঃস্ব করে ফেলে। ভোক্তা অধিকার পরিপন্থী এই প্রক্রিয়া বেআইনী বিবেচনায় অনৈতিক।

ভাবনার অবদমন

একা রিকশায় ফিরছি সন্ধ্যার পর, প্রায় অন্ধকার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কয়েকটা রিকশা যাচ্ছে, বিকেলে বৃষ্টি হয়েছিলো তার ছাপ লেগে আছে গাছেদের গায়ে, সম্ভবত ছুটির দিন বলেই ফাঁকা রাস্তায় মাত্র কয়েকটা রিকশা আর অন্ধকার পাশাপাশি ছুটে যাচ্ছে।
আমার ননদ বুঝলেন চাচা আমাকে একদম পছন্দ করে না। আমার স্বামী ওর মা বোনের কথাই বিশ্বাস করে, .........
পাশের রিকশার দিকে তাকিয়ে দেখলাম এক যুবতি বসে আছে, রিকশাওয়ালার সাথে গল্প করছে। খুব অন্তরঙ্গ পারিবারিক গল্প, তার প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির গল্প।
অন্য আরেকদিন অন্য কোনো রাস্তায় এভাবেই কানে আসলো আমার ছেলে আর আমার কথা ভাবে না। বৌটা ওকে যাদু করে রাখছে........।
তাকিয়ে দেখলাম এক মাঝবয়েসী মহিলা রিকশাওয়ালার সাথে গল্প করছে

বিলবোর্ডের উন্নয়ন সম্প্রচার

আওয়ামী লীগের প্রচারণা বিলবোর্ড সবগুলো দেখেছি এমনটা বলবো না, আমার চলতি পথের দুইপাশে সামান্য যে কয়েকটা নজরে এসেছে সেগুলোর বিশ্রী লাল রঙ, কম রেজুলেশনের বিবর্ধিত ফেটে যাওয়া ছবিগুলোর পাশে অনেকগুলো সংখ্যা লেখা, যে সংখ্যাগুলো আওয়ামী লীগের সাফল্যসূচক।

শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন, জিডিপিতে স্থিতিশীলতা , দারিদ্রবিমোচনে দক্ষতা এবং আরও অনেকগুলো সংখ্যাই সেখানে আছে, সংখ্যাগুলো চমৎকার কিন্তু যারা ভোক্তা- এইক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ, যারা মাথাটা ১৫ ডিগ্রী উপরে উঠিয়ে বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে বিশাল বিশাল সংখ্যা গোনা সাফল্য যাচাই করে, আওয়ামী লীগের আশা, পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই ভোট দিয়ে দিবে, তাদের কাছে এই সংখ্যাগুলোর অর্থ অচেনা।

এই সংখ্যাগুলোর সাথে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের যোগাযোগ কোথায়? কিভাবে এই সংখ্যাগুলো তার জীবনযাপনে এক ধরণের উন্নয়ন বয়ে এনেছে? কেনো এই উন্নয়ন তার জীবনমানকে কাঙ্খিত জায়গায় পৌঁছে দিতে পারে, এসব প্রশ্নের উত্তর সেখানে নেই। ১৮ ফুট বাই ৩০ ফুট ক্যানভাসের লাল রঙএর পোস্টারের কোণে লেপ্টে থাকা সংখ্যাগুলো কেনো সাধারণ মানুষকে স্পর্শ্ব করবে?

নিষিদ্ধ না নিষিদ্ধ নিবন্ধিত অনিবন্ধিত জামায়াত

আদালতের নির্দেশের জামায়াত ই ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। নিবন্ধনের অবৈধতা ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, এবং জামায়াত আগামী ১২ এবং ১৩ তারিখে হরতাল ডেকেছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হরতাল কেনো ১২ দিন পরে আহ্বান করা হলো? জামায়াতে ইসলামীও জানে এই ভরা ঈদের কেনাকাটার মৌসুমে হরতাল দিলে তার হরতাল মান্য করার মতো মানসিকতা এই ক্রয়উন্মাদ মানুষদের নেই। চাঁদের হিসেব মতে ঈদ হবে ৮ কিংবা ৯ই আগস্ট, ঈদ ফেরত মানুষদের ভোগান্তির বাইরে এ হরতাল নতুন কিছু যুক্ত করতে পারবে না। জামায়াত এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করে রায় পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনে নির্বাচন কমিশন। সে সময় ৩৮টি দলের সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী জামায়াতে ইসলামীও নিবন্ধিত হয়। আইন অনুযায়ী শুধু নিবন্ধিত দলগুলোই বিগত নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়।

প্রথম প্রেম, প্রথম স্পর্শ্ব প্রথম চুম্বন

''একটি কথার দ্বিধা থরথর চুড়ায় সাত সাতটি অমরাবতীর সুখ '' মুহুর্তের আগে ভীষণ অস্থির মুহুর্তগুলো নিজের কাছেই লুকিয়ে রাখার সময়। সুমনের একটা গান ছিলো প্রথম সব কিছু
" প্রথম প্রেমে পরার পরে সবাই পস্তায়,
ক্লাশ পালিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরেছি রাস্তায়"

নিয়মিত দেখছি যে মেয়েটাকে তাকে হঠাৎ কোনো একদিন একটু আলাদা করে দেখা, তার চোখ, তার হাসি, তার চোখের সামনে নুয়ে থাকা এক গুচ্ছ চুলে আলগোছে সরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য আর কানের পাশে কুন্ডলিত চুলের ভেতরে নিজের অসহায় আত্মসমর্পনের মুহূর্ত। আমি তাকে, শুধু তাকেই ভালোবাসি, তার কাছে যেতে চাই, তাকে নিজের অনুভব জানাতে চাই, এই অনুভুতি প্রকাশের আগে নিজের ভেতরে এক ধরণের দ্বিধাদ্বন্দ্ব অস্থিরতা থাকে।