ইউজার লগইন

রাসেল'এর ব্লগ

লীগপন্থী ডানেরা কিংবা পিকিংপন্থী বামেরা

বাংলাদেশে মোটা দাগে জাতীয়তাবাদী পরিকাঠামোতে স্বাধীনতার ইতিহাস চর্চা হয়, দেশের বিদগ্ধ বুদ্ধিজীবী এবং ইতিহাসবিদদের প্রিয় এই জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চা প্রকল্প অনেকটাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তাবিত ইতিহাস অনুসরণ করে।

আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে । জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষিত ইতিহাসে আওয়ামী লীগের ভুমিকা, স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনায় তার দলীয় নেতাদের দক্ষতা এবং সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নিয়মিত নিপীড়নের বাস্তবতায় জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চায় আওয়ামী লীগের অবদান ও অবস্থান আওয়ামী লীগের বর্তমানের নেতা কর্মীদের কাছেও স্বস্তিকর। তাদের সংগঠনের ঐতিহ্য এবং অর্জনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন, নেতৃত্ব প্রদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পালক। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের এমন ঐতিহ্য নেই।

রমজানের নিয়মিত উৎপাত

সদাপরিবর্তনশীল পলিবিধৌত এই ব-দ্বীপাঞ্চল কখনও আর্যাবর্তের অংশভুক্ত ছিলো না। শাস্ত্রার্থে এই ব-দ্বীপাঞ্চল ছিলো নাস্তিক অধ্যুষিত, এ অঞ্চলের অধিবাসীরা বেদে বিশ্বাসী ছিলো না। আর্যের রথ নদীর পরিবর্তনশীল তীরে এসে থেমে গিয়েছিলো, প্রকৃতি ধর্মানুসারী এই অঞ্চলের মানুষকে গৌরবর্ণ আর্যেরা কখনও বিশ্বাস করতে পারে নি, এদের ভাষাকে শ্রদ্ধা করতে শিখে নি। বেদ উপনিষদ বর্ণাশ্রম এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্কের ভেতরে বাধা হয়ে উঠতে পারে নি।

হেফাজতের উত্থান পতন

লেখাটা ৭ই মে লিখেছিলাম সামান্য কিছু অদল বদল করে ব্লগে টুকলাম আজকে

৫ই মে গভীর রাত থেকে শুরু করে ৬ই মে সারাদিন অব্যহত পুলিশ অভিযান, সহিংসতা , অগ্নিসংযোগ শেষে অবশেষে হেফাজতে ইসলাম পিছু হটেছে। বাংলাদেশের চলমান বাঙালী জাতিয়তাবাদী সাংস্কৃতিক উত্থানের বিপরীতে হেফাজতে ইসলামীর পশ্চাতমুখী বদ্ধ সংস্কৃতির ধারণা সাধারণের ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও এর সাম্ভাব্য সমর্থকদের সার্বিক সংখ্যা সাধারণ মানুষদের আতংকিত করেছিলো। মিডিয়ায় তাদের নেতা ও কর্মীদের "গণতওবা", এবং 'কানে ধরা' ছবি তাদের বশ্যতা মেনে নেওয়ার, তাদের পরাজিত হওয়ার এবং মনোবল ভেঙে যাওয়ার প্রতীকি উপস্থাপনে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছে , আনন্দিত হয়েছে।

ফুল বঊ - আবুল বাশার

মানবীয় সকল প্রচেষ্টা ও উদ্যমকে ব্যর্থ করে দিয়ে পরাজয়ের অনিবার্যতা স্বার্থক ট্রাজেডীর বৈশিষ্ঠ্য। মানুষ স্বভাবতই প্রতিকূলতার বিপক্ষে লড়াই করে, আশাকে সম্বল করে টিকে থাকে বিরুদ্ধ পরিবেশে কিন্তু প্রকৃতি সমাজ বাস্তবতা তার বিপক্ষে চলে যেতে পারে, সকল সম্ভবনা সত্ত্বেও বিজয়ী মানুষের সামগ্রিক পরাজয় আমাদের নতুন করে বিমর্ষ করে, আমরা হতাশ হয়ে ভাবি লেখক আরও একটু উদার হতে ভালো হতো, এভাবে হারিয়ে দেওয়াটা তার ঠিক হয় নি মোটেও, আমরা আসলে সুন্দর সমাপ্তির প্রত্যাশা করি, কিছুটা নিয়তিবাদী আমরা অলৌকিক কিছুর প্রত্যাশায় বসে থাকি আর লেখক আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন সব সময় সব প্রত্যাশা সামাজিক দাবি পুরণ করতে পারে না, লেখক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সমাজের বিদ্যমান শর্তগুলোকে সামনে রেখে চরিত্রের পরিণতি নির্ধারণ করেন, তাই পাঠকের প্রত্যাশাপুরণে ব্যগ্র না হয়ে লেখককে সামাজিক বাস্তবতার প্রতি সৎ থাকতে হয়, সে পরিণতি আমাদের সব সময় ভালো লাগবে এমনটা আশা করা অনুচিত।

পরাজিত মানুষের ইতিহাস থাকে না

পরাজিত মানুষদের ইতিহাস থাকে না, তারা ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে প্রতিনিয়ত আত্মাহুতি দেয়, প্রচন্ড নির্যাতন সহ্য করে, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে, গণমাধ্যমের সহানুভুতি -ঘৃণা পায়, তাদের মানবেতর জীবনযাপন ও লড়াই মানবাধিকার সংস্থার স্বীকৃতি পায় কিন্তু বিজয়ের আস্বাদ তারা পায় না।

পূর্বপুরুষের পাপের জের টানা এবং নিত্যনির্যাতিত হওয়ার গল্পগুলোর একপেশে উপস্থাপন থাকে বিজয়ীর গাঁথায় কিন্তু পরাজিতের জবানীতে তার আত্মঅধিকার এবং স্বীকৃতির লড়াইয়ের গল্প ততটা প্রচারিত হয় না।

যেমন ধরা যাক রোহিঙ্গাদের কথা, আমাদের সীমান্তবর্তী রোসাঙ্গ রাজ্যের বাসিন্দা তারা, রোসাঙ্গ রাজাদের রাজসভা আলোকিত করেছে চট্টগ্রামের কবিরা, তারা সেখানে মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগের সূচনা করেছিলো, চট্টগ্রামের আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ তার জীবনের দীর্ঘ একটা সময় এইসব কবিদের সাহিত্য সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে অতিবাহিত করেছেন।

সিরাজউদদৌলা যখন কোলকাতা অবরোধ করলেন তখন একজন ইংরেজ সেনাপতির চট্টগ্রাম অভিমুখে আরকান রাজ্য দখল করতে যান, তাদের ধারাবাহিক আক্রমণে অবশেষে আরকান রাজ্য ব্রিটিশ উপনিবেশের অংশভুক্ত হয়।

বর্ষার গান

অনেক অনেক দিন পর আমার জগন্ময় দা'র কথা মনে পরলো এই বিস্তৃত মাঠে দাঁড়িয়ে, দুরের আকাশে ধীরে ধীরে মেঘ জমছে, বাতাসে বুনো মোষের মতো ক্ষ্যাপা কালো মেঘ দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে আকাশের নীল সামিয়ানা। ওক সাভানায় যতদুর দেখা যায় বুনো ঘাসের উপরে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুড়ো ওক, নীলচে সবুজ উঁচু নীচু মাঠ থেকে দূরে ছোটো টিলা, আর সেই পাহাড়ের ওপাশ থেকে বুনো মোষের মতো ছুটে আসছে কালো মেঘ, বাতাসে কেঁপে ওঠা এই নীলচে সবুজ ঘাসের গালিচা দেখে মনে হলো সারি নদীর কথা। সারি নদীর পানি এতটা হলদে সবুজ কিন্তু বর্ষায় আকাশের রঙ এর সাথে বদলে যেতো নদীটার রঙ। হলদে সবুজ থেকে কালচে সবুজ একটা জলের চাদর কেঁপে উঠতো বাতাসে, আমাদের কোষা নৌকা কাঁপতো সেই ঢেউয়ের সাথে। এখানে এই নীলচে সবুজ ঘাসের গালিচা কাঁপচে সারি নদীর ঢেউয়ের মতো আর সেই ঢেউয়ের মাঝখানে একাকী দাঁড়িয়ে আমার জগন্ময় দা'র কথা মনে পরছে

আমাদের যন্ত্রযুগে

রোমান সম্রাজ্য কিংবা গ্রীক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ সময়েও " দাস" কখনই স্বাভাবিক মানুষের মর্যাদা পায় নি। মানুষের অধিকার সম্পর্কিত কোনও ভাবনায় 'দাস' আলাদা মানবিক অস্তিত্বসমেত দৃশ্যমান হয়ে উঠে নি। পরবর্তী দেড় হাজার বছরেও কোনো মহামানবই 'দাস' প্রথার বিরুদ্ধাচারণ করেন নি, দাসদের প্রতি আরও একটু মানবিক হয়ে ওঠার উপদেশ প্রদানের বাইরে 'দাস'দের স্বাধীনতা প্রশ্নে নিস্পৃহ থেকেছেন। তাদের এই সচেতন নির্লিপ্ততা তাদের ব্যক্তিগত অমানবিকতার চেয়েও বরং তাদের সময়ের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কে দাস শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতিস্বরুপ।

সভ্যতায় যন্ত্রযুগের আবির্ভাবের আগে 'দাস' উৎপাদক হিসেবে পেটচুক্তি শ্রমিক, এমন এক উপকারী জীব যাকে যথেচ্ছা ব্যবহার করা যায় এবং যাদের প্রতি মানবতাবাদী মনোযোগ কোন না কোন ভাবে উৎপাদন সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করবে। যদিও সাধারণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন " স্বাধীন মানুষের" উৎপাদনের যাঁতাকলে কলুর বদলের মতো জুড়ে যাওয়া সমর্থনযোগ্য নয় কিন্তু এই মনোভাব অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সভ্যতার ইতিহাসে বিদ্যমান ছিলো।

অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ

সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোসহ ইন্টারনেট ব্যবস্থায় নজরদারিতে (ফিল্টারিং) ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোতে(আইআইজি) বিশেষ প্রযুক্তি বসানোর জন্য বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছে সরকার।

বিটিআরসির বিজ্ঞাপনে বলা হয়, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে এমন ইন্টারনেট নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করে দিতে হবে যাতে মূল সাইট চালু রেখেই সহজে আপত্তিকর বিষয়গুলো ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলা যায়।

“রাষ্ট্রীয়, সমাজ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায়- ওয়েবসাইটগুলো থেকে এমন বিষয় সনাক্ত করে তা বন্ধ করে দেয়া হবে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।”

ফিল্টার চালু হলে সামাজিক যোগযোগের ওয়েবসাইট ব্যবকারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হবে কি না জানতে চাইলে মোস্তফা জব্বার বলেন, “বিষয়টি অন্যভাবে দেখতে হবে। কেউ যদি অন্য কাউকে সরাসরি কটাক্ষ বা ক্ষতির কারণ তৈরি করে, তা নিয়ন্ত্রণ বা ফিল্টার করা উচিত। তা না হলে সমস্যা থেকেই যাবে।”

উন্নত বিশ্বে বিভিন্ন দেশে এ ধরণের নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে বলেও মোস্তফা জব্বার জানান।

তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিনের সাক্ষাৎকার পড়ে ভীষন অসস্তিকর অনুভুতি হলো , মনে হলো পুরুষের বিরুদ্ধে তসলিমার বিদ্রোহ অবসান হলো, তিনি নিজেই তার পরাজয় মেনে নিয়ে পুরুষতন্ত্রের পতাকা উড়িয়েছেন তার ভাবনায়।
এই সাক্ষাৎকারটিও নতুন কোনো সাক্ষাৎকার নয়, বরং অনেক পুরোনো জঞ্জাল নতুন করে সামনে আনা।

সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে যা লিখেছিলাম সেটুকু মুছে ফেলছি।

তার স্মৃতিচারণে খোলামেলা কথার চেয়ে বেশী স্পষ্ট হয়ে থাকা কামনাকাতরতা অসস্তি তৈরি করে। সম্ভবত বাংলাদেশের উপন্যাসে নারীর শরীরময় উপস্থিতির বয়ান শুরু হয় তসলিমা নাসরিনের হাতে।

আব্দুল কালামের আলোকিত মনের পাঠানুভুতি

ভারতীয় রাষ্ট্রপতি APJ ABDUL KALAM IGNITED MINDS লিখেছেন। অনুপ্রেরণাদায়ী বই হিসেবে ভারতের ভবিষ্যত নাগরিকেরা এই বই পড়ে আত্মমর্যাদাবোধে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভারতকে ভবিষ্যতে বিশ্বে একটি পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে।

আমাদের গল্প

দীর্ঘ ৪ সপ্তাহ পর আমার মেয়ের সাথে আমার দেখা হওয়াটা খুব বেশী আনন্দময় অভিজ্ঞতা ছিলো না। জেলের নিয়মে সপ্তাহে এক দিন নির্দিষ্ট সময়ে নাপিত এসে চুল-দাড়ি পরিচর্যা করে, যেকোনো কারণেই হোক গত ৪ সপ্তাহে আয়নায় মুখ না দেখায় নিজের চেহারা বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা আমার ছিলো না।
হাসপাতালে এসে প্রথমবারের মতো আয়নায় মুখ দেখে মনে হলো নিজের অপরিচিত একটা মুখোশ এঁটে আছি, ব্লেড-রেজরের বিষয়ে এক ধরণের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এখানে আছে, বিক্ষুব্ধ, অপমানিত, নির্যতিত এবং বঞ্চনার শিকার কারাবন্দীদের অনেকেই নিজস্ব অপমানবোধ কমাতে হয়তো হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করে ফেলতে পারে সংশয় থেকে বন্দীদের এসব দেওয়ার নিয়ম নেই।

সেই দুশ্চিন্তাক্লিষ্ট, বিষাদগ্রস্ত অপরিচিতের মুখোশ নিয়ে আমি আমার ২০ মাস বয়সী মেয়েকে দেখলাম ৪ সপ্তাহ পরে, যার সাথে আমার সম্পর্ক শব্দে, স্পর্শ্বে, গন্ধে এবং চাক্ষুষ গড়ে উঠেছে কিন্তু স্মৃতি নির্মাণের সুযোগ এখনও তৈরি হয় নি।

উত্তরাধুনিক বিপ্লববটিকা বিতরণ -- সম্ভব কি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ গণপ্রতিরোধ মঞ্চ হয়ে ওঠা?

অবশেষে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা এসেছে আজ বিকাল ৪টায় শাহবাগ বিক্ষোভের সাথে সংহতি জানাতে ৩ মিনিটের কর্মবিরতি নিরবতা পালন করবে বাংলার মানুষ। উদ্যোগের ট্যাগ লাইন যদিও "সংহতি" তবে আদতে এটা কেন্দ্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ। জনগণের অবচেতনে এক ধরণের নির্দেশনা দেওয়া, রশি আমার হাতে সুতরাং আমার টানেই নাচতে হবে তোমাকে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ঘোষণা এসেছে আগামীকাল গণসংগীত আর বৃহঃস্পতিবার মোম বাতি ...জ্বালানো হবে।
এ ধরণের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধা খুব সহজেই এসবে একাত্ম হওয়া যায়। তেমন বেআইনীও না আবার নিজের মানসিক প্রশান্তিও টিকে থাকে, সংগ্রামের বিক্ষুব্ধ ক্লেশকর পথ শেষে আত্মসচেতনতার উপলব্ধি এখানে নেই বরং রেডিমেড ইন্সট্যান্ট নুডলস খাওয়া লোকজন এইসব ঘোষণার সাথে একাত্ম হয়ে খুব সহজেই রেডিমেড বিপ্লবাসক্ত হয়ে যায়।

বইমেলা সরগরম - ০৪

বাঙালীর জীবনে ষাট বছরের উর্ধ্বে বেঁচে থাকাই যেন একটা অভিশাপ। বাংলার আবহাওয়া-ভালো স্বাস্থ্য বহুদিন রক্ষার পক্ষে অনুপযোগী-তাই ষাটের উর্ধ্বে বাঙালীকে আমি চিরকালই দেশের উপর একটা বোঝা বলে মনে করেছি- আজো করি। ষাটের পরে আর বাঙালীর উৎপাদন শক্তি বা সৃষ্টিশীলতা থাকে না বলে আমার বিশ্বাস সে শুধু গিলিতচর্বন করে অতীতের মধ্যেই বেঁচে থাকতে চায়।
তাই আমি সাটের পরেই লিখছি অতীতের কথা।
কামরুদ্দীন আহমদ- বাংলার মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশ।

কামরুদ্দীন আহমেদের বইটি লেখা শুরু হয়েছিলো ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কারাগারে বন্দী অবস্থায়, সরদার ফজলুল করিম, আতাউর রহমান খাঁ এবং আরও অনেকেই জুলাই মাসের শেষের দিক গ্রেফতার হন, তারা কারাবন্দী ছিলেন এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পনের পরদিন ১৭ই ডিসেম্বর তারা সবাই মুক্তি পান। সম্ভবত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পনের বিষয়টা নিয়ে এত মাতামাতি হয়েছে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পন, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তাদের বন্দীজীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী সবাই মুক্তি পেয়েছেন পরের দিন সকালে।

বইমেলা সরগরম - ০৩

ভেবেছিলাম পুলিশ কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বলবো আপনারা যেভাবে বাংলা একাডেমীর গেটে মেটার ডিটেক্টর লাগাচ্ছেন তা দিয়ে হয়তো বই মেলার প্রথম সপ্তাহ কোন মতে পার হয়ে যাবে কিন্তু বই মেলার মূল ভীড়ের সময় আপনারা গাবতলী পর্যন্ত মানুষের লাইন তৈরি করে ফেলবেন। তবে গিয়ে দেখলাম বাংলাদেশের পুলিশকে যতটা নির্বোধ ভাবি তারা ততটা নির্বোধ না, তারা ঠিকই বেশ বড় পরিসর নিয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসিয়েছেন। তাদের সুচিন্তিত পদক্ষেপের জন্য তাদের ধন্যবাদ।

বইমেলা সরগরম - ০২

ঢাকা আমার অবৈধ প্রণয়, শহরের বিশ্রী জ্যাম, ধুলো, নোংরা আবর্জনাভর্তি রাস্তা আর হকার পতিতায় বেদখল হয়ে যাওয়া পাবলিক প্লেস নিয়ে আক্ষেপ করে কাটিয়ে দিলাম দুই দশক, শহরটা মফস্বলের ছোঁয়াচ মুছে ধীরে ধীরে আরও জগদ্দল স্থবির মন্থর শহরে পরিণত হলো, রাস্তার দুপাশের প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া ল্যান্ডস্কেপের সবুজহীনতার কষ্ট রুমালে মুছি আর মুছি ঠোঁটের ধুলোর দাগ, ঢাকা আমাকে মাটিতে টেনে নিয়ে প্রগাঢ় চুম্বন করে আর আমার ফুসফুস তার কালো নোংরা ধোঁয়া আর বীজাণুতে ভরে ওঠে প্রতিদিন।

এই শহরে নতুন কিছুই ঘটে না ইদানিং, আমাদের গল্পগুলো কেটে যাওয়া লংপ্লে রেকর্ড প্রতিবারই ঘ্যাচাং করে পুরোনো দাগের জায়গা থেকেই বেজে ওঠে নির্লিপ্ত, প্রতিবারই ভাবি বদলে নিতে হবে সবকিছু, বদলে যাওয়ার শ্লোগান দেখি রাস্তার বিলবোর্ডে কিন্তু আমার বদলে যাওয়া হয় না।