ইউজার লগইন

শফিক হাসান'এর ব্লগ

দৈনিক আমার দেশ-এর ভূমিকায় প্রথম আলো?

দৈনিক আমার দেশ যে ভূমিকা পালন করেছিলো স্থূলভাবে, সুক্ষ্মভাবে সেই একই কাজ করতে শুরু করেছে প্রথম আলো। কুলেখক হাসনাত আবদুল হাইকে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখা লিখিয়ে ছাপানো, দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় না বলে 'জরিপ' প্রকাশ করা... আরো কত কী!
এই নষ্টামির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন প্রথম আলোর চট্টগ্রাম অফিসের আবাসিক সম্পাদক আবুল মোমেন। প্রথম আলোতে ‌'সাধাসিদে কথা' কলাম লিখতেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনিও পত্রিকাটির বর্তমান বিপথগামিতায় লেখা বন্ধ করে দিয়েছেন।
গতকাল (৫ জুলাই, শুক্রবার) শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের অনুষ্ঠানে, নাম উল্লেখ না করে প্রথম আলোর এসব নষ্টামি তুলে ধরেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। কিন্তু পত্রিকায় প্রথম আলো খবর ছেপেছে, কিন্তু নিজেদের নষ্টামি নিয়ে বলা কথাগুলো বেমালুম চেপে গেছে!

সুখী মানুষের দেশে

সুখ বায়বীয় একটি বিষয়, আপেক্ষিক ব্যাপার! সে তর্কে না গিয়েও বলা যায়, বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষের দেশ! আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপেও এটা একাধিকবার প্রমাণিত হয়েছে! দেখা যাক, কীভাবে বাংলাদেশ সুখী মানুষের দেশ_

ষ এ দেশের রাজনীতিকরা প্রতিনিয়ত গণমানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ান। এ দেশে যতটা মানুষ তার চেয়ে অনেক বেশি ভোটার! এ 'ভোটাররা সব দেখে, বোঝে। বুঝে-শুনেই আবার ভোট দেয়। নতুন করে নিপীড়নকারীরা ক্ষমতায় আসে, আবারও পুরনো নিয়মে নিষ্পেষিত হতে শুরু করে মানুষ। অতীতের কথা মনে রাখি না বলেই আমরা সুখী!
ষ অন্যের দুর্ভোগ দেখে অনায়াসে আমরা হাসতে পারি। কেউ হয়তো কলার খোসায় আছাড় খেয়ে পড়ল, সেটা দেখে সাহায্যে না এগিয়ে আমরা হাসি। আবার কারও গায়ে হয়তো কাউয়া পক্ষী ইয়ে করে দিয়েছে_সেটা মুছে দেওয়ার চিন্তা না করেও হাসি। আমরা সুখী হবো না তো, কে হবে!
ষ সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুক এখন জানিয়ে দেয় কার সঙ্গে কার প্রেমের সম্পর্ক, কার সঙ্গে কার বিয়ে হয়েছে বা হবে। কারও সম্পর্ক ভেঙে গেলেও খুব আনন্দের সঙ্গে সেই স্ট্যাটাসে আমরা 'লাইক' দিই! যেন সম্পর্ক ভাঙাটা খুবই সুখের!

মাহমদুর রহমান এবং সরকার : একই সমতলে!

শেষ পর্যন্ত আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আর সরকারের বক্তব্য মিলেই গেলো!
মাহমুদুর রহমান সাহেবের যেমন হঠাৎ করে 'ধর্ম'প্রীতি বেড়ে গেছে, তেমনি সরকারেরও। তারা ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন ব্লগ সাইট বন্ধ আর 'নাস্তিক' ব্লগারদের গ্রেপ্তার করতে।
মাহমুদুর রহমান অনেকদিন ধরে চাইছিলেন গণজাগরণ মঞ্চ বন্ধ করে দিতে। এখন সরকার চাইছে। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মাথায় কী পোরা তা নতুন করে প্রমাণিত হলো।
গণজাগরণ মঞ্চ কি সরকারের কথায় গঠিত হয়েছিলো যে এখন আবার তাদের কথায় বন্ধ করে দিতে হবে?
ভোটের রাজনীতি! জোটের রাজনীতি! রাজনীতির প্রথম কথা নির্লজ্জ হও, বিবেকহীন হও

ড. আসিফ নজরুল : আলো অন্ধকারে যাই পথ হারাই

ড. আসিফ নজরুল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক। এর আগে ছিলেন সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রধান প্রতিবেদক। বিচিত্রায় তার কিছু সংবাদ এবং সৃজনশীল লেখা কৈশোরে আমি গ্রোগ্রাসে গিলেছি। তারপর অনেকদিন বিরতি। সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে শিক্ষকতায় ঢুকেছেন, বুদ্ধিজীবী হিসেবে নামডাক হচ্ছে তার। প্রথম আলোয় তুমুল কলাম লেখেন। বোধহয় বছর পাঁচেক আগে প্রথম আলোয় তার নিয়মিত কলামে লিখেছিলেন, নেতা তৈরি হতে অনেক সময় লাগে। নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এরকম আরো অনেক কথা। একটু অবাকই হলাম। আলমগীর সাহেব এতো বড় নেতা! কিন্তু কখনোই তো তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা মনে হয়নি! প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় তো উল্টাপাল্টা কিছু ছাপা হতে পারে না...। তবে?
পরিচিতদের সাথে কথা বললাম। তারাও বাড়তি কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি।
দিনে দিনে অনেক কিছুই পরিষ্কার হলো। আসিফ নজরুল বর্তমানে আমার কৈশোরে দেখা সেই ব্যক্তি নেই, তিনি এখন 'আলো-আঁধারে যান, পথ হারান'।
বর্তমানে মির্জা ফখরুল সম্বন্ধে তাঁর মূল্যায়ন কী, জানতে মন চায়...।

অনন্ত-বর্ষা কাহিনী ('গানা' নয়, মোহাম্মদপুর থেকে)!

সিনেমা বানিয়ে যতটা না, তার চেয়ে অনেক বেশি আলোচিত হয়েছেন জলিল অনন্ত 'পম গানা' টাইপ সংলাপ দিয়ে!
তার ছবির নায়িকা বর্ষার সাথে তুমুল প্রেম শেষে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে, সানাই বাজিয়ে, ঢাকা টু সিরাজগঞ্জ বিমান উড়িয়ে বিয়ে করেছিলেন।
এখন দেখছি, সিনেমার মতোই কাহিনী ঘটছে- জলিল বর্ষাকে মারধর করেছেন, আর বর্ষা দুঃখ সইতে না পেরে মোহাম্মদপুর থানায় গিয়ে জিডি করলেন!
কোথায় হারালো এতো ভালোবাসা?
কিছুদিন আগেও আমার বাসা মোহাম্মদপুর ছিলো। বর্ষার বাসাও মোহাম্মদপুর। সেই সূত্রে তিনি আমার প্রতিবেশিনী!
মাস কয়েক আগের কোনো এক বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর বিনোদন পাতায় 'আনন্দ'তে বর্ষাকে নিয়ে একটি ফিচার ছাপা হয়েছিলো। রিপোর্টারের সাথে কথা বলার মাঝখানেই উঠে গেলেন বর্ষা, 'অনন্ত ফোন করেছে, একসাথে লাঞ্চ করবো।'
প্রথম আলোর মতো প্রথম শ্রেণির পত্রিকাকেও তিনি তোয়াক্কা করেন না! ভদ্রতাবশত সাংবাদিককে লাঞ্চ করে যাওয়ার কথা বলবেন কী, নিজেই মাঝপথে চলে যাচ্ছেন!
পরদিন শুক্রবার। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আলোকচিত্রী সাইদা, লেখক খানমের সাক্ষাৎকার নিতে বনানী যাবো আমি এবং আমার সহকর্মী মিজান মিজানুর রহমান।

যিনি শিল্পী গড়েন, তিনি 'মানুষ' গড়েন না...

চলে গেলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, বিশিষ্ট কাহিনীকার, গীতিকার, চিত্রালী সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী।
গতকাল এফডিসিতে তার স্মরণসভার আয়োজন করে বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থা)। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো শিল্পীকেই দেখা যায়নি।
অসুস্থ শরীর নিয়ে এই অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়েছি আমি। অতীত অভিজ্ঞতায় জানতাম, এমন কিছুই ঘটবে। অগ্রজের প্রতি সম্মান, গুণী মানুষকে সম্মান দেখাতে আমরা এখনো শিখিনি।
রাজ্জাককে 'নায়করাজ' উপাধি আহমদ জামান চৌধুরীই দিয়েছিলেন। তাঁকে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খানকেও।
সুচন্দা, দিলারা জামান, ওমর সানী, সিমলা এবং আরো দুই/একজন শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপস্থিতি ছিলো চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিকদের।
এতোটা অকৃতজ্ঞ এবং প্রবঞ্চক কীভাবে হয় মানুষ? আবার সেই মানুষগুলি যদি হন শিল্পী নামধারী...?
আহমদ জামান চৌধুরী ছিলেন শিল্পী গড়ার কারিগর। তিনি শিল্পী গড়েছিলেন সত্য, কিন্তু মানুষ গড়ার দায়িত্ব তাঁর ছিলো না বোধহয়...।

জনসংখ্যা বাড়ছে, ভোটার বাড়ছে, মানুষ বাড়ছে কি?

আরো চাই, আরো...
মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি সন্তুষ্ট না হওয়া। সবাই যা আছে তারচেয়ে বেশি চায়। ‘অনেক হয়েছে, আমার আর লাগবে না’ এ-কথা বলার মানুষ জোনাকির আলো দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। জাতি হিসেবে আমাদের অনেক সুনাম-বদনাম থাকতে পারে; কিন্তু আমরাও তো মানুষ; মানুষের প্রবৃত্তি থাকবেই, সুতরাং সন্তুষ্ট হবো কেন! অন্যদের মতো আমরাও ‘বড়’ হতে চাই, পরিমাণটাকে ঊর্ধ্বে তুলতে চাই। তাইতো বাংলাদেশে জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলে, বেড়েই চলেছে। আদমশুমারি কিংবা সরকারি নথিপত্রে সংখ্যার যে হিসাব দেখানো হয়, তার ভেতরে অনেক গোঁজামিল। সঠিক হিসাবটা কেউই জানে না, এমনকি যারা তথ্য গোপন রাখতে চেষ্টা করে তারাও!
ছোট্ট এদেশে জনসংখ্যার যে ঘনত্ব, তা দেখে ভিনদেশি মানুষ টাসকি খায়। শুধু টাসকি কেন আরো অনেককিছুই খেতে পারে, তারা কি জানে আমাদের কারিশমা আর শক্তির কথা! যেভাবে আমরা দিন-দিন জনসংখ্যা বাড়িয়ে চলেছি, নিশ্চয়ই তা একদিন না একদিন সর্বোচ্চ সংখ্যাটাকে অতিক্রম করবে। তখন গিনেস বুকে নাম উঠবে আমাদের। মনোবল অটুট থাকলে উপাধিটা পাওয়া ঠেকাবে কে!

...স্বপ্ন দেখে মন

রবীন্দ্রনাথ যদি এ যুগে জন্মাতেন...!

ক্স ফেসবুকে তাঁর এক বা একাধিক এ্যাকাউন্ট থাকতো! অল্পদিনেই ফেসবুক চ্যাট, স্ট্যাটাস দেয়া, বিভিন্নজনের ছবিতে লাইক দেয়া এবং অসংখ্য গ্র“পের সদস্য হতেন। তাঁর প্রকাশিত লেখার কাটিং বিভিন্ন বন্ধুকে ট্যাগ করতেন। এই করতে করতে সময় কেটে যেতো। আসল কাজ লেখালেখি তেমন একটা হতো না! বড়জোর নির্মলেন্দু গুণের মুঠোফোনের কাব্য’র আদলে ফেসবুক কাব্য লেখার চেষ্টা করতেন!
ক্স তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীরা সরকারের কাছে দাবি জানাতো, রবীন্দ্রনাথের নামে একটি সড়কের নামকরণ করার জন্য। কিন্তু সরকার কিছুতেই এ দাবি মেনে নিতো না। ফলে ভক্তরা কঠোর আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। ফলাফল : ভক্তদের একাংশ হতাহত হয়ে হাসপাতালে ঠাঁই নিতো। পরদিন দৈনিকের পাতায় শিরোনাম হতো, পুলিশের হাতে মার খেলো রবি ঠাকুরের ভক্তরা!
ক্স মোবাইলফোন কোম্পানি একটেল নাম পাল্টে রবি করেছে। রবি ঠাকুর মোবাইলফোন রবির পরিচালক বরাবর চিঠি লিখতেন, আপনারা তো আমার নাম লইয়া ছিনিমিনি খেলা আরম্ভ করিয়াছেন। তবে কি আমার জন্য একটেল নামটিই বরাদ্দ হইবে?! লোকজন আমাকে কবি একটেল বলিয়া ডাকিলে কি আপনারা খুশি হইবেন!

কে কীভাবে নবজাতকের নামকরণ করবেন

প্রতিটি মানুষেরই নিজ নামের চেয়ে প্রিয়, বড় আপন আর কিছু নাই! চারপাশে তাকালেই এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়! নামের মধ্যেই ফুটে ওঠে মানুষের রুচি, বংশ, শিক্ষাদীক্ষা ইত্যকার নানা বিষয়। আগের দিনের বাবা-মা, দাদি-নানিরা নবজাতকের নাম রহিম-করিম, যদু-মধু রেখে দায়িত্ব সারলেও এখনকার গার্জিয়ানরা অনেক সচেতন! যার-যার চরিত্র এবং রুচির ছাপ তারা ঢেলে দেন আত্মজ-আত্মজার নামকরণে! দেখা যাক এমনই কিছু নবজাতকের নাম, কে কীভাবে নামকরণ করবেন-

কবি : অনুসূর্য তিতিবীক্ষা, প্রহর প্রহাদ, পদ্যপ্রজ্ঞা যবনিকা, মার্তণ্ড উদয়াচল, চণ্ডীমঙ্গল কালিকাপ্রসাদ, ধারাপাতিকা বর্ষা
প্রকৃতিবাদী : মৃত্তিকা ঘনিষ্ঠম, অন্তরী লবঙ্গলতিকা, নিপাতক সারসংক্ষুব্ধ, বিহঙ্গবৃক্ষ, সমীরণমলয় দক্ষিণারঞ্জন, সবুজাবতী
খাদক : মিষ্টি, পেয়ারা, বেদানা, আপেল, কইতরি, তরু, বাতাসি, গোল্লা, মধু, আতা, আঙ্গুর, তুষার, কমলা, মিছরি, চিনি
চিত্রশিল্পী : সুতন্বী সুকেশ, অনাদি রজঃস্বলা, বিমূর্তায়ন চৈতন্য, মগ্ন নিমাগ্নিক, তুলিকা মালবিকা, ভূমিকা রঙ্গিলা, পরশটুকুন

কাছের মানুষরা বইয়ের ফ্ল্যাপ লিখলে!

ফ্ল্যাপ লেখক : গলির মোড়ের চা দোকানদার
বইয়ের ধরন : গল্প
কুদ্দুসের নামই যে অনন্য অনার্য এটা জেনেছি মাত্র সপ্তাহখানেক আগে। হঠাৎ সে আমার কাছে এসে বললো, ফ্ল্যাপ লিখে দিতে হবে। তাও আবার গল্পের বইয়ের। আমি সারাদিন চা বানাই, কাস্টমারদের সেবা-খেদমত দিই, পড়ার সময় কই! তবু কুদ্দুস যখন বলেছে না দিয়েও তো পারি না। হাজার হোক, সে আমার কাস্টমার! কাস্টমারের মন জোগানো যে কোনো ব্যবসায়ীর জন্য অতীব জরুরি। দুঃখের কথা হচ্ছে, কুদ্দুসের বইটা আমি পড়ে শেষ করতে পারিনি। অবশ্য শেষ করতে পারবো কি, ওটা শুরুই তো করতে পারিনি। আর সুখের কথা হচ্ছে, বই না পড়েও আমি বুঝেছি কুদ্দুস গল্পকার হিসেবে খুব ভালো। নিজেকে দিয়েই তো সেটা বুঝতে পারি। ও আমার বাকি কাস্টমার। সময়মতো টাকা দেয় না। টাকা দেবে বলে মাসের পর মাস ঘোরায়। হয়তো কোনোদিন বলে বসলো, ভাই, আগামীকাল অবশ্য আপনার সব টাকা দিয়ে দেবো। এখন ১০টা টাকা ধার দেন। পরদিন টাকা পাওয়া দূরে থাক, নগদ দেয়া ১০ টাকাও পাওয়া যায় না!

রাজাকারের বিবির সব বাচ্চাই শিবির!

রাজাকারের বিবির
সব বাচ্চাই শিবির!

বড় রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে। তাই ছোট রাজাকারগুলো ক্ষেপেছে। দেশজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ধর্ম ব্যবসায়ী দেইল্লা রাজাকারের ফাঁসির রায় শুনে পাগলা কুত্তার মতো ক্ষেপেছে ছাগুরা। এরা মানুষ খুন করছে, মন্দির ভাঙছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা করছে।
এই তাহলে তোদের ধর্ম? এই বিবেক-বুদ্ধি নিয়ে আন্দোলন (!) করিস?
থু কাপুরুষের দল! ছি মীর জাফরের গোষ্ঠী!

শাহবাগনামা : বুলেটিনের জন্য লেখা আহ্বান

শাহবাগ এখন চেতনার স্বরূপ। দ্রোহের আগুনে পুড়ছে ৪২ বছরের পুরোনো জঞ্জাল। তারুণ্যের সম্ভাবনা, তারুণ্যের অমিত শক্তি আবারো উজ্জীবিত। জেগে উঠেছে মানুষ। জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। চলছে ঘুমভাঙানির গান। জাগো বাহে কুনঠে সবাই...।
শাহবাগের তরুণ প্রজন্মের এ অবিস্মরণীয় আন্দোলনকে উপজীব্য করে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে বুলেটিন 'শাহবাগনামা'। এ বুলেটিনে আপনার অংশগ্রহণ চাচ্ছি। অনূর্ধ্ব ১০০ শব্দে লিখুন গদ্য বা পদ্য। এখানে পোস্ট করুন (কমেন্ট হিসেবে) অথবা ইমেইল করুন shafique_hasan79@yahoo.com

সংবাদপত্রের কালো অধ্যায় দৈনিক আমার দেশ

আমি অভিশাপ দিচ্ছি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে।
ঘৃণার আগুন ছুড়ে দিচ্ছি তার নষ্ট হয়ে যাওয়া মস্তিষ্কে।
থুতু ছিটাই তার চাটুকারিতার স্বভাব এবং ভ্রান্ত নীতিতে।
লাথি মারি তার রাজাকার আর জামায়াত তোষণের মানসিকতায়।
ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত, সংগ্রামের সাথে দৈনিক আমার দেশের আর কোনো পার্থক্যই থাকলো না!
সংবাদপত্রের ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়েই থাক দৈনিক আমার দেশ। আরেকটি মীর জাফর হিসেবে উচ্চারিত মাহমুদুর রহমানের নাম।
কিন্তু দৈনিক আমার দেশ-এ আমার যে সব বন্ধু, গুরুজন, শুভানুধ্যায়ীরা কাজ করে তাদের জন্য কী করতে পারি, কী বলতে পারি তাদের?

মা, মাতৃত্ব এবং আমাদের যত অপূর্ণতা

পৃথিবীর সব মাতৃত্বই বুঝি এক। সমান।
গত পরশু রাতে মতিঝিল থেকে ফিরছি, পল্টন হয়ে। পল্টন মোড়েই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়লো।
একজন মা রাস্তা পার হচ্ছে, সাথে শিশু। মায়ের শরীরের সাথে শিশুটির শরীর দড়ি দিয়ে বাঁধা। বাচ্চাটির বয়স বোধহয় ২/৩ বছর হবে। হাঁটতে পারে। মহিলাটি ভিক্ষুক তথা ছিন্নমূল শ্রেণির, দেখলেই বোঝা যায়। বাচ্চাটি পুরো দিগম্বর।
গতকাল বিকালে আবার সেই মা এবং শিশুকে দেখলাম। পল্টনেই। দৈনিক সকালের খবর অফিস পেরোনোর সামান্য দূরত্ব পর। গতকাল দেখা সেই মা ঘুমিয়ে আছে রাস্তায়। বাচ্চার গায়ে লম্বা একটি দড়ি বাঁধা। বাচ্চাটি এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে। কখনো বা ট্রাফিকের মতো আচরণ করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি, সরকারি ছুটির দিন বলেই রাস্তাটি ফাঁকা। এই ফাঁকা রাস্তা সুযোগ করে দিয়েছে একজন ছিন্নমূল নারীকে একটু ঘুমিয়ে নেয়ার। আর তার বাচ্চা পেয়েছে খেলার সুযোগ।
মা এবং সন্তানের বন্ধন হিসেবে মাঝখানের দড়িটি এখনো চোখের সামনে ভাসছে।
নিশ্চিন্ত মা, তার সন্তানটি হারাবে না। সেই মায়ের মুখটা ভাসছে সামনে। বাচ্চাটিরও।
নতুন করে একটি ক্যামেরার প্রয়োজন বোধ করলাম। এ ছবি তো শুধু ছবি হতো না। এ এক মহান ইতিহাস।

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান

দীর্ঘ 'কাহিনী' এবং প্রতীক্ষার এবারের বইমেলায় বেরুলো আমার প্রথম বই। বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান আগামীকাল। সন্ধ্যা ৭টায়। বাংলা একাডেমীর নজরুল মঞ্চে। মোড়ক উন্মোচন করবেন উন্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীব। বইটির নাম 'সবার উপরে ছাগল সত্য'। রম্যগল্পের। প্রকাশক : কবি ও কবিতা।
বন্ধুদের আমন্ত্রণ থাকলো। সম্ভব হলে আসবেন। বলতে বা শুনতে। অথবা শুধুই দেখতে!