ইউজার লগইন

ভন্ড ভালবাসা

মানুষের জীবনে বাচঁতে হলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। সুস্থ ও সবলভাবে বেচেঁ থাকতে হলে একটা মানুষকে খাবারের সাথে সাথে মনের তৃপ্তিও যোগান দিতে হয়। তা না হলে তার বেচেঁ থাকাটাই কষ্টকর।
আমদের জীবনে চলার পথে অনেক প্রয়োজন সেটা যে কোন ভাবেই হোক না কেন যোগান দিতে পারে। কিন্তু কেউ যদি তার ভালবাসা হারায় সেটার বিকল্প কি যোগান দিতে পারে? হয়তোবা কেউ কেউ পারে কিন্তু পরিপুর্নভাবে সে সুখ ফিরে পায় না। তখন তার স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে ভীষন সমস্যা হয়।
এবার আসি মূল বিষয়ে। বিষয়টা হলো ফেইসবুক নিয়ে।
আদনান অনেক দিন থেকে ফেইসবুক চালায়। তার ফ্রেন্ড লিস্টে কিছু পরিচিত অপরিচিত বন্ধু আছে কিন্তু বেশি একটা যোগাযোগ হয় না। সে ফেইসবুকে আসে স্টাটাস দেখে এবং মাঝে মাঝে ছবি দেয় এই তার কাজ।কিন্তু তার ভাল লাগে না।সে ভাবে ফেইসবুকে একজন বান্ধবী হলে ভাল হত।যেই কথা সেই কাজ। সে খোজা শুরু করলো কিন্তু ফেইসবুকে তো এখন ফেইক আইডির অভাব নাই কোনটা যে সত্যি তার বুঝতে সমস্যা।যাই হোক সে একটা আইডি পেল প্রফাইলে কোন ছবি নাই ভাবলো এটাই রিয়েল আইডি এবং রিকুয়েস্ট দিল মেয়েটি একসেপ্ট করলো।চ্যাট শুরু হলো কিন্তু মেয়েটি উত্তর দেয় দেরি করে।আদনান এর কাছে এটা ভাল লাগে না।সে মেয়েটিকে বললো ঠিক আছে উত্তর দিবে না আমি তোমার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করলাম।মেয়েটি আদনানের কথা শুনে ভাল লাগলো এবং তাকে সময় দিতে শুরু করলো।কয়েকদিন চ্যাট হবার পর মেয়েটি আদনানকে বলে এতো কথা ফেইসবুকে বলা যায়?আদানান ভাবে যে দেখি ফোন করে সব কথা জানা যায় কি না।মেয়েটির কাছে ফোন নম্বর চায় কিন্তু প্রথমে দিতে চায়নি পরে দিলো। শুরু হলো ফেইসবুকের বাহিরে আলাপ।আদনান মেয়েটির কাছে ছবি চায় এবং ছবি দিল ম্যাসেস বক্স এ।যাই হোক ছবিটা দেখতে ভাল ছিল।এরপর আরো ছবি দিলো।সময় যতো যায় দুজন খুব কাছাকাছি চলে আসছে।কোন এক সময় দেখলো মেয়েটি তাকে আপন করে চায়।আদনান কখনো কাউকে প্রপোজ করেনি মেয়েটিকে আই লাভ ইউ বলতে গিয়ে তিন চারবার আটকে যায় অবশেষে বললো।শুরু হলো তাদের ভালবাসার নতুন অধ্যায়।ফোনে কথা,ফেইসবুকে চ্যাট চলতেছে।এমনভাবে কথা শুরু হলো দিনে রাতে প্রায় ১২ ঘন্টা কথা বলতো ওরা।কি অস্বাভাবিক একটা ব্যাপার।আদনান তাকে বিয়ে করতে চায় মেয়েটি রাজি হয়।প্লান করে দুজনে মিলে কিভাবে বিয়ে করবে আর কোথায় থাকবে।ভালই চলছিলো তাদের প্রেম।কিছুদিন যাবার পর ছেলেটি বুঝতে পারলো কি যে একটা সমস্যা মেয়েটির ভিতর।পরে মেয়েটি বললো যে ছবিটা আদনানকে দিছে সেটা নাকি মেয়েটির না আদনান বললো এটা কার ?মেয়েটি বললো এটা তার পরিচিত একজনের।আদনান বললো সমস্যা নাই মনের মিল হলো আসল ছবি কোন ব্যাপার না।তারপর ছবি চাইলো দিলো কিন্তু কোন মিল ছিল না।তারপরেও আদনান মেয়েটিকে ভালবাসতো।কিন্তু মিথ্যে বলা ছেলেটির ভাল লাগতো না তারপরেও মেয়েটি মিথ্যে বলতো।তারপর আদনান বললো দেখা করি দেখা হলো একটা চাইনিজে কিছুক্ষন ছিল তারপর চলে আসে।তার ২টা ফোন ছিলো একটা দিয়ে কথা বলতো আর আরেকটা দিয়ে ফেইসবুক চালাতো।আর কথা বলার সময় আদনান বুঝতো কিছু একটা করে মেয়েটি জিজ্ঞেস করলে বলতো কই কিছু করি নাতো।কোন এক সময় ধরা পরে এবং স্বীকার করে।আস্তে আস্তে কেমন যেন হয়ে যাচ্ছিল আদনান বুঝতে পারে।সে মেয়েটিকে বলে আচ্ছা তোমার সমস্যা আমাকে বলবে কেন তুমি আমার সাথে বলবা?মেয়েটি একটা সমস্যার কথা বললো আদনান শুনে হতবাক যেটা আমি লিখতে পারলাম না।তারপরও আদনান মেয়েটিকে আরো বেশি ভালবাসে।আবার ভালভাবে কথা হয়।কিছুদিন যাবার পর আবার একই অবস্থা।আদনান মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলো তোমার সমস্যা কি? মেয়েটি বললো আমার দুটো কিডনি নষ্ট। আদনান শুনে তার মুখ থেকে কথা বের হয় না।পরে আদানান বলে তারপরেও তোমাকে আমি আগের চাইতে বেশি ভালবাসি। আমি তোমাকে আমার একটা কিডনি দিয়ে হলেও বাচিঁয়ে রাখবো।আবার মেয়েটির সাথে কথা হয় সবসময়।এর ভিতরে মেয়েটির সিম বদলায় ৪,৫টা । অনেক সমস্যা আর বাসায় রাগ করে সিম ভেঙ্গে ফেলে।আদনানের কথা বলা নিয়ে সমস্যা হয় লুকিয়ে কথা বলে।হঠাৎ মেয়েটি অন্য নম্বর দিয়ে ফোন করে বলে তার ফোন নিয়ে গেছে আর কথা হবে না।আদনান শুনে তো পাগল।কি হবে এখন আর কথা হবে না?মেয়েটি বলে ঠিক আছে আমি আমার আপুর ফোন দিয়ে মাঝে মাঝে কথা বলবো কিন্তু তুমি ফোন দিবে না।আদনান বলে এটা কি স্বম্ভব ।এখন মাঝে মাঝে ফোন করে কথা হয়।কয়েকদিন পর আবার নতুন নম্বর দিয়ে ফোন করে বলে এটা আমার ফোন না কিন্তু কথা বলা যাবে।কিন্তু মাঝে মাঝে ফেন বন্ধ থাকে জিজ্ঞেস করলে বলে চার্জ ছিল না।আরেকদিন বলে বাসায় সমস্যা লুকিয়ে কথা বলি।কথা চলতেছে আবার।হয়।কয়েকদিন পর আবার নতুন নম্বর দিয়ে ফোন করে বলে এটা আমার ফোন কথা হয়।মাঝে মাঝে ফেন বন্ধ থাকে জিজ্ঞেস করলে বলে চার্জ ছিল না।আরেকদিন বলে বাসায় সমস্যা লুকিয়ে কথা বলি।স্কাইপ আইডি চাইলে বলে আমাদের তো বিয়ে হবে স্কাইপ দিয়ে কি করবে।আদনান সব কিছু মেনে নেয় কারন সে মেয়েটিকে অসম্ভব ভালবাসে।আবার সে শুনে যে তার অপারেশন আদনান ভাবতে পারে না সে কি করবে। আদনানের মাইগ্রেনের ব্যাথা ছিল সেটা আস্তে আস্তে বারতে থাকে মেয়েটির কথা ভেবে।মেয়েটিকে সে বলে।পরে মেয়েটি বলে তুমি আস আমার পরিচিত ডাক্তার আছে তাকে দেখাব। আদনান বলে শ্বর্ত আছে যে তোমার সাথে দেখা করবো ডাক্তার দেখাব তারপর আমরা বিয়ে করবো।মেয়েটি রাজি হয়।আবার কথা চলতেছে কিছুদিন যাবার পর আবার আদনান বুঝতে পারে হয়তো সে কারো সাথে কথা বলে তাই আজকাল তাকে প্রয়োজন হয় না।মাঝে মাঝে কথা বলে কিন্তু আগের মত না।যে মানুষটা ফোন না থাকলেও লুকিয়ে অন্য ফোন দিয়ে কথা বলতো আজ নিজের ফোন থাকতেও কথা বলতে পারে না।জিজ্ঞেস করলে বলে বাসায় সমস্যা।সবশেষে আদনান বুঝতে পারলো মেয়েটি তাকে নিয়ে খেলা করেছে।ছেলেটি এখন কি করবে…………….?

বেশি বিস্তারিত লিখতে পারলাম না সবাই হয়তো পড়তে পড়তে বিরক্তবোধ করেবেন কিছু তুলে ধরলাম।

আমি সবাইকে অনুরোধ করি কেউ মন নিয়ে খেলা করবেন না তাহলে হয়তো আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন না।
আমার কথায় কেউ কষ্ট নিবেন না আমি সত্যিটা সবার সামনে তুলে ধরলাম।!!!!

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


হু

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সফিকুল ইসলাম's picture

নিজের সম্পর্কে

খুব সাধারন এক মানুষ। মিথ্যে বলা খুব অপছন্দ করি। যতটা পারি কখনো মনের অজান্তে কাউকে কষ্ট দেই না।

shafiqul islam'র সাম্প্রতিক লেখা