ইউজার লগইন

বিয়ে

ছেলেমেয়েরা বড় হলে বাবা মা সবার আগে যা নিয়ে ভাবে তা হল "বিয়ে"। জন্মের পরই বলতে গেলে, মেয়ে কাল হলে কি করে বিয়ে দিবে , সাদা হলে রাজপুত্র কোথায় পাবে। ছেলে কাল হলে, সাদা মেয়ে ঘরে তুলতে হবে। সাদা হলে মেয়ে দেখতে সমস্যা হবে না।
বড় হয়ে গেলে আত্মীয় স্বজন , পাড়া প্রতিবেশী , চেনা জানা সবাই মিলে বিয়ে দেয়ার পিছনে লাগে। মেয়ের বাবা মায়েরা একটু বেশিই ঝামেলায় পরে।
যাহোক, মেয়ের জন্য ছেলে দেখতে গেলে, সবার আগে , কি করে, পড়াশোনা কতদ্দুর। ব্যাংকে চাকরি, কোম্পানীর চাকরি আরেকবার ভেবে দেখি হলেও ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হলে এক কথায় প্রায় রাজির সংখ্যা অনেকটাই বেশি।
তবে মেয়ের বয়ফ্রেন্ড থাকলে আলাদা। মেয়ে বাবা মা কে উচ্চশিক্ষার কথা বলে বিয়ে ভেংগে দেয়। (অনেকে সত্যিই পড়তে চায়)
তবে, আজকাল অনার্স পড়ুয়া মেয়েদের বিয়ের বাজারে দামটাও একটু বেশি। মেয়েরাও আগে যাই করে, অনার্সে একটু শান্ত হয়ে যায়।
আগের কথায় ফিরে আসি, বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করা পাত্রদের মধ্যে বেশির ভাগই হয় বিদেশী। প্রবাসী বাংলাদেশী। একটু উন্নত দেশ হলে বাবা মায়েরা দেরি করতে চান না। অনেক জায়গায় ফোনেই বিয়েটা সেরে ফেলে। তারপর সারাক্ষণ ফোনালাপ। কত মিষ্টি মিষ্টি কথা।
সেসব কথা নাহয় না-ই শোনলাম। দেশের বাইরে ছেলে কি করে তা জানার চেষ্টা করে না অনেকেই। কারণ নিজের দেশ ছাড়া অন্য সব বিশেষ করে উন্নত দেশের ক্ষেত্রে"কাজ তো কাজই" একটা কমন ডায়লগের প্রচলন আছে। তবে বেতন কত পায় তা চৌদ্দগুষ্টিও জেনে ফেলে। আমাদের দেশের তুলনায় অনেকটা বেশি বলেই হয়ত। "ছেলে ইউরোপ কান্ট্রিতে থাকে" এই সার্টিফিকেট দিয়েই এসএসসি টেনেটুনে পাশ করা ছেলে কেমিস্ট্রিতে অনার্স পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করার মত অনেক উদাহরণ আমার সামনেই আছে।
বিয়ের পরদিন বা বৌভাতের পরই মেয়েকে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট করার আবেদনটা করে ফেলে। মেয়ের আত্মীয় স্বজন কেউ বা খুশি, কেউ হিংসে বাঁকা চোখে তাকায়, ভাই বোনেরা লিস্ট করতে শুরু করে বিদেশের কি কি জিনিস তাদের লাগবে। পড়াশোনা লাটে তুলে চলে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি।
শুধুমাত্র একটা মানুষের টানে নিজের দেশ আত্মীয় স্বজন সব ছেড়ে মেয়েটা আসে। এসে যখন দেখে যতটা শুনেছে তার কিছুই না। দেশের লেবার শ্রেণীর কাজ করে। কিংবা তারও নিম্ন, সব স্বপ্ন শেষ হয় নিমিশে। কিন্তু কিছুই করার থাকে না। মানিয়ে নিয়ে সংসার শুরু। অনেকে মানাতেও পারে না। শুরু হয় অশান্তি। তবে মেয়েকে একদিন হার মানতেই হয় সমাজের কথা ভেবে। অনেকে নিজেও কাজ করা শুরু করে। দেশে যা মূল্যহীন কাজ, এখানে মূল্য দেয়া হয় বলে, আগের মন খারাপটা আর থাকে না। মাস ঘুরে এত্তগুলো টাকা পেলে আর খারাপও লাগে না। টাকা থাকলে পড়াশোনার দরকার কি? কথাটা সান্ত্বণা না সত্যি জানি না।

মেয়েদের সাদা গায়ের রং আর বিদেশী ছেলে খুব তাড়াতাড়ি পার করা যায়। আজ শুনলাম আমাদের এখনকার বড় ভাই দেশে গিয়ে বিয়ে করছে মেয়ে ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। কিছুদিন আগে এক ভাবি আসল ঢাকার একটা বিখ্যাত স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসিতে এ প্লাস পাওয়া। ঐ স্কুলে পাশের হার ১০০% । ভর্তি যুদ্ধ করে ভর্তি হয়েছিল। পরিশ্রম করে পাসও করেছে। এখন দিনের বেশীর ভাগ কাটে রান্না ঘরে। সবই আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছা।
আরও কত কি, বলতে গেলে পড়তে পড়তে বিরক্তি ধরে যাবে। এমনতেই অনেক লিখে ফেলছি। আসলে, মেয়েদের অধিকার, সমাজে মূল্য, - হয়ত এসব সেকেলে কথা এখন। লিঙ্গ বৈষম্য অনেকটাই কম। একটা সময় চিৎকার চঁচামেচি করতাম, সমাজের তোয়াক্কা না করে অনেক কাজই করেছি। বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, প্রীতিলতা তাদের মত একজন হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কাদের জন্য? যে মেয়ে সমাজে নিজেই নিজের অবস্থান তৈরীর যোগ্যতা থাকার পরও তরকারি মজা না বলে স্বামীর ছুড়ে ফেলা প্লেট , ভাত , তরকারিতে মাখামাখি হয়েও চুপ করে থাকে? জিন্স পরতে লজ্জা লাগলেও জিন্স পরে? না খেয়ে থাকলে অসুস্থ হয়ে যায় তবু স্বামীকে খুশি করতে রোজা রাখে? যে মেয়ে কোনদিন হিজাবও পরে নি সে মেয়ে স্বামীর কথা পুরা শরীরের শুধু চোখ দেখিয়ে বের হয়, আর রাস্তায় ২০-৩০ বার বমি করে স্বামীর বকা খেয়ে চুপ করে থাকে?
এসব দেখে মাথায় রক্ত উঠে যায়। কষ্ট হয় বেগম রোকেয়ার জন্য। কেন এতটা কষ্ট করেছিলেন তিনি। এসব মেয়েদের জন্য অনেক মেয়ে প্রতিবাদের সাহস হারায়। আর প্রতিবাদ করেই বা কি হবে? আছে না, " আমাদের স মা জ"" ।।

(আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের তাই মধ্যবিত্তদের কথা বললাম। বাকিরা কেমন জানি না। আর, কেউ ব্যক্তিগত নিবেন না প্লীজ। )

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


হার্ডশিপ। পৃথিবীতে এমন কোনো কিছু কি আছে, যেটায় হার্ডশিপ নেই?

অসান্ত সাগর's picture


ভাল লাগল বাস্তব কথার গল্পের ঝুরি শুনে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শারমিন's picture

নিজের সম্পর্কে

খুবই বদমেজাজী। স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। অন্য মানুষের চেয়ে নিজের সাথে নিজে কথা বলতেই বেশি ভাল লাগে। আর ভাল লাগে গান শুনতে শুনতে ডায়রি লিখে কাঁদতে।