ইউজার লগইন

ভর্তি যুদ্ধ

http://www.prothom-alo.com/national/article/35080/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%...

ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা যারা করছেন তারা কিসের ভিত্তিতে করছেন, তার কারন গুলো জানতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব। আজকের এই লিখায় যে বিষয় গুলো তুলে ধরেছেন তা হল, ১। ব্যয় বহুল, ২। কোচিং নির্ভর, ৩। পরীক্ষা দিয়ে ই তো ভর্তি যোগ্যতা অর্জন করে, আবার কেন পরীক্ষা। আগের ফলের ভিত্তিতে ই ভর্তি হউক। কথা গুলো খারাপ না, কিন্তু এতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পড়া শুনা নিয়ে যে ওনাদের কোন ধারনা নাই, তাদের ছেলে মেয়ে বা আত্মীয় সব্জনের ছেলে মেয়েরা ও শিক্ষা বোর্ডে র অধিনে পরীক্ষা দেয় না তা ই প্রতিয়মান হয়।
ভর্তি পরীক্ষা ব্যয় বহুল- ঠিক ই আছে; এর সমাধান ও তো আছে। সম্মিলিত পরীক্ষা নিলে ই হয়। এতো গুলো মেডিকেল কলেজ এক সাথে নিতে পারলে, ইন্ডিয়ার মতো এতো বিশাল দেশে এক সাথে পরীক্ষা হতে পারলে, বিসিএস পরীক্ষা হতে পারলে, GRE, GMAT পারলে ওরা কেন পারবে না, এটা তো ডিজিটাল যুগ। সম্মিলিত পরিক্ষায় খরচ, ভোগান্তি, এবং কোচিং ব্যবসা সব ই কমে যাবে।

এখন আসি পরীক্ষা দিয়ে ই তো যোগ্যতা অর্জন করে এই জায়গায়ঃ আসলে ই কি এই পরীক্ষার ফল ভর্তি যোগ্যতা নির্ধারণ করে? তাহলে ৫ বা ৫+ ছেলে মেয়েরা কিভাবে পাশ নাম্বার পায় না ভর্তি পরিক্ষায়!!! ৫ এর নিচে পাওয়া ছেলে মেয়ে অনেকে ই ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করে, এমন কি এস এস সি, এইচ এসসি তে অনেকের চেয়ে কম নম্বর পেয়ে ও। এই বিষয় গুলো কি আমাদের প্রধান মন্ত্রী কি ভেবে এই্ মন্তব্য করেছেন?? আমার মনে হয় না।

আমাদের ছেলে মেয়েরা সাজেশন বেস পড়া শুনা করেন, বিষয়ের ২৫% জেনে A+ পেয়ে চলে আসেন। বাকি ৩ মাসে ৭৫ % বই পড়েশেষ করতে পারেননা। তাই আবার ও সোজা রাস্তা বের করতে কোচিং এ যান। যারা কোচিং করে উপকৃত হন তাদের সবাই বই খুব ভাল করে পড়েছেন আগে ই, বা ঐ ৩ মাসে জান জীবন লাগিয়ে পড়েছেন। এর বাইরে ভর্তি সাফল্যে কোন কাহিনী নেই। যারা ৩ মাসে পেরে উঠেন না, তারা পরের বছর দেন আস্তে ধিরে পড়া শুনা করেন, ভর্তি যুদ্ধে টিকে যান। আমাদের ভর্তি পরীক্ষার মান ভাল। এর জন্য কোচিং লাগে না, বই ঠিক ঠাক পড়া থকলে হয়ে যায়। এই বইটা ই তারা পড়ে না।

এর জন্য দায়ী কে? ভর্তি পরীক্ষা না আমাদের SSC HSC এর পড়া শুনা, পরীক্ষা পদ্ধতি, খাতা যাচাই পদ্ধতি।যেই খামতি গুলো এসে ধরা পড়ছে ভর্তি পরীক্ষায়। গোঁড়ার এর খামতি দূর না করে, ভর্তি পরীক্ষা কে খারাপ বলেন যারা তারা আমাদের ২৫% পড়ে CGPA -5 পাওয়া ছেলে মেয়েদের মতো ই হয়ে গেলেন। আমাদের সরকার কি চান, আমাদের ছেলে মেয়েরা ২৫% বই পড়ে ৫ এর বন্যা ভেসে যাবেন এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন। এই সব ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কি করতে হয় এবং তারা ঐ খানে গিয়ে কেমন করেন, তা আরেক কাহিনী। সেটা ও মনে হয় না শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধারনা রাখেন। সেই কাহিনী আরেক দিন শুনাব পরিসংখ্যান সহ।

আমাদের কে SSC, HSC তে এমন ভাবে প্রশ্ন করতে হবে, যাতে পাশ করতে হলে ও তাদের পুরা বই পড়তে হয়। নবম-দশম শ্রেণী এবং পরীক্ষা প্রস্তুতি মিলিয়ে পায় ২.৫ বছর। আর HSC তে পরীক্ষা সহ পান পায় ১.৫ বছর, যা তাদের বই শেষ করার জন্য খুব কম সময়। এই চার বছর সময় কে সিলেবাস অনুসারে বণ্টন করে দেয়া উচিত। প্রতিটা স্কুল-কলেজে বই শেষ করা বাধ্যতা মূলক করতে হবে। পরীক্ষার প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশ্ন পদ্ধতির অসাধারন নামকরণ না করে, একই রকম প্রশ্ন পদ্ধতি যাতে প্রতি বছর না থাকে সেই দিকে নজর দিতে হবে। দরকার হবে প্রশ্নে অপশন দেয়া বাদ দিতে হবে। যা প্রশ্ন হবে সব গুলোর উত্তর দিতে হবে। বিষয় টা যাতে এমন না হয়, এই বছর এই আসলো আগামিতে এইটা আসবে না, বা এই অধ্যায় পড়লাম, পরের টা না পড়লে ও সব উত্তর করে আসতে পারব, এই বিষয় গুলো যেন মাথায় না থাকে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের। বই পড়ে যাতে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, বড় বড় প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে যাতে ভাল ফল না করা যায়।

যারা খাতা কাটবেন তাদের প্রতি বোর্ডের ইন্সট্রাকশন ও যেন এখনকার মতো আজিব না হয়। এখন যেমন বলে দেয়া হয়, বেশি বেশি পাশ করাতে হবে। ৭০ পাইলে যাতে ৮০ দেয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকে। নিজের মতো করে লিখলে যাতে ছেলে মেয়েরা নাম্বার বেশি পায়। এখন যেমন ভাল ভাল শিক্ষকদের নোট মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়ে আসে ভাল নাম্বার নিয়ে আসে। কিন্তু এই নোট কোন ভাবে ই ঐ ছেলে মেয়ের নিজস্ব মেধার প্রকাশ না। কিন্তু যেই শিক্ষার্থী নিজে বুঝে নিজের মতামত লিখল, সে তার লেভেল এ তার মেধার প্রকাশ করল, তার চেয়ে উপরের লেভেল এর কারো মেধা মুখস্থ করে প্রকাশ করল না। এই সততার মুল্যায়ন করতে হবে। এতে ছেলে মেয়েরা উতসাহ নিয়ে পড়া শুনা করবে এবং জানার জন্য পড়বে।

এতো সব কিছু বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাদ দেয়া টা হবে মস্ত বড় ভুল। এখন জাতি ২৫% সিলেবাস জানা অসংখ্য ৫ পাওয়া ছেলে মেয়ে পায়, ভর্তি পরীক্ষা তুলে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১% A পাওয়া ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে না। ২৫% পাশ করার মতো ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে না। ৭৫% ছেলে মেয়ের ৫ বছর ব্যপি সরকার খরচ বহন করবে যারা কোন যোগ্যতা ই রাখে না গ্র্যাজুয়েট হবার। এই ছেলে মেয়েরা ই আবার আমাদের দেশে চাকরিতে ঢুকবে, শিক্ষায় ঢুকবে। তারা পরবর্তী প্রজন্মকে কি শিখাবে?
মননীয় প্রধান মন্ত্রী, আপনি নিশ্চয় সরকারী টাকা খরচে একজন মেধায় পঙ্গু জাতির সুচনা করতে চান না? আপনাকে যারা বুঝিয়েছে ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিতে, তারা এই দেশের ভাল চান না। তাদের ছেলে মেয়ে এইখানে সাধারনের মাঝে পড়ে বড় হয়নি। আর তা হয়ে থাকলে ও, সে তাদের কোন খোঁজ খবর রাখেন নি।
আর নয়তো তারা ভবিষ্যৎ ভর্তি বানিজ্য টা ই মাথায় রাখছেন। স্কুল গুলতে খোলা মেলা এ ভর্তি বানিজ্য নিরলজ্জ ভাবে ই চালিয়ে যাচ্ছে, কিছু দিন পর বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ও তাদের আওতায় চলে যাবে। টেন্ডার নিয়ে খুনা খুনির মতো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নিয়ে ও শুরু হবে। কোচিং বানিজ্য বন্ধ করতে গিয়ে নতুন বানিজ্য শুরু হবে।
আপনার মনে হতে পারে, বাইরের বিশ্বে ভর্তি পরীক্ষা নেই, তারা কি মেধাবি না?!! কথা টা আক্ষরিক ভাবে সত্য হয়তো, কিন্তু পুরো সত্য না। তাদের ভর্তিতে আগের পরীক্ষার ফল এর সাথে পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে ২-৩ টি recommendation letter এবং SAT (Scholastic Assessment Test) এর ফল দিতে হয়, যার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন কাকে ভর্তি করা যাবে। SAT এর ফলাফল ই বলে দেয় শিক্ষার্থী স্কুল বা কলেজে কেম্ন পড়া শুনা করে এসেছে, বা সে কতটা জানে। এটা ও এক ধরনের ভর্তি পরীক্ষা, যা সমগ্র পৃথিবীর ছেলে মেয়ে দিতে পারে। এর নম্বর ভাল হলে এবং সাথে ভাল grad থাকলে আপনি ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারবেন, যা অনেকটা সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একক ভর্তি পরীক্ষার সামিল।

ভর্তি পরীক্ষা তুলে দেবার আগে ভাবুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের (রাজনিতিবিদ দের সাথে না)সাথে বসে কথা বলুন, শিক্ষারথিদের সাথে কথা বলুন, যে সব কলেজের ছেলে মেয়েরা ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করে প্রতি বছর, সেই সব কলেজের শিক্ষকদের সাথে কথা বলুন, দরকার হলে ৬ মাসের একটা রিসার্চ প্রজেক্ট দিন IER ডিপার্টমেন্ট কে যারা গত ২০ বছরের SSC, HSC এবং ভর্তি পরীক্ষার ফল নিয়ে একটা রিপোর্ট জমা দিবে, যা দেখে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কি করা উচিত। কোন সিদ্ধান্ত তা জাতির ভবিষ্যতের জন্য ভাল হবে। অন্তত পরবর্তী ৫০ বছর ভাল ফল দিবে। SAT ১৯০২ সালে শুরু হয়েছে, এখন ও চলছে। এমন দীর্ঘ মেয়াদি চিন্তা ভাবনা আমরা হয়তো শিক্ষা ক্ষেত্রে করতে পারি।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আরাফাত শান্ত's picture


একমত আপনার সাথে!

টোকাই's picture


ভর্তি পরিক্ষা ছাড়া কেমন করে সত্যিকারের মেধা যাচাই করবে/।? শুধু প্রিক্ষার ফলাফল দিয়ে কাউকে বিচার করা ঠিক না। বুঝিনা কেন এত রকম ফের হয় নিয়ম কানুনের? কবে সব কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুনে চলবে?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

তানবীরা's picture


শেষের সাজেসানটা ভাল লেগেছে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.