ইউজার লগইন

আমি কি আমার উপর অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালন করব।

আজ ১ সেম্পেম্বর।গত ২০ আগষ্টের পর থেকে আমার সকল বন্ধুদের থেকে একেবারে বিছিন্ন। এটা যে কত পীড়াদায়ক তা আমি ও আমার সৃষ্টি কর্তা ছাড়া কাউকে বুঝাতে পারব না। বিভিন্ন ব্লগে যখন আমি আমার বন্ধুদের লেখায় উপস্থিতি দেখি আমার তখন নিজেকে অসুস্থ অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকা রুগির মত মনে হয়। আমার যতদুর মনে পড়ে আল্‌ কোরআনের কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম (ভুল হলে আল্লাহ্‌ মাফ করো), আমি মানুষকে অত্যন্ত ত্বরা করে সৃষ্টি করেছি। আমার মনে হয় আমার মধ্যে এ বদগুনটা অনেক বেশি। আমার মস্তিস্ক অনেক বেশি অস্থির। একে তো অস্থির মস্তিকের তদুপরি আজ আমার নিজকে অনেক বেশী অর্থ লোভী একজন মানুষ মনে হয়। যে অর্থ লোভী মানুষকে আমি অন্য নজরে দেখতাম, আজ আমি নিজেই তা। তাই তো আমি আমার প্রিয় বন্ধুদের হারাতে বসেছি।
মাস চারেক আগে আমার এক কলিগ বলল, স্যার আজ ভাল একটা চাকরির বিজ্ঞাপন আছে। আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেন। উনি নিজেই বিডি জব্‌স এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনটি দেখাল। আমি নামীদামি কোম্পানির আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দেখে, অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তির লোভ সংবরণ করতে না পেরে তখনই মেইলে জীবন বৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলাম।
কয়েকদিন পর ডাকা হলে গেলাম। কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই গেল প্রথম দিন। কয়েকদিন পর দ্বিতীয় বার ডাকা হল, ঘণ্টা দুই বসিয়ে রেখে এম ডি সাব অর্ধ ঘণ্টা গল্প করার পর বললেন, আজ আমার ডাইরেক্টারগন সবাই বাহিরে আপনাকে আর একদিন একটু কষ্ট করে আসতে হবে। অফিস থেকে বের হয়ে মনে মনে বললাম না, আর আসব না। একদিন সাক্ষাৎকার দেবার সময় বের করতে কি পরিমাণ কাঠখড় পোড়াতে হয়, তা তোমরা কি করে বুঝবে? তবে আমাকে যখন তারা বসিয়ে রেখেছিল আমার মনে হচ্ছিল তারা যেন আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে।
দুদিন পর এইচ আর থেকে ফোন করে আবার সাক্ষাৎকারের কথা বললে আমি ঢাকার বাইরে থাকার অজুহাতে উপস্থিত থাকতে অপারগতার কথা জানালাম। লেডি এইচ-আর আমার চাইতে আরও এক ডিগ্রী উপরে, ততধিক ভদ্রোচিত ভাবে বললেন, ঢাকায় এসে আমাকে জানাবেন। আমি নতুন টাইমিং আপনাকে জানাব। আমি আমার ইমিডিয়েট বসকে ঘটনাটা জানালাম এবং আমার রাগের কারণটা জানালে উনি বললেন, দেখুন একজন এমডি কোম্পানির মালিক হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেবার ক্ষেত্রে তিনি তার ডাইরেক্টারদের সাথে পরামর্শ করবেন এটা খুবই স্বাভাবিক। আমাদের এম ডি স্যারও কি তাই করেন না। এর জন্য আপনি এত সুন্দর একটা সুযোগ হাতছাড়া করবেন। আমি উনার কথার সাথে একমত হয়ে ফোনে লেডি এইচ আরকে জানালাম আমি এখন ঢাকায় আপনি আমাকে জানাবেন কখন আবার দেখা করতে হবে।
কয়েকদিন পর আবার ডাক পড়ল, এবার সব কিছু ঠিক হয়ে গেল। শেষ প্রশ্ন কবে যোগদান করতে পারবেন।
আমি সর্বদা একটা নীতি মেনে চলি। চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে কোন কোম্পানির সাথে সম্পর্ক খারাপ করি না। তাই বললাম, আমি আমার বর্তমান অফিসে গিয়ে এম,ডি স্যারের সাথে কথা বলে জানাব কবে যোগদান করতে পারব। অফিসে এমডি স্যারকে বললে উনি বললেন আগে তোমার হাতে যে প্রজেক্ট গুলো আছে সে গুলি শেষ কর তারপর জানাব। তবু আমাকে অর্থ লিপ্সা এমন ভাবে আকৃষ্ট করল যে আমি দু মাস সময় নিয়ে নতুন কোম্পানির এইচ আরকে জানিয়ে দিলাম।
আমার তেমন কোন নেশা করার অভ্যাস না থাকলেও বিভিন্ন জনের কাছে শুনে যতটুকু বুঝেছি তাতে মানুষ যতক্ষন নেশার মধ্যে থাকে তখন সে বাস্তবতটা তেমন বুজতে পারে না। নেশা কেটে গেলে সে বাস্তবে ফিরে আসে। আমারও এক সময় সময় অতিরিক্ত অর্থ ও সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির নেশা কেটে গেল, কিন্তু তখন আর ফেরার পথ ছিল না। বিদেশ থেকে আসার পর কখনও ঢাকার বাইরে জব করিনি, কিন্তু তখন আমার তিনি ছিলেন ঢাকার বাইরে। আজ উনি ঢাকায় আমাকে যেতে হবে ঢাকার বাইরে। উপরন্ত আমার মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় আমার আগের অফিস থেকে একটি বিল্ডিং পর। পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচ টার মধ্যে অফিস থেকে বের হয়ে যেতাম। তারপর বাসায় ফিরে ছেলেমেয়েকে নিয়ে সময় কাটানো। আর বন্ধুদের সাথে মিলন সেতু তৈরীর মানষে ভাংগাচুড়া যা লেখালেখি। আজ তা একেবারেই তিরোহিত। বন্ধুরা আমার অবস্থাটা একটা সাক্ষাৎকারের মাঝে একটু তুলে ধরছি।
যমুনা ব্রীজ শেষ হবার পর তার প্রজেক্ট ম্যানেজারকে কোন এক পত্রিকার সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন। বাংলাদেশ একটি সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা সুন্দর দেশ। আপনার কাছে তা কেমন লেগছে। উত্তরে প্রজেক্ট ম্যানেজার বলেছিলেন, আমি এয়ার পোর্ট থেকে সোজা আমার কর্মস্থলে এসেছি, কিন্তু প্রজেক্ট এরিয়া থেকে বাইরে যাবার সুযোগ পাইনি। এখন যেহেতু প্রজেক্ট শেষ হয়েছে, দেখার চেষ্টা করব। সত্যিকার অর্থে নির্মাণ পুরকৌশলীদের জীবনটা এমনই। আজ আমি ঠিক এমন একটি পরিস্থিতির সন্মুক্ষীন। আমি কি এ থেকে পালিয় যাব। না আমি আমার উপর অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালন করব। আমার ভাবনাগুলো প্রতিদিন আমার কাছে আসে, তারা বির বির করে অনেক কিছু বলে কিন্তু আমি তাদের ভাষা কিছু বুঝি কিছু বুঝি না। তবে অনুধাবন করতে পারি তারা আমার উপর নাখোশ নয়। তাদের আমি আদর আপ্যায়ন না করতে পারলেও তারা হাসি মুখেই আমার কাছ থেকে ফিরে যায়। শুধু বলে যায় ভাল থেকো বন্ধু। আমরা আবার আসব।
ফেবু ও বিভিন্ন ব্লগের বন্ধুরা, তোমরা কি আমাকে ভূলে যাবে। নাকি আমার ভাবনা গুলোর মত আমাকে মনে রাখবে?

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


Sad

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


মানে কি,
অন্য কোথাও গেলে কি ইন্টারনেটও থাকবে না?!

তানবীরা's picture


শুভকামনা .....ফেবু ও বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করে কোন লাভ হবে না, কাজ করলে উননতি হবে Big smile

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


কেমন আছেন হাবীব সাহেব?
ইদানিং লেখা কমে গেছে কেন?

টোকাই's picture


কেমন আছেন আ হা ভাই অনেকদিন দেখি না আপনার লেখা! শুভকামনা থাকলো .

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।