চোখের নয় মনের হ্যালুসিনে’শন (দ্বিতীয় পর্ব )
চোখের নয় মনের হ্যালুসিনে’শন (দ্বিতীয় পর্ব )
রিক্সা চলছে, এই এলাকার রিক্সা ওয়ালারা প্রায় সকলেই বিহার থেকে আগত।কেন কি জন্য তারা নিজ দেশ জন্মভুমি ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছিল তা আমার থেকে আপনারা সকলেই ভাল জানেন। আমি রাজনীতিবিদ নই তবুও মাঝে মাঝে আমি ভাবি এই পৃথিবীটা যত না তছনছ হয়েছে বেঁচে থাকার অবলম্বনের জন্য (অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান) তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি তছনছ হয়েছি ধর্মীয় কারনে।
যে এলাকায় যে ধর্মের অনুসারী বেশী সেখানে সেই ধর্মই বড় বা সঠিক বলে মনে করে নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীরা। আর চলে নিজের ধর্মে ধর্মান্তরিত করার নিলজ্জ বেহায়া ও বেআইনি জোড় জবরদস্তি। কিন্তু আপনার ধর্ম আপনার কাছে, আমার ধর্ম আমার কাছে। ধর্মের এই সার্বজনীন শ্বাশত বানী সেখানে কেউ মানে না। আধুনিক সভ্য জগতে কোথায় এর পরিসমাপ্তি ঘটবে আমার তো মনে হয় তা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।
আল্লাহ্ তায়ালা চাইলেই তো একদিনে অবনী বাসি সকলকে একই ধর্মের অনুসারী করতে পারেন কিন্তু কেন করেন না তার মর্ম কথা একমাত্র তিনিই ভাল জানেন। তাই বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের আপনা আপনা ধর্ম পালন করতে দিতে বাধা কি আমি বুঝি না। সুযোগ পেলেই আমরা একে অপর ধর্মকে খোঁচা দিতে শুরু করি। এমন কি একই ধর্মে জন্ম গ্রহণ করেও শুধু আধুনিকতা বা মুক্ত চিন্তার নামে ধর্ম নিয়ে কুৎসা গাই। কারও মনে কষ্ট দিয়ে বা কারও বিশ্বাসে আঘাত করে মুক্ত চিন্তা হতে পারে না। আমার যেহেতু ধর্মীয় জ্ঞান তেমন একটা নাই তাই এ বিষয়ে কোন আলোচনা না করাই শ্রেয় মনে করি।
রিক্সা ওয়ালাই প্রথম দু’জনের মাঝে নিরবতা ভাঙল।
সাব আভি তো কৌ বাস নেহি মিলেগা, আপ কিদার যাইয়েংগে?
ঠাকুরগাও যাব, তবে এখন যাব আত্বীয়ের বাসায়।
কীদার?
ক্যান্টনমেন্টকা পিছে মোল্লা বাড়ি।
ও আচ্ছা, তো আপ বাস স্টপতক যানে ক্যা লিয়ে মোজে বোলা কিউ?
মে কাভি কাভি ইদার আতা যাতা, ওদার বাস স্টপ ম্যা জান পেহচান ওয়ালা রিক্সা মিলেগা, ইছলিয়ে।
মোজে ভি মালুম হে।
মুস্কিল নেহি, আপ মোজে বাসস্টপ তক ছোর দিজিএ?
বাসস্টপে পৌছে দেখি, সারাদিনের রুটি রোজগারের সন্ধানে যারা এই বাসস্টপে এসেছিল, সাবাই প্রায় ঘরে ফেরার পথে।
আমি রিক্সাওয়ালাদের কাছে গিয়ে এমন ভাব নিলাম যে আমি এই এলাকারই, এই মোল্লা বাড়ি যাবার কেউ আছেন নাকি?
বয়স্ক করে একজন আগেই বলল আমি যামু, মোল্লার পো।
উত্তর শুনে আমিও একটু থতমত খেলাম, এমন ভাবে বলল যেন আমাকে এবং আমার চৌদ্দ গুষ্টিকে উনি চেনেন।
তা কত নিবেন?
আপনারা কি আর ঠকাইবেন, যাই ভাড়া তাই দিবেন।
আছা চলেন?
রেলষ্টেশন থেকে যে রিক্সায় এসেছিলাম তাকে বললাম,
শুক্রিয়া জনাব, জান পেহচান ওয়ালা আদমি মিলা, নেহি তো...।
মুস্কিল নেহি হে, মালিক আপক্যা বালা করে।
এই সময়টাতে বাংলাদেশে বিয়ে সাদি বা রাতি বনভোজন বেশী হয়, আজও কোথাও হয়ত বিয়ে বা ধানের ক্ষেতের মাঝে রাতি খাবারের আয়োজন হচ্ছে। আর এমন হলে আনন্দ ফুর্তি ও প্রচার করার জন্য মাইকে বাংলা বা হিন্দি ছবির গান বাজানো ফেশান বা ঐতিয্য যাই বলেন না কেন, আজও কাছে দূরে কোথায় রাতের নিরবতা ভেংগে বেজে চলেছে,
যৌবন জোয়ার একবার আসেরে
বন্ধু,
চলে গেলে আর আসে না। (চলবে)
মোঃ আবুল হোসেন
এপ্রিল,০৩,২০১৫ খ্রীঃ





ভাল লাগলো।
ধন্যবাদ
মন্তব্য করুন