ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

সি রামচন্দ্র, রান্নার গ্যাস কিংবা চলমান ডিপ্রেশন!

আজ একটা ব্লগ লেখতে ইচ্ছে করছে খুব। কিছু লেখা আছে ফেসবুকে লিখতে ইচ্ছে করে না, কোনো নিউজ এজেন্সির জন্য তুলে রাখা হয় না, কারো সাথে বলাও হয় না, তা খালি ব্লগেই লিখতে ইচ্ছে করে। ব্লগার ছাড়া আমাদের আর বলার মতো পরিচয় কি? আমার বন্ধু বান্ধব তো সব ব্লগ সূত্রেই। এর বাইরে ছিল যারা তারা কেউ আছে কেউ বা গেছে। আজ সকালে আমার ঘুম ভেঙ্গেছে আজানেরও আগে। ঘুমিয়েছি মাত্র তিন ঘন্টা। উঠেই মনে পড়লো রাসেল ভাইয়ের কথা। লোকটা আর নেই, চাইলেও আর পাওয়া যাবে না। আমরাবন্ধুর কিছু পোষ্ট ছাড়া রাসেল ভাই বিলীন হয়ে গেলেন এই ব্যস্ত শহর থেকে। মন খারাপ নিয়ে রাসেল ভাইয়ের কিছু পোষ্ট পড়লাম। আকাশ ফর্সা হতে হতেই একটা অন্য চিন্তায় চলে গেলাম। এমন যদি হতো আমরা মৃত্যুর পরেও খালি ব্লগ লিখতে পারবো কেমন হতো। বেঁচে থাকতে কত কথা বলা হয় না। ইগো, রাগ, ঘৃণা কিংবা ভুল ধারনায় কত কিছু নিয়ে আমাদের অব্যক্ত থেকে যায় সেই কথা গুলো শোনা যেত।

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

১৯৮৫ সালের ঘটনা। লাহোর স্টেডিয়ামে তৈরি মঞ্চে ধীরে ধীরে উঠে এলেন ইকবাল বানো। তাঁর পরনে কালো শাড়ি! এ যেন রবীন্দ্রনাথের ‘পূজারিণী’ কবিতার শ্রীমতী; চরম বুদ্ধ-বিরোধী রাজা অজাতশত্রুর নিষেধ অমান্য করে, মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে যে স্তূপে অর্ঘ্য সাজাতে চলেছেন।
সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউল হক পাকিস্তানের নারীদের জন্য ‘হিন্দুয়ানি পোশাক’ শাড়ি পরা নিষিদ্ধ করেছিলেন। নিষিদ্ধ করেছেন বিখ্যাত প্রগতিবাদী উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের গান বা কবিতার চর্চা। সামরিক শাসকের সেই ফরমানকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ৫০ বছরের এক সাহসী গজলশিল্পী ইকবাল বানো মঞ্চে উঠলেন শাড়ি পরে। তিনি গাইবেন সেই নিষিদ্ধ কবি ফয়েজের গান, যিনি মারা গেছেন এক বছর আগে। হাজার হাজার দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামে দর্শকের উল্লাসধ্বনির মধ্যে ইকবাল বানো গেয়ে উঠলেন,
হাম দেখেঙ্গে, হাম দেখেঙ্গে
লাযিম হ্যায় কি হাম ভি দেখেঙ্গে;
আমরা দেখব, আমরা দেখব
নিশ্চিত জানি, আমরাও দেখব;

রাসেল ভাইয়ের স্মরণসভায়!

রাসেল ভাইকে নিয়ে কিভাবে কথা বলা সম্ভব এটা আমি এখনো খুঁজে পাইনা। আসলেই রাসেল ভাইকে নিয়ে এত কিছু কি বলার আছে? রাসেল ভাই তো আমাদের দিকে তাকিয়েই বুঝে যেত মজা করার হাসি কিংবা আড্ডার ভালোবাসা। রাসেল ভাইও কি এত বলাবলি পছন্দ করতেন। উনি হলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতেন। উনার চার্মই ছিল সবকিছু দেখা, কথা বলে বুঝে নেয়া। তারপর লেখায় নির্মোহ ভাবে হিউমার মিশিয়ে তা নিয়ে একটা বিকল্প মতামত দেওয়া। তবুও জীবনে কখনো আনুষ্ঠানিকতা তো রাখতেই হয়। সেই আনুষ্ঠানিকতা থেকেই আমরা আজ বিকালে পরীবাগে গেলাম, যে আমি ছুটিরদিন কোথাও যাই না।

মোস্তাক শরীফের- আবু তোরাবের দৌড়ঃ জীবনের গল্প যাপনের গল্প

বলা যায় মোস্তাক শরীফকে আমাদের লেখক। আমাদের লেখক কিভাবে? কারন যখন থেকে তিনি উপন্যাস লিখে প্রকাশক মনোনীত পুরষ্কার পেলেন, তখন থেকেই আমরা তাঁর পাঠক। সেই তো 'সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে' থেকে শুরু করে। এরপর থেকে তার উপন্যাস বেড়িয়েছে প্রতি বছরেই, পড়া হয়েছে ভালো ভাবেই। এই ব্লগেই লিখেছি কত রিভিউ। তার লেখার যে বেড়ে উঠা তা আমাদের চোখের সামনেই। উপন্যাসিক হিসাবে তিনি সফল, এবার তিনি উপন্যাস লিখেন নি। লিখেছেন গল্প গ্রন্থ। নাম দিয়েছেন-- আবু তোরাবের দৌড়। মেলা থেকেই সংগ্রহ করেছি। তারপর পড়া শেষ হয়ে গেল আগেই। কিন্তু লিখবো লিখবো করেও লেখা যাচ্ছে না ব্যস্ততায়। আজ মাথা ব্যাথা প্রচন্ড। কাজে যাই নি, আজ ভাবলাম লিখে ফেলি।

যেভাবে কবিতা পড়িঃ কবিতা নিয়ে অসামান্য স্মৃতিজাগানিয়া গদ্য

কবিতা নিয়ে গদ্যের কথা আসলেই নাম এসে পড়বে জয় গোস্বামী আর শঙ্খ ঘোষের কথা। বলাবাহুল্য তারা দুজনেই কবি। কবিতার নিবিড় রহস্যময়তা তাঁরা ধরতে চেয়েছেন গদ্যের ছুতোয় সাথে জানিয়ে গেছেন নিজের বিখ্যাত কবিতা গুলোর ভাবনা ইতিহাস আর দুনিয়ার নানান ভাষার বিখ্যাত কবিকে নিয়ে আলোচনা। এ সময়ের প্রখ্যাত গদ্যশিল্পী আহমাদ মোস্তফা কামাল এইসবের ভেতরে যান নি, তিনি নিজেও কবি নন। তবে তিনি কবিতার এক মুগ্ধ পাঠক। কবিতা পাঠে তিনি আনন্দ পান, কবিতার সাথে সন্ধি করেন, কবিতাকে নিংড়ে বের করতে চান সেই কাব্যরস। বিশ্বাস করেন কবিতা না পড়লে ভালো গদ্য লেখা কিছুটা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু কবিতার আসলে ব্যাখা হয় না, সেই ব্যাখ্যাতীত বিষয় নিয়েই তিনি লিখেছেন মুক্তগদ্যের বই -- যেভাবে কবিতা পড়ি। লেখক জানিয়েছেন, তার প্রিয় কিছু কবিতার আনন্দ পাঠ ও তার শুলুকসন্ধান বের করার চেষ্টা।

স্মরণের টানে সামান্য এক মুহূর্ত হবে অনন্তকাল!

এখন আর এই শহরে দুইটাকার টোস্ট বিস্কুট পাওয়া যায় না। আগে ঢাকার বেশীর ভাগ চায়ের দোকানে, পলিথিনে ঝুলানো সস্তা টোস্ট পাওয়া যেত। খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমি আর টাইসন নামের একটা কুকুর ছিল শেলী সাহেবের, দুজনেই সেই টোস্ট ভক্ষণ করতাম। এমনিতে খেতে ভালো না, কিন্তু চায়ের সাথে ডুবালেই সেটা অমৃত। অনেক পরে জেনেছি, জীবন এমনি, সময়ে ডুব দিলেই শেষ সব। এখন আর ঐসব টোস্ট পাওয়া যায় না, প্যাকেট সুদৃশ্য বাহারী টোস্ট। একদিন দেখলাম ২৫ টাকার ঘি টোস্ট। টোস্টে ঘি, আর অবাক হবার বাকী আছেই বা কী? যেমন ৮-২০ টাকার বাটারবনে আপনি ক্রিম আশা করবেনই বা কেন?

ডিসেম্বরের শহরে!

আমার লেখা নিয়ে সেদিন একজন জানালো আমি নাকি লেখায় খালি মন খারাপের চাষাবাদ করি। বিশ্বাস করুন বন্ধুগণ, কোনরূপ চাষাবাদ সমন্ধ্যে আমার কোনো আইডিয়া নাই। সামান্য জমি জিরাতের ব্যাপার স্যাপার নিয়েও আমি পুরোই বকলম। দীর্ঘ স্কুলজীবনে এগ্রিকালচার পারে নি আমাকে সামান্য আগ্রহী করতে। খালি এভারেজ নাম্বার দিয়েছে। সবাই তখন বলতো, কৃষিশিক্ষায় নাম্বার তুলতে হবে। আমি তেমন নম্বর তুলতে পারতাম না, কারন ব্যবহারিক আকাআকিতে দুর্বলতা। আর আমাদের টিচার ছিল সুন্দর আলী স্যার, ধবধবে সাদা, হুজুর মানুষ, শান্ত ভদ্রলোক। কিন্তু আমরা ছিলাম কঠিন বেয়াদব। স্যার পড়া ধরে না, মারে না, তাই আমরা আন্তঃবেঞ্চ আড্ডায় মশগুল হতাম। স্যার আমাকে দেখে ডায়লগ দিতো, 'আরাফাত ক্লাসে আসো কি করতে?

এনাদার ট্রিবিউট টু কামাল ভাই এন্ড লীনা আপু!

এজরা পাউন্ড নাকি বলেছিলেন, শিল্পীরা সমাজের এন্টেনার মত। গড়পড়তা মানুষদের চেয়ে তারা নাকি আগেভাগে বুঝে যান, সমাজের আগামী দিনগুলোতে কি হতে চলছে, কেমন চলছে বর্তমান সমাজ। এটা বোঝার জন্য তাদের কোনো গায়েবী ক্ষমতার দরকার হয় না। তাদের সংবেদনশীলতা ও যুক্তি নির্ভর চিন্তাভাবনাই যথেষ্ট। আজ যাদের নিয়ে পোষ্ট লিখছি তারা আমার কাছে সেরকম মানুষ। তাদের বিভিন্ন বিষয়ে ভাবনা, যুক্তির প্রাসঙ্গিকতা, চিন্তাশীল মতামত, মিডিওকারকে খারাপ বলার সাহস আমাকে মুগ্ধ করে বারবার। এইজন্য এই দুইজন মানুষকে নিয়ে লিখতে আমি ক্লান্ত বোধ করি না। যদি আজ হেক্টিক একটা দিন গেল আমার, মন মেজাজও খুব লেখা উপযোগী নেই, তাও আমি লিখছি। কারন আশা করি এত চমৎকার দুজন মানুষকে নিয়ে লিখলে মন ভালো হবার সম্ভাবনা আছে।

বিবিধ প্রসঙ্গ

ডিসেম্বর মাস আমার জন্য সব সময়ই বিরক্তকর। একটা বছর চলে গেল সিগনিফিকেন্স কিছুই করা হলো না এই জিনিসটা ভাবতে ভাবতে একটা মাস চলে যায় সাথে সাথে চলে যায় আরো একটা বছর। তবে আজ মন ভালো কারন অনেকদিন পর এক প্রিয়বন্ধুর সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো। তার প্রায় ধ্বস হওয়া জীবন থেকে সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে একা একাই। এতেই শেষ না, সে চাচ্ছে আরো এগিয়ে যেতে। এই যে মানুষের উদ্যম, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা এইসব কথা শুনতে ভালো লাগে। মুটিভেশন স্পিকারদের মত না, নিজের মত নিজের। ফিরে এসে আমার বন্ধুটির যে উচ্ছাস, তা অসাধারণ। আমার দেখা হয় নাই। আমি একা একাই কল্পনা করেছি তার হাসোজ্জল মুখ খানা। আরেকটা মন ভালোর খবর ১০ তারিখ ছিল আমার আদরের ছোট ভাতিজি মৌনিয়া তার জন্মদিন। যদিও সে সেই দূর পরদেশে। তবুও মামনির কথা ভেবে মন ভালো রাখার চেষ্টা করেছি এই দু তিন দিন। আরেক ভালো খবর হলো, আবার ফেসবুক থেকে বিরতি নিয়েছি, এত সময় নষ্ট করে, তাই এই চেষ্টা। আশ

গল্পের হিরো!

অনেক বাঙ্গালী ছেলের নাম থাকে-- হিরু। ধারনা করি হিরো থেকেই এই নাম বাঙ্গালীর ভূবনে বিচরিত হচ্ছে। তবে নামটার তেমন সিগনিফিকেন্স নাই। যেমন ধরুন, যখন নেশার জগতে হিরোইনের খুব ডিমান্ড, তখন আদর করে অনেকে ডাকতো তা হিরু বলে। সেখান থেকেই শব্দটা এসেছে, হিরোইঞ্চি। বহুল প্রচারের কারনে শব্দটা হয়ে যায় গালি। আমার এক পরিচিত লোক আছে যিনি শুধু এই কারনে এই জিনিসের নেশা বাদ দিয়েছেন, হিরোইন নেয় যারা তাদের হিরোইঞ্চি বলে। উনার পাচ বছর বয়সী সন্তান জিগ্যেস করেছিল, বাবা তুমি নাকি হিরোইঞ্চি, সবাই বলাবলি করছিল?

Newton(2017)

'নিউটন' সিনেমার ট্রেলারটা ছিল চমক জাগানিয়া। এত ভালো হিন্দি ছবি ট্রেইলার শেষ কবে দেখেছিলাম মনে পড়ে না। আমি বলিউড নিয়ে খোঁজ খবর রাখলেও প্রযোজক আর অভিনেতা ছাড়া আর কাউকে চিনলাম না। পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, অমিত মাসুরকারকে আমি চিনি। তার প্রথম বানানো ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমেডি মুভি- 'সোলেমানি কিড়া'। সিনেমাটা সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও অসাধারণ, বলিউড আর এর বিভিন্ন সিস্টেমকে ট্রল করা এত ভালো সিনেমা আর হয় নি। আর সীমাবদ্ধতা সিনেমার এন্ডিংটা। বলিউডকে ট্রল করে শেষে তারা বলিউড মার্কা এন্ডিংয়েই চলে গিয়েছে। তবে নতুন পরিচালক হিসাবে অমিতের কাজ সেইসময় চোখে লাগার মতো। ভাগ্যিস অমিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ড্রপ আউট হয়েছিলেন সিনেমা করবেন বলে। নয়তো তিনি 'নিউটন' বানাতেন কিভাবে আর তিনি যে বড় মাপের এক পরিচালক তা জানাতেন কিভাবে?

মহানগরীতে এলো বিবর্ণ দিন আলকাতরার মত রাত্রি...

শরীর খারাপ থাকলে যা হয়। কিছুই ভালোই লাগে না। আমি পেসিমিস্ট থাকি সবসময়, শরীর খারাপ থাকলে দুয়ে দুয়ে চার মিলে নিজেকে শেষ করে দেয়। তেমন বড় কিছুতে না, বড় বড় সমস্যা আমি স্নেহ করে শরীরে পুষি। আমি আক্রান্ত হই সামান্য সমস্যায়, যেমন প্রতি দু তিন মাস পরপর আমি পায়ে ব্যাথা পাবোই। হালকা মচকাবে তাতেই আমি দুদিন শেষ, পুরাই কাহিল লাগবে। সব কিছুতেই অরুচি লাগবে। বন্ধুদের সাথে ক্যাটক্যাট করবো। পেইন কিলার খাবো কিন্তু ভাত মাছে রুচি আসবে না কিছুইতেই। এক যাতা অবস্থা। দু তিন দিন শেষ, পা নরমাল, আমিও নরমাল, সব চলবে আগের মতো। এরকম শুধু পায়ে ব্যাথা না, একদিনের জন্য ঘাড়ে ব্যাথা, চারদিনের জ্বর, ছয়দিনের ঠান্ডা লাগা ও মাথা ও গলা ব্যথা আরো অনেক গুলো প্যাকেজ আছে। যা বিভিন্ন মেয়াদ ঘুরে ফিরে ফিরে আসে। তখন বিশেষ মিস করি আম্মু আব্বু আর ভাইভাবীকে। আমার এই সামান্য অসুখবিসুখকে তারা অত্যন্ত সিরিয়াসলি নিতো। নিজেকে তখন নগরপিতা মনে হতো

নভেম্বরের শহরে!

কেউ কখনো নিউমার্কেট থেকে স্যুটকেস কিনতে দেখেছেন বা কিনেছেন, কিংবা বড় লাগেজ, দেখবেন যারা কিনে রিক্সায় তারা খুব হাসিখুশী থাকে। চোখে থাকে বড় কিছু কেনার আনন্দ। আমিও প্রতিদিন স্যুটকেস নিয়ে হাঁটি, স্যুটকেস ভর্তি শুন্যতা নিয়ে। সেই স্যুটকেসের খবর শুধু আমারই জানা। আমি বয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়াই সারাটাদিন, এই শহরময়। পাশে লোক থাকে, জিগ্যেস করে কি অন্যমনষ্ক?

কোনও এক কণিকার জন্য!

শুক্রবার আমার মন ভালো থাকে। ঘুম থেকে উঠি, গান বাজনা শুনি, নাস্তা করি হেলতে দুলতে। স্মুথ একটা দিন। কোনোকিছুর জন্যই তাড়া নাই। সকালটা শুরু হয় দরজার কোনায় পড়ে থাকা পত্রিকা দেখি, একটা পড়ে হয় না, অনলাইনে পত্রিকায় চোখ বুলাই। ফেসবুকের ইস্যু গুলোর সাথে তাল মেলাই। কিছু নিয়ে ইচ্ছে করলে স্ট্যাটাস দেই। বই পড়ি শুয়ে শুয়ে। একটার দিকে বের হই। নামাজে যাই। নামাজ শেষে জম্পেশ আড্ডা দেই অনেকক্ষণ। বাসায় আসি ভাত খাই। আবার সন্ধ্যায় বের হই। কোনো ভালোই রেস্তোরায় খাই, বারেক সাহেবের দোকানে ফিরি, আড্ডা মারি, বাসায় আসি। আজও সেইম কাজ গুলোই করলাম। কিন্তু সব আলগা ভালো থাকা মাটি করে দিলো একটা খবর। মধ্যম আয়ের দেশে, উন্নয়নের মহাসড়কে বুলেট গতিতে মার্সেডিজ চালানো বাংলাদেশের এক পত্রিকার অনলাইনে পাওয়া এক অকিঞ্চিৎকর খবর, শেরপুরে কণিকা নামের এক কিশোরীর আত্মহনন। কিশোরী, বৃদ্ধা, তরুনী,কন্যাশিশু, কারো জন্যেই এইদেশ নিরাপদ না এটা পুরোনো

জন্মদিনের শুভেচ্ছা অভি!

সময়টা যে খুব ভালো তা বলা যাবে না। আমার অবস্থা খুব একটা খারাপ না হলেও দেশের অবস্থা তেরোটা। আগে যেসব দুর্যোগ- দুর্বিপাক ছিল, এখন তা আরো বেড়েছে। রাস্তায় জ্যাম মাত্রা ছাড়িয়ে অনন্তকালের দিকে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবতা দেখাতে গিয়ে আমরাই কোনো জালে আটকে পড়ে যাচ্ছি কিনা, সে খবর আর কে রাখে। বন্যা হলো, পাহাড় ধ্বসে কত গুলো প্রাণ চলে গেল তখন আমাদের লুকিয়ে থাকা মানবতা অন্য অনেক সময়ের মত লুকিয়ে ছিল। কিন্তু এখন ফেসবুক খুললেই দেখি মানবতার জয়গান। আমি অবশ্য তাতে অসন্তুষ্ট না। আমি চাই এই মানবতা ব্রাদার হুড অন্য সময়তেও খাড়া থাকুক। আবার আরেক পক্ষ আরো সরেস। তারা একাত্তরকে ছাড়িয়ে যাবার ও মেলানোর ধান্দায় বিজি। একাত্তরকে যারা ছোট করতে চায়, তাদের দিয়ে আর যাই হোক মানবতা আশা করা ঠিক না।