ইউজার লগইন
ভালোবাসা
তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার দিনগুলো সব রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
তুমি চোখ মেললেই ফুল ফুটেছে আমার ছাদে এসে
ভোরের শিশির ঠোঁট ছুঁয়ে যায় তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
আমার ক্লান্ত মন ঘর খুঁজেছে যখন
আমি চাইতাম পেতে চাইতাম শুধু তোমার টেলিফোন
ঘর ভরা দুপুর আমার একলা থাকার সূর
রোদ গাইতো আমি ভাবতাম তুমি কোথায় কত দূর
আমার বেসুর গিটার সুর বেঁধেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার একলা আকাশ চাঁদ চিনেছে তোমার হাসি হেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
অলস মেঘলা মন আমার আবছা ঘরের কোণ
চেয়ে রইতো ছুটে চাইতো তুমি আসবে আর কখন
শ্রান্ত ঘুঘুর ডাক ধুলো মাখা বইয়ের তাক
যেনো বলছে বলে চলছে থাক অপেক্ষাতেই থাক
আমার একলা আকাশ থমকে গেছে রাতের স্রোতে ভেসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে
আমার দিনগুলো সব রঙ চিনেছে তোমার কাছে এসে
শুধু তোমায় ভালোবেসে।

বাবা
নিজের মতো, নিজের ইচ্ছায় বাঁচতে শিখেছি সেই ২০০৭ থেকে। নিজের উপার্জিত অর্থে নিজে চলতাম আর পড়ালেখা করতাম। মনে আছে তিনটা টিউশনি করতাম। মাস শেষে বেশ ভালোই কামাতাম। ভালোই চলে যেতো।
ছোটোবেলা থেকেই ঠান্ডায় কাবু। টনসিল, সাইনাস, মাইগ্রেন সবই ছিলো। এখনো আছে। কান ঢেকে বেড় না হলে ভয়াবহ সমস্যা হতো। কিন্তু স্বভাবসুলভ ঘাউড়ামি করে কখনই মাফলার ব্যাবহার করতাম না। মাঝেমাঝে কানটুপি ব্যাবহার করতাম।
আমাদের পরিবারের একজন মানুষ ছিলেন। যার সাথে আমার দূরত্বই বোধহয় সবচেয়ে বেশি ছিলো। কক্ষনো ফোনে বেশি কথা হোতো না। কল করলেই বলতেন, "নে তোর মা'য়ের সাথে কথা বল।"
জানিনা অত্যাধিক স্নেহ করতেন বলেই হয়তো সচরাচর বেশি কথা বলতেন না।
তবে শীত এলেই প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিনবার কল করতেন। প্রতিবারই একটাই কথা, "মনা, কান গলা পেঁচিয়ে বেড় হইস তো?" কত যে মিথ্যা বলেছি, "হুম, বেড়হই"।
কত যে বিরক্ত হয়েছি!!!
কিছু সুপ্ত ভালোবাসা আর নির্লিপ্ত প্রকৃতি
সুপ্ত সামাজিকতার এই যুগে ভুল করে জন্ম নেয়া একটি ছেলে। অসামাজিক হলেও সামাজিক সাইটে তার একটি একাউন্ট আছে। সকলের অলক্ষ্যে থেকে সবার লেখা পড়ে বেড়ায়। ভালো লাগলে লাইক দিয়ে সহমত জানায়। এছাড়া ওই নিভৃতচারীই থেকে যায় সকলের অগোচরে।
তার ইনবক্সে কতশত জিজ্ঞাসু মানুষের ভীড়। সবাই পরিচিত হতে চায়। কিন্তু সে ভেবে পায় না, কোথা থেকে শুরুকরে কি বলবে। সবাই তার এই চুপচাপ থাকাকে তার দেমাগ মনে করে। বিরক্ত হয়ে সাথ ছেড়ে যায়।
কিন্তু এই ছেলেটিই এক কথায় দুই কথায় পরিচিত হয় প্রকৃতির সাথে। ওদের দুজনের খুব জমে। কিসের একটা অজানা টানে যে এরা ভালো সংগীতে পরিনত হয় তা কেউ জানেনা। প্রকৃতির নীরবতা সুপ্তকে বিমুগ্ধ করে। প্রবল বেগে কাছে টানে। এই টানকেই হয়তো সবাই ভালোবাসা বলে।
সাধারনের কাছে সুপ্ত একজন আহাম্মকই রয়ে যায়। যে তার আবেগ প্রকাশে ব্যার্থ। কিন্তু সুপ্ত তার হৃদয়ের কোথায় যেনো একটি দুর্বলতা অনুভব করে প্রকৃতির জন্য। হয়তো প্রকৃতি সেটা বোঝে, হয়তোবা বোঝেনা। তাতে কি ই বা যায় আসে?
হ্যাপি বার্থডে লিল ব্রো "আরাফাত শান্ত"
“আরাফাত শান্ত” “আমরা বন্ধু” ব্লগের সবচেয়ে একনিষ্ঠ ব্লগারের নাম। সবচেয়ে নিবিষ্ট মনে যে তার চাওয়া পাওয়া, আনন্দ বেদনা, দিনলিপি, সিনেমা, বই, ঈদের টিভির অনুষ্ঠানের কড়চা আমাদের সাথে সততার সাথে ভাগাভাগি করে যায়, কে পড়লো কে পড়লো না কিংবা কে মন্তব্য করলো আর করলো না, কে তার পোষ্ট পড়ে তাকে কী ভাবলো আর ভাবলো না তার তোয়াক্কা না করে। এক কথায় আমাদের ব্লগের প্রাণ এই ছেলেটা। অনেক ব্যস্ততা কিংবা একঘেয়ে অফিস রুটিনের ফাঁকে এক ঝলক ব্লগে উঁকি দেয়ার কারণ এই ছেলেটা। আজ তার শুভ জন্মদিন। অনেক অল্পদিনে অনেক কাছের মানুষ হয়ে যাওয়া এই ছেলেটাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেয়ার জন্যে আজকের এই লেখা। শুভেচ্ছা লেখার মান যেমনই হোক, ভালবাসা, স্নেহ, শুভ কামনা অফুরন্ত তাই জানাতে চাই।
স্ক্রিবলস...
২৫০৯১৩
সাদাকালো আকাশের অশ্রু মেখে বিষণ্ণ হয় কাশদল...
২৭০৯১৩
বৃষ্টি থেমে এলে স্থবির নগর
কাদা মাখা পথে বিহ্বল ইঁদুরের পাল...
২৮০৯১৩
ফুলার রোডে সন্ধ্যা নামে...
রঙীন অন্ধকার...
চোখের কোনের অশ্রু আর এলোমেলো কথামালা
বার বার হারিয়ে যেতে থাকে রিকশার ঘন্টায়...
তুই...
ভালো থাকিস রঙীন অন্ধকার রাতে
ঘুমন্ত বালিশের আদরে...
০৪১০১৩
শহর ভরা মেঘের গুঁড়ো,
আকাশ ভরা মেঘ
দুপুর জুড়ে সাঁঝের মায়া,
অবাক দিনের শেষ..
০৯১০১৩
ভুলে যাবার চেষ্টা আসলে তোমারই স্মৃতিচারণ..
১২১০১৩
অনিবার্য সকাল হেঁটে আসে,
মৃদুপায়ে;
আধা জোছনার নাগরিক পথ ধরে...
১৯১০১৩
রাত কিভাবে কালো হয়?
২০১০১৩
পাঁচিল ভাবলেই তোমার চোখ।
মেলে ধরা হাতের পাতায় লালচে আলো।
এসফল্ট, কালো ধোঁয়া আর ধুলো ওড়া বাতাসের পটভুমিতে দৃঢ় সংবদ্ধ চিবুক।
পাঁচিল ভাবলেই পায়ে দলে যাওয়া রোদ।
ড্রেনে পড়ে থাকা শুকনো পাতা।
ওভারব্রীজের জলাকীর্ণ সিঁড়িতে খানিকটা চাঁদ।
পাঁচিল ভাবলেই আমার অস্থিরতা এবং ভুল।
২৩১০১৩
দেয়ালে দেয়ালে ছায়া দিয়ে আঁকা গল্পগুলো সব পাখি হয়ে যায় কৃষ্ণপক্ষের রাতে...
২৪১০১৩
মায়া

আজি হতে বহুবর্ষ আগে
একদা ফেলে এসেছিলাম তারে
কীর্তনখোলার তীরে,
শ্যামা ষোড়শীর হরিণী নয়নের
মায়াবী দৃষ্টি ছাড়িয়ে
চলে এসেছিলাম; একেবারে।
এই হেমন্তের দিনে
গাশ্বীর রাতে আশ্বিন চলে যায়-
কার্তিকের নবান্নের আহবানে;
সবকিছু মনে পড়ে যায়।
হারানো দিনের তরে
মনটা কেবলই কেঁদে ওঠে
ফেলে আসা দিনগুলি
হাতছানি দেয়-
বারে বারে।
তারপর, বহুকাল কেটে যায়-
কখনও ভোলা হয়নি তারে
একটি দিনের তরেও।
সোনারোদে ঝিলমিল হাসির
ঝলকের প্রবল আকর্ষণে
মনটা ছুটে যায়, ক্ষণে ক্ষণে;
কালো তিলকের মায়া জড়ানো
সবুজের অলঙ্কারে।
আজও এই ক্ষয়ে যাওয়া
পাথর সময়ের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি এড়িয়ে
মন ছুটে যায়,
অবলীলায়-
সেই শ্যামলিমায়!
হিজলের ছায়ায়,
কাঠবিড়ালী, ঘুঘু-ডাহুকের
নিবিড় ভালবাসায়।
রিস্টকাটার্স: আ লাভ স্টোরি
মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে?
এটা আলোচনার বিষয় হিসাবে আকর্ষণীয় কিন্তু অনেক বড়। তারচেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর কথা ভাবি। সেই মৃত্যুর পরের জগতটা কেমন হতে পারে? সেদিন রাজধানীর হাতিরঝিলে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ঝাপ দিয়েছিলো একটি যুগল। তাদের মাঝে ছেলেটা মারা গেছে। সাঁতার জানতো না কেউই। প্রেমে বাঁধা পেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিলো দু'জন। নিশ্চই খুব কষ্ট হচ্ছিলো তাদের। প্রেমিকার বাগদান হয়ে গেলে প্রেমিকদের কি এমন কষ্টই হয়? পৃথিবীর সব কষ্ট কি তখন তুচ্ছ মনে হয়? কোথায় যেন পড়েছিলাম, সবচেয়ে কষ্টের মৃত্যু হলো আগুনে পুড়ে মরা। শরীরের প্রতিটি কোষ পুড়তে থাকে এবং আলাদা আলাদা যন্ত্রণার জন্ম দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম কয়েকদিন যন্ত্রণা ভোগের পর মরে। দ্বিতীয় কষ্টের মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে মরা। ফুসফুস পানিপূর্ণ হয়ে যাবার পর সেটা ফেটে যায়। সেই কষ্ট বুকের মধ্যে নিয়ে মানুষ বাধ্য হয় মারা যেতে, কেননা একবার পানিতে তলিয়ে গেলে আর ফিরে আসার উপায় থাকে না। এসব জানা আজকাল কঠিন কোনো বিষয় না। কঠিন হচ্ছে এসব জানার পরও স্বেচ্ছামৃত্যুকে আহ্বান করা। বুঝে হোক বা না বুঝে, সেই কঠিন কাজটি মানুষ কখন করে? কতটা নিরূপায় হলে?
রূপকথা
-ধুর!
-কি?
-ভালো লাগতেছে না। প্রেমের কথা আর কত লিখা যায় বল! প্রেম একদম মাথায় উঠে গেছে।
কথাটা শুনে রূপকথা প্রচন্ডভাবে হেসে উঠল।
-সেকিরে! প্রেম মাথায় উঠে কীভাবে?
-কেন! গ্যাস্ট্রিক যেভাবে মাথায় উঠে!
-গ্যাস্ট্রিক মাথায় উঠে!!!!
কথাটা বলে রূপকথা আমার দিকে বড় বড় চোখ করে চেয়ে রইল। মায়াকাড়া চোখ। নিমিষেই প্রেমে পড়া যায়।
-একটা কথা কি জানিস। অন্য কিছু দিয়ে না হোক তোর এই চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে হাজার বার প্রেমে পড়া যায়।
-তাই!
-হুম।
-তুই কতবার পড়েছিস?
-এখানে বসে আছি কতক্ষণ?
-প্রায় ১ ঘন্টা।
-তাহলে প্রায় ৩৬০০ বার তোর প্রেমে পড়েছি
-কি?
-হ্যা। সেকেন্ডে ১ বার করে।
-প্রপোজ করলেই ত পারিস!
-তারপর ধরে তুই আমারে ট্যাঙ্গানি দে। প্রেম কারা করে জানিস?
-কারা?
-বোকারা। আমি যেহেতু বোকা না তাই প্রেমে পড়াও আমার দ্বারা হবে না।
-এই না বললি তুই আমার প্রেমে পড়েছিস
-আসলে তোকে দেখলে আমার মাঝেমধ্যে খুব বোকা হতে ইচ্ছে হয়। তুইও তো একটু বোকা হতে পারিস।
আকাশের দিকে চেয়ে বলে উঠলাম-
-“বস, এই মেয়েটাকে কেন বোকা বানালে না? তাইলে তো আমারে আর এত চিন্তা করতে হয়না”
ইতিহাসে প্রহসনের বিচার (১) - সক্রেটিস ।
খ্রিস্টপূর্ব ৪৭০ সালের দিকে সক্রেটিসের জন্ম, তিনি ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক। এই মহান দার্শনিকের সম্পর্কে তথ্য লিখিতভাবে পাওয়া যায় কেবল মাত্র তাঁর শিষ্য প্লেটো এর রচনা থেকে। তৎকালীন শাসকদের কোপানলে পড়ে তাঁকে হেমলক বিষ পানে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তাকে পশ্চিমা দর্শনের ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি এমন এক দার্শনিক চিন্তাধারা জন্ম দিয়েছেন যা দীর্ঘ ২০০০ বছর ধরে পশ্চিমা সংস্কৃতি, দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। সক্রেটিস ছিলেন এক মহান সাধারণ শিক্ষক, যিনি কেবল শিষ্য গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানে বিশ্বাসী ছিলেননা। তার কোন নির্দিষ্ট শিক্ষায়তন ছিলনা। যেখানেই যাকে পেতেন তাকেই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর বোঝানোর চেষ্টা করতেন।
অনেকের ব্যক্তিগত ক্রোধ ছিল সক্রেটিসের উপর। অনেকের জ্ঞানের অহংকার সক্রেটিসের কাছে চুর্ন হয়েছিল। সক্রেটিস প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করতেন
আমার কোন জ্ঞান নেই।--কিছুই না' আমি এই মাত্র জানি
অযথা অ-চিঠি.. [হাবিজাবি!]
প্রিয়তমেসু,
কেমন আছো? ভালো নিশ্চয়ই?
আমার চিঠি পেয়েছিলে তো?
একদিন পাঠালাম ছোট্ট উড়োজাহাজ করে, তুমি যেমনটা বলেছিলে ঠিক তেমনই - আকাশের ঠিকানায়। আরেকদিন, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকাল পেরিয়ে ছিমছাম দুপুরের শেষে এসে - হঠাৎ বৃষ্টি হলো যে খুব? ওইদিন, কাগজের নৌকোয় আদর ভরে পাঠিয়েছিলাম। চিনতে পারো নি বুঝি? আমি ভেবেছিলাম চায়ের কাপের রিনিঝিনি টুংটাং শুনেই বুঝে নিবে - সে 'আমি'ই হবো। তাও পাছে আমায় চিনতে ভুল করো, হালকা আকাশি রঙএর রাংতা মোড়ানো পেজা তুলোর মত ভেজা মেঘ আর কিছু চেনা অচেনা প্রিয় সুরও পাঠালাম তোমায়। তবুও খুজে পেলে না তাতে আমায়?
নাকি, ছোট্ট চিঠি বলে রাগ করে উত্তরই দিলে না? কি করবো বলো, হয়তো হৃদযন্ত্রখানাই খুব ছোট আমার। আর তাতে যতটুকু ভালোবাসা ধরে, তাই লিখি তোমায়। এটুকুই সম্বল আমার।
তবে কি, জানো? আমার তোমাকে জানার প্রথম দিনগুলোর চিঠি ক'খানার উত্তর যে তুমি কখনই দাওনি, এই বিষাদ আমার কখনই হারাবে না। সেই সময়টুকুর স্মৃতির পাতায় পাতায় জড়ানো তীব্রতম ভালোবাসা সাক্ষি।
যখন চোখের জন্য শরীরে কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না
তখন আমার একটা সিনেমা দেখতে খুব ইচ্ছে করে।
নাম্ব সময়ের দিনলিপি
পহেলা বৈশাখ আর একুশে ফেব্রুয়ারিতে রাত ১০টার আগে ক্যাম্পাসে যেতে ভালো লাগে না। গিজগিজে ভিড় আর ধাক্কাধাক্কি-ঠেলাঠেলি। বিজয় দিবসে কখনো এত মানুষ ক্যাম্পাসে আসে না। তাই বিজয়ের দিনে আমার ক্যাম্পাসে টো টো করতে খুব ভালো লাগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এবার বিজয় দিবসে (গতকাল) কয়েক লাখ মানুষ ক্যাম্পাসে হাজির হয়েছিলো কিন্তু সেই ভিড় দেখে খারাপ লাগে নি। কারণ কালকের ভিড়টা আজগুবি ছিলো না।
বিকেলের মাঝামাঝি সময়ে লাল আর সবুজ রং দেখতে দেখতে মাথা খারাপ হয়ে যাবার মুহুর্তে একবার আকাশী নীল রং চোখে পড়েছিলো। বহুদিন পর প্রিয় রংয়ের শাড়ি চোখে পড়লো। আবারও সেই ছিপছিপে লম্বা মেয়েটি। উবায়েদ ভাইয়ের দোকানে যাকে দেখেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম এবার ওর সাথে কয়েকটা কথা বলবো। অথচ ভিড় আমাদের দু'জনকে কাছাকাছি হতে দিলো না।
দুই প্রিয়জনের জন্মদিনে
১.
Twenty years from now you will be more disappointed by the things you did not do than by the things you did. So throw off the bowlines. Sail away from the safe harbor. Catch the winds in your sails. Dream. Explore. Discover.
উক্তিটি মার্ক টোয়েনের। ছেলেবেলা থেকেই এ ভদ্রলোককে আমি চিনি। টম সয়্যার আর হাকলবেরী ফিনকে বন্ধু মনে করি। তার বক্তব্যে ভরসা না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। অন্তত আমার কাছে। প্রিয় লীনা আপুর জন্মদিন। মার্ক টোয়েনের উক্তিটি উপলব্ধি করার জন্য উনার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি এবং সেই সঙ্গে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
২.
সেই পরিণতির অপেক্ষায়
সিগারেটের প্যাকেটে লিখে রেখেছে- ধূমপান হৃদরোগের কারণ। সাদা জমিনে কালো কালিতে বড় বড় হরফে কথাটা লিখে রাখা হয়েছে। আমি বুঝি না, যারা হৃদরোগ নিয়ে এত চিন্তিত; তারা ধূম্রশলাকা উৎপাদন করে কেন? পৃথিবীতে তামাশা ছাড়া আর কিছু হয় না নাকি?
সবসময় যানজটপূর্ণ রাস্তায় চলাচল করে অভ্যস্ত বলেই হয়তো যানবাহনমুক্ত রাস্তায় আজকাল আতঙ্ক অনুভব করি। মনে হয় রাস্তাটা নিরিবিলিতে আমাকে পেলেই গিলে ফেলবে। আগে একবার আশপাশে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাবে। যদি দেখে ধারেকাছে কেউ নেই, তাহলেই সাথে সাথে কোনো একটা অদৃশ্য মুখগহ্বর দৃশ্যমান হয়ে আমাকে উদরস্থ করে ফেলবে। পৃথিবীর কেউ জানবে না সেই ঘটনাটা।
বিলীন হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে কখনোই আক্রান্ত হই নি। জানি খুব দ্রুত বিলীন হয়ে যাওয়ার নিমিত্তেই আবির্ভূত হতে হয়েছিলো আমাকে। তারপরও মাঝে মাঝে হিম নামের মেয়েটির কথা ভেবে খারাপ লাগে। আমি যখন থাকবো না তখনও হিম বার বার ফিরে আসবে। মানুষ ঝরাপাতা আর শুকনো কাঠ কুড়িয়ে আগুন জ্বালবে। সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসবে এবং হাসাহাসি করবে। আমি আশপাশেই থাকবো কিন্তু প্রচ্ছন্নতার আবরণ ভেদ করে দৃশ্যমান হতে পারবো না।
প্রিয় পাহাড়টার উপর থেকে যখন কাউকে শূন্যে ভাসিয়ে দেবো
মানুষ ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে এবং তাদের আচরণে সেটা ফুটতে থাকে। পুরোপুরি বদল না ঘটা পর্যন্ত অবশ্য সেটা বোঝা যায় না। যখন কোনো একটা ঘটনার মধ্য দিয়ে একজনের আমূল পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তখন পুরোনো ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবলে বোঝা যায়; পরিবর্তন শুরু হয়েছিলো আরও আগে থেকেই।
স্টিভ জবস্ বলে গেছেন, ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে জীবনের জরুরি বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া যায় না। আমরা সবসময় সেই ভুলটাই করি। একেকটা পরিবর্তনের চিহ্ন দেখি আর মনে করি বিষয়টা কিছু না। ভবিষ্যতে ঠিক হয়ে যাবে। আসলে তা হয় না। অতীত থেকে সবকিছু ঠিক হয়ে সামনের দিকে যেতে থাকে। জরুরি কিন্তু অদৃশ্য বিন্দুগুলোকে জোড়া দেয়া সম্ভব কেবলমাত্র অতীতের দিকে তাকিয়েই।
সময়ের কাছে আছে জগতের প্রায় সব সমস্যারই সমাধান। তাই বিষয়গুলো সবসময় খানিকটা সময়ের দাবিদার। আমরা সেটা বুঝতে চেষ্টা করি না। অস্থির সময়ের দাবি মেনে নিয়ে নিজের ভেতর অস্থিরতাকে ঠাঁই দিই। অথচ বিশ্বাস করতে চাই না, জীবনে আবার হয়তো কখনো স্থিরতা আসবে। মানুষ আসলে প্রাণী হিসেবে যতটা উন্নত, ঠিক ততটাই অদ্ভুত। সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী যারা নিজেদের উন্নতির জন্য ডেসপারেট এবং অবনতির জন্যও।