ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

যতো টাকা ততো চোকা

যতো টাকা
ততো চোকা
অসম্পূর্ণ বিলিম্বি ধরে আছে থোকা থোকা
তারা এখনও পুরোপুরি টক হয়ে উঠে নাই।

আজকাল
খুব অকাল
বিল্ডিং ছেড়ে তাই ফাঁকা মাঠে ‌ছুটে যেতে চাই।
সুযোগ পেলেই বিল্ডিংগুলোর ওপর
এক্স এঁকে দিয়ে রাখে আকাশেরা।

--

১২.১২.২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ
রাত্রি ২২:৩৭ ঘটিকা (কেন্দ্রীয় ইউরোপীয় সময়)
স্থান: উত্তরা, ঢাকা

যতো টাকা
ততো চোকা
অসম্পূর্ণ বিলিম্বি ধরে আছে থোকা থোকা
তারা এখনও পুরোপুরি টক হয়ে উঠে নাই।

আজকাল
খুব অকাল
বিল্ডিং ছেড়ে তাই ফাঁকা মাঠে ‌ছুটে যেতে চাই।
সুযোগ পেলেই বিল্ডিংগুলোর ওপর
এক্স এঁকে দিয়ে রাখে আকাশেরা।

মানবজনমের অভিশাপ

কোন এক সময় লিখবো ভেবে অন্তত এক যুগেরও আগে এককালে শুরু করেছিলাম অচল পয়সার জবানবন্দি। দৈনিক পত্রিকা পাঠের মতো একটা বিষয়। প্রতিদিন এক পাতা লিখতাম। এপিঠ-ওপিঠ। রাস্তার বর্ণণা দিতাম শুধু। আর আশপাশে কি দেখা যায়। শিশুকাল থেকে রাস্তার প্রতি আমার আকর্ষণ ছিল মনে হয়। অনেক শিশুকালে আমি ট্রাভেল করতাম। চ্রট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে বগুড়া। ট্রেন, বাস আর ফেরি সহযোগে।

আজকাল খারাপ হতে জানা খুব জরুরি

এরফুর্টের পথেঘাটে যত পুরোনো দালানকোঠা, বাড়িঘর, গীর্জা কিংবা পানশালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তা দুই-তিন বছরে দেখে শেষ করা সম্ভব নয়। দেখার গতি যদি আমার মতো হয়। পুরোনো বলতে, বাড়িঘর বা প্রতিটি স্থাপনাতেই, খুঁজলে সেটা কত সালে বানানো হয়েছিল তা বের করা যায়। সাধারণত গেটের ওপরেই লেখা থাকে। নাহলে ভেতরে কোথাও। কোন সালই চোখে পড়ে নি এ পর্যন্ত ১৮শ বা ১৯শ শতকের। সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়কালটি ১৭শ শতকের। এছাড়া বেশিরভাগ দালানকোঠারই নির্মাণকাল ১৬শ, ১৫শ, ১৪শ শতকের ঘরে। এরচেয়ে পুরোনোও আছে।

বলছিলাম দেখার গতি যদি আমার মতো হয়, তাহলে দুই বা তিন বছরেও দেখে শেষ করা সম্ভব না। কারণ আমি কোথাও কোনকিছু দেখতে গেলে, ওই সাল বের করতেই দুই ঘন্টা খরচ করে ফেলি।

নিজেরই ছবি হয়তো

এরফুর্ট শহরে এর আগে এসেছিলাম সেই শুরুতে। ২০১৪ সালে। যখন প্রথম জার্মান দেশে এসে উঠি। এখানে নেমে ট্রেন নিয়ে এক ঘন্টারও কম একটা যাত্রা। পৌঁছালাম ইলমিনাউ। সেখানে পড়াশুনা করলাম চার বছর। মাস্টার্স শেষে এক অক্টোবরে সেখান থেকে বের হয়ে, পরে চলে গিয়েছিলাম অফেনবুর্গে। ছ'শ কিলোমিটার দুরে বিখ্যাত ব্ল্যাক ফরেস্টের ভেতরে একটা শহর। ব্ল্যাক ফরেস্ট বনভূমি ছড়িয়ে আছে জার্মানির দক্ষিণে বাডেন-ভুর্টেমবার্গ রাজ্যের প্রায় পুরোটা জুড়েই। অফেনবুর্গও সেই রাজ্যেরই একটা শহর ছিল। ওখানে ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে দেখতাম পাহাড়ের মাথার ওপর দিয়ে বিশাল একটা সূর্য উঠছে। প্রতিদিন। বিরামহীন।

জীবনটা আনন্দময়, তাই না?

সেদিন একটা আমলকি গাছের নিচে বসে ভাবছিলাম তোমার কথা! জীবনের যে সময়টায় গাছের নিচে, পার্কের বেঞ্চিতে কিংবা রিকশায় চড়ে তোমায় নিয়ে ঘুরে ঘুরে আনন্দ করার কথা ছিল, সে সময়টায় কৈলাশ খেরের গান কানের হেডফোনে, আর অচেনা-অজানা-অগোছালো চিন্তাদেরকে মাথার নিউরণে নিউরণে নিয়ে; অলিতে-গলিতে ঘুরেছি আমি, আর সূর্য্য ঘুরেছে নিজের অক্ষ আর কক্ষপথের ওপর, আহ্নিক ও বার্ষিক গতিতে।

নেপাল ভ্রমণের গল্প: শেষ পর্ব

নেপাল ভ্রমণের পর্ব দুই মূলত পোখরা শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরঘুর করে বেড়ানো কেন্দ্রিক। দারুণ সব জায়গা দেখা, প্রকৃতির ভেতর হারিয়ে যাওয়া, আসল নেপালি খাবার উপভোগ করা- এই নিয়ে সাজানো।

যার কেন্দ্রে থাকা কিছু উপাদানের একটি ছিল খাবার। বিশেষভাবে নেপালিদের হাতে সাজানো থালি, যাতে ভাত আর পাঁপড়ের সঙ্গে থাকে পছন্দসই যেকোন রকমের উপাদান। যারা নিরামিশাষী তাদের জন্য ছয়-সাত রকমের নিরামিষের আয়োজন। যার ভেতর ডাল, পুঁইশাক, পালংশাক, উচ্ছেভাজা, ঝিঙ্গেভাজি, আলুর দম, লাউপাতার পাতুরি- ভেতরে ঝুরি করে ভাজা আলুর পুর ছিল প্রায় সবখানেই। মাংষাশীদের জন্য মুরগি কিংবা মহিষ এর কষা, কোথাও কোথাও মুরগীভাজাও ছিল। খাওয়ার পাশাপাশি চলেছে চর্মচক্ষু স্বার্থকায়নের কর্মযজ্ঞ। সুস্বাদু খাবার যেমন পেট ভরিয়েছে, নয়নাভিরাম দৃশ্য তেমন ভরিয়েছে মন। সর্বত্র হয় না দেহ-মনের অমন বিরল মিলন।

নেপাল ভ্রমণের গল্প: পর্ব ১

ত্রিভুবন বিমানবন্দরটি নেহায়েত ছোট্ট একটি বিমানবন্দর হলেও মানুষের আনাগোনা কম ছিল না। এক রোববার ভরদুপুরে ময়ুরপঙ্খী নামের উড়োজাহাজে করে বিমানবন্দরটিতে নামতেই আশপাশে প্রচুর মানুষের কোলাহল দেখে থমকে গিয়েছিলাম খানিকক্ষণের জন্য। ঠিক জায়গায় পৌছেঁছি তো? এতো দেশের মতোই অবস্থা চারিদিকে। মানুষের মাথা আর মানুষের মাথা চারিদিকে। ভুল ভাঙতে অবশ্য খুব বেশি সময় লাগে নি। বিমানবন্দরের ছিমছাম, গোছানো বন্দোবস্তের কারণে খুব অল্প সময়ের ভেতরেই আমাদের সব নিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়ে গেল। এক মাসের পর্যটক-ভিসা হাতে নিয়ে পথে নামলাম প্রতিবেশ দেশ নেপাল খানিকটা ঘুরে-ফিরে দেখার উদ্দেশ্যে।

একই হুড়োহুড়িতে লিপ্ত পিপঁড়ে

সেদিন হঠাত করে কথাটা মনে পড়লো। লেখালেখির অপচেষ্টা করা হয় না অনেকদিন। আদ্যিকালে এই নামেই অভ্যাসটাকে নির্ণয় করেছিলাম। সেই কালে কখনো এমনও হয়েছে যে টানা প্রতিদিন লিখেছি। দিনে একাধিকবার লিখেছি। ব্লগে যদি কখনো দিনে একাধিকবার লেখা প্রকাশের দরকার পড়তো তাহলে পূর্বে খানিকক্ষণ নিজের সঙ্গে যুদ্ধ হতো। কেন একাধিকবার প্রকাশের দরকার পড়লো সেই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে। কেননা নিজের প্রতি নিজের এক ধরনের মায়া মানুষের কাজ করেই। যার ঊর্ধ্বে ওঠাটা মোটেই সহজ নয়। তাই নিজের কাছে ভাল লাগলেও, আদতেই দু'টো লেখা একদিনে প্রকাশের মতো ভাল কি না- সেই প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি ছিল। জেনেও অবশ্য কিছু যেতো বা আসতো না। লেখা খারাপ হলেও প্রকাশ করে দেওয়া হতো। আদ্যিকালে শিশুতোষ আচরণেই জীবনযাপন করতাম।

শঙ্খচূড়া তখন আপনমনে কি ভাবছিল

রাতের আঁধারে পদ্মার ঘন কালো জলরাশির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়ছিল শঙ্খচূড়ার সেই চুলগুলি। যার মায়ায় আক্ষরিক অর্থেই সাত সমুদ্দুর পাড়ি দিয়ে ছুটে এসেছিল আনন্দধারা। কার কোথায় জন্ম, কোথায় বেড়ে ওঠা জানা ছিল না তাদের কারোই। শুধু এক মহাজাগতিক মাহেন্দ্রক্ষণে একটি দশমিকের-পর-অযুতসংখ্যক-শূন্য-বসিয়ে-লেখা-এক-শতাংশ-সম্ভাবনা সমুদ্রের গভীর তলদেশ থেকে বুদবুদের মতো উঠে এসে ফেটে পড়েছিল তাহিতি দ্বীপমালার ক্ষুদ্র একটি অংশ, যাকে দ্বীপও বলা যায় আবার সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা চরও বলা যায়; তার জনমানবশূন্য সৈকতে।

গল্প: চাঁদের আলোয় গ্রাফিতির নিচে দেখা রক্তলাল চুলের ওই গথিক মেয়েটি

১.
সেদিন ভোরে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। ভোরে ঘুম থেকে হাঁটতে বের হবো- এমন একটা কথা কয়েক বছর ভাবার পর, সেদিনই প্রথম সেটিকে কাজে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছিল। অন্ধকার ভোরে পথে নামার আগে একটু দ্বিধা কাজ করছিল কিন্তু বাসা থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক ঝাপটা মুক্ত হাওয়া সব দ্বিধা-দ্বন্দ উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। শীতের শুরুতে যেভাবে বার্চের সব পাতা ঝড়ে যায়।

প্রত্যেকবার শীতের শেষে যখন নতুন পাতা গজায় আশপাশের সব গাছগুলায়- তখন আমার কেন যেন চোখটা ফেটে জল বের হয়ে আসতে চায়। চোখের পাতা টান টান করে রেখে আর বারবার ঝাপটিয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা করি। তাতে করে শেষ রক্ষা যে হয় না, তা না। তবে এক ফোঁটা জলের একটা ধারা ঠিকই চোখ থেকে গাল বেয়ে নেমে যায়, আমি টের পাই।

খেয়াঘাটে হারানো ডিঙি

১.
জীবনে যে কাজগুলো করা হয় নি এখনো, তার অন্যতম হচ্ছে উত্তরে গিয়ে রাতের আকাশে অরোরা দেখা। উত্তরে বলতে নরওয়ে কিংবা সুইডেনের দিকে। ওখানে গিয়ে পাহাড়ের ঢালে কোন একটা নির্জন কুটিরে বসে, বিটলবণ মেশানো দুই কাপ লেবু চা হাতে গভীর রাতে আকাশে রং-বেরংয়ের আলোর নাচন দেখতে পারলে ভাল লাগতো।

বুনো ব্ল্যাকবেরী পেড়ে খাবো পাহাড়ে ওঠার পথের পাশে বেড়ে ওঠা জঙ্গল থেকে

ঠান্ডা হয়ে আছে চারিদিক। ভীষণ ঠান্ডা। বৃষ্টির তীক্ষ্ণ ছাঁট ঠান্ডাটা বাড়িয়ে দেয় আরো বেশি। যেন ডীপ আর নরমাল ফ্রীজের মাঝামাঝি কোন একটা লেভেলে বানানো আইসক্রীম। সর্বোচ্চ ঠান্ডায় ট্যাপের পানি হাতের ওপর ছেড়ে রাখলে একটু পর থেকেই হাত অসাড় ও রক্তশূন্য হয়ে আসতে শুরু করে। তাড়াতাড়ি নবটা গরম পানির দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে হাত যে সচল আছে তা নিশ্চিত হতে হয়।

আইসক্রীম খাই না অনেক দিন। ইলমিনাউ স্কুলে পড়াশুনা করার সময় মাঝে মাঝে স্থানীয় আইসক্রীম কোম্পানি, যেগুলো প্রায় পারিবারিক ক্ষুদ্র কিংবা মাঝারি ব্যবসাই আসলে, নিজেদের আইসক্রীম ভ্যান নিয়ে হাজির হতো। বাচ্চাদেরকে ঠান্ডার ভেতর আইসক্রীমের লোভ দেখানোর জন্য। আমি ছিলাম সেই বাচ্চাদেরকে তালিকায় প্রথম। আইসক্রীমের ভ্যান হাজির হলেই আমি গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে পড়তাম। ভ্যানওয়ালা হেসে বলতো, আরে, ভ্যানটা সেট করার সময় তো দেবে!

কবিতা: অনেক ভাল রেখেছো তুমি আমায়

আমার প্রিয় উপন্যাস কি ছিল জানতে?
লা মিজারেবল।
প্রিয় কবিতা?
হায় চিল।
প্রিয় গান?
চন্দ্রবিন্দুর 'আমার ভিনদেশি তারা'।

হালের ভিনদেশি তারা-টা না কিন্তু।
ওই ভার্সনটা আমার ভাল্লাগে না একটুও।
আমার ভাল লাগে কোনটা জানো?
আমার ভাল লাগে পুরোনো ঢিমেতালের
সেই আসল ভার্সনটা।
খুব একটা হাহাকার আছে ওই ভার্সনটায় জানো? নতুনটায় নেই।

আর আমার সর্বকালের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা
কে ছিল জানতে?
যার কাছে নিজেকে কষে বিলিয়ে দিয়েছিলাম?
যার জন্য সকাল দুপুর সন্ধ্যা এক করেছিলাম?
যাকে ভালবেসে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম?
সারা পৃথিবীকে একঘরে করে দিয়েছিলাম যার জন্য?

থাক্ সেসব শুনে কাজ নেই।
তুমি বরং বানানো কথা শোনো,
অনেক ভাল রেখেছো তুমি আমায়,
অনেক ভাল।

---

(০৮:০০ অপরাহ্ন, ০৫.০৯ ২০২৪ ইং)

কাক ও দুঃখ

কাক
পৃথিবীর অন্য পাখিদের চেয়ে অন্যরকম।
আমরা কালো, কুৎসিত কতো কথাই না বলি।
কাক
কি সেটা জানে?
আমাদের বাসায় একবার কুকি নামে একটা কাক এসেছিল।
ওকে দেখে মনে হয় নি সেটা জানে।
দুঃখ
পৃথিবীর অন্য অনুভূতিগুলোর চেয়ে অন্যরকম।
আমরা কষ্ট, বেদনা কতো নামেই না ডাকি।
দুঃখ
কি জানে সেটা? আমার কাছে হারানোর নামে একবার দুঃখ এসেছিল।
দুঃখ কেমন বা কতটা সর্বনাশী আগে বুঝি নি।

---

তুমি দয়াময়ী হইও রে বন্ধু, ছাড়িয়া না যাইও

আসমানে যাইও না বন্ধু
ছুঁ'তে পারবো না
পাতালে যাইও না বন্ধু
ধরতে পারবো না

বন্ধু যখন একবার চলেই যায়, তখন সে কোথায় গেল সেটার কি আর কোন গুরুত্ব থাকে? হয়তো ভাল আছে কিনা ইত্যাদি জানার একটা তাগিদ থেকে খানিকটা গুরুত্ব থাকে। সেটাও মানুষ ও অবস্থাভেদে। কিছু কিছু সময় বন্ধু এমনভাবে চলে যায় বা যেতে বাধ্য হয় যখন আর সেই তাগিদ মেটানোরও কোন উপায় থাকে না।

জীবনটা যে শরীরের ভেতর বন্দি, সে শরীরের ভেতর বিশাল একটা ব্যাথার দলা জমে থাকে শুধু। ব্যাথাটা যে ঠিক কোথায় থাকে কেউ বলতে পারে না। বুকে, না মাথায়, না শরীরের অন্য কোনখানে- তা বোঝা যায় না। বিজ্ঞানীরা বলেন, সবই মস্তিষ্কের খেল! তাই হবে। বিজ্ঞানীরা তো না জেনে শুনে, কিংবা গবেষণা না করে কিছু বলেন না।