হ য ব র ল - ১
ভাবনা’র কোন শেষ নেই। আর সেই ভাবনা গুলো যদি হয় এলোমেলো তাহলে তো আরো শেষ নেই।
এমনই অনেক অনেক ভাবনা অনেক সময় মনে এসে ঘুরে ফিরে যায়। অনেক সময় কিছু কিছু ভাবনা’র উপর ইতিহাস লিখে ফেলার কথা ভাবি। কিন্তু, প্রায়ই ইতিহাস লেখা’র মত সময় আমার হাতে থাকে না। না, আমি মহা ব্যস্ত না। কিন্তু তবুও আমার দিনের সময় গুলো কিভাবে যে মিলিয়ে যায়, নিজেও বুঝিনা। তারপরেও যখন একটু সময় বের করে লিখতে বসি, তখন আবার ইতিহাস তো দূরের কথা ৪-৫ লাইনের বেশি লিখতেই পারিনা। লেখা এত্ত ছোট হয় যে সেটা একটা ব্লগ আকারে দিলে মানুষ আমারে দৌড়ানি দিবে।
আবার ভাবনা গুলো না লেখা পর্যন্ত একটু পর পর এসে মাথায় উকি দিয়ে যায়।
১। মানুষ “দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝে না”। এ কথা’র মত চরম সত্য কথা মনে হয় এই পৃথিবী’তে কমই আছে। ২৩টি বছর বাবা-মা’কে সর্বক্ষন কাছে পেয়েছি। কিন্তু কখনো তাদের’কে আলাদা ভাবে একটু সময় দেয়ার কথা ভেবেও দেখিনি। এখন যখন আর সর্বক্ষন কাছে থাকার সুযোগ নেই, এখন ক্ষনে ক্ষনে উপলব্ধি করি, “বাবা-মা’কে আলাদা ভাবে সময় না দেয়া’টা আসলে আমার জীবনের কত বড় অপ্রাপ্তি”। তাই এখন যখনই নিজের সময় গুলো থেকে একটু সময় বের করতে পারি, সব ফেলে আগে বাবা-মা’র কাছে ছুটে যাই। এই ছুটে যাওয়া’তে যে এত শান্তি তা আগে কেন বুঝলামনা, এটাই আমার আফসোস।
আচ্ছা, ঋহান যখন নিজে নিজে সব কিছু করা শিখে যাবে, তখন কি সে-ও আর আমার কাছে ছুটে আসবে না? আসবে তো না-ই। কিন্তু এটা ভাবতে গেলে তো ভেতর’টা এলোমেলো হয়ে যায়। না জানি আমরাও আমাদের বাবা-মা’র ভেতরটা’কে কত বার এভাবে এলোমেলো করেছি।
২। ঐদিন আমার আব্বা’র এক চাচাতো ভাই হঠাৎ করেই মারা গেলেন। আব্বা'র আপন চাচাতো ভাই। বয়সে আব্বা’র চেয়ে অনেক ছোট। চাচা’র ছোট বাচ্চাটির বয়স কয়েক মাস। চাচা’র মৃত্যু সংবাদ’টা ছিলো একটু অন্য রকম। যে মানুষ’টি সকাল পর্যন্ত সুস্থ ভাবে বাসা থেকে বের হলেন সে হঠাৎ করেই স্ট্রোক করলেন। কিন্তু চাচা স্ট্রোক করে সাথে সাথে মারা জাননি। উনি নিঃশ্বাস নিচ্ছিলেন। তাই উনাকে ধরে টরে এক হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। ডাক্তার’রা বললো, "উনি ক্লিনিকালি ডেড"। তারপরও উনাকে তিনদিন আই.সি.ইউ তে রাখা হলো। তিনদিন যাওয়ার পর ডাক্তার উনাকে বাড়ি’তে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলো। কারন, মিরাকেল ছাড়া উনি তো আর ফিরে আসবেন না, তাই বেটার উনাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া। ডাক্তার বললো, বাড়ি নেয়ার পর উনার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হবে। উনার বাড়ি’তেই উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করুক। কথা অনুযায়ী উনাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো। উনার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়ার সময় ডাক্তার বললো, “উনি আর বড় জোড় ১৫মিনিট বাঁচবেন”। ভাবতে পারিনা এই কথা শুনার পর উনার সামনে উপস্থিত স্বজনেরা নিজেদের কিভাবে সামলে ছিলো। উনার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হলো। ১,২........... ১৫ মিনিট গেলো, চাচা তখনো বেঁচে আছেন। এক পর্যায়ে কয়েক ঘন্টা অতিক্রম হয়ে গেলেও চাচা নিঃশ্বাস ফেলছিলেন। এদিকে আমার আব্বা একটু পর পর ফোনে চাচা'র খবর নিচ্ছেন। এই খবর শুনে আব্বা উনাদের জিজ্ঞাস করলো, "ডাক্তার চাচা'কে কোন খাবার দিচ্ছে কিনা?" উনারা উত্তর দিলেন "না, ডাক্তার তো বললো উনি সাথে সাথেই মারা যাবেন"। গ্রামের মানুষ উনারা কি আর অত কিছু ভাবে? উনাদের বলা হলো চাচা’কে কোন খাবার দিতে। খাবার তো না, স্যালাইন দিতে। কিন্তু, ডাক্তার এর যেহেতু ধারনা ছিলো উনি ১৫ মিনিটের মাঝে মারা যাবেন, তাই তারা অরকম কোন বন্দবস্ত করে আসেনি। সেই বন্দবস্ত করতে বাড়ি থেকে লোক পাঠানো হলো ফার্মেসি’তে। কিন্তু, তারা বাড়ি ফিরে আসার আগেই চাচা বুঝি তাকে এতক্ষন খেতে না দেওয়া’র জন্য “আর কোনদিন খাবোনা” বলে রাগ করে রইলেন। আর উনার এই রাগটা যেন তেন রাগ না, এই রাগ আর কোনদিন কেউ ভাঙ্গাতে পারবে না।





২ নম্বরটা পড়ে মন খারাপ হলো।
তবে লেখাটা হৃদয়ছোঁয়া হয়েছে। আমি আক্ষরিক অর্থেই দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা বুঝতে পারছি না।
কিন্তু যখন বুঝতে পারবেন তখন যে বড় দেরী হয়ে যাবে।
ব্লগের আজকে কি হৈছে? এত এত সুন্দর লেখা!
আর ঋহানের দাঁতের মর্যাদা কিন্তু তোমাকে দিতেই হবে
ঋহান তোমাকে এলোমেলো করবে না, দোয়া করে দিলাম
দ্বিতীয় ঘটণাটা পড়ে আমারও মন খারাপ লাগলো। এভাবেও হয়!
ঋহান ফুপুদের কাছে দাঁতের মর্যাদা চায়।
ঋহানের মামা কুতায়? আর টুটুল বাপেইবা কি করে? ফুপুরা শুধু খাবে। পিঠা-পুলি ঋহানের মামী আর মা বানাবে
হ। দুনিযাতে ফুপুদেরই তো কদর বেশী।
ফুপুরা খাবে। কিন্তু খালা'রা তো আর শুধু খাবে না, নিশ্চই ঋহানের মা আর মামী'কে হেল্পও করবে, তাইনা?
তাইলে ওটাই ঠিক থাকলো, এবি'র সকল ব্লগার'কে আজ থেকে ঋহান খালা-মামা ডাকবে। নো ফুপি, নো চাচ্চু
দোস্ত আমারে কি ডাকবে সেটা দোস্ত ঠিক করবে কিন্তু আমি আপনারে ভাবী ডাকুম এইটা ফাইনাল।
সুন্দর লেখা কিনা জানিনা, তবে আমিও খেয়াল করলাম একের পর এক তিন'টা লেখা এলো প্রথম পাতায়।
সেটাই যেন হয়, আমিও দোয়া করি।
হলো তো
দুর, সবাই দেখি মরন নিয়া লেখতেছে !
আমারও মনটা ভাল নেই। সেদিন রক্ত দেয়া ছেলেটা গত পরশু সকালে মরে গেল...
আচ্ছা মানুষ মরে কেনো ?
মানুষ আসলে মরে গিয়ে-ই বেঁচে যায়
পড়লাম।... কীই-বা বলা যায়!...
মৃত্যু...
মানুষের নিষ্ঠুর নিশ্চিত গন্তব্য...
হুম
প্রকৃতির কি প্রহসন!! ২ নম্বর পড়ে সত্যিই কষ্ট পেলাম । আমি আব্বু আম্মুর কাছে থেকেছি মাত্র ১৭ বছর!! প্রথমে খুলনা পরে ঢাকা, আমার আহ্লাদ, আবদার সব শেষ করে দিছে
। বাড়ি গেলে আর আসতে ইচ্ছা করে না
( ।
পর্বটা নিয়মিত লিখিস ।
অবশ্যই চেষ্টা করবো
ভালো থাকিস!
সিরিজটা চলুক, তবে সবটা মন খারাপ করানি কথা যেন না হয়...
আরে নাহ! আদৌ কোনটার সাথে কোনটার মিল থাকবে কিনা, জানিনা। দেখা যাক
আমি কিন্তু ঋহানের একমাত্র মামা এখানে
আরেএএএ ভাইয়া


আপনি তো একমাত্র মামা বটেই, কিন্তু পিঠা খাবে সবাই আর খাটবো খালি আমি আর ভাবী?
এই জন্য পিঠা খাওয়া শেষ হওয়া অবধি সবাই মামা আর খালা বনে থাকুক, যাতে সব মামা'র বউ'রা আর খালা'রা পিঠা বানানোতে হেল্পায়
নাজ, চাচা যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন
মন্তব্য করুন