ইউজার লগইন

শামান সাত্ত্বিক'এর ব্লগ

আত্মজা

বিড়ালটা আসে। একে তুলতুলে বিড়াল বলা যায় যতটুকু, তার চেয়ে বেশি আদুরে। হাঁ, হৃদয়টাতে আঁচড় ফেলতে পারে সে। তার নখের আঁচড় কখনোই আমার উপলব্ধিতে ছিল না। সে কোলেও আসে না। গুটি গুটি ছুটে বেড়ায়। আমার দিকে যে তার মনোযোগ, সেটা বুঝে উঠি বলে, এক পরাবাস্তব বোধে আমি আচ্ছাদিত হই। সে আমাকে ছুঁয়েও ছোঁয় না। যেন মিটিমিটি হেসে উঠছে। আর দিনকে দিন এক প্রিয়তা এসে আমাকে মোহাচ্ছন্ন করছে। সে আমার হৃদয়ে দড়ি পেঁচিয়েছে।

একদিন বসেছিলাম বারান্দার আড়ালে। তখনো সাঁঝ সাঁঝ নামেনি। একটা চটুল জিজ্ঞাসায় তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মনে মনে বললাম, কে গো তুমি। সে হাঁটু তুলে বসেছে যে! আমাকে খুনসুটি করতে দিতে নারাজ। কি হচ্ছে, তার নাকে-মুখে-চোখে? সে একটুও উত্তেজিত হতে দিতে চায় না কাউকে। মোহাচ্ছন্নতা কাটুক, আমিও কি তা চাই? বিস্ময় কেটে যায় আমার। আরে, এতো দেখি আমারই আত্মজা!

গরম-গরমির কাব্য

দুর্দান্ত কিছু সৌন্দর্য নিয়ে ঘেরা থাকে দুপুরের রোদ
তখনও ঘামাতে থাকে অফিস পাড়ার অট্টালিকাগুলো
গাল-মন্দ শোনা যায় দূর রাস্তার পাশের হকারগুলোর
তারা নগর কর্তৃপক্ষের শাপ-শাপান্ত করছে
কেউ কেউ আবার ভাজা চিঁড়া গিলে খাচ্ছে

এমন সময় রাস্তায় গাড়িগুলোয় সপাটে আঘাত শোনা যাচ্ছে
ঝনাৎ ঝনঝন ভাঙ্গে কাঁচ
কে যেন ছুটে এসে ছুঁড়ে তরল
আর দেয় আগুন তাতে

রাস্তা ঝিমিয়ে পড়ে
ঝিমিয়ে পড়ে অট্টালিকাগুলো
গভীর রাত হলে বমিতে বমিতে সয়লাব ফাঁকা রাজধানীর রাস্তা।।

ভ্যাপসা গরম, ঘুমানো কি যায়?
বাতাস কিনবো বলে বাসা থেকে বেরিয়েছি
কোথাও মিললো না একটু বাতাস।
শুনছি চাষাবাদ হবে এবার।
বাসা বাড়ির আশে-পাশে।
মাটি থেকে বাতাস জন্মাবে
বাতাসের রুপ কতই দেখিতে চাহিয়াছি আমি...
শুধুই গন্ধ আসে
বাতাস বাতাসা নয়।

অনৈসলামিক স্ট্যাটাস - ২

জাকারবার্গ, এদেরকে মুরতাদ ঘোষণা করুন!

কোন কিছুকে থিওরাইজ করতে পারাটা চমৎকার একটা ব্যাপার। তাতে আপনার লেখার কদর বাড়বে নিঃসন্দেহে। আপনার লেখার দীর্ঘায়ু হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। পন্ডিতেরা, সাধারণতঃ একাডেমিক পন্ডিতেরা তা করে থাকেন খুব বেশী। তবে তারা কিন্তু পান্ডিত্য প্রমাণের জন্য তাদের পান্ডিত্যভরা লেখাগুলোকে সেরকম উঁচু দরের জার্ণাল-ম্যাগাজিনে পাঠান। এতে করে লেখকের থিওরীটাও আগা-পাছ-তলা বিচারে তুমুলভাবে তুলোধুনো হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। যা টিকে থাকার বা যার ভেতরে মাল-মশলা আছে, তা ঠিকই টিকে যায়। ফলশ্রুতিতে ওজনদার (higher impact factor) জার্ণাল-ম্যাগাজিনে লেখাটি প্রকাশিত হয়। এইভাবে কোন নতুন তত্ত্বকথার মূল্যায়ন হয়। কিন্তু যে লেখার ভেতরে জোড়াতালি আছে, বা ফাঁকা আওয়াজ ছাড়া কিছু নেই, সেটা টিকে থাকে না, জুরির বিচারে।

বিষন্ন সৈনিকগুলো সারি সারি

সারি সারি বিষাদের আলনা
স্থির-নিশ্চুপ সময়গুলো
কাঁচের চৌকোণো আধারে বিরুপ উষ্ণতায় মিইয়ে মৌণ
চোখ জুড়িয়ে দেয়া ঘ্রাণ নেই
নাকি-কান্নায় মোচড় দেয়

অতৃপ্ত আত্মা চিরকালের শুভানুধ্যায়ী
মুক্তির মন্ত্রের উচ্চারণ থেমে নেই
আমি তার প্রাণের সুরে সুর মেলাতে গিয়ে
স্তব্ধতায় দ্বিগুণ বিস্ফারিত হয়েছি

আতংকিত সেনারা রাস্তার দু'ধারে দাঁড়িয়ে
তারা প্রমাদ গুণছে বিষন্ন গোধূলি আলোয়।

গোলাপী চাদর

একটি গোলাপী চাদর গায়ে জড়িয়ে
যেই নেমেছি অতল সাগর তলে
কিছুই ভেজেনি
ভিজেছে শুধু হৃদপিন্ড, সেখানে জল।

আরো গভীরে ভেসে যেতে চেয়েছি আমি
নভোমন্ডলে, অরণ্য গহীন আঁধারে
সেখানে চোখ মেললেই দেখি
হরিণী শাবক, রুপোলী ঘোড়-দৌড়।।

মিষ্টি মিষ্টি কষ্ট কষ্ট

মেঘলা আকাশ
বৃষ্টি নামবে আজ
ঢেউ তুলো তুমি ঘূর্ণিত ছন্দে।

ঘনীভূত অন্ধকার ফিকে হয়ে এলে প্রভাত আলোর
রুপের সাথে তোমার মিলটি খুঁজি

হে দীর্ঘকায়া
কত হবে সঙ্গিন
এই মায়া রঙিন
বসন্ত বিনম্র ছায়া।

ট্রেন এসেই প্লাটফর্ম থেকে কুড়িয়ে নিলো তাকে
ফিরে তাকালো না পেছনে একবার
দৃষ্টি অসহায় মৌণ-বাক
হৃদয় বীণায় তার ছিঁড়ে যাক।

হৃদ-কাব্যে তুমি জড়িয়ে গেলে
পীনোন্নত বক্ষে ভরে উঠে কবিতা
আম-আঁটির ভেপু বাজে রসালো
মিলে মিশে ভাসে সব একাকার।।

জলের সিঞ্চন শোনা যায়

কিছুই ঘটছে না, ঘটে না
আন্দোলন কোথাও কোন
মেঘ উঠে না, রৌদ্র পড়ে না
শুধু জলের সিঞ্চন শোনা যায়

দ্বিপ্রহরে দোলে দোলনায় দোলাচলে
শান্তির নিমিত্ত দাপাদাপি
খেয়ে ফেলে যদিও লেলিহান অনল

গালে প্রজাপতির ছাপ মেলে
ঠোঁটে ধরে মৃদু হাসি
দৃষ্টি গভীর তলে শুয়ে ঘুমন্ত
সে অপার সৃষ্টি।

টোকা দেবো বলে যেই
পরিয়েছি নূপুর পায়
মুক্ত চরাঞ্চলে পূর্ণিমায়
তখন নীরব নদীও ঘুমায়

সে জেগে উঠুক সুনিপুণ সুদৃঢ়তায়।।

আরশোলা জন্ম

অবিন্যস্ত শরীর খুঁজে নেয় কবর অন্ধকারে ঠাঁই
নড়ে চড়ে কেঁপে উঠে
তৃষ্ণায় দগ্ধিত দেহ প্রাণ
মৃত আত্মার গোঙানী ধীরলয়ে মায়।

ওখানে প্রাণের স্পন্দন কি ছিল কখনো?
চোখে পড়ার মত কি কিঞ্চিত লাবণ্য?

ওখানে জন্মেছিল ক্ষুৎ-কর্মী বিদঘুটে বড় বিপন্ন আরশোলা কতক
কাছে এলেই মৃত্যু উড়ে আসে তারা - বিরতীহীন কর্ম-বিভা
অন্ধ অবচেতনে খায় খাবার ক্ষুদে ক্ষুদে খুটে খুটে নীরব
বড় বিচ্ছিরি তাদের দেখাতো বিচ্ছিরি তাদের ভাষ্য ও ব্যাকরণ

তারা না মেরে মরে -
আগুণ লেলিহানে
প্রকান্ড প্রস্তর খন্ডে।।

শাহীনা

মরণ শব্দটা জীবনের সাথে জুড়ে দিলো কে
শাহীনা তুমি যে নও
এ সত্য উচ্চারণে দ্বিধাগ্রস্থ কি

কান্না যদি জীবনের সুর তুলে
তবে মৃত্যুতে ব্যথিত কেন বলো
নিদারুণ সব কান্নাকে স্পর্শ করেছো শাহীনা
তুমি জেগে গেছো জেগে গেছো জেগে গেছো।।

একজন ফরহাদ মজহার এবং অনৈসলামিক রাজনীতি - এক

আমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিষ্টের একজন বন্ধু গোত্রীয় Farhad Mazhar নামে অন্য একজনের স্টেটাসের লাইক দেয়ার সূত্র ধরে আমি সে স্টেটাসটা একটু পড়ে দেখি।

লোকটার স্টিটাসটা পড়লাম। পইড়া মনে একটা প্রশ্নের উদয় হইলো। তার আগে কই, উনি ঐ স্টিটাসে অনেক কতা লিখেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু তুলে ধরলাম:
"আমরা চিৎকার শুরু করি তের দফা মানা যায় না। ফলে ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানের মোড়কের মধ্যে এই মানুষগুলোর (হেফাজতে ইসলাম) নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদ্বিগ্নতা আমাদের কানে এসে পোঁছায় না। কারন এদের আমরা মানুষ বলেই গণ্য করি না। আমরা আগেই প্রচার শুরু করি বাংলাদেশ তালেবান হয়ে যাচ্ছে।"

স্টিটাসটাতে আরো অনেক কতা আছে। এর আগে লেখা আছে,

অনৈসলামিক স্ট্যাটাস - ১

ব্লগ বন্ধ এবং ব্লগার গ্রেফতারের প্রতি উত্তর

যে সব মাদ্রাসায় সহি ইসলাম চর্চা হয় না, মওদুদী ইসলাম চর্চা হয়, বিতর্কিত শরীয়া আইন ও ফতোয়া সম্পর্কে উৎসাহিত করা হয়, সেসব মাদ্রাসা বন্ধ করা উচিত। সেসব অনৈসলামিক শিক্ষক মাওলানাদের মোনাফেক বা মুরতাদ ঘোষণা করা উচিত। বাংলাদেশের প্রতিটি মাদ্রাসায়-মসজিদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সঠিক শিক্ষা দেয়া হয় কী না, তা দেখার জন্য শাহরিয়ার কবীর, মুনতাসীর মামুন, এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ব্লগারদের নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি কমিটি করা হোক। কেননা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের করুণ ইতিহাস বলে, '৭১-এ প্রায় সব ইসলামী দলই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সমর্থনে ছিলো। এমনকি তারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যা এবং নারী ধর্ষণ প্রকারান্তরে যায়েজ মনে করেছিলো। তাছাড়া সম্প্রতি শহীদ মিনার ভাঙ্গা এবং জাতীয় পতাকা পোড়ানোর মত ঘটনাও ঘটেছে।

ভ্রান্ত সময়ের প্যাঁচা ও প্রজাপতি

নিষিদ্ধ পুরীতে ঢুকে গেছি আমি
নিষেধের মাথা খেয়ে
তারপর নিষেধ এসে বারণ করেছে আমার ভ্রান্ত-মাত্রাতিক্রমে

আমি চাদর গলিয়ে দিয়েছি ঘাড়ে
উত্ত্যক্ত শীতের প্রহেলিকা ঘিরে
এখনো সমুদ্র কুয়াশায় মেলে ঠোঁট
নাক ডুবে নিয়েছি শ্বাস
আহ্‌ তার চিৎ হয়ে থাকা উলঙ্গ শবের জীবন্ত সংস্পর্শ
আমাকে করেছে পাথর

আকাশের তারার সাথে শত শত বিভোর চুমু
মেখেছি অংকশায়িনীর সুডৌল সরোবরে
পালিয়ে বেড়িয়েছি অতঃপর
বৈশ্বিক শহর ও শহরতলীর আনাচ-কানাচ গলি-ঘুপছি

শপথ করেছি
যাবে না থেমে কখনো কোন
পাখির সরব কেচ্ছা গান
ভ্রান্ত সময়ের যাদুঘর জুড়ে
ছুটোছুটি ওতপ্রোত প্যাঁচা ও প্রজাপতি।

নিষিদ্ধ হয়ে গেলে সংগম

গভীর যাতনা নিয়ে পথ হাঁটতে শুরু করেছিলো সে
কিন্তু ক্রমাগত বেড়ে গেছে তার চলার স্থিরতা
এক এক করে দীর্ঘ পদক্ষেপে মেয়েগুলো তাকে অতিক্রম করছিলো
তারাও ফুল ফুটবে বা ফোটাবে বলে এক চঞ্চল ছন্দকে বেছে নিলো

জানলাম প্রথম আমি আজ, রাতেও চড়ে কবুতর আলোর রাস্তায়
তারাও খুঁজে খুদ পানি জেগে রাত অথবা
জীবনের এক অপ্রাকৃত হাতছানি নিসর্গ নমিত করে দেয়
তার বুকের স্পর্শ কোমল পেতে আঁকুপাঁকু করছিলো মন।

একদিন দাবায় নিবদ্ধ থেকে অনুভব আসে তড়িৎগতি
কে যেন জালের ওপার থেকে বাড়িয়ে হাত কোমলমতি
তার কড়ে আঙ্গুলের স্পর্শ পেয়েছি আমি আলতো যতি

নিষিদ্ধ হয়ে গেলে সংগম বেলা শেষের উদগ্র বাসনা ধিকি ধিকি জ্বলে উঠে
তুমি ন্যাংটো ইঁদুর হয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়িও না।

[২০১২-র শেষ দিবসে লেখা কবিতা]

জমিতে ধরে লাঙ্গল

কয়েকটা কাক উড়ে গেলে কারো কিছু হয় না
হয় না কোন নিকষ কালো আঁধার
বস্তিতে বসে বসে যখন তসবী গোণে বুড়ি

ওঃ তাকে অশরীরী লাগে এক
সে এক বুড়ি, শনের মত চুল
পরণে শ্বেতম্বরী থান

যখন কলের তলে কলসিতে পানি ভরতে থাকে মইত্যার মা
পাশ দিয়ে রাস্তায় হেঁটে যেতে যেতে
কাশেম বৌয়ের সুঠাম উদোম শরীর দিকে
তাকায় সম্ভ্রম ভরে রহম মাষ্টার -
মাষ্টারই সে জানে
মতির মার ফুরসত কই তাকাবার, কোন এক দিকে শুধু একটিবার -

বুড়ি তসবী গুণেই চলে
তার পিচ্চি নাতি বাইরে উদোম ন্যাংটো
কাশেম মুখোমুখি দাঁড়ালে অনতিদূরে তার সন্তান -
বিঘা বিঘা জমি একর পর একর প্রান্তর বিস্তীর্ণ বিশাল, কাশেম
কোপাতে থাকে, কোপাতে থাকে জমি ক্ষিপ্রহাতে ধরে সে লাঙ্গল।

বৃশ্চিক গতি

চাঁদ থেকে গড়িয়ে পড়া খেঁজুরের রসে সিক্ত হলে তুমি
এতগুলো দরজা খোলা রেখেছো ছয় কামরার বিশাল বারান্দা জুড়ে
বাবুই পাখির ঘরের সুখ উড়ে গেছে জলে হাওয়ায় মিশে

সমুদ্র ফনা তুলে, ভেসে আসা ফেনা বালুর সৈকতে গা এলিয়েছে
কিছু পোকাও কাঁকড়ার মত বালুজলে সর্বসুখে মধুর ধেয়ে চলছে
তারা আজ নৃত্য করবে গারো মেয়েদের শ্যামল পায়ের তালে তালে।

আমাকে স্থান দেবে না উৎসবে, জলের অতল পুরীর গোপন নারীর নির্দেশ
ধরার ঘাসকে স্পর্শ করে গেলে আমার পাপের বোঝা হবে আরো গভীর
চাপিয়ে দেয়া হরতালের মতই আমার সব কিছু নিষিদ্ধ হয়ে গেছে রে
আমি আর জলে নেমে ডুবে মরে যাবো কি করে তবে
বৃশ্চিকেরা মার্চ করে এগিয়ে আসছে ঘাড় শুষে রক্ত টেনে নেবে বলে।

বিষধর গোঙ্গানী

বিধ্বস্ত হতে চেয়েছিলে তুমি রক্তিম সান্ধ্য আঁধারে
কাব্যনন্দিত সম্ভাষণ।
কালের কন্ঠ চেপে এলে
পাখিরা সব জড়ো হয়ে তোমার দু'চোখে আবার
ঝাঁক বেঁধে উড়ে গেছে একত্রে

তুমি স্পর্শহীনই হয়ে রইলে

আবার কবে যে কোথায় রজনীগন্ধার ঘ্রাণ শুনে
বিষধর সাপ গোঙ্গানী দেবে হিসেব করে দাওনি এখনো।

রাত্রি জাগা বিকেল সহসা মিলিয়ে গেলে
বাচ্চাদের হৈ-হল্লা কানে এসে লাগে না …

জানি না বোকা।

হে অজ্ঞ, প্রণয়-প্রবণ!

লুক্কায়িত আছো তুমি আঁধার-স্বপ্ন ভেঙে
কেন মিছে মুছে নিয়েছো দীর্ঘশ্বাস?
ছড়িয়ে ছিটিয়ে কোমল রোদ
জ্বালা বুকে উঠে আসে
তুমি কি মিথ্যার লোবানে নিয়েছো শপথ?
নিষিদ্ধ তারকারাজি খসে পড়ে মলয় দৈবাৎ।

এমন ব্যর্থ স্নান হৃদয় রসে ভরে
কেন ছুটে গেলে বিধুর দূরন্ত প্রতাপ
ক্ষণিক জেগে উঠে আবারও করো যদি গভীরে ভ্রম
উত্তর জানা নেই তার আর
হবে সুদূরে গহীন বিভাজন -
হে অজ্ঞ প্রণয়-প্রবণ!