ইউজার লগইন

শাশ্বত স্বপন'এর ব্লগ

ধারাবাহিক রম্য নাটিকা--'অকার্যকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার'

যখন কমরেটদের হাতে লেখা পোষ্টার, আঁঠা আর হারিকেন নিয়ে অন্ধকারে আলোর খুঁজে বের হতাম, বিশ্ব বেহায়া এরশাদের ভূয়া গণতন্ত্রের পাছায় লাথ্থি মারতাম আর শ্লোগান করতাম, তখন আমার বিদ্যার জোর ৬ষ্ঠ কি ৭ম শ্রেণী হবে। কিন্তু গান, কবিতা, নাটক আর বই নিয়ে শ্রেণী সংগ্রামের আন্দোলনে ছিলাম বয়সের তুলনায় খানিকটা এগিয়ে। সেই সময়ের রাজনীতিবিদদের নিয়ে রচনা করেছিলাম হাসির নাটক ‘পশুদের বিচার’। নাটকের আবেদন মনে হয়, বর্তমানে আরো বাড়ছে। এখনো অপরাধ ধরা পড়ে না, পড়লেও বিচার হয় না।

পড়ুন, ভাবুন--এ দেশের বিচার ব্যবস্থা ছোটদের ধারাবাহিক রম্য নাটিকা ‌'অকার্যকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার' এর মত কিনা।

পূর্ব প্রকাশিতের পর--(শেষ পর্ব)

(পরের দিন-দরবারে হৈচৈ,
হাতির প্রবেশ)

স্টপ্, স্টপ্, স্টপ্
সবাই কর চুপ্
সেনাপতি আজ কোথায়
ময়ূর বলে, আজ ছোট হুজুরের
প্রথম বধূর বিদায়।
জাঁহাপনা, মনুষ্যকূল বড়ই পাজী
ওরা আপনার বিরুদ্ধে
করেছে নির্মম আর্জি।
কলাগাছ কর্তনে
আপনি ঘুরেন বনে বনে
ওদের কথা হল
ওরা হবে আপনার কাজী ।
দেখুন জাঁহাপনা
ওরা কত বড় পাজী।

হাতি বলে, বলে কি?
সেনাপতি নেই, ওরা বিচার করে?
না,না, না...বলে দেন

ধারাবাহিক রম্য নাটিকা --'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার'

(পরের দিন)
স্টপ্, স্টপ্, স্টপ্
সবাই কর চুপ
আমি হচ্ছি হাতি
সবার দেহের চাইতে বড়
তাইতো বিচার পতি।
সবার বিচার করব আমি
হোক না কেহ আমার নাতি।
বটবৃক্ষ হার মেনে বলে
সে নাকি আমার ছাতি
তাহলে নির্বোধ পশুগণ
নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ
আমি কত বড় হাতি।
প্রথমে আমি সেনাপতিকে বলছি,
সেনাপতি, তোমার কি আরজি?

সেনাপতি বলে, পর্বতসম জাঁহাপনা
আপনি জানেন, ছোট বড় সবাই
আমার কাছে একেবারে সমান
তাই এমন কাজ করি আমি
যাতে বিচার পায় সবাই সমপরিমাণ
তাই, আপনার অনুমতি পেলে
শুরু করছি বিচার-

হাতি বলে, হ্যাঁ পেশ কর
তোমার মনের আচার-অনাচার ।

সেনাপতি বলে, ইঁদুর ভাই
তোমার কথা পেশ কর ভাই।
ইঁদুর বলে মহাগুরু
আপনি জানেন, আমি অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র
মনুষ্য জীবের উচ্ছিষ্ট খাবার
গ্রহণ করা বড়ই দুরুহ
তাই মনুষ্য জীবের খাবার
মাঝে মাঝে করি চুরি
তবে তেমন কিছু নয়
শুধু খই, চিড়া আর মুড়ী।

কিন্ত এই বিড়াল গোয়ার
বড় হিংসুটে পাজী,
আমাকে সে দেখলে
হয়ে যায় কাজী।
টেঁনে ছিঁড়ে নাড়ি-ভূড়ি
করে সে বাড়াবাড়ি
আমাদের ছানারা
কেঁদে মরে কান্নায়,
বিড়াল গোয়ার ওদেরও মারে
আমরা যে বড় অসহায়!

হাতি বলে, কি!
এত বড় অন্যায়!

ধারাবাহিক রম্য নাটিকা ‌'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার'

পড়ুন, ভাবুন--এ দেশের বিচার ব্যবস্থা ছোটদের ধারাবাহিক রম্য নাটিকা ‌'অর্কাযকর গণতন্ত্রঃ পশুদের বিচার' এর মত কিনা। নাটকের আবেদন দিন দিন বাড়ছে। এ দেশে এখনো অপরাধ ধরা পড়ে না, পড়লেও বিচার হয় না।

স্টপ্, স্টপ্, স্টপ্
সবাই কর চুপ,
আমি হচ্ছি হাতি
সবার দেহের চাইতে বড়
তাইতো বিচার পতি।
সবার বিচার করব আমি
হোক না কেহ আমার নাতি।
বটবৃক্ষ হার মেনে বলে
সে নাকি আমার ছাতি ।
তাহলে নির্বোধ পশুগণ
নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ
আমি কত বড় হাতি!

প্রথমে আমি গরুকে বলছি,
গরু, তোমার কি অভিরুচি
হুজুর, আপনি নিজেই জানেন
আমি কত উপকারী
করি নাকো কারো ধারধারী ।
অথচ বাঘ কেন আমাকে খায়
আমি যে বড় অসহায়!

বাঘ বলে, হুজুর, আমি খেতে চাই হরিণ
বান্দর বড় মলিন
আগে থেকেই বলে দেয়,
বাঘ আসছে হরিণ ভাই
বাঘ আসছে হরিণ ভাই।

হরিণ বলে, হুজুরগো
এই বাঘকে আমার সবচেয়ে বড় ভয়,
ওর জ্বালা নাহি সয় ।
ছাগল, ভেড়া, ঘোরা বলে, হুজুর
ও শুধু আমাদের সবাইকে খায়।

হাতি বলে, না, না, না-
এটাতো বেশী ভাল নয়
কিহে পেটুক বাঘ,
মাথা নিচু করে আছ কেন ভাই!
বুকে ঠ্যাং দিয়ে বল-
এতগুলো কথার মধ্যে
একটুও মিথ্যা নাই।

বাঘ বলে, জেঁ হুজুর

সিঁদুর রাঙা স্মৃতি

আমি যখন বিয়ে করি তখন আমার বয়স সাত-আট হবে। যার সাথে আমার বিয়ে হয়, সে আমার চেয়ে তিন মাসের ছোট। তার নাম সিঁদুর। তখন বিয়ে জিনিসটা নিয়ে সিরিয়াস কিছু ঝুঝতাম না। বিয়ে সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল; বিয়ে করলে বউকে ঘোমটা দিতে হবে; স্বামীর পায়ে সালাম করতে হবে; তাকে রান্না-বান্না, কাপড়-চোপড় ধোয়া ইত্যাদি করতে হবে। রাতে একসাথে ঘুমালে সকালে বাচ্চা হবে। আমাদের পাড়ার অনেকেরই সকালে বাচ্চা হয়েছিল। এমন কি আমিও নাকি সকালে জন্মেছিলাম। সিঁদুরও সকালে ভূমিষ্ট হয়েছিল। এর মধ্যে আমাদের একটা বধ্যমূল ধারণা ছিল--স্বামী রৌদ্র থেকে ফিরে এসে স্ত্রীর নাম ধরে ধমক দিয়ে ডাকবে। খেতে বসে খাবার ভাল না লাগলে থালাসহ স্ত্রীর দিকে ছুঁড়ে মারতে হবে। আমাদের পাড়ায় এগুলো খুব বেশী হত। আমার বাবা ও মা প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া করত। সিঁদুরের মা-বাবার মধ্যে অবশ্য এত বেশী ঝগড়া হত না। এ পাড়ার সব স্ত্রীরাই স্বামীদের হাতে মার খেত।

কাঁচুলি

দূর মসজিদ থেকে সুমুধুর কন্ঠে ভোরের আযান প্রকৃতিতে প্রবাহমান বাতাসের মত ছড়িয়ে পড়ল। কি সুমুধুর সে আযান--‘আস্সালাতো খাইরুন মিনান নাউম...।’ পদ্মার বুকে জেগে উঠা দোয়াল্লীর চরের প্রকৃতিতে কেমন জানি নিরবতা ভাঙ্গতে শুরু করল। দূর থেকে আযানের ধ্বনি ধীরে ধীরে এ গাঁয়ে এসে বাতাসের সাথে মিশে যায়। গ্রামটির নাম স্বর্ণগ্রাম। হ্যাঁ স্বর্ণগ্রাম। এ গাঁয়ে এক কালে সোনা ফলত। সোনার ফসলে মুখরিত হত এ গাঁয়ের সহজ সরল জীবন যাত্রার। মাটির মত মায়াশীল মায়েরা মেয়ের নাম তাই হয়তো রাখতো স্বর্ণলতা, সবুজী, সোনাবিবি ইত্যাদি। ফসলের নামে নাম রাখত ছেলেদের--শৈষশ্যা, ধনিয়া, নীলা ইত্যাদি। আজ আর সেই দিন নেই। আউশ ধানের চালের সাথে মিশে গেছে ইরি ধানের চাল । খাঁটি সরিষা আজ আর পাওয়া যায় না। মানুষেরা আজ ছন্নছাড়া, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত । দু’বেলা জোটে না দু’মুঠো ভাত। দরিদ্র চাষী হাড় ভাঙ্গা খাঁটুনী আর দেহের ঘাম দিয়ে সোনালী ফসল ফলায়। তবুও জীবনের বিড়ম্বনা।

অনামিকাঃ এক বনফুল

ভাদ্র বেলার গানঃ এ ভরা বাদর, মাহ ভাদর...

গত বছরের শেষ বাদর বেলা আর ভরা ভাদর এর নৈসর্গিক রূপ দেখে, অনৃভব করে সমকাল পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলাম আত্ননুভুতি। শরতের সরোদও এ বছর সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিভাগীয় সম্পাদকের আকস্মিক অনুরোধের কারণে এবং সময়ের অভাবে গত বছরের লেখা থেকে কিছুটা চুরি(?) করে এ বছরের শরতের সরোদ সাজাতে হয়েছিল। পাঠক ও ব্লগারা, নিজের লেখা থেকে চুরিকে চুরি বলবেন কিনা জানি না। গত বছরের শারদীয় অনুভূতি আবার এখানে প্রকাশ করলাম--

না গদ্য না পদ্য

না গদ্য না পদ্য
--শাশ্বত স্বপন

--তিন মাস পর কি যেন বলবে বলেছিলে?
আমি বলেছি, চোখ আর হৃদয়ের ভাষায়
সময়ের কানে কানে
তুমি হয়তো শোননি; হয়তো খেয়াল করনি
নিজের একুশ, সাহিত্যের বার
এই তেত্রিশ বছরে হৃদয়ের মন্দিরে
ধুলোর আস্তরন পড়ে
একেবারে মরুভূমি যেন!
কবিতা, তোমার কখনো মরতে ইচ্ছা করে?

--না!
আমার মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে এই বিষাক্ত পৃথিবীটাকে
ধ্বংস করে দেই।

--কিন্ত কেন?
কি বলব তোমাকে, জানি না?
না, বলব-
এই পৃথিবী কাছে, এই জীবনের কাছে,
সময়ের কাছে, আমার কোন প্রয়োজন নেই।
আমার জীবনে কোন পদ্য নেই, ছিলও না
আছে বিষাক্ত হৃদয়ে বিষাক্ত গদ্য ।
আমাকে এক মুঠো ‘সুন্দর’ দেবে?
তোমাকে সুন্দর একটি ছায়াপথ দেব।

--দরকার নেই। তুমি কি বলতে চেয়েছিল?
কি বলতে চেয়েছি?
মনে নেই, মনে নেই এই কারণে যে,
পাছে এই আশাহত হৃদয়
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অথবা অসুন্দর
সত্য কথা বলে উঠে।

স্বপ্নের ডানায় উড়ে ইতিহাসের পথে

জীবনের চলার পথ বড় আঁকা-বাঁকা, উঁচু-নিচু, কন্টকাবৃত আর যৌবনের উত্তাল সমুদ্রপথে ভাঁঙ্গা ভাঁঙ্গা হাজারো স্বপ্নের ঢেউগুলিতে থাকে না কূল, থাকে না কিনারা। তবুও মাঝে মাঝে উঁকি দেয় অবাস্তব ও অসম্ভব কিছু স্বপ্ন। যৌবনের কোন ধর্ম নেই, ভয় নেই, অসম্ভবপর কোন বিষয় নেই; আর তাই যৌবন কোন বাধাঁই মানতে চায় না।

কবিতাঃ কোন এক নদীকে অথবা তোমাকে ভালোবাসার জন্য

ছোট্র এক নদীর কাছে
আমি ভালবাসা চেয়েছিলাম।
নদীকে বলেছিলাম,
জীবনের না পাওয়া সীমাহীন গল্প।

নদী, আমাকে একটু ভালবাসা দেবে?
এক টুকরো লাল ফিতের মত ভালবাসা
অতি-দূর নক্ষত্র থেকে ছিটকে আসা
আমি এক উত্তপ্ত মরুভূমি।
যার ঠিকানা--চিরজ্বলন্ত মহাশ্মশান
যার অন্তর আর বাহির বড় জ্বালাময়
যার অন্তরাত্মা ছিন্ন করেও
একটু সুখ, একটু শান্তি পাওয়া যাবে না।
শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে
আমি ক্লান্ত, নীড় হারা পাখির মত

ক্রমাগত ছুটছি, ক্রমাগত ছুটছি
কোন এক নিদ্রাহরণীর ছোঁয়া পেতে
একটু ভালবাসার জন্য।

মেঘের কাছে, পাহাড়ের কাছে
শিলার কাছে, অরন্যের কাছে, ঝরণার কাছে
এমনকি ভোরের শিশিরের কাছে
আমি ভালবাসা চেয়েছি।
কেউ কথা দিলেও
শেষ কথা, কেউ রাখেনি।
তবে হ্যাঁ, শিশির ভালবাসা দিয়েছিল
সকালের এক চিলতে কিরণ
সে ভালবাসা কেড়ে নিয়ে গেছে।

আজ থেকে সাড়ে চারশ কোটি বছর আগে
আমার জন্ম; এতটা বছর
শুধু ভালোবাসার কাঙাল হয়েই
সৌরজগতের আনাচে-কানাচে ঘুরেছি
পাইনি কারো সামান্য বিশ্বাস।
সমুদ্রের ডাকে ছুটে গিয়েছি
স্রোতের আঘাত পাথরের মত সয়েছি।
আজো, মরুভূমি হয়েই আছি।
আমি জানি, আমি কারো স্পর্শ পাব

রম্য রচনা-- ক্ষনিকের প্রেম

ক্ষণিকের প্রেম
--শাশ্বত স্বপন

শরতের সরোদ

শরতের সরোদ

-শাশ্বত স্বপন

‘তুমি যাবে ভাই-যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়...।’

ভরা যৌবনের জলতরঙ্গে শরতের কোন এক পড়ন্ত ভাদ্র বেলায় কবি জসিম উদ্দিনের নিমন্ত্রণের ডাকে সারা দিয়ে আমার হাত ধরে উপমা বলেছিল, শুনেছি তোমার গ্রামকে বড় ভালবাস তুমি; ছবির মত ছায়া সুনিবিড় তোমার গ্রাম; এ দেশের গ্রাম দেখা হয়নি আমার কোনদিন; দেখিনি ধান-পাট-শষ্যে ক্ষেত; দেখিনি ডোবা-নালা-খাল-বিল-বাওর-হাওর-নদী-সাগর; দেখিনি প্রকৃতির পাহাড়-ঝরণা-ছড়া-মেঘ-কুয়াশা-নদী আর রহস্যময় পাহাড় ঘেরা অপার সৌন্দর্যের পাহাড়ি ভুমি। আমায় তুমি নিয়ে চল সখা, তোমার যেখানে খুশী-তোমার চোখে দেখব আমি শরতের শাশ্বত রুপ।

রম্য রচনা

রিপনের দুষ্টামী
--শাশ্বত স্বপন

রিপন ভীষণ দুষ্টু। ওর বয়স ৮ বৎসর। ওকে পাড়ার ছোট ছেলে-মেয়েরা ভীষণ ভয় পায়। অনেকে ওকে এড়িয়ে চলে। কথা নেই বার্তা নেই, চুলহীন মাথা দেখলেই টাক দেয়। আর বলে--
‘ওকল টাকি ভাউয়া ব্যাঙ
তর বাপের চারটা ঠেং
চুল কাটছ্- চুলে ধরছে বুঝি পাক
চুল পাকব না আর
এই দিলাম একটা টাক।’