সরোজ পাখি হতে চেয়েছিল
১
পাখিটাকে সরোজ ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু তার কেমন যেন মায়া পড়ে গেল ময়নাটার উপর। স্কুল থেকে বাসায় ফেরার একটা তাড়া ছিল প্রতিদিন, যতদিন পাখিটা ছিল। একটা সখ্যতাও তাদের মাঝে গড়ে উঠছিল। মার উপর এখন আবার কিছুটা রাগ হচ্ছে। মা যদি অমনভাবে না বলতো, তাহলে সরোজ পাখিটাকে এত তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতো না। এটাও ঠিকই তার ইচ্ছে হচ্ছিল পাখিটাকে খাঁচা থেকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু পাখিটাকে হাতে তুললে সে ইচ্ছে আর থাকে না। কেমন তুলতুলে শরীর। এখন সে কী করে! স্কুল থেকে বাসায় ফিরলে কেমন সব ফাঁকা ফাঁকা লাগে। যখন ময়না ছিল না, তখন তো তার এত কষ্ট লাগেনি, এত খারাপ লাগা দূরে থাক, কোন কিছু এত ফাঁকা ফাঁকা লাগেনি।
বাবাটার উপরেও রাগ হচ্ছে তার। পাখিটা কেন তাকে কিনে দিতে গেল! সেদিনই সে প্রথম পাখি কিনতে গেল বাবার সাথে। দরজা খুলে দোকানে প্রথম ঢোকার সাথে সাথে পাখিগুলো কেমন চিৎকার করে হৈ চৈ করলো। দু’একটা যে খুব নিশ্চুপ ঝিম মেরে ছিল না, তা নয়। ওগুলোও খাঁচার মধ্যে একটু এদিক ওদিক করলো। সরোজের মনে হলো, ওগুলো বুড়ো পাখি।
আজ ছুটির দিন ছিল। কালও তার ছুটি। কেমন করে যে দিনটা কেটে গেল। টিভিতে এনিমেশানের গতিচিত্রগুলো দেখলো। একটু ভিডিও গেম খেলার চেষ্টা করলো। কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। পাখিটাকে সে ভুলতেই পারছে না। কেমন জমকালো গায়ের রঙ। কালো আর সবুজে মিলে মিশে। হলুদাভ কমলা ঠোঁট। ঘাড়ের দিকে রয়েছে হলুদ রেখা। পা দু’টোও ছিল হলুদ। এত পাজী পাখিটা, কত চেষ্টা করলো সরোজ। তবু একবারও সে তার নাম ধরে ডাকলো না। ইস্ শুনতে যে কত ভাল লাগতো সরোজের! মনটা খারাপ হয়ে যায় তার। এইতো গতবছর, স্কুলের ছোট্ট এক ছুটিতে সে মায়ের সাথে তার নানাবাড়ি গিয়েছিল। ওখানের তেঁতুল গাছটার উঁচুতে বসা কোকিলের ডাক সে শুনেছিল। দুপুর বেলা খাওয়ার শেষে সব চুপচাপ হয়ে গেলে, কোকিলের সে মিষ্টি সুর সরোজকে জাগিয়ে রাখতো। সেও তখন দুষ্ট হয়ে উঠতো। কোকিলের সুরের সাথে তাল মিলিয়ে বলতো, ‘কুউ, কুউ, কুউ…………। একসময় কোকিলটাও তার স্বর সপ্তমে চাপিয়ে দিত। সরোজের মনে হত তার সাথে বিরক্ত হয়ে রেগে গেছে কোকিলটা। তাই ধৈর্যহারা হয়ে চেঁচিয়ে উঠে খুব দ্রুত ডাকছে, কুউকুউকুউকুউ…………। সরোজ মজা পেয়ে যেত। সেও ক্ষ্যাপা হয়ে উঠে। কোকিলের ডাকের হুবহু নকল করে চেঁচাতেই থাকে, কুউকুউকুউকুউ………………। নানীর বাসার গৃহকর্মীটি তার এই চেঁচানো দেখে হেসে ফেললে সরোজ লজ্জা পেয়ে যায়।
এরকম কত চিন্তা যে তার মাথায় এখন ভর করছে! আচ্ছা, ময়নাটা তো এখন বাইরে উড়ে গেছে। ওটা আশে-পাশের কোন এক গাছের মধ্যে বসে নেই? কতই গাছই তো আছে এদিক সেদিক। আম, কৃষ্ণচূড়া, সজনে, জারুল ওদিকে আবার বড় এক বট গাছের মত আছে। এর কোনটাতে বসে ময়নাটা কি একবার তার নাম ধরে চেঁচিয়ে উঠতে পারে না? সে তো খাঁচাবন্দী থেকে মুক্ত করে তাকে তার মত উড়তে দিয়েছে। এ কারণে সে কি তাকে বন্ধু ভেবে দেখা দিতে পারে না?
২
এইভাবে সাত-পাঁচ ভেবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়। হঠাৎ সরোজ শুনতে পায় বাইরের গাছে কোন এক পাখির সরোজ সরোজ ডাক। ধড়মড়িয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে সে। বাইরে অনেক রাত মনে হচ্ছে তার। সে তার ঘরের জানালার খুলে দেয়। দূরের আকাশের রঙ ঘোলাটে সাদা বর্ণের। বুঝে উঠে না সে চাঁদটটাও এত ফ্যাকাসে কেন? এমন সময় কোন পাখি নেই কেন? তাহলে এ ডাকটা কোথা থেকে এসেছে? পাখির ডানা ঝাপটানোর কোন আওয়াজও যদি সে শুনতে পেত!
এমন সময় কোথা থেকে একটা ছোট হালকা-পাতলা পাখির পালক হাওয়ায় ভেসে ভেসে সরোজের খোলা জানলার রড গলে ঘরে এসে ঢুকে পড়ে। সরোজ স্তব্ধ হয়ে যায়। বুঝে উঠে না কী করবে। পালকটা তখনও ভাসতে থেকে ঠিক তার বিছানার উপর উঁচুতে এসে পরে। একসময় সে বিছানায় বসলে, পালকটা তার কপাল বরাবর নেমে এসে ভাসতে থাকে। মনে হচ্ছে, ডানে বাঁয়ে দুলতে দুলতে তাকে যেন কিছু একটা বলতে চাচ্ছে। সরোজ হাত দিয়ে পালকটা ধরার চেষ্টা করলে, সেটা দূরে সরে যায়। আবার নেমে আসে তার কপাল বরাবর এবং আগের মত দুলতে থাকে ডানে বাঁয়ে। সে এবারও হাত বাড়িয়ে দেয়। পালকটা উপরে উঠে যায়। হাঁটুর উপর ভর করে সে পালকটাকে ধরতে যায়। পালকটা একটু থামে আবার যতবার সরোজ হাত বাড়ায়, ততবারই একটু একটু করে উপরে উঠতে থাকে। পালকটা যেন তার সাথে মধুর খেলায় মেতে উঠে বলছে তাকে, “Catch me if you can”। এবার সরোজ বিছানার উপর দাঁড়িয়ে পালককে স্পর্শ করতে যায়। কিন্তু পালকটা ততই উপরের দিকে উঠতেই থাকে। সরোজ বিছানা থেকে উপর দিকে লাফাতে যেয়েও লাফাতে পারে না। ধপাস করে সে বিছানায় পড়ে কাৎ হয়ে শুয়ে থাকে।
৩
খুব ভোরে পাখির কিচির মিচির আওয়াজে সে চোখ খুলে। শুয়ে শুয়ে এদিকে ওদিক করে ঘরের উপরের ছাদের দিকে আশ-পাশ তাকায়। মনে পড়ে তার পাখির পালকের কথা। অবাক হয়ে ভাবে, পাখির পালকটা গেল কই! এত চেষ্টা করলো, একবারও যদি ওটা তাকে ধরা দিতো। ময়না পাখিটার ডাকও তার মনে পড়ে। কোথায় যে, লুকিয়েছে পাখিটা। ওই পালকটা তবে কি ময়নার ছিল? এখন সে ঠিক মনে করতে পারে না, পালকটার রঙ। ছাইরঙা, কি চকলেট রঙা? নাকি কালো? উজ্জ্বল কিছু ছিল কি? ঠিক ঠাহর হয় না। মাথাটার যে কী হলো এখন!
খোলা জানলা দিয়ে বাহিরের আলো ঘরে এসে পড়েছে। সকালের রোদ সরোজের বিছানার একপাশে এসে পড়ে। আরেকটু ঘুমিয়ে নিতে ইচ্ছে করে তার। এমন সময় দরজার বাহিরে টোকা পড়ে। গৃহকর্মী মেয়েটা ও প্রান্ত থেকে উঁচু গলায় বলে, “কি ভাইয়া, নাশতা করবেন না? আম্মা ডাকতেছে।” অনিচ্ছাসত্ত্বেও সরোজকে উঠতে হয়। ছুটির দিনগুলোতে একেবারে সকাল সকাল তার বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না একেবারেই। এখনতো মোটে সাতটা বেজে সাতত্রিশ মিনিট। এখন যদি বিছানা ছেড়ে সে না উঠে, তবে মা এসে হৈ হৈ করে হামলে পড়বে তার রুমে। ‘কী হলো তোর? শরীর খারাপ? অসুখ করলো? দেখি তো জ্বর কত?’ এইরকম কিছু প্রশ্ন করে তাকে অস্থির করে তুলবে। তার এখনকার একা একা আরামে শুয়ে থাকার এই শান্তিটা আর থাকবে না। সরোজকে উঠতেই হয়।
নাস্তার টেবিলে বসে সে মাকে জিজ্ঞেস করে, “আচ্ছা মা, পাখির পালকের মাঝে কি প্রাণ থাকে? তারা কি মানুষের সাথে খেলা করতে পারে?” অদ্ভূত এই প্রশ্ন শুনে মা সরোজকে কিছুক্ষণ দেখে, তারপর বলে, “তুমি কি রাতে কোন স্বপ্ন দেখেছিলে সরোজ?” সে মাথা নেড়ে ‘না’ সূচক জানায়।
৪
নাস্তার পর সে তার রুমে ফিরে আসে। আকাশে রোদ নেই, ছায়া পড়ে গেছে। একটা শালিক উড়ে এসে তার জানালার পাশে বসে। চোখ-মুখ ঘুরিয়ে ঘরের ভেতরটা দেখার চেষ্টা করে। তারপর সরোজকে দেখে উড়ে যায়। এক শালিক দেখার কারণে মন খারাপ হয়ে যায় তার। সে জানলার কাছে এগিয়ে যায়। দেখে নীচে আরেক শালিক। আগের শালিকটা উড়ে গিয়ে নীচের ঘাসের উপর অন্য শালিকটার কাছে যায়। তারপর জানলায় সরোজকে দেখে দু’টোই একসাথে উড়ে সামনের কামরাঙা গাছে গিয়ে বসে। সরোজের মন ভাল হয়ে যায়। তারও ইচ্ছে করে পাখির মত উড়ে যেতে। সেই যে ময়নাটা গেছে উড়ে। শালিক দেখে কখনো কখনো ময়না বলে ভুল হয় তার। ময়নাটাকে যখন সরোজ হাতে তুলে নিয়েছিল, তখন ময়নার বুকটা ভয়ে কেঁপে কেঁপে যাচ্ছিল। এতটুকু পাখি। অথচ কী চমৎকার তারা উড়ে বেড়ায়। হিংসে হয়, পাখিদের দেখে। ইস্, সে যদি উড়ে যেতে পারতো!
আচ্ছা, সে যখন মেলায় বাবার সাথে নাগরদোলায় চড়ে বসেছিল, তখন তো তারাও উপরে উঠে গিয়েছিল। যদিও উড়তে পারেনি। কিন্তু একটা ব্যাপার দেখে তার খুব মজা লেগেছিল। মাও সাথে গিয়েছিল তাদের। মাথা ঘোরার কথা বলে ভয়ে আর নাগর দোলায় চড়েনি মা। আর নাগরদোলাটাও ছিল অনেক উঁচু, বড়সড় গোছের। নাগরদোলাটা যখন উপর দিকে যাচ্ছিল, ততই নীচে মাটির উপর সব কিছুই ছোট হয়ে আসছিল। একসময় একদম উঁচুতে উঠে যখন নামতে শুরু করেছে কেবল, তখন সরোজ নীচের দিকে তাকালে মাকে তার দেখে একটুখানি মনে হয়। সে ভাবে এখন, তাহলে পাখিরা যখন উঁচু দিয়ে উড়ে যায়, তখন তো পাখিরাও আমাদের একটুখানি দেখে। যত উপরে পাখিরা উড়ে, ততই তারা আমাদের ছোট দেখে। কী আশ্চর্য! মনে মনে হেসে ফেলে সে। তাহলে আমাদের যখন বড় আকারে দেখে পাখিরা, তখন, তারা ভয় পেয়ে দূরে উড়ে যায়। দূর থেকে আমাদের দেখতেই পাখিরা স্বস্থি পায়। কিন্তু সরোজের যে তা ভাল লাগে না। পাখির সাথে ভাব করতে যে তার ইচ্ছে করে।
ইচ্ছে হয় তার, সে যদি উড়তে পারতো। জানলার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে এখনো সে। কামরাঙা গাছ ছেড়ে পাখি দু’টো ছুটে আবার কোথায় উড়ে গেলো। তারও এখন খুব উড়তে ইচ্ছে করছে। সে তার হাত দু’টোকে দু’পাশে মেলে ধরে শরীরটাকে হালকা করে দেয়। আহ্ এই দু’হাতের উপরে দু’পাশে যদি দু’টো পাখা থাকতো! জানালার লোহার রডগুলো খুলে ফেলে কখন যে সে উড়ে যেত! কী যে মজা হতো! যত উপরে উঠে যেত, নীচের সব কিছুকেই তত ছোট মনে হতো। তার স্থপতি চাচা বলেছিল, পাখীর এই দেখার চোখকে ইংরেজিতে, bird’s-eye view বলে। যে কোন অনেক উঁচু স্থান থেকে নীচে এভাবে আমরা পাখির চোখের মত দেখে থাকি।
সরোজ তো আর পাখির মত ছোট নয়। পাখাটা তাই তার হবে অনেক লম্বা। সে ভাবে, পাখিদেরই উড়তে সুবিধে বেশি। তাদের ছোট হালকা শরীর। ছোট ছোট ডানা। তার এই লম্বা শরীরটাকে নিয়ে সুপারম্যানের মতই আকাশে ছুটে যেতে হবে। কিন্তু তার যে পাখির মত দু’পাশে পাখা মেলে উড়ার শখ। শালিক দু’টোকে আবার ছুটে যেতে দেখে সে। এই সময় মনে পড়ে, এক দুপুরে খাওয়ার পর মায়ের পাশে সে শুয়েছিল। বাবা-মাদের রুমের অন্য প্রান্তে, জানালার পাশে অদূরের নিম গাছের ডালে একটা শালিক এসে বসেছিল। তারপর আরেকটা। তা দেখে মা একটা কবিতা আবৃত্তি করেছিল। ভালভাবে বুঝে উঠতে না পেরে, মাকে কবিতাটা সম্পর্কে সে জিজ্ঞেস করে। মা বলেছিল, ওটা কবি জীবনানন্দের কবিতা। শালিক হয়ে নাকি তিনি আবার পৃথিবীতে আসতে চান। কেমন চমৎকার লেগেছিল কবিতাটা মার মুখে। বেশ মজাও পেয়েছিল সরোজ। এখন তার কিছুই মনে পড়ছে না। কিন্তু পাখি হবার ইচ্ছেটা যে তাকে ঝাঁকিয়ে বসে।
৫
সপ্তাহান্তে বাবা-মার সাথে এক বিয়ের দাওয়াত থেকে ফিরছিল সরোজ। মাকে নিয়ে গাড়ী বাসায় ঢুকে পড়েছে। তার আগে সে বাবাসহ রাস্তার পাশে নেমে পড়ে। বাবাকে জোর করেছিল, এই গরমে তাকে একটা আইসক্রিমের কন্টেইনার কিনে দিতে। সে ফ্রিজে রেখে রেখে প্রতিদিন একটু একটু করে খাবে। শেষমেশ বাবাকে তাই রাস্তার পাশের স্টোর থেকে তাকে আইসক্রিম কিনে দিতে হয়। আইসক্রিম নিয়ে বেশ খুশিমনে বাবার সাথে সাথে সরোজ তাদের বাসায় ঢুকছিল। হঠাৎ করে তার নজরে পড়ে বাসার গেইটের বাম পাশে ঘাস ও পাকার মাঝামাঝি একটা পাখি পড়ে আছে। সে পাখিটার কাছে ছুটে যায়। পাখিটা একপাশে কাৎ হয়ে আছে। ঝিম মেরে ছিল এতক্ষণ। সরোজ কাছে এলে একটু নড়েচড়ে উঠে। মনে হয় একটু ভয় পেয়েছে। সরোজ বুঝতে পারে, এটা শালিক পাখি। পাখিটাকে বেশ অসুস্থ মনে হয় তার। গেইট দিয়ে বাসায় ঢোকার আগেই ছুটে গিয়ে সে বাবার হাত ধরে। উত্তেজিত হয়ে বলে। বাবা, “দেখো ওখানে একটা শালিক পড়ে আছে। খুব অসুস্থ।” বাবা একটু বিরক্ত হয়ে বলে, “সরোজ ওটার কাছে যেয়ো না, ওটা তুমি ধরো না। বাসায় এসো বাবা।” সে আবার বলে, “বাবা ওটার কিছু কর। ওটা খুব অসুস্থ। ওটাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলো।” “তুমি আজ বেশ বিরক্ত করছো, সরোজ। চলো, তুমি এখন বাসায় চলো।” বাবা বেশ উষ্মা প্রকাশ করে। “না বাবা, ওটা ওখানে মরে যাবে, তুমি ওকে গাড়ী করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলো।”
ওহ্ হো, আমি এখন ডাক্তার কোথায় পাবো? পাখির ডাক্তারই বা কোথায় থাকে, আমি জানি না কি?
কেন আমরা যেখান থেকে ময়নাটা কিনেছিলাম, ওখানে? ওখানে তো অনেক পাখি। ওদের ডাক্তার আছে না?
আমি কী জানি বাবা, আমার এখন অত সময় নেই, ডাক্তার খোঁজার।
তাহলে কিছু একটা করো, ওকে বাসায় নাও। আমরা অসুখ হলে যে ঔষুধ খাই, ওকে সে ঔষুধ দাও।
মনের কষ্টে কেঁদে ফেলে সরোজ। বাবা থতমত খেয়ে যায়। পাখির জন্য ছেলেটার ভালবাসা দেখে তার মায়া হয়। কিছু বলার ভাষা খুঁজে পান না তিনি। সরোজ ফুঁপিয়ে কাঁদছে। একসময় সে চোখ থেকে পানি মুছে ফেলে। বাবা ধীরে ধীরে হেঁটে বাসায় ঢুকেন। সরোজও তাকে খুব ধীরে ধীরে অনুসরণ করে।
নিজের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয় সরোজ। বাইরে থেকে মা তাকে ডাকে, “সরোজ, আইসক্রিম খাবে না?” সে উত্তর দেয়, “না, আমি এখন কিছু খাবো না।”
তার মন খুব খারাপ হয়ে আসে। সে পড়ার টেবিলের উপর মাথা দিয়ে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে থাকে। একসময় হঠাৎ উঠে গিয়ে দেখে বাইরে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম থেকে উঠে সে পাখির কথা ভুলে যেতে চায়। ভুলে যেতে চায় একসময় তার একটা ময়না ছিল। পাখির সাথে তার সখ্যতা গড়ার ইচ্ছাও ভুলে যেতে চায়। উঠে গিয়ে জানালার কপাট সে বন্ধ করে দেয়, এবং মনে মনে বলে:
আজ থেকে সে আর কখনো পাখি হয়ে উড়তে চাইবে না।
আজ থেকে কোন পাখি আর তার জানালায় উড়ে এসে বসবে না।
আজ থেকে কোন পাখির পালক ঘরে ঢুকে পড়ে তার সাথে খেলবে না।
অনুপ্রেরণা: ব্লগার মেঘ-এর শিশুতোষ গল্প, তাতান আর একটা ময়না পাখি
[আশা করি, উপরের লেখা এবং যে লিংকটা দেয়া হলো, তা আপনাদের নীতিমালা ভঙ্গ করবে না। কেননা, লিংকটা কোন ব্লগের নয়, ই-পত্রিকার। আপনাদের নীতিমালার গ-তে সুস্পষ্ট বলা আছে, ব্যক্তিগত ব্লগ এবং পত্রিকা এই নিয়মের আওতার বাইরে। তাই সাহস করলাম। ধন্যবাদ।]





ব্যস্ততার কারনে লেখাটা এখনো পড়তে পারি নি পড়বো সময় করে।
========================================
এবিতে
=======================================
সেই অপেক্ষায় আছি।
আব-এর সবাইকে শুভেচ্ছা।
মেঘদি'র গল্পটার লিংকের জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকে এবি'তে স্বাগতম।
আব-এর সবাইকে শুভেচ্ছা
আব??
আব > আমরা বন্ধু।
এই ব্লগটার নাম এবি। আব নয় ব্রাদার
পরিচ্ছন্ন সুন্দর গল্প। এবিতে স্বাগতম।
ধন্যবাদ পরিচ্ছন্নতার জন্য। আব-এর সবাইকে শুভেচ্ছা।
এবি ব্লগে স্বাগতম শামান সাত্ত্বিক। পড়লাম সরোজের কথা। ভালো লাগল। তাতান খুব ছোট্ট একটা তুলতুলে বাবু, সেখানে সরোজ কিছুটা বড়। একটা ভাবনার জগত আছে, আছে ভিজ্যুয়ালাইজ করার ক্ষমতা।
ধন্যবাদ।
স্বাগতম এখানে
ধন্যবাদ।
চমৎকার গল্প। ফিনিশিংটা দারুণ
ধন্যবাদ আরিশ। মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগলো। ভাল থাকুন।
মন্তব্য করুন