কাল্পনিক আমি'এর ব্লগ
বৃষ্টিভেজা কিছু মুহূর্ত আর বিস্মিত আমি
বৃষ্টিটা বেশ জোরেই হচ্ছিল। মনে হচ্ছে আকাশ যেন আজ কেঁদে ভাসাবে।
আমি নিশ্চিত যে আমায় ভিজতেই হবে। জোড়াতালির এই কপালে রিক্সা আমার জুটবে না। কিন্তু বিস্ফোরিত চোখে একটা রিক্সা আসতে দেখে যার পর নাই অবাক হলাম। আমার ভাগ্যের বিরোধী দলীয় নেতা মিঃ বিধাতা যে আজ প্রসন্ন চিত্তে এত সহজে আমায় রিক্সা পাইয়ে দেবে তা আমার চিন্তার ও অতীত।
যা হোক বেশ উত্ফুল্ল মনেই রিক্সায় চড়লাম। আর সাথে সাথে মেঘ বাবাজি সজোরে চিল্লানি দিল আর তার সাথে বিদ্যুত মহাশয়ের অটো ফ্লাস।
কিছুদূর যেতেই দেখলাম অনতিদূরে এক অতিমাত্রায় সুন্দরী তরুণী ছাতা হাতে বৃষ্টির বিরুদ্ধে বৃথা লড়াই করে চলেছে। প্রায় পুরোটাই ভিজে গেছে। বাতাসে চুলগুলো উড়ছে আর মেয়েটা এক হাতে ছাতা সামলাচ্ছে আর অন্য হাতে কামিজ। পুরোই বেসামাল অবস্থা। যদিও আমার বেশ খারাপ লাগছিল মেয়েটির জন্য কিন্তু আশেপাশ উত্সুক লোকের লুল দৃষ্টিভঙ্গী আসলেই বিব্রতকর।
বৃষ্টিতে আমি আর আমার রাজকণ্য়া।
বৃষ্টি হচ্ছে।
ভিজে যাচ্ছি আমি আর আমার বুক পকেটে সযত্নে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন গুলো।
আজ আমার হৃদয়ের ঘরে কড়া নাড়ছে সেই চির কাঙ্খিত মুহূর্ত।
আমি আর আমার রাজকণ্য়া
আজ ভিজবো দুজনে।
বৃষ্টির ফোটাগুলো বেহায়ার মতো ছুঁয়ে যাচ্ছে ওর চোখ, ঠোঁট, চিবুক।
আমি ঈর্ষান্বিত চোখে চেয়ে আছি।
ওর চুলগুলোর অবাধ্য়তা একরাশ ভালোলাগা ছড়িয়ে দিচ্ছে আমার মনে।
আমি কম্পিত পদহ্মেপে এগিয়ে গেলাম।
চুম্বন এঁকে দিলাম একটু একটু কাঁপতে থাকা ঠোঁটে। শক্ত করে বুকের মধ্য়ে জড়িয়ে নিলাম
কখনই যেন হারিয়ে যেতে না পারে ইট পাথরের মেকি ব্য়স্ততায়।
যদি পারতাম সময় ঘড়িটা বন্ধ করে দিতাম।
নিশ্চল পৃথিবীর বুকে ভালোবাসার প্রদীপ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতাম।
রাজকণ্য়া, ভালোবাসতে শিখিয়েছো আমায়
শুধু ভালোবাসতে দাও নি তোমায়।