মোহাম্মদ আনু'এর ব্লগ
আজও দাঁড়িয়ে থাকি
বৈশাখের ক্লান্ত দূপুর যখন
তোমার নরম অধর ছুঁয়ে যায়,
এক বিরক্তিকর ভাব নিয়ে যখন তুমি বল-
ভাল্লাগেনা কিচ্ছু ভাল্লাগেনা
তখন আচমকা এক পশলা বৃষ্টি
তোমার ঠোঁটের হাঁসি হয়ে এল
যেন ভাল লাগার আয়োজনে স্বয়ং বিধাতা।
জানালার ধারে অপলক নয়নে যখন
আমার পানে থাক চেয়ে,
এক না পাওয়ার আবেদন ঐ দৃষ্টিতে দাও ছুঁড়ে,
তখন কী করে ভাল থাকার অভিনয় করি
কী করে থাকি বসে প্রিয় ঘরে।
বৈশাখের তপ্ত রোদকে তুচ্ছ করে
অবিশ্রান্ত ঝড়কে উপেক্ষা করে
এসে দাড়িঁয়ে যাই ঐ জানালায়,
যেন বৃষ্টি তোমার নূপুর পড়ে ঘুরছে
আমার চারিপাশে ,হ্রদয় আঙ্গিনায়।
বৃষ্টিভেজা সেই দূপুর
লোনা ঘামের সেই সময়
কী কর ভুলি প্রিয়,
আজও তোমার জানালা ধারে
দাঁড়িয়ে থাকি
জেনে নিও।
পা বাড়িয়েছি
আমি পুরণো সেই নিশাচর নগ্ন পথে
পা বাড়িয়েছি,বন্ধু তুমি কী পারবে ফেরাতে-
পূর্বের ন্যায় আমাকে ফেরাতে
মিথ্যে ভালবেসে?
আমি আবার পা বাড়িয়েছি ভুলে,
দেবী তুমি কী পারবে ফেরাতে
অতীতের ন্যায় ছলে
মধুর কথা বলে?
পা বাড়িয়েছি নির্জণে ,মধ্যরাতে,
পাবে কী আমায় খুঁজে
পেছন থেকে রাখবে কী হাতে হাত
সেই সে প্রভাতে?
পা বাড়িয়েছি এবার,পরপারে যাবার
সঙ্গী হবে কী বন্ধু তুমি
সঙ্গী হবে কী আমার
যেমন ছিলাম তোমার?
আমি রিক্ত সিক্ত হয়ে বেড়িয়েছি ঘর হতে,
জানি পেয়ে যাব তোমায় আমি
নিশাচরের নগ্ন নির্জন পথে
ঠিক তোমারই সাথে।
কবিতা কাঁদে ভবিষ্যৎ ভাবনায়
কবি তোমার কবিতা আজ কাঁদে
অপরাজেয় বাংলার উঠোনে বসে,
কাঁদে পতাকা আজ ছিন্ন হয়ে
বসে ঐ মিনারের পাশে।
মিনারও কাঁদে মায়ের বুকে
প্রাণ নেই ঐ মিনারে,
নারীর সম্মান আজ ধর্ষিত হয়
কেঁপে উঠে এই সিনারে।
দেশ প্রেমের আজ নমুনা নেই
চাপাতী হাতে সবাই,
ক্ষণে ক্ষণে একী শ্লোগান শুনি
ধর ওদের কর জবাই।
জাতীয় পতাকার রং হয়ত পাল্টে যাবে
হয়তো রবে লাল,
রক্তের আরও বন্যা হবে
হারাবে মায়ের লাল।
এইতো আর কিছুদিন
তোমার স্মৃতি কবি মুছবে,
ভাস্কর্য মিনার জাতীয় সংগীত একদিন
স্মৃতির পাতায় খুজঁবে।
কবি তুমি কাদের নিয়ে লিখবে আজ
সবাই সাজে বোকা,
তুমিও কাঁদ কবিতাও কাঁদে
কাঁদ হয়ে আজ খোকা।
(উপরোক্ত ভবিষ্যতের দিকে কী যাচ্ছে দেশ?)