মেয়ে মানুষ = জটিলতা
ছেলেরা সবসময় কিছু কথা বলে-
“মেয়েদের বানানোর পরে স্বয়ং আল্লাহও মনে হয় ভাবসে, এইটা কি বানাইলাম?”
“মেয়েদের মন বুঝার সাধ্য দুনিয়ার কারো নাই”
আমিও ভাবি, আল্লাহ যে কেন মেয়ে মানুষ বানাইলো?
এই মেয়ে মানুষ এমনই স্বার্থপর যে, বছরের পর বছর সে যে পরিবেশে বড় হয়, যে মানুষগুলো কে আপন জানে, হঠাৎ একদিন কেবল একজন মানুষের টানে ঐ পরিবেশ, ঐ মানুষগুলো কে ছেড়ে সম্পূর্ন অন্য একটা পরিবেশে, অন্য সব অজানা মানুষের ভীড়ে চলে যেতে সে এতটুকুও দ্বিধা বোধ করে না। কিন্তু, ছেলেরা? তারা এমন স্বার্থপর না। তারা আজীবন তাদের নিজস্ব পরিবেশ, নিজস্ব মানুষগুলোকে আকড়ে ধরে রাখে। তাদের কাছে তো সেই একজন মানুষ-ই একটা জটিলতা, তার জন্য আবার কিসের এত টান?
জীবনে ভালো কিছু ঘটলে একজন মেয়ে, একজন বোন, একজন স্ত্রী বা একজন মা হিসেবে কেউ যখন একটা মেয়েকে কৃতিত্ব দেয় না, তখন খারাপ কিছু ঘটলেও সেই মেয়ে, সেই বোন, সেই স্ত্রী বা সেই মা’কে দোষারোপ করাটাও হয়তো ঠিক না।।কিন্তু, আমাদের সমাজের ছেলে মানুষেরা সেটা খুব ভালো ভাবেই করতে জানে। তারা কখনো এটা ভেবে দেখে না যে, এই “মা” না থাকলে তার জন্মই হইতো না! এই “স্ত্রী” না থাকলে তার জীবনের শেষার্ধে তাকে কেউ সঙ্গ দিতো না! এই “বোন” না থাকলে তার অভিমান-অভিযোগের কথা শুনানোর কেউ থাকত না! আর এই “মেয়ে” না থাকলে তাকে আদর করার কেউ থাকত না!
যাকগে, “আমরা বন্ধু” তে আমি লেখালেখি করেছি খুব কম, আর যেটুকু করেছি সেটুকু আমার একান্ত নিজস্ব অনুভূতি থেকে করেছি। আজকের এই লেখাটাও আমার একান্ত নিজস্ব অনুভূতি। হঠাৎ মনে হলো মেয়ে হয়ে জন্মে অন্যের জন্য জটিলতা তৈরী করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি জীবনে।
আসলেই! দুনিয়াতে শুধু ছেলে মানুষ থাকলে দুনিয়াটা এত্ত জটিল হইতো না.....





নাজের মন কী বেশি খারাপ?
শুনেছি টুটুল ভাইতো ঘর জামাই হইতেও রাজি ছিলো ! আপনে চান নাই বইলাই নাকি উনি সেইটা হইতে পারেন নাই।
( মন খারাপ হইলে হবেক নয় বাউ )
জীবনে যদি না থাকতো নারী....................
ফলাফল........
শপিং কমপ্লেক্সগুলো নিশ্চুপ..
রাস্তাঘাট ফাঁকা....
পুলিশরা বিশ্রামে.....
সব মোবাইল কোম্পানিগুলোই লোকসানে....
কোনো এসএমএস নেই....
নেই কোনো ফুল.....
ভ্যালেনটাইন পালন নেই...
নেই কোনো মোমবাতি.....
এমনকি কোনো পারফিউমও নেই....
সব পুরুষ তাহলে কিন্তু যাচ্ছে সরাসরি বেহেসতে............
ভাবীর কি মন ভাল নেই?
আমার ছোটবোনের মেয়ে হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে আমার থেকে অনেক বেশি সমস্যা ফেইস করাতে আমি বুঝতে পেরেছি দেশে মেয়েদের কি পরিমান যে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। পড়ালেখা থেকে শুরু করে কোথাও যাওয়া সব বিষয়ে এত সমস্যা! মায়ের জীবন তো সেভাবে খেয়াল করি না আমরা, ধরে নিই মা'রা এরকমই হবেন। এখন আমি পুরোদস্তুর প্রো-ফেমিনিস্ট হইয়া গেছি। লেটস রেইজ আ গ্লাস ইন দ্যা অনার অফ অল উইম্যান ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড!
ভাল থাকুন।
নরাধমের পাশে দাড়াইলাম।
আমার একমাত্র ছো্টবোনটার এতো মন খারাপ কেন?
যে মানুষ তার সব ইচ্ছা গুলোকে দমিয়ে 24 hours a day, 7days a week একটা নিয়মের মাঝে চলে তার আবার মন থাকে নাকি, ভাইয়া?
রোবোটের আবার কিসের "মন খারাপ" হবে?
ছোট বোন, বিবাট ভাবনায় ফেলে দিলেন।
আজকে সকালেও বউরে কইছি এই কথা।
হাসি-খুশী দেখলে ভালো লাগে, ছোটবোনদের মন খারাপ দেখলে কষ্ট হয় ।
সব ঠিক হয়ে যাবে
যার ঋহানের মতো এই রকম একটা আদরের পোটলা আছে তার মনে এই ধরনের চিন্তা আসার জন্য মাইনাস।
সহমত।
ঋহান আছে দেখেই আমি আছি........
নাজ, এধরনের অনুভূতির সময় একটু দুষ্ট মেয়ে যাবে। একা একা বেরিয়ে পড়বে। কার কি হবে ভাববে না। বসুন্ধরা আইডিয়াল প্লেস। সিনেমা দেখবে, খাবে, অকারন শপিং করবে। নিজেকে সময় দিবে। দেখবে একটা এক্সটেন্ডের পর একটু নার্ভ রিলাক্স হয়েছে।
জীবনের এসময়টা কঠিন। ২৪/৭ বাচ্চা পালন করা একটা কঠিন ডিউটি। তার ওপরে আছে সবার মন জুগিয়ে চলা। ভালো মেয়ে হওয়া, বৌমা হওয়া, স্ত্রী হওয়া। ওসব হতে হতে "নাজ" হওয়াই ভুলে যাওয়া।
ভালো থেকো।
ভালো মেয়ে, ভালো বোন, ভালো স্ত্রী, ভালো বৌমা, ভালো মা.. কোনটা হতেই ইচ্ছা করেনা আর।
ইচ্ছা করে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে কোথাও হারিয়ে যাই, একটু নিজের মত করে "নাজ" হই!
আমার সব লেখাই আত্মজৈবনিক-- বলেছিলেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
আমাদের সব লেখাতেই আমরা নিজেরা কমবেশি থাকি
জীবন=জটিলতা, হোক তা পুরুষ কিংবা নারীর
নারীর অনুভূতিপ্রবণতা অনেক বেশি সূক্ষ্ম, তাই জটিলতা তাকে ভারাক্রান্ত করে বেশি
ভাল থাকা হোক
সবার
নাজকে ব্লগে দেখে খুব ভালো লাগছে। মন শান্ত থাকুক। তাতাপু সুন্দর কিছু পরামর্শ দিলো।
পরামর্শ খুবই সুন্দর কিন্তু সমস্যা হলো আমার অরকম অভ্যাস কোন কালেই ছিলো না। অবশ্য , এর জন্য ভুক্তভোগী ও কম না আমি.....
জীবনের অনেক জটিলতা দেখেছি, দেখছি।সবকিছু যে নিজের মতো করে পাই, তা না। তবু মেনে নেই। এর নামই হয়তো জীবন। আর মেয়ে বলে আমাদের জন্য তো সমাজ অনেক অলিখিত নিয়ম তৈরী করেই রেখেছে।
পোস্ট টা গতকাল দেখেছি কিন্তু কী বলব বুঝছি না। এই বিষয়টা আমার চোখে ধরা পরে অনেক দিন আগে। যখন খুব ছোটো ছিলাম, এক ঈদের দিন আমরা ভাই বোনেরা ঘুরে বেড়াচ্ছি, আব্বা গেছে বন্ধুদের সাথে, আমি বাসায় গিয়েছি দেখি আম্মা রান্না করছে। আমার ছোট মনে তখনই এক ধাক্কা লাগল! ঈদের দিন সবার জন্য আনন্দের কিন্তু আমার মার জন্য আনন্দ কই? সে আমাদের জন্য আনন্দের জন্য রান্নাঘরে!
প্রকৃতিই এমন করে করেছে যে মেয়েরা স্যাক্রিফাইস করবে সমাজ, পরিবার, জীবনের প্রয়োজনে।
দেব শিশু ঋহাবের দিকে তাকান। ভেসে যাক সব কষ্ট।
আপনি "মা" নিয়ে যে কথাটা লিখেছেন সেটা মনে হয় কম-বেশি আমাদের সবার জীবনের চরম সত্য একটা বিষয়। তবে ভাইয়া যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা কথা বলি..
আমাদের মা'রা বড় হয়েছেন গ্রামে, তারা কেউ-ই খুব একটা লেখা-পড়া করেননি আর যারা করেছেন তারা সংসারের জন্য তাদের সব কিছু স্যাক্রিফাইস করতে বাধ্য হয়েছেন। কারন, ছোট থেকেই তাদের কে এটাই বুঝানো হয়েছে যে "তাদের জন্মই হয়েছে সমাজ, পরিবার, জীবনের প্রয়োজনে স্যাক্রিফাইস করার জন্য"।
তাই, আপনার সাথে আমি সহমত।
কিন্তু, আপনার কাছে একটা প্রশ্ন, আমাদের মায়েরা যে যুগের ছিলেন সে যুগ কি এখনো আছে?
যাকগে, আমি একটা ব্যাপার বুঝলাম না, এখানে কষ্টের কথা কি বললাম আমি?
আমি তো আমাদের সমাজের ছেলেদের (মেয়ে মানুষ সম্পর্কিত) মতামতে সহমত হলাম।
আমি আসলে বুঝিয়ে বলতে পারিনি সেজন্য পুরা উল্টা বুঝেছেন করেছেন। আমি আমার মায়ের উদাহরণ দিয়া মেয়েদের স্যাক্রিফাইস কারানোটাকে জাস্টিফাই করি নাই। আমি বলতে চাইছিলাম মানুষ হিসাবে মেয়েদের উপর যে অবিচার করা হয়, সেটা প্রথম ধরা পরে আমার চোখে। হোক সে কম শিক্ষিত অথবা সমাজ বা পরিবারের চাপিয়ে দিয়া প্রথা মেনে নেয়া একজন। আধুনিক বা প্রাচীন কারো জন্যই এই সিস্টেম আমি সমর্থন করিনা।
২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমার ভাই এর ঘর আলো করে একটা মেয়ে হলো। এর আগের ২৪টা বছর আমার পরিবারে আমি সবার ছোট ছিলাম। তাই আমার রাগ, জেদ, অভিমান সব কিছুই uncontrollable, এক কথায় আমি spoiled।
বলছি না এটা খুব ভাল, বলছি আমি এরকমই। সেজন্য অন্য সবাইকে জটিলতা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারিনি।
নাজ, এই প্রথম আপনার একটা লেখা পড়লাম। মন খারাপ হয়ে গেল। আপনার অনুভূতির সাথে আমি পুরোপুরি একমত পোষণ করছি।
মঙ্গলময়ের কাছে প্রার্থনা করছি আপনার জন্য।
জটিলতার নারী পুরুষ নেই। যেসব পুরুষ নারীদের ক্রমবর্ধমান জেরার মুখে থাকেন, তাদের কাছে নারীটা জটিলই। জটিল হবার পেছনে জেনেটিক কোডের কিছুটা ভুমিকা থাকলেও থাকতে পারে।
তবে নারীদের পারিবারিক অবিচারগুলোর জন্য আরেকটা নারীই দায়ী থাকে সাধারণত। নারী নির্যাতনের দায় পুরুষের উপর বর্তালেও, মানসিক নির্যাতনের জন্য দায়ী করি নারীদেরই।
সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে নয়, সংসার সুখের হয় কম্বিনেশানের গুনে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা পারমুটেশান কম্বিনেশানের অসমাপ্য খেলা। ক্রমাগত বিবর্তিত হতে থাকে এবং গিট্টু লাগতে থাকে। গিট্টুগুলো ছাড়িয়ে কিংবা এড়িয়ে থাকা মানুষগুলো সংসারে সবচেয়ে সুখী মানুষ।
লেকচার বড় হয়ে গেল নাকি?
ইয়ে মানে কি জানি একটা বলতে চাচ্ছিলাম
আমাদের ৬ ভাইবোনের সবার ছোট বোনটা মাঝে মধ্যে কারনে অকারনে এরকম মন খারাপ করতো। আমি তখন যা করতাম, আলতো করে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম। তোমাকে কাছে পেলেও হয়তো তাই করতাম। মনে কর তাই করেছি...
-নীড় সন্ধানীর সাথে একমত ।
টুটুল ভাই'র মতো লোক থাকতে আপনে মন খারাপ করেন!! কেম্নে কি?

মন্তব্য করুন