মন খারাপের দিস্তা
একটু আগে ঋহান’কে বকা দিচ্ছিলম “তোমার সাথে আর কথা নেই। তুমি গত ৩দিন যাবৎ দুধ ছাড়া কিচ্ছু খাও না”। বলে রাগ মাখা মুখ নিয়ে ওর জন্য দুধ বানাচ্ছি, দেখি সে আমাকে ফলো করছে। যেই আমি ওর দিকে তাকালাম সে হেসে দিলো। আমি বললাম, “কোন লাভ নেই। তুমি ভেবেছো হাসলেই মা’র রাগ কমে যাবে? জ্বী না!” বলে আবার অন্য দিকে তাকালাম। এবারও সে আমাকে ফলো করছে। দুধ বানানো শেষ। ফিডার দেয়ার জন্য যখন আবার তাকালাম, এবার সশব্দে হেসে দিলো। পরাজিত হলাম ওর কাছে। আমিও হেসে ওকে কোলে তুলে জড়িয়ে ধরলাম।
মানুষ কত বছর বয়স থেকে সব কিছু মনে রাখতে পারে আমার জানা নেই। আমি যখন ৪ বছরের তখনকার একটা স্মৃতি মনে পরে, “বিকেল হলেই জানালার গ্রীল ধরে বসে থাকতাম, কখন আব্বা আসবে আর তার কোলে যাবো”। তারপর যখন আরেকটু বড় হলাম, তখন আর আব্বা’র জন্য এভাবে অপেক্ষা করতাম না। তখন বিকেল হলেই অপেক্ষা করতাম, কখন ভাইয়া’রা মাঠে খেলতে যাবে। কারন, আমিও তাদের পিছে পিছে খেলতে/খেলা দেখতে দৌড় দিবো। আস্তে আস্তে সেই অপেক্ষার দিনও শেষ হয়ে গেলো। মানুষের শৈশব মনেহয় এভাবেই রকেটের গতিতে শেষ হয়ে যায়। এরপরের অংশে বেশির ভাগ মেয়েরাই মনেহয় পড়া-লেখা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। যত দিন যেত, শুধু ভাবতাম, “ইস! কবে যে স্কুল জীবনটা পার করে কলেজে উঠবো? কবে যে বড়দের শাসন থেকে বেড়িয়ে আপু-ভাইয়া’দের মত নিজের মত পড়া-লেখা করবো”। আবার যখন কলেজে উঠলাম তখন ভাবতাম, “ইস! কবে যে ইউনিভার্সিটি’তে উঠবো? তখন নিজের মত ঘুরে বেড়াবো, কেউ বাঁধা দিবে না”। এভাবে ভাবতে ভাবতে আজ স্কুল জীবনও শেষ, কলেজ জীবনও শেষ, শেষ হয়ে গেছে ইউনিভার্সিটি জীবনের একটা অধ্যায়ও। ইউনিভার্সিটি জীবনের যে অধ্যায়ে এখন আছি, সেটা নিতান্তই অনিচ্ছায় চালিয়ে যাচ্ছি। শুধু এই ভেবে যে, আজ না হোক কাল আমাকে তো এই অধ্যায়টাও চুকাতেই হবে, তবে কেন আজ নয়? তাই, ঋহান'কে নিয়ে বেশ ঝামেলা করেই এই অধ্যায় চুকাতে হচ্ছে। তাই এখন আবার ভাবি, “ইস! কবে যে পুরো অধ্যায়টা চুকাতে পারবো? কবে যে ঋহানটা একটু বড় হবে? অন্তত তখন নিশ্চই কিছু একটা আমি নিজের মত করে করতে পারবো"?
কিন্তু আসলে পারবো কি? হয়তো এভাবেই ভাবতে ভাবতেই একদিন দেখবো, বুড়ি হয়ে গেছি। তখন হয়তো ফেলে আসা দিন গুলো’র কথা মনে করতে করতে ভাববো, “ইস! যদি আবার সেই জানালার গ্রীল ধরে আব্বা’র কলে উঠার জন্য অপেক্ষা’য় থাকতে পারতাম”?
অনেকদিনই ভাবি, এটা সেটা লিখবো। কিন্তু পরে আর সময় করে লেখা হয়না। সব মিলিয়ে একটা দিনের সময় গুলো যে কিভাবে চলে যায়, নিজেও টের পাইনা। আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় সবাই-ই নিজের মত ব্যস্ত, এটাই স্বাভাবিক। আমিও একদিন নিজের জন্য ব্যস্ত হবো, নিজেকে সময় দিবো।





হুম।
সাথে দুইটা-তিনটা নতুন ছবি দিলে হতো না আমারদের গাবলুটার।
অফটপিকঃপোস্ট প্রথম পাতায় নাই।
প্রথম পাতা তো আজাইরা প্যাঁচালের জন্য নয়।
আর গাবলুটার ছবি তো প্রায়ই দেখেন আজ না হয় গাবলু'র মা'য়ের প্যাঁচালই হজম করেন
দারুণ লাগলো!
তাই?
অবাস্তব সবকিছুই সবসময় দারুনই লাগে
প্রথম পাতায় নাই কেন?আর এখানে ঋহানের ২ টা ছবি দিয়ে দাও। গুল্টুসটাকে দেখি
প্রথম পাতা তো আজাইরা প্যাঁচালের জন্য নয়।
আর গুল্টুসটার ছবি তো প্রায়ই দেখেন আজ না হয় গুল্টুস এর মা'য়ের প্যাঁচালই হজম করেন
আজাইরা প্যাঁচাল নিয়েই তো জীবন। এটা আজাইরা প্যাঁচাল কেন হবে? আজব তো! প্রথম পাতায় দাও।গুল্টুসের ছবি দেখে আমাদের মন ভরে না।গল্টুসের কথা লিখলেই ২/১ টা ছবি সাথে দিবা। যেমন সে যে মাকে মুগ্ধ হয়ে দেখে হাসলো, এটা আমরাও মুগ্ধ হয়ে দেখতে চাই।
আজ সকালে তোলা
ফেসবুকে এখন এই দুই টুবলুকে দেখে তো মজা করে ভর্তা বানাতে ইচ্ছা করতেছে।
দুইজনের জন্য অনেক আদর, দোয়া।
ঋহান গতকাল থেকে কিছু খেয়ে শেষ করতে না করতেই কাশতে কাশতে বমি করে দেয়।
দোয়া কইরেন যেন জলদি সুস্থ হয়ে যায়!
এইটা মোটেই আজাইরা কোন পোস্ট না, পোস্ট প্রথম পাতায় চাই।
ছোটবেলার ঠিক কতোটা পুরনো স্মৃতি মানুষের মনে থাকে এই বিষয়টা আমার মজা লাগে। আমি মনে করতে পারি, আমার এক ফুপু, বাবার চাচাতো বোন, যার বিয়ের দিনের স্মৃতি। সেটি আমার ক'বছর বয়সের স্মৃতি বাবার কাছে জানতে হবে। ফুপুর বিয়ের দিন ফুপু কালো শাড়ী পরেছিলেন, কেন কে জানে! শাড়ীটা কালো ছিল কি না সেটি আবার আম্মার কাছে জানতে হবে। এই মিলিয়ে নেবার ব্যাপারটা দারুণ।
সুখে আছেন!
সে তো আছি-ই
অনেক সুন্দর একটা লেখা। আমার অবশ্য জন্মের আগের স্মৃতিও মনে আছে। তখন আমি মায়ের পেটের ভেতরে ছিলাম। বলেন ,এই স্মৃতি আপনার মনে আছে?
:wink
হা হা..... দারুন বলেছেন
এইটা প্রথম পাতায় থাকতো। ঋহান কেমন আছে এখন?
দুপুরের দিকে একটু ইম্প্রুভ করেছিলো। কিন্তু, বিকেলের পরে আবারো কাশতে কাশতে দুইবার বমি করেছে। আসলে কাশি আর বমি'তে বেশি কাবু হয়ে গেছে বাচ্চাটা। টায়ার্ড হয়ে গিয়ে ঘুমোতে চায়, তাও ঠিক মত পারে না কাশি'র জন্য
দোয়া কইরেন, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন