বাংলাদেশ টেলিভিশন - ১
বয়সের হিসাবে খুব বৃদ্ধ না হলেও নিজেরে বয়স্ক ভাবা শুরু করেছি এরই মধ্যে। এই তো, বছর দুয়েক আগে ৩০ বছর অতিক্রম করেছি, এখন এই কোমর থেকে পড়ে যাওয়া যাওয়া প্যান্ট পড়া, বডি ফিটীং শার্ট পড়া ছেলে পুলে দেখলে নিজেকে বুড়োই মনে হয়।
আমার নানা-দাদা দের মত করে বলতে ইচ্ছা করে সেই ১৯৫৬ সালে, তখন ... কিংবা আমার নানীর মত করে এক হাতের কনুই বরাবর আরেক হাত দিয়ে ধরে মাপ দিয়ে বলতে ইচ্ছে করে এত বড় ফজলি আম আমার বাপজান আনতো বাড়ীতে...
সেরকম মনে হয় এখন , সারাক্ষনই স্মৃতি গুলা ঘুরাঘুরি করে চারপাশে। খুব ইচ্ছে হচ্ছিল বিটিভির সেই দিনগুলোর কথা শেয়ার করি সবার সাথে, কিছু কমন স্মৃতি।
জন্মের পরেই টিভি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। সাদা কালো টিভির যুগ ছিল তখন। যখন বুদ্ধি হল একটু একটু , দেখি কাঠের বাক্সের মধ্যে একটা বোকা যন্ত্র, সেই বাক্সের ৪ টা পায়া ছিল, বাক্স টা আবার দরজা দিয়ে লাগিয়েও দেয়া যেত। ভোল্টেজ ওঠা-নামা করলে ভিতরের যন্ত্রটা বন্ধ হয়ে যেত, তাই তার জন্য একটা বাড়তি ব্যবস্থা ছিল সেই যন্ত্রে। সে বাক্স বন্দী পুরা যন্ত্রটাই ছোট বেলায় টিভি হিসাবে জেনেছি।
সাদা কালো ক্যামেরার ছবি তাই সাদা কালো টিভি। সেই সাদা কালো যুগে টিভির ২ টা চ্যানেল ছিল - ৬ নং আর ৯ নং চ্যানেল, অথচ এখন টেরিস্টিয়ালে একটাই চ্যানেল। সবাই সামনে যায়, আমরা পিছনে যাই, এটা তার আরেকটা প্রমান।
সেই সাদা কালো টিভিতে প্রথম কার্টুন দেখেছিলাম শেহজাহান। পুরা কাহিনী মনে নাই , তবে যতটুকু মনে পড়ে ১ টা ছেলে আর ১ টা মেয়ে, দুই জনের হাতে একটা আংটির অর্ধেক করে লাগানো, এক সাথে করলেই একটা দৈত্য হাজির হয়ে যেত । আর কি কি যে হতো , মনে নেই এখন।
সাদা কালো যুগে যেটা সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিল তা হোল - টারজান। সেই টারজানের মত করে আআআআআ করে ডাক আজও কেউ দিতে পারেনি। টারজান দেখার সময় বাসায় যেন মেলা বসতো, আশ-পাশ দূর দূরান্ত থেকে লোকজন আসতো দেখার জন্য - আমাদের টিভিওয়ালা বাসায়। টারজান দেখে টারজানের মত ঝুলা ঝুলি করে আহত হবার ঘটনা প্রায়ই ঘটতে শুনতাম তখন।
তখন তিন মাস পর পর একটা বাঙলা সিনেমা দেখানো হতো টিভিতে , সেটা দেখার জন্য উপচে পড়া ভীড় হতো বাসায়। অচেনা অজানা লোক এসে ভীড় জমাতো , আমাদের বাসায় আমরাই হয়ে যেতাম পরবাসী।
সেই সাদা কালো সময়ে বেশ কিছু নাটক হয়েছিল, নাটকগুলোর কথা আমার সেভাবে মনে পড়তো না যদি বিটিভির রজত জয়ন্তি তে না দেখানো হতো। যেমন - ইডিয়ট, সাত জন যাত্রী, বাঁলিহাস, মুখরা রমনী বশীকরন - এসব নাটক গুলো।
বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে নাটক গুলো ছিল অদ্ভুত, অন্যরকম সুন্দর। এখনকার মত করে যা-তা যেমন তেমন করে নাটক বানানোর মত করে বানানো হতো না।
আর ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে ছিল মাটির কোলে , সকাল সন্ধ্যা।
সকাল সন্ধ্যা নাটক চলতে চলতেই বিটিভিতে রঙীন ক্যামেরা এল। টিভি হয়ে গেল রঙীন।
সে ক্যামেরা দিয়ে ধারন করা ছবি নিয়ে রঙীন টিভির আরেক গল্প, আপনারা পছন্দ করলে পরের পর্বে না হয় বলবো।





আমার আরেকটা পোষ্ট প্রথম পাতায় আছে , কিন্তু এই ২ টা পোষ্টের সময়ের ব্যবধান ২৪ ঘন্টার বেশী, এখন এই পোষ্ট কি সরিয়ে দেয়া হবে নাকি হবেনা , বুঝছি না। মডু ভাই যদি জানাতেন দয়া করে।
লেখাটি একই সঙ্গে অন্য একটি কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশিত, তাই প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। নীতিমালাটি ভালো করে পড়ে নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন