আষাঢ় মাসে আসেন আষাঢ়ে গপ্পো করি।
আষাঢ় মাস আরম্ভ হলো আজ, যদিও বৃষ্টির দেখা নাই। বৃষ্টি আসুক আর নাই আসুক আজ বর্ষা
তা আষাঢ় মাসে আষাঢ়ে গপ্পো না করলে কি জমে নাকি !!! চলেন সবাই মিলে আষাঢ়ে গপ্পো শুরু করি। আমি শুরু টা করলাম, পরের অংশ যোগ করার দায়িত্ব বাকী সবার। সবার লেখা পর্যায়ক্রমে যোগ করে হবে গপ্পো।
`````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````````
সকাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে গেল হাসান রায়হান সাহেবের। আজ অনেক কাজ বাসায়। বন্ধুরা আসবে আজকে বাসায়, বিশাল খানাপিনা হবে। সরকারী দল ও বিরোধী দল আজ যৌথ ভাবে হরতাল ডাকছে। তাদের ২ নেত্রী কে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হয়েছে , সেই খুশীতে দুই দল যৌথ ভাবেই হরতাল ডাকছে। হরতালে গাড়ী-বাস চলবে শুধু অফিস আদালত বন্ধ থাকবে, সেই সুযোগেই আজ আড্ডার আয়োজন।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেস হয়ে নাস্তা খেয়ে হাসান রায়হান সাহেব বের হয়ে পড়েন বাজারের থলে নিয়ে। বেলা বেশী হয়নাই , বাইরে বেশ রোদ তবুও ঠান্ডা ঠান্ডা একটা ভাব এই ভাদ্র মাসের সকালে। রাস্তা নামতেই দেখেন হরতালের সমর্থনে সরকারী দলের মিছিল। বিরোধী দলের নেত্রীর ছবি বুকে টাঙ্গিয়ে মিছিল করছে তারা।
হাসান রায়হান সাহেব আসলে বুঝে উঠতে পারছেন না কি করা উচিত, মারামারি হবে কি না , পিকেটিং হবে কি না হরতালে !!! দুরু দুরু মন নিয়ে সামনে এগুতে লাগলেন।
বাজারের কাছাকাছি পৌছতেই বিরোধী দলের মিছিল। রাস্তায় পিকেটিং এর বদলে তারা নেচে গেয়ে মিছিল করছে। আশপাশ দিয়ে যাওয়া লোকদের উপর ফুল ছিটিয়ে দিচ্ছে। সবাই তালি দিয়ে বরন করছে মিছিলকারীদের । তাদের প্ল্যাকার্ডে ২ নেত্রীর ছবি শোভা পাচ্ছে।
এসব দেখে মনে বেশ সাহস বাড়লো হাসান সাহেবের। বাজারে ঢুকতে যাবেন , এমন সময় জ্বিনের বাদশার ফোন । হাসান সাহেব তার নতুন কেনা আইফোন টা বের করেন পাঞ্জাবীর পকেট থেকে। গতকালই কিনেছেন রাপা প্লাজা থেকে এই আইফোন ১৫০০ টাকায়। ওপাশ থেকে জ্বিনের বাদশা কি যেন বললেন আর এ পাশ থেকে জোরে জোরে মাথা ঝাকাতে লাগলেন হাসান সাহেব।
কথা শেষ করে বাজারে ঢুকলেন। প্রথমেই মাছের দোকানে। একটা ৯ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না , দাম জিজ্ঞেজ করলেন তিনি।
দাম শুনে তো তাজ্জব !!!!
রাফিঃ
তাজ্জব হাসান সাহেবের হাত থেকে বাজারের থলে পড়ে গেলো মাটিতে। বলে কি? ইলিশের কেজি মাত্র ১০টাকা!! নয় কেজি ইলিশের দাম তাহলে মাত্র ৯০টাকা!!!
হাসান সাহেবকে চুপ থাকতে দেখে মাছ বিক্রেতা একটু প্রমোশনাল এক্টিভিটিস চালালো।
: বুঝলেন কিনা শার, এই মাশ একবারে পদ্মার তীর ঘেষা এক পুকুরের গো....। লিয়া লেন, বেগুন দিয়া, আলু দিয়া রানতে কইবেন পরিবাররে....
হচকিত হাসান সাহেবকে আমতা আমতা করতে দেখে দোকানী এইবার দাম কমালো, বললো.
:ঠিক আশে শার, দাম একটু কমই দেন। কিন্তু ৭০টাকার নিচে হবে নাকো.....
ততধিক বিভ্রান্ত হয়ে হাসান সাহেব মাছটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে দাম শোধ করে দ্রুত পায়ে হাটা দিলেন সব্জি বাজারের দিকে। ধরেই নিলেন মাছ বিক্রেতা আজ দম দিয়ে দোকানে বসেছে। নেশা কেটে গেলেই এই মাছের দাম বেড়ে যাবে......।
সাঈদঃ
হাসান সাহেব ৫০০ টাকার মধ্যে বাজার সদাই শেষ করে ঠেলাগাড়ীতে করে নিয়ে আসলেন বাসায়। বাসায় ঢুকতেই দেখেন যে মেইন গেট খোলা, পুরো বাড়িতে কেউ নাই। বাসার সবাই গেল কই ? তাড়াতাড়ি তার মিসেস কে কল করেন
ঃবাসা খালী , কেউ নাই বাসায় , কই গেছ তুমি ? বাকী সব কই ?
ওপাশ থেকেঃ আর বলো না , বিশাল ঝামেলা বাঁধছে এদিকে। আজাদ সাহেবের ছেলে কে যে মেয়ে ভালোবাসতো, সেই মেয়ে এখন অস্ত্র নিয়ে হাজির, আজাদ সাহেবের ছেলে কে তার সাথে বিয়ে না দিলে নাকি সবাই রে গুলি করে মারবে
ঃ বল কি ? হাসান সাহেবের চোখ বড় বড় হয়ে যায় শুনে , হার্টবিট বেড়ে যায়।
ঃচিন্তা করনা , আমি ৫ মিনিটের মধ্যেই আসছি।
হাসান সাহেব হাঁপ ছেড়ে বাচঁলেন। রান্নাঘরে ঢুকে মাছ, মাংস বের করে বটি বের করে কুটতে লাগলেন। এরই মধ্যে তাঁর স্ত্রী এসে হাজির। পাশে বসে এক নাগাড়ে বলে যাচ্ছে সেই ঘটনার আদ্যপান্ত আর হাসান সাহেব মাথা ঝাকাচ্ছেন আর রান্নার যোগাড় যন্ত্র করছেন।
রান্না প্রায় শেষ এমন সময় কলিং বেলের শব্দ। হাসান সাহেব দরজা খুলেই দেখে সামনে নজরুল দাঁড়িয়ে । সাথে তার পুরো পরিবার
- আরে বাসা চিনলে কি করে ? এস এস ভিতরে এসো
- ট্রাফিক সার্জেন্ট কে বাসার ঠিকানা দেখাতেই নিজে এসে দেখিয়ে দিয়ে গেল , তাই আর অসুবিধা হয় নাই।
ড্রয়িং রুমে এসে বসে তারা।
মামুন হকঃ
ড্রয়িং রুমে বসে নজরুল নিজেই টিভি ছাড়ে, ফ্যান ছাড়ে। ফ্রিজ খুলে পানির বোতল বের করে শরবত বানায়। সেই শরবতে শুধু পানি, রূহ আফজা আর লেম্বু চিপা। টিভিতে আগের রাতের খেলা পূণঃপ্রচার চলছে। আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে ধরে গুনে গুনে এক হালি রসগোল্লা খাইয়ে দিয়েছে। টিভিতে দুঙ্গার বিষণ্ণ মুখ, দুগগা দুগগা বলে আকাশ পানে তাকিয়ে বিপন্ন চেহারায় ক্রন্দন। ম্যারাডোনার ভাবলেশহীন চেহারা, গোল আরও গোটা চারেক হতে পারতো বলে আফসোস। ডাবল হ্যাট্রিক কেন করলি না বলে মেসিকে চটকানা। মেসি গুস্বা করে ড্রেসিং রুমে গিয়ে কোথাও ফোন করে।
হল্যান্ডে তানবীরা আপার মেজাজ খারাপ। দুলাভাই রান্না করতে গিয়ে সারা বাড়ি মেখে ফেলছেন, এমন মেসি মানুষ হয়? শুধু রান্নাঘরটা না পুরা বাড়িটাই এখন একটা বিরাট মেস বানিয়ে দুলাভাই দাঁত কেলিয়ে হাসছেন। এরই মধ্যে ফোন বেজে ওঠে। নাম্বারটা অচেনা। রং নাম্বার নাকি? ছিঃ এমন মেসি মানুষ হয়, মেসি মেসি বিড়বিড় করতে করতে আপা ফোন ধরেন। ওদিকে ফোনে নিজের নাম শুনে মেসি ডুকরে কেঁদে ওঠে, 'আম্মাগো আইজকা আমারে ওস্তাদে থাবড়াইছে, আমি আর খেলুম না'। এই বয়সেই কারও মুখে আম্মা ডাক শুনে তানবীরা বেগম মুখ ঝাঁমটে ওঠেন, ' ঐ পোলা আম্মা ডাকলি ক্যান? বুবু ডাকতে পারস না? কেডায় তুই? কোন দেশী?' মেসির কান্নার আওয়াজ আরও বাড়ে,'আম্মাগো আমারে চিনলেন না, আমি মেসি, ব্রাজিলরে মাত্র চাইরটা দিসি আরও চাইরটা দিতারতাম।'
'দূরে গিয়া মর বদের হাড্ডি কোথাকার, রাবণের জ্বালাতেই বাঁচিনা, আবার সুগ্রীব দোসর'-ক্ষিপ্ত তানবীরা ফোন রেখে দেন। ওদিকে ব্রাজিলক আরেক হালি না দিতে পারার দুঃখে মেসি ফুঁপিয়েই চলে।
হাসান রায়হানঃ
একে একে লোকজন সব চলে আসছে। মেসবাহ য়াযাদ এসেছেন সপরিবারে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে। টিসার্ট আর সর্টস। মনু ভাবির হাতে ফুটবল। ড্রয়নিং রুমেই পরিবারটা ফুটবল খেলা শুরু করে। ভাবি স্ট্রাইকার মেসবাহ গোলকিপার। বিপক্ষ দল নজরুল পরিবার। ওরাও ব্যাগ থেকে ব্রাজিলের জার্সি সর্টস পরে নেমে যায় খেলায়। মেসবাহ ভুয়া কিপার । একটা শটও কিপ করতে পারলনা। অন্যদিকে মনু ভাবি পটাপট গোল দিয়ে খেলায় সমতা আনল। সবচেয়ে ভালো খেলছে মেসবার তিন মাসের ছেলে সমুদ্দুর। সারা মাঠ চষে বেড়িয়ে নিখুত সব পাস দিল স্ট্রাইকারকে। খেলা জমে উঠেছে, তুমুল উত্তেজনা।
এইসময় শোনা গেল হেলিকপ্টারের শব্দ। খুব নীচ দিয়ে উড়ে আসছে। কী? না ছাদে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করল। দরজা খুলে নেমে আসল রায়হান সাঈদ। সাথে লবঙ্গ লতিকার মত ঝলমলে এক তরুনী। কে এই তরুনী? সবাইর এক প্রশ্ন। সাঈদ লাজুক মুখে জানায় অনেক দিন ধরে কান্দাকাটি করার পর গতকাল রাত দেড়টার সময় মন গলেছে ললনার। তাই আজকে ডেটিংয়ে নিয়ে এসেছে। প্রেমিকার আব্দারে হেলিকপ্টার ভাড়া করে এসেছে বেড়াতে।
আমরা যারা প্রত্যকদিন এফবিতে সাঈদের স্ট্যাটস কান্দাকাটি দেখতে দেখতে অলমোস্ট বিরক্ত আলোচনায় বসি। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। মেয়ে যখন পটাতে পেরেছে সাঈদকে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে, আর সেটা আজকেই। পরে মেয়ে বিগড়ায় বসলে আবার শুরু হবে সাঈদের কান্দাকাটি। আরিফ জেবতিক বলে আপনারা সব আমার হাতে ছেড়ে দেন। এক ঘন্টার নোটিশে বিয়ে দেয়ার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সাথে সাথেই তিনি ফোন করেন কাজী কে। এদিকে রিমঝিম বিয়ার খবরে খুশিতে নাচছে। মেকআপ বক্স বের করে তখনই সাজাতে শুরু করে কনেকে।
খুশি আনন্দে ঘর মৌ মৌ করে। এমন সময় নুশেরার ফোন আসে চিটাগাং থেকে। খারাপ সংবাদ। ও আসতে পারবেনা। রওনা দেবে এমন সময় দেখা যায় ওদের রোলস রয়েস গাড়িটা স্টার্ট নিচ্ছেনা। জার্মান ড্রাইভার ওলমার জানায় পাপুয়া নিউগিনি থেকে ইন্জিনিয়ার না আসা পর্যন্ত গাড়ি ঠিক হবেনা। সুতরাং নুশেরার আসা হচ্ছে না। আসরের সবাই মন খারাপ করে। নুশেরার চাঁদ বদন কেউ দেখে উঠে পারে নাই। এমনকি চিটাগাং এর লোকেরাও না। এইটা অবশ্য নুশেরার অপরাগতা কিছু নয়। ঐখানের অবস্থা বিটকেলে। পেপারে এসেছে প্রকাশ্যে দিবালোকে পুরুষে পুরুষে চুমাচুমি করছে। তওবা অস্তাগফিরুল্লা। যাই হোক মেসবাহ য়াযাদ দুইহাত উচু করে দাড়িয়ে ঘোষণা দিল, সে যাবে চিটাগাং, নুশেরাকে নিয়ে আসতে। আমরা বললাম যাবেন আসবেন দিন পার হয়ে যাবে না? য়াযাদ ভাই বলেন হেলিকপ্টার তো ছাদে আছে এইটা নিয়া যাই। আরে তাইতো ! এটাতো সাঈদ সারাদিনের জন্য ভাড়া করেছে।
হাফপ্যান্ট পরা য়াযাদ ভাই হেলিকপ্টারে উঠেন। উদরাজি বলেন উনিও যাবেন মাঝপথে কুমিল্লা নেমে যাবেন শ্বসুর বাড়ির তরমুজ খেতে।
জয়িতাঃ
হেলিকপ্টার মেজবাহ ভাইকে নিয়া রওয়ানা হলো।মেজবাহ ভাই পাইলট কে ঝাড়ির উপড় রাখছে। "মিয়া চালাতে পারেন না তাইলে প্লেন চালান কনে? কাইত হইলো কেন?" পাইলট মনে মনে মহা বিরক্ত। এর মধ্যে নুশেরাপুকে হেলিকপ্টারে করে আনতে যাওয়ার খবর পেয়ে তানবীরাপু, নেদারল্যান্ড থেকে মেজাবাহ ভাইকে ফোন দিলো"নুশেরাকে আনতে যাচ্ছেন আড্ডা দেয়ার জন্য আর আমার কথা মনে পড়লো না? এখনই রওনা দেন, আমি রেডি হয়েছি। আগে নেদারল্যান্ড আসেন , তারপর আমরা দুজন মিলে নুশেরাকে আনতে যাব। " মেসবাহ ভাই পাইলটকে বললো নেদারল্যান্ড যেতে। পাইলট বলে "নেদারল্যান্ড কুন দিকে?চিটাগাং এর আগে পড়ব? নাকি পার হইয়া যাইতে হবে? তাইলে কিন্তু ভাড়া বাড়িয়ে দিবেন"।
এমন সময় নুশেরাপুর ফোন "মেসবাহ ভাই আসতে এত দেরী কেন করছেন? আমি তো রেডী হয়ে বসে আছি। বেশি দেরী হলে সাজগোজ নষ্ট হবে, তখন কিন্তু যাব না।" মেসবাহ ভাই আমতা আমতা করে "হ্যাঁ আসছি,। আরে পাইলট লুক সুবিধার না, রাস্তা ভুল করে ফেলছে।" প্লেন এখন কুথায় যাবে বুঝতে না পেরে বুড়িগঙ্গার উপড়ে খালি পাক খাচ্ছে। মাসুম ভাই ভাবছে, "বাহ। দারু একটা ক্যাচাল লাগলো । এইটা নিয়া নিশ্চয়ই আজকে আমাকে ই টি ভি তে ডাকবে এই ঘটনা নিয়া চাপা পিটাইতে! যাই পারসোনায় ফেসিয়ালটা করে আসি।ফেসবুকে বান্ধবীর সংখ্যা তো বাড়াতে হবে!!!!
শওকত মাসুমঃ
হেলিকাপ্টার বুড়িগঙ্গায় ঘুড়তে ঘুড়তে একটু ডানদিকে চলে আসে। মেসবাহ য়াজাদ উকি দিয়ে দেখে সব বাড়িতে ফ্লাগ আর ফ্লাগ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল না হয ইতালির। খালি একটা বাসায় সাদা কাপড় উড়ানো, সেখানে খালি লেখা এভেইল্যাবল। মেসবাহ পাইলটরে বললো এখানেই থামাতে, যাওয়ার সময় না হয় জেবীনকেই নিয়ে যাওয়া যাক। তা নাহলে আবার রুবাইকে আরেকটা হেলিকপ্টার ভাড়া করতে হবে।
কিন্তু সমস্যা হলো আরেক জায়গায়। আবহাওয়া হঠাত থারাপ হয়ে যাওয়ায় হেলিকাপটার উল্টা পাল্টা আচরণ শুরু করলো। মেসবাহ য়াজাদের মনে হলো ......
মুখোমুখি মাখামাখি
লাফালাফি ঝাপাঝাপি।
মেসবাহ হঠাত চিতকার করে বলে উঠলো, এই পাইলট, হেলিকপ্টার আবার বুড়িগঙ্গার দিকে নিয়ে যান। পাইলট বললো, কেন নুশেরা কিংবা তানবীরা-কাকে যেন আনতে হবে বললেন যে। আবার বললেন অ্যাভাইলেবেল ফ্লাগওয়ালা বাসায় থামতে। কাহিনী কি?
মেসবাহ য়াজাদ বললো- বুড়িগঙ্গার আশে পাশে নামান কোথাও। আমার দোস্ত উদরাজির কাছ থেকে বহু কষ্টে গুলনাহারের ঠিকানাটা নিছিলাম। এখন একটু পাঙ্গাসের পেটি খাইতে ইচ্ছা করতাছে যে.......
জেবিনঃ
সবার এদিক সেদিক দৌড়ঝাপ দেখে খানিক বিরক্তিতার সাথে রাগও দানা বেধেঁ উঠছে মানু’র! মুখ ফুটে বলে নাইতো কি হইছে, রানী’র দেশের লোকের কথা একবারও কারোর মনে পড়ল না!! একেতো জেয়াফতে যাবার বিষয়টা আছে, তার উপর মেজাজ খারাপের আরো একটা ব্যাপার যোগ হইছে। আগে দূর্দান্ত সব কবিতা দিলেই ৪২/৪৩ টা করে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পেন্ডিং থাক্তো, কবি-ক্যামেরা সংক্রান্ত ঝামেলার কারনে সেসব দিনে ভাটা পড়ছে, ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্টতো আসেই না।। তার উপর কাউকে রিকয়েষ্ট পাঠাইলে সেটাও মঞ্জুর হয় না। মাঝে দিয়া তার রিকুয়েষ্ট পাঠানির তোড়ে ফেসবুক গেলো ব্যান হয়ে, পাব্লিকে বুঝতে পারে নাই, নইলে খবরই ছিলো তার। বেশ কিছুদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষনের পর বুঝা গেলো, সেই ভক্তকুল ইদানিং খেলোয়ারদের(ফুটবল, ক্রিকেট এমনকি ফার্মভিলের ও) প্রতি আরক্ত হইতেছে লক্ষনীয়মাত্রায়। তাই জেন্টেলম্যান্স গেইম ক্রিকেটকে বেছে নিয়ে ফটোশপ দিয়ে ক্রিকেটটিমের সাথের একটা ছবি বানাইয়া আপলোড করতে না করতেই দূর্মুখা টেকিবন্ধুগুলা এসে বলে গেলো “ব্যাটা, করলিতো ফূটূশপের কেরামতি”! আরে, তাতে তোদের কি! হোক না কেরামতি, তাতে জানা তো যাইতো কিছু হুরমতিদের মনের গতিমতি!... অন্যদের কথা গোনায় না ধরলেও মাসুম্ভাইরে পর্যবেক্ষনে রাখতেই হিমশিম খাইতে হইতেছে। পেপার, টিভি মিডিয়া কাভার কইরাও তার আশ মেটে না, ম্যাসেঞ্জার আর ফেসবুকেও ছেয়ে যেতে চায়! ফেসবুকেতো ঘোষনাই দিলেন “ফেসবুক ব্যান করা চলবো না, ৩০০’র বেশি বান্ধবীরে হারায়া যাইতে দিমু না” এদ্দিন খালি “আই এ্যম মোবাইল” (যেখানে খুশি পোর্টেবল আর কি) ঝান্ডা দেখাইতেন অফিস বইসা, আর এখন তো ঘরে-বাইরে সবখানেই “এভেইল্যাবল” দেখান। মেসবাহভাই তো এত্তো খবর রাখেন না, দেখা যাইবো জেবীন’রে আনতে গিয়া দাওয়াতে, “এভেইল্যাবল” ঝান্ডা দেখে মাসুম্ভাইরে নিয়া আসবে। মাঝে দিয়া লাগবে ক্যাচাল, অন্যরা বলবে, আনার কথা সব কইন্যাদের মাঝে দিয়া মাসুম্ভাই কেম্নে আসলেন!!
লাগুক ক্যাচাল তাতে এই লন্ডনবাসী’র কি! নিজেরই চিন্তার শেষ নাই, আরো চিন্তার কথা হইল, এই মাসুম্ভাইয়ের শালা বিমা। শালা-দুলাভাই মিলে আন্তর্জাতিক-আভ্যন্তরিন সব্দিক থেকে এ্যটাক করতেছে, যেন তারা আমারে পানিতে মারবে- ভাতে মারবে! কোন পাকা ধানে মই দিছিলাম এদের কে জানে! দুলাভাই যেখানে আন্তর্জালে বিস্তার ঘটাইতেছেন, শালা এখন নজর দিছে সিরাজগঞ্জের দিকে! অফিসের কাজের বাহানায় ঘনঘন যাতায়াত শুরু করছে ওইদিকে! কিযে তার মতিগতি বুঝাই ভার...
যাক, যেটা পয়লা সমস্যা সেটা কেম্নে সমাধান হবে ওইটা নিয়া ভাবার টাইম এখন, মেসবাহভাইরে কেম্নে যে জানান দিবো যে, ‘ভাই হেলিকপ্টারটা এট্টু কান্নি মাইরা লন্ডনের দিকে লইয়া আসেন।‘ মেসবাহভাইয়ের সুখ্যাতি তো সবারই জানা মেসেঞ্জারে মেসেজ দিলে আবার ফোন কইরা তারে জানাইতে হয় “ভাইরে ম্যাসেঞ্জারে ওই কথা বলছি দেখে আসেন প্লীজ!”... তবে কি অচিন’দার ঘরে দাওয়াত খানা হবে না? উনার সাথে এর আগে নূরাভাইয়ের বাড়িতে দাওয়াত খানা মিস হইছিল, সেই আফসুস এখনো যায় নাই, আবার দাওয়াত মিস হবে??...
শওকত মাসুমঃ
মানু অপেক্ষায় আছে।
এদিকে আকাশে ঘুরপাক খাচ্ছে মেসবাহ য়াজাদ।নুশেরা বা তানবীরাকে আনতে যাওয়ার চেয়ে পাঙ্গাসের পেটিই টানছে তাকে। কিন্তু ঝামেলা বাদালো পাইলট। হঠাৎ বেরসিকের মতো বলে বসলো, বড় পাঙ্গাস হইলে আমারেও একটা পেটি দিয়েন। অনেকদিন পেটি খাই না।
মেসবাহ য়াজাদ বুঝলো-এই লোকরে পথ চেনানো ঠিক হবে না। কথা ঘুরিয়ে বললো, আপনার হেলিকপ্টারের পাঙ্খাটা কই? একটু দেখতাম।
অবাক হয়ে পাইলট বললো, পাঙ্খা দেখার কি আছে।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, যেখানেই যাই, আমি পাঙ্খা ছাড়া যাই না। আই লাভ পাঙ্খা। তাই একটু দেখতে চাইছিলাম।
পাইলট বললো, হেলিকপ্টারে পাঙ্খা তো উপরে থাকে, কেমনে দেখবেন এখন।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, তাইলে থামান এইটা, পাঙ্খা দেখি।
পাইলট বললো, এমনিতেও থামাইতে হবে, হেলিকপ্টারের তেল শেষ হইয়া গেছে প্রায়। ঢাকার বাইরে আর যাওয়া যাবে না।
মেসবাহ য়াজাদ কি মনে করে বললো, তাহলে আবার রায়হান ভাইয়ের বাসায়ই চলেন।
হেলিকপ্টার নামলো রায়হান ভাইয়ের বাসার ছাদে। রুমে ঢুকে দেখে সাঈদ এখনও এই বাসাতেই আছে। কিন্তু চিন্তিত। মেসবাহ য়াজাদ জিজ্ঞাস করলো কি হইছে সাঈদ। সাঈদ বললো, পেপারে একটা খবর পইড়া একটা জিনিষ নিয়া ভাবতাছিলাম।
কি নিয়া?-মেসবাহ জানতে চাইলো।
সাঈদ বললো-পাটের নাকি জন্ম রহস্য আবিস্কার হইছে। আমি ভাবতাছি মানুষের জন্ম রহস্য নিয়া। ভাবছি এইটা নিয়া গবেষণা করবো। কিন্তু এতো টাকা কই পাই।
মেসবাহ য়াজাদ একটা হাসি দিয়া বললো, এই গবেষণার জন্য টাকা পয়সা তেমন লাগে না। ৪ বা ৫ টাকা হলেই হবে। সেইটা থাকলে বলেন ব্যবস্থা করে দেই।
সাঈদ বললো, এই টাকা কোনো ব্যাপারই না। ব্যবস্থা করেন।
মেসবাহ য়াজাদ তখন বললো, এই টাকা খরচ কইরা একটা বিবাহ করেন, খানা পিনা দেন, তারপর ঠিকই জন্মরহস্য জাইনা যাইবেন।
এইটা বলে মেসবাহ য়াজাদ মোবাইল থেকে একটা গান বের করে সাঈদের কানে দিল
তুমি দিও নাগো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া
আমি বন্ধ ঘরে অন্ধকারে যাবো মরিয়া..........
সাঈদ এবার মুচকি হেসে বললো, এই কথাটা কত ভাবে বুঝাইতে চেষ্টা করি, কেউ বোঝে না।বান্ধবী পর্যন্ত এখানে নিয়া আসলাম। আসল ব্যবস্থাতো কেউ করে না।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, সমস্যা নাই। পাত্রীও রেডি। ব্যাপার না। তয় কিছু টাকা ছাড়েন। তেল নিতে হবে। নুশেরা আর নুপুররে আনতে হবে।
মেসবাহ য়াজাদ আবার হেলিকপ্টারে উঠে পড়লো...........
সাঈদঃ
হাসান সাহেবের বাসার মধ্যে বিশাল ক্যাচাল। একদিকে বিয়ের আয়োজন অন্যদিকে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা খেলা।
সবাই একটু ভয়েই ছিল বল লেগে আবার ঘরের কিছু ভাঙে টাঙে কিনা। কিন্তু বল লাগতেই দেখে ঠন ঠন করে আওয়াজ। সবাই দেখে যে হাসান সাহেবের বাসায় সব কিছু স্টীল দিয়ে তৈরী, এমনকি কাপড় চোপড় ও, সেখানে আবার তালা চাবি সিস্টেম ও আছে।
টুটুলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল হাসান সাহেবের বাসায় আসার সময় যেন কাজী ডেকে আনা হয়। টুটুল রাস্তায় বের হতেই দেখে সুন্দরী , সুইট একখানা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাসের অপেক্ষায়। তাকে দেখে টুটুলের চোখ আর নামেনা, অবশ্য ছোটবেলা থেকেই তার এই অভ্যাস।
-এক্সকিউজ মি বলে টুটুল এগিয়ে যায় মেয়েটির দিকে
- জ্বী বলুন
- মেয়েটি ঘাড় ঘুরিয়ে উত্তর দেয়।
মেয়েকে দেখে টুটুলের হার্টবিট বেড়ে যায়, কপাল থেকে অনবরত ঘাম ঝড়তে ঝড়তে থাকে। কি বলতে কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।
- না মানে বলছিলাম কাজী অফিস যাবো । আমতা আমতা করে বলে টুটুল।
- হোয়াট ? বলেই ফুঁসে উঠে সন্দরী তন্বী। "তবেরে বুড়ো মিনসে" - বলেই টুটুল কে দুখানা চটকানা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
নিজের গাল ঘষতে ঘষতে , বিড় বিড় করে "কাজীর নিকুচি করি" বলতে বলতে টুটুল হাসান সাহেবের বাড়ীর দিকে পথ ধরে।
ওদিকে দেরী দেখে তানবীরা নাসায় ফোন দিয়ে রকেটের ব্যবস্থা করে ফেলে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রকেট চলে আসবে তার বাসার ছাঁদে ল্যন্ড করবে তারপর সেখান থেকে সোজা ঢাকায়, আসার পথে শুধু নুশেরা কে নিয়ে আসবে সে, এইভাবেই কথা হয়েছে মেসবাহ ভাইয়ের সাথে।
সাঈদ গোমড়া মুখে বসে আছে সোফার উপরে পাশে সুন্দরী নিয়ে, ঢাকায় কোন কাজী পাওয়া যাইতেছে না। এদিকে বেলা শেষ হয়ে আসতেছে প্রায়।
এমন সময় টিভিতে হঠাৎ বিশেষ ঘোষনা । নোয়াখালী থেকে মুকুল নামে একজন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেবে।
শাওন ৩৫০৪ঃ
.......ঠিক সময়ে সবাই টিভি ছাইড়াই দেখে, ভুলে ক্যামেরা ধরা হৈয়া গেছে আগেই, মুকুল কোটের সাথে টাই টিক করতাছে, সাথে চেক কাটা বর্মিজ লুঙ্গি। টেবিলে বইসা খবর দেয়ার কথা ছিলো মুকুলের....ইউ নো...
অনুষ্ঠান মূলত বাংলাদেশের একজনের বিশাল এক আবিষ্কার। আবিষ্কারক আর কেউ না, সয়ং মুকুল। সেই সম্পর্কে আলোকপাত করবে মুকুল, যা একযোগে সরাসরি প্রচারিত হৈতাছে BBC, CNN, FOX Channel সহ বিশ্বের নামকরা সব টিভি চ্যানেলে....
কি সেই আবিষ্কার? না, আবিষ্কার টা হৈলো, ম্যাচ ম্যাকিংয়ের থ্রী ডি মডেল, যেইখানে সরকার থেইকাই, অবিবাহিত নর নারীর প্রোফাইল ইনপুট হৈয়া যাবে, আর প্রোগ্রাম বা মডেল টা নিজে নিজেই উপযুক্ত পাত্রের জন্য পাত্রী খুঁইজা দিবে------
অনেককালের খায়েশ এইবার মুকুললের পুরন হওয়ার পথে..
মডেলটা বাই ডিফল্ট সব নিত্য ব্যবহার্য্য যন্ত্রের সাথেই যুক্ত হওয়া শুরু হবে এখণ থেইকা, যেমন কম্পু, ক্যালকুলেটের, মোবাইল, গাড়ীর ইঞ্জিন, হাত ঘড়ি------
এই আবিষ্কার টা প্রোয়োগ কৈরা অভাবনীয় সাফল্য পাইছে মুকুল, সুদুর ঘানা থেইকা হিগুইতা মারিয়ামা আর ভারত থেইকা মল্লিকা শেরওয়াৎ ম্যাচ করছে মুকুলের প্রোফাইলের সাথে-------মুকুলে খুশিতে ডগমগ--------
সমস্যা হৈতাছে, মুকুলকে অনুষ্ঠান টেলিকাস্ট করতে হৈতাছে ঘেরাও অবস্থায় । কারন, মুকুলের আবিষ্কারে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় হৈছে ঘটক পাখিরা । সারা দেশের সব পাখি ভাই জড় হৈছে নোয়াখালীতে, এখন মুকুল কি করবে?
শুধু তাইনা, ঘটক ভাইদের ডাকে সাড়া দিয়া, ঘেরাও কর্মসূচীতে যোগ দিছে সারাদেশের কাজী সাহেবরা। তাই কোথাও এই মুহূর্তে বিয়া হৈতাছেনা সারাদেশে---------কিন্তু এমন অভুতপূর্ব সাফল্যের কথা কি চাইপা যাবে মুকুল?
রায়হান ভাইয়ের বাসায় বৈসা সবাই উৎসুক হৈয়া অপেক্ষায়-------
ঐদিকে চিটাগংয়ে নুশেরা আপু মুকুলের এইরকম হঠকারী আবিষ্কারে জিদ্দের চোটে গজগজ করতাছে/ একেই মেসবাহ ভাই হেলিকপ্টারের লোভ দেখাইয়া রাখছে, গালের রোউজ কুট কুট করতাছে, আবার এইদিকে মুকলা কি আবিষ্কার করলো???
রায়হান ভাইয়ের বাসায় সাঈদ ভাই দরদর কৈরা ঘামতাছে, কি হবে?
ঐদিকে টুটুল ভাইয়ের পিছে পিছে আসতাছে মেয়েটা, টুটুল ভাই ভাবে, খাইছে, আরেকটা মারবো নাকি? আপনাতেই হাত উইঠা যায় গালে-----
এমন সময়, রায়হান ভাইয়ের বাসায় নক করে এক লোক। ভাই জিগায়, কিডারে? উত্তর আসে, আমি আব্দুল্লাহ-----
দরজা খুইলা দেখে এক জন পান খাইতে খাইতে গাল চুলকাইতাছে..।
রায়হান ভাই জিগায়, কাকে চান?
আব্দুল্লাহ উত্তর দেয়, মানে আঁই ইট্টুনি নোঁয়াখালি যাইতাম ছাই, হিয়ানো ইগ্গান ঘিরাও কৈত্তাম আঁরি, আমরা ব্যাকতে মিলি ঐ নালায়েখরে ঘিরি ধৈত্তাম চাঁই। তাত্তাড়ি যাওনের লাই, আন্নেগো ছাদে এক্খান হেলিপট্কার দেইখলাম, ভাইবলাম, ভাঁড়া যাইতো নি? হে হে হে-----
রায়হান ভাইয়ের চোখ বড় বড় হৈয়া যায়----
মাথার উপর টুং কৈরা বাত্তি জ্বইলা উঠে----
রাফিঃ
এদিকে টুটুল ভাইয়ের পেছনে পেছনে আসা রগচটা মেয়েটা হাসান ভাইয়ের বাসার দরজায় দাড়ালো। টুটুল ভাইকে এখানে আসতে দেখে মেয়েটা ক্ষেপে গেলো আরো।জিগাইলো, আপনে আমার দেখা দেখি এখানে এসেছেন?
আমতা আমতা করে টুটুল ভাই বললো: জ্বী না। মানে আমিতো আপনার সামনে ছিলাম।
রগচটা মেয়ে: তা তে কি? সামনে থেকেও ফলো করা যায়। আর এই বাসায় কেনো আসছেন আপনি?
টুটুল: ইয়ে, এইটা আমার বন্ধুর বাসা।
এটা শোনার সাথে সাথে রগচটা মেয়েটার মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেলো। অমায়িক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো: তাই ভাইয়া! আচ্ছা সাঈদ নামের কাউকে চেনেন? এই বাসায় আসার কথা।
টুটুলঃ (ভাইয়া ডাক শুনে বিগলিত ও আরেকবার চড় খেতে হবে না বলে নিশ্চিত) হ্যা হ্যা, চিনি তো। ও এসেছে এখানে। হেলিকপ্টারে করে তার হবু বউকে নিয়ে এসেছে। আজই বিয়ে। আমি সে জন্যই তো কাজীর খোজ করছিলাম। আপনি না বুঝেই আমাকে চড় মারলেন।
মেয়েটি পুনরায় অগ্নিশর্মা হয়ে বললো, চড় খেয়ে জানে বেচেছেন। কাজী নিয়ে আসলে আর জানে বাচতেন না।
বাইরে রাগত নারী কন্ঠের হাউকাউ শুনে হাসান ভাই দরজা খুললো। মেয়েটি হাসান ভাইকে প্রায় ধাক্কা মেরেই ঘরে ঢুকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলো, "কৈ সাঈদ কৈ? খুব নাকি বিয়া করার শখ হৈছে চান্দু?"
মেয়েটিকে দেখেই সাঈদ ভাই ভয়ে নীল, কোন মতে পাশে বসা লবংগ লতিকার কাছ থেকে উঠে দাড়িয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললো, "আ-আ-মি এখানে। তু-তু-মি এখানে কে-কে-ন আসছো মি-থি-লা?"
মিথিলা: তোমার নাকি খুব বিয়ের শখ হৈছে? এইখানে নাকি আজ তোমার বিয়ে হবে?
সাঈদ: না না, কে বললো। আমি তো ঘুরতে এসেছি। কে না কি বললো, তা নিয়ে তুমি অযথাই খেপে যাচ্ছো।
এতক্ষনে বিভ্রান্ত কাটিয়ে লবংগ লতিকা উঠে দাড়ালো। সাঈদ ভাইয়ের পিঠে চিমটি কেটে জিজ্ঞেস করলো, "এ কে সাঈদ?"
সাঈদ: এ? এ তো আমার কাজিন।
মিথিলাঃ কি? আমি তোমার কাজিন? এতদিনে এই কথা? দেখাচ্ছি মজা। তার আগে বলো এই মেয়েটি কে?
সাঈদ: ও? ওও তো আমার কাজিন। সেকেন্ড কাজিন।
লবংগ লতিকাঃ আচ্ছা, আমিও তোমার কাজিন? কোন দিক দিয়ে?
বাসায় উপস্থিত বাকি সবাই হা করে দেখছে এ তিনজনের কাজকারবার, আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। ইভেন মেসবাহ ভাইয়ের ছোট ছেলেটাও। দুরে দাড়িয়ে টুটুল ভাই গাল ডলছে আর চড় খাওয়ার জন্য সাঈদ ভাইকে দোষী করে শাপ শাপান্ত করছে।
হাসান ভাই আর মাসুম ভাইয়ের চোখাচোখি হলো। দুজনে এগিয়ে গেলো বিবদমান তিনজনের দিকে........
নাহীদঃ
এগুতে এগুতে হাসান সাহেব মাসুম ভাইয়ের হাত চেপে ধরে বলল, দুলাভাই আপনেই এখন ভরসা, কিছু একটা করেন। সাঈদ পোলাডা খারাপ না। কিন্তু ক্যামনে যে এই লবঙ্গ লতিকাদের পাল্লায় পড়ল বুঝতাছি না। মাসুম ভাই পড়ল মহা চিন্তায় কিন্তু বুঝতে না দিয়ে বলল, আরে আরে চিন্তা করেন ক্যান? আমি আছি না।
তিনজনের কাছে গিয়া প্রথমেই মাসুম ভাই সাঈদরে এক ঝারি দিয়া বলল, আরে মিয়া পান-মসলা খাওয়ার সখ হইছে, আমাগোরে বলবা তো। তা না কোথায় কি কইরা বেড়াইতাছো। কাউরে কিছুই কও নাই। (এইবার ভারীক্কিভাবে সবার উদ্দেশ্যে) শোন তোমরা যদি আমারে দুলাভাই মাইনা থাকো তাইলে আমি এই সমস্যার একটা সমাধান বের করার চেষ্টা করতে পারি।
এই কথা শোনামাত্রই ঐ জনৈক লবঙ্গ লতিকা লাফ দিয়ে মাসুম ভাইয়ের হাত ধরে বলে, দুলা...ভা...ই (কান্নাবিজড়িত কন্ঠে) দেখেন তো এতদিন চটপটি-ফুসকা খেয়ে এখন বলে কিনা কাজিন! মাসুম ভাই কিন্তু বেজায় খুশ। চামে নতুন একটা রেডীমেড শালী পাওয়া গেল। লতিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মাসুম ভাই বলে, চিন্তা করো
না, আমি আছি না? আমার মনে হয় এই সমস্যার একমাত্র সমাধান দিতে পারে মুকুলের নতুন থ্রিডি মডেল। সমস্যাটারে ঐ থ্রিডি মডেলে কায়দা করে ফেলতে পারলেই এই সমস্যার একটা নগদ সমাধান পাওয়া যাবে নিশ্চই। সাঈদ, তোমার ড্রাইভাররে বল হেলিকপ্টার বাহির করতে, এক্ষুনি নোয়াখালী যাইতে হবে।
নোয়াখালী যাওয়ার কথা শুনে আত্কে উঠে হাসান সাহেব
বলে, আমি গেলে রান্না-বান্নার কি হবে? কত কাজ। তাছাড়া ও আবার আমার হাতের রান্না ছাড়া অন্য রান্না খেতে পারে না। মাসুম ভাই এক ঝটকায় বলে ফেলল, একা যাওয়া টা তো ঠিক হবে না...নজরুলের বউও যাক আমার সাথে, তাছাড়া কাজীবিদ্যায় তো ওর আবার অগাধ জ্ঞান।
ঐদিকে নজরুল সেই যে ফুটবল খেলা শেষ করে ক্লান্তি দূর করার নামে গেষ্টরুমের বিছানায় গিয়ে অঘোরে ঘুম, সেই ঘুম ভাঙ্গল ভাবীর গড়গড়ানিতে। ভাবী গজগজ করতে থাকে, ঐখানে এত প্রেম কাহীনি হইয়া যাইতেছে, আর উনি কিনা নিশ্চিন্তে ঘুমায়! নজরুল লাফ দিয়ে উঠে বসল। ঘুমের ঘোরে কি বুঝল না বুঝল, ভাবীর দিকে একটা হাসি দিয়েই ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা দিল। ড্রয়িরুমে পা দিয়েই তার প্রথম ডায়ালোগ, দুপুরের খাওন মিস্ করি নাই তো? সবাই একসাথে হা হয়ে নজরুলের দিকে তাকালো। নজরুল দেখে সাঈদ মাথা নিচু করে বসা। সাথে দুই পাশে দুই নতুন ফ্রেন্ড মনে হয়। সবার মুখ থমথমে। নজরুল বুঝলো পরিবেশ ভাল না। পরক্ষনেই সে
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে হেসে উড়িয়ে দেয়ার ভান করে বলে, ও হো মাত্র তো ১২টা বাজে। আস্তে য়াযাদ ভাইয়ের কাছে গিয়া চুপচাপ বসে। য়াযাদ ভাই সবাইকে শুনিয়ে মোটামুটি একটু জোরে সোরেই বলে, মাসুম ভাই তানবীরারেও নিয়া গেলে ভাল হইতো না। ও তো রকেট নিয়া রওনা দিছে, তাড়াতাড়িই চলে আসবে। তাছাড়া এই ধরনের সমস্যা আই মিন এই ধরনের ত্রিভূজ প্রেমের ব্যাপারে ডাচ্ আইনের ভাষ্য কি সেইটাও জানা যাবে কি বলেন? সবাই রাজি হইল।
এদিকে রকেটের কথা শোনার পর থেকেই নজরুলের ঘুম ঘুম চোখ জ্বল জ্বল করে উঠল। মনে মনে ভাবে, এইটা তো খুব একটা ভাল সুযোগ, হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। নজরুল একটু ভেবে প্লান করে নিল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে সোজা রান্না ঘরের দিকে রওনা দিল। ভাবীও পিছু নিল কি করে দেখার জন্য। নজরুল রান্না ঘরে উঁকি
দিয়েই দেখে হাসান সাহেব শুঁটকী ভর্তা বানাচ্ছেন। আপনের কাছে কি ফেভিকল আছে? কোন ভনিতা না করেই নজরুলের সোজা প্রশ্ন। ফেভিকল দিয়া কি করবা? হাসান সাহেব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে। “ইয়ে মানে...একটা ফ্ল্যাট বুকিং
দিছিলাম মঙ্গলে, কনকর্ডের ফ্ল্যাট। ভাবতাছি তানবীরার রকেটটা নিয়া গিয়া একটু কাজের অগ্রগতি দেইখা আসি। চিন্তার কিছু নাই, আমি দুপুরের খাওনের আগেই ঠিক ঠিক ফিরা আসব” -নজরুলের উত্তর। তা ফেভিকল লাগবো কিসে? আবারও হাসান সাহেবের প্রশ্ন। এইবার নজরুল পুরা বিগলিত হাসি দিয়া, “হে হে হে বুঝেনই তো
বৃষ্টি-বাদলার দিন, তার উপরে কনকর্ডের ফ্ল্যাট, ঐখানের বিল্ডিংয়েও যদি ফাটল-টাটল
ধরে তাইলে সোজা ফেভিকল দিয়া ... হে হে হে”।
হাসান সাহেব খুশি হয়ে ভাবে, আরে পোলাডার মাথায় তো চরম বুদ্ধি, জব্বর একটা আইডিয়া বাইর করছে। সে উচ্ছসিত হয়ে বলে, হ হ ভাল কথা মনে করাইছো। কয়দিন আগে টুটুলেরও কপাল ফাটছিল, ফেভিকল লাগাইয়া দিছি, ভাল কাজ হইছে। এখন তো দাগ পর্যন্ত বুঝা যায় না। কিন্তু খুব বেশি তো নাই, দেখো ওইটুকুতে তোমার চলে কি না, আমি নিয়া আসতেছি।
নজরুল ফেভিকলের ডিব্বা নিয়া রান্না ঘর থেকে বের হতেই ভাবী ওকে টেনে একপাশে নিয়ে ধমকের সুরে বলতে লাগলো, “এই ফেভিকলও মানুষের কাছ থেকে ধার করতে হয়? তোমার কি আক্কেল জ্ঞান কখনই হবে না! নজরুল তাতে পাত্তা না দিয়েই একটা বুদ্ধিমানের ভাব নিয়ে ভাবীর কাছাকাছি গিয়ে বলল, আরে বুঝ না ক্যান! এত দূর থিকা এতগুলা টাকা ভাড়া দিয়া গরুর গাড়িতে আসছি, খাইয়াও যাব আবার নিয়াও যাব, নাইলে পুষাই কেমনে? আরে রকেটতো মাগনাই পাইতাছি। তাছাড়াআজকে চাঁন্দে ফুল-ডে লোডসেডিং, চাঁন্দের সব মার্কেট বন্ধ। মঙ্গলে গিয়া ফেভিকললাগলে তখন পামু কই?
গর্বে ভাবীর বুক ভরে যায়, এই না হলে পতি? সে খুশিতে গদগদ হয়ে বলে, বুঝবো না ক্যান! আমি ভালই বুঝি, নইলে মাসুম ভাইর নোয়াখালী যাওয়ার প্রস্তাবে রাজী হই? এই সুযোগে মুকুলের থ্রিডি মডেলটার ক্যাম্নে কি একটু বুঝে আসি। বুঝ না ভবিষ্যতে কখন কি কাজে লাগে হি হি হি ...।
দুইজনে খুশি খুশি মনে ড্রয়িংরুমের দিকে
অগ্রসর হলো। নজরুলের হাতে ফেভিকলের ডিব্বা।
---------------------------------------------------------------------------------------------
বাকীটুকু অন্য কেউ লিখেন। তা গল্পে যোগ করে দেয়া হবে।





তাজ্জব হাসান সাহেবের হাত থেকে বাজারের থলে পড়ে গেলো মাটিতে। বলে কি? ইলিশের কেজি মাত্র ১০টাকা!! নয় কেজি ইলিশের দাম তাহলে মাত্র ৯০টাকা!!!
হাসান সাহেবকে চুপ থাকতে দেখে মাছ বিক্রেতা একটু প্রমোশনাল এক্টিভিটিস চালালো।
: বুঝলেন কিনা শার, এই মাশ একবারে পদ্মার তীর ঘেষা এক পুকুরের গো....। লিয়া লেন, বেগুন দিয়া, আলু দিয়া রানতে কইবেন পরিবাররে....
হচকিত হাসান সাহেবকে আমতা আমতা করতে দেখে দোকানী এইবার দাম কমালো, বললো.
:ঠিক আশে শার, দাম একটু কমই দেন। কিন্তু ৭০টাকার নিচে হবে নাকো.....
ততধিক বিভ্রান্ত হয়ে হাসান সাহেব মাছটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে দাম শোধ করে দ্রুত পায়ে হাটা দিলেন সব্জি বাজারের দিকে। ধরেই নিলেন মাছ বিক্রেতা আজ দম দিয়ে দোকানে বসেছে। নেশা কেটে গেলেই এই মাছের দাম বেড়ে যাবে......।
(ইলিশ মাছ কেনা নিয়া হাসান ভাইরে বিপদ মুক্ত করলাম, এইবার ফুটি। পিসিআর মেশিন বুকিং দিয়া আসছি, কামে নামতে হৈপে)
দূর্দান্ত, এডাইলাম।
হাহাহা। সবাই কি নিয়া ব্যস্ত........। এইরাম গল্প লেখায় যে মজা সেইটা লেখা শুরু করলেই টের পাওয়া যায়......।
আমি বরং একটা এক লাইনের আষাঢ়ে গল্প বলি-----'এবার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে ব্রাজিল'।
গল্পের মাঝখানে কোথাও এই গানটা যোগ করা যায় কি না (একটু ঈষৎ লজ্জিত এবং সংকুচিত ইমো হবে)
পূবালী বাতাসে
বাদাম দেইখ্যা চায়্যা থাকি
আমার নি কেউ আসে
আষাড় মাইস্যা
ভাসা পানি রে
অবশ্য অপ্রাসঙ্গিকভাবে যোগ করা ঠিক হবে না। তাই যদি কাজে লাগে আর কি
কেউ আর আগালো না বলে আমি আরেকটু যোগ করলাম । লস প্রজেক্ট।
ড্রয়িং রুমে বসে নজরুল নিজেই টিভি ছাড়ে, ফ্যান ছাড়ে। ফ্রিজ খুলে পানির বোতল বের করে শরবত বানায়। সেই শরবতে শুধু পানি, রূহ আফজা আর লেম্বু চিপা। টিভিতে আগের রাতের খেলা পূণঃপ্রচার চলছে। আর্জেন্টিনা ব্রাজিলকে ধরে গুনে গুনে এক হালি রসগোল্লা খাইয়ে দিয়েছে। টিভিতে দুঙ্গার বিষণ্ণ মুখ, দুগগা দুগগা বলে আকাশ পানে তাকিয়ে বিপন্ন চেহারায় ক্রন্দন। ম্যারাডোনার ভাবলেশহীন চেহারা, গোল আরও গোটা চারেক হতে পারতো বলে আফসোস। ডাবল হ্যাট্রিক কেন করলি না বলে মেসিকে চটকানা। মেসি গুস্বা করে ড্রেসিং রুমে গিয়ে কোথাও ফোন করে।
হল্যান্ডে তানবীরা আপার মেজাজ খারাপ। দুলাভাই রান্না করতে গিয়ে সারা বাড়ি মেখে ফেলছেন, এমন মেসি মানুষ হয়? শুধু রান্নাঘরটা না পুরা বাড়িটাই এখন একটা বিরাট মেস বানিয়ে দুলাভাই দাঁত কেলিয়ে হাসছেন। এরই মধ্যে ফোন বেজে ওঠে। নাম্বারটা অচেনা। রং নাম্বার নাকি? ছিঃ এমন মেসি মানুষ হয়, মেসি মেসি বিড়বিড় করতে করতে আপা ফোন ধরেন। ওদিকে ফোনে নিজের নাম শুনে মেসি ডুকরে কেঁদে ওঠে, 'আম্মাগো আইজকা আমারে ওস্তাদে থাবড়াইছে, আমি আর খেলুম না'। এই বয়সেই কারও মুখে আম্মা ডাক শুনে তানবীরা বেগম মুখ ঝাঁমটে ওঠেন, ' ঐ পোলা আম্মা ডাকলি ক্যান? বুবু ডাকতে পারস না? কেডায় তুই? কোন দেশী?' মেসির কান্নার আওয়াজ আরও বাড়ে,'আম্মাগো আমারে চিনলেন না, আমি মেসি, ব্রাজিলরে মাত্র চাইরটা দিসি আরও চাইরটা দিতারতাম।'
'দূরে গিয়া মর বদের হাড্ডি কোথাকার, রাবণের জ্বালাতেই বাঁচিনা, আবার সুগ্রীব দোসর'-ক্ষিপ্ত তানবীরা ফোন রেখে দেন। ওদিকে ব্রাজিলক আরেক হালি না দিতে পারার দুঃখে মেসি ফুঁপিয়েই চলে।
হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। দুলাভাইয়ের মেসি পার্ট পর্যন্ত ঠিক ছিল।
কেউ দয়া কইরা মামুন ভাইয়ের পার্টটা যোগ করেন, প্লীজ লাগে সবাইরে প্লীজ। নুশেরা কোথায়?
যেহেতু আষাঢ়ে গপ্পো , এডাইলাম ধইন্যা , পুরা দস্তুর আষাঢ়ে হইছে বইলা।
বহুত চিন্তা করলাম কিন্তু আষাড়ে গল্প মনে আসে না।আমি মিছা কথা বানাইয়া কইতে পারলাম না।আফসুস।
মিছা কথা বানাইয়া কইতে পারেন না - এইটা তো একটা মিছা কথা।
আষাঢ় আমার জন্মের মাস, খুব খিয়াল কইরা কইলাম সাঈদ সাহেব
তাইলে আপনি তো সবার আগে আষাঢ়ে গপ্পো শোনাবেন।
একে একে লোকজন সব চলে আসছে। মেসবাহ য়াযাদ এসেছেন সপরিবারে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে। টিসার্ট আর সর্টস। মনু ভাবির হাতে ফুটবল। ড্রয়নিং রুমেই পরিবারটা ফুটবল খেলা শুরু করে। ভাবি স্ট্রাইকার মেসবাহ গোলকিপার। বিপক্ষ দল নজরুল পরিবার। ওরাও ব্যাগ থেকে ব্রাজিলের জার্সি সর্টস পরে নেমে যায় খেলায়। মেসবাহ ভুয়া কিপার । একটা শটও কিপ করতে পারলনা। অন্যদিকে মনু ভাবি পটাপট গোল দিয়ে খেলায় সমতা আনল। সবচেয়ে ভালো খেলছে মেসবার তিন মাসের ছেলে সমুদ্দুর। সারা মাঠ চষে বেড়িয়ে নিখুত সব পাস দিল স্ট্রাইকারকে। খেলা জমে উঠেছে, তুমুল উত্তেজনা।
এইসময় শোনা গেল হেলিকপ্টারের শব্দ। খুব নীচ দিয়ে উড়ে আসছে। কী? না ছাদে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করল। দরজা খুলে নেমে আসল রায়হান সাঈদ। সাথে লবঙ্গ লতিকার মত ঝলমলে এক তরুনী। কে এই তরুনী? সবাইর এক প্রশ্ন। সাঈদ লাজুক মুখে জানায় অনেক দিন ধরে কান্দাকাটি করার পর গতকাল রাত দেড়টার সময় মন গলেছে ললনার। তাই আজকে ডেটিংয়ে নিয়ে এসেছে। প্রেমিকার আব্দারে হেলিকপ্টার ভাড়া করে এসেছে বেড়াতে।
আমরা যারা প্রত্যকদিন এফবিতে সাঈদের স্ট্যাটস কান্দাকাটি দেখতে দেখতে অলমোস্ট বিরক্ত আলোচনায় বসি। এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। মেয়ে যখন পটাতে পেরেছে সাঈদকে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে, আর সেটা আজকেই। পরে মেয়ে বিগড়ায় বসলে আবার শুরু হবে সাঈদের কান্দাকাটি। আরিফ জেবতিক বলে আপনারা সব আমার হাতে ছেড়ে দেন। এক ঘন্টার নোটিশে বিয়ে দেয়ার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সাথে সাথেই তিনি ফোন করেন কাজী কে। এদিকে রিমঝিম বিয়ার খবরে খুশিতে নাচছে। মেকআপ বক্স বের করে তখনই সাজাতে শুরু করে কনেকে।
খুশি আনন্দে ঘর মৌ মৌ করে। এমন সময় নুশেরার ফোন আসে চিটাগাং থেকে। খারাপ সংবাদ। ও আসতে পারবেনা। রওনা দেবে এমন সময় দেখা যায় ওদের রোলস রয়েস গাড়িটা স্টার্ট নিচ্ছেনা। জার্মান ড্রাইভার ওলমার জানায় পাপুয়া নিউগিনি থেকে ইন্জিনিয়ার না আসা পর্যন্ত গাড়ি ঠিক হবেনা। সুতরাং নুশেরার আসা হচ্ছে না। আসরের সবাই মন খারাপ করে। নুশেরার চাঁদ বদন কেউ দেখে উঠে পারে নাই। এমনকি চিটাগাং এর লোকেরাও না। এইটা অবশ্য নুশেরার অপরাগতা কিছু নয়। ঐখানের অবস্থা বিটকেলে। পেপারে এসেছে প্রকাশ্যে দিবালোকে পুরুষে পুরুষে চুমাচুমি করছে। তওবা অস্তাগফিরুল্লা। যাই হোক মেসবাহ য়াযাদ দুইহাত উচু করে দাড়িয়ে ঘোষণা দিল, সে যাবে চিটাগাং, নুশেরাকে নিয়ে আসতে। আমরা বললাম যাবেন আসবেন দিন পার হয়ে যাবে না? য়াযাদ ভাই বলেন হেলিকপ্টার তো ছাদে আছে এইটা নিয়া যাই। আরে তাইতো ! এটাতো সাঈদ সারাদিনের জন্য ভাড়া করেছে।
হাফপ্যান্ট পরা য়াযাদ ভাই হেলিকপ্টারে উঠেন। উদরাজি বলেন উনিও যাবেন মাঝপথে কুমিল্লা নেমে যাবেন শ্বসুর বাড়ির তরমুজ খেতে।
খাইছে !!! দেখা যাক পরে কি হয় !!!
ঝাক্কাস গল্প হইছে রায়হান ভাই। বহুদিন পরে রায়হান ভাই একটা মজার গণ্প লিখলো।
সাঈদ ভাই, একটা ভূতের গল্পের ব্লগ শুরু করেন। আসেন সবাইরে এমুন ডর খাওয়াইয়া দেই যে রাইতে আর একলা রাথ্রুমে যাইতেও সাহস না পায়।
আপনি শুরু করেন , আম্রা যোগ দিমুনে লগে।
আমি মামুন ভাইয়ের কথায় একশো ভুট দিলাম। শুরু হোক ভূতের গল্প। এমন পোষ্টে লাইক পরে না কেনু কেনু কেনু?
লোকজন তো লেখা দেয় না, নাইলে একটা আষাঢ়ে গল্পের ইবুক করা যাইতো।
হ , তা আপনি দিতাছেন না কেন ?
চলুক
কি আজাইরা প্যাচাল দিয়া ব্লগ ভরতাছেন.।.।.।.।
রায়হান ভাই এর টা অতি উত্তম হয়ছে.।।।

ধন্যবাদ, আপনেও যোগ করেন।
হেলিকপ্টার মেজবাহ ভাইকে নিয়া রওয়ানা হলো।মেজবাহ ভাই পাইলট কে ঝাড়ির উপড় রাখছে। "মিয়া চালাতে পারেন না তাইলে প্লেন চালান কনে? কাইত হইলো কেন?" পাইলট মনে মনে মহা বিরক্ত। এর মধ্যে নুশেরাপুকে হেলিকপ্টারে করে আনতে যাওয়ার খবর পেয়ে তানবীরাপু, নেদারল্যান্ড থেকে মেজাবাহ ভাইকে ফোন দিলো"নুশেরাকে আনতে যাচ্ছেন আড্ডা দেয়ার জন্য আর আমার কথা মনে পড়লো না? এখনই রওনা দেন, আমি রেডি হয়েছি। আগে নেদারল্যান্ড আসেন , তারপর আমরা দুজন মিলে নুশেরাকে আনতে যাব। " মেসবাহ ভাই পাইলটকে বললো নেদারল্যান্ড যেতে। পাইলট বলে "নেদারল্যান্ড কুন দিকে?চিটাগাং এর আগে পড়ব? নাকি পার হইয়া যাইতে হবে? তাইলে কিন্তু ভাড়া বাড়িয়ে দিবেন"। এমন সময় নুশেরাপুর ফোন "মেসবাহ ভাই আসতে এত দেরী কেন করছেন? আমি তো রেডী হয়ে বসে আছি। বেশি দেরী হলে সাজগোজ নষ্ট হবে, তখন কিন্তু যাব না।" মেসবাহ ভাই আমতা আমতা করে "হ্যাঁ আসছি,। আরে পাইলট লুক সুবিধার না, রাস্তা ভুল করে ফেলছে।" প্লেন এখন কুথায় যাবে বুঝতে না পেরে বুড়িগঙ্গার উপড়ে খালি পাক খাচ্ছে। মাসুম ভাই ভাবছে, "বাহ। দারু একটা ক্যাচাল লাগলো । এইটা নিয়া নিশ্চয়ই আজকে আমাকে ই টি ভি তে ডাকবে এই ঘটনা নিয়া চাপা পিটাইতে! যাই পারসোনায় ফেসিয়ালটা করে আসি।ফেসবুকে বান্ধবীর সংখ্যা তো বাড়াতে হবে!"
জটিল। এরপর কে লেখব?
চ্রম চ্রম । এর পর কে লেকবে ???? জলদি !!!
দেখি কই গিয়া গড়ায় । চরম আষাড়ে গপ্পো হইতাছে

হেলিকাপ্টার বুড়িগঙ্গায় ঘুরতে ঘুরতে একটু ডানদিকে চলে আসে। মেসবাহ য়াজাদ উকি দিয়ে দেখে সব বাড়িতে ফ্লাগ আর ফ্লাগ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল না হয ইতালির। খালি একটা বাসায় সাদা কাপড় উড়ানো, সেখানে খালি লেখা এভেইল্যাবল। মেসবাহ পাইলটরে বললো এখানেই থামাতে, যাওয়ার সময় না হয় জেবীনকেই নিয়ে যাওয়া যাক। তা নাহলে আবার রুবাইকে আরেকটা হেলিকপ্টার ভাড়া করতে হবে।
কিন্তু সমস্যা হলো আরেক জায়গায়। আবহাওয়া হঠাৎ থারাপ হয়ে যাওয়ায় হেলিকাপটার উল্টা পাল্টা আচরণ শুরু করলো। মেসবাহ য়াজাদের মনে হলো ......
মুখোমুখি মাখামাখি
লাফালাফি ঝাপাঝাপি।
মেসবাহ হঠাৎ চিৎকার করে বলে উঠলো, এই পাইলট, হেলিকপ্টার আবার বুড়িগঙ্গার দিকে নিয়ে যান। পাইলট বললো, কেন নুশেরা কিংবা তানবীরা-কাকে যেন আনতে হবে বললেন যে। আবার বললেন অ্যাভাইলেবেল ফ্লাগওয়ালা বাসায় থামতে। কাহিনী কি?
মেসবাহ য়াজাদ বললো- বুড়িগঙ্গার আশে পাশে নামান কোথাও। আমার দোস্ত উদরাজির কাছ থেকে বহু কষ্টে গুলনাহারের ঠিকানাটা নিছিলাম। এখন একটু পাঙ্গাসের পেটি খাইতে ইচ্ছা করতাছে যে.......
ফাটাইছেন ওস্তাদ। জানতাম পাঙাস মাছের পেটি নিয়া ঝাপাঝাপি কোপাকোপি আপনে আনবেনই:)
হে হে হে হা হা হা হো হো হো মাসুমভাই এক্কেরে হোতায়ালাইছে!
চ্রম
আষাড়ে গল্প চলুক.......
তা আপনে দিতাছেন না কেন ?
সবার এদিক সেদিক দৌড়ঝাপ দেখে খানিক বিরক্তিতার সাথে রাগও দানা বেধেঁ উঠছে মানু’র! মুখ ফুটে বলে নাইতো কি হইছে, রানী’র দেশের লোকের কথা একবারও কারোর মনে পড়ল না!! একেতো জেয়াফতে যাবার বিষয়টা আছে, তার উপর মেজাজ খারাপের আরো একটা ব্যাপার যোগ হইছে। আগে দূর্দান্ত সব কবিতা দিলেই ৪২/৪৩ টা করে ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পেন্ডিং থাক্তো, কবি-ক্যামেরা সংক্রান্ত ঝামেলার কারনে সেসব দিনে ভাটা পড়ছে, ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্টতো আসেই না।। তার উপর কাউকে রিকয়েষ্ট পাঠাইলে সেটাও মঞ্জুর হয় না। মাঝে দিয়া তার রিকুয়েষ্ট পাঠানির তোড়ে ফেসবুক গেলো ব্যান হয়ে, পাব্লিকে বুঝতে পারে নাই, নইলে খবরই ছিলো তার। বেশ কিছুদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষনের পর বুঝা গেলো, সেই ভক্তকুল ইদানিং খেলোয়ারদের(ফুটবল, ক্রিকেট এমনকি ফার্মভিলের ও) প্রতি আরক্ত হইতেছে লক্ষনীয়মাত্রায়। তাই জেন্টেলম্যান্স গেইম ক্রিকেটকে বেছে নিয়ে ফটোশপ দিয়ে ক্রিকেটটিমের সাথের একটা ছবি বানাইয়া আপলোড করতে না করতেই দূর্মুখা টেকিবন্ধুগুলা এসে বলে গেলো “ব্যাটা, করলিতো ফূটূশপের কেরামতি”! আরে, তাতে তোদের কি! হোক না কেরামতি, তাতে জানা তো যাইতো কিছু হুরমতিদের মনের গতিমতি!... অন্যদের কথা গোনায় না ধরলেও মাসুম্ভাইরে পর্যবেক্ষনে রাখতেই হিমশিম খাইতে হইতেছে। পেপার, টিভি মিডিয়া কাভার কইরাও তার আশ মেটে না, ম্যাসেঞ্জার আর ফেসবুকেও ছেয়ে যেতে চায়! ফেসবুকেতো ঘোষনাই দিলেন “ফেসবুক ব্যান করা চলবো না, ৩০০’র বেশি বান্ধবীরে হারায়া যাইতে দিমু না” এদ্দিন খালি “আই এ্যম মোবাইল” (যেখানে খুশি পোর্টেবল আর কি) ঝান্ডা দেখাইতেন অফিস বইসা, আর এখন তো ঘরে-বাইরে সবখানেই “এভেইল্যাবল” দেখান। মেসবাহভাই তো এত্তো খবর রাখেন না, দেখা যাইবো জেবীন’রে আনতে গিয়া দাওয়াতে, “এভেইল্যাবল” ঝান্ডা দেখে মাসুম্ভাইরে নিয়া আসবে। মাঝে দিয়া লাগবে ক্যাচাল, অন্যরা বলবে, আনার কথা সব কইন্যাদের মাঝে দিয়া মাসুম্ভাই কেম্নে আসলেন!!
লাগুক ক্যাচাল তাতে এই লন্ডনবাসী’র কি! নিজেরই চিন্তার শেষ নাই, আরো চিন্তার কথা হইল, এই মাসুম্ভাইয়ের শালা বিমা। শালা-দুলাভাই মিলে আন্তর্জাতিক-আভ্যন্তরিন সব্দিক থেকে এ্যটাক করতেছে, যেন তারা আমারে পানিতে মারবে- ভাতে মারবে! কোন পাকা ধানে মই দিছিলাম এদের কে জানে! দুলাভাই যেখানে আন্তর্জালে বিস্তার ঘটাইতেছেন, শালা এখন নজর দিছে সিরাজগঞ্জের দিকে! অফিসের কাজের বাহানায় ঘনঘন যাতায়াত শুরু করছে ওইদিকে! কিযে তার মতিগতি বুঝাই ভার...
যাক, যেটা পয়লা সমস্যা সেটা কেম্নে সমাধান হবে ওইটা নিয়া ভাবার টাইম এখন, মেসবাহভাইরে কেম্নে যে জানান দিবো যে, ‘ভাই হেলিকপ্টারটা এট্টু কান্নি মাইরা লন্ডনের দিকে লইয়া আসেন।‘ মেসবাহভাইয়ের সুখ্যাতি তো সবারই জানা মেসেঞ্জারে মেসেজ দিলে আবার ফোন কইরা তারে জানাইতে হয় “ভাইরে ম্যাসেঞ্জারে ওই কথা বলছি দেখে আসেন প্লীজ!”... তবে কি অচিন’দার ঘরে দাওয়াত খানা হবে না? উনার সাথে এর আগে নূরাভাইয়ের বাড়িতে দাওয়াত খানা মিস হইছিল, সেই আফসুস এখনো যায় নাই, আবার দাওয়াত মিস হবে??...
জোস
কিন্তু হেলিকপ্টারতো বুদিগঙ্গার উপ্রেই ঘুরপাক খাইতে খাইতে তেল শ্যাষ কৈরা ফেলবে।
মানু, এইবার তোমার পালা। তাড়াতাড়ি ছাড়ো।
মানু অপেক্ষায় আছে।
এদিকে আকাশে ঘুরপাক খাচ্ছে মেসবাহ য়াজাদ।নুশেরা বা তানবীরাকে আনতে যাওয়ার চেয়ে পাঙ্গাসের পেটিই টানছে তাকে। কিন্তু ঝামেলা বাদালো পাইলট। হঠাৎ বেরসিকের মতো বলে বসলো, বড় পাঙ্গাস হইলে আমারেও একটা পেটি দিয়েন। অনেকদিন পেটি খাই না।
মেসবাহ য়াজাদ বুঝলো-এই লোকরে পথ চেনানো ঠিক হবে না। কথা ঘুরিয়ে বললো, আপনার হেলিকপ্টারের পাঙ্খাটা কই? একটু দেখতাম।
অবাক হয়ে পাইলট বললো, পাঙ্খা দেখার কি আছে।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, যেখানেই যাই, আমি পাঙ্খা ছাড়া যাই না। আই লাভ পাঙ্খা। তাই একটু দেখতে চাইছিলাম।
পাইলট বললো, হেলিকপ্টারে পাঙ্খা তো উপরে থাকে, কেমনে দেখবেন এখন।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, তাইলে থামান এইটা, পাঙ্খা দেখি।
পাইলট বললো, এমনিতেও থামাইতে হবে, হেলিকপ্টারের তেল শেষ হইয়া গেছে প্রায়। ঢাকার বাইরে আর যাওয়া যাবে না।
মেসবাহ য়াজাদ কি মনে করে বললো, তাহলে আবার রায়হান ভাইয়ের বাসায়ই চলেন।
হেলিকপ্টার নামলো রায়হান ভাইয়ের বাসার ছাদে। রুমে ঢুকে দেখে সাঈদ এখনও এই বাসাতেই আছে। কিন্তু চিন্তিত। মেসবাহ য়াজাদ জিজ্ঞাস করলো কি হইছে সাঈদ। সাঈদ বললো, পেপারে একটা খবর পইড়া একটা জিনিষ নিয়া ভাবতাছিলাম।
কি নিয়া?-মেসবাহ জানতে চাইলো।
সাঈদ বললো-পাটের নাকি জন্ম রহস্য আবিস্কার হইছে। আমি ভাবতাছি মানুষের জন্ম রহস্য নিয়া। ভাবছি এইটা নিয়া গবেষণা করবো। কিন্তু এতো টাকা কই পাই।
মেসবাহ য়াজাদ একটা হাসি দিয়া বললো, এই গবেষণার জন্য টাকা পয়সা তেমন লাগে না। ৪ বা ৫ টাকা হলেই হবে। সেইটা থাকলে বলেন ব্যবস্থা করে দেই।
সাঈদ বললো, এই টাকা কোনো ব্যাপারই না। ব্যবস্থা করেন।
মেসবাহ য়াজাদ তখন বললো, এই টাকা খরচ কইরা একটা বিবাহ করেন, খানা পিনা দেন, তারপর ঠিকই জন্মরহস্য জাইনা যাইবেন।
এইটা বলে মেসবাহ য়াজাদ মোবাইল থেকে একটা গান বের করে সাঈদের কানে দিল
তুমি দিও নাগো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া
আমি বন্ধ ঘরে অন্ধকারে যাবো মরিয়া..........
সাঈদ এবার মুচকি হেসে বললো, এই কথাটা কত ভাবে বুঝাইতে চেষ্টা করি, কেউ বোঝে না।বান্ধবী পর্যন্ত এখানে নিয়া আসলাম। আসল ব্যবস্থাতো কেউ করে না।
মেসবাহ য়াজাদ বললো, সমস্যা নাই। পাত্রীও রেডি। ব্যাপার না। তয় কিছু টাকা ছাড়েন। তেল নিতে হবে। নুশেরা আর নুপুররে আনতে হবে।
মেসবাহ য়াজাদ আবার হেলিকপ্টারে উঠে পড়লো...........
গল্পটা পুরা কেচিয়ে দিয়েচেন দাদা। আগেই গল্পে বলা হইছে সাঈদ অনেক কষ্টে বান্ধবী যোগাড় কইরা হাসান রায়হান সাবের বাসায় লইয়া গেছে। সেইকানে সবাই মিলা ডিসিশন নিছে আইজকাই সাঈদের বিয়া দিব। আপনে আবার পেছনে লইয়া গেছেন।
সরি রায়হান ভাই, আপনি আবার লাইনে আনেন।
ঠিক কইরা দিলাম।
এডাইলাম ।
আমি আরেকটু যোগ করিঃ
হাসান সাহেবের বাসার মধ্যে বিশাল ক্যাচাল। একদিকে বিয়ের আয়োজন অন্যদিকে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা খেলা।
সবাই একটু ভয়েই ছিল বল লেগে আবার ঘরের কিছু ভাঙে টাঙে কিনা। কিন্তু বল লাগতেই দেখে ঠন ঠন করে আওয়াজ। সবাই দেখে যে হাসান সাহেবের বাসায় সব কিছু স্টীল দিয়ে তৈরী, এমনকি কাপড় চোপড় ও, সেখানে আবার তালা চাবি সিস্টেম ও আছে।
টুটুলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল হাসান সাহেবের বাসায় আসার সময় যেন কাজী ডেকে আনা হয়। টুটুল রাস্তায় বের হতেই দেখে সুন্দরী , সুইট একখানা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাসের অপেক্ষায়। তাকে দেখে টুটুলের চোখ আর নামেনা, অবশ্য ছোটবেলা থেকেই তার এই অভ্যাস।
-এক্সকিউজ মি বলে টুটুল এগিয়ে যায় মেয়েটির দিকে
- জ্বী বলুন
- মেয়েটি ঘাড় ঘুরিয়ে উত্তর দেয়।
মেয়েকে দেখে টুটুলের হার্টবিট বেড়ে যায়, কপাল থেকে অনবরত ঘাম ঝড়তে ঝড়তে থাকে। কি বলতে কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।
- না মানে বলছিলাম কাজী অফিস যাবো । আমতা আমতা করে বলে টুটুল।
- হোয়াট ? বলেই ফুঁসে উঠে সন্দরী তন্বী। "তবেরে বুড়ো মিনসে" - বলেই টুটুল কে দুখানা চটকানা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
নিজের গাল ঘষতে ঘষতে , বিড় বিড় করে "কাজীর নিকুচি করি" বলতে বলতে টুটুল হাসান সাহেবের বাড়ীর দিকে পথ ধরে।
ওদিকে দেরী দেখে তানবীরা নাসায় ফোন দিয়ে রকেটের ব্যবস্থা করে ফেলে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রকেট চলে আসবে তার বাসার ছাঁদে ল্যন্ড করবে তারপর সেখান থেকে সোজা ঢাকায়, আসার পথে শুধু নুশেরা কে নিয়ে আসবে সে, এইভাবেই কথা হয়েছে মেসবাহ ভাইয়ের সাথে।
সাঈদ গোমড়া মুখে বসে আছে সোফার উপরে পাশে সুন্দরী নিয়ে, ঢাকায় কোন কাজী পাওয়া যাইতেছে না। এদিকে বেলা শেষ হয়ে আসতেছে প্রায়।
এমন সময় টিভিতে হঠাৎ বিশেষ ঘোষনা । নোয়াখালী থেকে মুকুল নামে একজন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেবে।
.......ঠিক সময়ে সবাই টিভি ছাইড়াই দেখে, ভুলে ক্যামেরা ধরা হৈয়া গেছে আগেই, মুকুল কোটের সাথে টাই টিক করতাছে, সাথে চেক কাটা বর্মিজ লুঙ্গি। টেবিলে বইসা খবর দেয়ার কথা ছিলো মুকুলের....ইউ নো...
অনুষ্ঠান মূলত বাংলাদেশের একজনের বিশাল এক আবিষ্কার। আবিষ্কারক আর কেউ না, সয়ং মুকুল। সেই সম্পর্কে আলোকপাত করবে মুকুল, যা একযোগে সরাসরি প্রচারিত হৈতাছে BBC, CNN, FOX Channel সহ বিশ্বের নামকরা সব টিভি চ্যানেলে....
কি সেই আবিষ্কার? না, আবিষ্কার টা হৈলো, ম্যাচ ম্যাকিংয়ের থ্রী ডি মডেল, যেইখানে সরকার থেইকাই, অবিবাহিত নর নারীর প্রোফাইল ইনপুট হৈয়া যাবে, আর প্রোগ্রাম বা মডেল টা নিজে নিজেই উপযুক্ত পাত্রের জন্য পাত্রী খুঁইজা দিবে------
অনেককালের খায়েশ এইবার মুকুললের পুরন হওয়ার পথে..
মডেলটা বাই ডিফল্ট সব নিত্য ব্যবহার্য্য যন্ত্রের সাথেই যুক্ত হওয়া শুরু হবে এখণ থেইকা, যেমন কম্পু, ক্যালকুলেটের, মোবাইল, গাড়ীর ইঞ্জিন, হাত ঘড়ি------
এই আবিষ্কার টা প্রোয়োগ কৈরা অভাবনীয় সাফল্য পাইছে মুকুল, সুদুর ঘানা থেইকা হিগুইতা মারিয়ামা আর ভারত থেইকা মল্লিকা শেরওয়াৎ ম্যাচ করছে মুকুলের প্রোফাইলের সাথে-------মুকুলে খুশিতে ডগমগ--------
সমস্যা হৈতাছে, মুকুলকে অনুষ্ঠান টেলিকাস্ট করতে হৈতাছে ঘেরাও অবস্থায় । কারন, মুকুলের আবিষ্কারে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় হৈছে ঘটক পাখিরা । সারা দেশের সব পাখি ভাই জড় হৈছে নোয়াখালীতে, এখন মুকুল কি করবে?
শুধু তাইনা, ঘটক ভাইদের ডাকে সাড়া দিয়া, ঘেরাও কর্মসূচীতে যোগ দিছে সারাদেশের কাজী সাহেবরা। তাই কোথাও এই মুহূর্তে বিয়া হৈতাছেনা সারাদেশে---------কিন্তু এমন অভুতপূর্ব সাফল্যের কথা কি চাইপা যাবে মুকুল?
রায়হান ভাইয়ের বাসায় বৈসা সবাই উৎসুক হৈয়া অপেক্ষায়-------
ঐদিকে চিটাগংয়ে নুশেরা আপু মুকুলের এইরকম হঠকারী আবিষ্কারে জিদ্দের চোটে গজগজ করতাছে/ একেই মেসবাহ ভাই হেলিকপ্টারের লোভ দেখাইয়া রাখছে, গালের রোউজ কুট কুট করতাছে, আবার এইদিকে মুকলা কি আবিষ্কার করলো???
রায়হান ভাইয়ের বাসায় সাঈদ ভাই দরদর কৈরা ঘামতাছে, কি হবে?
ঐদিকে টুটুল ভাইয়ের পিছে পিছে আসতাছে মেয়েটা, টুটুল ভাই ভাবে, খাইছে, আরেকটা মারবো নাকি? আপনাতেই হাত উইঠা যায় গালে-----
এমন সময়, রায়হান ভাইয়ের বাসায় নক করে এক লোক। ভাই জিগায়, কিডারে? উত্তর আসে, আমি আব্দুল্লাহ-----
দরজা খুইলা দেখে এক জন পান খাইতে খাইতে গাল চুলকাইতাছে..।
রায়হান ভাই জিগায়, কাকে চান?
আব্দুল্লাহ উত্তর দেয়, মানে আঁই ইট্টুনি নোঁয়াখালি যাইতাম ছাই, হিয়ানো ইগ্গান ঘিরাও কৈত্তাম আঁরি, আমরা ব্যাকতে মিলি ঐ নালায়েখরে ঘিরি ধৈত্তাম চাঁই। তাত্তাড়ি যাওনের লাই, আন্নেগো ছাদে এক্খান হেলিপট্কার দেইখলাম, ভাইবলাম, ভাঁড়া যাইতো নি? হে হে হে-----
রায়হান ভাইয়ের চোখ বড় বড় হৈয়া যায়----
মাথার উপর টুং কৈরা বাত্তি জ্বইলা উঠে-----
(আমি একটু লেখলাম----কেউ মাইন্ড না করলে...
)
আমি কি ফাঁকা দিয়া বাম হাত দিয়ালাইছি নাকি?

বকা ঝকা কৈরেন না কেউ আবার..কিউট কৈরা বুঝাই দিয়েন..
ম্রাত্তক হইছে বিলাই । দারুন লাগলো।
কাজী না পাইলে আম্রার সোহেল কাজী আছে না, হেরে কইলে হয় বিয়া পড়াইতে, নামের লগে কাজী আছে তো, তাতেই চলপে।
ম্রাত্নক হইতাছে সব। দেখা যাক এরপর কই যায়।বিলাই তো দারুণ জায়গায় আনছে। সাঈদ ভাই এর বিয়া তো মনে হয় হইব না। পাত্রী এইবার ঝাড়ি দিয়া চলে যাবে নাকি?
এদিকে টুটুল ভাইয়ের পেছনে পেছনে আসা রগচটা মেয়েটা হাসান ভাইয়ের বাসার দরজায় দাড়ালো। টুটুল ভাইকে এখানে আসতে দেখে মেয়েটা ক্ষেপে গেলো আরো।জিগাইলো, আপনে আমার দেখা দেখি এখানে এসেছেন?
আমতা আমতা করে টুটুল ভাই বললো: জ্বী না। মানে আমিতো আপনার সামনে ছিলাম।
রগচটা মেয়ে: তা তে কি? সামনে থেকেও ফলো করা যায়। আর এই বাসায় কেনো আসছেন আপনি?
টুটুল: ইয়ে, এইটা আমার বন্ধুর বাসা।
এটা শোনার সাথে সাথে রগচটা মেয়েটার মুখটা হাসি হাসি হয়ে গেলো। অমায়িক কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো: তাই ভাইয়া! আচ্ছা সাঈদ নামের কাউকে চেনেন? এই বাসায় আসার কথা।
টুটুলঃ (ভাইয়া ডাক শুনে বিগলিত ও আরেকবার চড় খেতে হবে না বলে নিশ্চিত) হ্যা হ্যা, চিনি তো। ও এসেছে এখানে। হেলিকপ্টারে করে তার হবু বউকে নিয়ে এসেছে। আজই বিয়ে। আমি সে জন্যই তো কাজীর খোজ করছিলাম। আপনি না বুঝেই আমাকে চড় মারলেন।
মেয়েটি পুনরায় অগ্নিশর্মা হয়ে বললো, চড় খেয়ে জানে বেচেছেন। কাজী নিয়ে আসলে আর জানে বাচতেন না।
বাইরে রাগত নারী কন্ঠের হাউকাউ শুনে হাসান ভাই দরজা খুললো। মেয়েটি হাসান ভাইকে প্রায় ধাক্কা মেরেই ঘরে ঢুকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলো, "কৈ সাঈদ কৈ? খুব নাকি বিয়া করার শখ হৈছে চান্দু?"
মেয়েটিকে দেখেই সাঈদ ভাই ভয়ে নীল, কোন মতে পাশে বসা লবংগ লতিকার কাছ থেকে উঠে দাড়িয়ে তোতলাতে তোতলাতে বললো, "আ-আ-মি এখানে। তু-তু-মি এখানে কে-কে-ন আসছো মি-থি-লা?"
মিথিলা: তোমার নাকি খুব বিয়ের শখ হৈছে? এইখানে নাকি আজ তোমার বিয়ে হবে?
সাঈদ: না না, কে বললো। আমি তো ঘুরতে এসেছি। কে না কি বললো, তা নিয়ে তুমি অযথাই খেপে যাচ্ছো।
এতক্ষনে বিভ্রান্ত কাটিয়ে লবংগ লতিকা উঠে দাড়ালো। সাঈদ ভাইয়ের পিঠে চিমটি কেটে জিজ্ঞেস করলো, "এ কে সাঈদ?"
সাঈদ: এ? এ তো আমার কাজিন।
মিথিলাঃ কি? আমি তোমার কাজিন? এতদিনে এই কথা? দেখাচ্ছি মজা। তার আগে বলো এই মেয়েটি কে?
সাঈদ: ও? ওও তো আমার কাজিন। সেকেন্ড কাজিন।
লবংগ লতিকাঃ আচ্ছা, আমিও তোমার কাজিন? কোন দিক দিয়ে?
বাসায় উপস্থিত বাকি সবাই হা করে দেখছে এ তিনজনের কাজকারবার, আগা-মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। ইভেন মেসবাহ ভাইয়ের ছোট ছেলেটাও। দুরে দাড়িয়ে টুটুল ভাই গাল ডলছে আর চড় খাওয়ার জন্য সাঈদ ভাইকে দোষী করে শাপ শাপান্ত করছে।
হাসান ভাই আর মাসুম ভাইয়ের চোখাচোখি হলো। দুজনে এগিয়ে গেলো বিবদমান তিনজনের দিকে.........
(একটা প্যাচ লাগানোর ট্রাই করলাম। দেখি কে ছুটায়।)
দিলেন তো প্যাচ লাগাইয়া !!! হায় হায় সাঈদ রে বাঁচাইবো ক্যাডা !!!
Help Help
সাঈদ ভাই পড়ছে ক্যাচালে
)
সোনার চান পিতলা ঘুঘূ (সাঈদ ভাই) পড়ছে ফান্দে.।.।।।

এই ডাল ওই ডাল কইরা অনেক মজা করছো
এইবার বুঝবা কত ইটে কত খোয়া হয়।
ঘুইরা শেষ মেষ সাঈদের কপালেই পরলো? তাড়াতাড়ি কেউ ব্রেইন আর মাথা চালান। বাকিটা না পড়তে পারলে আমার পেটের স্যন্ডুউইচ হজম হবে না।
মাসুম ভাই কই গেলেন? ও মাসুম ভাই ......।। ও ও ও
Normal
0
MicrosoftInternetExplorer4
/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin:0in;
mso-para-margin-bottom:.0001pt;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:10.0pt;
font-family:"Times New Roman";}
Normal
0
MicrosoftInternetExplorer4
/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin:0in;
mso-para-margin-bottom:.0001pt;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:10.0pt;
font-family:"Times New Roman";}
এগুতে এগুতে হাসান সাহেব মাসুম ভাইয়ের হাত চেপে ধরে বলল, দুলাভাই আপনেই এখন
ভরসা, কিছু একটা করেন। সাঈদ পোলাডা খারাপ না। কিন্তু ক্যামনে যে এই লবঙ্গ লতিকাদের
পাল্লায় পড়ল বুঝতাছি না। মাসুম ভাই পড়ল মহা চিন্তায় কিন্তু বুঝতে না দিয়ে বলল, আরে
আরে চিন্তা করেন ক্যান? আমি আছি না। তিনজনের কাছে গিয়া প্রথমেই মাসুম ভাই সাঈদরে
এক ঝারি দিয়া বলল, আরে মিয়া পান-মসলা খাওয়ার সখ হইছে, আমাগোরে বলবা তো। তা না
কোথায় কি কইরা বেড়াইতাছো। কাউরে কিছুই কও নাই। (এইবার ভারীক্কিভাবে সবার
উদ্দেশ্যে) শোন তোমরা যদি আমারে দুলাভাই মাইনা থাকো তাইলে আমি এই সমস্যার একটা
সমাধান বের করার চেষ্টা করতে পারি। এই কথা শোনামাত্রই ঐ জনৈক লবঙ্গ লতিকা লাফ দিয়ে
মাসুম ভাইয়ের হাত ধরে বলে, দুলা...ভা...ই (কান্নাবিজড়িত কন্ঠে) দেখেন তো এতদিন
চটপটি-ফুসকা খেয়ে এখন বলে কিনা কাজিন! মাসুম ভাই কিন্তু বেজায় খুশ। চামে নতুন একটা
রেডীমেড শালী পাওয়া গেল। লতিকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মাসুম ভাই বলে, চিন্তা করো
না, আমি আছি না? আমার মনে হয় এই সমস্যার একমাত্র সমাধান দিতে পারে মুকুলের নতুন
থ্রিডি মডেল। সমস্যাটারে ঐ থ্রিডি মডেলে কায়দা করে ফেলতে পারলেই এই সমস্যার একটা নগদ
সমাধান পাওয়া যাবে নিশ্চই। সাঈদ, তোমার ড্রাইভাররে বল হেলিকপ্টার বাহির করতে,
এক্ষুনি নোয়াখালী যাইতে হবে।
নোয়াখালী যাওয়ার কথা শুনে আত্কে উঠে হাসান সাহেব
বলে, আমি গেলে রান্না-বান্নার কি হবে? কত কাজ। তাছাড়া ও আবার আমার হাতের রান্না
ছাড়া অন্য রান্না খেতে পারে না। মাসুম ভাই এক ঝটকায় বলে ফেলল, একা যাওয়া টা তো ঠিক
হবে না...নজরুলের বউও যাক আমার সাথে, তাছাড়া কাজীবিদ্যায় তো ওর আবার অগাধ জ্ঞান। ঐদিকে
নজরুল সেই যে ফুটবল খেলা শেষ করে ক্লান্তি দূর করার নামে গেষ্টরুমের বিছানায় গিয়ে
অঘোরে ঘুম, সেই ঘুম ভাঙ্গল ভাবীর গড়গড়ানিতে। ভাবী গজগজ করতে থাকে, ঐখানে এত প্রেম
কাহীনি হইয়া যাইতেছে, আর উনি কিনা নিশ্চিন্তে ঘুমায়! নজরুল লাফ দিয়ে উঠে বসল। ঘুমের
ঘোরে কি বুঝল না বুঝল, ভাবীর দিকে একটা হাসি দিয়েই ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা দিল।
ড্রয়িরুমে পা দিয়েই তার প্রথম ডায়ালোগ, দুপুরের খাওন মিস্ করি নাই তো? সবাই একসাথে
হা হয়ে নজরুলের দিকে তাকালো। নজরুল দেখে সাঈদ মাথা নিচু করে বসা। সাথে দুই পাশে
দুই নতুন ফ্রেন্ড মনে হয়। সবার মুখ থমথমে। নজরুল বুঝলো পরিবেশ ভাল না। পরক্ষনেই সে
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে হেসে উড়িয়ে দেয়ার ভান করে বলে, ও হো মাত্র তো ১২টা বাজে। আস্তে
য়াযাদ ভাইয়ের কাছে গিয়া চুপচাপ বসে। য়াযাদ ভাই সবাইকে শুনিয়ে মোটামুটি একটু জোরে
সোরেই বলে, মাসুম ভাই তানবীরারেও নিয়া
গেলে ভাল হইতো না। ও তো রকেট নিয়া রওনা দিছে, তাড়াতাড়িই চলে আসবে। তাছাড়া এই ধরনের
সমস্যা আই মিন এই ধরনের ত্রিভূজ প্রেমের ব্যাপারে ডাচ্ আইনের ভাষ্য কি সেইটাও
জানা যাবে কি বলেন? সবাই রাজি হইল।
এদিকে রকেটের কথা শোনার পর থেকেই নজরুলের ঘুম
ঘুম চোখ জ্বল জ্বল করে উঠল। মনে মনে ভাবে, এইটা তো খুব একটা ভাল সুযোগ, হাতছাড়া
করা ঠিক হবে না। নজরুল একটু ভেবে প্লান করে নিল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে সোজা রান্না
ঘরের দিকে রওনা দিল। ভাবীও পিছু নিল কি করে দেখার জন্য। নজরুল রান্না ঘরে উঁকি
দিয়েই দেখে হাসান সাহেব শুঁটকী ভর্তা বানাচ্ছেন। আপনের কাছে কি ফেভিকল আছে? কোন
ভনিতা না করেই নজরুলের সোজা প্রশ্ন। ফেভিকল দিয়া কি করবা? হাসান সাহেব অবাক হয়ে
জিজ্ঞাসা করে। “ইয়ে মানে...একটা ফ্ল্যাট বুকিং
দিছিলাম মঙ্গলে, কনকর্ডের ফ্ল্যাট। ভাবতাছি তানবীরার রকেটটা নিয়া গিয়া একটু কাজের
অগ্রগতি দেইখা আসি। চিন্তার কিছু নাই, আমি দুপুরের খাওনের আগেই ঠিক ঠিক ফিরা আসব” -নজরুলের উত্তর। তা ফেভিকল লাগবো কিসে? আবারও হাসান সাহেবের প্রশ্ন। এইবার
নজরুল পুরা বিগলিত হাসি দিয়া, “হে হে হে বুঝেনই তো
বৃষ্টি-বাদলার দিন, তার উপরে কনকর্ডের ফ্ল্যাট, ঐখানের বিল্ডিংয়েও যদি ফাটল-টাটল
ধরে তাইলে সোজা ফেভিকল দিয়া ... হে হে হে”। হাসান সাহেব খুশি হয়ে
ভাবে, আরে পোলাডার মাথায় তো চরম বুদ্ধি, জব্বর একটা আইডিয়া বাইর করছে। সে উচ্ছসিত
হয়ে বলে, হ হ ভাল কথা মনে করাইছো। কয়দিন আগে টুটুলেরও কপাল ফাটছিল, ফেভিকল লাগাইয়া
দিছি, ভাল কাজ হইছে। এখন তো দাগ পর্যন্ত বুঝা যায় না। কিন্তু খুব বেশি তো নাই,
দেখো ওইটুকুতে তোমার চলে কি না, আমি নিয়া আসতেছি।
নজরুল ফেভিকলের ডিব্বা নিয়া
রান্না ঘর থেকে বের হতেই ভাবী ওকে টেনে একপাশে নিয়ে ধমকের সুরে বলতে লাগলো, “এই ফেভিকলও মানুষের কাছ থেকে ধার করতে হয়? তোমার কি আক্কেল জ্ঞান কখনই হবে
না! নজরুল তাতে পাত্তা না দিয়েই একটা বুদ্ধিমানের ভাব নিয়ে ভাবীর কাছাকাছি গিয়ে
বলল, আরে বুঝ না ক্যান! এত দূর থিকা এতগুলা টাকা ভাড়া দিয়া গরুর গাড়িতে আসছি,
খাইয়াও যাব আবার নিয়াও যাব, নাইলে পুষাই কেমনে? আরে রকেটতো মাগনাই পাইতাছি। তাছাড়া
আজকে চাঁন্দে ফুল-ডে লোডসেডিং, চাঁন্দের সব মার্কেট বন্ধ। মঙ্গলে গিয়া ফেভিকল
লাগলে তখন পামু কই? গর্বে ভাবীর বুক ভরে যায়, এই না হলে পতি? সে খুশিতে গদগদ হয়ে
বলে, বুঝবো না ক্যান! আমি ভালই বুঝি, নইলে মাসুম ভাইর নোয়াখালী যাওয়ার প্রস্তাবে
রাজী হই? এই সুযোগে মুকুলের থ্রিডি মডেলটার ক্যাম্নে কি একটু বুঝে আসি। বুঝ না
ভবিষ্যতে কখন কি কাজে লাগে হি হি হি ...।
দুইজনে খুশি খুশি মনে ড্রয়িংরুমের দিকে
অগ্রসর হলো। নজরুলের হাতে ফেভিকলের ডিব্বা।
লেখা নষ্ট হয়ে গেল ক্যান?
জব্বর হৈতেছে!
কিন্তু আমিতো গল্প লিখতারিনা।
(
চলুক । কই যায় দেখি ।
মুকুল, ভাই আষাড়ে গপ্পো লিখতে আবার জানতে হয় নাকি ?
দেশে কাজীর অভাব , কেউ সোহেল কাজীরে ডাক দিল না , আফসুস। নামের সাথে তো কাজী আছে, তা দিয়াই কি কাম চলতো না ???
কিন্তু আম্রার জয়িতা জেবিন এখনও আড্ডায় আইতাছে না কেন ???
গল্প তো পুরা জগাখিচুরী। কুল কিনারা নাই। এরপর কি হবে? কেউ লেখুক।
আড্ডায় নিলো না কেউ। কি আর করা!
পুরা ১০০% আষাঢ়ে গপ্পো হইতেছে । জগাখিচুড়ী ত হপেই।
আমি কি হেলিকপ্টারেই আছি নাকি?তাইলে মাসুম ভাই আইয়া পরলো কেম্নে?
মন্তব্য করুন