বারো রকম ছাগু - একটি গবেষণা ধর্মী পোষ্ট।
বাংলা ব্লগ ইতিহাসে "ছাগু" সম্প্রদায় একটি বিশাল স্থান লইয়া রহিয়াছে। ইহাদের বংশবৃদ্ধি যাহাতে না হয় , সেইজন্য অনেক উদ্যোগ লওয়া হইয়াছে পূর্বে । সকলের সেই উদ্যোগ ব্যর্থ করিয়া ইহারা শুধু বংশবৃদ্ধিই করে নাই , ইহাদের রকমভেদ বাহির হইয়াছে ।
অধূনা বাংলা ব্লগ গবেষণা করিয়া বারো রকমের ছাগু সম্প্রদায় চিহ্নিত হইয়াছে। সেই গবেষণা খানি আজ আপনাদের সম্মুখে পেশ করিয়া আমি নিজেকে বড়ই কৃতার্থ মনে করিতেছি।
আসুন এই "ছাগু" দের রকমফের সম্পর্কে কিঞ্চিৎ জ্ঞান লাভের চেষ্টা চালাই।
প্রকৃত ছাগুঃ ইহারা ছাগুদের প্রকৃত ধারক ও বাহক। জা-শির জানোয়ারদের সমর্থক ও তাদের প্রদেয় অর্থের বিনিময়ে ইহারা বাংলা ব্লগের আদিকাল হইতে ব্লগ জগতে বিচরন করিতেছে। ইহারা প্রচুর সহ্য শক্তির অধিকারী হইয়া থাকে।
হিডেন ছাগুঃ ইহারা সাধারনতঃ আম-ব্লগারদের সহিত মিশিয়া ব্লগিং করিয়া থাকে । কিন্তু ইহাদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় ইহাদের লেঞ্জা বাহির হইয়া যায়। লেঞ্জা বাহির হইবার পর তাহা ঢাকিবার জন্য ইহারা যত্র তত্র ল্যাদানো আরম্ভ করিয়া পরিবেশ দুষিত করিয়া থাকে। ইহারাও বেশ সহ্য শক্তির অধিকারী হইয়া থাকে।
নাস্তিক ছাগুঃ বেশ অনেক দিন ধরিয়া এই প্রজাতির ছাগুদের উৎপাত লক্ষ্য করা যায়। ইহারা নাস্তিক রুপে নিজেকে প্রকাশ করিয়া থাকে কিন্তু তাহার স্বপক্ষে যুক্তি দেখাইতে বলিলে ইহারা ক্ষেপিয়া উঠে ও গালি গালাজ আরম্ভ করিয়া দেয়। এই প্রজাতির ছাগুদের কে নাস্তিকতার স্বপক্ষে যুক্তি দেখানো হইতে ধর্ম কে নিয়া কটূক্তি করিতে বেশী দেখা যায়।
ধার্মিক ছাগুঃ এই ছাগু সম্প্রদায় সাধারনতঃ ধর্ম গ্রন্থের বানী কে বৈজ্ঞানিক প্রমানে ব্যস্ত থাকে। ইহারা পদার্থবিজ্ঞানের সুত্রের সাহায্যে জ্বীনের অস্তিত্ব খুঁজিয়া পোষ্ট দিয়া থাকে। ইহাদের বিচরন বিনোদনের খোরাক হইয়া থাকে ।
অলৌকিক ছাগুঃ এই সম্প্রদায়ের ছাগুরা কোন কিছু দেখিলেই তাহাকে অলৌকিক বলিয়া মনে করিয়া থাকে। ধার্মিক ছাগুদের সহিত ইহাদের কিঞ্চিৎ মিল থাকিলেও ইহারা প্রতিটি ঘটনা কে ধর্মীয় ভাবে বিচার করিয়া থাকে। ইহারা বিশ্বাস করে মসজিদের গম্বুজ উড়িয়া উড়িয়া নিজ স্থানে গিয়া বসিবে, মেঘমালা একত্র হইয়া আল্লাহু নাম লিখিবে কিংবা বৃক্ষরাজির ভিতর আল্লাহ-খোদা খোদাই করিয়া থাকিবে। এরকম কিছু দেখিলেই ইহারা ব্লগে ঝাপাইয়া পড়ে ও বিপূল উৎসাহে পোষ্ট দিয়া থাকে।
ঠুলি ছাগুঃ এই ছাগুরা প্রকৃত ছাগুদের মতই বিরক্তি উদ্রেক কারী। ইহারা কোন কোন রাজনৈতিক দলের ঠুলি চোখে লাগাইয়া ঘুরাফেরা করে ও সেই দলের স্বপক্ষে পোষ্ট প্রদান করে। এদের প্রিয় দলের বিপক্ষে কেউ কোন পোষ্ট প্রদান করিলে তাহাকে গালিগালাজ, হুমকী ধমকী প্রদান করিয়া থাকে।
আঁতেল ছাগুঃ এই প্রজাতির ছাগুরা সাধারনতঃ ইহাদের রচিত কোন লেখা সকল ব্লগে একযোগে প্রকাশিত করিয়া থাকে। ইহাদের ভিতরে "আমি কি হনু রে" - জাতীয় ভাব দেখা যায়। ইহারা শুধু ব্লগে নহে, ফেসবুকে নোট আকারে ল্যাদাইয়া থাকে। ইহারা বিশ্বকবি কিংবা জাতীয় কবি নিয়া উলটাপালটা কথ বলিয়া সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করিয়া থাকে। রেল লাইনের বর্ননা দিতে গিয়া এই রুপ ভাবে লিখিয়া থাকে - "দুখানি ধাতব পাত - চিরকালীন দুরত্বে - মিশিবার কোন আশা তাহাদের মধ্যে নাই - ইহারা আজীবন সমান্তরাল জীবনের মত" ইত্যাদি ইত্যাদি লিখিয়া থাকে।
ইহারা কাহারো লেখায় কমেন্ট করে না কিংবা ইহাদের লেখায় কেহ কমেন্ট করিলে সৌজন্য জ্ঞাপন করে না।
বিপ্লবী ছাগুঃ এই প্রজাতীর ছাগুদের লেখায় সাধারনত সমাজের এই সমস্যা, ওই সমস্যা - মন্ত্রীর পুত্র কি গাড়ীতে চড়ে, এমপির কন্যা কি পোষাক পরিধান করে, কে কি চুরি করিল , তাহারা কি দূর্নীতি করিল - কেন ফুটপাতে মানুষ ঘুমাইয়া থাকে - এই সব নিয়া অগ্নিঝরা বাক্য থাকে। ইহারা ব্লগে বসিয়া দেশ জাতী উদ্ধার করিয়া থাকে , যদিও প্রকৃত বিপ্লবের সময় ইহাদেরকেও সকলের ন্যায় দূরে দূরে দেখিতে পাওয়া যায়।
লুল ছাগুঃ এই ধরনের ছাগু রা লুলামির জন্য বিখ্যাত। তাহারা যাহাই রচনা করুক না কেন , তাহাতে নারীদের বর্ননা দেখিতে পাওয়া যায়। তাহারা নারী ব্লগার ছাড়া আর কাহাকেও তাহার ফেসবুকে যোগ করে না।
আবাল ছাগুঃ নামের মাঝেই এই প্রজাতীর ছাগুর বৈশিষ্ট্যা খুঁজিয়া পাওয়া যায়, তাই আর বর্ননা করিলাম না। উদাহরন স্বরুপ- সুলতার রচয়িতা কবি শফিকুল এর নাম বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য।
গৃহপালিত ছাগুঃ সাধারনত ছাগুদের পক্ষে রচিত কোন লেখায় ইহারা আসিয়া মন্তব্য করিয়া যায়, সমর্থন জানাইয়া যায় - মারহাব মারহাবা বলিয়া মন্তব্যে ভরিয়া দেয়। আবার তাহাদের বিপক্ষে কোন রচনায় ইহারা আসিয়া গোপনে মাইনাস দিয়া চুপি চুপি গমন করে। ইহারা কওন কিছু রচনা করে না শুধু যোগ বা বিয়োগের জন্য ইহাদের কে লালন পালন করা হইয়া থাকে।
ছাগুরামঃ এই প্রজাতীর ছাগুর সংখ্যা মাত্র এক কেননা ত্রিভুজ আকৃতির না হইলে এই প্রজাতীর ছাগুর হওয়া যায় না।
ধন্যবাদ





হা হা হা হা
ডেস্টিনি ছাগু কোন টাইপে পড়বে?
আবাল গ্রুপে মনে হয়।
হাহাহাহাহাহা।
শীতনিদ্রা থেকে আমাদের সাঈদ ইজ ব্যাক। ওয়েলকাম ব্যাক।
আমিও কখনো আমার ক্ষুদ্র মস্তিক থেকে একটা নাচীজ গবেষনা করার চেষ্টা করেছিলাম যেটা আপনার গবেষনাকে সামান্য সমর্থন করে। নীচে লিঙ্কটা রাখলাম আপনার জন্য। সময় পেলে চোখ বুলিয়ে নিয়েন
http://ratjagapakhi.blogspot.com/2009/12/blog-post_11.html
জ্ব আপনে দেখি অনেক আগেই গবেষনা করি লিছেন। পড়লাম আপ্নের ব্লগ ।
প্রভা'কে নিয়ে যারা মহা ব্যস্ত আছে তারা কোন প্রকারের ছাগু!
ইহারা লুল প্রজাতির ভিতরে পড়িতে পারে ।
হাহাহা, হাসতেই আছি।। সাঈদ ভাই আপনার রম্যটা পুরাই ঢিজুস
ও রিয়েলি ইয়ো ইয়ো ম্যান
দুর্দান্ত গবেষণা হইছে !
জাজা এবং বিপ্লব দুইটাই
ধুন্য হলুম
সাঈদ ভাই আপনে কোন গোত্রের ছাগু???????
মন খারাপ তাও আপনার লেখা পড়ে না হেসে পারলাম না।

ছাগু নি কুন , আমারে গোত্রে ফেলায়
আমার লুল হইতে মন চায়।।

এ ব্যাপারে সিনিয়র ভাইয়েরা সদুপদেশ দিতে পারবে বলে মনে হয় ।
হে হে
বিপ্লবী ছাগুর লগে নিজের মিল পাইলাম

খালি মুখেই রাজা-উজির মারি, কাজের বেলা ঠনঠন
কন কি আপ্নে বিপ্লবী ছাগু দলের ???
হা হা হা দারুণ মজা পেলাম
তবে প্রত্যেক গ্রুপের বিখ্যাট ছাগুদের উদাহারণ দেওয়া থাকলে আর মজা পাওয়া যেত 
উদাহরন দিয়া কারো ছাগুত্ব হরন করতে চাইনা।
দাবীর প্রতি সহমত জ্ঞাপন করিলাম।
দেখছেন্নি কারবার! দিলাম কিরাম ইমু আইলো কিরাম
এই কাজ করলো কুন ছাগু রে
নিচচয় ভৌতিক ছাগু 
নিচ্চয় ভৌতিক ছাগু ।
গুগলের যম, স্ক্রিপ্ট কিডিদের দুশমন, বিশিস্ট রবীন্দ্র সমালোচোক, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রনয়নকারী, এডাল্ট সাইটের মডারেটর সেই আদি অক্রিত্তিম ছাগুরাম একাই একশো।
হ । তা আর কইতে ।
হা হা হা জটিল হৈছে।
থ্যাঙ্কু ভাই।
ঈদ মুবারাক। ভাল পোস্ট। প্রিয়তে রাখবো কিনা ভাবছি।
এতো ভাবা ভাবির কি আছে ????
দারুন ! সরাসরি প্রিয়তে ।
আঁতেল ছাগু হিসেবে যাদের নির্দেশ করেছেন তাদের আমি বলি উত্তরাধুনিক ছাগু
উত্তরাধুনিক ছাগু - এই ক্যাটাগরী টা বাদ পড়ে গেছিল।
ক্যাটাগরীসহ পোষ্ট আপডেট করা হোক
এইটা মানিক ভাইয়ের জন্য রেখে দিলাম, উনিই আপডেত করে পোষ্ট দিবেন।
জাব্বার সাহেবকে যে ছাগুরা 'কাগু' ডাকে তারা কেন দলে পড়ে!
কাগু তো নিজেই ছাগু ।
গ্রেট! পোস্ট অতীব পছন্দ হইছে। গবেষক হিসাবে সাঈদভাইর উত্তরোত্তর সাফল্য দেখার আশায় থাকলাম।
আপনাদের দোয়া থাকলে গবেষণা আরো সাফল্যমন্ডিত হবে ।
হা হা হা। জটিল পোষ্ট। গবেষণা চালায়া যান। চ্রম মজা পাইলাম।
ধইন্যা
কিন্তু ব্লগ ইতিহাসে ছাগুরা তো একটা নির্দিষ্ট প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। এইরুপে সকলকেই ছাগু দলে ভিড়াইয়া দিয়া সাব ছাগু গ্রুপ বানাইলে লীজেন্ড টা ক্ষতিগ্রস্থ হৈবে নাকি?
আরেক খানা সংশোধন: লুল আর ছাগু, দুইটা সম্পূর্ন ভিন্ন প্রজাতির আজব চিড়িয়া, উহাদের মিলনের ফলে কুন্জাতির উদ্ভব হৈবে জানিনা, তবে ভাবিয়াই আমার গা গুলাইতেছে!! ইয়াক ইয়াক!!
আপনার গবেষনা চলিতে থাকুক----আপনার উত্তোরোত্তর সাফল্য কামনা করিচ্চি।
লিজেন্ড তো তার আসনে মহিয়ান হয়ে আছে ।
সাঈদ এবং তানবীরার পোস্ট (http://ratjagapakhi.blogspot.com/2009/12/blog-post_11.html) পড়বার পরে ব্লগে লিখবার আগ্রহ যদি কমে যায়, তার দায় কার উপরে বর্তাবে ? আমি অত্যন্ত চিন্তিত - কোন পদের মধ্যে যে আমার অবস্থান তা নির্ণয় করতে গলদঘর্ম হচ্ছি, এই শীতের রাতেও ।
এমন গবেষণাধর্মী পোস্ট অধিকহারে কাম্য ।
না ভাই, আপনি এখনো ছাগু হয়ে উটতে পারেন নাই, লিখতে থাকুন প্রান খুলে।
ছাগু জিনিষটা ভাল জিনিষ নাকি ? প্রাণ খুলে লিখলে ছাগু হওয়ার সুযোগ আসবে ?
পইড়া জ্ঞানী হওয়ার লাহান পুষ্ট!

আবার জিগায়
লোল রে লোল রে লোল, লুলায়িত হইয়া গেলাম , গবেষণা'টা একদম যথার্থ হইসে !
মন্তব্য করুন