অপেক্ষা [গল্প] - ১ম কিস্তি।
যদি কোন কক্ষের সংজ্ঞা দেয়া যায় তাহলে এই কক্ষটিও তার ভিতর পড়বে, যেমন এর চারপাশে দেয়াল আছে, উপরে ছাদ আছে, একটা জানালা আর একটা দরজা আছে, ভিতরে ৬ ফুট বাই ৫ ফুট জায়গাও আছে। দরজা দিয়ে ঢুকলেই হাত দেড়েক পরেই একটা লোহার খাট, সেই দরজা দিয়ে কোনমতে ঢুকা যায় কক্ষটিতে, সেই খাটেও শোয়া যায়। সাথেই সেই রুমের এক তৃতিয়াংশের সমান একটা বাথরুম, সেখানে কোনমতে গোছল ও প্রাকৃতিক কাজ গুলো সারা যায়।
সেই কক্ষের সেই খাটেই শুয়ে আছে জরিনার মা। মাথার কাছে মশারী গুটিয়ে ঝুলিয়ে রাখা, দেয়ালের আরেক পাশে ২ টা পেরেকের সাথে দড়ি বেঁধে কাপড় চোপড় ঝুলানো মশারীর মতই। আর খাটের নিচে একটা প্লাস্টিকের গামলায় নারিকেলে তেলের শিশি, একটু পান, চুন, সুপারী।
তার নিজের কোন একটা নাম ছিল কোন এক সময় কিন্তু সময়ের সাথে সাথে নিজের নামটি বিলোপ হয়ে "জরিনার মা" নামেই এখন পরিচিত সবার কাছে। জরিনা মারা গেছে প্রায় ১৮/২০ বছর হোল কিন্তু নামটা জড়িয়ে দিয়ে গেছে তার মা'র সাথে। জরিনার মা'র বয়স হয়েছে। কিন্তু বয়স কত হয়েছে , সঠিক করে সে নিজেও বলতে পারেনা , অন্যরাও বলতে পারেনা। ছোটবেলায় শুনেছিল যে বছর তার নানা মারা গেল সেই বছরেই চৈত মাসে নাকি তার জন্ম। কিন্তু সেটা কত খ্রীস্টাব্দ বা বঙ্গাব্দ , সেই হিসাব রাখার প্রয়োজন মনে হয় কেউ করেনাই। তার শরীরে বয়ছের ছাপ দেখে আন্দাজ করে বয়স পঞ্চাশোর্দ্ধ তো হবেই।
জরিনা যেদিন মারা গেল , তার বছর খানেকের মাথায় জরিনার বাবা ও আরেকটা বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেল , তারপরে ভাগ্যের সন্ধানে তার ঢাকায় আগমন। খুব স্বাভাবিক কাহিনী, আর দশ পাঁচ টা স্বামী বিতাড়িত মেয়েদের মত, ভাগ্য বিতাড়িত মেয়েদের মতই। তাদের গ্রামেরই দূর সম্পর্কের কোন এক আত্মীয়র বাসায় আশ্রয় আর তিনবেলা খাবারের নিশ্চয়তায় চলে আসে ঢাকায় জরিনার মা। তার বিনিময়ে ঝি-বুয়ার কাজ। ভদ্র ভাষায় যেটাকে বলে গৃহ পরিচারিকা।
সেই থেকে জড়িয়ে যাওয়া পরিবারটির সাথে। পরিবারটি ভাড়া বাসা ছেড়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে উঠেছে। সেই ফ্ল্যাটেই রান্নাঘরের পাশেই জরিনার থাকার এই কক্ষটি, সাথের জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকতে লজ্জা পায় , সূর্যের আলো ও অবহেলা করে । আর এই কক্ষেই প্রায় একযুগ পার করে দিয়েছে জরিনার মা। বয়সের কারনেই হোক আর অনিয়মের কারনেই হোক তার শরীরে এখন বাসা বেঁধেছে অসুখ-বিসুখ। একের পর একটা অসুখ লেগেই থাকে এখন জরিনার মা'র, সেই সাথে ভেঙ্গে পড়ছে শরীর পুরোন বাড়ীগুলোর মত।
এখানেই, এই কক্ষেই রান্নাঘরের চুলা থেকে আসা গরম বাতাসে "গৃহ পরিচারিকা" জীবনের উষ্ণতা খুঁজে জরিনার মা।
[চলবে...... ]





ইন্টারেষ্টিং প্লট নিছেন

চলুক দেখি সামনে কি আছে
চলুক ।
অল্প ভাগ্য বিতারিতরা গ্রাম থেকে শহরে আসেন। আর বেশি ভাগ্য বিতারিতরা কোথায় যায় কে জানে?
বর্ননা অপূর্ব।
বেশী ভাগ্য বিতাড়িতদের নিয়েও একটা গল্প দিছিলাম আমু তে।
ধন্যবাদ।
খুভ ভালা হইতাছে, পইরেরটারার জইন্য অপতেক্কক্ষ্যা কুরিরতেরেছি
পছন্দে টিপা দিয়া গেলাম কিন্তু
পছন্দে টীপা দেবার জইন্য ধইন্যবাদ।
এক্সেপশনাল প্লট। চালাও গাড়িত উডলাম
দেখি গাড়ী কতদূর যায় ।
শুরুটা দারুন হইছে, অপেক্ষায় থাকলাম।
ধন্যবাদ বস।
শুরুটা ভালো হয়েছে ।
পুরাটা যেন এমন হয়।
বানান একটু খেয়াল কইরা।
চেস্টা করবো ভাইয়া পুরাডা এমন করতে।
চলুক
হঃ চলুক।
সিরিজ লেখা কঠিন কাজ, আপনি কি করে যেন পারেন। চলুক। :)
লজ্জা পাইলাম শুইনা ।
আরেকটা সিরিজ?
চলুক///
বড় কোন সিরিজ না। সামনে আইতাছে বড় সিরিজ।
বিশাল বড় সিরিজ।
তাইলে রুচির ডাল ভাজা লৈয়া বইলাম :)
রুচির বিজ্ঞাপন কর্তাছেন ক্যান মাগনা মাগনা ?
পড়তে পড়তেই শেষ হয়ে গেলো!!!তৃষ্ণা রয়ে গেলো সবটুকুই।
পড়তে পড়তে শেষ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
চলুক
চলুক
ইনশাল্লাহ।
খুবই রিয়ালিস্টিক বর্ণনা। চলুক।
ধন্যবাদ । ইনশাল্লাহ চলবে।
বিয়াপক সুখ্যাদ্য হইচে লেখা। চলুক (থাম্বস আপ ইমো হপে)
খাইয়া ফেইলো না আবার ।
থাম্বস আপের জন্য থাম্বস আপ।
মন্তব্য করুন