ইউজার লগইন

"দেভদাস" - ৫

রমনা উদ্যানের ভিতর দিয়া লাল মিয়া যাইতেছিলেন। তাঁহার কিছু কাজ ছিলো , তাহা সমাপ্ত করিয়া একটু রিফ্রেশ হইবার জন্য উদ্যানের ভিতর দিয়া যাইতেছিলেন এক পানশালায়।

লাল মিয়া চুনের ব্যবসা করিয়া বিস্তর টাকা কামাই করিয়াছেন বলিয়া তাহাকে সকলে চুনালাল বলিয়া ডাকিত। তাহা বিকৃত হইয়া এখন চুনিলাল হইয়াছে। সেই চুনিলাল উদ্যানের মাটিতে একজন কে দাত মুখ খিচিয়া পড়িয়া থাকিতে দেখিয়া দাঁড়াইলো। একজন অজ্ঞান হইয়া মাটিতে পড়িয়া আছে , তাহাকে ঘিরিয়া কয়েকজন উৎসুক ব্যাক্তি দাঁড়াইয়া দেখিতেছে , কিন্তু কেহই তাহাকে সাহায্য করিতে আগাইয়া যাইতেছে না।সে অবস্থায় চুনিলাল সেখানে গিয়া উপস্থিত হইলেন ।

এক বোতল পানি কিনিয়া লইয়া অজ্ঞান ব্যক্তির মুখে ছিটাইলেন । মাথায় ছিটাইলেন। তাঁহার তৎপরতায় সেই ব্যক্তি টি জ্ঞান ফিরিয়া পাইলো। সে দেখিলো তাঁহার সম্মুখে একজন বোতল হাতে বসিয়া, আর কয়েকজন তাহাকে ঘিরিয়া কৌতূহল দৃষ্টিতে তাকাইয়া রহিয়াছে। সে কহিলো - আমি কে ? আমি এখানে কেন ?

চুনিলাল দেখিলো কেস খারাপ। এরকম সব ভুালিয় যাওয়া ব্যক্তিকে লইয়া কি করিবেন , ভাবিয়া বড়ই অস্থির হইয়া উঠিলেন। উপায়ন্তর না দেখিয়া তাঁহার মাথায় বিশাল এক চাটি মারিলেন। চাটি খাইয়া সেই ব্যক্তির মাথা ঘুরিয়া উঠিলো। মাথা ধরিয়া, চক্ষু মুদিয়া বসিয়া রহিলো কিছুক্ষন।

মিনিট পাঁচেক পর চুনিলাল দেখিলো সে তাঁহার মাথা হইতে হাত নামাইয়া লহিয়াছে। তাহারপর একটু একটু করিয়া চক্ষু দুইটা খুলিলো। চুনিলালের দিকে তাকাইয়া কহিলো - আমি দেভু। অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। আপনি ?
- আমি চুনালাল ওরফে চুনিলাল। এইখানে অজ্ঞান হলেন কিভাবে ভাই ?
- সে এক বিরাট ইতিহাস ভাই। এখানে বলতে পারবো না । চলেন কোথাও গিয়ে বসি।
- কোথায় বসবেন, তাঁর চেয়ে বাসায় চলে যান। অসুস্থ মানুষ।

বাসার কথা বলিতেই দেভুর বাসা, পারু দের বাসা, পারুর কথা মনে পড়িলো। পারুর চেহারা ভাসিয়া উঠিতেই দেভু হাউ মাউ করিয়া কাঁদিয়া উঠিলো। তাঁহার কান্না দেখিয়া অপ্রস্তুত চুনিলাল তাহাকে "কাঁদে না বাবু, কাঁদে না" বলিয়া সান্ত্বনা দিতে লাগিলো।

কান্না শেষ হইলে দেভু উঠিয়া দাঁড়াইলো। চুনিলালও তাঁহার সহিত দাঁড়াইলো। আশেপাশে লোকজন তখন ফিরিয়া যাইতে শুরু করিলো একে একে।

- কোথায় বসবেন ভাই ? চুনিলাল শুধাইলো।
- আপত্তি না থাকলে চলেন শাকুরা তে গিয়া বসি। ।
শাকুরার নাম শুনিয়া চুনিলালের চৌক্ষে খুশীর ঝিলিক খেলিয়া গেল। সে শাকুরার উদ্দেশ্যেই আসলে যাইতেছিল।

শাকুরা তে গিয়া একটি টেবিল দেখিয়া দুই জনের জন্য শক্ত পানীয়র আদেশ দিয়া দেভু তাঁহার কাহিনী বর্ননা করিতে লাগিলো। তাঁহার পাকস্থলী অল্প অল্প করিয়া পানীয় যাইতেছে আর সে এক এক করিয়া তাঁহার কাহিনী বের করিতেছে।

চুনিলাল সব শুনিয়া কহিলো - আরে বন্ধু এত ভাবনা কিসের !!! ম্যায় হু না। চলো , তোমাকে তাহলে এক জায়গায় নিয়ে যাই। সব হুর পরিদের জায়গা। যাবা ?

হুর পরিদের কথা শুনিয়া দেভুর চক্ষু উজ্জ্বল হইয়া উঠিলো । কহিলো - চলো বন্ধু, চলো। বিপদে বন্ধুর পরিচয়।

একটি ক্যাব ভাড়া করিয়া চুনিলাল তাহাকে লইয়া গুলশানে গমন করিলো। দেভু কে লইয়া চুনিলাল এক সুরম্য প্রাসাদে তাঁহার প্রবেশ করিলো । সেখানে প্রতি রাতে ডিজে পার্টি হইয়া থাকে। তাঁহারা মদপান করিতে করিতে গানের তালে তালে নাচিতে নাচিতে হাঁপাইয়া গেলে অতঃপর জোড়ায় জোড়ায় সেই প্রাসাদের কোন কক্ষে ঢুকিয়া রিফ্রেশ হইয়া আসে। সেথায় মদ্যপান তো নস্যি, হেন কোন পান নাই যে তাহারা করে না।

দেভু নৃত্যরত বালিকাদের স্বাস্থ্যের মাপ দেখিয়া খুশীতে নাচিয়া উঠিলো। মনে মনে কহিলো - এইতো আমি চাই।

নাচের দলের মধ্যে দেভু মিশিয়া গেল।

[চলিবে]

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ভালই জমছে মডার্ন দেভদাস
চলুক।

সাঈদ's picture


হা হা। হ মডার্ন দেবদাস। আর কত সেই আমলে রাখবেন বেচারা রে

টুটুল's picture


বাড়ির ঠিকানাটা দিতেন Wink

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ইয়ে, যাওনের সময় আমারে একটা মিসকল দিস ছোট ভাই Wink

জ্যোতি's picture


lul

সাঈদ's picture


যাইতে চাওয়া দুইজনেই বিবাহিত লুল থুক্কু লুক । Tongue Tongue

তানবীরা's picture


দেভদাস মানেই লুল Big smile

ঠিকাছে Tongue

সাঈদ's picture


Wink Wink

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


চলুক..

১০

সাঈদ's picture


সিউর কচ্চেন তো চলুক ?

১১

জ্যোতি's picture


এই পর্বটা কম লিখলেন। আরেকটু বড় করেন পর্ব। পরের পর্ব কালই দেন।দেভুরে তো লুল বানায় ফেললেন। পারুর কি হইলো?

১২

সাঈদ's picture


দেভদাস কি লুল আছিলো না ? কনকি !!!

পরের পর্ব না হইলে বেশী বড় হইয়া যাইতো বলে এইখানে শেষ করেছি ।

১৩

রাসেল আশরাফ's picture


লেখকের মাজা ব্যাথার কারন আজ পরিষ্কার হলো Tongue

১৪

সাঈদ's picture


ধুর , তাইলে তো মাজার ব্যায়াম হইতো, ব্যাথা আর থাকতো না Wink

১৫

মীর's picture


গুলশান এলাকাডারে এইভাবে পচানোর সুতীব্র প্রতিবাদ জানাই Crazy

১৬

সাঈদ's picture


ভাইয়ের বাসা গুলশানের কোথায় যেন Cool

১৭

একজন মায়াবতী's picture


কোনদিক যে যাইতেছে!! শেষ পর্যন্ত এইটা পারু থাকবে নাকি শিলা হইয়া যাবে Shock

১৮

সাঈদ's picture


শিলা - পাথর সব থাকবে ।

১৯

আরাফাত শান্ত's picture


মোবাইল দিয়ে পড়লাম। কাহিনী দেখি বিপদজনক ভাবে আগায়তেছে!

২০

সাঈদ's picture


কাহিনীর আর দুষ কি , সব কপালের দুষ ।

২১

শ্রাবনের মেঘ's picture


Shock বাচ্চারা কি এলাও ? Wink

২২

সাঈদ's picture


না । Tongue

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সাঈদ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,
হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,
মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায়।

আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি।
সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,
অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না।
কী করে তাও বেঁচে আছি আমার মতো। অবাক লাগে।