সেমিনার এবং অতঃপর ...
আমাদের এক বন্ধু । ওর সাথে পরিচয় সেই ছোট বেলা থেকে। ২৬ বছর বয়স হবে বন্ধুত্বের। নাম না হয় নাই কইলাম। ধইরা নেন ওর নাম - মিঃ এক্স।
কথা সেইটা না , কথা হইলো মিঃ এক্স এর প্রেম বিষয়ক একটা সেমিনার নিয়া। বেচারা এক্স , মনে মনে অনেক রোমান্টিক। বিয়া করলে বউ রে নিয়া জোসনা (বেঁদের মেয়ে জোসনা না আবার) দেখব, বৃষ্টি তে হাত ধরে গুনগুন করে গান গাইবো বউ এর সাথে, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনবো... আরো কত কি। বিয়ের আগে প্রেমিকার হাত ধরে রমনা পার্কে গিয়া গান গাইবো - আমি তোমার জীবন... তুমি আমার জীবন ... তারপর বৃষ্টি শুরু হইবো হটাৎ কইরা ... থুক্কু, বাংলা সিনেমা ঢুকা গ্যাছে ভিতরে...
কিন্তু কোন মেয়েই ওর পছন্দ হয়না । নাটক করতো সে, ওদের গ্রুপের কোন মেয়েকেও পছন্দ হয় না, আশে পাশের কোন মেয়েকে পছন্দ হয়না। মনের সাধ মনেই থাইকা যায়। তো একবার আমাদের আরেক বন্ধুর লগে গেল নৌকা ভ্রমনে। নৌকা ভ্রমন (বাংলায় যারে বলে রিভার ক্রুজ) ছিল ঐ ারেক বন্ধুর নাট্য দলের । বন্ধু এক্স তাদের সাথে যোগ দেয়। আগেই বইলা রাখি ঘটনা আজ থেইকা ৭/৮ বছর আগের। তো সেই নৌ ভ্রমনে গিয়া এক্স এর পছন্দ হইলো ঐ নাট্য দলের এক সুদর্শিনী কে। রাতে আইসাই মোবাইলের বেগে খবর পৌছাইল বন্ধু মহলে। (তখন মোবাইলের যুগ আসে নাই সম্ভবত)।
আমরা চিন্তাইলাম , কি করা যাইতে পারে। বন্ধুর এমন দূর্দিনে পাশে থাকতে না পারলে কিয়ের বন্ধু।
পরদিন এক্স কে আমরা সকলে মিলে স্বান্তনা দিলাম, এই মেয়ে তোর হইবই, যে যাই বলুক। আর ঐ বন্ধুরে কইলাম মেয়ের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেবার। কই থাকে , কি পড়ে , ইত্যাদি ইত্যাদি। মেয়েটার সাথে আবার মোলাকাত করার ব্যবস্থা করতে হবে , এক্ষেত্রে বন্ধুদের কি কি করনীয় থাকতে পারে , আমরা হোটেল বইসা গোল টেবিল বৈঠক করে এক্স এর হাতে বিল ধরায়ে আসি
। আমরা চিন্তিত, ঘুম নাই চোখে বন্ধুর এই অবস্থা দেইখা। মেয়ের কোন খবর পাইতেছিনা ।
তো কয়দিন পর সেই বন্ধু খোঁজ খবর নিয়া আইলো। আমরা আবার গোল টেবিল বৈঠকে বসলাম। কি খবর ? কি খবর ? ছাইক্যা ধরলাম তারে। যা শুনাইল তা হইলো - মেয়েটা স্কুলে পড়ে ক্লাশ নাইনে।
নাটকে যখন আসে সাথে তার মা ও থাকে, মেয়েকে পাহার দেয়। তার মা নাকি খন্ডারিনী টাইপের
শুনেই আমাদের মন ভেঙে গেল ... মন ভেঙে চৌচির হয়ে রাস্তায় এখানে সেখানে পড়তে লাগলো। তখন শুরু হল আমাদের ভিতর দলীয় কোন্দল। বন্ধু মহল ২ ভাগে ভাগ হয়ে গেল। কেউ বললো - সমস্যা নাই, তুই চালায়া যা , আরেক দল বলে - স্কুল পড়ুয়া ছোট মেয়ের সাথে প্রেম? ছ্যা ছ্যা ছ্যা।
অগত্যা এক্স কে আমরা বললাম - এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দ্রুত সেমিনারের আয়োজন কর। সেমিনার followed by Dinner. সে তখন চোখে শর্ষে ফুল দেখে, ধুতুরা ফুল দেখে । কি করা আর, আমাদের কথায় রাজী হয়ে সেমিনারের আয়োজন করলো এক বন্ধুর বাসায় উইথ ডিনার।
মিঃ এক্স সবসময় ১ ঘন্টা লেট করে আসলেও সেদিন সে সবার আগেয় সেমিনারে উপস্থিত। কত্ত সিরিয়াস বেচারা। এক এক করে আমরা সবাই সেমিনারে যোগ দিলাম। সারা রাত ধরে সেমিনার চললো, তর্ক বিতর্ক হল - এই সম্পর্কের সামাজিক, রাজনৈতিক, আর্থিক, নৈতিক, আইনগত দিক নিয়ে ব্যাপক জ্ঞানগর্ভ আলুচনা হয়। শেষে আলুচনার আলু নিইভ্যা আসলে আমরা এই মর্মে এক্মত হই যে , ওকে , মেয়ের সাথে এক্স এর হয়ে সেই বন্ধু কথা বলবে।
তারপর আমরা ভোর রাতে ডিনার করি, বিয়াফক আলুচনা শেষে।
অতঃপর , সেমিনারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক যখন মেয়েটির ব্যাপারে খোঁজ নিতে যাওয়া হোল , জানা গেল মেয়েটা কার হতে ধরে পালায় গ্যাছে !!!! 
আমরা শুধু কইলাম - বেচারা এক্স !!!! 





স্কুলের মাইয়ারাও যদি পলায় যায়...আম্রার কি হইবেক?
(
আপনিও কারো হাত ধইরা পালায়া যান ... কি আর হবে ...
বেচারা এক্সের লাইগা সমবেদনা
"বৃষ্টি তে হাত ধরে গুনগুন করে গান গাইবো বউ এর সাথে, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনবো..."
শীঘ্রই আমরা বন্ধুতে আমর একটা সিরিজ আসছে, উপন্যাস । সেইখানে নায়িকা প্রিয় মানুষের হাত ধরে এইরম রোমান্টিক হবার স্বপ্ন দেখে । মাগার প্রিয় মানুষরে রাখা যায়না প্রিয়তে ..!
অর্থাৎ প্রিয়মানুষকে পাওয়ার কাজটা অভাগা-অভাগীদের জন্যই কঠিনই !
বেচারা এক্সের লাইগা সমবেদনা
আপনার বন্ধু তো বাইচা গেছে।
মাসুম ভাইয়ের লগে সহমত
আমার জানা মতে তো নো ভ্রমনের সোজা বাংলা এ জার্নি বাই বোট...সবাই জানে...
বেচারা এক্স !!!!
বুজ্ঝি প্রাইমারী বুকিং দিতে হইবে
মোবাইল না থাকা জমানায় স্কুল পলাইতো মেয়েরা.. তাই দেইখা "নোভা"র গান আছিল.. "স্কুল পলাতক মেয়ে করেছে ব্যাকুল.."

আর, এখন কি অবস্থা.. আল্লাহ মাবুদ জানে!!!!
হ বেচারা এক্স
বেচারা এক্সের লাইগা সমবেদনা .......
ক্যাম্নে কী!
জীবনে একবারই সিরিয়াস হইয়া কি ধরাডাই না খাইলো
বেশী আলুচনা করলে এরকমই হয়। পছন্দ হইলে গোল টেবিল বৈঠকের পরিবর্তে সোজা রাস্তা হাটার পরামর্শ রইল সাঈদ ভাই সহ বিয়ে পাগলা ভাইদের জন্য।
তেব্র পরতিবাদ জানাইলাম বিয়ে পাগলা বলার ।
শুধু কইলাম - বেচারা এক্স !!!
মন্তব্য করুন