ইউজার লগইন

অভাগা স্টুডেন্ট ব্যাচ।

কথায় আছে অভাগা যেদিকে তাকায় , সাগর ও শুকায়। আর আমাদের স্টুডেন্ট ব্যাচ তাকানোর আগেই শুকনা সাগর দেখে আসছে সেই প্রথম শ্রেনী থেকে। কি আর বলবো সেই কষ্টের কথা।

ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হলাম , কোন সরকারী বই পাইনাই । ক্লাস টু তে উঠার পর শুনি শুধু ক্লাস ওয়ানে ফ্রী সরকারী বই দেয়া হবে। এইভাবে থ্রী তে উঠার পর শুনি টু পর্যন্ত ফ্রী বই দেবে, ফোর এ উঠার পর শুনি থ্রী পর্যন্ত সরকারী বই দিবে।

ক্লাস ফাইভে উঠে একই অবস্থা , সিক্সে উঠার পর শুনি প্রাথমিক ভাগে , ফাইভ পর্যন্ত সরকারী বই দিবে।

কুনদিন সরকারের বই এ পড়ার ভাগ্য হইলো না। বিরাট একটা আফসোস রয়ে গেল মনে Sad

আফসোস ভুলে ক্লাস নাইন তারপর টেন এ। টেনে উঠে আফসোস চরম আকারে আসলো - শুনি পরের বছর থেকে নাকি টিক চিহ্ন , তাও কি একটা টাস্ক ফোর্স বই আছে, ঐটা মুখস্ত করতে পারলে টিক চিহ্নে ৫০ এ ৫০ Smile মনে হয় তখন পাস থেকে ফেল করা টা কঠিন ছিল, ঐ টাস্ক ফোর্সের আমলে Tongue

বিশাল আফসোস নিয়ে এস এস সি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করলাম। ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার শেষ ব্যাচ আমরা Sad

প্রথম দিন বাংলা ১ম পত্র ও ২য় পত্র - একই দিনে। কত বড় স্টীম রোলার চালানো হইছিল সেই ছোট কালে, ভাবতেই এখন ভয় লাগে।

ইংরেজী পরীক্ষার দিনেও একই অবস্থা - সকাল বিকাল পরীক্ষা।

পরীক্ষা দিলাম , পাস করলাম , কলেজ ভর্তি হলাম। শুনি পরের বছর থেকে একদিনে একটা করেই পরীক্ষা হবে। মেজাজ কেমন বিলা হয় !!! Sad

এই শেষ না। দেখি পরের বছর হাজার হাজার মার্ক্স নিয়ে সব ভর্তি হয় কলেজে, আমরা মার্কশীট দেখি, ১০০০ এ ৮০০/৯০০ মার্কস দেখেও ফু দিয়ে উড়ায়ে দেই, ভাবটা এমন যে এইটা কোন মার্ক হইলো, আমাদের ৬০০ নম্বর এর থেকে অনেক ভালো Wink মনের কষ্ট টা চেপে রাখার চেষ্টা আর কি !!

ট্রাজেডী আরো আছে জীবনে। এইস এস সি পড়ার সময় ভাবলাম ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি না হতে পারলেও কলেজ থেকে ডিগ্রী/অনার্স পাশ করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট তো পাবো। সেই আশায় চিনিতে বালি ঢেলে দিল সরকার Sad

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামে অদ্ভুত এক বিশ্ববিদ্যালয় চালু করলো , যেখানে ক্লাস নাই, কিছু নাই , নামেই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় নাম না দিয়ে অনার্স , পাস ও মাস্টার্স শিক্ষা বোর্ড নাম দিলেই ভালো হইতো !!!Tongue

যথারীতি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পেরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে (আজো আমি চউক্ষে দেখি নাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হলাম - মনে মনে ক্ষীন আশা - মাস্টার্সে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি।

সেই আশায় পানি ঢেলে দিল ঢা.বি. কর্তৃপক্ষ। তারা মাস্টার্সে আর ভর্তি নেবেনা Sad

মন ভাঙতে ভাঙতে গুড়া গুড়া একদম। সেই গুড়া মন নিয়ে জগন্নাথে ভর্তি হলাম মাস্টার্সে, তার আগেই এক প্রধানমন্ত্রী তাকে বিশ্ববিদ্যাল হিসাবে ঘোষনা দিয়ে দিয়েছেন। যেকোন দিন বিশ্ববিদ্যালয় শুরু হয়ে যেতে পারে আর তখন যারা ছাত্র, তাদের কে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে ভর্তি করে নেয়া হবে। আমরা মাস্টার্সের পুরা সময় কাটালাম - এই বুঝি জাতীয় থেকে জগন্নাথে ঢুকবো।

হায় !!! আর আশা !! কিছুই হোল না, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাশ করে বের হতেই শুনি জগন্নাথ পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় Sad

আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (সম্মান, পাস ও মাস্টার্স শিক্ষা বোর্ড) অধীনেই রয়ে গেলাম

এই আফসোস এই জীবনে আর যাবেনা। Sad

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আপন_আধার's picture


শিক্ষা জীবন নিয়া আমারো এইরকম বহুত আফসোস আছে ।
কিন্তু আপ্নের মত এত না । আপ্নের জন্য সমবেদনা

সাঈদ's picture


সমবেদনার জন্য থ্যাঙ্কু সহকারে ধন্যবাদ।

শাতিল's picture


ব্যাপারনা সাঈদ ভাই সব ঠিক হইয়া যাবে Wink

সাঈদ's picture


সেই আশাতেই আছি, বড় কালে সব ঠিক হয়ে যাবে ।

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


আহারে...কফাল!

সাঈদ's picture


হ এরেই কয় কফাল রে ভাই ।

নজরুল ইসলাম's picture


এইজন্যই আমি লেখাপড়াই করি নাই।

পড়ালেখা বড় কষ্ট
উহাতে সময় নষ্ট

সাঈদ's picture


আপনার মত বুদ্ধিমান হইলে আমিও শুধু গল্পের বই পইড়া কাটায় দিতাম। আফসুস , আগে বুদ্ধি হইলো না।

রোবোট's picture


আপনার রাজকপাল কি কেবল শিক্ষা ক্ষেত্রেই?

১০

তানবীরা's picture


আপনার রাজকপাল কি কেবল শিক্ষা ক্ষেত্রেই?

১১

সাঈদ's picture


উপরের কমেন্ট দ্রষ্টব্য।

১২

সাঈদ's picture


নারে ভাই , সব ক্ষেত্রেই । এই ধরেন , পড়েছি বয়েজ স্কুলে , ভাবলাম কলেজে পড়ূম , বান্ধবী বাইছা নিমু পোড়া কপাল পড়ছি ঢাকা কলেজে, সেইডাও বয়েজ কলেজ । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হইলাম নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজে , ৩ দিন গেছি কলেজ়ে মাত্র। মাস্টার্স এ উপস্থিতি ০০ , স্যার কইলো জরিমানা দেওন লাগবো ফরম ফিলাপের লাইগ্যা - ১৫০ টাকা , জরিমানা দিতে হইব শুইনাও সেদিন আমার মত কেউ খুশী হয়নাই।

১৩

গরমপত্র's picture


বিয়ার কাহিনীও কি এইরমই নাকি?

১৪

সাঈদ's picture


এই ডরে তো বিয়াই করতাছিনা ।

১৫

হাসান রায়হান's picture


এইবার বিয়ার কাহিনীটা বয়ান করো।

১৬

সাঈদ's picture


খাইছে !!! ক্যাম্নে কি ???

১৭

নড়বড়ে's picture


এত পোড় খাইতে খাইতেই আজকে আপনি কষ্টিপাথর ... Smile

১৮

সাঈদ's picture


হ রে ভাই , কষ্টি কি না জানিনা , তয় পাত্থর হইয়া গেছি ।

১৯

ভাস্কর's picture


আমার স্কুল কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় ভাগ্য ভালোই ছিলো। প্রত্যাশা ছিলো না বইলা আসলে ভালো ছিলাম। মা-বাপে চিন্তায় পড়ছিলো এসএসসিতে পাস করুম কী না সেই বিষয়ে...কিছুইতো পড়তাম না। কিন্তু স্টার মার্ক্স পাইয়া গেলাম জানি কেমনে। এইচএসসিতে ঢাকা কলেজে ভর্তি হইতে দিলো না মা'য় যেইদিন ভর্তি হইতে যাওনের কথা ঐদিন দেখি অশ্রু ভাই সায়েন্স ল্যাবরেটরী পুলিশ ফাড়ির ঐখানে দাঁড়াইয়া পিস্তল তাক কইরা রাখছে সিটি কলেজের পোলাপাইনের দিকে। আমি আর মা রিকসায় যাইতাছিলাম। মারামারির লেইগা রিকসা আটকাইতাছে পুলিশ। বেরসিক রিকসাওয়ালা ঠিক ঐ জায়গাতেই থামাইছে। আমারে দেইখা অশ্রু ভাই পিস্তলের তাক না সরাইয়া ডাক দিছে ভাস্কর কইয়া। মা কিছু না কইয়া খালি আমার দিকে তাকাইয়া থাকলো কিছুক্ষণ তারপর কয়,"বাসায় চলো।"

ভর্তি হইতে হইলো ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী কলেজে। খালা ঐ কলেজের লাইব্রেরীয়ান...এক্কেরে কলেজ সেকশনের পাশেই লাইব্রেরী। কিন্তু এমনে কি আমাগো আটকাইয়া রাখন যায়...ক্লাস পলাইয়া গিয়া বইয়া থাকতাম জহুরুল হক আর এসএম হলে। ছাত্রলীগের মাস্তান নেতা চুন্নু তখন আমাগো ভাই। যেইদিন তারে গুলি কইরা মারলো, সেইদিন জাস্ট ধরেন আধাঘন্টা আগে আমাগো করিডোরের লগে যেই সানশেড ঐটার উপর খাড়াইয়া সে সাব মেশিনগান টাইপ কিছু একটা দিয়া ব্রাশ ফায়ার করতাছিলো। আমরা তা দেইখা তো মোহিত।

যেইদিন বায়োলজির ভাইবা ঐদিন ছাত্রদল আর ছাত্রলীগের অভি গ্রুপের গ্যাঞ্জাম লাগলো। আমরা পরীক্ষা থুইয়া দেখি ইলিয়াস আলী পুরা মেশিনগান লইয়া দৌড়াইতাছে অভি গ্রুপের সজল বাহিনীরে। পরে শুনছি ঐটা আছিলো জি-থ্রি। কোন প্রশ্ন ছাড়াই এক্সটারনাল ছাইড়া দিলো। এক্সটারনাল ম্যাডাম আমাগো শামসুজ্জোহা স্যারের গল্প শোনায় পরীক্ষা নেওনের বদলে।

ঢাকায় যেহেতু ভালো সাবজেক্ট পাই নাই তাই জাবিতেই ভর্তি হইতে হইবো। কিন্তু তখন বাপের বা আমার কারো কাছেই দুইটা বিভাগের ফর্ম কিননের টাকা নাই। কাচাইয়া কোচাইয়া মা দেড়শো টাকা বাইর কইরা দিছে। ঐ লইয়া পরীক্ষা দিছি কলা ও মানবিকী অনুষদে। যেই বিষয়ে পড়নের খায়েশ ছিলো ঐটা পাইলাম না। কিন্তু বাংলা আর দর্শন বিভাগের মধ্যে দর্শনে ভর্তি হইলাম। ইসলামের ইতিহাসতো আর পড়তে হইলো না...

নব্বই দশকের ঐ সময়টায় ছাত্র রাজনীতিতে হোল টাইমার হওন মানেই অন্ততঃ একবার ইয়ার ড্রপ দেওন। আমারে সেইটা দিতে হইলো না। একবারেই কেন্দ্রীয় দফতরে চইলা গেলাম।

ঘটনাবহুল সব দিন কাটাইছি। পুরা ছাত্রজীবন। সম্ভবতঃ তার রেশটা এখনো ফুরাইতেছে না...

২০

সাঈদ's picture


আপনার ছাত্র জীবন দেখি ঘটনাবহুল, রোমাঞ্চকর, সাস্পেন্সে ভরপুর।

২১

লোকেন বোস's picture


আশা করি এখন আর আপনি অভাগা নন।

২২

সাঈদ's picture


ভাগ্যিস এখন স্টুডেন্ট না।

২৩

কাঁকন's picture


আমিতো ভাবতাম প্রথম গ্রেডিং সিস্টেম ব্যাচের চেয়ে অভাগা কোন ব্যাচ নাই

২৪

সাঈদ's picture


কি যে কন আফু, আমরার ব্যাচের মত আভাগা আর আছে নাকি !!!

২৫

কাঁকন's picture


তাই তো দেখতাসি

২৬

জেবীন's picture


আরে! যারা ওইসব সুযোগসুবিধা পাইছে, কেউ কি মনে রাখছে?.।। কিন্তু আপ্নে কি সুন্দর সব মনে রাখছেন, , অসাধারন বলেই তো সম্ভর হইছে এটা

২৭

সাঈদ's picture


ক্যম্নে অসাধারন হইলো ? আজিব তো !!!

২৮

জেবীন's picture


আররে! সব কেমন আজিব আজিব কান্ড হইছে আপনের সাথে, যেটা সাধারন না, তাইলে হইছেন না আপ্নে "অসাধারন"!!   Cool

২৯

আরেক হতভাগা ছাত্র's picture


ঢাকা সিটি কলেজের বি বি এ আমাকে শেষ করে দিয়েছে ভাই.. আত্ন হত্যার সহজ উপায় খুজছি... পারলে শেয়ার করবেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সাঈদ's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি হয়তো মানুষ নই, মানুষগুলো অন্যরকম,
হাঁটতে পারে, বসতে পারে, এ-ঘর থেকে ও-ঘরে যায়,
মানুষগুলো অন্যরকম, সাপে কাটলে দৌড়ে পালায়।

আমি হয়তো মানুষ নই, সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি,
গাছের মত দাঁড়িয়ে থাকি।
সাপে কাটলে টের পাই না, সিনেমা দেখে গান গাই না,
অনেকদিন বরফমাখা জল খাই না।
কী করে তাও বেঁচে আছি আমার মতো। অবাক লাগে।