শিক্ষাব্যবস্থার জোয়াল টানছে কারা?
অদ্যাবধি পিতৃত্বের সবচেয়ে বড় চাপটা অনুভব করেছি গত ২ মাস যাবত, ছেলেকে স্কুলে দেওয়ার আগে এতটা চাপ অনুভব করিনি কখনও। ছোটোদের ক্লাসে এত বাহারী ধরণের বিষয়াদি আলোচিত হবে এমনটাও ধারণা করি নি, এবং এই চাপ কিংবা তথাকথিত শিক্ষাপদ্ধতিগত যন্ত্রনা এবং আমার নিজের মুঢ়তা কিংবা অদক্ষতায় আমার ব্যক্তিগত আচরণ ততটা পিতৃসুলভ ছিলো না। আমি গত ২ মাসে বেশ কয়েকবার নিজের ভাবনার নিয়ন্ত্রন হারিয়েছি, ছেলের সাথে বিশ্রী রকমের চিৎকার করেছি, কখনও কঠোর হতে হয়েছে, স্কুলের হোমওয়ার্ক, ক্লাশওয়ার্ক নিয়মিত জমা দেওয়া এবং না দেওয়ার এই ক্রমাগত "টাগ অফ ওয়ার" আমার ভেতরের সবচেয়ে নির্দয় অংশটিকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। অবশেষে বেশ জঘন্য একটা পরিস্থিতিতে আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম "এইসব পদ্ধতিগত যন্ত্রনা" আমি বিন্দুমাত্র আমলে আনবো না, আমি অন্তত শিক্ষা বিষয়ে মাথা ঘামাবো না। হোম ওয়ার্ক, ক্লাশ ওয়ার্ক, স্কুলের গ্রেড কিংবা অন্যসব জটিলতা নিয়ে তেমন কঠোর না হয়ে বরং নিজের গরজে তথ্য দিয়ে যাবো এবং আশা করবো আমার ছেলে এই তথ্যগুলো থেকে নিজের প্রয়োজনীয় অংশটুকু খুঁজে নিবে, স্কুলের পরীক্ষায় যেমন খুশী ফলাফল করুক, সেটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাবো না।
সুতরাং বাসা থেকে স্কুল যাওয়ার পথের ১৫ মিনিট আমরা শিক্ষাবিষয়ক সেমিনার করতাম, আমি আর আমার ছেলে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আলোচনা করতাম, তেমন বড় মাপের কোনো তথ্যালোচনা নয় বরং বেশ ছোটোখাটো বিষয়- ৫টি প্রাণীর নাম, ৫টি ফুলের নাম, ৫টি পাখীর নাম, সেসবের ইংরেজি কি হবে, এইসব পুঁথিগত বিদ্যার সাথে বিভিন্ন সময়সীমা যুক্ত করা কিংবা যেকোনো ছবি দেখিয়ে নিজের মনগড়া যাকিছু একটা বলে ফেলবার মতো খেলা- তেমন ধরাবাধা নিয়মের বাইরে গিয়ে পরীক্ষার অংশটুকু গিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা- এবং ক্রমাগত নিজেকেই প্রশ্ন করা একটা স্কুল কেনো পরীক্ষা নেয়? আমরা পরীক্ষা দিয়ে কি যাচাই করতে চাই, যে যাচাইয়ের মাণদন্ডে সঠিক প্রমাণিত না হলে কি ধরণের সামাজিক ক্ষতি হতে পারে, কেনো আমরা সবাই এমন চুলচেরা বিচারের প্রতি নিজেদের আস্থা স্থাপন করেছি। সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা কি ধরণের পণ্য উৎপাদন করতে আগ্রহী। এবং আমি নিজের সামান্য অভিজ্ঞতায় উপলব্ধি করলাম আমাদের আসলে হাত পা বাঁধা।
শিক্ষক হিসেবে আমরা যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত হই, যে প্রতিষ্ঠান নিজের মাপকাঠিতে ছাত্র বাছাই করে, সেসব ছাত্রের প্রতি সমান দায়িত্ববোধ কিংবা একই ধরণের অনুভব আমরা বোধ করি না, আমরা আমাদের ছাত্র বাছাই করি না এবং অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই ছাত্র বাছাই করবার কোনো সুযোগ দেয় না শিক্ষকদের। সুতরাং আমাদের সামনে একদল ছাত্রকে উপস্থাপন করা হয়, যাদের সাথে আমাদের পূর্ব পরিচয় নেই, তারা ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক পরিমন্ডল থেকে এখানে উপস্থিত হচ্ছে, তাদের মানসিক চাহিদা কিংবা তাদের সামাজিক পরিস্থিতি এবং নিয়মন্যাস্ততার প্রতি আনুগত্য বিষয়ে আমাদের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, আমরা " ওয়ান কেস এট এ সিট" হিসেবে প্রতিটি ছাত্রের সাথে ন্যুনতম ৫ মিনিট কাটিয়ে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই, বিষয়টা ভয়ংকর, অন্যায় কিংবা পক্ষপাতমূলক, পরবর্তী প্রতিটি সাক্ষাতে আমরা আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনো না কোনো ত্রুটি কিংবা সাফল্য উদঘাটন করি, এবং দিন শেষে নিজেদের দুর্ভাগ্যের জন্য বিলাপ করি, ওহ গড হোয়াই ডোন্ট উই হ্যাভ দ্যা চান্স টু সিলেক্ট আওয়ার স্টুডেন্টস ইফ ইট ওয়াজ দ্যা কেস , থিংস উড হ্যাভবিন সো মাচ ফান এন্ড সো মাচ ওয়ার্থেড টু স্পেন্ড ওর টু ওয়েস্ট আওয়ার টাইম।"
আমি প্রতি নিয়তই নিজের সাথে নিজের পরিস্থিতির সাথে ছেলের পরিস্থিতি তুলনা করছি, ভাবছি ওর জন্য কোনটা সবচেয়ে ভালো, আমাদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা, আমাদের অসস্তি কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়গুলো আমার সন্তানকে কিভাবে প্রভাবিত করছে, আমাদের আচরণগুলো কি তার কোনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে- আমরা কি ঠিকভাবে সন্তান প্রতিপালন করছি। এবং সর্বোপরি আমরা নিজস্ব স্বাধীন সিদ্ধান্তে যেহেতু একটি সন্তানকে জন্ম দিয়েছি সুতরাং সে কারণে সে আমার একান্ত অনুগত বাধ্যগত হয়ে থাকবে এমন দাসত্ববাদী ভাবনার অবকাশ কি এখানে আছে? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর হয় না। আমি চাই কিংবা আমি বিশ্বাস করি আমার সন্তানের জন্য সেরা বিষয়টি আমি বাছাই করবো, আমি তার বাবা সুতরাং আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় আমি যে পথ নির্ধারিত করবে সে পথেই তার সবটুকু ভালো। আমি তার হয়ে স্কুল বাছাই করবো, এমন স্কুল যেসব স্কুলের অধিকাংশ ছাত্রের ফলাফল ভালো কিংবা সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা ও বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের শিক্ষার মাণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের যে পদ্ধতি বিদ্যমান সেই পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশিত হলে এইসব স্কুল সবচেয়ে ভালো বিবেচিত হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাই আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থা এমন নয়, এই শিক্ষা ব্যবস্থারও ত্রুটিবিচ্যুতি আছি এবং শুধুমাত্র শিক্ষা প্রদানপদ্ধতির ত্রুটির কারণে এবং শিক্ষকের অস্থিরতা- অদক্ষতার কারণে শিক্ষার প্রতি অনাগ্রহী ছাত্রের সংখ্যাও অনেক বেশী এই দেশে।
সুতরাং অর্থনৈতিক লাভক্ষতি বিবেচনা আমি এমন সব পথই বাছাই করবো যেসব পথে তার অর্থনৈতিক সাফল্যের সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়, সে যেনো অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে, যেনো ভালো "কামাতে" পারে এই বিষয় যাচাই করে আমরা তার শিক্ষানির্দেশিকা প্রণয়ন করছি, সেখানে তার নিজস্ব ভাবনার উপস্থিতি নেই, বিষয়টা আপত্তিকর নয় কিন্তু অসস্তিকর। আমার নিজের সফল কিংবা ব্যর্থ বন্ধুরা, সফল বন্ধুরা, যাদের মুখোমুখি হলে নিজের অজান্তেই ইর্ষাকাতর হয়ে ভাবি যদি একটু নিয়মানুবর্তী হতাম, যদি মেনে নিতে শিখতাম তাহলে আমিও ওর মতে "সফল" হতে পারতাম এবং সেসব ব্যর্থ বন্ধু যারা আমাকে ইর্ষা করে কিংবা ভালোবাসে, সবাই দিনের শেষে বাজার গিয়ে ভাবি মুল্যস্ফ্রীতির লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে এই সরকারের পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না। অর্থনীতি একটা ভুমিকা রাখে আমাদের জীবনযাপনের পদ্ধতি নির্ধারণে এবং আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে ভাবনা থেকে আমরা সন্তানের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কামণা করি, কেন না দুধ কিনতে কিংবা ভাত কিনতে শেষ পর্যন্ত পয়সা লাগে।
ছেলে পরীক্ষায় ভালো করে নি, ১৫ জন ছাত্রের ভেতরে ১৫তম হয়েছে, শিক্ষকের উদার হয়েও তেমনক্ষতি বৃদ্ধি হয় নি, কিন্তু সেটা নিয়ে বিমর্ষ হওয়ার কোন কারণ নেই আমার, সে শিখছে না এমন না, সে বিশ্লেষণ করতে পারে, নিজের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মিথ্যা বলতে পারে, নিজেকে বাঁচাতে অন্যের ঘাড়ে দোষ স্থাপন করবার কৌশলও শিখেছে। জীবনযাপনের জন্য যা কিছু প্রয়োজনীয় সবই তো শিখে ফেলেছে, এখন বৃহৎ পরিসরে এইসব করবার দক্ষতা বৃদ্ধির বাইরে শিক্ষা ব্যবস্থা তাকে বাড়তি কি শেখাতে পারবে?
আমি নিশ্চিত জানি আমাদের আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় আমাদের স্কুলগুলো একরৈখিক শিক্ষানীতি অনুসরণ করতে বাধ্য হবে, সেই শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাকৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হওয়া ছাত্রেরা সবাই পিছিয়ে পড়বে। আমি বিশ্বাস করি সকল মানুষই কিংবা অধিকাংশ মানুষই একই রকম যোগ্যতা নিয়ে জন্মায়, তাদের বেড়ে উঠবার পথটুকুই নির্ধারণ করে দেয় তারা ভবিষ্যতে সামাজিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে নাকি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এই ডারউইনিজমের কোনো বিকল্প নেই। সামাজিক প্রেক্ষিতের সাফল্য বিবেচনায় আনলে আমাদের এই বাস্তবতাটুকু মেনেই কাজ করতে হবে। তবে আশাবাদীও হতে চাই, এই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তত একটি উদ্যোগ গৃহীত হবে যেখানে একজন শিক্ষক, কিংবা স্কুলের দায়িত্বশীল কেউ পিছিয়ে পড়া ছাত্রের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে, দাঁড়িয়ে ভাববে তাদের অনুসৃত শিক্ষাপদ্ধতির কোন গলদে এই শিক্ষার্থী ব্যর্থ হলো। দায় অপসারণের সহজসরল প্রক্রিয়াটুকু অনুসরণ না করে সমস্যাটা কোথায় সেটা যাচাই করতে আগ্রহী হবে। এবং এভাবেই সবাই নিজের মাপের এবং নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহন করতে সক্ষম হবে।
মানুষ কিভাবে শিক্ষার ধারণা লাভ করে, কেউ কেউ বেশী মাত্রায় ভিজ্যুয়াল, তাদের চলন্ত কিংবা আকর্ষণীয় শিক্ষাউপকরণ প্রয়োজন, কেউ কেউ শ্রুতিশিক্ষায় ভালো ফলাফল করে, শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিষয়টি আসলে একটির সাথে অন্য একটির সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়। এই সম্পর্ক স্থাপন করতে শেখাটাই শিক্ষার উপলক্ষ্য- আমরা বিভিন্ন ভাষ্যে এই সম্পর্ক স্থাপন করবার দক্ষতা যাচাই করি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রণীত যোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলো এইসব যাবতীয় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা মাত্র।
আমরা একটা "সিলেবাস" সামনে রাখি, সেই বিধিপত্রে বিভিন্ন বিষয় থাকে, প্রতিটি ধাপের একটি পর্যায়ে আমাদের যাচাই করতে হয় এই বিষয়টির কতটুকু শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত করতে পারলো। সেজন্য আমরা আশা করি, কেউ যদি সঠিক ভাবে কিংবা দক্ষ ভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হয় তবে এই অধীত বিষয় থেকে সে এইসব তথ্য উদ্ধার করতে পারবে- বর্ণমালার বিভিন্ন অংশকে যাচাই করতে শেখা, একটি শব্দে যেসব চিহ্ন ব্যবহার করা হচ্ছে সেইসব চিহ্নগুলো বর্ণমালার অংশ এবং শব্দের ভেতরে সেসবের উপস্থিতি কিংবা বিন্যাস কিভাবে শব্দকে বদলে দেয় এইসব যাচাই করতে শেখা। তার পঠনক্ষমতা, পঠনদ্রুতি নির্ধারণ করা, ক্রমাগত তার শব্দভান্ডায় বাড়িয়ে তোলা যেনো সে আরও বাড়তি শব্দ থেকে নিজের অভিজ্ঞতা কিংবা সম্পর্কটুকু নির্ধারণ করতে পারে।
আমরা গাণিতিক দক্ষতা যাচাই করতে গিয়ে বিভিন্ন সংখ্যা শিখাই তাকে, ০ থেকে ৯ পর্যন্ত বিভিন্ন সংখ্যাই বিভিন্ন ভাবে বিন্যস্ত হয়ে তাকে সংখ্যার ধারণা প্রদান করবে, সে একক ঘরের অংক, দশক ঘরের অংক,এইসব অবস্থানগত ধারণা গ্রহন করতে পারবে। এরপর যোগ বিয়োগ করতে শিখবে, গুণ ভাগ এবং বিভিন্ন সমীকরণ সমাধান করতে পারবে সময়ের সাথে। সেসব সমীকরণের সাথে তার নিজস্ব জীবনের যোগাযোগ কতটুকু? কিন্তু আমরা যখন কোনো সিলেবাস নিয়ে দেখি তখন আমরা শুধুমাত্র এইসব সম্পর্কগুলো কে কতটুকু দক্ষভাবে উপলব্ধি ও প্রয়োগ করতে শিখছে সেটুকুই যাচাই করছি।
কিন্তু এই সম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বাধা কতটুকু সেটা কি আমরা ভাবছি। সেটা কোন পর্যায়ে যাচাই করা সুবিধাজনক? একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আসলে বিষয়টা যাচাই করা সহজতর। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এই বিষয়ে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা প্রদান পদ্ধতির জায়গাটা নিয়ে ভাবতে হবে কিংবা সেখানেই যাচাই করতে হবে এখানে যেসব শিক্ষার্থী আসছে, তাদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থাটা উপযুক্ত?
প্রায়োগিক পদ্ধতিতে প্রতিটি বিষয়ের উপযোগিতা এবং প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে শিক্ষা প্রদান করলে সে ভালো ভাবে বিষয়টা উপলব্ধি করছে না কি কথা বলে বলে কানের পোকা নড়িয়ে দেওয়ার প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় সে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে? সে কি ভিজ্যুয়াল না অডিয়াল, আমরা এসব ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে যাচাই করে তার জন্য উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাকে প্রেরণ করতে পারলে শিক্ষার মাণের উন্নতি হবে ,
বাবা মায়ের সবচেয়ে সাধারণ বক্তব্য কি কি? ছেলে হোম ওয়ার্ক ভয় পায়, আলস্য বোধ করে, উদাস, কিংবা কোনো কিছুই গ্রাহ্য করে না। সেটা কি শিক্ষার্থীর সমস্যা, সে কোনো না কোনো ভাবে একটা ঘৃণা কিংবা উপেক্ষার বোধ নিয়ে জন্মেছে, সে কি রিটার্ডেড? কিংবা তার সিলেবাসে অধিক বিষয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে বিষয়টা করতে আগ্রহী নয় বরং বাধ্য করা হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে সে নিজেই বিদ্রোহ করেছে? সামান্য কতগুলো বিষয় উপস্থাপন করে বিষয়টা যাচাই করা যায়, যত সাধারণ হবে বিষয়টা ততই দক্ষভাবে বিষয়টা এনালাইসিস করা যাবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা কিংবা অধিক বিষয় উপস্থাপন করা কোনটা প্রয়োজনীয়? একটা স্কুলে ৫ ঘন্টায় ১০টা বিষয় দায়সারা ভাবে পড়ানো হয় কিন্তু ছেলের স্কুলের ব্যাগের ভারে ছেলে আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার হয়ে উঠছে এমন স্কুল ভালো না কি ৫ ঘন্টায় ৪টা বিষয় সফল ভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং ছেলে নিজে আনন্দিত হয়ে সম্পর্ক স্থাপন করবার ক্ষেতে অধিকতর দক্ষ হয়ে উঠছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ? আমার ভোট সবসময়ই দ্বীতিয়টার পক্ষে, কারণ আমি জানি দীর্ঘ মেয়াদে এই সম্পর্ক স্থাপন করবার দক্ষতাটুকু গুরুত্বপূর্ণ, আমি সুপার ম্যান না আমার ছেলেকে সিম্পল ম্যান হিসেবেই দেখতে ভালোবাসি, আর আমার মনে হয় ও খুব একটা খারাপ করে নি, আমি নিজে কখনও এতটা ভালো ফলাফল করি নি, ও ৯৫% এর বেশী নাম্বার পেয়েছে, আমি অভিযোগ করছি না বরং ভাবছি এই ৯৫% নম্বর বাসার কাউকে তেমন আনন্দিত করে নি কেন না আরও কিছু ছাত্র তার চেয়ে ভালো করেছে, সে হয়েছে ক্লাশের সবচেয়ে খারাপ ছাত্র। এইটা পরাজয়ের ধাক্কাটুকু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে সবার কারণ আমাদের প্রত্যাশার চাপ পাহড় হয়ে চেপে বসছে ওর ঘাড়ে, শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তণ না করে এই জোয়াল ওর ঘাড় থেকে নামানো কঠিন।





আমার ভাবতেই খুব খারাপ লাগে এই এতটুকুন বাচ্চাগুলোকে কী পরিমাণ দেওয়া হয়! পুরো ব্যাপারটার মধ্যে এখন আর কোন আনন্দ নেই, ভালবাসা নেই। আপনি ঠিকই করেছেন। একদম মন খারাপ করবেন না। সন্তানকে সুন্দর গান শোনান (শেখান), ডিজনির কার্টুন দেখান, কিনে দিন রঙিন বই, ফুল চেনান, পাখি চেনান - মানসিক বিকাশটাই আসল কথা।
আর পোস্টটা লেখার ঢংটা (স্টাইল) খুব আন্তরিক লেগেছে।
আমি হতাশ নিজের জন্য- আমি বিষয়টার চাপে পরাজিত হইছি, আমার কিংবা সামষ্টিক প্রত্যাশার চাপটা ওর জন্য না, কিন্তু আমরা ওরে জোর কইরা একটা পরিস্থিতিতে ঢুকতে বাধ্য করছি সেইখানে পড়া ওর জন্য আনন্দদায়ক কিছু না
অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছেন। কোনটা রেখে কোনটা নিয়ে যে আলোচনা করি! তবে একটু সময় করে বিস্তারিত আলোচনা করবো আশা করি, আজকালের মধ্যেই।
শিক্ষা নিয়ে আপনার লেখা পড়ে ভালো লাগলো। এই বিষয়টা নিয়ে কেন যে খুব কম মানুষ লিখেন!
আমি এই ফাঁকে জানিয়ে রাখি- আমি আপনার লেখার বি-শা-ল ভক্ত
বেশী জিনিষ একসাথে জমাট বাঁধছে কারণ এইটার প্রতিটি জিনিষ নিয়া আলাদা আলাদা করে লেখবার মতো দক্ষতা আমার নাই, আমি নিজের প্রয়োজনে কিংবা পরিস্থিতির প্রয়োজনে ভাবতেছি, সেইটার একাডেমিক দক্ষতা আমার নাই বলে আলাদা আলাদা কইরা বিষয়গুলারে সাজায়া রাখা, তোমরা আছো, এই বিষয়গুলাতে বিশদ লিখবা, আমরা বুঝবার চেষ্টা করবো
আমি অনেকবার ভেবেছিলাম ডাচ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে লিখবো। আমাদের দেশের বাচ্চাগুলোকে দেখলে রীতিমতো মায়া লাগে আমার। জীবনে সুন্দর সময়টা কি আতঙ্কেই না পার করছে তারা।
এখানে যখন মেয়ের পড়াশোনার ব্যাপার নিয়ে টীচারের সাথে আলোচনা করি, বিরক্ত প্রকাশ করি তখন মনে মনে ভাবি থাকতাম বাংলাদেশে তাহলে বুঝতাম।
আন্তরিক সমবেদনা। নিজের দৈনন্দিন হাজার ঝামেলার পর বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে টেনশনে থাকতে কেমন লাগে কিছুটা অনুমান করতে পারি
আমার ছোটবেলাতেও বাপে খালি ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করায়া দিয়া আর স্কুলমুখো হয় নাই। তারপর আবার হাইস্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি করায়া দিয়া মেট্রিক পরীক্ষার সময় খোঁজ নিছে।
এখন তো মায়েগো পুলাপানের থেইকাও বেশি পড়তে হয়, শ্রম দিতে হয়, সময়ই দিতে হয়। পুলাপানরে ডিগ্রী না দিয়া বরং মায়েদের ডিগ্রী দেয়া উচিত মনে হয়।
প্রত্যাশার পারিবারিক চাপ, সামাজিক চাপও কাউরে স্বাভাবিক হতে দেয় না।
ভাই, আমার ছেলে এবার ক্লাস টু তে উঠল। ওকে ওয়ানে ভর্তি করতে আমার যে কি অবস্থা হয়েছিল, তা লিখলে সাগরের পানি কালি হলেও মনে হয় কম হবে! ভর্তি পরিক্ষায় ১০০তে ৬৫ নাম্বার পেয়েও কত হাত পা ধরতে হয়েছে। ভাগ্যিস ওই স্কুলের হেড মাষ্টার আবার আমার এক বন্ধুর বন্ধু।
এবার ও ক্লাস টুতে ৭০০ জনে ৮০ তম হয়েছে।
(আত্বীয় স্বজন যখন বলে আর একটা নিয়ে নে, আমি তখন ভাবি। মাঝে মাঝে গালিও দেই, হালার হুত - মদন নাকি! হা হা হা। আপনার আর একজনের ইচ্ছা আছে কি!)
েলখাটা মন ছুঁয়ে গেছে। আপনাকে ধন্যবাদ
আমার নিজের কিছু অভিজ্ঞতা আছে। লেখার ইচ্ছে রইল
অনেক ভাবনা যোগানোর মত লেখা। ধন্যবাদ রাসেল ভাই।
"তবে আশাবাদীও হতে চাই, এই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তত একটি উদ্যোগ গৃহীত হবে যেখানে একজন শিক্ষক, কিংবা স্কুলের দায়িত্বশীল কেউ পিছিয়ে পড়া ছাত্রের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে, দাঁড়িয়ে ভাববে তাদের অনুসৃত শিক্ষাপদ্ধতির কোন গলদে এই শিক্ষার্থী ব্যর্থ হলো। দায় অপসারণের সহজসরল প্রক্রিয়াটুকু অনুসরণ না করে সমস্যাটা কোথায় সেটা যাচাই করতে আগ্রহী হবে। এবং এভাবেই সবাই নিজের মাপের এবং নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহন করতে সক্ষম হবে।"
আপনার আশা পূর্ণ হোক এ কামনা করি।
সুলিখিত চিন্তার খোরাক । নীতিনির্ধারকগণ সচেতন হবেন কবে?
লেখার স্টাইলটা দুর্দান্ত।
মন্তব্য করুন