মেহেরজান বিতর্ক
যুদ্ধ যেকোনো অর্থেই অমানবিক, আক্রান্ত মানুষ এবং আগ্রাসী মানুষের ভেতরে আচরণগত পার্থক্য থাকবেই ধরে নিয়েও আগ্রাসী মানুষদের সবাই মানবিকতাবোধ রহিত এক দঙ্গল এমনটা অনুমাণ করে সে অনুমানের ভিত্তিতে জীবনযাপন কষ্টকর। তৃতীয় প্রজন্মে এসে আমাদের বিশ্লেষণাত্মক হয়ে উঠবার মতো পরিপক্কতা অর্জিত হয়েছে এমনটা আশা করা অনুচিত হবে না।
মাত্র ৪ মাসে ৫০ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন রাজ্যে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহন করে, মুক্তিযুদ্ধের মাঝপর্যায়ে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে কয়েক হাজার শরনার্থী স্থানান্তর করলেও মূলত শরনার্থীর চাপ ছিলো ত্রিপুরা, আসাম আর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এর বাইরে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে ছিলো অধিকৃত বাংলাদেশে। ৭৩ হাজার নিয়মিত সৈন্য, ২০ থেকে ২২ হাজার অনিয়মিত সৈন্য ও রাজাকার বাহিনীর হাতে সাড়ে ছয় কোটি মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে থাকা এবং অনিশ্চিত জীবনযাপনের ইতিহাস শুধুমাত্র নিষ্পেষণের ইতিহাস এমনটা বিশ্বাস করা শক্ত।
অধিকৃত পূর্ব পাকিস্তানের জনজীবন স্বাভাবিক দেখানোর জন্য পাকিস্তানী সামরিক শাসকদের প্রচেষ্টার কমতি ছিলো না। ট্রিগারহ্যাপি, নিষ্ঠুর এবং নৃশংস সেনাকর্মকর্তাদের নৃশংসতার গল্পের বদলে বিবেচক মানুষদের কোনো উপস্থিতি ছিলো না সেনাবাহিনীতে এমনটা মেনে নেওয়া কঠিন। মুক্তিযুদ্ধের ট্রাজেডী হলো বাংলাদেশে যখন স্বাধীনতার লড়াই চলছে তখন প্রায় ১০০০ সেনা কর্মকর্তা এবং ৩০ হাজার সৈনিক পশ্চিম রণাঙ্গনে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা এবং বর্বরতার বিষয়গুলো মেনে নিয়েও তারা অবলীলায় বিশ্বাস করেছে কাফির ভারতের চক্রান্তে পাকিস্তান ভঙ্গের একটা আওয়ামী ষড়যন্ত্র এই কথিত গৃহযুদ্ধ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে যে বর্বর আচরণ করছে তা যথার্থ।
এই ১০০০ থেকে ১২০০ সেনাকর্মকর্তা এবং ৩০ হাজার সৈনিকের ভেতরেও কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীকারে বিশ্বাসী মানুষ ছিলো না? এরা সমাজবিচ্ছিন্ন কেউ নয়,, বরং জীবিকার প্রয়োজনে তারা এমন একটি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলো যে সেনাবাহিনীর পেছনেই ৭০ শতাংশ রাজস্ব ব্যায় করা হতো। পাকিস্তানের মোট ব্যায়ের ৫০ শতাংশই সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ ছিলো দীর্ষ সময় পর্যন্ত, এছাড়াও বিভিন্ন শত্রু সম্পত্তি ক্রয় করবার অগ্রাধিকারও ছিলো তাদের। সুতরাং যারা সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছেন তারা নেহায়েত দেশপ্রেমের বদলে এইসব অর্থনৈতিক বিবেচনাকেও আমলে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেো পূর্ব বাংলার জাতীয়তাবাদী চেতনার উপস্থিতি সম্ভবপর।
পাকিস্তানের অখন্ডতার প্রতি আস্থাশীল উচ্চপদস্থ নাগরিক, সেনাসদস্য এবং রাজনীতিবিদদের ভাবনার পরিসর থেকে স্বেচ্ছায় মুছে দেওয়া হয়তো সম্ভব তবে যারা মানবিকতাবোধে পূর্ব পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি আস্থাশীল এবং এই মুক্তিসংগ্রামকে নৈতিক ভাবে সমর্থন করেছেন তাদের প্রতি অভক্তি কিংবা ঘৃণা হয়তো তাদের আচরণকে কলুষিত করে।
পাকিস্তান সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা ৭১ থেকে ৭৩ পর্যন্ত বেসামরিক বাঙ্গালী কর্মকর্তাদের পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কাবুল হয়ে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি অখন্ড পাকিস্তানের প্রতি তার আস্থা রাখলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি মেনে নিয়েছিলেন বিদ্যমান অবিচার ও অনাচারের কারণে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান আদালা আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে থাকলেই সেটা সকলের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
আমাদের প্রচারণাঅঙ্গনে একপাক্ষিক ঘৃণ্য উপস্থাপন হয়তো আক্রান্ত হিসেবে কোনো না কোনো ভাবে যথার্থ হিসেবে দাবি করা যেতে পারে কিন্তু হালের অন্তর্জালিক বিতর্ক কি সেদিকে দিক নির্দেশ করছে?
"মেহেরজান" চলচিত্রে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর একজন পলাতক সৈন্যের সাথে বাঙ্গালী ললনার প্রেম দেখানো হয়েছে, সেটা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। হয়তো সঙ্গত কারণেই এই বিতর্ক, কিংবা পরের মুখে ঝাল খাওয়া বিতর্কও হতে পারে এটা। আমি ছবির স্টোরিলাইন শুনে ভাবছিলাম প্রেম বিষয়টা প্রথম দেখায় প্রেমজাতীয় ক্লিশে কিছু হওয়া সম্ভব না। কিংবা যদি স্টোরী লাইনে এমনও থাকে উদ্যত বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ে সৈনিকের প্রেমে পড়ছে, বিষয়টা নিছক প্রেম নয় বরং মর্ষকামী মানসিকতা কিংবা ধর্ষকামী মানসিকতার পরিচায়ক হয়ে উঠবে। আমাকে হত্যা করতে উদ্যত একজনের প্রতি কামার্ত বোধ করা কিংবা তার প্রেমে গদগদ হয়ে যাওয়া চরম অসম্মানজনক একটা চরিত্রচিত্রায়ন এবং এমন চলচিত্র নির্মাণের জন্য নির্মাতার বিবেচনাবোধকে প্রশ্ন করা উচিত।
রিভিউ পড়লাম, পড়ে দেখলাম নির্মাতা এমন কোনো মর্ষকামী পর্ণ তৈরি করেন নি, সুতরাং বিষয়টা প্রডিটারমিনিস্টিক এপ্রোচ। পাকিস্তানী সেনার সাথে বাঙ্গালী ললনার প্রেম যেকোনো বিবেচনায় অশোভন, বাঙ্গালী সৈনিকের সাথে পকিস্তানী কন্যার প্রেম একই রকম অশোভন কিন্তু এমন সাংস্কৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুটো প্রদেশের ছেলে মেয়েদের ভেতরে প্রেম ভালোবাসার ঘটনা ঘটে নি এমনটা সত্য নয়। বাঙ্গালী হিসেবে নিষ্পেষিত যুবক এবং পাকিস্তানী সামন্তকন্যার প্রেম হয়েছে। পাকিস্তানী যুবকের প্রেমে পড়েছে বাঙ্গালী ললনা, প্রেম হয়ে উঠবার যেসব উপলক্ষ থাকে, সেসব উপলক্ষ থাকলে প্রেম জাতি ধর্মের বাধন মানে না।
পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করলে হয়তো একটু দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে কিন্তু এটা বাস্তব জীবনের চিত্রায়ন নয়, এটা নিছক ডকুমেন্টারী নয় বরং এটা চলচিত্র এবং নিত্যদিনের ক্লিশে চর্বিত চর্বন উপস্থাপনের বদলে একেবারে নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টা উপস্থাপন করাটাই স্বাভাবিক ছিলো।
এই স্পর্শ্বকাতর বিষয় নির্ধারণ একদল মানুষের অসস্তি ও প্রতিরোধের কারণ হয়েছে, অন্য একদল অনলাইন বুদ্ধিজীবী মূলত বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে কারণ এই ছিবির প্রাথমিক চিত্রনাট্য লিখেছে এবাদুর রহমান। এবাদুর রহমান এবং সলিমুল্লাহ খান একদা পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন নামের প্রায়ে ৭০ বছরের পুরোনো বিতর্কে বিক্রমপুরের ভাষায় গদ্য লিখবার দাবি জানিয়েছিলেন। সলিমুল্লা খান নিজে অবশ্য বিক্রমপুরের ভাষায় সাহিত্যচর্চা করেন না কিন্তু এই ভাষা আন্দোলনে তিনি নিজের অবস্থান নিজেই নির্ধারণ করেছেন। এই ভাষা আন্দোলনের সাথে আমার মৌলিক মতবিরোধ আছে, তবে আমি এই মৌলিক মতবিরোধকে মত প্রকাশ ও সাহিত্যচর্চায় অহেতুক মোড়লগিরি হিসেবে দেখি বলে আমি নিজের লেখার ভাষাকে এইসব রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখতে আগ্রহী কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমি এবাদুর রহমানের বই প্রকাশিত হলে সেসব বই ছিনিয়ে নিয়ে আগুণ জ্বালাবো, কিংবা সে যাই করছে সেটা পরিত্যাজ্য ঘোষণা করে গণআন্দোলনে সাহীহ সাহাবা খুঁজে আত্মঘাতী বোমাবাজ তৈরি করতে চাইবো।
ব্রাত্য রাইসু লেখার ভাষায় এদের অনুসরণ করে এমন কি তার নিজের ব্যক্তিগত ধারণা পশ্চিম বাঙলার বাঙলা ভাষা যথেষ্ট পরিমাণ মুসলমানী নয়, তাতে ভাষাগত প্রকাশে কি কি খামতি তৈরি হয় এটা নিয়ে রাইসুর সাথে যেহেতু কোনো আলোচনা হয় নি সুতরাং সেসব বিষয়ে কোনো বক্তব্য স্থাপন করা কঠিন।
রাইসু এবং এবাদুর রহমানদের অন্য একটি রাজনৈতিক পরিচয়ও নির্মিত হয়েছে গত কয়েকবছর অন্তর্জালিক বিতর্কে, ফরহাদ মজহারীয় কিংবা মজহারীয় ঘারাণার পাকিস্তানপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে- এবাদুর রহমানের চিত্রনাট্য লেখা, সেই চলচিত্রের মূল বিষয়বস্তু পাকিস্তানী সৈনের সাথে বাঙ্গালী ললনার প্রেম চিহ্নিত হওয়ায় দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে যে রম্য রচিত হচ্ছে তাতে অধিকাংশ বক্তাই আমার মতো, যারা ছবিটি দেখেন নি, কিন্তু এটার নেপথ্য রাজনৈতিক পোলারিটির কারণে দর্শক ও ভোক্তা না হয়েই নিজস্ব মতামত জাহির করছেন।
বাংলাদেশের চলচিত্র খুব বেশী দেখা হয় না, এখানে কাহিনীর বিস্তার এবং গভীরতা ব্যস্তানুপাতিক, পাতলা প্লাস্টিকের গভীরতা নিয়ে ৩ ঘন্টা মেয়াদী অনান্দনিক অত্যাচার একটা বাংলা চলচিত্র। যদি কেউ ১৫ পিক্সেলের ছবিকে ৬৪ হাজার পিক্সেল কানভাসে জোরজবরদস্তি আঁটতে চায় তাহলে যেমন বিবর্ণ ও অসচ্ছ হয়ে উঠবে ছবির মান বাংলাদেশের বর্তমান দিনের চলচিত্রগুলোর মান এমনই। খুব ছোটো জায়গায় গভীর দৃষ্টিপাত না করে বরং সার্বজনীন বিষয়গুলোকে ছুঁতে যাওয়ার চেষ্টায় এটা কোনো কিছুই হয়ে উঠতে পারে না। ছবিগুলোর কোনো কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু থাকে না, এক চামচ হাস্যরস, এক চামচ সেন্টিমেন্ট দুই মুঠো ভায়োলেন্স এবং কান্নাকাটির জগাখচুড়ি মনোযোগ দিয়ে দেখা কঠিন এবং অধিকাংশ সময়ই সেটা বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠে, কার্যকারণবিহীন একএকটা দৃশ্যচ্ছেদ এবং অহেতুক কাহিনীর বিস্তার ছবির ফোকাস থেকে ভানাকে সরিয়ে দেয়।
কাহিনী যেমনই হোক না কেনো যদি মেহেরজান তার সিনেম্যাটিক উপস্থাপন ঠিক রাখে এবং বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয় তবে সেটার মৌলিক কাহিনী যাই হোক না কেনো আমি ছবিটিকে স্বাগত জানাবো।





এইবার ছবিটা দেখার আগ্রহ জাগল।
ইন্টারেস্টিং ।
রায়হান ভাইয়ের সাথে একমত। আগ্রহী হইলাম।
মুভি না দেখে শুধু রিভিউ পড়েই ছাগলের তৃতীয় বাচ্চার মতো লাফানোর পড়ার সংখ্যাই বেশী মনে হলো।
মুভিটা দেখবার আগ্রহ জন্মালো, সাথে বুজীদের রিভিউতো আছেই। তারপর মন্তব্য করাই উচিৎ হবে আমার।
http://www.facebook.com/note.php?note_id=147531228634605&id=525322667
এই রিভিউটা ভালো লাগলো
আমি ছবি দেখেছি...
কাহিনী ভালো, মেকিং ভালো হয়নি....
বিস্তারিত বলার ইচ্চা রইলো।
আমি বুঝতেছিণা
আমাগো নতুন প্রজন্মের সবাইও কেনো কথা সর্বস্ব হয়ে উঠছি!
শাহীন আখতারের তালাশ উপন্যাসেও বীরাঙ্গনার কেন্দ্রীয় চরিত্রটি পাকিস্তানী সৈন্যের প্রেমে পড়ে।
উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লেখা, শাহীন নিজেও জানিয়েছেন প্রেমের ব্যাপারটি সত্য ঘটনা। তালাশ প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থের পুরস্কার পায়।
যেকোন কিছু নিয়ে ব্যাপক আশাই ব্যাপক আশাহত হওয়ার কারন। কয়দিন আগে দাবাং দেখার জন্য এমন লৌহ মানসিক প্রস্তূতি রেখেছিলাম যে, সিনেমা দেখে আমার মনে হয়েছে, যাক চলে।
কথা সর্বস্ব হয়ে ওঠা হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ। তাই আমরা তাতে মেতে উঠেছি। @ পথিকদা
যে হারে রিভিউ লেখালেখি হচ্ছে, ছবি না দেখলেও চলবো।
সামী মিয়াদাদ।
পাসওয়ার্ড হারাইয়া ফেলছি।
সবার-ই এক অবস্থা, না দেইখাই প্রতিক্রিয়া দিতেছে। কল্লোল মুস্তফার রিভিউ পইড়া দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা, কিন্তু সবাই এইটা নিয়া এতো বিচলিত ক্যান এইটা জানার জন্য এখন এইটা দেখতেই হবে মনে হইতেছে।
আমার মুভি না দেখা কমেন্ট হইল: বেশিরভাগ মানুষজন যেইটা নিয়া আপত্তি তুলতেছে সেইটা হইল মুক্তিযোদ্ধাদের নাকি নেতিবাচকভাবে দেখানো হইছে। সেইটা নিয়া কিছু বলার নাই যতক্ষণ না ছবিটা দেখতেছি, কারন এখনো বুঝতে পারিনাই নেতিবাচকটা আসলে কি। কিন্তু পাকিস্তানির সাথে প্রেম, আর সেই প্রেমরে জায়েজ করার জন্য সেই সৈন্যরে একটা ভালোমানুষি প্রলেপ দেয়া হইছে বইলা মনে হইছে যাবতীয় রিভিউ পইড়া। আমার কথা হইল, হিরো লাগবেই ক্যান? ঐ ব্যাটা যদি পাকিস্তানের অখন্ডতায় বিশ্বাসী হয়, আর ঐ মেয়ের সাথে প্রেমের আগে একদম টিপিকাল বিরুদ্ধ পক্ষের আচরন কইরা আইসা ঐ মেয়ের প্রেমে পড়ে, তখন একটা অন্য ধরনের কাহিনী পাইতাম। তা না, তারা একটা হিরোইজম ভাংতে গিয়া আরেকটা হিরো বানাইল। টেকনিকটাতেই গ্যানজাম আছে। আর যুদ্ধ নিয়া অল্টারনেটিভ গল্প ডিল করতে হইলে বিষয়টা খুব ভালভাবে ডিল করা দরকার। সেইটা না করতে পারলে ঐটা একটা বাজে মুভি হইয়া যায়। মনে হইতেছে এইখানেও সেইটা হইছে।
যাকগা, না দেইখা বিরাট মতামত দিয়া ফেললাম আমিও
ছবিটি সম্পর্কে আগে শুনেছি, দেখার ইচ্ছা আছে; ইচ্ছাটা একটু বাড়িয়ে দিলেন।
আজকে দেখার কথা ছিল। রিভিউ পইড়া ইচ্ছা উবে গেছে। মিস করলাম কিনা বুঝতাছি না...নায়িকাটা নাকি সুন্দরী ছিল
ছবি দেখা আমার জন্য কঠিন কাজ। ছবিটা দেখে একটা রিভিঊ দিন। আপেক্ষা করছি। বেশ ভাল লিখেছেন।
আপনি কি ছবিটা দেখে এই রিভিউটা লিখেছেন? ছবিটার মেসেজ কি ছিল জানতে চাই। আলোচিত সব ছবিতেই একটা মেসেজ দেয়ার চেষ্টা থাকে অডিয়েন্সকে। সেই মেসেজটা কি? এবং দৃষ্টিভঙ্গীটা কেমন লেগেছে আপনার?
আমার ধারণা আপনি আমার লেখাটা সম্পূর্ণ পড়েন নি, কিংবা চোখ বুলিয়েই লিস্টে নাম উঠানোর আগ্রহ এড়াতে পারেন নি, যদি পড়তেন তাহলে হয়তো দেখতেন আমি খুব ভালো ভাবেই বলেছি আমি ছবিটা অদ্যাবধি দেখি নি, কিন্তু আমি ছবিটি দেখবার সময় এর সিনেম্যাটিক উপস্থাপনটাকেই গুরুত্বপূর্ণ ভাববো,
এসব তেমন বড় কিছু না, এমন অনেক মানুষই টিকে আছে এবং তারা নিজেদের বিজ্ঞও মনে করেন
একটু ভুল হয়ে গিয়েছিল।
বলতে চেয়েছিলাম, সবাই না দেখে লিখছে, আপনিও কি দেখে লিখলেন এটা?
আপনি কি সামু/আমুর ডটু রাসেল? তাইলে মনে হয় এবি (নাকি আবু)র সার্ভারের স্পেইস বা আমার সময় কোনটাই নষ্ট করা ঠিক হবে না। । নৈলে পরে কথা হবে এ বিষয়ে।
আপনার বিবেচনাবোধ ভালো লাগলো
মন্তব্য করুন