সভ্য মানুষের মহল্লায়
আমার মা বেশ দীর্ঘ দিন ধরেই আমার উপরে মহাক্ষ্যাপা কিংবা বিরক্ত, আমার নিজের মতো জীবনযাপনের কোথাও তিনি উচ্চাকাঙ্খা কিংবা অর্থনৈতিক পরিপক্কতা খুঁজে পান না, আমার চিরকালীন আড্ডাবাজী আমার প্রশ্রয় এবং আদিখ্যেতার নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেও আমার সাথে তেমন বাক্যালাপ না থাকায় আমি সেসব সংবাদ শুনতে পাই অন্যসব বোনদের কাছে, মাঝে মাঝে নিজেও ক্ষুব্ধ হই, ভাবি পৃথিবীর সকল অর্জন কেনো অর্থমূল্যে নির্ধারিত হবে-
আমি কম্পিউটারের সামনে বসে দিন-রাত কি দুনিয়া উদ্ধার করছি তিনি জানেন না, তবে সৌভাগ্য হলো তিনি আমার কম্পিউটারের লেখা কিংবা আমি যে আদৌ কোথাও লিখি তা জানেন না। সুতরাং আমি নিশ্চিত আমার এইসব লেখালেখি এবং অধঃপতনের সংবাদ তার জানা হবে না।
ব্লগিং কিংবা অন লাইন লেখালেখির বিষয়টা নিয়ে আমার পরিবারের অন্য সবার তেমন জানাশোনা নেই, সুতরাং আমি দিব্যি গালিবাজি,গলাবাজী করে আসছিলাম, আমার বড় বোনের কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার আর ফ্রিসেলেই সীমাবদ্ধ, আমার এইসব অপকর্মও তার জানা ছিলো না, হঠাৎ বেশ কয়েক দিন আগে বাসায় ফিরেই আমাকে চোখের সামনে পেয়েই বললো "তুই কি দেউনিয়া হইছিস?"
আমি তার এইসব বক্তব্যের কোনো অর্থ না বুঝেই নির্বোধের মতো তার দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ
তুই না কি কোথায় কাকে গালাগালি করছিস, সরকারকে গালাগালি করছিস, এইগুলা কি, পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে তখন এইটার ঠেলা কে সামলাবে
আমি মিঁউ মিঁউ করে বলবার চেষ্টা করলাম অন লাইনে ধরবার মতো আইন এখনও বাংলাদেশে নেই, সাইবার ক্রাইম নিয়ে তেমন কাজকারবার হয় নি বাংলাদেশে।
তবে কথার ঠেলায় আমার এইসব মৃদুপ্রতিবাদ ডুবে গেলে অবলীলায়।
আমার খুব কম পরিচিত জনই আমার এইসব অপকর্মের সাথে জড়িত থাকবার সংবাড জানে, আমার ফেসবুক একাউন্ট আছে, অনেক দিন ধরেই ভাবছি ভাইবোনদের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে বাতিল করে দিতে হবে, এইসব পরিচিত জনদের সংস্পর্শ্ব ব্যতিতই আমার অল লাইন জীবনযাপন সুবিধাজনক, কিন্তু করি করি করেও পরিবারের সদস্যদের ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে বাতিল করা হয় নি, একটা নতুন একাউন্ট খুলে ফ্যামিলি এবং অনলাইন জীবনযাপন আলাদা রাখবার উদ্যোগ নিতে হবে, আমার ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং আমাকে দেখলেই আনন্দিত হয়ে দু দশটা গালি দেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে জ্যামিতিক হারে।যদিও আমার ফ্রেন্ডলিস্টের কোথাও পারিবারিক সম্পর্কের বয়ান নেই কিন্তু মানুষের অসুস্থ উৎসাহ যেভাবে বাড়ছে তাতে কোনো একদিন সেইসব পরিচিতজনদেরও সেক্সুয়ালী আব্যিউসিভ কনটেন্ট পাঠিয়ে দেওয়া কিংবা তাদেরও অহেতুক ট্যাগ করে নোংরামি করবার মতো অশোভন আচরনও তারা করে ফেলতে পারে। পিয়াল ভাই কিংবা ফারুক ওয়াসিফ এটার মুখোমুখি হয়েছে হয়তো অন্য আরও অনেকেই এটার মুখোমুখি হওয়ার আশংকা নিয়েই ভার্চুয়াল জীবন যাপন করছে, কিন্তু এইসব মানুষের সামনে পরিবারের সবাইকে অহেতুক ফাঁসিয়ে দেওয়ার মতো উজবুক আচরণ করবার মানে হয় না।
তবে এইসব আপাত ইন্টারনেটবিযুক্ততার কারণে পারিবারিক জায়গা থেকে সমালোচনামুক্ত থাকলেও বিব্রত হয়েছিলাম একদিন। একদিন এক বন্ধু,আমার এইসব আঁতলামি পাকনামি বিষয়ে অবগত সীমিত কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধুর একজন, তার বাসায় গিয়ে শুনলাম তার ভাগ্নি আমার লেখার পাঠক, এই মেয়েকে আমি চিনি সে যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে তখন থেকেই, সেই মেয়ে এখন বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় কিন্তু সে যে বড় হয়ে উঠেছে এই বিষয়টাই আমার মাথায় ছিলো না, তাছাড়া ধারণাও ছিলো না ও এইসব ছাইপাশ পড়ে, আমি তখন বেশ বড় গলায় গালিবাজি করছি, একটানা অনেকগুলো লেখায় এইসব সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ শব্দ নিয়ে চর্চা করছি, পাঠক ক্ষুব্ধ হলে তাদেরও পাল্টা গালি দিচ্ছি, সে সময়ে তার মন্তব্য শুনে মনে হলো এ কথাটা না জানালেই হতো না। আমি লিখছিলাম যখন তখন মনে করি নি হঠাৎ করেই পরিচিত কেউ বলতে পারে আপনার -তোমার-তোর লেখা পড়ছি, পড়েছিলাম, মনে হলো এইসব স্বাধীন লেখালেখি বাদ, কোনো মন্তব্য কিংবা ক্ষোভ প্রকাশের আশেপাশে যাবো না, নিরাবেগ কাঠখোট্টা কলামটাইপ লেখাই লিখবো-
গত লেখায় সবাই যেভাবে শালীলতার বানী শোনালো তাতে বুঝলাম ভদ্রলোকের মহল্লায় থাকতে হলে কোট-প্যান্টলুন আর টাই না ঝুলালে বিপদ, অধিকাংশই ভাষিক শালীনতাবোধের বয়ান শোনালেও তাদের ব্যক্তিগত আক্রমন যৌনসহিংস ভাষিক আগ্রাসন নিয়ে কোনো বক্তব্য প্রকাশ করতে দেখলাম না, আমার পছন্দ না হলেই আমি কারো প্রতি এমন সেক্সুয়ালি আব্যিউসিভ এক্সপ্রেশন কিংবা কমেন্ট ও কনটেন্ট প্রকাশ করবো? আমর প্রেমিকা আমাকে ছেড়ে চলে গলে তাকে পর্ণোগ্রাফিক ইমেজে তুলে ধরবো? বাসে আর অন লাইন ফোরামে তার ফোন নাম্বার দিয়ে বলবো লুকিং ফর সেক্স নো স্ট্রিং এটাচড?
এইসব ফাতরামি বিষয়ে কোনো অবস্থান নেই তাদের, তারা আমাকে বেশ বিব্রত করেই জানালেন এইসব সভ্য মানুষের মহল্লায় ওরা এইসব বলে, এমন কি করেও তবে ঘোমটা লাগিয়ে





অন লাইনে সভ্য হওয়া, সুশীল হওয়া সবচেয়ে সোজা ব্যাপার। দেশ - সমাজ - মানবতা চর্চা শুধুই অনলাইনে সীমাবদ্ধ আজকাল
এইখানে আইসা নিজেরে ফাতরা বইলা মনে হইতেছে। একটু প্রিসাইসলি বলবা কোথায় ঐসব আগ্রাসন হইছে, যেইখানে কোনো অবস্থান নেই নাই।
রায়হান ভাই আমি আগের লেখাতে কয়েকটা লিংক দিছিলাম, যেইখানে এই আলোচনা চলতেছে, সেইখানে এইসব আলোচনার বিরুদ্ধে একটা কথা উঠে নাই, কেউ একটা অবস্থান গ্রহন করে বলে নাই তাদের আচরণের ভেতরের স্ববিরোধিতার কথা
আমার সাথে বিতর্ক কিংবা গত পোষ্টের কন্টেন্ট নিয়া দুইটা আপত্তি ছিলো
প্রথমটা- ভাষা সংক্রান্ত বিতর্ক- যৌনসহিংসতা বিষয়ক বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য সুশীল সুবোধ ভাষার অভাব এবং সেটা এবিপরিবারের ভাষাবিষয়ক ও শালীনতা বিষয়ক মাণদন্ডের বরখেলাপ বিতর্ক
দ্বিতীয় বিতর্ক এটা অন্য সব ব্লগারের আচরণের সমালোচনা, যারা এখানে লিখছে না কিংবা যাদের যুক্তির বিরোধিতা করছি আমি
প্রথম বিতর্ক বিষয়ে নতুন করে কিছু বলবার নেই, সেটা মীমাংসিত এবং আমি যে সভ্য সুশীল ভাষাবিধি মেনে চলি না এবং মানুষ কিংবা অধিকাংশ মানুষ সেটাতে আহত বোধ করে কিন্তু এটার বিষয়বস্তু ভাষা নয় বরং যৌনসহিংস আচরণ- সেটা পর্যন্ত না পৌঁছে আমার ভাষা নিয়ে বক্তব্য প্রদানের বিষয়টা আমার পছন্দ হয় নি,আমার যেসব জায়গায় গম্যতা নেই এবং যেখানে আমি গিয়ে লিখতে চাই না, সেখানেও অনেকের গতায়ত আছে, সেখানে এই যৌন সহিংসতা বিষয়ে কোনো মতামত প্রকাশিত হয় নি
আর যারা বিতর্ককে অন্য ব্লগারের সমালোচনা বলে কিংবা ব্যক্তিআক্রমণাত্মক বলছেন তারা আমার এই ব্যক্তি আক্রমণকে গুরুত্ব দিয়েছেন কিন্তু লেখার মূল জায়গাটাকে কোথাও স্পর্শ্ব করেন নি, নীড় সন্ধানীর সর্বত গতায়ত তিনিও এই অশোভনতার কোনো প্রতিবাদ করেছেন এমনটা আমার চোখে পড়ে নি, আমি অসভ্য মানুষ বলে আমাকে উপদেশ দেওয়া সহজ হয়তো কিন্তু যৌন সহিংসতাকে যৌন সহিংসতা হিসেবে পাঠ করাটা এর চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ-
সে কাজটা হয়ে উঠে নি- এটা সুশীলতার বিরোধিতা করা লেখা সেখানে কোনো নির্দিষ্ট সংঘবদ্ধতার বিষয় বিবেচনা করা হয় নি।
ওহ তাইলে ঠিকাছে। আমি নিজের ভূমিকা নিয়া চিন্তিত ছিলাম। তোমাকে আমিও ভাষা নিয়া উপদেশ খয়রাত করেছিলাম কিনা!
অন্য ব্লগে যাওয়া হয়না। মেহেরজান নিয়া সমালোচনা দুই একটা পড়তে শুরু করেছিলাম। কিন্তু ছবির সমালোচনার বদলে ওনারা যেভাবে ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত, তাই কোনোটাই পড়ার রুচি হয় নাই।
মাসুম ভাই টাকা খরচ করে এই নিম্ন মানের ছবি দেখে ক্ষুব্ধ। আর আমার মেজাজ বিলা হইছে উদীয়মান তরুন মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উপর। উদের চিল্লাচিল্লিতেই এই ছবি আমার দেড়শ টাকা টিকেট কেটে দেখতে হল।
এক্কেরে আমার মনের কথা তুলে ধরেছেন রাসেল ভাই ।
এরকমই হয়!
মন্তব্য করুন