মাসব্যাপী কার্ণিভাল ০১
মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বইমেলা উদ্বোধন করে যাওয়ার ক্ষণিকক্ষণ পরেই আমি সপরিবারে বইমেলায় পৌঁছেছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বই নিয়ে ঘুমাতে যান, দুষ্টু লোকেরা বলে তিনি বই দেখলেই ঘুমিয়ে পড়েন, সেসব কারণেই সম্ভবত যেকোনো ছাপানো রিপোর্ট তার সামনে আসলেই তিনি ঘুমিয়ে পরেন, কিন্তু তিনি যেহেতু ঘুমিয়ে পড়তে পারেন না তাই অধিকাংশ রিপোর্টে কি লেখা আছে তা তার জানা নেই। তিনি যুক্তরাজ্যে গিয়ে বলেছেন তার সরকার বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিরসনে সাম্ভাব্য সকল কিছুই করেছে,
পুলিশ ও এলিট ফোর্সের বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ডের প্রকোপ কি কমেছে? গত এক সপ্তাহে পুলিশ এবং এলিট ফোর্সের ক্রসফায়ারে মৃত্যু বরণ করেছে ৫ জন, গত দুই সপ্তাহের হিসাব বিবেচনায় আনলে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৮ জন। এই যদি তার সাম্ভাব্য সকল কিছু করবার উদাহরণ হয় তাহলে তার সরকারকে আরও আরও সকল পন্থাই অনুসরণ করবার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে কিন্তু এই পরামর্শ দিতে হবে গণভবনের বাইরে বড় একটি গেট তৈরি করে সেটার উপরে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেখা ব্যানারে, তিনি ব্যানারের বড় বড় লেখা পড়তে পারেন অনায়াসে।
তিনি বইমেলা উদ্বোধন করতে আসবেন এ উপলক্ষ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের ভেতরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিলো, তারা দল বেধে উপস্থিত হয়েছিলো বইমেলা চত্ত্বরে, আপাকে দেখতে যাওয়া এইসব নাতির বয়েসী ভাইদের মিছিল করে ফিরতে দেখলাম। তারা শৃঙ্খলাপরায়ন, এক সারিতে সবাই হাঁটছে, সূর্যসেন হল, জহরুল হক হল, জসিমুদ্দিন হলের ছাত্র ভাইদের এবং দলের যুযুদ্ধ্যমান সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির অনুসারীদের একই সাথে হাঁটতে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহভাজন হয়ে উঠবার ঠেলা এমনই, বাঘে মহিষে একঘাটে জল খায় আর জলকেলী করে।
তাদের পেছনে পেছনে আসছে ছাত্রলীগের মহিলা অংশ, তারা আসবার পথে সেজেগুঁজে এসেছেন, হাতে চুলে ফুল, তারাও সারিবেঁধে হাঁটছেন, তাদের পেছনে আসছে এলিট বাহিনীর গাড়ী, অবশেষে বইমেলা সরকারী অধিকার মুক্ত হলো।
টিএসসি থেকে বর্ধমান হাউস যাওয়ার পথে ডান পাশের ফুটপাত জুড়েই রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রদত্ত স্টলের সারি, বঙ্গবন্ধুময় বইমেলা। ঢুকে বাংলা একাডেমীর স্টল পার হলেই আবারও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচর্বনী স্টল।
ধুলো আর ধুলোর রাজত্ব,
প্রতি বছরই বইমেলার প্রধানতম অভিযোগ কিংবা অনুযোগ হলো ধুলো, গোধুলী শব্দটির উৎপত্তি হয়েছিলো না কি সন্ধ্যের আগে রাখাল বালকেরা যখন গরুর পাল লয়ে ফিরে আসতে বাসায় তখন তাদের খুড়ের আঘাতে ধুলোয় আবছা হয়ে যাওয়া দৃশ্যকে উপস্থাপন করতে, কিন্তু বইমেলায় ধুলো কেনো?
বাংলা একাডেমীর মাঠে কেনো ঘাস জন্মায় না? ঢাকা শহরের সবখানেই ঘাস হয় কিন্তু এইখানে এতদিনেও ঘাস হইলো না।
৬ বছর পর বইমেলা ঢুকে লিপি এই প্রশ্নটাই করলো, বললাম এইখানে এতসব গরুদের চাকরি দিছে, ঘাস হওয়ার সুযোগই পায় না ঘাস বড় হওয়ার আগেই খায়া ফেলে এরা।
শিশুগ্রন্থ চত্ত্বর:
গত ২ বছরে বইমেলার স্টলগুলোর ভেতরে একটা গোছানো ভাব এসেছে, স্টল বরাদ্দ দেওয়া মেলাচত্ত্বর ব্যবস্থাপনায় সামান্য পরিপক্কতা এসেছে, যদিও ঐতিহ্যকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে একটা কেলেংকারী করেছে স্টল বরা্দ্দ দেওয়া কমিটি কিন্তু এবারের আকর্ষণ হলো শিশুদের, কেবল মাত্র শিশুদের জন্যই বই প্রকাশ করছে এমন অধিকাংশ প্রকাশনীকে একটি নির্দিষ্ট চত্ত্বর দেওয়া। বাংলা একাডেমীর স্টলের উল্টো পাশে যেখানে প্রতিবছরই নজরুলের বই পাওয়া যায়, সেখানেই বাংলাদেশ শিশু একাডেমী দিয়ে শুরু হয়ে অধিকাংশ শিশুগ্রন্থ প্রকাশনীর স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
লিটলম্যাগ চত্ত্বর:
লিটলম্যাগ চত্ত্বর গতবার দখল করে ফেলেছিলো ব্লগাররা, এ বছরও সেখানেই আমার ব্লগের স্টল , বইমেলার উদ্বোধনী দিনেই আবার দ্বিতীয় বাংলা ব্লগ দিবস, সামহোয়্যার ইন ব্লগ এববং আমার ব্লগের ভেতরে ব্লগ দিবসের মালিকানা নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, তবে সার্বিক বিবেচনায় এখনও এগিয়ে আমার ব্লগ, গত বছর জাফর ইকবালকে দিয়ে ব্লগ দিবস উদ্বোধনের পর এ বছর বাংলা ব্লগ দিবসের অনুষ্ঠানের আকর্ষণ ছিলেন শাহরিয়ার কবির, বিচারপতি গোলাম রব্বানি, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী। সে কারণেই মূলত আমার ব্লগের স্টলে রুবেল এসে পৌঁছাল প্রায় ১ ঘন্টা দেরীতে। ওকে ওখানেই রেখে আমরা চলে আসলাম।
দখল সংস্কৃতি :
বাংলা একাডেমী চত্ত্বে একুশে ভবন নির্মিত হচ্ছে, ১৯৯৮ সালে সেটার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা, তবে একুশে ভবনের কাছাকাছি, যেখানে বরাবরের মতো এবারও গণশৌচাগার, তার কাছেই অন্য একটি ভিত্তিপ্রস্তরে লেখা আছে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। মাঝে একটা মজাপুকুর, সে পুকুরের এপার ওপারে ভিন্ন বাস্তবতা।
বইমেলার প্রথম দিনটাই অগোছালো যায়, বইয়ের দোকান গোছানো, সাজানো নতুন বই তোলা, পুরোনো বই সাজানোর প্রক্রিয়া দেখেই শান্তি পাই, অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে ৪ সপ্তাহের সাহিত্য কার্ণিভাল।
সকল টেলিভিশন চ্যানেল হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, বইমেলা কভার করতেই হবে, সাংবাদিকগণ ব্যস্ত, ব্যস্ত শৈখিন ফটোগ্রাফার, স্টলসজ্জ্বায় পারদর্শী কর্মীরা, এখানে সেখানে টিভি ক্যামেরার জলন্ত চোখ ফাঁকি দিয়ে হাঁটা, চ্যানেল আই এক বাঁশীওয়ালাকে গত বছর বইমেলায় ভাড়া করেছিলো, সেই বেচারা লাল রংয়ের যাত্রারাজার পোশাক পড়ে বইমেলায় হাঁটে আর বাঁশি বাজায়, ঐতিহ্য উদযাপনের নকশাবাজি এটা। সেই লোকটা চ্যানেল আইয়ের পোশাবাঁশুরিয়া। ডালকেই লাল কুর্তা পড়ে হাজির হয়ে যায়, তেমন ভাবেই হাজির হন লুৎফর রহমান রিটন, তিনি বইমেলা প্রতিদিন উপাস্থপনা করেন। তিনিও বইমেলায় হাজির। তার পাশে আজ টিভি ক্যামেরা ছিলো না। আগামী কাল যখন সরাসরি বইমেলা প্রচারিত হবে তখন তার হাতে থাকবে মাইক আর তার সামনে আমাদের পরিচিত কোনো ব্লগার দাঁড়িয়ে তার প্রথম বই প্রকাশের অনুভুতি জানাবেন
লিটলম্যাগ চত্ত্বরের কোনো একটা দোকানের একজন কর্মচারী সামন্য হলেও বাক্যপ্রতিবন্ধী, তার বাধোবাধো কথা শুনে মনে হলো আমাদের দেশজ সংস্কৃতির হালও এমন। ফিবছর ফেব্রুয়ারীর প্রথম থেকেই মহান একুশ, একুশের হ্যান একুশের ত্যান শুনি, ভাষা আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছাইপাশ পেপারে পত্রিকায় পড়ি, স্মৃতির ভান্ডার শুণ্য হয় নি আজও ৫৮ বছর পরেও, একুশের স্মৃতিচারণের ঐতিহ্য মেনেই প্রতিদিন এক একজন ভাষাসৈনিকের ভাষ্য শুনি। অনেক প্রতিশ্রুতি এবং শপথ শেষে দেখা যায় ১৯৭২ এ সর্বস্তরে সরকারী কাজকর্মে বাংলা প্রচলনের সরকারী সিদ্ধান্ত আজও বাস্তবায়িত হয় নি, কিন্তু বক্তব্য আর শ্লোগান কিংবা দেয়াল লিখনে বাংলার জয়গান। বাংলা এগিয়ে আসছে, সময়ের সাথে তার উচ্চারণরীতি পরিবর্তিত হয়েছে, হালের ফ্যাশন বাধোবাধো কচি শিশুর মতো বাংলা বলা বাক্যপ্রতিবন্ধি সে যুবক এমনই আহ্লাদী বাংলা ভাষা বলছে।





লেখাটা ভালো লাগল না। পক্ষপাতদুষ্ট লেখা, নিরপেক্ষ নয়।
সমালোচনারও আর্ট আছে যেটা এখানে চরমভাবে অনুপস্থিত। অযাচিত ব্যাক্তি আক্রমন ও আছে।
কোন ব্যক্তিকে অযাচিত আক্রমণ করলাম এখানে?
শেখ হাসিনা? যিনি বলেছিলেন বই হলো ঘুমের ঔষধ?
লুৎফর রহমান রিটন? যিনি বইমেলার চ্যানেল আইয়ের বইমেলা প্রতিদিন উপস্থাপনা করেন?
নাম না জানা ব্লগার যিনি এখনও লুৎফর রহমান রিটনকে তার প্রথম বই প্রকাশের অনুভুতি জানান নি এবং যার পরিচয় এখনও আমি জানি না?
কিংবা অজ্ঞাতপরিচয় সেইসব রাজনৈতিক কর্মী যাদের মিছিল করে হাঁটতে দেখলাম?
তাতাপুর সাথে একমত।
সমালোচনাটা কেমন জানি একপেশে হয়ে গেছে।আর আপনার গত কিছু পোস্ট পড়ে আমার মনে হয়েছে আপনি ঘোর আ-লীগ বিরোধী। যা একটু সুযোগ পেলেই প্রকাশ করেন।
হা হা হা !
পোস্ট এবং মন্তব্য পড়ে হাসলাম ।
আমার উপরে তানবীরাপু এবং রাসেল আশরাফ সম্ভবত ভুল করছেন।
আদতে, রাসেল ভাই এর লেখার ধরণটা এমনই । শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বলে হয়তো মনে হচ্ছে তিনি আওয়ামী বিদ্বেষী আবার খালেদার সমালোচকরাও ওনাকে বিএনপি বিদ্বেষী বলবে ।
বলছিলাম লেখার ধরণের কথা । কেউ কেউ তীব্রভাবেই লেখেন, নইলে লেখেন না । রাসেল ভাই এর তীব্র ধরণ ভালো লাগে । তবে, তাঁর অযাচিত 'মন্দ' শব্দ (আমার কাছে, ওনার কাছে শব্দগুলা স্বাভাবিক) সবক্ষেত্রে ভালো লাগেনা । সেই সমস্যাটাও কিন্তু আমার, তাঁর না ।
যাই হোক, পোস্ট ভালো লেগেছে । মেলার একটা করে পোস্ট প্রতিদিন আপনার কাছ থেকে দাবি করি । হোকনা খানিকটা তীক্ষ্ণ !
একমত আরাশি। এয়ারপোর্ট নিয়া হাসিনার আবালামি দেইখা লেখতে মন চাইলেও। লেখতে গিয়া খালি গালি আসতেছে। এই সক্ষেত্রে রাসেলের তীক্ষ্ণ ভাষা ছাড়া ক্ষোভ প্রকাশের বিকল্প নাই।
লেখা ভাল্লাগছে। বইমেলায় যেহেতু যেতে পারছি না, ব্লগই ভরসা। চলুক...
ভাললাগছে লেখাটা। মাসব্যপী জারি রাইখো।
জটিল জটিল। পুরা হাহামগে।
লেখা ভালো লেগেছে।
ব্যক্তি আক্রমন কোথায় সেটা খুঁজে পেলাম না ।
সাববাস, আমি আপনার লেখার ভক্ত। এটা পড়ে আরো একদাপ এগিয়ে গেলাম।
(বাই দ্যা ওয়ে, বই মেলাতে যেয়ে ভাবীর কি কি মনে হয়েছিল তা জানতে ইচ্ছা হল। ভাবী কি ব্লগ পড়েন, ভাবী কি আপনার এ অনুভুতি গুলো সমর্থন করেন। দয়া করে, প্রশ্ন ব্যক্তিগত ভাবে নিবেন না। আমি নিজেও বিবাহিত, আমার ওয়াইফকে বই মেলায় যেতে বললে সে যেতে চায় না, ব্লগ পড়ে না।)
গুরু, আপনার কি অবস্থা! ভাবী কি বলেন!
বিক্ষিপ্ত বইমেলা বর্ননা ভালো হয়েছে। বইমেলা নিয়ে সাদামাটা লেখা/অনুভূতি পড়তে আরাম।
কিন্তু বেশ কিছু বানান ভুল রয়ে গেছে। বিশেষ করে এই বাক্যটা ঠিক করে দিন ".......সেই লোকটা চ্যানেল আইয়ের পোশাবাঁশুরিয়া। ডালকেই লাল কুর্তা পড়ে হাজির হয়ে যায়,"
ধন্যবাদ।
মাঝে মাঝেই বিপত্তি ঘটে যায় বানানে,
চলুক ।
নুরুজ্জামান মানিক ভাই, আপনার লেখা দেখছি না কেন? কেমন আছেন।
ভাতিজীর কি নাম রাখলেন। ওর ছবি পোষ্ট চাই। আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর কেমন হবে?
রাসেলের লেখায় তীব্রতা থাকে, শব্দচয়নে থাকে স্বকীয়তা, যা প্রচলিত নিয়ম থেকে বেশ খানিকটা অন্য রকম । তাই সম্ভবতঃ ধাক্কা দিয়ে যায় আমাদের সাধারণ বোধ শক্তিকে । নিয়মিত হাল খবর পেলে ভালো লাগবে ।
মন্তব্য করুন