ইউজার লগইন

মাসব্যাপী কার্নিভাল ০৭

আজকে দুপুরে চকোলেট মিল্ক ফেলে পিচ্চি আমার ডেস্কটপের একমাত্র কি-বোর্ডের ১২টা বাজিয়েছে, কি-বোর্ডের কিগুলোর আচরণগত পরিবর্তন ঘটেছে ভয়াবহ রকমের এবং তাদের ভাবগতিক বুঝে উঠতে গিয়ে বেশ কয়েকবার বিরক্ত হলাম, নাম্বার প্যাড কাজ করছে না, স্পেস চাপলে সিস্টেম স্লীপ মোডে চলে যাচ্ছে, শিফট কি কাজ করছে না, এন্টার এখনও অক্ষত কিন্তু ক্যাপস লকের অবস্থা খারাপ। সেটা সামলে কবে নতুন কি-বোর্ড কেনা হবে আমি জানি না, এভাবে সামলে রয়েসয়ে বিভিন্ন ভাবে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস পুরোনো, সে কারণেই হয়তো নিছক আলস্যের কারণেই কি-বোর্ড কিনতে কিনতে একটা দীর্ঘ সময় চলে যাবে।

আলস্যের কারণে অনেক রকমভাবে মানিয়ে নিয়ে চললেও আলস্যজনিত কোনো কারণেই আসলে ব্লগিং কিংবা পড়া কিংবা বইমেলা যাওয়ার আগ্রহে ঘাটতি পরে না, বরং বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই এই অবৈতনিক কাজটা করে আমি আনন্দ পাই, সেটা নিয়ে কিংবা ব্লগ এবং ব্লগারদের বিষয়ে আমার অত্যাধিক আগ্রহ খানিকটা পরিবারিক বিঘ্নের কারণ হয়েছে, তারপরও একটা নতুন কিছু লিখবার আগ্রহে ভাটা পরে নি।।

নিতান্ত আলস্যজনিত কারণে আমার অনেকদিনের সঙ্গী মোবাইলট হারানোর পর সেই সিমটা নতুন করে তুলে নতুন মোবাইল নেওয়া হয় নি, সেটা আমার নিজের মোবাইল ছিলো না যদিও কিন্তু এই একটা নাম্বার আমার পরিচয় হয়ে ছিলো দীর্ঘ ৩ বছর, তারপর এই বইমেলায় হারালাম মায়ের মোবাইল সেটা, সিমসহ, সেটাও নতুন করে তোলা হয় নি, নিতান্ত বেখেয়ালে মোবাইল হারানোয় নিজের উপরে চরম বিরক্ত হলেও আলস্যজনিত কারণেই আর সার্ভিস সেন্টার কিংবা কাস্টমার কেয়ার কিংবা অন্য যেকোনো পন্থায় সিম উত্তোলনের কাজটা করি নি, আমার এইসব কাজে অনীহা হয়তো খানিকটা বিপদের কারণ হতে পারে কিন্তু সেসব বিপদের ঝুঁকি নিয়েই বাঁচতে হয়। ল্যাপটপের ছোটো কিবোর্ডে লেখাটা আমার কাছে বিরক্তিকর হলেও একেবারে মাটিতে উবু হয়ে বসে এই লেখালেখির তালছাড়া বেরাছ্যাড়া অবস্থার জন্য দায়ি হবে অতিআবশ্যিক ভাবেই আমার বসবার ভঙ্গিটুকু।

মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভুত বাবর যখন ইরান-তুরানের সাম্রাজ্য হারিয়ে হিন্দুকুশ পর্বতমালা পার হয়ে কাবুল হয়ে দিল্লী দখল করলেন, তার সম্রাজ্যের ব্যাপ্তি ছিলো কম। তিনি সম্রাট হয়েছিলেন এবং প্রাক্তন মুসলিম সম্রাটদের মতো মিশর কিংবা মদীনার দিকে দুত পাঠিয়ে মনোনিত খলিফা হয়ে দেশ শাসন করেন নি, তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি তার ভাষার একজন অন্যতম সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি বেশ দীর্ঘ সময় রাজপূত্র ছিলেন, পারিবারিক ঐতিহ্য, আভিজাত্য কিংবা সংস্কৃতিবোধের পারিবারিক ঐতিহ্য মেনেই তার প্রপৌত্র জাহাঙ্গীর কিংবা অন্যান্য মুঘল সম্রাট এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণ শিল্পমনস্ক ছিলেন। জাহাঙ্গীরের সময়েই ভারতে এসেছিলো ইংরেজ দুত, জাহাঙ্গীরকে তিনি ইংল্যান্ডের কোনো চিত্রকরের আঁকা ছবি উপহার দিয়েছিলেন, জাহাঙ্গীর সেই রাজদুতকে বললেন আগামী কাল বিকেলে আমার দরবারে আসবেন, আমার চিত্রকরেরা এটার অনুলিপি তৈরি করবে, আপনি সেটা দেখে কোনটি আপনার চিত্রকরের আঁকা সেটা নির্ধারণ করবেন।

পরবর্তি দিন যখনইংরেজ রাজদুত আসলেন, সেখানে তার ছবির অনেকগুলো অনুলিপি রাখা, তিনি নিজে অনেক কষ্ট করেও ভেবে বলতে পারলেন না ছবিগুলোর ভেতরে কোনটা আসল ছবি।, জাহাঙ্গীর তাকে বললেন তিনি শুধুমাত্র তুলির আঁচর দেখে বলতে পারেন কোন ছবিটা কার আঁকা, তুলির আঁচর, রংয়ের ব্যবহার দেখে চিত্রকর চিনে ফেলবার এই দক্ষতা অনেক পরিশীলনে অর্জিত হয়। প্রত্যেকটি শিল্পীর নিজস্ব চরিত্র আছে, শারিরীক ক্ষমতা, তুলি ধরবার ভঙ্গী এবং কতটা চাপ দিয়ে তারা ক্যানভাসে তুলি চালাচ্ছে এটা বুঝবার জন্য অনেক মনোযোগী ও অভিজ্ঞ বোদ্ধা হতে হয়, তাদের পূত্র-কন্যারাও পারিবারিক ঐতিহ্যে এমন দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।

ইতালীতে যখন চিত্রকরেরা শিক্ষানবীশ নিতেন, সেই শিক্ষানবীশেরা গুরুর ছবি নকল করতো, সারাদিন, সারা রাত গুরুর ছবি অধ্যয়ন করতো তারা, এসব কাজ করবার পর তারা একটা সময় ছবি আঁকবার অনুমতি পেতেন, তখন গুরু সেইসব ছবি দেখে তাদের দক্ষতা নির্ধারণ করতেন, শিক্ষানবীশির এই ধারার জন্য এক একজন চিত্রকরের অনুকরণে অনেকেই ছবি আঁকতো, তাদের ছবি আঁকবার দার্শণিক ভিত্তি, তাদের ছবির রংয়ের কারুকার্য্যও নির্ধারিত হতো গুরুর প্রভাবে, এই গুরুমুখী শিক্ষার কারণেই হয়তো অনেকেই নিজগুরুর স্বরের বাইরে অন্য কোনো নিজস্ব সুর তৈরি করতে পারেন নি। শিক্ষানবীশের দক্ষতার একটা পর্যায়ে সম্পূর্ণ ছবিটাই শিক্ষানবিশেরা আঁকতো, পরবর্তীতে গুরু তার নাম সাক্ষর করতেন। অনেক বিখ্যাত চিত্রকরের যেসব ছবি আমরা দেখি, সেসব ছবির সাক্ষরের বাইরে অন্য কিছুই হয়তো তাদের আঁকা নয়। ।

অনেকদিন ধরেই কানাঘুষা চলছে, হুমায়ুন আহমেদের বই এখন হুমায়ুন আহমেদ লিখেন না, অন্য কেউ লিখে দেয়, হুমায়ুন আহমেদের নামে সেই বই বাজারে চলে। এইসব পেশাজীবী লেখকেরা নিজের আনন্দে কিংবা পয়সার জন্যই হুমায়ুন আহমেদের বই লিখছেন, কানকথা বলেই সেটাতে তেমন জোর দিচ্ছি না, কিন্তু বাংলাদেশের লেখালেখির জগতে একটা বিপ্লব এনে দেওয়া হুমায়ুন আহমেদ এখন নিজের আনন্দের জন্য একদমই লিখছেন না কিংবা লিখলেও উৎসর্গপত্র এবং উপসংহার লিখছেন ভাবলে দুঃখ লাগে, এই মানুষটা একক ভাবেই দেশে বইয়ের পাঠক তৈরি করেছেন।

হুমায়ুন আহমেদের বই অন্য কেউ লিখে দিতে পারে এমন আশংকা আমার কখনই হয় নি, কিংবা কাজী আনোয়ার হোসেনের মতো তিনও শুধু সম্পাদনা করে একটি বইয়ের লেখক হিসেবে নিজের নাম জাহির করবেন, হুমায়ুন আহমেদকে এতটা সস্তা মনে হয় নি আমার। তবে হুমায়ুন আহমেদের লেখার সাথে দীর্ঘ পরিচিতির কারণে কোনো কোনো লেখা পড়ে মনে হয়ছিলো হুমায়ুন আহমেদ সময়ের সাথে রুচি বদলেছেন, অতীতে যেসব দৃশ্য কিছুটা আড়াল করে উপস্থাপন করতেন কিংবা একটু বয়স্কদের বিষয় সচেতন ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া হুমায়ুন আহমেদ এখন কিছুটা বয়স্কজনোচিত লেখা লিখছেন।

অনুকরণ করবার জন্য হুমায়ুন আহমেদ বেশ সহজ লেখক বলতেই হবে কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের নিজস্ব একটি লেখার ধাঁচ আছে, সেই সহজ সরল আবেগী এবং একই সাথে হাস্যরসাত্মক লেখা দীর্ঘ সময় অনুকরণ করে সে মেজাজটা ধরে রাখা কঠিন, হুমায়ুন আহমেদকে অনুকরণ করে অনেকেই অজস্র লিখছেন, ভবিষ্যতেও লিখবেন, আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনের চাওয়া-পাওয়া এবং নিছক গ্রাম্যতামুক্ত শহুরে নিম্নমধ্যবিত্তের বাঁচবার লড়াই আর তাদের স্বপ্ন সাধের গল্প লিখে তাদের সবার হৃদয়ে প্রতিস্থাপনের কাজটা হুমায়ুন আহমেদ যতটা দক্ষতার সাথে করতে পেরেছেন অন্য কেউ তা পারে নি। সুমন্ত আসলাম হুমায়ুন আহমেদের খানিকটা অনুকরণ করবার চেষ্টা করেছেন নিজের লেখায়, এবার তিনি নয়টি বই(উপন্যাস) লিখেছেন, সুমন্ত আসলাম বৈচিত্রহীন একজন, তার একটি লেখা পড়ে পরবর্তী লেখা পড়বার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান অন্তত ৪ বছর হওয়া বাঞ্ছনিয়, নইলে মনে হবে এই গল্পটা আগেও পড়েছি।

হুমায়ুনআহমেদকে অনুকরণ করতে গিয়ে নিজের সীমিত সামর্থ্যের সবটুকুই বিপর্যস্ত হয়েছে আনিসুল হকের, তিনি বাজারি লেখক হয়েছেন, হয়তো সীমিত সাফল্য পেয়েছেন, ভাইবেরাদারদের কল্যানে তিনি মধ্যবিত্ত জীবনকে নাটকায়িত করতে চেয়ে নন্দিত হতে পারেন নি, তার বহুপর্বের ধারাবাহিক নাটক শেষ পর্যন্ত হতাশার কারণ হয়েছে, সৌভাগ্যের বিষয় এই বইমেলায় তার কোনো লেখা আসছে না।

কৌলিন্যতার বোধ আমাদের সবার ভেতরেই কিছু না কিছু আছে, আমাদের দীর্ঘ জীবনে আমাদের সংস্কার কিংবা পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে আমাদের সবার ভেতরেই কিছু না কিছু উন্নাসিকতা তৈরি হয়। । গতকাল রাতেও আমার আজীবনের পারিবারিক সংস্কৃতিতে একটা পরিবর্তন এসেছে, আমাদের বাসায় একজন গৃহভৃত্তা এসেছে, এবং তার উপস্থিতি বেশ বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করেছে। তাকে দেখছি রান্নাঘরে বসে আছে, কিন্তু তার সাথে উপযুক্ত ব্যবহারটা কেমন হবে সেটা ঠিক করতে না পারায় নিজেই খানিকটা বিব্রত হচ্ছি, হয়তো তিনিও কিছুটা বিব্রত, কিছুটা অসস্তির ভেতরে আছেন, তবে আমার বোন ঠিক মানিয়ে নিয়েছে। আজ রাতে খাওয়ার সময় শুনলাম তাকে কোন মগে পানি দেওয়া হয়েছে সেই খবরও জিজ্ঞাসা করলো ও। আমাদের বাসায় যে গৃহভৃত্তাদের জন্য আলাদা মগের বন্দোবস্ত আছে সেটাই আমার জানা ছিলো না। কিংবা পানির মগে অন্য কেউ পানি খেলে সেটা জাতখোয়ানো বেকায়দা কিছু হতে পারে সেটাই জানা ছিলো না আমার। এমন কেলেংকারি অবস্থার জন্য অবশ্য আমার বোনের নিজস্ব মানসিকতা দায়ী এমনও না, ও এমনিতে রাস্তার পাশের টংএর দোকানের চা খেতে পারে, রিকশাওয়ালার সাথে একই বেঞ্চে বসে চা পানি বিস্কুট খেতেও ওর আপত্তি নেই, কিন্তু বাসায় একজনের উপস্থিতি এবং তার সাথে কি ব্যবহার করতে হবে সে সংস্কৃতি জানা না থাকায় আমাদের অন্য যে সকল পরিচিতদের বাসায় কাজের মেয়ে আছে তাদের সংস্কৃতি অনুসরণ করছে ও। সেই অনুকরণসংস্কৃতিচর্চার কিছু বিপদ-বিপত্তি আছে, যদিও আমার পরিচিত কোনো পরিবারেই এখন গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটে নি কিন্তু নিত্যদিনের সংবাদে এইসব পড়ে ওর মনে হতে পারে কাজের মেয়েকে একটা দুইটা থাপ্পর দিলে তেমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় না, মনে হতে পরে একটু লাঠি পেটা একটু নির্যাতন না করলে ওরা ঠিকমতো কাজ করবে না, এবং এভাবেই একটা নির্যাতনপ্রবন মানসিকতা তৈরি হয়ে যেতে পারে। সবাই যে পিটিয়ে কাজের মেয়ে খুন করা পরিবারেই জন্মগ্রহন করে এমন না, কিন্তু একটু একটু করে সাহসী হয়ে উঠে কেউ কেউ ১০ তলার ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দেয় কাজের মেয়েদের।

বাঙ্গালী মুসলমান পরিবারের কিশোর কাজের মেয়ের শরীর চটকে পুরুষ হয়ে উঠে, তাদের সাথেই নির্জন-নিভৃত অভিসারের অভিজ্ঞতা শুরু, আবু রুশদ তার আত্মজীবনিতে বিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে তাদের পরিবারের ঘটনা বয়ান করতে গিয়ে এমন বেশ কিছু অভিজ্ঞতাও লিখেছেন। তার মেজ ভাই এবং তার মামা একই কাজের মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ছাদের নির্জনে চুম্বন করছে, তাদের বাসার কাজের মহিলা তাকে শরীরি আমন্ত্রন জানালেও তিনি তাতে আগ্রহী হতে পারেন নি কেন না তার আগেই সেই মহিলার কন্যার স্তনের স্পর্শ্ব লেগেছে তার হাতে, কিন্তু আভিজাত্যবোধে কোনো কমতি পরে নি। কৌলিন্যবোধই এমন উদ্ভট একটা জিনিষ। সেটা শুধু অলেখক নিম্নরুচির মানুষদের দখলদারিত্বে আছে এমন না, জনপ্রিয় এবং গুরুগম্ভীর লেখকদের ভেতরেও কৌলিন্যতার ঝঞ্ঝাট আছে। হুমায়ুন আজাদ হুমায়ুন আহমেদকে লেখক মনে করতেন না, আমার বইমেলার জীবনের একটাই ইচ্ছা ছিলো, কোনো একদিন হুমায়ুন আহমেদের বই হাতে নিয়ে হুমায়ুন আজাদের কাছে সাক্ষাৎকারের আবেদন জানাবো। বেশ অনেকবারই হুমাুন আজাদের সাথে দেখা হয়েছে বইমেলায়, অনন্যা কিংবা এমন কোনো একটি স্টলে তিনি বইমেলায় বসে থাকতেন, তবে তখন আমার পকেটে হুমায়ুন আহমেদ কিনবার পয়সা ছিলো না।

ব্লগ শুরু হওয়ার পর এই কৌলিন্যতার ঝোঁকটা বদলে গেছে, ব্লগের লেখা এবং অন্য মাধ্যমে প্রকাশিত লেখার লেখকদের ভেতরেও একটা অহেতুক বৈরিতা আছে। ব্লগলিখিয়ে মানুষদের বই প্রকাশিত হয়েছে, তারাও বই প্রকাশিত করে মূল ধারার লেখক হয়েছেন কিন্তু মূল ধারার লেখক কিংবা কাগজের লেখকদের সাথে কিবোর্ডের লেখকদের বৈরিতা তাতে কমে যায় নি। লিটলম্যাগ এইসব মূল ধারার সাহিত্য কিংবা সাহিত্য অপদবাচ্য লেখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ প্রকাশিত হতে শুরু করেছিলো, সেই আন্দোলন ছিলো শুদ্ধতাবাদী লেখার আন্দোলন, সেই আন্দোলনের ফলাফল কি হয়েছে আমার জানা নেই, কিন্তু ব্লগে নিজের খেয়ালে লিখবার স্বাধীনতাটুকু লিটলম্যাগের লেখকদেরও মূল ধারার লেখক বানিয়ে ছেড়েছে, এখন প্রতিবাদী কণ্ঠ মানেই নির্ভেজাল ব্লগার, যাদের এইসব ভাবাভাবি পক্ষপাতিত্বের বালাই নেই। সে কারণেই লিটলম্যাগ চত্ত্বরের দখল চলে এসেছে ব্লগারদের কাছে। আজ সেখানেই নতুন কম্যুনিটি জার্ণালিজম ব্লগের উদ্বোধন হলো। বিডিনিউজ২৪ডটকম নতুন সিটিজেন ব্লগিং সাইট উদ্বোধন করলো বইমেলার লিটলম্যাগ চত্ত্বরে। আজকের প্রধান ঘটনাই সম্ভবত এটা।

বিদ্যমান বাংলা ব্লগের সাথে নতুন একটা ব্লগ যদি নতুন কিছু নিয়ে আসতে না পারে তাহলে সফল হওয়ার সম্ভবনা কম, সামহোয়ার ইন ব্লগে ছাগল লালনপালনে বিরক্ত একদল স্বদেশপ্রেমী একদা সচলায়তন বানিয়েছিলো, সেটার নিয়মনীতি কিংবা সামহোয়ারের মডারেশন প্যানেলের প্রতি বিরক্তি থেকে শুরু হয়েছিলো আমার ব্লগ, আমার ব্লগের দ্বিচারিতার অভিযোগে এসেছে নাগরিক ব্লগ, সচলায়তনের কোনো এক সংকট থেকে জন্ম নিয়েছে মুক্তমনা, পারস্পরিক বিভক্তির এই ব্লগ ইতিহাস বিডিনউজ২৪ডটকমের সিটিজেন জার্ণালিজম ব্লগ এমন কোনো ব্যক্তিগত কিংবা সামষ্টিক ক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয় নি, সে কারণে হয়তো সেটা টিকে থাকতে পারে । । ঢাকঢোল পিটিয়ে সামহোয়ারইনের সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে প্রথম আলো ব্লগ শুরু হয়েছিলো মাহবুব মোর্শেদের নিজস্ব অভিলাষের প্রকট প্রকাশ থেকে, সেটা অনেক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছিলো এবং সেখানে কাউকে ছাগল না বলবার একটা লিখিত বিধিও ছিলো, সেটা এখন পাঠকফোরামের অনলাইন ভার্সন হিসেবে মৃতপ্রায় টিকে আছে।
আমার ব্লগের নো মডারেশন শ্লোগান শীর্ষে টিকে থাকলেও সেটার নো মডারেশন চরিত্রে আঘাত এসেছে, সামহোয়ার ইন দেশের সবচেয়ে বেশী ব্লগারসমৃদ্ধ হয়ে টিকে আছে তার নিজস্ব পাঠক-লেখকবান্ধব চরিত্রের জন্য, এবং বাংলা ব্লগের এই মহাবিস্ফোরণের প্রতিক্রিয়া হয়েছে ভিন্ন রকমের। এখন কেউ এক ব্লগে ব্যান হলে অন্য ব্লগে গিয়ে কান্নাকাটি করে।

সামহোয়ারের আরিল-জানা জুটিকে আমার পছন্দ, তাদের নিজস্ব অনেক বাছবিচার থাকলেও তারা সকল ব্লগের উদ্বোধনীতে আমন্ত্রিত হলে সপরিবারে সেখানে যান, সবার সাথে কথা বলেন এবং নিজের মতো উপভোগ করেন তাদের এই সাফল্য। বিডিনিউজের ব্লগের উদ্বোধনীতেও তারা গিয়েছিলেন। আমিও ধুঁকতে ধুঁকতে গিয়েছিলাম সেখানে, আজ শুক্রবার আমার নিয়মিত খেলাদিবস, সপ্তাহের এই একটা দিনে শারীরিক কসরত করে এক ঘন্টা ফুটবল খেলি আমরা বন্ধুরা সবাই। সারা সপ্তাহে হয়তো এই একটা দিনেই ওদের সাথে দেখা সাক্ষাত হয়। হাসি-ঠাট্টা, ভবিষ্যত সোহেল ভাই লিখবার উপকরণ সেখান থেকেই জোগার হয়ে যায়। আজ বিকেলে যখন গেলাম বই মেলায় গত ৩ দিনের ঝিমিয়ে পরা ভাবটা কেটে গিয়ে বইমেলা প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিলো। অনেক অনেক মানুষ এসেছিলো আজ। শুক্রবারের নিয়মমফিক এই ভীরের ভেতরে সাবধানে হাঁটতে হয়, সেখানে দেখা হলো প্রথমে কৌশিক আর শরতের সাথে, তারপর দেখলাম কালপুরুষকে, কালপুরুষের সাথে দেখা হওয়ার পর দেখা হলো আইরিনের সাথে। আইরিন বিডিনিউজব্লগের সহসম্পাদক, তারপর দেখা হলো রেজওয়ানের সাথে, রেজওয়ান গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইনের সাউথ এশিয়া চ্যাপ্টারের সম্পাদক কিংবা মডারেটর। দেখা হলো নজরুলের সাথে ওর সাথে ছিলো রায়হান। , নজরুল এবং সচলায়তনের অন্যান্য কয়েকজন একটা বড় মাপের কাজ করছে, তার একজন রাষ্ট্রদুতের সংগ্রহে থাকা১৯৭১ এর বিভিন্ন প্রতিবেদন ডিজিটালাইজড করছে, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে, সেটাতে কাজ করছে রায়হান, এনকিন্দু, আমি এনকিন্দুকে চিনি না কিন্তু তার এই পরিশ্রমের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাবোধ আমার আছে।

নুরুল কবিরের ২৬৬ দিনে স্বাধীনতা বইটি পাওয়া যাচ্ছে আমার ব্লগের স্টলে, সেটার দাম, মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য বইয়ের মতোই আকাশছোঁয়া, ৮০০ পাতার একটা বইয়ের দাম ৪০০০ টাকা রাখবার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন কবার পর সবুজ বাঘ( শাপলু) বলেছিলো ঐ লোকটা একটা ভোদাই, আমি ওকে বললাম এই মানুষটা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদুতদের একজন, তাকে সরাসরি ভোদাই বলে দেওয়াটা বেশ অসম্মানজনক। এমন একজনকে দায়িত্বপূর্ণ একটি কাজে নিয়োজিত করা মানুষদের ভোদাইত্ব এতে প্রকট হয়ে উঠে। ও বললো তাহলে একটু ভদ্রভাষায় বল ঐ লোকটা একটু বোকাটে মানুষ।

নজরুল বললো ওরা মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের অনুমোদন পেয়েছে, এমন কি হয়তো মুক্তযুদ্ধে দলিল পত্রের ১৫ খন্ডই ডিজিটালাইজড করে তারা অন লাইনে ছেড়ে দিবে। ।সাথে মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য বইপত্রও। এই সংবাদ পেয়ে আমার প্রতিক্রিয়া ছিলো যদি সেটার সাথে সরাসরি টপিক কিংবা কিওয়ার্ড ভিত্তিক সার্চের ব্যবস্থা রাখা হতো তবে সেটা সবচেয়ে ভালো হতো, গুগলের নিউজ আর্কাইভ কিংবা বুক আর্কাইভে এই সুযোগটা আছে। রেজওয়ানও এমন দাবি জানালো কিন্তু নজরুলের বক্তব্য বাংলায় এমন করা কঠিন, হয়তো সম্পূর্ণটাই স্ক্যান না করে টাইপ করলে সেটা সম্ভব। আমাদের বাংলা লেখায় ছবি থেকে টেক্সট করবার ব্যবস্থা নেই, ব্রাক নিজদের উদ্যোগে একটা ইমেজ টেক্সট এডিটর তৈরি করেছে তবে সেটা তেমন নির্ভরযোগ্য না। সুতরাং আপাতত যদি পিডিএফও আপলোড করা হয় তাহলেও সেটা ভালো। । অন্তত চাইলেই রেফারেন্সের জন্য ব্যবহার করা যাবে। আমার প্রায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পকেট কিংবা আমার ঘরের স্থানের ঘাটতি হবে না তাতে। আমি প্রয়োজনে আরও একটা পোর্টেবল হার্ডড্রাইভ কিনে সেসব বই সংরক্ষণ করবো। ।

বইমেলায় খেলা শেষে যখন পুনরায় ফেরত আসলাম সন্ধ্যায় তখন বইমেলা সত্যিকারার্থেই ব্লগারদের ভীড়ে ভারাক্রান্ত। আমার ব্লগের মুনিম, দাদাভাই, অনুলেখা( বিখ্যাত লাল পাঞ্জাবী পরে) অরণ্য এবং আরও অনেকে এসে ভীড় করেছিলো আমার ব্লগের স্টলের সামনে। । সামহোয়ারের রাজসোহান, স্বপ্নকথক, বৃত্তবন্দী, হাসান মাহবুব, বিদ্যাসাগর এবং আরও অনেকে উপস্থিত ছিলো, আমি যাদের চিনি না। মঞ্জুরুল ভাই এসেছিলেন তার মেয়েকে নিয়ে। আহমাদ মোস্তফা কামাল এসেছিলেন, এসেছিলো সুমন রহমান, মুক্তিমন্ডল, আন্দালিব, ব্রাত্য রাইসু, খোকন আর বিডনিউজের কর্ণধারেরা এসেছিলেন উদ্বোধন উপলক্ষে, খোকনের সাথে অনেক দিন পর দেখা, এসেই প্রথম প্রশ্ন শুনলাম তুই না কি ছাগু হইছিস?

বৃত্তবন্দীর সাথে তার আগেই উগ্র অন্ধ জাতীয়তাবাদের এই প্রভাব নিয়ে কথা বলছিলাম, আমাদের জাতীয়তাবোধের পরিচিত পাঠে অবিশ্বাসী যে কেউই আসলে ব্লগের সংজ্ঞায় ছাগুতে পরিণত হয়। সুতরাং জাতীয়তাবাদে অবিশ্বাসী যে কেউই একটা পর্যায়ে স্বদেশপ্রেমী তকমা হারায়, মেহেরজান ইস্যুতে আমার অবস্থান আমাকে কতটা পরিচিত ছাগুতে পরিণত করেছে সেটা জেনে আমোদিত হলাম।

ইদানিং অনেক দিন পর কারো সাথে দেখা হলে অবধারিত প্রশ্নটা থাকে, মেহেরজান নিয়ে আপনার কি বক্তব্য? মেহেরজান, এরপক্ষ সমর্থন এবং এর বিরোধিতা করাটা একটা কৌলিন্যতার পরিচায়ক হয়ে উঠেছে, মেহেরজান ইস্যু এমনই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে, সুতরাং খোকনের কাছেও একই প্রশ্ন শুনতে হলো, আমি বললাম আমি মেহেরজান ছবি বিষয়ে কোনো বক্তব্য রাখি নি, আমার বক্তব্য ছিলো গালাগালি দিতে হইলেও ছবিটা দেখে গালি দাও, ছবি না দেখে গালাগালি সংস্কৃতির বিরোধিতা করছি আমি। । আর আমার পরবর্তী অবস্থান ছিলো ছবি দেখা ছবির বিরোধিতা আর সমর্থনের জায়গা থেকে যেকোনো বিতর্ক ব্যক্তিগত আগ্রাসনবিমুক্ত থাকাটা বাঞ্ছনীয় এ বিষয়ে। তবে এর বাইরে কোনো মন্তব্য করবার পরিস্থিতিতে আমি নেই। আমি ছবি না দেখে আমার সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো না। বৃত্তবন্দী সরাসরি ছবি দেখে বলছে সেইটা তেমন কিছু হয় নি, কোনো ভাবনা জাগাতে পারে নি দর্শকের ভেতরে। , দর্শক হিসেবে যেহেতু ও কোনো মানসিক সংকটে উপনীত হয় নি সুতরাং আমার ধারণা পাকিস্তানের সৈন্যের প্রতি প্রেমভাব জাগানোর যে আশংকা বাজারের গুজব সেটা বাস্তব সত্য না।

বৃত্তবন্দী কিংবা অন্য যারা মাসব্যাপী কার্ণিভাল পছন্দ করেছে তাদের পছন্দের কারণটা কি সেটা নিয়েই আমার নিজের ভেতরে কিছু প্রশ্ন ছিলো। সেসব প্রশ্নের একটা চটজলদি উত্তরও আমার জানা। প্রতিটি পত্রিকাই পেছনের পাতার বেশ বড় অংশ জুড়ে বইমেলা প্রতিবেদন ছাপায়, সেই প্রতিবেদন অনেক বেশী তথ্য সমৃদ্ধ এবং সুলিখিত, কিন্তু সেসব ঠিক ব্লগারদের নিজস্ব প্রতিবেদন হয়ে উঠতে পারে না। এই সকল পাঠকের জন্য লেখা সার্বজনীন লেখার ভেতরে ব্লগাররা উপস্থিত থাকে না বলে সেটা পাঠযোগ্য হলেও তৃষ্ণানিবারণী হয়ে উঠতে পারে না। সেখানে আমার উদ্ভট এলেমেলো বইমেলা প্রতিবেদনের প্রতি যে মোহটা তৈরি হয়েছে সেটা এই যোগাযোগের জায়গার কারণে। এখানে অন্য সব চরিত্রই ব্লগার, তাদের সাথে প্রতিনিয়তই অনলাইনে আলাপ হচ্ছে, তাদের প্রতিটি দিন আমাদের জানা। তারা মন খারাপ করেছেন , বিষন্ন কিংবা আনন্দিত, সবই আমরা জানি, তাদের কারো কারো পরিবারের আনন্দ উল্লাসের সাক্ষী হয়ে উঠেছি আমরা।, সে সুবাদেই তাদের জীবন আমাদের কাছে অনেক দিনের পুরোনো সাপ্তাহিক নাটকের মতো, সেসব চরিত্রই আমাদের পরিচিত একান্ত আপনজন।। ঢাকায় থাকি কিংবা এইসব দিনরাত্রির চরিত্রগুলো যেভাবে সবার একান্ত আপনজন হয়ে উঠেছিলো, ব্লগের সুবাদে এমন অনেক চরিত্রই এখন আমাদের স্বজন, সেসব স্বজনের সংবাদ আমরা যেহেতু অন্য সব পত্রিকায় পাই না সে কারণেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো এই মাসব্যাপি কার্ণিভাল কারো কারো ভালো লেগেছে।

তাদের জন্য দুঃসংবাদ হলো নতুন কিছু ঘটছে না বইমেলায়, আজ যেমন বইমেলায় এসেছে হিমুর গোয়েন্দা ঝাঁকানাকা, সুজন চৌধুরির ছবি আর হিমুর গল্পে একটা বাংলা কমিক। সুজনের আঁকার হাত ভালো, ওর কার্টুন কিংবা ক্যারিকেচার আমার পছন্দ। তবে এই বইটিার মূল্য অস্বাভাবিক রকমের বেশী, হয়তো এই কারণেই বইটি প্রত্যাশিক পাঠক সাড়া পাবে না। । টিনটিনের ৬৪ পাতার কমিক বইয়ের দাম একটা সময় ছিলো ৬০ টাকা, এখন কত আমি জানি না, মূল্যস্ফ্রীতি ও মূদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পরও আমার মনে হয় না সেসব কমিকের দাম ২৪০ টাকা ছুঁয়েছে।। । । হিমু কি ভেবে এই দাম নির্ধারণ করেছে আমি জানি না, তবে বাংলা ভাষায় প্রথম রঙ্গীন কমিক লেখবার কৃতিত্বের বাইরে অন্য কিছু সম্ভবত পাওয়া সম্ভব হবে না ওর।

বিডিনিউজের ব্লগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, উপস্থাপক ছিলো শরত, ওর মাইক্রোফোন হাতে পেয়ে সংসদের এমপির মতো আচরণ শুরু করেছিলো, সামনে উপস্থিত বক্তা ওর কথার স্রোতে কথার খেই হারিয়ে ফেলেছিলো, তবে স্বপ্নকথকের সাথে ওর কথার লড়াইটা জমেছিলো, সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হয়েছে সেখানে।

আমার চেহারায় কিংবা ভঙ্গিতে নিশ্চিত কোনো গলদ আছে, সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় যখন সবাইকে ঠেলাঠেলি চলছে তখন নূপুরকে দেখলাম, বললাম এরপরের সাক্ষাৎকারদাতা হিসেবে চলে যান, ও বললো আমি ব্লগার না।, আমি বললাম সেটাতো আরও ভালো, আপনি গিয়ে বলবেন কেনো আপনি ব্লগিং করেন না। পাল্টা উত্তর পেলাম আমার সচলায়তনে একটা নিক আছে। ,আমি বললাম তাহলেও সেটাতে লেখার পরিমাণ কম।.,ও উত্তরে বললো কিন্তু সচলায়তনে আমি জনপ্রিয়, পাল্টা প্রশ্ন করলাম তাহলে কি মানুষ জনপ্রিয় হওয়ার জন্য ব্লগ লিখে? না তা না কিন্তু আমার একটা পরিবারের মতো হয়ে গেছে ওরা, সেটাই আমার জন্য আনন্দের,। আমি হয়তো তেমনভাবে কথা বলতে পারি না, নইলে এইসব ঠাট্টার ভেতরে আক্রান্ত বোধ করবার তেমন কিছুই ছিলো না।

আজকের বইমেলা আমার জন্য পুরোনো বন্ধু খুঁজে পাওয়ার বই মেলা।। ।।। শেখ রানা(তার লেখা গান এবার বিশ্বকপের থিম সং মনোনিত হয়েছে) আমরা একই স্কুলে ২ বছর পড়েছি, একই হাাউজে সহপাঠী থাকা সত্ত্বেও চেহারাটা পরিচিত মনে হওয়ার বাইরে অন্য কোনো ডাক নাম মনে করতে পারলাম না। ,আমাদের সময়ে অবশ্য ডাকনাম ভালো নামের বালাই ছিলো না, যেকোনো একটা নিকনেমই জনপ্রিয় ছিলো। আমি সম্পূর্ণ সময়টাতেই এই চেহারায় একটা পরিচিত নাম বসানোর চেষ্টা করে কাটালাম। । তার পর দেখা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বন্ধুর সাথে, গত ১০ বছরে ওর সাথে দেখা হয় নি। এই সময়ে ও বিয়ে করেছে, সরকারী শিক্ষা অফিসার হিসেবে দাউদকান্দিতে গিয়েছে, দুই সন্তানের পিতা হয়েছে, মেদবন্ত হয়েছে খানিকটা, আমাকে দেখেই বললো তোর শরীরের এই অবস্থা কেন?

ওর সাথে কথা বলে বিদায় নিয়ে চা সিগারেট খেয়ে প্রায় হতাশ এবং বিরক্ত হয়ে ফিরবার পথে চটপটি খেলাম বিডিনিউজের অন্য সবার সাথে। একটা প্রশ্ন মনে জেগে থাকলো, মাহবুব মোর্শেদের একটা বই বের হয়েছে, নাম দেহ, কোন প্রকাশনী থেকে বের হয়েছে আমি জানি না, কিন্তু কোনো প্রকাশনীতেই ওকে বসতে দেখি নি। মাহবুব মোর্শেদকে কেনো প্রকাশকেরা ওদের স্টলে বসতে দেয় না? তারা কি লেখক হিসেবে মাহবুব মোর্শেদকে জনসমক্ষে উপস্থাপন যোগ্য মনে করে না? আমি ওর সাথে এসব বিষয় নিয়ে একটা দীর্ঘ আলোচনা করবো, মাহবুব মোর্শেদ কেনো প্রকাশক দ্বারা প্রত্যাখ্যাত, এই প্রশ্নের উত্তর আমাকে খুঁজে পেতেই হবে। বইমেলাপ্রকাশকচরিত্রম বুঝে উঠতে সহায়ক হবে । এই উত্তর একজন লেখকের লেখা প্রকাশ করতে কোনো আপত্তি নেই কিন্ত স্বয়ং লেখককে স্টল থেকে বর্জন করবার নেপথ্য কারণটা না জানলে আমার জ্ঞানতৃষ্ণার নিবৃতি হবে না।

পোস্টটি ১৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অলৌকিক হাসান's picture


হুমায়ূন আহমেদ ... এই মানুষটা একক ভাবেই দেশে বইয়ের পাঠক তৈরি করেছেন।

দ্বিমত রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের পাঠক খুবই হুমায়ূন কেন্দ্রীক হয়ে থাকে। অন্তত আমার দেখা তাই। এমন অসংখ্য পাঠক দেখেছি যারা হুমায়ূণেরই বই পড়েন, অন্য কারো না। তাদেরকে 'বইয়ের পাঠক' বলব নাকি 'হুমায়ূণের বইয়ের পাঠক' বলব।

রাসেল's picture


আমি নিজেও হুমায়ুন আহমেদের পাঠক, ওয়ালিউল্লাহ শওকত ওসমান কিংবা সৈয়দ হক ঠিক আমাকে পঠনউন্মুখ করতে পারে নি। কাজী ইমদালুল হকের লেখা পড়েও হয়তো আমি আউট বই পড়তাম না, কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের শঙ্খনীল কারাগার কিংবা নন্দিত নরকে যে আগ্রহ তৈরি করেছিলো সেটার ধারাবাহিকতায় আমিও অন্য সবার বই পড়া শুরু করেছি।

এখনও আমি হুমায়ুন আহমেদ পড়ি, হয়তো ভবিষ্যতেও পড়বো। আগে নিজে কিনে পড়তাম, এখন পড়ি ধার নিয়ে, কোথাও কেউ নেই কিংবা শ্যামল ছায়ার মতো উপন্যাস হয়তো লিখবে না হুমায়ুন, হয়তো জোছনা ও জননী গল্পের মতো প্রায় হয়ে উঠতে পারতো উপন্যাসটা নিছক খামখেয়ালে নষ্ট করে ফেলবে হুমায়ুন, কিন্তু এরপরও হালের রদ্দি মালের ভেতরেও হুমায়ুনের ভালো কিছু লেখার প্রত্যাশা নিয়ে পড়বো বইগুলো, পড়ে ১ ঘন্টা কিংবা ২ ঘন্টা পর আক্ষেপ করবো এই মালটা হুমায়ুন না লিখলেও হতো

হাসান রায়হান's picture


শুধু হুমায়ূনের বই পড়লেই তো অনেক। বাঙাল বই পড়ছে এইটাইতো অনেক কিছু।

মামুন হক's picture


আলৌকিক হাসানের সাথে একমত। হুমায়ুন আহমেদ একটা নির্দিষ্ট ঘরানার পাঠকশ্রেনী তৈরী করেছেন যাদের বেশীরভাগের মুখেই তার ছাড়া অন্য কোনো লেখকের বই খুব একটা রোচে না। এমনটা হয়েছে হ্যারী পটার নিয়েও। দিকে দিকে হৈ চৈ পড়ে গেল, হ্যারী পটার আবার বই পড়ার সংস্কৃতি নিয়ে এসেছে আধুনিক মানুষদের মধ্যে। কিন্তু দেখা গেল যে লাউ সেউ কদু, এইসমস্ত নব্য সাহিত্য প্রেমীরা হ্যারী পটার ছাড়া আর কিছুই পড়েন না। এর বাইরের কোনো লেখাঝোকার খবরও রাখেন না। সেইসব পাঠক মূলধারার সাহিত্যের কোনো কাজে আসেননি, কর্পোরেটদের পকেট ভারী করা ছাড়া। আমি হ্যারী পটারের প্রতিটা বইয়ের রয়্যালটি আর অন্যান্য বানিজ্যিক কীর্তিকলাপ জানার পর থেকেই এর সবকিছুকেই বর্জন করে এসেছি। সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য যখন হয় বানিজ্য তখন সেটাকে অপসাহিত্য বলে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেয়া ছাড়া আর কোনো গতি দেখি না।

আপনার মাসব্যাপী কার্নিভাল মনোযোগ দিয়ে পড়ছি।

রাসেল's picture


সাহিত্যের তেমন কোনো মুল ধারা কি আছে?

পাঠক রুচির উপরে নির্ভর করে লেখকের মূল্য আর জনপ্রিয়তা, বটতলার পুথি বিক্রী হয়েছে ১০ হাজার, সেটা আজ থেকে ১০০ বছর আগে, একজন মানসম্মত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা কি ১০ হাজার পাঠক কিনেছে? তার লেখার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন নেই কোনো কিন্তু পাঠক সেটাকে নিজেদের বয়ান মনে করে নি।

হুমায়ুন আহমেদের বই ৫০ হাজার কপি বিক্রি হয় অনায়াসে, তার লেখা সেভাবেই পাঠককে বিনোদিত করেছে, বই পড়ে শিক্ষিত হওয়ার জন্য মানুষ পাঠ্য বইয়ের বাইরের বই পড়ে না, বরং পাঠক আউট বই পড়ে বিনোদনের জন্য, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সে অর্থে বিনোদনের বই না।

মানুষ শিক্ষামুখী, জনকল্যানমুখী হয়ে উঠবে নিজের এই প্রত্যাশাকে সম্পূর্ণ সমাজের স্কন্ধে চাপিয়ে দেওয়াটা সব সময় সঠিক পন্থা বলে মনে হয় না আমার।
যারা চিমসে মুখে বইমেলার লেখককুঞ্জে বসে জনপ্রিয় লেখকদের গুষ্টিউদ্ধার করেন তাদের এটা মেনে নেওয়া উচিত যে তাদের নির্মিত চরিত্রগুলো সাধারণ মানুষের নিজেদের চরিত্র হয়ে উঠতে পারে নি, সাধারণ মানুষ সে কারণেই এইসব চরিত্রের সাথে নিজেদের হাসিকান্নাকে এক করতে পারেন না, আরও সহজ ভাবে বললে এই সমাজের অংশ হয়েও এইসব লেখক পাঠকের মানসিক বোধ উপলব্ধি করতে ব্যর্থ, সেটা লেখকের ব্যর্থতা পাঠকের নয়। লেখক যদি পাঠকের সাথে ক্যুনিকেট করতে না পারে তাহলে দায়টা পাঠকের কান্ধে চাপানোটা অনুচিত বলেই মনে হয় আমার।

কেউ's picture


হুমায়ূন যারা পড়ে তারা হুমায়ূন ছাড়া আর কিছু পড়েনা কথাটা একটা জেনারালাইজেশন। অনেক মানুষকে চিনি যাদের টেক্সটের বাইরে বই পড়া শুরু হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ দিয়ে আর পরে সেই অভ্যাসটাই তাদের অন্য বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। আর শুধু হুমায়ূন আহমেদের বই পড়াটাও কোন খারাপ ব্যাপার না। একটা লেখকের ফ্যানবেইজ থাকতে পারে, আর সেই ফ্যানবেইজ যদি আসলেই ঐ লেখক ছাড়া আর কারো বই না পড়ে তাহলে সেটাও লেখকের-ই কৃতিত্ব। আর একদম কিছুই না পড়ার থেকে মনে হয় শুধু একই লেখকের বই পড়াটা খারাপ না। হুমায়ূন আহমেদ পপুলার লেখক। পপুলার ঘরানার সাহিত্যকে নাক সিঁটকানোটা কোন কাজের কথা না। পপুলার সাহিত্যই ঘরে ঘরে পৌছায়। সেইদিক দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাফল্য বিশাল, তার লেখা শহরে এবং গ্রামে নিম্ন এবং উচ্চ মধ্যবিত্তদের মধ্যে সমান জনপ্রিয়।

সাহিত্যের মহান উদ্দেশ্য এইযুগে কোথায় আছে? কোন লেখক বানিজ্যের কথা না ভেবে বই বের করে? আর সেই সুযোগটাই কোথায়?

হাসান রায়হান's picture


বাবুরের ছেলের নাম হুমায়ুন। বাবুর>হুমায়ুন>আকবর>জাহাঙ্গীর

রাসেল's picture


রায়হান ভাই এইটা আমার মাথায় ছিলো সব সময়ই, বাবুর পূত্র হুমায়ুন, হুমায়ুন পুত্র আকবর, আরবর পূত্র জাহাঙ্গির,

কালকে লিখবার সময়ও এইটা মাথায় ছিলো কিন্তু ভুল হইছে সেইটা অস্বীকার করার উপায় নাই, বড় সমস্যা হইলো পোষ্ট এডিট করে কিভাবে আমি জানি না, তথ্যগত অসংগতিগুলো পিটিয়ে সমান করার কোনো পদ্ধতি জানা নাই এখানে

বাবুর প্রোপৌত্র জাহাঙ্গীর,

অমি's picture


পোস্টের শুরুতেই এডিট বাটন থাকার কথা

১০

রাসেল's picture


ধন্যবাদ, ওখানে খেয়াল করে দেখি নি কখনও

১১

শওকত মাসুম's picture


দীর্ঘ লেখা, কিন্তু একটানে পড়ে গেলাম।

একদল নতুন পাঠক, যাদের হুমায়ূন আহমেদ পাঠক বানিয়েছেন, তারা হয়তো এখনও হুমায়ূণ পাঠকই আছেন। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে মনোযোগী পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে বলেই মনে হয়। কেবল জীবিকার জন্য লেখা বলেই এখন আর টানে না। শেষ ৫/৬ টা হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাস কী পড়েছি হুবহু বলতে পারবো না। কিন্তু শুরুর দিকে কিছু উপন্যাস আমি এখনও হুবহু বলে দিতে পারবো।

১২

সাহাদাত উদরাজী's picture


সাড়ে তিনটায় আমার বিরাট অফিসিয়াল মিটিং! তবু আপনার লেখাটা পড়ে ফেলাম। অনেক ভাল লিখেছেন। আপনার পরিচিতিও বেশ ভাল লাগল।

আপনার এসব লিখা ২৫ তারিখের পর এক সাথে ছাপিয়ে একটা বই বের করে ফেলা যায়। আমি নিশ্চিন্ত, বেশ কাটবে। ব্লগারা হুমড়ি খেয়ে পড়বে।

আপনার দেখার চোখ সরলরেখায় আছে। এখন দেখবার বিষয়, টেলিভিশনের টক শোতে বসিয়ে দিলে আপনি কি আচরন করেন!

১৩

নাজমুল হুদা's picture


বেশ বড়সড় একটা পোস্ট । তবু তা পড়ে শেষ করলাম একটানা । রাসেলের লেখায় কেমন যেন একটা আকর্ষণী শক্তি আছে, শেষ না করে উঠা যায়না । পরবর্তী পোস্টের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম ।

১৪

হাসান রায়হান's picture


হ্যা, খুবই দক্ষ লেখার হাত। বর্ণনা এত সাবলীল যেন স্মুথ এজ সিল্ক।

১৫

অলৌকিক হাসান's picture


হুমায়ুন কেমন লিখেন সেটা আলোচনায় আনিনি। শুধু হুমায়ুণ পড়াও খারাপ কিছু না। কথা হলো 'পাঠক' তৈরি করা বিষয়ে। হুমায়ুন পড়লেও পাঠক। কিন্তু 'বইয়ের পাঠক' বলতে আমরা শুধু 'নির্দিষ্ট লেখক পাঠাভ্যাসকে' ইঙ্গিত করি না। তাই 'বইয়ের পাঠক' তৈরির কৃতিত্ব হুমায়ুনকে ঢালাওভাবে দেওয়া হয় েকন?

নির্দিষ্ট লেখকের উপর পাঠাভ্যাসের উপরই যদি 'বইয়ের পাঠক' নির্ণয় করা হয় তবে 'মকছুদুল মোমিন' ছাপানো পাবলিশার্সরাই আসলে বেশিসংখ্যক 'বইয়ের পাঠক' তৈরি করে থাকেন।

১৬

শওকত মাসুম's picture


ভয়ে আর কইলাম না যে আমারও একটা বই প্রকাশ পাইছে Stare

১৭

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


পাঠক তৈরীর ব্যাপারে, (আউট বই) পাঠোভ্যাস তৈরীর ব্যাপারে, হুমায়ুনের অবদান অতুলনীয় । হুমায়ুন থেকেই শুরুটা হোক, তারপর সবজগতেই পদচারণা বাড়ুক ।

কিন্তু শুরুই যদি না হয় তো, তথাকথিত হুমায়ুনের 'হালকা' থুয়ে 'গভীরে' প্রবেশের পথটাইতো তৈরী হয়না ।

হুমায়ুনের পাঠক হিসাবে আমার মনে হয়েছে, হুমায়ুন একজনই , তাঁকে ছোঁয়া বা কাছাকাছি যাওয়াও সম্ভব না । কোন বোদ্ধা কিভাবে বিচার করলেন, কে নাকচ করে দিলেন, তাতে লেখকের অল্পই যাই আসে ।

পাঠকই লেখককে বাঁচিয়ে রাখেন ।

শওকত ওসমান, আখাতারুজ্জামান ইলিয়াস, সৈয়দ হকদের পড়েছি, পড়ছি, তারপরও হুমায়ুন পড়তে মন্দ লাগেনা । আনন্দের সঙ্গেই পড়ি ।

মজার ব্যাপার অতি সম্প্রতি শহীদুল জহির পড়তে শুরু করেছি । হাতের কাছে যা পাচ্ছি, তাই পড়ছি ।

কারণ, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ শহিদুল জহিরকে অনুকরণ করি আমি। শহীদুল জহির পড়ে মুগ্ধতায় মনে হচ্ছে, আহা ! যদি সত্যিই লেখতে পারতাম এরকম ।

অনুকরণ অভিযোগটারে আমি অবশ্য একদমই পাত্তা দেয়না, এইটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হয়না আমার কাছে !

১৮

তানবীরা's picture


পাঠক তৈরী করার ব্যাপার ধরলে সেবা প্রকাশনী বরং অনেক বেশি পাঠক তৈরী করেছে। তারপর দস্যু বনহুর টাইপ সিরিজগুলোও ছিলো। আমিও বলবো হুমায়ূন আহমেদ একটা শ্রেণী তৈরী করেছেন যারা তাকে পছন্দ করেন কিন্তু পাঠক তৈরী করেছেন এখানে আমার দ্বিমত আছে।

১৯

উলটচন্ডাল's picture


হুমায়ুন তর্ক বাদে অন্য কথা বলি -

আপনার লেখা্র ঢং প্রসঙ্গে -

# আপনার কৌতুকবোধ স্বতন্ত্র। লেখার মাঝে মাঝে ঝলসে উঠে ব্যঙ্গ।

# লেখায় প্রচুর টাইপো, বানান ভুল। পড়তে সমস্যা হয় অল্প, কিন্তু দেখতে খারাপ লাগে বেশি।

# শব্দচয়ন ভালো লেগেছে বেশ কিছু জায়গায়।

বাঙ্গালী মুসলমান পরিবারের কিশোর কাজের মেয়ের শরীর চটকে পুরুষ হয়ে উঠে

এই লাইনটা আপনার লেখা? একই কথা অনেকেই বলেছেন। কিন্তু আমার এই বাক্যটার উপস্থাপনা চমৎকার লেগেছে।

বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে -

# পর্যবেক্ষণ একপেশে

# অনেক বক্তব্য এক সাথে মিলে জগাখিচুড়ি হয়ে যায়

সেসব প্রশ্নের একটা চটজলদি উত্তরও আমার জানা।

আপনার উত্তর ঠিক আছে। কিন্তু একটু অসম্পূর্ণ। আমার এই সিরিজ ভালো লাগার কারণ আপনার হিউমার, খোঁচামারা প্রশ্ন। আমি তো নতুন ব্লগার। ব্লগ মন্ডলের কাউকেই তেমন চিনি না। আমাকে এক ব্লগার বলল আপনি নাকি "ডটু রাসেল" ?? আমি প্রথমে বুঝি নাই।

তারপর সে নানা ব্লগ দেখালো। বিখ্যাত চরিত্র, ক্যাচাল, পরিভাষা সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করলাম। আমি হতভম্ব। বাংলা ব্লগোস্ফিয়ার অল্প সময়েই বেশ জমজমাট। জটিল অবস্থা।

২০

আরণ্যক's picture


কার্নিভালের সাথে ঘোরাফেরা চমৎকার হচ্ছে।
------------
হুমায়ূন আহমেদ পড়ি না - বা ওর বই এর খেতা পুরি বলে কয়েকবছর আগেও ভাব নিতাম ।
ভুলটা ভাঙলো বলপয়েন্ট বা এই জাতীয় কিছু কলাম পড়ে কালের কন্ঠ।
পুরানো দিনের হুমায়ূন আহমেদের কিছু ঝলক দেখা গেলো।
অন্য যে কেউ দুনম্বরী করুক আমি মেনে নিতে পারি - কিন্তু লেখক দুইনম্বরী করলে তারে আমার মেনে নিতে অসম্ভব বোধ হয়।
এই কারণে হুমায়ূন আহমেদ পড়িনা বলে ভাব ধরা যেতো।
এখন মনে হয় - হুমায়ূন আহমেদ এটলিষ্ট ব্লগের যারা লিখে তাদের চে অনেক অনেক ভালো লেখক ।
তাই হুমায়ূন আহমেদ সস্তা লেখক এই সব শুনলে আর গা করি না।
বরং পুরানো আমলের কিছু ক্যাপটিভিটিং মুহূর্ত উপহার দেয়ার জন্য হুমায়ূন কে ধন্যবাদ দেই ।
আমার বই পড়া অবশ্য হু আ দিয়ে না - অন্য অনেক বই পড়েছি - তবে হুআ তে বেশ কিছু দিন পাঠক হিসাবে মজে ছিলাম।

হুমায়ূন আহমেদ তার দামী ক্যামারাটা দিয়ে জন্মদিনের ছবি তোলা বাদ দিয়ে আবার অসাধারন কোন ছবি তুলুক - এটাই কামনা করি ।
--------------------
হুমায়ুন আহমেদ বাজারী লেখক হতে পারেন - কিন্তু হুমায়ুন আজাদের মতো উন্নাসিক, মুইকিহনু ভাবের ছিলেন না মনে হয়। উনি কি নজরুলকে ছড়া লেখক মনে করেন ।
নিজের সম্পর্কে অতিউচ্চ ধারনা পোষন করা একটা অসুখ।
--------------------
বাংলা ব্লগই না - দুনিয়া জুরে ব্লগারদের পরিচয় আলাদা হয়ে দাড়িয়েছে।
সম্প্রতি মিশর আর তিউনিসিয়ার ঘটনায় এটার প্রমান মেলে ।
ব্লগ / সামাজিক ওয়েবসাইট এখন গুরুত্বপূর্ন মাধ্যম ।
হেলাফেলা করার জিনিস না।

২১

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


আরণ্যক এর মন্তব্যটা অতি 'উমদা' লাগলো !

২২

নুরুজ্জামান মানিক's picture


সচলায়তনের কোনো এক সংকট থেকে জন্ম নিয়েছে মুক্তমনা

তাই নাকি ! আমার জানামতে , মুক্তমনার জন্ম ২০০১ সালের ২৬মে তারিখে ।প্রথমে ফোরাম হিসেবে, পরে রূপ নিয়েছিল সামগ্রিক একটি ওয়েব এবং পরবর্তীতে ব্লগ-সাইটে।

২৩

রাসেল's picture


আমি ব্লগ সাইটে রুপান্তরিত হওয়ার বিষয়টাই বলতে চেয়েছিলাম, সেটা এসেছে সচলায়তন থেকে অভিজিৎ নিস্ক্রীয় হওয়ার পর

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.