ইউজার লগইন

আজকের খেলা

জকের খেলায় একটাই সুসংবাদ বাংলাদেশ জিতেছে। শ্বাসরুদ্ধকর, স্বরণীয় কিংবা অন্য যেকোনো বিশেষণে অভিহিত করা যাবে না এই ম্যাচকে, বরং ম্যাচ জয়ের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব শফিউলের। বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব যদি দিতে হয় তাহলে দিতে হবে একমাত্র শফিউলকে। আয়ারল্যান্ডের সাথে খেলায় তার একটি স্পেলেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছিলো, এবার ব্যাটিং এ উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দেওয়া তার ব্যাটিং এ বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছে। শফিউল বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ উইনার বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশের খেলা দেখে হতাশ, বিরক্ত এবং সত্যি সত্যি দুঃখিত, একটা পরিকল্পনাবিহীন, প্রায় অযোগ্য দল কোনো খেলায় জিতলে সেটা খেলাটার জন্য হতাশাজনক। বাংলাদেশের খেলার বিশেষত বাংলাদেশের ব্যাটিং হাল হকিকত দেখে এর বাইরে অন্য কোনো শোভন শব্দ আসছে না। একেবারে পরিকল্পনাবিহীন খেলা খেলেছে বাংলাদেশ এবং এই মুহূর্তে যদি বাংলাদেশের এই দলটা পুনরায় খেলে বিশ্বকাপের যেকোনো দলের বিরুদ্ধে তাদের হারবার সম্ভবনা জিতবার চেয়ে বেশি।

দিনের শুরুটা ভালো হয়েছিলো নিঃসন্দেহে, রুবেল, শফিউল, রাজ্জাক, নাঈমের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এ ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানেরা রান নিতে পারে নি, উইকেটের চরিত্র অনুযায়ী বোলিং হয়েছি না কি ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ভীতির কারণে এমনটা হয়েছে বলা কঠিন। সাকিবের অধিনায়কত্বে এক ধরণের স্বার্থপরতার ছাপ আছে, নিজের একক পার্ফর্মেন্সের দিকে তার নজর খুব বেশী, সে কারণে খুব বেশী সেট ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে কিংবা যখন ব্যাটসম্যান শট খেলা শুরু করে তখন নিজেকে বোলিং এ আনতে সাকিব আগ্রহী নয়,আশ্রাফুলের বদলে দলে সুযোগ পাওয়া মাহামুদুল্লাহ নিজের প্রথম ওভারে একটি উইকেট নিলেও পরবর্তীতে তেমন ভালো বোলিং করতে পারে নি।

সেখানেই ম্যাচ পরিকল্পনার বিষয়টা চলে আসে, বাংলাদেশের বোলাররা ক্যাপ্টেনের ফিল্ড সেটিং অনুযায়ী বোলিং করতে পারেন না কিংবা তাদের সে মেধা নেই কিংবা দক্ষতা নেই, বরং সম্পূর্ণ দলটাই খোদায়ী শক্তির বলে খেলছে, এবং প্রতিটি ম্যাচ জেতাই এক একটি অঘটন এই বাংলাদেশ দলের যোগ্যতা বিবেচনায়। ক্যাপ্টেন কি বোলারকে বুঝাতে ব্যর্থ না কি বোলার নিজের ফিল্ড সেটিং নিয়ে অসন্তুষ্ট, তারা যখন নিজের ফিল্ড সেটিং করে তখন সে অনুযায়ী বোলিং করবার কথা, তা অধিকাংশ সময়েই ঘটে না বাংলাদেশের বোলিং এ, মরগান আসবার পর সে কারণে বাংলাদেশের বাঘের বাচ্চা বোলিং এর হালত হয়ে গেলো ভীত বিড়ালের মতো। ফিল্ড সেটিং এর বাইরে গিয়ে বলের লাইন লেংথ পরিবর্তন করে বল করলে হয়তো কিঞ্চিৎ সাফল্য আসতে পারে কিন্তু ফিল্ড সেটাপ অনুযায়ী বোলিং করলে উইকেট দিতে বাধ্য করা যায় ব্যাটসম্যানকে। বাংলাদেশের বোলিং এ এই জিনিষটাই দেখা গেলো না। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানেরা অন্তত চল্লিশ ওভার পর্যন্ত যেভাবে খেলছিলো রানটা হতে পারতো দুইশত পঞ্চাশ, তা হয় নি, শেষ দশ ওভারে বাংলাদেশের বোলারদের সাথে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের অসহিষ্ণুতা যুক্ত হওয়ায়। ফলাফল ইংল্যান্ড দুইশ পচিশ এ অল আউট।

চট্টগ্রামের উইকেটে এই রান তুলতে লম্বা ব্যাটিং লাইন আপ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দলের তেমন সমস্যা হওয়ার কথা ছিলো না, তামিমের ব্যাটিং দেখে মনে হয় নি উইকেটে বল নীচু হয়ে আসছে, অন্য প্রান্তে ইমরুল কায়েসকে দেখে মনে হচ্ছিলো তার ফিরে যাওয়ার তীব্র তাড়া। আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত তার এই ছটফটে ভাবটা যায় নি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী খেললে হয়তো তামিমের টেকনিকের দুর্বলতা চোখে লাগতো না। তামিমের আউট হওয়ার বলটা ভালো ছিলো কিন্তু তামিমের ব্যাটিং দেখে যতটা মারাত্মক মনে হয়েছে ততটা মারাত্মক আনপ্লেয়াবল বল ছিলো না ওটা।

তামিমের পর মাঠে নামলো জুনায়েদ, আশরাফুলের মতো ব্যাটস্ম্যান, গড়ের দিক থেকে আশরাফুলের সাথেই ওর মিল বেশী, কিন্তু এখনও বেশ স্বতঃস্ফুর্ত , ইমরুলের অহেতুল ছটফটানির কারণে রান আউট হয়ে ফেরত আসবার ধরণটাতে আর যাই হোক পেশাদারিত্ব এবং অভিজ্ঞতার ছাপ ছিলো না।

রকিবুল ধীর গতির ব্যাটস্ম্যান কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মৌলিক সমস্যার বাইরে সে না, আউট হলো তেমনই টেকনিকজনিত সমস্যায়, যদিও তার উইকেটের দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে মনে হলো অবিশ্বাস্য একটা বল হয়েছে, কিন্তু শট খেলার সম্পূর্ণ সময়টাতে ওর অফ স্ট্যাম্প দাত বের কওরে হাসছিলো আর বলছিলো "হিট মি।"

এর পরে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো সাকিব আর ইমরুল, সম্পূর্ণ সময়টাতে ভীত, শংকিত ইমরুলের প্রতিটা রান ছিলো এক একটা যুদ্ধ, হয়তো তার পেটের সমস্যা কিংবা মাথার সমস্যা, তাই অহেতুক নিজেই নিজের নির্বুদ্ধিতায় যখন আউট হলো তখনও এটা বুঝা যাচ্ছিলো বাংলাদেশের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইমরুল আর সাকিব ম্যাচটা নিজেরাই জিতিয়ে আসতে পারতো, সে সময় ইংল্যান্ডের বোলারদের করার কিছু ছিলো না, তারা আউট করতে পারবে না ধরে নিয়েই রান আউটের চেষ্টা করছিলো এবং ইমরুল তাদের হাতে মোয়া তুলে ফেরত আসলো সাজঘরে।

এর পর এক ঝড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার নাই হোয়ে গেলো, মুশফিকুর আউট হলো অতিরিক্ত শট খেলতে গিয়ে, নাঈম আউট হলো ঠিক মতো কানেক্ট করতে না পেরে , আর রাজ্জাক কিংবা শফিউলের কাছে অলৌকিক ইনিংস খেলবার প্রত্যাশা করা অনুচিত।

কিছু কিছু সাধারণ বিষয় সব সময়ই মাথায় রাখতে হয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে এসে এইসব সাধারণ বিষয় কিংবা স্ট্রাটেজিক বিষয়গুলো সম্পর্কে বাংলাদেশ দল ওয়াকিবহাল নয় এটা কেউ বললে প্রত্যুত্তরে বলা উচিত বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এই পর্যায়ে খেলতে দেওয়া উচিত না।

পেস বোলাররা যখন পয়েন্ট, কাভার, এক্সট্রা কাভার আর ্মিড ওফে ফিল্ডার রাখে আর মিড উইকেটে একজনকে পাঠায় তাহলে অবধারিত বোলার আউট সাইড অফ স্টিক এটাক করবে, বল পিচ করবে গুড লেংথে, স্ট্যাম্পের দুই থেকে তিন মিটার দুরত্ব বল করবে বোলার, উচ্চতা হবে স্ট্যাম্পের কাছাকাছি, ব্যাটসম্যানকে কাট করবার সুযোগ দিবে কিন্তু যদি সামান্য ভুল হয় সেটা যাবে পয়েন্টের ফিল্ডারের কাছে, যদি এক পা বাড়িয়ে আপিশ শট খেলে সেটা যাবে কাভারে কিংবা এক্সট্রা কাভারে, আর ডাউন দ্যা উইকেটের অপশনটা যদি মিস টাইমড হয় তাহলে যাবে মিড ওফের কাছে, আর যদি সেই একই ফিলড সেটাপের সাথে লেগ সাইডে ক্যাচিং পজিশনে একজন থাকে তাহলে বোলারের ফুলার লেংথের ডেলিভারি মিড স্ট্যাম্প থেকে ইন করে যাবে প্যাডের কাছে, েকেবারে কপিবুক ক্রিকেট ফিল্ডিং সেটিং, সে অনুযায়ী বোলিং করে যাবে বোলার, ইংল্যান্ডের জেমস এন্ডারসন কিংবা সাঈদ যা করতে ব্যর্থ হয়েছে আজ। তারা খারাপ বোলিং করেছে বলে বাংলাদেশ জিতেছে, এই জয়ে শফিউলের বাইরে অন্য যে ব্যক্তির কৃতিত্ব আছে সেটা জেমস এন্ডারসন, তার সপ্তম ওভারের প্রথম বলে এক্সট্রা পাঁচ রান দেওয়াটাই বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছে।

পার্ফমেন্স রেটিংঃ
শফিউল ১০ এ ৫ বোলিং এর জন্য
রুবেল ১০ এ ৬
সাকিব ১০ এ ৫ ,
নাঈম ১০ এ ৬
রাজ্জাক ১০ এ ৭
মাহামুদুল্লাহ ১০ এ ৪

ইমরুল কায়েস ১০এ ৩
তামিম ১০ এ ৭
জুনায়েদ ১০ এ ২
রকিবুল ১০ এ ০
সাকিব ১০ এ ৩ [ তার আউট হওয়ার ধরণটা এত জঘন্য ছিলো ওর জন্য য়ারও পয়েন্ট কাটা উচিত। তার স্টুপিড সুইপ খেলবার আগ্রহের কারণে সে উইকেট দিয়ে এসেছে সোয়ানকে, সোয়ানের আজকে উইকেট প্রাপ্য ছিলো না। ]
মুশফিকুর ১০ এ ০
রিয়াদঃ আশরাফুলের বদলে দলে এসে বুঝিয়েছে কেনো ও আশরাফুলের চেয়ে আলাদা, হয়তো হাতে তেমন বিগ শট নেই কিন্তু ঠান্ডা মাথায় রান বের কওরে নেওয়ার দক্ষতা আছে ওর, আর অযথা স্টুপিডের মতো আউট হওয়ার ব্যাধি ওর কম।
১০ এ ৭
নাঈমঃ তার পরিচয় দলে ব্যাটসম্যান না বোলার এটা নিয়ে বিশাল একটা প্রশ্ন আছে আমার। এই দলে আশরাফুলকে ওর জায়গায় নিলে ব্যাটিং এ আরও সুযোগ বাড়বে, ওর হাত চালিয়ে খেলবার স্বভাব আছে কিন্তু মূল সমস্যা হলো ও তরোয়ালের মতো ব্যাট ঘুরিয়ে যায় কিন্তু অধিকাংশ সময় বল এবং ব্যাটের ভেতরে অন্তত কয়েক ইঞ্চি তফাত রয়ে যায়।
১০ এ ১

শফিউল আজ যে ব্যাটিং করেছে তাতে ওর ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ প্রাপ্য ছিলো, অযথাই স্ট্রাগলিং ইমরুল পেয়েছে ম্যাচ সেরা সম্মান।
১০ এ ৯

বাংলাদেশ দলের সার্বিক পার্ফমেন্সে ১০ এ ৪

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অলৌকিক হাসান's picture


বাংলাদেশ যেসব খেলায় জিতেছে তাতে প্রতিপক্ষকে তাদের মানের চেয়ে খারাপ খেলতে হয়। ঘুরিয়ে বলা চলে প্রতিপক্ষের খারাপ দিনে, খারাপ খেললে বাংলাদেশ জেতে।

তাই বাংলাদেশের জয়ের ৯০% ফ্লুক। প্রতিপক্ষের ভালোর দিনে বাংলাদেশ আরো ভালো খেলে জিতেছে এমন পরিসংখ্যান তেমন পাওয়া যায় না।

তবে এতে লাভ একটা হয় যে দশর্করা হেভি একটা ম্যাচ দেখলাম ভাব নিতে পারে। টানটান উত্তেজনায় শিহরিত হয়। পত্রিকার কলামও দারুণ মর্মস্পর্শী উত্তেজক হয়।

নড়বড়ে's picture


ঘুরিয়ে বলা চলে প্রতিপক্ষের খারাপ দিনে, খারাপ খেললে বাংলাদেশ জেতে। তাই বাংলাদেশের জয়ের ৯০% ফ্লুক।

বাহ! তাইলে প্রতিপক্ষরে চাইপা ধইরা ওদের একটা "ভাল" দিনরে "খারাপ" বানানোতে তাইলে কোন কৃতিত্ব নাই, না? আজকের ম্যাচে ট্রট/মর্গানের জুটির পরে ইংল্যান্ডের অবস্থা কোনদিক দিয়ে খারাপ ছিল বুঝান দেখি। ওই প্ল্যাটফরমের উপর দাঁড়ায়া ২৫০+ আরামসে করা যাইত। মনের জোর ধরে রেখে, দুর্দান্ত বোলিং করে ২২৫ এ অলআউট করে দিলাম আমরা, ইংল্যান্ডের "ভাল" দিনরে "খারাপ" বানায় দিলাম।

আবার ব্যাটিং এ ১৬৯/৮ ... ইংল্যান্ডের জিতা ম্যাচ, গলায় পাড়া দিয়া বের করে নিল শফিউল-রিয়াদ। ফ্লুক, তাই না! ইংল্যান্ডেরই কৃতিত্ব তাইলে, হঠাৎ করেই কোন এক আশ্চর্য যাদুবলে ওদের দিন "খারাপ" হয়ে গেছে!!

রাসেল আশরাফ's picture


আপনারা যে যাই কন, ১০ এ ৪ দেন আর ফেল করান,৯০% কেন ১০০% রে ফ্লুক বলেন তাতে কোন যায় আসে না।বাংলাদেশ জিতছে এটাই শেষ কথা। বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ

লীনা দিলরুবা's picture


আপনারা যে যাই কন, ১০ এ ৪ দেন আর ফেল করান,৯০% কেন ১০০% রে ফ্লুক বলেন তাতে কোন যায় আসে না।বাংলাদেশ জিতছে এটাই শেষ কথা।

জ্যোতি's picture


বাংলাদেশ জিতছে এটাই শেষ কথা।

বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ

শওকত মাসুম's picture


একটু যেন নির্দয় বেশি মনে হল। ইংল্যান্ড জিততেই অভ্যস্ত, আমরা হারতে। সেখান থেকে বিচার বিবেচনা করলে মনটা বেশি শান্ত থাকে।

আপন_আধার's picture


শুনতে খারাপ লাগলেও রাসেল ভাই দল নিয়ে কঠিন সত্যি কথাগুলোই বলে দিছেন। পরিকল্পনা করেও সেই পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করতে না পারাটা আমাদের জাতিগত সমস্যাই, যেটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মধ্যেও বিরাজমান ।
তারপরেও এই দল'টা ২০০০-২০০৫ দলগুলোর চেয়ে অনেক ভালো ।। আর এখন দলের যে মান, এই মানেই পরে থাকতে হবে হয়তো আরও অনেক দিন

আপন_আধার's picture


তবে আবার দিন শেষে কথা একটাই .... বাংলাদেশ জিতছে

এই এক ক্রিকেট দল'টা ছাড়া বর্তমানে আর কোনো কিছুই আমাদেরকে এরকম আন্দোলিত-উদ্বেলিত করতে পারেনা

তানবীরা's picture


সাকিবের অধিনায়কত্বে এক ধরণের স্বার্থপরতার ছাপ আছে, নিজের একক পার্ফর্মেন্সের দিকে তার নজর খুব বেশী,

বাংলাদেশ জেতার পর, টিভিতে আমার শাকিবকে মোটেও হ্যাপি লাগেনি। শফিউলের হাতে জেতা যেনো সে মানতে পারছিলো না মনে হচ্ছিল আমার কাছে

লা চলে প্রতিপক্ষের খারাপ দিনে, খারাপ খেললে বাংলাদেশ জেতে।

হ। ভরসা করার মতো কিছু নেই। তবে ইচ্ছে করে এটা করে, সবসময় জিতলেতো আর ফ্ল্যাট গাড়ি কিছু পাবে না

১০

আপন_আধার's picture


বাংলাদেশ জেতার পর, টিভিতে আমার শাকিবকে মোটেও হ্যাপি লাগেনি। শফিউলের হাতে জেতা যেনো সে মানতে পারছিলো না মনে হচ্ছিল আমার কাছে

১১

আপন_আধার's picture


উপরের মন্তব্যে'র পুরোপুরি দ্বিমত পোষন করলাম
সাকিব এই মানসিকতার খেলোয়াড় হইলে বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন হইতে পারতোনা

১২

টুটুল's picture


আত্ম সমালোচনা ভাল.. কিন্তু আপ্নে বেশী নির্দয় Sad

১৩

ভাস্কর's picture


পোস্টের অনেক মতের সাথেই আমার দ্বিমত আছে। বাংলাদেশের বোলিং ইংল্যান্ড ম্যাচে আমার কাছে বেশ পরিকল্পিত লাগছে। পরিকল্পণায় আহামরি কোনো ক্রিয়েটিভিটি ছিলো না যদিও, বোলাররা উইকেট টু উইকেট বল কইরা গেছে। আগের ম্যাচ গুলিতে এইটাও যেইখানে ঠিকভাবে হয় নাই, এই ম্যাচে বোলিঙের এই ডিসিপ্লিন্ড হালত দেইখাই আমি খুশি। ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানেরা যেই কারনে অনেক শট খেলতে পারে নাই। একেতো ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানগো স্পিন দূর্বলতা, তারউপর দুইপ্রান্ত থেইকা চলছে বাম হাতি আর ডানহাতি স্পিনের কম্বিনেশনে আক্রমণ। আর আমাগো কিউরেটর সাহেবের অবদানতো আছেই। মরগ্যান ভালো খেলছে কারণ সে বল অনেক লেইটে খেলে। এইটা তার বিশাল কোয়ালিটি, যেই কারনে রেইসিস্ট ইংলিশগো দলেরও আইরিশ মরগ্যান নিয়মিত খেলোয়ার। তার এই কোয়ালিটি'র জন্যই তার পারফর্ম্যান্স ধারাবাহিক...কিন্তু এই ম্যাচে সে আহামরি স্ট্রোক খেলতে পারে নাই। রান রেইট অনেক এক্সিলারেইট করাইতে পারে নাই। আর রান রেইটের এক্সিলারেশনের অভাবেই যখন স্ট্রোক খেলতে শুরু করছে তখন মোটামুটি ধারাবাহিক ভাবেই উইকেট পড়ছে।

তবে ব্যাটিং পরিকল্পণাতে আমারো কিছু অবজার্ভেশন আছে। বাঙালি ব্যাটসম্যানেরা আদৌ পরিকল্পণা কইরা খেলতে পারে কিনা এই বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। তামিমরে আগে মনে হইতো সে শেওয়াগের মতোই নিজের খেলা খেলে। ইন্ডিয়া ম্যাচে তার ব্যাটিং দেইখা খুশি হইয়া গেছিলাম...আরে এই ছেলে দেখি ম্যাচ রিড কইরা খেলে! কিন্তু পরের দুই ম্যাচেই তারে আবার যে কে সেই লাগছে...গরীবের শেওয়াগ! আর সাকিবরে একসময় অনেক ঠিকঠাক লাগতো। আর এখন তার অ্যাটিচিউড টুওয়ার্ডস গেইম নিয়া আমার প্রশ্ন আছে। গতোদিন যদি ম্যাচ হারতো তাইলে আমি তার জন্য আরবী ভাষায় গালি ঠিক কইরা রাখছিলাম। আউট সাইড দ্য অফস্ট্যাম্পের বলরে ক্রস ব্যাটে অন সাইড শট বানানের যেই চেষ্টা সে গতো সবকয়টা ম্যাচে করতে গিয়া আউট হইছে...সেই একই টাইপ শট একটা ক্রুশিয়াল ম্যাচের ক্রুশিয়াল মোমেন্টে খেলতে গিয়া আউট হইলো সে। এইরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা দিয়া আর যাই হোক দীর্ঘমেয়াদে ইন ফর্ম থাকা যায় না।

মুশফিক যেই বলে আউট হইছে, ঐটারে আমার বেশ ভালো বল মনে হইছে। রিভার্স স্যুইঙের বিষয়টা এক্কেরে গ্রামাটিক্যালি কইরা দেখাইছে শেহজাদ।আর অ্যান্ডারসনের ওয়াইড ডেলিভারিগুলি কিন্তু সে এমন পরিস্থিতিতে আগেও করছে...যেই কারনে তার টেস্ট পারফর্ম্যান্স যতোটা ভালো ওয়ানডে ক্যারিয়ার সেই তুলনায় ম্লান।

আর ইমরুল কায়েসের অস্থিরতাটা রান আউট সিচ্যুয়েশান গুলি ছাড়া আর কোথাও খুব নেগেটিভলি ছিলো না। একটা অলমোস্ট চান্সলেস ইনিংস খেলছে সে। যেইটা হওয়াতেই সাকিব-তামিমের অবিবেচক ইনিংসগুলিও এখন কাজের মনে হইতেছে।

১৪

রাসেল's picture


উইকেট টু উইকেট বল করার ভিতরে তেমন সৃজনশীলতা নাই, ইয়্যু মিস আই হিট বোলিং নিয়মিত করতে পারাটা স্লো মিডিয়াম পেসারদের জন্য জরুরী, বাংলাদেশের স্পীনারদের এই রকম ইয়্যু মিস আই হিট বোলিং হয়তো গত ম্যাচের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভালো কিন্তু সেইটার ভিতরে আগ্রাসী বিষয়টা নাই।

পীচ থেকে পাওয়ার কিছু নাই, পেসারদের হয়রান করা ছাড়া এই পীচ তেমন বাড়তি কিছু করে নাই, শেহজাদ এয়ার পাচ্ছিলো, এইটা দেখতে ভালো লাগে, বোলিংকে চমৎকার মনে হয় কিন্তু বোলার এয়ার পাবে কি পাবে না এইটা ডেলিভারী স্টাইলের উপরেও নির্ভর করে, আমি সীমকে কিভাবে ধরে কখন বল রিলিজ করতেছি তার উপরে নির্ভর করবে বিষয়টা কখন, কত লেটে গিয়া এয়ারে সুইং করবে, মুশফিকুর যেই বলে আউট হইছে সেই ডেলিভারি যদি শট খেলার মানসিকতা না থাকতো তাহলে খুব সহজেই ফিরিয়ে দেওয়া যাইতো।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং এর তরিকাই এমন সাধারণ বলকেও অসাধারণ মনে হয়, বিশেষত আউট হওয়ার পর যেই স্ট্যান্স নিয়া খাঁড়ায় ব্যাটসম্যান তাতে মনে হয় হি হজ ডান এভরি থিং ফ্রম দ্যা বুক বাট সাডেনলি দ্যাট বল বিহেভদ স্ট্রেঞ্জ এন্ড মুভড এওয়ে ইন এ ওয়ে ইট সিমপ্লী নট সাপোজড টু মুভ।

রকিবুলের আউটটা চিন্তা করেন, ওর অফ স্ট্যাম্প থ্রু আউট দ্যা শট ওপেন ছিলো, বলটা স্ট্যাম্পে হিট করার পর ও কভার করছে স্ট্যাম্প কিন্তু ওর এক্সপ্রেশন দেখছেন, দেখলে মনে হবে ফ্রম হোয়ার দ্যা হেল দিস ফোর্থ স্ট্যাম্প হ্যাড জাম্পড ইন দ্যা পীচ। এইটা তো এইখানে থাকবার কথা না, অফ স্ট্যাম্পের পাশে আরেকটা স্ট্যাম্প লাগায়া খেলতেছে ইংল্যান্ড এইটা আমারে কোচ আগে বলে নাই কেন।

সাকিবের আউটের ধরণ নিয়া কোথা কম বলা ভালো। বাংলাদেশের বোলিং এ এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায়, সাকিব আর নাঈম প্রত্যাশা অনুযায়ী বোলিং করে নাই। ্মাহমুদুল্লাহ বল করছে, ভাবছে উইকেট আসবে, ফিল্ডিং যেভাবে সাজানো ছিলো সেইরকম আপিশ বল করে নাই। আর স্পীন শর্ট পীচ হইলে সেইটার গায়ে হিট মি হার্ড সাইনবোর্ড লাগানো থাকে, এইটা অন্তত বুঝা উচিত বাংলাদেশের বোলারদের।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.