মধ্যবিত্তের গালিবিষয়ক রোমাঞ্চ
মধ্যবিত্তের গালি বিষয়ক রোমাঞ্চ অসস্তিকর ভাবনার করুণ প্রকাশ, তাদের অসস্তিকর যৌন অবদমন এবং অবৈধ যৌনকোল্পনার সবটুকু হাস্যকর ভাবে প্রকাশিত হয় তাদের গালি বিষয়ক প্রক্রিয়াটিতে।
কাউকে গালি দেওয়া তেমন বাজে কোনো বিষয় না, গালি দেওয়া স্বাভাবিক অনুভুতির প্রকাশ, ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে গালি নিজের উচ্চকিত আবেগ প্রশমনে সহায়ক ভুমিকা পালন করে, কিন্তু গালি দিয়ে নিজের ঝাল ঝারবার প্রক্রিয়াটিতে অবধারিত ভাবেই নিজের কাছে অসস্তিকর সঙ্গম ভাবনাগুলোর উপস্থিতি দৃষ্টিকটু, সে ভীতি তাড়া করতে থাকে তাদের, নিজের উচ্চারণে নিজের দুর্বলতাই প্রকাশ পায়।
যৌনকল্পনা কিংবা ফ্যান্টাসি এবং অসস্তির উদাহরণ অবশ্য বিভিন্ন সামাজিক ট্যাবু থেকেই তৈরি হয়, সামাজিক পৌরুষ বোধের সুরসুরি যেখানে প্রধান অনুসঙ্গ হিসেবে চলে আসে, যে পৌরুষবোধ পরিবারপ্রধানের, যে পৌরুষবোধ তাদের পরিবারের মাসোলম্যান হিসেবে একটা অবধারিত আসন দিয়েছে, যে পৌরুষ বোধের ধারণায় তারা নিজেরা নারীদের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপিত হতে ভালোবাসে, সেই একই ধারণা থেকেই তারা অন্য পুরুষকে আক্রমণ করতে গিয়ে অবধারিত ভাবেই নিজের ধারণার প্রতিমুর্তি হিসেবেই সেই পুরুষের পৌরুষকে আক্রান্ত করতে চায়।
সুতরাং ঘরের নারী সদস্যদের বিভিন্ন কায়দায় সংগম করবার আর্তি প্রকাশ করে, সেখানেও নিজের পুরুষতান্ত্রিকতা প্রবল, তারা সঙ্গমসুখ পেতে চায় না , তেমন স্বপ্নীল সঙ্গম বাসনা তাদের নেই, বরং কামজর্জর দৃষ্টিকটু জটিল সঙ্গমই তারা বাঞ্ছা করে, এদের অনেকেরই নিজেদের শিশ্নপ্রীতি রয়েছে, তারা ধারণা করতে ভালোবাসে তাদের শিশ্ন কিংবা পুরুষত্ব নির্ধারক প্রত্যঙ্গটি অন্য সবার চেয়ে আকারে প্রকারে বৃহৎ, তারা সে কারণেই হ্যাডম পুরুষ, সেখানে অর্গাজম কিংবা কুকুরসঙ্গম কোনো একটি আসন হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারে কিন্তু যখন কল্পনায় অন্য কারো নারীকে ধর্ষণ করতে চায় তারা তখন সেটা যতটা সম্ভব নিরবিকার এবং কষ্টদায়ক হতে পারে তাদের কলপনায় ততটাই তীব্র কিংবা প্রচন্ডতায় তারা সঙ্গম সমাপ্ত করতে চায়।
ইদানিং বিষয়টা ব্যামোর পর্যায়ে চলে গিয়েছে এমনটা বলা অসংগত হবে না, আজ দুপুরে একজনকে প্রশ্ন করেছিলাম কোনটা বেশী অশ্লীল, কারো এমন করুণ সঙ্গম বাসনার প্রকাশ, যার ভেতরটা এমন উদ্ভট এবং অদ্ভুত কামভাবনায় জর্জর সে নিজে না কি তাকে ঘিরে থাকা অন্ধ স্তাবকদের মুগ্ধ পিঠ চাপড়ানি,
সবার ভেতরেই এমন কামকল্পনা এবং এমন নির্যাতনপ্রবন সঙ্গমসুখ পাওয়ার আগ্রহ থাকে হয়তো, মানুষের যৌন বাসনা মানুষের নিজের ভাবনার চেয়েও অদ্ভুত, সুতরাং সে বিভিন্ন উপায়ে বিভানে প্রক্রিয়ায় উপগত হইতে চাইবে, এটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, অসুস্থ ভাবনার কিছু নেই, উৎসাহ পেলে এবং কোনো নিয়মনীতি না থাকলে যেমন তেমন নির্যাতন প্রবন স্যাডিজমের চর্চা অনেকেই করতে উন্মুখ, সবার ভেতরেই নারীর কাতোরোক্তি শুনবার বাসনা প্রবল, বিছানায়, কর্মক্ষত্রে নারীকে ডমিনেট করতে চাওয়ার ভাবনাটুকু নিয়েই অনেকে অফিস ফেরত বাস অন্য কোনো কর্মপ্রত্যাগতা নারীর পাছা দেখে এমন বিমলানন্দ পেতেই পারেন, সেটাকে কি অসুস্থ বলা যায়
নিজের কাছে যেসব অসস্তিকর সঙ্গম বাসনা লুকিয়ে রাখা সেসব প্রকাশিত হলেই বা অসস্তির কি আছে, আমাদের পরণের কাপড় খোলা, আমাদের উদ্যত শিশ্ন, আমাদের দুই হাত কিবোর্ডে আর মুখে লালা ঝড়ছে, সেটা অসস্তিকর কিছু না, মুখমেহনের আনন্দ পেতে চাইলে, আঙ্গুল পরস্ত্রীর নাগাল চাইলে সে আঙ্গুলে ভাত চেটে খেয়েও বিমলানন্দ পাওয়া যায়,
গালি দেওয়া আপত্তিকর নয়, গালির উপযুক্ত পাত্র খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন, কামলালায় মাখামাখি গালি পড়তে খারাপ লাগে না আমার, কিন্তু যখন কোনো নির্দিষ্ট ভাবনার কক্ষপথে আটকে না থাকবার দায়ে কাউকে এমন পরিস্থিতিতে পরতে দেখি নিজের কাছে হাস্যকর লাগে এই নিয়ন্ত্রনপ্রবনতা।
মৌলবাদী বলা যায় এদের আচরণকে নিশ্চিত ভাবেই, আল কুরআনের মতো একটাই সাহীহ ইতিহাস রয়েছে, সে ইতিহাসে একটাই ভিলেন, একদলই মহানায়ক ভাবনার গ্যাড়াকলে আদতে তারা একটা নির্ধারিত মতবাদই প্রচার করতে চাইছে,তাদের ভাবনার উন্মুক্ততার বাগবিস্তারী অবস্থান যে সে মতবাদ মানতে কাউকে বাধ্য করাটার সম্পুর্ণ বিপরিত প্রক্রিয়া এটা উপলব্ধি করতে তারা ব্যর্থ,
তারা একটা ভাবনার স্কুল খুলেছে, সে স্কুলের নির্ধারিত সিলেবাসেই এখন থেকে মানুষের অনুভুতি পরিচালিত হবে, সে স্কুলের সিলেবাসে যে ভাবনাগুলোর উপস্থিতি নেই সেসব যেকোনো ভাবনার উপস্থিতিতে স্কুলের হেডমাস্টার তার সঙ্গম ফ্যান্টাসীর দোকান খুলবেন, সেখানে গিয়ে হুক্কা হুয়া বলা স্কুলের সকল ছাত্রের একমাত্র দায়িত্ব, তাকে অবশ্য বলা হয় না, নিজের মায়ের সাথে অপুর্ণ সঙ্গম বাসনার এই ফ্রয়েডিয়ান ডিলেমা তাকে কতদিন তাড়া করছে, কতদিন সে নিজের স্বপ্নে এমন ভয়াবহ সঙ্গম দৃশ্য দেখে আতংকে ঘুম ভেঙে চিৎকার করে উঠে বসেছে বিছানায়, পিতার সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের পৌরুষ মাপবার বদখেয়াল তার কতদিনের।
সামনা সামনি তাকে পাওয়া সম্ভব নয়, সঙ্গমবিবর্জিত জীবনে তার এইসব সঙ্গম ফ্যান্টাসী দিয়ে তার জীবন, তার অবসর আনন্দে কাটুক, যারা তার বিক্ষিপ্ত বীর্যস্খলন ছাতা মাথায় দেখছেন তাদেরও ধন্যবাদ। গলায় পাড়া দিয়ে পীরিত সম্ভব না, এই বাস্তব বুদ্ধিটুকু হলেই নিজের স্যাডিজমের লাগাম টেনে আনবেন তারা, কিংবা কখনই বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারবেন না তারা, এমনটাও হতে পারে।
আশা করা যায় জাতিয়তাবাদি উন্মাদনায় তার এই ঘন ঘন হাতে টিপে সঙ্গম সুখ নেওয়ার আনন্দটুকু আরও ঘন ঘনই তার কপালে জুটবে, আমাদের মধ্যবিত্তের গালি বিষয়ক রোমাঞ্চে নতুন কিছু হয়তো ভবিষ্যতে যুক্ত হতেও পারে তবে ভাবনার সীমাবদ্ধতা প্রকট হয়ে আসা যৌনফ্যান্টাসীর ভেতরে হয়তো তারা নিজের করুন চাহিদাটুকুর বাইরে ভবিষ্যতে নতুন কিছু আবিস্কার হবে না।





ব্লগে সবার প্রথম গালী খাইছিলাম আপনার কাছ থেকে, সেইটাও সেই রকম পূরুষতান্ত্রিক। সেই সময় সামনে পাইলে আপনারে গুলি করতাম
মা বোনরে নিয়া খুব সীমিত কয়েকটা গালি দেওয়া হইছে, সেইটার একটা তোমার কপালে জুটছে সেইটাতেই আশ্চর্য হইলাম, আমার গালির ক্যারিয়ারের সীমিত কয়েকটা ঘটনার একটাতে তোমার উপস্থিতি অদ্ভুত লাগলো।
মৌলবাদী বলা যায় এদের আচরণকে নিশ্চিত ভাবেই, আল কুরআনের মতো একটাই সাহীহ ইতিহাস রয়েছে, সে ইতিহাসে একটাই ভিলেন, একদলই মহানায়ক ভাবনার গ্যাড়াকলে আদতে তারা একটা নির্ধারিত মতবাদই প্রচার করতে চাইছে,তাদের ভাবনার উন্মুক্ততার বাগবিস্তারী অবস্থান যে সে মতবাদ মানতে কাউকে বাধ্য করাটার সম্পুর্ণ বিপরিত প্রক্রিয়া এটা উপলব্ধি করতে তারা ব্যর্থ,
আহাঃ মনোযন্ত্রণা । আহাঃ আমাদের বিদ্যালয়ের পাশে একটি নদী আছে, নদীতে একদিন একটা গরু পড়ে গেলো, গরুটির দুইটিচোখ চারটি পা একটা লেজ ছিলো, লেজের আগায় এক গুচ্ছ চুল ছিলো ... সেইটা গোছা দিয়ে সে মশা মাছি তাড়াতো ।
ঠিক একই শিরোনামে আমার একটা পোস্ট ছিলো সামু আমলে, পোস্টের বিষয় যদিও এই পোস্টের প্রিল্যুড টাইপের ছিলো...
পড়লাম
মন্তব্য করুন