ইউজার লগইন

গত পর্বের অলিখিত কথাগুলো

এটা গত লেখার ধারাবাহিকতা, যে কারণে মনে হয়েছিলো হাসান সাঈদের ঘৃণার একটা অংশ আমার উপরেও চলে আসতে পারে:

বাংলাদেশে শতকরা ৬০ জন বিবাহিত নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন, পারিবারিক সহিংসতার এ হিসেব শুধুমাত্র শাররীক নিগৃহনের। থাপ্পড়, ধাক্কা, কিল ঘুষি এবং বিকলাঙ্গ করে ফেলার মতো নির্যাতনকেই শুধু পারিবারিক সহিংসতার নজির হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যদি পারিবারিক কলহ এবং এ জনিত মৌখিক নিগৃহন আমলে আনা হতো তাহলে শতকরা ১০০ জন নারীই পারিবারিক সহিংসতার শিকার এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যেতো।

যদি মৌখিক গালিগালাজ এবং কিল থাপ্পড়কে নির্যাতনের অংশ বিবেচনা করা হয় তাহলে বাংলাদেশের শতকরা ১০০ জন মানুষই কোনো না কোনো ভাবে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু এটা তো আমাদের সংস্কৃতির অংশই একার্থে। আমরা অবাধ্য সন্তানকে প্রয়োজনে পিটিয়ে সোজা করার চেষ্টা করি, কোমল কণ্ঠে ইমোশন্যাল ব্ল্যাকমেইলের পর্যায় শেষ হলে, মুখে বুঝানোর কাজটা ব্যর্থ হলে হাত, লাঠি, লাথি, জুতা সবই ব্যবহৃত হয় অবাধ্য স্বন্তানকে শায়েস্তা করতে। সহিংসতার সংজ্ঞা হিসেবে তাহলে কিভাবে এইসব নির্যাতনকে ব্যখ্যা করা সম্ভব?

আমার প্রথম প্রশ্নটা এখানেই ছিলো। হাসান সাঈদকে ঘৃণা করতে হবে এটা প্রয়োজনীয় ঘৃণা, তাকে একই রকম নির্যাতন করতে হবে, তার চোখ উপড়ে ফেলতে হবে, তাকে বিকলাঙ্গ করে ফেলতে হবে, তাকে শাররীক ভাবে অক্ষম করে দিতে হবে, বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে আবেগী মানুষেরা। তাদের আবেগ তাৎক্ষণিক ভাবনার প্রতিক্রিয়া, সেটা কোনো স্থায়ী সমাধানের দিকে নিয়ে যায় না।

ভুলের শাস্তি এবং ভালোর প্রশংসার উপরে নির্ভর করে টিকে থাকা সামাজিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে যদি আমরা ভুলের শাস্তি ব্যবহার না করি, কিন্তু যেকোনো বিচার ও শাস্তির ক্ষেত্রে পরিমাণ কিংবা মাত্রাগত বিবেচনাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ।যদি যাকে এই শাস্তিটা দেওয়া হচ্ছে সে সেটা উপলব্ধি করতে পারে। তবে ভুলের পরিণামে দেওয়া একটা থাপ্পড় তেমন বড় মাপের শাররীক সহিংসতা নয় । শাররীক নির্যাতনের পরিমাণটা কি হবে সেটা নির্ধারণ করার তেমন গ্রহনযোগ্য পরিমাপ না থাকায় অন্তত আমার নিজের ধারণা প্রদত্ত শাস্তি সেটা মৌখিক ভৎর্সনা হোক কিংবা তীব্র আকস্মিক শাররীক আঘাতই হোক, যদি সেটা মানসিকতা বিকাশের অন্তরায় হয় কিংবা যদি সেটা স্থায়ী ভাবে বিকালাঙ্গতার দিকে ঠেলে দেয় কিংবা যদি এমন শাররীক নির্যাতন অন্য পক্ষের তৃপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সেটাকে যদি ভার্বাল কিংবা ফিজিক্যাল এব্যুজের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় তবে সেটাকে পরিবারিক সহিংসতার আওতায় আনা উচিত।

শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যহত হয় বলে শিশুদের কটু কথা বলা নিষেধ, শিশুদের আঘাত করা নিষেধ, তাতেও শিশুর মানসিক বিকাশ ব্যহত হবে, সুতরাং আমাদের সবারই আসলে প্রথমে বৈজ্ঞানিক পন্থায় শিশু প্রতিপালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে এরপর সন্তানের জন্ম দেওয়া উচিত। আমাদের প্রায় ৮ কোটি সক্ষম প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষকে এমন বৈজ্ঞানিক পন্থায় শিশু প্রতিপালনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো উপযুক্ত অবকঠামো কি আমাদের আছে? আমাদের স্কুলগুলোতে জরুরী ভিত্তিতে শিক্ষাপাঠ্যক্রমে এমনসব বিষয় অন্তুর্ভুক্ত করা উচিত।

হাসান সাঈদের ঘটনাটা একমাত্র নয়, সম্পর্ক অব্যহত রাখবার প্রশিক্ষণ তার ছিলো না কিংবা আমাদের পারিবারিক পরিমন্ডলে কিংবা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষের সাথে সম্পর্ক নির্মাণ এবং সেটার ধারাবাহিক বিবর্তনকে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত নেই, আমাদের স্কুলগুলোতে শিশুদের মানসিক বিকাশ তত্ত্বাবধান করবার মতো প্রয়োজনীয় মনোবিশেষজ্ঞ নেই, আমাদের শিক্ষকেরা এইসব প্রশিক্ষণের ভেতর দিয়ে যান না। আমাদের স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং নেই, আমাদের সম্পূর্ন শিক্ষাব্যবস্থাই এইসব বিষয়কে ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং এক হাসান সাঈদকে প্রচন্ড ঘৃণা ও ধিক্কারে ভাসিয়ে দেওয়ার আগে আমাদের এই খামতিগুলো ভেবে দেখতে হবে। যে উপযুক্ত ব্যবহারের প্রশিক্ষণ পায় নি তার অপরাধকে আপরাধ বিবেচনা করতে হবে বিষয়টা মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্তু অন্য সব দিক বিবেচনা করলে অবশ্য হাসান সাঈদকে অপরাধীই মনে হবে, যদিও নিজের বৌ পেটানো অপরাধ এ শিক্ষাটা আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ দেয় না, যদিও আমাদের এখানে ভীতিপ্রদর্শন এবং ভয় জন্মাতে করা শাররীক নির্যাতন যে এক ধরণের সামাজিক অপরাধ সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠে নি এখনও, এরপরও ঘটনার বীভৎসতা বিবেচনা করে হাসান সাঈদকে অপরাধী বলা যায়, কিন্তু কোনো রকম প্যারামিটারের অনুপস্থিতিতে কাউকে নির্দ্বিধায় অপরাধী বলে ফেলাটা এক ধরণের বাড়াবাড়িই মনে হচ্ছে আমার কাছে। যেটার সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা আছে, যেটা সামাজিক ভাবে অপরাধ স্বীকৃত নয় তেমন পুরুষতান্ত্রিক আচরণের দায় সম্মিলিতভাবে সম্পূর্ণ সমাজের উপরেই বর্তায়, আমরা যদি ধারণা করে নেই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সাথে সাথে একজন এইসব প্রতিবেশ থেকেই শিখে যাবে সেটা বাড়াবাড়ি রকমের চাওয়া।

আপাতত যারা আলোচনা করতে চাইছেন তারা অবশ্য নির্ধারণ করবেন তারা শাররীক শাস্তিকে কিভাবে দেখেন এবং তারা এই ধরণের শিক্ষা কোথা থেকে অর্জন করেছেন বলে অনুমাণ করেন?

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্বিনের বাদশা's picture


শাররীক নির্যাতনের পরিমাণটা কি হবে সেটা নির্ধারণ করার তেমন গ্রহনযোগ্য পরিমাপ না থাকায় অন্তত আমার নিজের ধারণা প্রদত্ত শাস্তি সেটা মৌখিক ভৎর্সনা হোক কিংবা তীব্র আকস্মিক শাররীক আঘাতই হোক, যদি সেটা মানসিকতা বিকাশের অন্তরায় হয় কিংবা যদি সেটা স্থায়ী ভাবে বিকালাঙ্গতার দিকে ঠেলে দেয় কিংবা যদি এমন শাররীক নির্যাতন অন্য পক্ষের তৃপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং সেটাকে যদি ভার্বাল কিংবা ফিজিক্যাল এব্যুজের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় তবে সেটাকে পরিবারিক সহিংসতার আওতায় আনা উচিত।

এই অংশটা পড়ে একটু অবাক হলাম। আমার মতে, শারীরিক আঘাত সেটা যত সামান্যই হোক, সহিংসতার আওতায় পড়ে। খুব ভালোভাবেই পড়ে। দেশের আইনেও এটি পরিস্কারভাবেই বলা আছে, যদিও প্রয়োগ হচ্ছেনা মোটেও। মানসিক নির্যাতনটা খুব গ্রে, এবং এটা সম্ভবতঃ রেসিপ্রোকাল। ছেলে-মেয়ে উভয়পক্ষের কাছ থেকেই পার্টনার দ্বারা মানসিকভাবে নির্যাতিত হবার কথা শোনা যায়, এবং সেটা সত্য হবার কথা। কিন্তু গায়ে বেশী জোর আছে বলেই পুরুষ যখন শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করতে যায়, সেটাকে পরিপূর্ণভাবে না বলতে হবে।

"কিন্তু কোনো রকম প্যারামিটারের অনুপস্থিতিতে কাউকে নির্দ্বিধায় অপরাধী বলে ফেলাটা এক ধরণের বাড়াবাড়িই মনে হচ্ছে আমার কাছে"
একটা মানুছের দুই চোখ আঙুল দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে। শেষ কবে আপনি এরকম নৃশংসতার কথা শুনেছেন? আমি মনে করতে পারছিনা।
হাসান সাঈদের পাষন্ডতা সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এ সাক্ষাৎ শয়তান।
যদিও এই অমানুষের অপরাধটির প্রসংগে দেশের ঘরে ঘরে চালু থাকা "বউ পেটানো"র অপসংস্কৃতির আলোচনাটা আসতে বাধ্য, তারপরও, এর অপরাধের স্কোপ শুধু পুরুষতান্ত্রিকতায় সীমাবদ্ধ না। সে নিশ্চয়ই নিজের সামাজিক ক্ষমতার দাপটও দেখাতে চেয়েছিলো। এই পাষন্ডকে নির্দ্বিধায় প্রথম শ্রেনীর অপরাধী বলা যায়।

আলোচনাগুলোতে কয়েকটা প্রসঙ্গ আসছেনা।
১) রুমানা মঞ্জুরের বাবা আর্মির কার্মকর্তা হওয়ার পরও আসামী গ্রেফতার হচ্ছেনা (যেটা আমাদের দেশে হওয়া খুবই স্বাভাবিক ছিলো)
২) অথচ মিডিয়ায় প্হারকাশ পেয়ে গেলে এবং হাইকোর্টের রুল জারির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আসামী ধরে ফেলা হলো
৩) আমার জানামতে এই প্রথম মিডিয়ার সামনে পলাতক আসামীকে প্রেসকনফারেন্স করতে দেয়া হলো
এসবই সাংবাদিক মহলে গত কয়েকদিন ধরে চলে আসা "মাননীয় মন্ত্রীমহোদয়ের" বিশেষ চাপের পক্ষে কথা বলে।
এই রাজনৈতিক ক্ষমতাও এই ঘটনার একটি বিশেষ দিক।

আমার মনে হয়, হাসান সাঈদ ঠান্ডা মাথায়ই স্ত্রীর এই দশা করেছে। যেজন্য সে পাসপোর্ট নিয়ে পালিয়েছে।বউয়ের চেয়ে পিছিয়ে পড়লে বাঙালী পুরুষ কতটা ধূর্ত আর নোংরা জীবে পরিণত হয় তার বেশ কয়েকটা উদাহরণই আমি দেখেছি।

রাসেল's picture


শাররীক আঘাত বিষয়ক যে অংশটা এখানে উক্তির ভেতরে এনেছেন সেটার প্রেক্ষাপট আরও ব্যপক ছিলো, শুধুমাত্র হাসান সাঈদকে উদ্দেশ্য করে সেটা পেশ করা হয় নি। এমন কি শুধুমাত্র দাম্পত্য সম্পর্ক বিবেচনা করবার উদ্দেশ্য নিয়েও সেটা লিখিত হয় নি।

শাররীক আঘাত অপরাধ বিবেচিত হলেও সেটা সামাজিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না অনেক সময়ই। এমন বেশ কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে যেটা বাংলাদেশের আইনী কাঠামো বিবেচনায় অপরাধ কিন্তু সামাজিক ভাবে অপরাধ বিবেচিত হয় না।

প্রথমত: আমরা বলতে পারি "যৌতুক প্রথা", অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হলেও সেটার অপরাধত্বের সামাজিক স্বীকৃতি এখনও আসে নি, সুতরাং আইনট দন্ডনীয় অপরাধ হলেও বিভিন্ন নামে, প্রকারে এটা প্রচলিত।

দ্বিতীয়ত: শাররীক আঘাত করাটা অপরাধ বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু চোর ধরা পড়লে পিটানোটা সামাজিক অপরাধ নয়, আইনত সেটা অবৈধ, চোর ধরা পড়বার পরে তাকে আদালতে পাঠানোর নিয়ম আছে, সামাজিক ভাবে যেহেতু চোর পিটানো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত নয় সুতরাং আপনি এইসব প্রথাকে প্রশ্ন করছেন না। সেটা অপরাধের শাস্তি, কিংবা এই সামাজিক আইনী সংকটের অন্য উদাহরণ হলো পারিবারিক শাসন, মৃদু অপরাধে তিরস্কার, বড় অপরাধে বাবার পিটানো শাররীক নির্যাতন হলেও সেটা কি আপনি সামাজিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন? সেটা কে কি আপনি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ সব্যস্ত করে সেটার জন্য শাস্তি বিধান করতে আদালতকে বাধ্য করতে পারবেন বর্তমানের সামাজিক প্রেক্ষাপটে?

এর আগের অংশে যা বলেছিলাম, শাররীক আঘাত, শাসনের নামে মৃদু নির্যাতনকে সামাজিক ভাবে স্বীকৃত শাসন পন্থা বিবেচনা করা হচ্ছে, সেই প্রবনতাকে দুর করতে হলে সমাজের ব্যবস্থার মধ্যে এইসব প্রথাকে নির্মূলের উদ্যোগ নিতে হবে।

আমরা জাতিসংঘ, উন্নত বিশ্ব, বাইরের দেশ, ইউরোপ আমেরিকা নিয়ে হঠাৎ করেই লাফিয়ে পরে আলোচনায়, তাদের ওখানে এইসব অপরাধ বিবেচিত হওয়ার আগে একটা পর্যায় তারা অতিক্রম করেছে যেখানে এইসব অঘটনের সামাজিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে, পরবর্তীতে সেসব আদৌ সমাজে বিরূপ প্রভাব ফেলে কি না সেটা নিশ্চিত হয়েছে গুটিকয়েক মানুষ, পরবর্তীতে সেটা যেনো না ঘটে সেটার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দীর্ঘ কাউন্সিলিং এর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং একটা প্রজন্ম এই রকম সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠবার পর তাদের মানসিকতায় এটার প্রভাবটা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। সেই পর্যায়টুকু আমরা অতিক্রম না করে ইউরোপ আমেরিকা করেছে বলেই এটা অপরাধ ধরে নিয়ে আলোচনা শুরু করছি।

আমাদের এখানে মনিটরিং এর উদ্যোগ কি নেওয়া হয়েছে? আমরা কি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা কি এইসব নির্যাতন মৃদু কিংবা প্রবল যে মাত্রারই হোক না কেনো সেটা অগ্রহনযোগ্য এবং এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত এবং আগ্রাসনকারী উভয়কে কি কোনো রকম কাউন্সিলিং এর আওতায় এনেছি?

আপনি বড় হয়েছেন বাপের মার খেয়ে, আপনি শাসনের একটা তরিকাই জানেন হাতের কাছে যা আছে সেটা দিয়ে সমানে পিটিয়ে যাও, সেটা যদি গুরুতর শাররীক বিকালঙ্গতা কিংবা মানসিক বিকালঙ্গতা তৈরি করে তাতেও অসুবিধা নেই, সেটাই আপনার জানা শাসন করার একমাত্র তরিকা, এখন হঠাৎ করে আইন করে বলা হলো সন্তানের গায়ে হাত তুললেই দশ বছরের জেল জরিমাণা, আপনি কতটুকু সময় এটাকে মান্য করে চলবেন? যখন সমাজে এটা অপরাধ বিবেচিত হবে তখন সেটা এমনিতেই নির্মূল হয়ে যাবে, শক্ত আইনের পরও উন্নত বিশ্বে কিংবা অনুন্নত বিশ্বে পারিবারিক সহিংসতা কম এমন বলা যাবে না। আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য তারা আইনি প্রতিকারটা চাইলেই পায়, আমাদের সামাজিক কাঠামোর ভেতরে আইনী প্রতিকারের বাধাটা প্রবল।

রাসেল's picture


মাননীয় মন্ত্রীমহোদয়ের" বিশেষ চাপের বিষয়টা সম্ভবত ভিত্তিহীন, আজকের সংবাদ জানাচ্ছে অপরাধী হাসান সাঈদকে দুি দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হলো , কেনো আদালত রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন? আদালত কি ধারণা করছে হাসান সাঈদ ছাড়াও অন্য কেউ এই অপরাধের সাথে জড়িত?

আমার সোজাসাপটা ধারণা, রুমানার পিতার ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রভাব খাটিয়ে হাসান সাঈদকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হবে, সেটা পুরুষতান্ত্রিক প্রতিশোধস্পৃহা চরিতার্থ করবে হয়তো ভদ্রলোকের। তার মেয়ের আপদকালীন সময়ে তাকে নিরাপত্তাপ্রদানের ব্যর্থতা, তার নিজের ছাদের তলায় থাকা এই"পাপিষ্ট" ব্যক্তিকে একটা ভালো শিক্ষা দেওয়া এবং সর্বোপরি আমাদের বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থার প্রতি ভদ্রলোকীয় অনাস্থার প্রকাশ ঘটাবে এটি।

রিমান্ডে নিয়ে পেটানো, পোড়ানো, ঝুলানো জাতীয় বিভিন্ন নির্যাতনে তার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের প্রয়োজন নেই, যদি সঠিক ভাবে সবকিছু চলতে থাকে তাহলে এটার বিচার এমনিই সম্পন্ন হতো।

রুমানার পিতারও সংশয় আছে, এদেশের আদালতের দীর্ঘহসুত্রিতায় হয়তো তার মেয়ের ন্যায়বিচার হবে না।

রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য শাররীক নির্যাতন সব সভ্য দেশেই অগ্রহনযোগ্য, কিন্তু সেটার চর্চা সকল দেশই করে। আইনের কেতাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত অনেক কিছুর মতো এটাও একটা বিধান যা মান্য করা হয় না, এই অপ্রয়োজনীয় প্রতিশোধসপৃহা নিয়েও কেউ কিছু বললে ভালো হতো, সেটা নিয়ে কেউ কিছু বলবে না। সবাই রিমান্ডকে স্বাগত জানাবে এটাই বিধি।

রাসেল's picture


হাসান সাঈদের রাজনৈতিক ক্ষমতা আছে, হাসান সাঈদ রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পেয়েছে বিষয়টা মনে হয় একটু বাড়াবাড়ি ধরনের ভাবনা। মানে এলিট বাহিনী খুনী ধরলেও সেটাকে প্রেসের সামনে নিয়ে আসে, ছিনতাইকারী ধরলেও নিজেদের সাফল্যের নজির হিসেবে সেটাকে প্রেসের সামনে উপস্থাপন করে, এমন কি সেইসব ক্ষেত্রে অপরাধি নিজের অপরাধের প্রেক্ষপট বর্ণনা করে, পরিশেষে বলে আমি ভুল করেছি, এইসব সিনেময়াটিক বিষয় হয়তো হাসান সাঈদের ক্ষেত্রে ঘটে নাই, কিংবা তার কর্মকান্ড তার কাছে এখনও অপরাধ নয়, বিপথগামী বৌকে শায়েস্তা করতে তাকে এভাবে নির্যাতন করা বৈধ এমন কোনো সামাজিক ধারণা তার আছে, সে কারণে সে যা বলার বলেছে, সেটার সাথে রাজনীতি যুক্ত করে কেউ হয়তো আওয়ামী লীগকে টেনে আনতে চাইবে, সকাল বেলা টয়লেটের লাইন দীর্ঘ হয়েছে, কে আগে হাগতে যাবে এ নিয়ে মেসে ঝগড়া থেকে লাঠালাঠি ফাটাফাটি হলে সেটাও আওয়ামী লীগের দোষে ঘটছে এখন, কিন্তু এটাকে রাজনীতি বানিয়ে হরতাল করাটা হাস্যকর হয়ে যাবে,

সাংবাদিক মহল সবসময়ই অনেক রকম কথা বলে, এইসব অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী মহলের ধারণা বিশেষজ্ঞগণের ধারণা জাতীয় শব্দের পরে যা আসে সেসব যে সংবাদ লিখছে তার নিজের ভাবনা, সেটা সরাসরি বলতে গেলে অনেক বেশী জটিলতা হতে পারে বিবেচনা করে এইসব সাজানো শব্দ দিয়ে নিজের অভিমত জানিয়ে দেয়, সেটা সম্পাদকের কাজ হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রিপোর্টার এইসব করে আনন্দিত হয়।

জ্বিনের বাদশা's picture


বাহ্, চমৎকার বললেন। এটা সংশ্লিষ্ট সবাই জানে যে প্রতিমন্ত্রী মামার বদৌলতে সাঈদ এতদিন পালাইয়া থাকতে পারছে, হুমকি দিয়া আসতে পারছে।

অবস্থাদৃষ্টে প্রথম দশদিন যে সে মামার জোরে পলাতক থাকতে পারছিলো এটা সামান্য শিশুও বোঝে।

আবার সাঈদের প্রেস কনফারেন্স প্রসঙ্গে আপনি আনলেন এলিট ফোর্সের "চোরের গলায় আমি চুরি কইরা বিশাল অপরাধ করছি টাইপের সাইণবোর্ড ঝুলায়া ক্যামেরার সামনে আনা"র উদাহরনরে!! বাহ্, আবারও চমৎকৃত হইলাম।

সাঈদরে প্রেস কনফারেন্স করতে দেয়া হইছে কি সেইজন্য? আপনি কি তার বক;তব্যের কন্টেন্ট থেকাও বুঝার চেষ্টা করতে পারেননা যে কেনো তারে কথা বলতে দেওয়া হইছে। মিডিয়ায় ছড়াইয়া পড়া মামলায় পাবলিক সেন্টিমেন্ট যে একটা ইস্যু হইয়া যায় এইটা নিশ্চয়ই নতুন কইরা বলার দরকার নাই!

আপনার উদাহরন দেওয়া এলিট ফোর্সের ঐ ধরনের কনফারেন্সের আগে আসামীরে একটা সেমি ডলা দেয়া হয়, তারপর বলা হয় ক্যামরার সামনে যা যা কইছি তা না কইলে দেখবি আসল ডলা কারে কয়?
সাঈদের প্রেস কনফারেন্সের আগে কি তারে এমন ডলা দেওয়া হইছিলো বইলা মনে করেন? Wink

আর, এটা বুঝতে রিক্সা সাইন্টিস্টও হইতে হয়না যে প্রেস কনফারেন্সের শর্ত সাপেক্ষে সাঈদ ধরা দিছে। বুঝতে হবে কোন ধরনের ক্ষমতা থাকলে এইরকম শর্ত বাংলাদেশের পুলিশরে দেওয়া যায়। বিশেষ কইরা যখন প্রতিপক্ষ সামরিক কর্মকর্তা।

সাঈদ এতদিন "অধরা পাখি" ছিলো, আর ঢাবির আল্টিমেটাম, মিডিয়ায় ছড়াইয়া পড়া আর আদালতের ধাতানির কয়েক ঘন্টার মধ্যে ধরা পড়লো, আপনে কি বুঝেননা, না বুঝতে চাইতেছেননা যে সাঈদের পেছনে কি ছিলো। এটা তো পরিস্কার যে তার বাঘ (হাসান মাহমুদ) মামার উপর ঘোঘের (হয়তো প্রধানমন্ত্রী নিজেই, এটা হলে আমি তাঁকে সাধুবাদ জানাই) থাবা পড়ায় আর কুলাইতে পারেনাই। তখন ভাগ্নার তরল কথায় বিশ্বাসী মামা আবদার করছে তার "প্রতারিত" ভাগ্নাকে অন্তত নিজের কথা মিডিয়ার সামনে বলতে দেয়া হউক।

আপনি নিজেও বলতেছেন রুমানার বাবা সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন, প্রভাবশালী লোক। আমার আপনার বা আর দশজনের মতো এদের জন্য বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদেনা। অথচ এই লোকটার টিভির সাক্ষাৎকার দেখছেন? কাঁদতে কাঁদতে লোকটা দেশবাসীর কাছে বিচার চাইছেন, রাষ্ট্র বা সরকারের কাছে না। তাঁর ইঙ্গিতটা বুঝছেন? একটু মাথা খাটাইলেই তো ধরা যায় লোকটা কি ইঙ্গিত দিছেন। "আক্কেলমন্দকে লিয়ে ...." (উর্দু বলা আমার পছন্দ না বইলা পুরাটা লিখলাম না)।

আর যদি ইশারা না বুঝতে চাইয়া কেউ "দেখমুনা", "শুনমুনা" বইলা চোখ বন্ধ কইরা টয়লেটের সামনে লাইন দেওয়ার স্মৃতি বা হাগা-মুতা ফ্যান্টাসীতে ভুগতে চায় সেইটা একান্তই তার ব্যক্তিগত অভিরুচি।

আপনি ঢাবির শিক্ষক আমেনা মহসিনের বক্তব্যটা দেখতে পারেন, ইউটিউবে আছে। উনি বলছেন, রুমানার বাবা তাঁকে বলেছেন যে , "মেয়েকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হতে পারে, ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়ার বা ভিসা না পাবার ভয়ে তিনি সব গোপন রাখতে চাইছেন।"
আপনার কি মনে হয়? বাংলাদেশের মতো মিলিটারী প্রভাবাধীন দেশে একজন সামরিক কর্মকর্তা ঠিক কি কারণে এই ভয় করবেন?

আমার প্রশ্নগুলা আবার করি,
১) দশদিন ধরাছোয়ার বাইরের আসামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে ধরা পড়লো কেন?
২) রুমানার বাবা এত ভয় পাইতেছিলেন কেন?
৩) সাঈদকে প্রেস কনফারেন্স করতে দেওয়া হইলো কেন?

এগুলার কোনোটারই সদুত্তর মাননীয় মন্ত্রী-মহোদয়ের প্রসঙ্গ এড়াইয়া দেওয়া সম্ভব না।

রাজনৈতিক পেশীশক্তি কিভাবে মানুষকে অসহায় করে খুব কাছ থেকে এক বন্ধুকে দেখছি। প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয়ের কারণে ছয় বছর বেচারা দেশেই যাইতে পারেনাই ভয়ে।

আমরা চোখ-মুখ বুজে হাগা-মুতা ফ্যান্টাসীতে ভুগে এইসবরে ওভারলুক করতে পারি, তবে তারজন্য আমাদের মতো আমজনতাই ভুক্তভোগী হবে, আর কেউনা।

শওকত মাসুম's picture


গড়পরতা ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের মধ্যে হাসান সাঈদের ঘটনাটি পড়বে না। আর পড়ছে না বলেই এতো আলোচনা। আর ঘটনাটি অবশ্য বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে গেছে হাসান সাঈদ।

হাসান সাঈদের ঘটনাটা একমাত্র নয়, সম্পর্ক অব্যহত রাখবার প্রশিক্ষণ তার ছিলো না কিংবা আমাদের পারিবারিক পরিমন্ডলে কিংবা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষের সাথে সম্পর্ক নির্মাণ এবং সেটার ধারাবাহিক বিবর্তনকে মানিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত নেই, আমাদের স্কুলগুলোতে শিশুদের মানসিক বিকাশ তত্ত্বাবধান করবার মতো প্রয়োজনীয় মনোবিশেষজ্ঞ নেই, আমাদের শিক্ষকেরা এইসব প্রশিক্ষণের ভেতর দিয়ে যান না।

এরকম পরিস্থিতির মধ্যে তো আমরা সবাই চলছি, চলে আসছি। তাহলে সাঈদ এরকম হলো কেন?

রাসেল's picture


মাসুম ভাই একটা ঘটনা ঘটে গেছে, সেটার আইনী প্রতিকার হবে, কিন্তু যদি উৎসে বাধ দেওয়া না যায় তবে এই ঘটনা ঘটতেই থাকবে, সে জায়গাটাতে আলোচনার সুযোগ আছে। এটা একটা কেসস্ট্যাডি হতে পারে, গুলশানের বখাটে ছেলে এসে প্রেমিকার 'বাবা মা'কে খুন করে গেলো, সেটার বিচারও হয়েছে কিন্তু বখাটের মোটর সাইকেলের চাপায় মারা গেলেন দুই জন, কয়েকজন বাবা নিহত হলেন বখাটের ছুরিকাঘাতে, এসব সংবাদমাধ্যমে এসেছে, আক্রান্ত মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত চাকুরিজীবী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পরিবার,

আমাদের ব্যবস্থাটার কোথাও একটা ত্রুটি আছে, যে ত্রুটির ফলশ্রুতিতে এমনটা ঘটছে, আমরা কেউই এইসব প্রশিক্ষণের ভেতর দিয়ে যাই নি এটাও সত্য, কিন্তু প্রশিক্ষণটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাচ্ছে না এই ঘটনার ফলে,

সাঈদ যে মাত্রায় যে বীভৎসতা নিয়ে কাজটা সম্পন্ন করেছে সেটা মানুষের নৃশংসতার সীমাটাকে বাড়িয়ে দেয় নি মোটেও, পারিবারিক ভাবে যৌথ উদ্যোগে বৌকে কন্যাসন্তানকে পুড়িয়ে মারবার সামাজিক ঐতিহ্য আমাদের আছে, যৌতুকের জন্য শরীরে এবং যোনীতে এডিস ঢেলে দেওয়ার ঐতিহ্য নিয়েই আমরা বেড়ে উঠছি, এদের অনেকেই আমাদের মতো বেড়ে উঠেছে, আমাদের প্রয়োজন হয় নি কিংবা আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রন করতে সীমিত সাফল্য অর্জন করেছি বলে সবাই এমনটা করে ফেলবে এটা আশা করাটা ঠিক হবে না।

গ্রিফিন's picture


একখান জিনিস বুঝবার পারতেছি না। আপনে বারবার কইতেছেন আমগো সিস্টেমের কুনুখানে খামতি রৈছে। হ আমিও মানি আমগো সিস্টেমে খামতি রৈছে, মগর সেই খামতির লাইগা কি ঐ সাইদের এরাম অকাম করনডি জায়েজ হৈয়া যাইতেছে?

আপনে বা আম্রা সেই সিস্টেমরে চেন্জ করনের চেষ্টা করতেছি কি? নাকি আম্রা খালি সিস্টেমের ফুডাডি দেখাইয়া দিয়া বৈসা রৈতেছি কেউ একজন, উদ্যোগী হৈয়া ফুডা মেরামত করতে আগায়া আইবো আর আম্রা হের পিছনে লাইনে খাড়ামু?
ডমেস্টিক ভায়োলেন্স চৈলা আইতেছে অনেক আগের থিকাই, আবার অনেকেই এই ভায়োলেন্স ট্যেক্নিকালি এড়ায়া চলতেছে স্বেচ্ছায়ই। আশেপাশের পরিবেশ ইত্যাদি দেইখা বলা যায় এড়ায়া চলা পাব্লিকই দলে ভারী। এই দলে ভারী লুকজন্রা কিছু কর্তেছেনা কেন এদ্দিন ধৈরা?
এক্টা কৈরা অকারেন্স হৈবো, মিডিয়া ফাল দিয়া উঠবো, লগে আম্রাও কিছুদিন ফালাফালি কর্মু। হের্পর মিডিয়া নয়া স্কুপ পায়া চুপ হৈয়া যাইবো, আম্রাও ট্যিসু দিয়া আমগো পুঁজ মুইছা ভুইলা যামু ঐখানে ঘা হৈছিলো।

রাসেল's picture


সাঈদের আকাম জায়েজ হচ্ছে না কোনো বক্তব্যেই, কিন্তু এমন ঘটনাগুলো ঘটবার জন্য সামাজিক অব্যবস্থা প্রধানতম কারণ এটা আমার অবস্থান। আশেপাশের মানুষেরা এড়ায় চলতেছে বক্তব্যটা আংশিক সত্যি, শহরে কিংবা গ্রামে নিয়মিত পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া ৬০ শতাংশ নারীর পরিসংখ্যান ভিন্ন একটা চিত্র উপস্থাপন করে

আমাদের শিক্ষিত উচ্চশিক্ষিত ডাক্তার পুলিশ আর্মি অফিসার কাজের মেয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলছে, কাজের মেয়ের গায়ে ছ্যাঁকা দিচ্ছে এগুলোও বাস্তবতা, সদ্য কথা বলতে শেখা বাচ্চাও পরিবারে থেকে ক্ষমতার তারতম্য বুঝতে পারে, সেও যে ক্ষমতার চর্চা করে তাকে সমঝে চলতে শিখে, এটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয় কিন্তু সেসব গুরুত্বহীন না,

একেবারে নির্মূল করে ফেলা হয়তো সম্ভব হবে না কিন্তু যদি এইসব কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলো কিংবা গণমাধ্যম এনজিওগিরি বাদ দিয়ে যদি পরিকল্পিত উপায়ে প্রচারণার উদ্যোগটা গ্রহন করে তাহলে সেসবের মাত্রা কমে আসবে।

এনজিওগিরি খারাপ এমনটা বলছি না কিন্তু প্রতিকারের উদ্যোগটা স্যাটেলাইট টিভিতে ২ মিনিটের নাটক প্রচারের সীমাবদ্ধ রেখে বিজ্ঞাপনের টাকার বৈধ্যতা নিশ্চিত করবার চেয়ে বেশী কিছু হতে হবে।

১০

তানবীরা's picture


আপনার এ লেখার বক্তব্যটা আমার বেটার লেগেছে। তাৎক্ষনিক আবেগী বক্তব্যের চেয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজাই উচিত। যা হয়ে গেছে তাকে ফেরানো যাবে না, বরং আর না ঘটুক সে চেষ্টাই সকলে নিক। এই রুমানার চোখ থেকে অন্যদের চোখ খুলুক।

১১

শাপলা's picture


একটা লেখা লিখেছিলাম, সেই লেখাটা পরার অনুরোধ রইল, দুটো পর্বই পারলে পড়বেন-প্লীজ। প্রথম লেখাটার শেষে একটা সোংযোজন দেয়া আছে, সেটা পড়লে আসলে বোঝা যাবে, পারিবারিক নির্যাতনের আওতায় কি কি পড়ে.....http://tinyurl.com/3mgjsdp

১২

শাপলা's picture


http://tinyurl.com/3mgjsdp

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.