Ekakitto
এই তুমি একটু বাবুকে ধরবে আমি মায়ের সাথে কথা বলছি।
হ্যাঁ, মা, বলো
জামাই কি এখনই বাসায় আসলো?
এইতো আসলো, ওর সাথে কথা বলবে?
না, আমি তাহলে পরে ফোন করবো, তুই জামাইয়ের কি লাগবে দেখ।
বুঝলা মা, তোমাদের মতো মা আর শ্বাশুড়ীর জন্য ছেলেরা নিজেদের দায়িত্ন নিতে শিখে, ওর বয়েস তো কম হইলো না, এখন যদি নিজেকে দেখে রাখতে না পারে তাহলে বাবুকে দেখবে কিভাবে? তুমি কবে আসতেছো?
আমার তো ঐদিকে যাইতে ইচ্ছা করে না, এত ফাঁকা চারপাশ, কথা বলার মানুষ খুঁজে পাই না। দম বন্ধ দম বন্ধ লাগে।
তুমি একা বাসায় থাকো আমারও তো টেনশন হয়।
আমরা আর আছি কয় দিন, তোরা ঐদিকে ভালো আছিস এইটা জেনেই ভালো লাগে, তোরা কবে আসবি?
এ বছর তো মনে হয় না যাওয়া হবে মা, ওর নতুন জব, আর আমারও অবস্থা তো জানো, যেভাবে টিকেটের দাম বাড়তেছে তাতে বছর বছর যাওয়া সম্ভব না, ভাইয়া মনে হয় যাবে এ বছর, আর আমরাও যদি যাই তাহলে বছরের শেষে যাবো। ময়নার মা ঠিক মতো আসে-টাসে না কি আরও ফাঁকিবাজ হইছে?
আর ওর কথা বলিস না, ও তো নিজের মর্জিমফিক আসে যায়, আমার কথা আর শুনে কই, এই আসছিলো সকাল দশটায় তার পর দুপুরে আসবে বলে গেলো, এখনও আর পাত্তা নাই কোনো। জামিলের সাথে দেখা হয় তোর?
থ্যাঙ্কস গিভিং হলিডেতে দেখা হইছিলো, আমরা গেলাম ওদের ঐদিকে, এইটা তো ঢাকা চিটাগাং না যে চাইলেই যাওয়া যায়, আমি ইস্ট কোস্টে ও ওয়েস্ট কোস্টে, প্লেনে যাইতেও লাগে ৫ ঘন্টা।
তোরা ঐ দিকে চলে যা তাহলে, কাছাকাছি থাক, আমি তোদের চোখে দেখতে পারি না, তোরাও যদি এই রকম দুরে দুরে থাকিস তাহলে আমার টেনশনও তো কমে না। জামাইকে বল না ঐদিকে কোনো জব খুঁজতে, তোরা দুইটাতে মিলে একই শহরে থাকলি,
যদি আমি আর ভাইয়া কাছাকাছি থাকি, তাহলে কি তুমি আসবে?
ঠিক আছে আমি চলে আসবো, আগে তোরা নিজেদের গুছিয়ে নে, নাহিয়ান কেমন আছে?
আছে ভালোই, দৌড়াতে শিখছে
কথাটথা বলে? বাবা মা বলে এখন?
না এখনও তেমন স্পষ্ট কথা বলতে শিখে নাই, তবে কথা শুনতে পায়, রেসপন্স করে, ডাক্তারতো বললো কোনো সমস্যা নাই, কোনো কোনো বাচ্চার এমন হয়।
নামাজ পড়ে দোয়া করিস।
ঠিক আছে মা, বাবু কাঁদতেছে আমি একটু ওকে দেখে আসতেছি, তুমি প্লিজ লাইন কেটে দিয়ো না।
তুই জামাইকে দে, ওর সাথে একটু কথা বলি।
......................................................................
মা আপনি কেমন আছেন?
ভালো, বাবা তোমরা কেমন আছো?
ইনশাল্লাহ ভালো আছি, আপনি আমাদের এইখানে চলে আসেন না মা, ও আপনার কথা খুব বলে
আসবো বাবা, তোমরা একটু গুছিয়ে নাও, তারপর আসবো।
আপনি ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন, ঠিক মতো শরীরের যত্ন নিয়েন।
তুমিও মেয়েটার যত্ন নিয়ো বাবা, খুব খেয়ালী মেয়ে, যদি উল্টা পাল্টা কিছু বলে কিছু মনে নিয়ো না বাবা, ও ভুল টুল করলে ওকে বেশী কিছু বলো না।
টেলিফোনের অন্যপাশে জহিরের গলা শোনা যায় না।
এই ফোনটা দাও, ধরো একটু বাবুকে, হ্যাঁ মা বলো
বাবুর বুকটা কি বসে আছে? ওর কান্নাটা এই রকম শোনাচ্ছিলো কেনো?
ওর একটু ঠান্ডা লাগছিলো মা, ডাক্তার বলছে চিন্তার কিছু নাই, সিজন চেঞ্জের সময় এমন ঠান্ডা লাগবেই, ওত ভয় পাওয়ার কিছু নাই।
তুই অবহেলা করিস না, ছোট্টো জান, বুকে তেল গরম করে মালিশ করিস আর তুলসি পাতার রস খাওয়াইস বাবুকে।
তুমিও না মা, এইখানে তুলসী পাতা পাবো কোথায়? আর ডাক্তার তো বলছেই সমস্যার কিছু নাই, তুমি না বেশী বেশী চিন্তা করো
একলা থাকি তো রে মা, সারাক্ষণ তোদের নিয়ে চিন্তা না করলে কাদের নিয়ে ভাববো বল দেখি?
তোমার এত চিন্তার কিছু নাই, আমরা বড় হইছি না মা,
মায়ের জান কি তাতে বুঝে রে, মায়েরা সারাক্ষণ এইরকমই ভাবে, তুইও বুঝবি একদিন।





মন্তব্য করুন