চৌষট্টি খুপড়ি (পটভুমি )
চৌষট্টি খুপড়িতে মনোযোগ আটকে থাকে, সেখানেই দীর্ঘমেয়াদী লড়াই, যদিও প্রতিপক্ষ দুজনই মুখে স্নিগ্ধতা নিয়ে বসে থাকে, চায়ের কাপে আলতো চুমুক, আর চৌষট্টি খুপড়িতে ধুন্ধুমার লড়াই চলে, প্রায় অলক্ষ্যেই সম্রাট হত্যার চক্রান্ত হয়, দুজনেই নিজের অবশিষ্ট সৈন্যসামন্ত নিয়ে বিপক্ষের গজ অশ্ব রানী আর নৌকা মেরে কিস্তিমাতের স্বপ্ন দেখে, অবশেষে কাউকে না কাউকে পরাজয় মেনে নিতে হয়। তারা অবশেষে পরিত্যাক্ত শিরোস্ত্রান তুলে নেয় হাতে, বড়ে, নৌকা, গজ, রাজা বাস্কে তুলে রাখে, চৌষট্টি খুপড়ি পেছনে ফেলে চলে যায় নিজের খুপড়িতে।
দাবার চৌষট্টি ঘরে কত ধরণের চলাচল সম্ভব সেটা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না, প্রতি নিয়তই নতুন নতুন ধারার আক্রমণ আর প্রতিআক্রমনের নকশা তৈরি হচ্ছে, নতুন নতুন রক্ষণাত্মক কৌশল জন্ম নিচ্ছে, সবাই মাথা ঘামিয়ে এই চৌষট্টি খুপড়িতেই নিজের মনোযোগ নিবন্ধ রাখেন, কেউ কেউ প্রস্তাব করেছেন দাবার চৌষট্টি খুপড়িকে আরও বর্ধিত করা সম্ভব কি না। অনেকেই এমন অনেক প্রস্তাব এনেছেন, আরও বাড়তি একটি ঘর, আরও বাড়তি একটি বড়ে , বাড়তি একটা গুটির পরিণাম কি হবে সেটা নিয়েও অনেকে আলোচনা করেছেন।
রাজনীতি অনেকটাই দাবা খেলার মতোই, সেখানেও নিত্যনতুন পরিস্থিতিতে নতুন নতুন করে চাল ভাবতে হয়, একটা গুটি আটকা পড়লে তাকে রক্ষা করতে আরও কয়েকটা গুটিকে বিভিন্ন ভাবে সাজাতে হয়। বাংলাদেশের মতো আদিম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজনীতির খেলায় সৈন্যের অভাব হয় না। সামান্য রাষ্ট্রীয় সহানুভুতি আর বাড়তি দুপয়সার লোভ দেখালেই অনেকেই সৈন্য হতে চলে আসে রাজনীতির ময়দানে।
এসব আপাত বিচ্ছিন্ন সৈন্যদের বাইরে অনেকেই থাকে, যারা এই খেলার গতিধারা নিয়ন্ত্রন করে, এক সৈনিক দিয়ে রাজনীতির ময়দান জয় করা যায় না, সেটা জাতীয়তাবাদী নেতারা যেমন বুঝেন তেমন বুঝেন অন্যসব পলিসিমেকারগণ। সুতরাং একটা স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরুর আগে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যসব রাজাদের মনোভাব জানতে রাজনৈতিক নেতার মুখপত্র বিভিন্ন দুতাবাসের দুয়ারে গিয়ে বসে থাকেন, তারা পরামর্শ চান, সহানুভুতি এবং অন্যান্য সহযোগিতা চান, সেখানেও আরও অনেক দাবার গুটি সরে, কেউ আপাত নিরপেক্ষতার ভান করেন, কেউ ব্যাংএর ঠোঁটে আর সাপের গালে চুমু খান যুগপৎ, এরা খেলার বাইরের মানুষ না একেবারেই খেলার ভেতরে ঢুকে বসে থাকেন।
দাবার প্রতিটা গুঁটিরই আলাদা আলাদা গুরুত্ব থাকে, সামান্য রাজা কিংবা রাজত্বের লোভের চেয়ে বেশী কিছু থাকে এ খেলায়। নাইট কিংবা ঘোড়া, এরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই লড়াই করতে সক্ষম, এরা সবচেয়ে আকর্ষণীয় গুঁটি, রাজনীতিতে এরা সশস্ত্র ক্যাডার, দুর্ধর্ষ গেরিলা নেতা কিংবা ট্রাইবাল কিং, এদের পাশে থাকে নৌকা, দুর্গ, যারা আশ্রয় দেয়, প্রয়োজনে প্রতিরোধের স্বপ্ন দেখায়, রাজাকে রক্ষা করে বিপদাপদ থেকে, রাজার দুপাশ আটকে রাখে,
থাকে বিশপ কিংবা গজ, এরা অনেক দুর থেকে দেখে রাখে রাজার দুর্গ, থাকে মন্ত্রী, সর্বত্রগামী, তাদের চলাচল অপ্রতিরোধ্য কিন্তু তারা নিছক কিংমেকার, তাদের পরিকল্পনা, মন্ত্রনা আর সমর্থনের জোড়ে সামান্য সৈন্য মহানায়ক হয়ে উঠতে পারে, এইসব কিংমেকারেরাও উপস্থিত থাকেন রাজনীতির ময়দানে, তারা সেনাপতির মতো এইসব সৈন্যদের পরিচালনা করেন না, সৈন্য পরিচালনা, তাদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাদের পটভুমি নিস্কন্টক রাখারদায়িত্ব কিংমেকার এইসব মন্ত্রীর।
দাবার সীমাবদ্ধতা আছে, সত্যিকারের রাজনীতির ময়দানে আরও একদল মানুষ থাকেন যারা অস্পৃশ্য থেকে যান, যাদের কেউ কোনো অভিযোগেই অভিযুক্ত করতে পারেন না, এদের ক্ষমতা মন্ত্রীর মতো, এরা ছায়ামন্ত্রি, কিংমেকারের চেয়েও শক্তিশালী, যেখানে মন্ত্রীর পদধুলি পড়তে পারে না এরা সেখানেও চলে যেতে পারে।
যদি কখনও আধুনিক দাবার সূচনা হয় তবে এদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে দাবার ঘুটিতে, এরা তোমার আমার মতো সাধারণ মানুষ, এদের হাতেই প্যারালাল স্টেটের দায়িত্ব, যদি কখনও দাবার ঘুটি হিসেবে এরা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় তাহলে এদের গতি হবে গজের মতো কিন্তু এরা অশ্বের মতোই সামনের বাধা ডিঙিয়ে যেতে পারবে অনায়াসে





গ্যালারীতে আছি
আমিও গ্যালারীতে বইলাম
নোয়াখালী ভ্রমন লৈয়া একটা লেখা দিয়েন
চলুক।
নোয়াখালি ভ্রমন নিয়া আমিও রাসেলের লেখা চাই।
মন্তব্য করুন