ইউজার লগইন

পরকীয়া

একটা সময়ে চলচিত্রে পরকীয়া প্রমের চরম আগ্রাসন ছিলো, বিবাহিত নায়কের সুন্দরী প্রেয়সী, বিবাহিত নায়ক আর সুন্দরী প্রেয়সীর রোমান্টিক আলোচনা, বৌয়ের সন্দেহ আর নায়কের আশ্বাস, আবেগ উথলে পরা গান, শেষ দৃশ্যে ভিলেনের হাত থেকে নায়ককে বাঁচাতে গিয়ে প্রেয়সীর মৃত্যু, অপরাধবোধে দগ্ধ হওয়া বৌয়ের আরও কিছু আবেগী সংলাপ, বিবাহিত প্রেমের প্রতি অটল আস্থা, সুন্দরী প্রেয়সী ছেড়ে চলে যেতেও পারে কিন্তু পতিব্রতা স্ত্রী কখনও স্বামীর দুর্দিনে স্বামীর সঙ্গ ত্যাগ করে না, বিভিন্ন রমকের ভাবনা উস্কে দেওয়া চলচিত্রগুলো এখন অতীত।

বাংলাদেশে মনস্তাত্ত্বিক সংকটে ভোগা মানসিক অবসাদগ্রস্ত দম্পতিদের ভেতরে সামান্য অংশই হয়তো মানসিক সহযোগিতার জন্য মনোচিকিৎসকের সহযোগিতা চাইতে যান, কিন্তু বিবাহিত দম্পতিদের ভেতরে যারাই মনোচিকিৎসকের কাছে সহযোগিতা চাইতে গিয়েছেন তাদের ৯০%ই স্বামীর পরনারী আসক্তির কথা জানিয়েছেন, সরলরৈখিক সম্পর্ক তৈরি করা যায় না মোটেও, তবে এটুকু বলা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একগামীতা সামাজিক আদর্শ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, বহুগামী পুরুষ অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে না জড়িয়ে নিরাপদে পরকীয়ায় জড়াচ্ছে এমনটাও বলা যায় না। মানুষ মাত্রই প্রাণী ধরে নিলে কিঞ্চিৎ জটিলতা কমে, প্রানী জগতে বহুগামীতাই স্বাভাবিক প্রথা, একনিষ্টতা বিরল।

বহুগামীতা এবং একগামীতা বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা না করে বরং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাগুলো পুনরায় পাঠ করা যাক, ইদানিং পরকীয়া সহিংস হয়ে উঠেছে, পরকীয়ার কারণে অবসাদগ্রস্ত নারীর সংখ্যা কমেছে, বরং পরকীয়া আসক্ত নারী তার পুরুষ বন্ধুকে নিয়ে স্বামী-শিশুসন্তান হত্যা করছে।।

সম্পর্কের এমন মর্মান্তিক অবসান অগ্রহনযোগ্য, চাইলেই ত্যাগ করা যাবে এমন ঘনিষ্ট সম্পর্কগুলো অনেক বেশী স্বাস্থ্যকর। স্বাধীনতাও থাকছে এ সম্পর্কে। শুধুমাত্র পরকীয়ার নেশায় খুন হয়ে যাওয়ার আশংকা কমে যাচ্ছে।

চলচিত্রের শেষ দৃশ্যে যেসব প্রেয়সীকে দেখা যেতো পুরুষসঙ্গীর জন্য মৃত্যুবরণ করছে তাদের এমন ইউটার্ন এবং তাদের সক্রিয় ঘাতক হয়ে উঠার বাস্তবতাটুকু নতুন ধরণের চলচিত্রের ভাবনা তৈরি করছে না। আমি বরং ভাবছি যদি কোনোভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে যৌনশৃঙ্খল একনিষ্ঠতার বাধ্যবাধকতা সরিয়ে দেওয়া যায় , যদি কোনো ভাবে বিবাহবহির্ভুত যৌনতার সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়, তাহলে কি পরকীয়ার কারণে হত্যার প্রকোপ কমে যাবে? সামাজিক মতবাদ যা যৌনদাসত্ব এবং যৌন শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখবার প্রেষণা দেয় সেসব বাধ্যবাধকতার দেয়াল সরিয়ে নিলে শুধুমাত্র যৌন অবিশ্বস্ততা কিংবা অপূর্ণ যৌনকামনা পুরণের জন্য কোনো আড়াল রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে না। প্রতারণাবোধ, ব্যক্তিগত সম্পদের বোধগুলোও তৈরি হবে না। সংঘাত কমে যাবে আর এইসব বিভিন্ন চাপে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে সেসবের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


আপনি কি আবার প্রস্তর যুগে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন? আগুনে ঝলসে নান রুটি খাওয়া? যার তার সাথে থাকা, তাহলে বিয়ের কিংবা কমিটমেন্ট করার দরকার কি?

বিশ্বাস, মূল্যবোধ, সম্মান, শ্রদ্ধা এগুলো?

আগেও হয়তো পরকীয়া ছিল। মানুষ কম হিসেবে হয়তো পার্সেন্টেজ কম ছিল কিংবা মিডিয়াতে প্রকাশ হতো কম কিংবা ধরা পড়ত কম।

যে দেশে একটা মোবাইল ফোন কিংবা ৫০০ টাকার জন্যে অহরহ মানুষ মারা যায় সেখানে পরকীয়া একটা বিরাট ব্যাপার। দেশে ম্যালথাসের সূত্র কাজ করছে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে অতিরিক্ত অপমৃত্যু ঘটছে।

রাসেল's picture


বিয়ে একটা প্রথা মাত্র যে প্রথা নির্ধারণ করে দেয় কোন কোন নারীর প্রতি আসক্তি প্রকাশ করা সামাজিক ভাবে নিষিদ্ধ। সমাজ নির্ধারণ করে দিয়েছে একজন নারী যখন কোনো পুরুষের সম্পত্তিতে পরিণত হবে তখন অন্য সকল পুরুষ সে সামাজিক বন্ধনকে শ্রদ্ধা করবে, তার প্রতি কামনা কিংবা বাসনা প্রকাশ করবে না, সম্পদ হরণ এবং বিবাহিত নারীর সম্ভ্রম হরণ একই ধরণের অপরাধ বিবেচিত হয় সেইসব কৃষিজীবী সমাজে।

সে সমাজ থেকেই অনুশাসন তৈরি হয়েছে, সতীত্বের মহৎবোধ তৈরি হয়েছে, সেইসব প্রায় ৬ শতাব্দী আমাদের মানসিকতায় এক ধরণের নিশ্চিত অবস্থান তৈরি করেছে। অতিথির জন্য তোমার সেরা দ্রব্য এবং তোমার স্ত্রীকে দান করো, বাৎসায়নের এই অভিমত ৬ শত বছর আগেই মৃত, কেউ এখন প্রাণের বন্ধু বাসায় আসলে নিজের স্ত্রীকে তার বিছানায় পাঠাবে না। সম্মান প্রদর্শনের এই রীতি এখন মৃত।

আমাদের বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগে পরকীয়াকে অধিকতর সম্মানের সাথে দেখা হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে সেখানে আদিরসের প্রাবাল্য দেখা গেলেও আমাদের সমাজে পুরুষের বহুগামীতাকে প্রশংসনীয় দৃষ্টিতে প্রশ্রয়ের দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।

আমাদের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের মহানায়কেরা অনেকেই রাঢ় বাড়ী গিয়ে ইয়ারবন্ধুদের নিয়ে ঠাট্টা করেছেন, বন্ধুতে বন্ধুতে রাঢ় নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়েছে, সংঘাত হয়েছে, রাঢ় ভাগানোর শোকে মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়েছে।

তারাই আবার ইউরোপিয় সাহিত্যের অনুসরণ করে রোমান্টিক উপন্যাস লিখেছেন, ইউরোপের রোমান্টিক যুগে মনোগ্যামি যে সময়ে প্রচারিত হচ্ছে সে সময়ের পরপরই ইংরেজদের কল্যানে এখানেও মনোগ্যামিকে প্রমোট করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু একেবারে সরাসরি সে পথে যান নি বঙ্কিম, তিনি প্রেমাকূলতা দেখিয়েছেন, কিন্তু একই সাথে পুরুত হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রেমের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন দাম্পত্যকে। প্রেমিকাকে ছেড়ে বিবাহিতা স্ত্রীকে গ্রহন করতে বাধ্য করেছেন নায়ককে।
রবীন্দ্রনাথ একগামীতাকে প্রমোট করেছেন, নৌকাডুবিতে তিনি স্বামী স্ত্রীর ভেতরে প্রণয় তৈরি করেছেন কিন্তু তারপরও তারা উভয়েই পরস্পরের প্রতি টান উপেক্ষা করে না দেখা স্ত্রী এবং না দেখা স্বামীর প্রতি প্রনয়াসক্ত হয়েছে, খুবই অস্বাভাবিক হলেও বরীন্দ্রনাথ বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শরৎচন্দ্র দেবদাসে নতুন ধরণের একটা সম্পর্কের ধারণা তৈরি করেছেন, বিরহের ধারণা তৈরি করলেন, এখানে সবাই সবাইকে ভালোবাসে কিন্তু কেউ কারো কাছে আসে না, দেব ভালোবাসে যাকে সে অন্য একজনের বিবাহিত স্ত্রী, দেবকে ভালোবাসে একজন বাঈজী, সবাই প্রচন্ড প্রেম প্রকাশ করছে কিন্তু এই আবেগি ও প্রেমের উপস্থাপনের বাইরে এখানে প্রকাশ্য যৌনতার কারসাজি নেই।

মানিক সীমিত পরিসরে যৌনতাকে প্রাধন্য দিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কিন্তু আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে যেসব লেখক মূলত আমাদের মানসিক গঠনটি তৈরি করেছেন তারা তাদের চরিত্রগুলোকে কামরহিত এক ধরণের বহ্মচারী সাধু হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ কামরহিত প্রেম প্লেটনিক ভালোবাসা বলে ফেনা তুলে তুলে মূলত প্রেম ভালোবাসা এবং শরীরের ভেতরে বিশাল একটা দেয়াল তৈরি করে ফেলেছেন। আমরা এইসব মানুষদের ভাবনা অনুসরণ করে বড় হয়েছি, ফলে আমাদের কাছে সতীত্ব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের কাছে পতিব্রতা নারী অধিকরত প্রিয়, আমাদের কাছে বিশ্বাস, আস্থা অনেক বেশী গুরুত্ব বহন করে, কিন্তু একটি সামাজিক চুক্তি কি একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবনের নিশ্চয়তা দেয়?

দাম্পত্য জীবন মানে একটি সামাজিক চুক্তির দড়ি গলায় বেধি নিজেকে একটা খুটোর চারপাশে ঘুরতে বাধ্য করা নয়, এমন সম্পর্ক অনেকক্ষেত্রেই কোনো পরিণতির দিকে যায় না। প্রতিটি সঙ্গমের যদি আলাদা আলাদা নাম দেওয়া যায় তবে দেখা যাবে অনেক ক্ষেত্রেই দাম্পত্য সঙ্গম করুণানিশ্রিত সঙ্গম, নেহায়েত দাম্পত্য প্রয়োজনীয়তা পুরণের লক্ষ্যে সপ্তাহে মাসে নির্দিষ্ট একটি সময়ে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য শাররীক ঘনিষ্ঠতা, উচ্ছ্বাস উন্মাদনা নেই, অনাগ্রহী নিতান্ত দায়সারা এইসব শাররিক ঘনিষ্ঠতা বরং আরও বেশী যন্ত্রনাদায়ক।

যারা এই উত্তেজনা কিংবা আনন্দ পাচ্ছেন না তারা এইসব উত্তেজনার জন্য অন্য কারো সাথে সম্পর্কিত হচ্ছেন। সামাজিক বাধ্যবাধকতায় তারা নিজের বিবাহিত সঙ্গীর সাথে কিছু সময়ের জন্য শাররীক ঘনিষ্ঠতা শেষে অন্য কাউকে কামনা করছেন কিংবা সেই ঘনিষ্ঠতার মাঝামাঝি সময়েই অন্য কাউকে কল্পনা করে নিজের প্রত্যাশা পুরণ করছেন। এটাও তো এক ধরণের অসুস্থতা।

এহেন বাধ্যবাধকতার চেয়ে ভালো বিচ্ছেদ, কিন্তু অনেক সময়ই বিভিন্ন সামাজিক কারণে বিচ্ছেদও সম্ভব হয় না। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণবিহীন দাম্পত্য সামাজিক চাপে অব্যহত থাকে, এই মানসিক যাতনার ভেতর দিয়ে যাওয়া এবং নিজেকে যৌননিরত রাখার বদলে তারা অন্য সম্পর্কে জড়াচ্ছে, সেই সম্পর্ক সামাজিক কারণে মেনে নিতে অনাগ্রহী সঙ্গী মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছে। যদি পরিস্থিতি এমন হয় তাহলে উভয়েই উভয়ের কাছে পরিস্কার হওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেকের প্রায়োরিটি এবং ফ্যান্টাসি উন্মুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

যাদের প্রেম এবং শাররীক আকর্ষণ অটুট তারা তো অন্য কোনো নারী কিংবা পুরুষের শরণাপন্ন হচ্ছে না, তাদের জন্য বিশ্বাস আস্থা এইসব শব্দ কিংবা সামাজিক চুক্তি অর্থহীন, তারা পরস্পরের প্রতি অনুরক্ততায় নিজেদের পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত রাখবেন।

সংকট মূলত তাদের নিয়েই যারা পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করছেন না, তাদের ক্ষেত্রে এই সামাজিক বাধাটা এক ধরণের দেয়াল, তারা একই সাথে অনুতপ্ত এবং উত্তেজিত, অপরাধবোধ এবং পরিতৃপ্তির সাথে লড়াই করছেন। তাদের ঘাড় থেকে জোয়ালটা নামানোর কথা বলছি। সেটা যদি আদিম সমাজে প্রত্যাবর্তন হয় তাহলে তো বিষয়টা বিপদজনক।

একটা সমস্যা হলো কোনো রকম অনুশাসন না থাকলে সবাই বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত হবে, যারা পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত তারা আর বিশ্বস্ত থাকবে না এই ভীতিটুকু সামাজিক অনুশাসনের গুরুত্বকে অনুধাবন করার প্রতিক্রিয়া। সবার মানসিক গঠন এক না, কাউকে হাজার পুরুষের ভেতরে ছেড়ে দিলেও সে অন্য কোনো পুরুষের প্রতি আসক্ত হবে না, অনেক নারীর ভেতরে থাকলেও সবার প্রতি যৌণাকর্ষণ বোধ করবে না এমন মানুষও আছে।

কোনো রকম বাধ্যবাধকতাবিহীন লিভ টুগেদারেও অনেকে ২৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন, কোটি টাকা খরচ করে বিয়ে করে কেউ ৩ মাস সংসার করতে ব্যর্থ হয়েছে, দরজা খোলা থাকলেই যে সবাই অন্য বাড়ী যাবে এমন না, যদি প্রেম থাকে, টান থাকে সবাই নিজের ঘরেই ফিরে আসবে।

তানবীরা's picture


কোনো রকম বাধ্যবাধকতাবিহীন লিভ টুগেদারেও অনেকে ২৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন, কোটি টাকা খরচ করে বিয়ে করে কেউ ৩ মাস সংসার করতে ব্যর্থ হয়েছে, দরজা খোলা থাকলেই যে সবাই অন্য বাড়ী যাবে এমন না, যদি প্রেম থাকে, টান থাকে সবাই নিজের ঘরেই ফিরে আসবে।

সেটাই বললাম দরজা বন্ধ করাও যেমন সমাধান না, খোলাও সমাধান না। আমাদের দেশে হঠাৎ আধুনিকতা যাওয়াতে একটু বেশি হচছে পুরো আধুনিক হয়ে গেলে দায়িত্বশীলতার সাথে বাকিগুলো ঠিক হয়ে যাবে। এগুলো হচ্ছে দায়িত্বহীনতাবোধ থেকে।

তবে আপনি যে সহজ সমাধান দিয়েছেন, সেটার সাথে আরো অনেক ব্যাপার কিন্তু জড়িত। সন্তানের পরিচয় থাকবে না, পরিবার বিলুপ্ত হবে, গোত্র তারর আস্তে আস্তে সমাজ বিলুপ্ত হলে আমরা আবার গুহা যুগে ফেরত যাবো

লীনা দিলরুবা's picture


লেখায় যুক্তি আছে।

সম্পর্কগুলোর মধ্যে সুস্থিতি আসুক। আবেগ সর্বস্ব হলে আর নানান ট্যাবু আনলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। জানি এটা খুব কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। সমাজটা স্বচ্ছ হোক, মানুষের বিকার কমুক এটাই চাই।

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


পরকীয়া তিন ধরনের হতে পারে – শুধুই শারীরিক, শারীরিক ও মানসিক, শুধুই মানসিক - এর প্রত্যেকটিকে আলাদা ভাবে দেখা উচিত।

সকল জীব মাত্রেই বহু-গামী, এর মধ্যে শুধু মানুষ এক-গামী হবে সেটা আশা করা যায় কি?

প্রায় ১৯৫,০০০ বছরের যে মানব বা মানব-সদৃশ্য সভ্যতা তাতে বিয়ের প্রাতিষ্ঠানিকতা খুব বেশী হলে ২-৩ হাজার বছরের মত। ভবিষ্যতেও এটি থাকবে না বলেই মনে হচ্ছে...

~

নরাধম's picture


সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক আস্পেক্টসগুলা চিন্তা না করেই লিখা মনে হচ্ছে।

রাসেল's picture


নৈতিকতা এক ধরণের নির্মিত বিষয়, যারা মেনে চলে তাদের বিশ্বাস এটাতেই বৃহত্তরের কল্যান নিহিত। আরোপিত আচরণবিধি কিছু কিছু বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে প্রত্যেকের চৌহদ্দি ঠিক করে দিয়েছে, সেই চৌহদ্দি সামগ্রীক ভাবে হয়তো একটা সময়ে বেশ উপকারী ছিলো, এই মুহূর্তে সেটার গুরুত্ব কতটুকু সেটা নিয়ে ভাববার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।

সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিষয় বিবেচনা করলে বলতে হবে আমাদের ভেতরে অধিকারবোধটুকু ব্যক্তিগত সম্পদের ধারণা থেকেই তৈরি হয়। আমরা অর্জন করি কিংবা সামাজিক ভাবে সম্পর্কে জড়িত হই, সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আমরা বেশ কিছু স্পষ্ট নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখি। এইসব নির্দেশনার নেপথ্যে আমরা আবারও বৃহত্তর কল্যান খুঁজে পেতে চাই, বর্তমানে সমাজটা তেমন বৃহৎ নেই, অনেক বেশী খন্ডিত এবং এখন সমাজের অস্তিত্ব ধারণ করে আছে ক্ষুদ্র পরিবারের স্পোর। এই স্পোরের ভেতরে সমাজের সবকিছুই লুকানো আছে, একই সাথে সামাজিক অসস্তিটুকুও লুকানো।

নরাধম's picture


একদমই একমত না, হেহে....কিন্তু কেন একমত না সেটা লিখতে কষ্ট লাগতাছে! আহমাদ কামালের কোন একটা কমেন্টে অধিকারজনিত বিষয়টা এসেছিল, সেটা একটা চিন্তার ধারা হতে পারে। তবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং বিশেষভাবে দেশের বা জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যানের জন্য বিয়েপ্রথা এবং একটা কোহিসিভ সামাজিক বন্ধন খুবই জরূরী। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের এক সাইকলজিস্টের একটা চয়েজবিষয়ক লেকচার আছে টেডটকে, দেখতে পারেন।

যাইহোক, আর লিখতে কষ্ট হচ্ছে। ভাল থাকবেন।

রাসেল's picture


পরকীয়াকে গ্রহনযোগ্য মেনে নিলে কি সামাজিক বন্ধন ভেঙে পরবে? বিয়ে প্রথা উদ্ভব হওয়ার আগে ব্যক্তিমালিকানাবোধ, পারিবারিক সম্পদের বোধ, গোত্রভিত্তিক সমাজে পুরোহিতের অস্তিত্বের প্রয়োজন হয়েছিলো।

তথাকথিত সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতার বাধ্যবাধকতাবিহীন অবস্থায় মানুষদের ভেতরে যে পরিমাণ পারস্পরিক আস্থা ছিলো সেই পারস্পরিক আস্থা পরবর্তীতে একটা সামাজিক কাঙ্খায় পরিণত হয়েছে, সম্পদের সুষম বন্টন, ধর্মীয় ভাতৃত্ববোধ ইত্যকার নতুন নতুন নিয়ম তৈরি করে সেই পারস্পরিক আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনবার লড়াইয়ে কেটেছে গত ৩০০০ বছর।

১০

আমিন's picture


পরিস্থিতি মানুষকে বাতিক্রম পথ বেছে নিতে বাধ্য করে ! বন্ধন এর জন্য দায়ী নয় বরং এর মাধ্যমে সম্পর্কের সুন্দর্য বৃদ্ধি পায় !

১১

অতিথি's picture


'পরকিয়া' কে একটা সম্পর্ক ভাবলে ই সব ল্যাটা চুকে যায়। পরকিয়া ও দুইজন মানুষের মধ্যাকার ভাললাগা আর ভালবাসার সম্পর্ক। একে নেতিবাচক ভাবে দেখার কোন কারন দেখি। নেতিবাচক দৃষ্টিভন্গি একটা সম্পর্ক কে হেয় করে। মানুষ এর প্রেম এর সম্পর্ক ভেন্গে যায়, দুইজন নতুন ভাবে জীবনযাপন করা শুরু করে। বিয়ে ও ভেন্গে যায়, আবার নতুন সংসার শুরু করে। যেখানে ভালবাসা, প্রেম নেই, যা দুই জন মানুষের সপর্কের ভিত্তি, সেখানে কোন সম্পর্ক ও থাকে না বাস্তবে।এমন পরিস্তিতিতে যার প্রতি প্রেম বা ভালবাসা থাকে তার সাথে থাকাটা ই সবার জন্য সুখকর, সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনের পূর্ব শর্ত।

তারপর ও এখনকার সমাজ পরকিয়া কে মেনে নিতে পারে না, এর দুটি কারন ই হতে পারে:
১। যে পরকিয়া করে, সে পূর্ব সম্পর্ক গোপন করে আরেকটা সম্পর্কে জরায় বা পরের সম্পর্ক গোপন করে এসটাব্লিস সম্পরকের কাছে। পৃথিবীর কোন মানুষ ই ঠকতে রাজি হবে না। কেউ তাকে ঠকাচ্ছে বিষয়টা কোন ভাবে ই গ্রহনযোগ্য নয়। যখন কেউ তার নতুন সম্পর্কে কথা গোপন করছে, তখন সে আসোলে দুইজন কে ই ঠকাচ্ছে। এখানে সে সামাজিক এবং ব্যক্তি পর্যায়ে অপরাধ করছে, যা সবাই খারাপ চোখে দেখছে।
২। বিবাহিত মানুষের আরেক দায়িত্ব তার সন্তান, যা দুই জনের ই সমান দয়িত্ব। সন্তানের প্রাপ্য ভালবাসা দেয়া এবং তাদের মানবিক ভাবে বড় করার দয়িত্ব দুই জনের ই। যাদিও বাবা মায়ের ভালবাসা মরে যায়, তার জন্য সন্তান সাফার করা টা অমানবিক এবং অমানুষের আচরন। পরকিয়ায় জড়িয়ে যাওয়া মানুষ সব ঠিক রাখতে গিয়ে কিছুই ঠিক রাখতে পারে না। যদিও বাবা মা দুই জনই জানে কে পরকিয়ায় জড়িত, কিন্তু বিষয় টা গোপন করতে মিথ্যার পাহাড় গড়ে তুলে সম্পর্কের মাঝে, সেই পাহাড় দুই জনের বুকে চেপে বসে। চেপে থাকা পাহাড় ের ধ্বস গিয়ে পরে সন্তানের উপর। রাতে বিছানায় প্রক্সি দিয়ে বউ কে বুঝিয়ে রাখে, কিন্তু ছেলে মেয়ে কে দেবার মতো সময় আর তাদের থাকে না।

তাই এই অপরাধবোধ ও অগ্রহনযোগ্য।

পরকীয়া কে একটা ভালবাসার সম্পর্ক হিসাবে গ্রহন করে তার সব সম্পর্কে সৎ থাকলে ( tell the truth to ur partner,and kids that u r no more in love with ur partner, but still u love ur kids. if u stay together how it will effect everyone's life. so u r going to leave ur partner) কেউ আর পরকীয়া কে খারাপ ভাবে দেখবে না। যদি আপনার সন্গী অর্থনৈতি ভাবে আপনার উপর নির্ভরশীল হন, তবে তাকে পরে help করতে পারেন, আপনার সন্তান যদি আপনার সাথে না থাকে, তবে তাদের মাঝে মাঝে দেখতে যেতে পারেন, তাদের ভরন পোষন দিতে পারেন। আর এটাকে খারাপ ভাবে দেখার মতো কোন বিষয় ও না। যারা পরকীয়া করে, তারা পূর্োক্তো কারনে একধরনের অপরাধবোধ এ ভোগে, এই বোধটা ই একটা ভালবাসার সম্পর্ক কে খারাপ করে।

১২

অতিথি's picture


'পরকীয়া' কে একটা সম্পর্ক ভাবলে ই সব ল্যাটা চুকে যায়। পরকীয়া ও দুইজন মানুষের মধ্যাকার ভাললাগা আর ভালবাসার সম্পর্ক। একে নেতিবাচক ভাবে দেখার কোন কারন দেখি। নেতিবাচক দৃষ্টিভন্গি একটা সম্পর্ক কে হেয় করে। মানুষ এর প্রেম এর সম্পর্ক ভেন্গে যায়, দুইজন নতুন ভাবে জীবনযাপন করা শুরু করে। বিয়ে ও ভেন্গে যায়, আবার নতুন সংসার শুরু করে। যেখানে ভালবাসা, প্রেম নেই, যা দুই জন মানুষের সপর্কের ভিত্তি, সেখানে কোন সম্পর্ক ও থাকে না বাস্তবে।এমন পরিস্তিতিতে যার প্রতি প্রেম বা ভালবাসা থাকে তার সাথে থাকাটা ই সবার জন্য সুখকর, সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপনের পূর্ব শর্ত।

তারপর ও এখনকার সমাজ পরকিয়া কে মেনে নিতে পারে না, এর দুটি কারন ই হতে পারে:
১। যে পরকিয়া করে, সে পূর্ব সম্পর্ক গোপন করে আরেকটা সম্পর্কে জরায় বা পরের সম্পর্ক গোপন করে এসটাব্লিস সম্পরকের কাছে। পৃথিবীর কোন মানুষ ই ঠকতে রাজি হবে না। কেউ তাকে ঠকাচ্ছে বিষয়টা কোন ভাবে ই গ্রহনযোগ্য নয়। যখন কেউ তার নতুন সম্পর্কে কথা গোপন করছে, তখন সে আসোলে দুইজন কে ই ঠকাচ্ছে। এখানে সে সামাজিক এবং ব্যক্তি পর্যায়ে অপরাধ করছে, যা সবাই খারাপ চোখে দেখছে।
২। বিবাহিত মানুষের আরেক দায়িত্ব তার সন্তান, যা দুই জনের ই সমান দয়িত্ব। সন্তানের প্রাপ্য ভালবাসা দেয়া এবং তাদের মানবিক ভাবে বড় করার দয়িত্ব দুই জনের ই। যাদিও বাবা মায়ের ভালবাসা মরে যায়, তার জন্য সন্তান সাফার করা টা অমানবিক এবং অমানুষের আচরন। পরকিয়ায় জড়িয়ে যাওয়া মানুষ সব ঠিক রাখতে গিয়ে কিছুই ঠিক রাখতে পারে না। যদিও বাবা মা দুই জনই জানে কে পরকিয়ায় জড়িত, কিন্তু বিষয় টা গোপন করতে মিথ্যার পাহাড় গড়ে তুলে সম্পর্কের মাঝে, সেই পাহাড় দুই জনের বুকে চেপে বসে। চেপে থাকা পাহাড় ের ধ্বস গিয়ে পরে সন্তানের উপর। রাতে বিছানায় প্রক্সি দিয়ে বউ কে বুঝিয়ে রাখে, কিন্তু ছেলে মেয়ে কে দেবার মতো সময় আর তাদের থাকে না।

তাই এই অপরাধবোধ ও অগ্রহনযোগ্য।

পরকীয়া কে একটা ভালবাসার সম্পর্ক হিসাবে গ্রহন করে তার সব সম্পর্কে সৎ থাকলে ( tell the truth to ur partner,and kids that u r no more in love with ur partner, but still u love ur kids. if u stay together how it will effect everyone's life. so u r going to leave ur partner) কেউ আর পরকীয়া কে খারাপ ভাবে দেখবে না। যদি আপনার সন্গী অর্থনৈতি ভাবে আপনার উপর নির্ভরশীল হন, তবে তাকে পরে help করতে পারেন, আপনার সন্তান যদি আপনার সাথে না থাকে, তবে তাদের মাঝে মাঝে দেখতে যেতে পারেন, তাদের ভরন পোষন দিতে পারেন। আর এটাকে খারাপ ভাবে দেখার মতো কোন বিষয় ও না। যারা পরকীয়া করে, তারা পূর্োক্তো কারনে একধরনের অপরাধবোধ এ ভোগে, এই বোধটা ই একটা ভালবাসার সম্পর্ক কে খারাপ করে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.