সময়ের ফাঁদ
এটাও এক ধরণের গল্প বলার চেষ্টা, চিত্রনাট্য তৈরির সময় এইসব দৃশ্যগুলো মাথায় ছিলো, সেই অলিখিত চিত্রনাট্যের অন্য একটা অংশের নেপথ্যে ---
ছোটোভাই মনে রাখবেন সবাইকে দিয়া সব কিছু হয় না, সবাই সব কিছু করতে পারে না, না পারার ভিতরে শরমিন্দা হওয়ার কিছু নাই, আমরা এইখানে আসছি, কেউ কাউরে চিনি না, আজব একটা সময়ে আপনারর আর আমার মতো অপরিচিত মানুষগুলাই এক সাথে এইখানে আছে, বারো জাতের মানুষের ভিতরে সবার সব কাজ করার ক্ষমতা থাকবে না, এইখানে যা পারবা না শুধু লজ্জায় যদি সেটা কতি না পারেন তাইলে আপনারর সাথে যারা আছে তাগোরেও বিপদে ফেলবেন আপনে। আপনে শিক্ষিত পোলা, আপনারে তো নিয়মকানুন শিখানির কিছু নাই, কিন্তু ক্যাম্পে আমগোর কিছু নিয়ম আছে, সেইগুলা মাইন্যা চলতে হবে, এইটা মোস্তফার ক্যাম্প, আর আমি মোস্তোফা আপনাগোর ক্যাম্পকমান্ডার, এইখানে আমার কথার উপরে কোনো কথা বলবেন না। আমি যা বলবো তাই করবেন, আমি যদি বলি রাইতে গাছতলায় বইসা থাকবেন, কোনো প্রশ্ন করবেন না, যদি না পারেন সেইটা এখনই কইয়া দেন?
সময় খুব অদ্ভুত, পরিস্থিতি মানুষকে কোথায় টেনে নিয়ে যায় কল্পনাও করা যায় না। ফরিদপুর থেকে পদ্মার চরে, সেখানে থেকে কোষা নৌকায় কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়া থেকে সীমান্তের এপারে পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৫ দিন। টানা ৬ ঘন্টা হেঁটে সীমান্ত পার হওয়ার পর আর শরীর চলছিলো না, সীমান্তের ওপারে পা রাখার আলাদা স্বস্থি ছিলো, মৃত্যুর জনপদ পেছনে ফেলে এসেছি, গভীর রাতে উদ্বিগ্ন ঘুমাতে হবে না, সামান্য শব্দে আতঁকে উঠে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে হবে না এখানে, সেইসব করুণ আর্তনাদ আর বন্দুকের আওয়াজ পেছনে ফেলে এসেছি চিরতরে, এখানে কেউ আমার নিরাপদ তন্দ্রায় উদ্যত রাইফেল হাতে হামলা চালাবে না।
আমরা সীমান্তে পৌঁছেছিলাম সন্ধ্যার আগে আগে, কোনোমতে খেয়ে ঘুমিয়েছিলাম, কোথায় এসেছি, কোথায় ঘুমিয়েছি জানতাম না, কয়েক আঁটি খড়ের উপরে মোটা চাদর বিছিয়ে অনেক দিন এমন শান্তি আর শ্রান্তির ঘুম ঘুমাইনি গত দুই মাসে । ঘুম থেকে উঠেই সবাই যে যার আত্মীয়-স্বজনের খোঁজে বনগাঁ আর কোলকাতায় চলে গেলো, আমার কোথাও যাওয়ার নেই, সবাই অবরুদ্ধ স্বদেশে বন্দী হয়ে আছে, পরিস্থিতির সাথে আপোষ করে থাকাও সম্ভব হলো না, তরুণ আর যুবকদের খোঁজে প্রতিদিন বাসায় আসছে শান্তিকমিটির লোকেরা, ছেলেদের নিয়ে উদ্বিগ্ন সব পরিবার, আরও গভীর গ্রামের পরিচিত মানুষের বাসায় আত্মগোপনে পাঠিয়েও লাভ হচ্ছে না, প্রতিদিনই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জীপ দেশের আরও ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে, আত্মগোপন করেও লাভ নেই, যতক্ষণ সেনাবাহিনীর জীপের আওয়ার পাওয়া যায়, মরিয়া মানুষ এদিক ওদিক ছুটোছুটি করে, নালা নর্দমা ডোবায় গলা ডুবিয়ে বসে থাকে কচুরিপানার নীচে, এলেপাথারি গুলিতে মারা না পারলে বেঁচে যায়, আবার নিজের ঘরে ফিরে আসে , এভাবেই চলছে তাদের জীবন। আমি আসবার আগেই মা শান্তিকমিটির ফজল চাচাকে বলেছে আমি সান্তাহারে খালার বাসায় যাবো, ওখানে কোনো পুরুষ মানুষ নাই, আমাকেই সব দেখাশোনা করে রাখতে হবে, এখনও জানি না ফিরে গিয়ে কি অবস্থায় দেখবো তাদের। ইয়ুথ ক্যাম্প থেকে ট্রেইনিং ক্যাম্পে আসবার আগের কয়েকটা দিন অনেকবার ভেবেছি, ফজল চাচা জেনে ফেললে কি কি বিপদ হতে পারে, ভেবে ভেবে বুঝলাম এখন অযথা চিন্তা করে লাভ নেই এসব, পথে নামবার আগেই এসব ভাবা উচিত ছিলো।
আমাদের ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন মোস্তফা ভাই, শক্ত চোয়াল আর শীর্ণ হাতের এই মানুষটা আমাকে কেনো যেনো পছন্দ করতেন, একেবারে প্রথম দিন থেকেই আমাকে ছোটো ভাইয়ের মতো স্নেহ করেছেন। প্রথম দুই দিনের ফিজিক্যাল শেষে যেদিন অস্ত্রচালনা ট্রেইনিং শুরু হবে, আমার হাতে একটা থ্রিনটথ্রি আর একটা গুলির বাস্ক তুলে দিয়ে বললেন, মনে রাখবেন ছোটো ভাই আমাদের কিন্তু প্রতিটা গুলির হিসাব দেওয়া লাগে, মনে রাখবেন যেনো গুলির অপচয় না হয়।
ঘাড়ে কুঁদো ঠেকিয়ে নিশানা পরীক্ষা, প্রতিদিন ২০টা গুলি, যারা ১০টা গুলি নিশানায় লাগাতে পারে তারাই দেশের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছে, একদিন ক্যাম্পে ফিরে দেখি আজম ভাইয়ের মুখ থমথমে, আজম ভাই, আমাদের সাথেই ট্রেইনিং শুরু করেছিলো, জাত মার্কসম্যান, তাকে দেখলাম থমথমে মুখে ময়লা পরিস্কার করছে। মোস্তফা ভাইয়ের আদেশ, আগামি এক সপ্তাহ কোনো ট্রেইনিং হবে না, ক্যাম্পের আবর্জনা আর সবার জুতো পলিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আজম ভাইকে।
রাতে রেশনের সিগারেট জ্বালিয়ে বসেছি যখন মোস্তফা ভাই এসে বসলেন পাশে, বললেন ছোটো ভাই খারাপ লাগছে আপনার আজম ভাইকে দেখে? বললাম আপনি যখন কমান্ডার তখন আপনি প্রয়োজন মনে করেছেন বলেই এমন আদেশ দিয়েছেন, তবে সত্যি বললে বলবো কিছুটা অবাক হয়েছি।
শুনেন ছোটো ভাই, আজম ভাই ট্রেইনিং থেকে ফেরত এসেছেন, এসে রুহুলকে বললেন পানি দিতে, রুহুল তখন অন্য একটা দায়িত্বে ছিলো, রুহুল ভালো ছেলে পানি এনে রেখেছিলো তার পাশে। আজমভাই বললেন কি রে পানি তো গ্লাসে ঢেলে দিবি
আমি রুহুলকে বললাম তুই তোর কাজে যা, আমি ওর নিজের কাজ ফেলে অন্য কাজ করাটা পছন্দ করি নাই। আজম ভাই আমার ব্যবহারে রাগ করেছেন, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম, বললাম আজম ভাই দেখেন এখানে ক্যাম্পে সবার নির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে, ঘড়ি ধরে তাকে সেসব কাজ করতে হয়। আপনি এসেছেন , আপনি জানেন পানি কোথায় জমানো থাকে, আপনি তো নিজেই সেখানে যেতে পারতেন, সেখানে না গিয়ে আপনি রুহুলকে হুকুম দিলেন কেনো?
আজম ভাই আমার উপরেও ক্ষেপে গেলেন, বললেন বলছি তো কি হয়েছে? পানি এনে দিয়ে গেলে কি জাত চলে যাবে। তাকে বললাম ভাই দেখেন এখানে জাত যাওয়ার বিষয় নেই, আপনি আমি এখানে অন্য রকম একটা সময়ে আছি, হয়তো আপনি বাসায় এভাবে কাজ চালিয়ে অভ্যস্ত, কিন্তু এটা তো আপনার বাসা না, এই তফাতটুকু তো বুঝবেন। তারপর ক্যাম্পের সবার সামনে আজম ভাই আমাকে গালি দিলেন, বলেন ছোটো ভাই, আমি ক্যাম্পের কমান্ডার, আমার মুখের কথায় এই মানুষগুলা নিজের জীবনের মায়া ভুলে যুদ্ধ করতে যাবে, কেউ যদি আমাকে অপমান করে আমার উপরে এদের ভরসা কিছু থাকবে?
শুনেন ছোট ভাই আপনার খারাপ লাগতে পারে কিন্তু এইখানে আমরা কেউ অন্যদের চেয়ে বড় না, আমরা সবাই সমান। আজম ভাই এই বিষয়টাই বুঝতেছেন না। এইখানে আপনার নাম- পরিবার আর বংশ কেউ খুঁজবে না, যুদ্ধে সঙ্গী-সাথী এই সহযোদ্ধারাই, আপনি যদি কখনও নিজেকে অন্যদের চেয়ে বেশী বড়, বেশী গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তাহলে আপনার প্রাণের মায়াটাও বেশী হবে, আপনি যুদ্ধ থেকে বাঁচতে চাইবেন, এইভাবে আপনি প্রয়োজনে সঙ্গীদের ধোঁকা দিতে পারেন, মনে রাখবেন আপনার বন্ধু আপনার পাশের যোদ্ধা, সে আপনাকে নিরাপত্তা দিবে, আপনাকেও তাকে নিরাপত্তা দিতে হবে।
ট্রেইনিং শেষ হওয়ার আগেই মজিদ আসলো, তার কাছে শুনলাম আমি চলে আসবার সপ্তাহখানেক পরে ফজল চাচা আব্বাকে বাজারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, হাদী ভাই আপনার ছেলে যে মুক্তিতে গেলো, আপনি আমাকে জানাবেন না। আপনার উপরে ভরসা করে থাকি, আপনি বিবেচক মানুষ, এই সময়ে যদি আপনি ইন্ডিয়ার কাফেরদের সাথে মিলেমিশে মুসলিম কওমের ক্ষতি করেন সেইটা কেমন দেখায়?
আব্বা বলেছেন, দেখো ফজল, তোমার আমার ভাবনা তো আমাদের ছেলেপেলেরা বুঝবে না, ওরা ওদের মতো ভাববে, ওরা যা বুঝে সেইটা কি তুমি ওদের বুঝবার ভুল বলতে পারবা? ওরা যদি মনে করে ওরা ঠিক, ওরা এর জন্য জীবন দিয়ে দিবে। তোমার ছেলেও তো গেলো, তাকে আটকাতে পেরেছো? এরা অন্য সময়ের ছেলে, আমাদের ভাবনার সাথে এদের ভাবনা মিলবে না, তারচেয়ে মেনে নাও, ওরা ওদের মতো কাজ করুক।
ট্রেইনিং শেষ হওয়ার পর প্রথম যুদ্ধে যাওয়ার আগে একটা রাইফেল পেলাম। মোস্তফা ভাই রাইফেল আর বুলেটের বাস্কটা আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন ছোটো ভাই বিয়া করছেন?
আমি বললাম না।
বললেন প্রেম করছেন কোনো?
আমি উত্তর না দেওয়ায় বললেন শুনেন ছোটো ভাই, এই বন্দুকই এখন আপনার সব, আপনার বৌ, প্রেমিকা সবাই চলে যাবে, যুদ্ধের পরিস্থিতি কঠিন হলে সবাই পালাতে চায়। এদের দোষ দিয়া লাভ নাই, এরা সবাই নিজের প্রাণের মায়ায় পালায়, কিন্তু এই বন্দুক আপনার পাশ ছেড়ে পালাবে না। নিজের বৌয়ের চেয়ে যত্নে রাখবেন একে, নিয়মিত পরিস্কার করবেন, পানিতে ডুবাবেন না। যদি প্রয়োজনের সময় বন্দুকের গুলি বের না হয় তাহল আপনি মরবেন, আপনার জন্য মরবে আপনার সহযোদ্ধারা।
কখনও মানুষ মেরেছেন ছোটো ভাই?
মানুষ মারাটা বিশাল সাহসের কাজ, মাথাটা খারাপ হয়ে যাবে যদি কখনও মনে করেন আপনি অন্য একটা মানুষের দিকে গুলি ছুড়ছেন মনে রাখবেন ওরা আপনার শত্রু, আপনি বন্দুক নামিয়ে রাখলেই যে ওরা গুলি ছুড়া বন্ধ করবে এমন না। আপনাকে নিজেকে বাঁচাবার জন্য গুলি করতে হবে। শত্রুকে গুলি করলে কোনো অপরাধ নাই।
প্রথম গুলিটা ছুড়ার আগে ভয় লাগবে, ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক, গাবুর ছাড়া সবাই ভয় পায়, যে ভয় পায় না, সে মারা যায়। যুদ্ধে ভয় পাওয়ার পরিস্থিতি আসবে, মরে যাওয়ার ভয় থাকবে, গুলি লাগবার ভয় থাকবে, ওদের হাতে ধরা পরবার ভয় থাকবে। এই ভয় আপনাকে সাবধান হতে শিখাবে। আপনি ঝুঁকি নিবেন অনেক ভেবেচিন্তে, সেটাই প্রয়োজন।
অতিরিক্ত সাহস দেখিয়ে মরে যাওয়ার চেয়ে যুদ্ধ থেকে জীবিত ফিরে আসাটা দলের জন্য ভালো। দলের মনোবল অটুট থাকে। কিছু মনে করবেন না, অনেক সময় অনেক কথা হয়েছে, অনেক কষ্ট দিয়েছি, আগামী কাল দেখা নাও হতে পারে, আগে থেকে ক্ষমা করে দিয়েন।
অন্য কোনো সময় হলে হয়তো আমাদের দেখাই হতো না। কিন্তু মনে রাখবেন আমরা সবাই সময়ের ফান্দে আটকা পরে আছি, এখানে আমাদের নিজেদের কিছু করার নেই, আমরা জোয়ারের বিপরীতে সাঁতার কাটছি এখানে, কিন্তু সেটাই আমাদের নিয়তি। সাবধান থাকবেন, আর খেয়াল রাখবেন সঙ্গীর দিকে





অসাধারণ লাগলো লেখাটা
গ্রেট আপনার লেখার হাত!
বইমেলায় বই পাচ্ছিতো?
আমার বই লেখা মনে হয় না সম্ভব হবে। অনেকের স্টেজফোবিয়া থাকে, আমার পাবলিকেশন ফোবিয়া প্রবল।
আর এই লেখাটার কিছু অংশ আমার পছন্দ হয়েছে তবে অধিকাংশই আদতে ঠেলে নিয়ে যাওয়া লেখা, একটানা একই অনুভুতি নিয়ে লিখে যাওয়া সম্ভব হয় না এখন। এটাকে গ্রেট বললে আত্মভরিতা বেড়া যেতে পারে।
দারুন লাগছে,
এটার কি সিরিজ করবেন?
ওরে ফাটাফাটি। দারুন হইছে শুরুটা। আশাকরি থামায় দিবানা। পরের পর্ব এর অপেক্ষায়..
রায়হান ভাই আগের পর্বের নামটা শাড়ী, ঐটা দিয়া শুরু হইছিলো চিত্রনাট্য।
এইটাই যেন একমাত্র পোস্ট না হয়। হুমকি জানায়া রাখলাম।
ভাইরে এইটার আগে একটা অংশ আছে, শাড়ী, সেইটাও একই ধারাবাহিকতার অংশ।
এইটা শাড়ি'র সিক্যুয়েল? গুড লর্ড। ম্যান এই স্ক্রীপ্টটা যদি আলোর মুখ দেখতো তাইলে দারূণ একটা মুভি দাঁড়াইতো বইলাই মনে হইতেছে...
যারা পড়েছেন এবং প্রতিক্রিয়া লিখেছেন তাদের ধন্যবাদ।
এইটা তেমন সিরিজ না, আমার মেহেরজান দেখা হয় নি, গেরিলা ভালো লাগে নি, তার উপরে একজনের অনুরোধে একটা ছবির চিত্রনাট্য লেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো, সব মিলিয়ে এই চিত্রনাট্য বিষয়গুলো আদতে সেইসব কল্পনার খন্ডখন্ড, যা ভেবেছিলাম আলো-ছায়া আর মানুষের চলাচলে মুর্ত হয়ে উঠবে।
বিষয়বস্তু হিসেবে ধারাবাহিক কিছু না, একটা সময়ের কিছু খন্ড খন্ড দৃশ্য, যেগুলোর পারস্পরিকতা নেই, এমন অনেকগুলো দৃশ্যই কল্পনা করেছিলাম যা মনে হয়েছিলো সংলাপ আর উপস্থাপনে মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। সেসব কিছু কিছু দৃশ্য তুলে রাখার চেষ্টা হচ্ছে এখানে।
সিরিজ কিংবা উপন্যাস হিসেবে লিখবার পরিশ্রম করার পরিস্থিতি আমার এখন নেই, এইসব নকশা ধাঁচের লেখাগুলো এমনই থাকে, কোনো পরিসমাপ্তি পায় না। আমার পক্ষে প্রতিশ্রুতি দেওয়া কঠিন, এর আগেও একটা এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি নি।
রাসেল ভাই,
অনেক অনেক ধন্যবাদ চেতনায় ’৭১ এ নিয়ে যাবার জন্য !
মেহের জান আমারো দেখা হয়নি । গেরিলা আমারো অপছন্দ । ঘটনা যেভাবে
এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এই ফিল্মে , মনে হয়েছে ’৭১ এ ও রকমটি হওয়া সম্ভব ছিলনা ।
একটা কথা বলছি, কিছু মনে করবেন না । ’৭১ এ ওপারে গিয়েও কিন্তু কেউ কেউ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেনি—বিশেষ করে বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছেলে গুলো যারা বামদের ক্যাম্পে না গিয়ে সরাসরি ঢুকে গিয়েছিল মূলধারার ক্যাম্পে । বিভিন্ন প্রশ্নের সন্মুখিন হতে হয়েছে তাদের । নাজেহাল ও হয়েছে অনেকে । মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাসে ছোট এই কলঙ্কটির কথা কখনো লেখা হবেনা জানি । তবু স্মরণ হলে হৃদয়ে ক্ষরণ হয়, কষ্ট লাগে । আবারো ধন্যবাদ !
ভাল লাগছে,
সামনে আরও আসুক।
মন্তব্য করুন