সোহেল ভাই ০১২
এইটা কি পড়ছোস তুই?
ক্যান কি হইছে?
না জিনিষটা কি সেইটা বুঝায়া ক?
তোর সমস্যাটা না কইলে ক্যামনে বুঝবো কি পড়লাম।
না যেইটা পইরা আছোস ঐটারে কি বলে?
এইটা টি শার্ট আর এইটা প্যান্ট
ও সেইটা তো বুঝায়া কইবি যে এই জিনিষটা প্যান্ট, আমি ভাবছিলাম তুই কাপর কিন্যা আইকা দিয়া পায়ের সাথে লাগায়া রাখছিস। তো এইটা পইরা হাঁটতে সমস্যা হয় না?
ক্যান দেখলি তো হাইটাই এইখানে আইলাম
না মানেএই জিনিষ পইরা তো হাঁটাহাঁটি করার নিয়ম নাই, কোনো শোরুম থেইক্যা কিনলে ঐখানে গিয়া আবার তুই ইউজার গাইড দেখিস, দেখবি লিখা আছে শুধুমাত্র প্রদর্শণীর জন্য, সর্বসাধারণের ব্যবহার্য নহে।
হাজার হাজার পোলা এই জিনিষ পইরা ঘুরতেছে, রাস্তায় গিয়া দেখ, তোর তো ফ্যাশনসেন্স বইলা কিছু নাই, তুই এইসবের কি বুঝবি শালা উজবুক।
তা ঠিক কইছোস আমার ফ্যাশানসেন্স খুব খারাপ, সেইসব বুঝিও না, কিন্তু এইটা বুঝি এই জিনিষ পইরা বেশীদুর যাওয়া যাইবো না। সমস্যা হবে।
ক্যান সমস্যা হবে ক্যান?
সেইটা তুই কাইলক্যাই বুঝবি, আমি বন্ধু হিসাবে এইটা কইলাম, ইন বিটউইন ফ্রেন্ডস আর কি।
ক্যান এইটা পড়লে কি ক্ষতি হইবো।
ধর যেই রকম চিপা জিনিষটা, পইড়া বেশী হাঁটাহাঁটি করলে বীচিতে ফোস্কা পড়তে পারে। তখন রাস্তা ঘাটে লুঙ্গি পইড়া ঘুরতে হবে।
লুঙ্গির খারাপ কি দেখলি তুই, সেইটা যদি পরতে হয় পরলাম,
নাহ আমার কি তুমি লুঙ্গি পইড়া চ্যাগায়া হাঁটবা সেইটাতে আমি মজা পামু এই যা।
ফাজলামি বাদ দিয়ে কামের কথা ক, তুই ফারুকরে দেখছোস এর ভিতরে?
না ওর কোনো পাত্তা নাই, আসে-টাসে না এই দিকে। ক্যান?
নাহ ওরে একটা কামে দরকার ছিলো। একটা জিনিষ নিয়া গেছে ঐটা ফেরত দেওয়ার কথা দিতাছে না।
তো চুদিরপোলারে ফোনে ধর, ফোন কইরা গালি দে?
ওরে পয়সা খরচ কইরা গালি দিতে ইচ্ছা করতাছে না, আইলে গালি দিমুনে, এখন ক তুই কই যাস?
ময়না ভাইয়ের দোকানের সামনে মারুফ জিজ্ঞাসা করলো।
কই আর যামু, বাসা থেকে বাহির হওয়ার সময় মা বললো একটু ব্যাঙ্কে যাইতে হবে, হাতে বিল ধরায়া দিয়া বললো যা দিয়া আয়। তো আমি যাইতাছি বিল দিতে, গ্যাস বিল আর ইলেক্ট্রিসিটি বিল।
গ্যাসের অবস্থা তো খারাপ, দাম বাড়াইবো
বাড়ানোই তো ভালো, তোমরা গ্যাস জ্বালায়া কাপড় শুকাইবা আবার দামও দিবা না এইটা হয়?
কাপড় শুকানোর সুযোগ পাবি কই তুই, লাইনে তো গ্যাসই আসতেছে না। এর চেয়ে পেপার কিন্যা আগুণ জ্বালাইলে বেশী আগুণ জ্বলে। সকাল বেলা দুই টাকা দিয়া একটা বাংলাদেশ প্রতিদিন কিনবি, সকালের নাস্তা বানাইতে গ্যাসের চুলা জ্বালাইতে হবে না। দুই টাকা দিয়া বাসার সবার নাস্তা বানায়া ফেলতে পারবি,
তারপরও বাসায় একটা গ্যাসের লাইন রাখছে আব্বা। যদি মাঝে মইধ্যে গ্যাস আসে। এখন তো গ্যাসের চুলা দেখে মনে হয় আস্তাবলে ঘোড়া পুষতেছি একদিন ডিম পারবো এই আশায়।
তোগো নিয়া এই সমস্যা বুঝলি, তোর খালি সমালোচনা করিস। এইবার যে উন্নয়ন হইছে সেই উন্নয়ন গত ১০ বছরে হয় নাই, পেপার জ্বালায়া নাস্তা বানানোর আগে একবার পড়লে এইসব কইতে হইতো না।
তুই কি যাবি আমার সাথে?
চ, কিছু তো করার নাই, এইখানে বইসা মাছি মারার চেয়ে ব্যাঙ্কে গিয়া মাছি মারা ভালো।
ব্যাঙ্কের দেয়াল দেখছি বসে বসে, সকাল ১১টায় সম্ভবত একটা টিফিন ব্রেক চলছে, সবাই যে যার মতো টিফিন আর চা নিয়ে বসে আছে এমন অবস্থায় কাউকে গিয়ে কাজটা করে দিতে বলাটা বেমানান, আমি কালো নরম সোফার ভিতরে ঢুবে গিয়ে ব্যাঙ্কের দেয়ালের দিকেই তাকিয়ে থাকলাম, কাস্টমার কিউ' উপরে একটা টেলিভিশন লাগানো, সেখানে খেলা চলছে,
বড় লোকের খেলা গলফ, যদিও এটাকে খেলা বলা নিয়ে আমার একটা স্পষ্ট আপত্তি আছে, মানে গলফ খেলাটাই বেশ এলিটিস্ট খেলা বলা যায়, একটা বলকে লাঠি দিয়ে বাড়ি দিতে দিতে গর্তে ফেলানোর এই খেলাটার ভেতরে তেমন প্রতিদন্ডিতা নেই, এটা দলগত খেলা না, ব্যক্তিগত নৈপূণ্য দেখানোর জায়গা আছে, কিন্তু যে কারণে আর্চারি কিংবা শুটিং ঠিক খেলা না সে কারণে গলফও ঠিক খেলার পর্যায়ভুক্ত না হলেও এটার দর্শক তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে, সিদ্দিকুর একমাসে কয়েক কোটি টাকা পুরস্কার পাওয়ার পর ১০ টাকার লটারি কিনে কিনে ফতুর হওয়া বাঙ্গালী হঠাৎ করেই ভাবছে এইভাবে লাঠি দিয়া বাড়ায়া বল গর্তে ফেলেও বড়লোক হওয়া যায়, এটা আরও বেশী সহজ পদ্ধতি, যত ইচ্ছা বলে বাড়ি দেওয়া যাবে, আর খেলাটার নিয়মটা উল্টা, যে বেশী বাড়ি দিবে সে হারবে। কিন্তু এইটাকে খেলা বলা হবে কেনো?
এইখানে প্রতিটা খেলোয়ার নিজের নিজের জিনিষ সাথে নিয়ে আসে, তাদের এইসব টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলাদা একটা লোক আছে, তারা মাটিতে পেরেক পুতে তার উপরে বল রাখবেন সেই জায়গা ঠিক করে দেওয়ার জন্য আলাদা মানুষ আছেন, বেশ অনেকক্ষণ খেলা দেখে বুঝলাম বড় লোকদের মর্নিং ওয়াকের অভ্যাস নেই, তাই একটা বল নিয়ে তারা মর্ণিং ওয়াক করেন, আর সেইসব বড়লোকদের খেলা সারাদিন ধরে টিভিতে দেখায়। কয়েকটা মানুষ আরও কয়েকটা মানুষের ঘাড়ের উপরে ব্যাগ ঝুলায়া হাঁটতেছে, আর হাঁটতেছে। এই জিনিষ স্পোর্টস চ্যানেলে ক্যান যে দেখায়?
এই খেলাটা ক্যান যে দেখাইতাছে বুঝি না, এইটাতে মজার কি আছে?
তুই খেলার কি বুঝিস?
তোর চেয়ে বেশী বুঝি এইটা শিওর, তুই তো লুডু আর দাবা ছাড়া জীবনে কিছুই খেললি না আবার সেইটা নিয়া কথা বলিস।
আমি, লুডু আর দাবা? মারুফ প্রতিবাদ জানায়
তোর প্রিয় খেলা লুডু আর দাবা, এইটা তোর শরীর দেখেই বুঝা যায়।
কেন?
না অন্য কোনো খেলায়তো গুটি খাওয়া যায় না , এই দুইটা খেলায় শুধু গুটি খাওয়া যায়।
আরে রাখ ব্যাটা চেকার্সেও গুটি খাওয়া যায়। তুই খেলার খবর রাখিস কয়টার?
চেকার্সের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপ হয়তো, সেইসব আমি দেখি না, আইচ্ছা বলতো এখন চেকার্সের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নটা কে জানি?
দুই দিন ক্যাম্পাসে পেপসির কেসিং নিয়া ক্রিকেট খেইল্যা তুমি ভিভ রিচার্ডস হইছো, শালা উজবুক।
আব্বে যা, তুই কথাই কইস না, তোর তো কথাই হয় না।
হ, কথাতো তোরই হয় শুধু, আমরা তো হাওয়ায় পাতা শুকাই
টিফিন ব্রেক শেষ হলো, গুটিগুটি পায়ে গিয়ে ২৩০০ টাকা জমা দিয়ে আসি, ইলেক্ট্রিসিটি বিল আসছে ১৮০০ টাকা। শালার দিনের অর্ধেক সময় ইলেক্ট্রিসিটি থাকে না, তারপরও এত বিল?
কিছু খাবি তুই?
না চল আগে ময়না ভাইয়ের দোকানে যাই, পর ঠিক করবো।
ব্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটা রিকশাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই যাবে?
কই যাইবেন
এইতো সামনে
সামনে কতদুর?
তুমি কতদুর যাইবা, সেইটা কও ঠিকমতো।
আপনে না যাইবেন, যদি কন রায়ের বাজার যাইবেন, সেইখানেও নিয়া যাইতে পারি।
নাহ ওতদুর যাবো না, ঐ রাস্তাটা পার হয়ে বামে মোচড়ে যাবো।
১৫ টাকা লাগবে।
কি কও তুমি? ১৫ টাকা? কেমনে চাইলা?
ভাড়া ঠিকই চাইছি, আপনে মনে হয় অনেক দিন রিকশায় চড়েন না। জানবেন কিভাবে?
তেতো মুখে সামনে আগালাম।
মারুফ বললো আমার কি মনে হয় জানিস?
কি? কইয়া ফেল
আমার মনে হয় রিকশাওয়ালাদের বীচির সাথে একটা আলাদীনের চেরাগ লাগানো আছে, ওরা রিকশার সীটে বইসা চেরাগ ঘঁষে আর আমাদের পকেটের টাকাগুলা ওদের পকেটে চলে যায়।
হারামজাদার কথা শুনছিস, শুইনা হারামজাদারে পিটাইতে ইচ্ছা করতেছে
পিটায়া কি করবি? ও যা মন চাইছে সেইরকম ভাড়া চাইছে, তোর পছন্দ হয় নাই, তুই যাবি না। এইটা নিয়া ক্ষেপার কি আছে?
নাহ ক্ষেপার তো কিছু নাই, ওর কাজ ভাড়া চাওয়া ও চাইবো, আমার ইচ্ছা ওরে মারার, আমি মারবো, তোর কথা কওনের কি আছে?





দারূণ স্যাটায়ার... বহুদিন পর আপনার এইরাম টোনের লেখা পাইলাম...
অনেকদিন পর সোহেল ভাইকে পাইয়া ভালো লাগল।
দারুণ লাগছে কথোপথন।
অসাধারণ
দুই বন্ধুর কথপোকথন? নাকি নিজের সঙ্গে নিজের?
এ জিনিষটা গত ৩/৪ বছর অনিয়মিত চলছে , সংলাপ আলোচনা সব কিছুই।
এক ধরণের আড্ডাবাজী লেখা, একটু অসুশীল এই যা।
মন্তব্য করুন