সোহেল ভাই ০১৫
ময়না ভাইয়ের দোকানে বসে চা সাটাচ্ছি হঠাৎ দেখলাম সোহেল ভাইকে, সোহেল ভাই খানিকটা মোটা হয়েছেন, সরকারী অফিসারসুলভ একটা ভারিক্কি ভাব এসেছে শরীরে, ডাক দিলাম
আররে সোহেল ভাই, কখন আসলেন?
এই তো আসলাম, তোমাদের কি খবর?
সোহেল ভাইয়ের সাথে দেখা হলো প্রায় তিন মাস পরে, এর ভেতরেই সোহেল ভাইয়ের সম্বোধন বদলে গেছে, আগে তো আমাদের তুই করেই বলতো, হঠাৎ আজকে তুমিতে উত্তোরণ ঘটলো কিভাবে?
চলতেছে সোহেল ভাই, টার্ম ফাইনাল শেষ, এখন অপেক্ষা করতেছি কবে কোথায় গতি হয়।
আর বোলো না, দেশের অবস্থা তেমন ভালো না। সরকারী চাকরি-বাকরির বাজারেও টান, দেখো কি হয়
নান্টু চিৎকার করে বললো
আরে সোহেল ভাই , আপনাকে ফোন দিবো ফোন দিবো ভাবতেছিলাম। কখন আসলেন এইখানে?
দরকার ছাড়া তো তুমি আমাকে খুঁজো না, কি দরকার হয়েছে বলো?
কি যে বলেন সোহেল ভাই, আপনি এই রকম কথা বললেন, দিলে দাগা খাইলাম।
ময়না ভাই সোহেল ভাইকে একটা ইস্পিশাল ডাবল পাত্তি চা দেন আর একটা বেনসন ফিকেন জলদি।
সোহেল ভাই বেনসন জ্বালিয়ে আশেপাশে তাকান, সম্ভবত পোস্টিং এর ভারের সুবাদে তিনি নানাদিক দেখে সিগারেট টানেন এখন। সব জায়গায় তো সিগারেট টানাও যায় না, টানলেই ৫০ টাকা জরিমানা।
সোহেল ভাই একটা দরকার ছিলো আসলে......
সোহেল ভাই অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন নান্টুর দিকে
নাহ মানে সার্টিফিকেট এটেস্টেড করতে হইতো, বুঝেনই তো এত জায়গায় এপ্লিকেশন করতে হয়, সবাই সব এটেস্টেড কপি চায়, বিশাল প্যাঁড়ায় আছি ভাই
এইটার জন্য তুমি আমাকে খুঁজতেছো? শুনো মিয়া তুমি যদি কোনো ছিনতাইকারী ছিচকা চোরের কাছে গিয়া এটেস্টেড করতা সেইটা আরও অথেনটিক হইতো।
আপনি কি আমার সাথে ফাজলামি করেন ভাই? আপনারে মানলাম ফোন দেই নাই, কিন্তু এইভাবে অপমান করবেন আপনি?
আরে কি যে বলো, শুনো,
বেনসনে লম্বা একটা টান দিয়া সোহেল ভাই বললেন
আমি বিসিএসে এপ্লাই করছি, এপ্লিকেশনে জাতীয়তা সনদ লাগছে, দিছে কে? ওয়ার্ড কমিশনার হাবিব। তাকে তো তোমরা চিনো, আগে ছাত্র লীগের ক্যাডার ছিলো, এখন এলাকার নেতা হইছে।
সেইটা দিয়া টিকছি, পরে ইন্টারভিউ হইছে, ইন্টারভিউর পর পুলিশ ভেরিফিকেশন হইছে, পুলিশ লিখছে এর নামে কোনো মামলা নাই, এ অতিশয় ভালো নাগরিক, তো পুলিশের সোর্স কারা? ছিচকা চোর আর পেশাদার ছিনতাইকারী। এরা চারিত্রিক সনদ দেয় আমাদের, আমরা এদের চোখে অপরাধী কি না সেইটা পুলিশ যাচাই করে, সেই সনদে আমাদের চাকরী হয় আর আমরা তোমাদের সার্টিফিকেট দেখে সিগনেচার করে বলি আসলটার সাথে এইটার কোনো তফাত নাই, এইটা একটা অথেনটিক কপি।
তো ভেবে দেখো, আমি এই দেশের এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা কি না সেইটা ঠিক করে একটা পেশাদার সন্ত্রাসী আর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে আমি কোনো অপরাধে জড়িত ছিলাম কি না সেইটা ঠিক করে পেশাদার ছিনতাইকারী, তো আমার এটেস্টেড করার চেয়ে ওদের এটেস্টেড করার অথেনটিসিটি বেশী না কি কম?
নান্টু বিকট চোখে তাকিয়ে ছিলো, সোহেল ভাই বললো ঠিক আছে তুমি সার্টিফিকেটগুলা বাসায় নিয়া আসো, আমি তো সিল সাথে আনি নাই, সিল বানাইতে হবে।
আরে রাখেন ভাই, আপনার সিল তো আমি বানায় রাখছি, শুধু আপনার অনুমতি নাই বলে নিজে নিজে এটেস্টেড করতেছি না। আমি সব নিয়া আপনার বাসায় চলে আসবো সন্ধ্যায়। এখন আপনার খবর বলেন
আমার আর খবর কি, এই তো সকালে অফিসে যাই, সন্ধ্যায় অফিসার্স ক্লাবে যাই, একটু খেলাধুলা করি, সন্ধ্যায় কলিগদের সাথে আড্ডা দিয়ে মেসের খাওয়ার খেয়ে ঘুম। তোমাদের অন্য বন্ধুদের কি অবস্থা?
সবাই ভালো আছে সোহেল ভাই। আপনি আসছেন, বিকালে সময় দিতে পারবেন, তাহলে সবাইকে আসতে বলতাম।
তোমরা যা করো না। আমি আসছি তো কি হইছে, তোমরা তোমাদের মতো থাকবা। এত হাঙ্গামার কি আছে?
আরে মিয়া আপনি আসছেন তিন মাস পর, আপনার সাথে কথা হয় না অনেক দিন হইছে, সবাই আপনার কথা জিগায়, কইতে পারি না। সবাই আসুক, অনেক দিন তেমন আড্ডা হয় না, বিকালটা ফ্রি রাইখেন ভাই।





সবচেয়ে দু:খের বিষয় হইলো সম্পূর্ণটা লেখার পর সেইটা মুছে যাওয়া। মনে হয় আমার ইন্টারনেট কানেকশন ঝামেলা করতেছে, এক ঘন্টা পরিশ্রম কইরা একটা জিনিষ লেখার পর সেইটার সম্পূর্ণটাই হারায়া যাওয়াটা ভীষণ রকম বাজে
দেখি সোহেল ভাই এইবার সরকারের কোন কোন জায়গায় গপসপ করে
সোহেল ভাই ১৬ এর অপেক্ষায়
জয় সোহেল ভাই জিন্দাবাদ...
মন্তব্য করুন