কাজী ফজলুর রহমান ও আমাডের স্বাধীনতাপরবর্তী সময়
রাজনৈতিক বিরোধিতাই হয়তো এর প্রধানতম কারণ কিন্তু আমাদের পরিচিত বুদ্ধিজীবীদের ভেতরে ৭৫ পূর্ববর্তী সময় নিয়ে এক ধরণের অলিখিত নিরবতা বিদ্যমান। আমাদের ঔপন্যাসিকদের ভেতরেও স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহৎ পরিসরে উপন্যাস লেখার প্রবনতা কম। এই নিরবতার গ্রহনযোগ্য অনেক কারণই হয়তো আছে তবে আমার ধারণা যারা পরিচিত বুদ্ধিজীবী তাদের প্রত্যেকেরই এক ধরণের সেক্যুলার মানসিকতা ছিলো, তারা স্বৈরতন্ত্র বিরোধী ছিলেন এবং বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের নায়ক হিসেবে শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি তাদের এক ধরণের অন্ধ পক্ষপাত ছিলো এবং আছে। তারা মুজিবের অর্জন বিষয়টা যতটা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে-ফেনিয়ে উপস্থাপন করতে আগ্রহী, মুজিবের শাসনতান্ত্রিক অদক্ষতা এবং তার চারপাশে ভীড় করে থাকা রাজনৈতিক সুবিধাপ্রত্যাশী মানুষদের বিষয়ে কথা বলতে তারা ততটাই অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
আইয়ুব খাঁ সাহেব নগদ অর্থের চাপে আমাদের প্রতিথযশাবুদ্ধিজীবীদের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। যাদের আমরা এখন বাঙালী সংস্কৃতির অন্যতম অনুপ্রেরণা ভাবছি তাদের অনেকেই সে সময়ে লোভের জিহ্বা ঝুলিয়ে স্বৈরতন্ত্রের শিশ্ন চেটেছেন পরম আহ্লাদে। তাদের কেউ কেউ অবশ্য পরবর্তীতেও সামরিকশিশ্নলেহন করেছেন, সেসব ব্যক্তিকে আধুনা গণতন্ত্রী হয়ে ওঠা সেসব মানুষও নিন্দা জানিয়েছেন।
অন্য একটা কারণ হতে পারে এদের অনেকেই সে সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রশ্রয় পেতে বঙ্গভবন-৩২ নাম্বার আর সচিবালয় প্রেসক্লাবে বিস্তর ঘুরাঘুরি করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় আর্কাইভে সে সময়ের দৈনিক পত্রিকা আছে, হয়তো সাময়িকপত্রগুলোরও এক ধরণের সংগ্রহশালা আছে, সে সময়েই প্রকাশিত হয়েছে বিচিত্রা- বিচিত্রার ১৯৭৩-৭৪-৭৫ এর বাঁধাই করা সংস্করণ এক বন্ধুর কল্যানে দেখেছি, তবে তা বাসায় নিয়ে এসে পড়তে পারি নি। প্রেস অর্ডন্যান্স জারী করে পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করা, বাকস্বাধীনতা খর্ব করতে গিয়ে আইয়ুব খাঁ সাহেবের বৈরি প্রেস অর্ডিন্যান্সকে নতুন নামে পুনর্বহালের ঘটনাগুলো সে সময়েই ঘটেছে।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ এর ভিতরে ভাসানীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিলো হককথা- সে সময়ে আহমদ ছফা কলাম লিখছেন- সেখানে তিনি তৎকালীন বুদ্ধিজীবীদের স্বার্থের কুকুরলড়াইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। সে বইয়ের প্রথম সংস্করণে এদের অনেকেরই নাম-ধাম ছিলো, পরবর্তী সংস্করণে আহমদ ছফা সেসব নাম মুছে দিয়েছেন। হক কথাও তেমন ভাবেই সে সময়ের লোভী ব্যক্তিদের আচরণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেও তাদের নাম-ধাম উহ্য রেখেছেন। এই নামধাম উহ্য রাখবার-জনৈক প্রভাবশালী লিখে সংবাদ পরিবেশনের প্রবনতা অদ্যাবধি বাংলা সংবাদপত্রে বিদ্যমান।
সম্ভবত এনায়েত করিমের সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো হলিডে, সেখানে নিয়মিত কলাম লিখেছেন বদরুদ্দিন উমর, তিনি গণশক্তি এবং অন্যান্য দলীয় পত্রিকায় দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রয়োজনে প্রকাশিত এবং নিজস্ব তাগিদেই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ লিখেছেন- তার মার্ক্সবাদী রাজনৈতিক আদর্শ- তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের উপর ভর করেই সেসব কলামে তার বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছিলো। পরবর্তীতে এসব পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক বাংলা জনতা কিংবা অন্যান্য পত্রিকাও সময়ের সাথে অদৃশ্য হয়ে গেছে।
যারা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ইতিহাস চর্চা করছেন, দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ বিদ্যমান, তাদের কেউই অবশ্য নিজস্ব গবেষণার প্রয়োজনেও সে সময়ের সংবাদপত্র খুলে দেখছেন না। সামগ্রিক ভাবে বলতে হবে হাতে গোনা ১০টি বইয়ের বাইরে সে সময় ভিত্তিক অন্য কোনো বই নেই।
আনু মুহাম্মদের ৭০ দশকে, বিভিন্ন আত্মজীবনিতে হয়তো এসবের ছিঁটে-ফোঁটা আছে, আবুল মনসুর আহমেদের কলাম সংগ্রহ বেশী দামে কেনা কম দামে বেচা স্বাধীনতা- হয়তো আরও কিছু জনপ্রিয় কলাম ছিলো, সেসব প্রকাশিত হয় নি অদ্যাবধি।
বদরুদ্দিন উমরের যুদ্ধপুর্ববর্তী সময়ে লেখা রাজনৈতিক কলামগুলো সংগ্রহ করে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে , যুদ্ধপূর্ববর্তী বাংলাদেশ, এবং যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে লেখা কলামগুলোর সংকলন যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশও প্রকাশিত হয়েছে একই প্রকাশনা থেকে।
বদরুদ্দিন উমর আওয়ামী পন্থী কলামিস্ট-বুদ্ধিজীবীদের পছন্দের ব্যক্তি নন, যারা আওয়ামী লীগকে অন্ধ সমর্থন করেন তারাও বদরুদ্দিন উমরের রাজনৈতিক বিশ্লেষন পছন্দ করেন না। কোনো কোনো সময় রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা বিশ্বাস সত্যবিচ্যুত করতে পারে মানুষকে। দলীয় কর্মী ও নেতাদের উপরে অন্ধবিশ্বাস অনেক ধরণের ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
বদরুদ্দীন উমর দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিশেষত রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য্য বিশ্লেষণ করেছেন দীর্ঘ দিন ধরেই, দলীয় মুখপত্র কিংবা প্রচারণা পত্রিকার প্রয়োজনে তিনি লিখেছেন, পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত কলাম লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
যুদ্ধপূর্ববর্তী এবং যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতির বিশ্লেষণে তিনি তার রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হন নি, ৭২ থেকে চলমান যুদ্ধাপরাধী ও দালালদের বিচার প্রসঙ্গে তার অনেক অভিমত হয়তো তথ্যের নিরিখে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে, কারণ অধিকাংশ ব্যক্তিই এক ধরণের নিশ্চুপ নীরবতার আশ্রয় গ্রহন করেছেন। তারা তাদের মৌনব্রত ভাঙবেন এমনটা মনে হয় ন।
দালাল সন্দেহে অনেক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীকে হেনেস্তা করা হচ্ছে, তাদের অন্যায় ভাবে আটক করা হচ্ছে এই অভিযোগ কতটুকু সত্য তা জানতে হলে সেইসময়ের নথি ঘাটতে হবে এবং সেই নথিগুলোর অনুপস্থিতি প্রক্রিয়াটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মুজিববাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সংঘর্ষ হয়েছে, কেউ কেউ বলেছেন আওয়ামী লীগের ইষৎ ডানপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শকে উপেক্ষা করে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যারা দেশের ডাকে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেছিলেন, তাদের অনেকের ভেতরেই সাম্যবাদী চেতনা বিস্তার লাভ করেছিলো। সমাজে তাদের ন্যায্য অধিকার পাওয়া প্রয়োজন এবং সবার মুক্তির লক্ষ্যে এক ধরণের জাতীয় যুদ্ধে জড়িয়ে আছে তারা যার চুড়ান্ত লক্ষ্য সকলের জন্য বৈষম্যবিহীন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা- এই ধারণাটি অনেক বেশী সাম্যবাদী ঘারানার।
তবে ২৫ বছরের গোলামি চুক্তি কিংবা আওয়ামী লীগ ভারত সরকারের গোপন চুক্তি বিষয়ে তার অবস্থান আমাকে দু:খ দিয়েছে। যেহেতু বিভিন্ন সূত্রে এখন এই অলিখিত গোপন চুক্তির অস্তিত্বহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে সুতরাং আমার অভিমত বদরুদ্দিন উমর এ ক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ট সহযোগীদের রাজনৈতিক বিশ্বাসে প্রভাবিত হয়ে যাচাই না করেই একটি তথ্যে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন।
কাজী ফজলুর রহমানের দিনলিপি ১৯৭২-৭৫ আশা ও ভগ্ন আশার দিনগুলো গতকাল প্যাপিরাসে দেখবার পর সেটা কেনার তীব্র তাগিদ অনুভব করছিলাম, তাকে অন্য ৩৩জন আমলার সাথে ইয়াহিয়া সরকার দুর্নীতির অভিযোগে চাকুরিচ্যুত করেছিলো ১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি- এরপর তিনি বার্মা ইস্টার্নে চাকুরি শুরু করেন এবং ১৯৭১ সালের পুরোটা সময়ই তিনি বার্মা ইস্টার্নের কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন, আশা ও ভগ্ন আশার দিনগুলো শুরু হয়েছে তার দিনলিপি একাত্তরের পরের দিন থেকেই, বইটির দাম মাত্র ৯৬ টাকা কিন্তু গুরুত্ব বিবেচনায় এই আশা ও ভগ্ন আশার দিনগুলো বইটির দাম ৯৬০ টাকারও বেশী।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বার্থলোভী মুক্তিযোদ্ধা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে ডাকাতি-সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বেনামী উপস্থিতি বইয়ের পাতায় পাতায়। সদ্যোজাত দেশে কত রকমের ধান্দাবাজী কতরকমের অন্তর্কলহ ছিলো দেশের আমলাতন্ত্রে, কতজন কতভাবে এই ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে শুষে নিতে চেয়েছে সেটার একটা মর্মান্তিক বিবরণ আছে এখানে।
বাংলাদেশ এখন যেখানে পৌঁছেছে, তার অনেক কিছুর সূচনাই আসলে আমাদের প্রাথমিক প্রশাসনিক অস্থিরতার প্রকাশ। সেখানে নির্লজ্জ প্রশ্রয় পাওয়ার নোংরা লড়াই, এ ওর বিরুদ্ধে কান ভারী করছে, ও তার নামে গীবত করছে- রাজনীতি ও প্রভাববলয় বিস্তারের নোংরামী, সিক্সটিন্থ ব্রিগেড আর কতিপয় স্বার্থান্ধ মানুষ কিভাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের শেকড়টা কেটে একে প্রাণশক্তিহীন করছে এই অশোভন বাস্তবতাটুকু প্রতিদিনের পাতায় মুর্ত।
আনিসুর রহমানের পথে যা পেয়েছি ১ম-২য়, অপহৃত বাংলাদেশ বইগুলোতে এই স্বার্থান্ধ লড়াই এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার কার্যকরণ অনুসন্ধানের এক ধরণের প্রয়াস লক্ষ্যনীয়। সেই সাথে আকবর আলী খান এবং রেহমান সোবহানের এক ধরণের বিশ্লেষণও বাজারে উপস্থিত। সেইসব মিলিয়ে পড়লে এক ধরণের কার্যকরণ সম্পর্ক নির্ধারণ করা সম্ভব। হয়তো ভবিষ্যতে কেউ এই প্রয়াস গ্রহন করবেন।
বদরুদ্দিন উমর তার যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশ কলাম সংগ্রহে রাজনৈতিক বৈরিতায় এক দল মানুষকে কোলাবোরেটর চিহ্নিত করার প্রবণতা নিয়ে লিখেছিলেন। সে সময়ের উল্লেখযোগ্য অসন্তোষের একটি ঘটনা ছিলো ছাত্র ইউনিয়নের আজীবন সদস্যপদ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে বহিস্কার করা। রক্ষীবাহিনী- মুজিব বাহিনী এবং পরবর্তীদের মুজিববাদের প্রবক্তাগণ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নাম দিয়ে জাসদের রাজনৈতিক মতবাদ প্রচারের বিরোধিতা করেছিলো। শেখ মনির প্রশ্রয়পুষ্ট মুজিববাদের ধারক-বাহকদের মুজিব নিজের বলে ভেবেছিলেন। তারাই সর্বসেবা হয়ে উঠেছিলো বলে দেশজুড়ে এক ধরণের নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো।
এই নৈরাজ্যিক পরিস্থিতিতে যখন স্বার্থের প্রয়োজনে একদল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদারিত্বের বলে বলীয়ান হয়ে যাকে তাকে কোলাবোরেটর উপাধি দিয়ে রাষ্ট্রীয় লাভের ঝোলাগুড়ের ভাগ-বাটোয়ারার প্রতিদন্ডী হিসেবে চিহ্নিত করতে সচেষ্ট সে সময়ে সরকারের দালালদের বিচার বিষয়ে আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ কারণেই সম্ভবত ১৯৭২-৭৫ সময়কালে চিহ্নিত দালালদের বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রায় ৭০% অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দালালীর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি, এটা এক ধরণের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনেস্তা করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিলো। তোমাকে আমি পছন্দ করি না, তুমি কোলাবোরেটর, অভিযোগ উঠা মাত্রই ৬ মাসের জামিনঅযোগ্য কারাবাস, প্রকৃত কোলাবোরেটরদের অনেকেই এই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার লড়াই এর মাঝে ক্ষমতাবান কুচক্রীদের প্রশ্রয়ে নির্ভাবনায় ঘুরেছে।
বিচার প্রক্রিয়ায় যদি প্রকৃত অভিযুক্ত না থাকে তাহলে সেটা প্রহসনের পরিণত হয়। ১৯৭৪ এর নভেম্বরে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সময় এ কারণেই বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিকেই মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সরকার আর প্রাথমিক প্রয়োজনীয় এই বিচার সম্পূর্ণ না হওয়ার পেছনে জিয়াউর রহমানের দায় যতটুকু( তার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং অন্যান্য বালছাল) তার চেয়ে অনেক বেশী দায়ী অত্যুৎসাহী আওয়ামী মধুভান্ডের লোভে ছ্যাচরামি করা আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের। আওয়ামী লীগই দালালদের বিচারের পথে প্রধানতম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
আর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশাসনিক ব্যর্থতার অন্য একটি কারণ যা অনেকেই উল্লেখ করেছেন, সেটাকে এইসব প্রেক্ষিতে যথেষ্ট যৌক্তিক মনে হচ্ছে - ৭ই মার্চ থেকে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাম্ভাব্য আগ্রাসন বিষয়ে অবহিত ছিলেন, এন্থনি ম্যাসকারেনহ্যাস তার বইয়ে শেখ মুজিবকে ৩০ লক্ষ বাঙালীর মৃত্যুর পরোক্ষ দায়ে অভিযুক্ত করেছেন, তিনি ২৫শে মার্চ সন্ধ্যায় অবহিত ছিলেন পাকিস্তানী সেনা আগ্রাসন অত্যাসন্ন, তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে দায়িত্ব দিলেন দেশে অবস্থান করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে আর তাজউদ্দিনকে আত্মগোপন করে ভারতে চলে যেতে বললেন, তিনি ২৫শে মার্চ গ্রেফতার হওয়ার পর পরবর্তী বছরের জানুয়ারী মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। এই অনুপস্থিতি এক দিক থেকে ক্ষতিকর হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। তার অনুপস্থিতি এবং সম্পূর্ণ অনবহিতি তাকে এক ধরণের অন্ধকারে রেখেছিলো, সে অন্ধকার কিংবা আড়ালের বদৌলতে তার কাছে স্বার্থান্ধ যেই এসেছে, বলেছে সেই মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে তাকেই তিনি নির্দ্বিধায় পুরস্কৃত করেছেন। এই কান কথা শুনে যাকে তাকে রাষ্ট্রীয় সুযগ-সুবিধা বন্টন এবং তজ্জনিত অব্যবস্থাপনার জের এখন টানছে বাংলাদেশ।





হলিডে সম্পাদক ছিলেন এনায়েতুল্লাহ খান। আর কাজী ফজলুর রহমানের আমলার দিনলিপির পরের ৩ খন্ড পড়লে ধারাবাহিতকতাটা আরও জোড়ালো হয়। বিশেষ করে শেষ অংশ, এরশাদের সময়ে অংশটুকু তো ইতিহাসের অংশ।
এনায়েতুল্লাহ খান কি কোনো এক সময় অবজার্ভারের মালিক ছিলেন?
ফজলুর রহমানের অন্য তিনটি দিনলিপি আসলে পাওয়া যাবে কোথায়? এখন কি সেসব বাজারে আছে?
সবগুলোই শওকত হোসেন মাসুমের ব্যক্তিগত সংগ্রহে আছে বলেই তো জানি
আপনি মিয়া আমাকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে যাওয়ার আগেই বাসা বদল কইরা ফেললেন। তারপর নতুন বাসায় গিয়া আর কোনো খোঁজ খবর নেন না। এইভাবে বই ঝুলায়া দাওয়াত দিতে হয় না, নিয়মটা হইলো আপনার অফিসের উল্টা পাশে স্টারে বিকাল বেলা আসতে বলবেন, তারপর আমরা কাবাব-কাচ্চি এইসব হাতে-মুখে নিয়ে বই নিয়ে আলোচনা করবো।
রাসেল ভাই কি যেন বললো দেখলাম!
অবজার্ভারের মালিক ছিলেন হামিদুল হক চৌধুরী। পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তার মেমোয়ার্স বইটিতে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেছেন।...
নথিপত্রের দুষ্প্রাপ্যতা ওই সময়ের ইতিহাসকে জানার জন্য বিরাধ এক প্রতিবন্ধক। শুনে অবাক হবেন, এই সরকারের আমলেই ন্যাশনাল আর্কাইভে জনসাধারণের প্রবেশ ও নথিপত্র ব্যবহারকে সীমিত করে ফেলা হয়েছে। 'পূর্ব অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না' বলা হলেও বাস্তবিক অর্থে অনুমতি পাওয়াটাই প্রায় অসম্ভব করে তোলা হয়েছে। ইতিহাসের সূত্র সন্ধান আপনি চাইলেও করতে পারবেন না।
কামাল ভাই ইতিহাস এক ধরণের জনপ্রিয় বিশ্বাস বলে মনে হয় আমার। যুক্তিনিষ্ট, তাত্ত্বিক অবকাঠামোতে কোনো একটি পূর্বানুমাণ ধরে নিয়ে ইতিহাস বিশ্লেষণের বৈশ্বিক চল বাংলাদেশে এখনও শুরু হয় নি। কান-কথা আর ইতিহাসের প্রভেদটুকু আলাদা করতে না পারলেও পাবলিকে যেভাবে লাফিয়ে ঝাপিয়ে ৭১এর স্মৃতিখন্ড নিয়ে মাতম করে বিষয়টা বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।
ইতিহাস বিষয়ে এক ধরণের অসস্তি নিশ্চিত আছে, সেসব অসস্তির সম্মিলিত ফলাফল ইতিহাস থেকে সাধারণকে দুরে সরিয়ে রাখা। আমি আরও বেশী বিব্রত হই যখন শুনি আমাদের ইতিহাসবিদের নাম মুনতাসির মামুন, তিনি ইতিহাসের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছেন দিন দিন।
স্যালুট রাসেল ভাই ! খুবই প্রত্যাশিত লেখা একটি । ’৭৫ পূর্ববর্তী সময়ের ইতিহাস সম্বন্ধে আমাদের তাবত লেখক/কলামিষ্ট একেবারেই চুপ । কারণটার নির্মোহ বিশ্লেষণ আপনি করেছেন । আমার মনে হয় সে সময়টা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অস্থির সময় ! আমার পুরো তারুণ্যটা কেটেছে এ অসম্ভব অস্থির কালো সময়ের মাঝে । খুব কাছে থেকে প্রত্যেক্ষ করেছি জনকের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনাচার । আমার কোন কোন লেখায় তার ছিঁটেফোটা তুলে ধরার চেষ্টা করে যথেষ্ট বিরূপ সমালোচাণার শিকার হয়েছি ! আশা করি আপনার মতো নির্মোহ লেখকরা এগিয়ে আসবেন ইতিহাসের এ অধ্যায়টা জাতির সামনে তুলে ধরতে ! ধন্যবাদ !
[ রাসেল ভাই ! খুব কষ্টে্ আছি । আমার [এ টি এম কাদের] নিজের ব্লগ খুলতে পারছিনা ৮ই মার্চের পর থেকে । যতবারই ক্লিক করি স্ক্রীণে ভেসে উঠে ‘ভুল ব্যবহারকারীর নাম বা পাস ওয়ার্ড’ । বারবার নূতন পাস ওয়ার্ড নিয়েও সমস্যার হাল হচ্ছেনা । নূতন পাস ওয়ার্ড দিয়েও প্রথম বার খোলার পর আর খুলতে পারছিনা । সম্ভব হলে হেল্প প্লীজ ! এ টি এম কাদের ]
স্যালুট রাসেল ভাই ! খুবই প্রত্যাশিত লেখা একটি । ’৭৫ পূর্ববর্তী সময়ের ইতিহাস সম্বন্ধে আমাদের তাবত লেখক/কলামিষ্ট একেবারেই চুপ । কারণটার নির্মোহ বিশ্লেষণ আপনি করেছেন । আমার মনে হয় সে সময়টা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অস্থির সময় ! আমার পুরো তারুণ্যটা কেটেছে এ অসম্ভব অস্থির কালো সময়ের মাঝে । খুব কাছে থেকে প্রত্যেক্ষ করেছি জনকের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনাচার । আমার কোন কোন লেখায় তার ছিঁটেফোটা তুলে ধরার চেষ্টা করে যথেষ্ট বিরূপ সমালোচাণার শিকার হয়েছি ! আশা করি আপনার মতো নির্মোহ লেখকরা এগিয়ে আসবেন ইতিহাসের এ অধ্যায়টা জাতির সামনে তুলে ধরতে ! ধন্যবাদ !
[ রাসেল ভাই ! খুব কষ্টে্ আছি । আমার [এ টি এম কাদের] নিজের ব্লগ খুলতে পারছিনা ৮ই মার্চের পর থেকে । যতবারই ক্লিক করি স্ক্রীণে ভেসে উঠে ‘ভুল ব্যবহারকারীর নাম বা পাস ওয়ার্ড’ । বারবার নূতন পাস ওয়ার্ড নিয়েও সমস্যার হাল হচ্ছেনা । নূতন পাস ওয়ার্ড দিয়েও প্রথম বার খোলার পর আর খুলতে পারছিনা । সম্ভব হলে হেল্প প্লীজ ! ]
এ টি এম কাদের ।
এইটা সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে টুটুল, ও চাইলে নতুন পাসওয়ার্ডও দিতে পারে।
সত্য কথা।
'কাজী ফজলুর রহমান' একজন অন্যরকম আমলা/ মানুষ। তাঁরা তিনভাই। তিন জনই সিএসপি অফিসার ছিলেন। দিনলিপি তো বাজারে আছে।
সত্য -নির্মোহ ইতিহাস খুব কম পড়েছি
যা অবস্থা। লোম বাছতে গেলে কম্বলই উধাও হয়ে যাবে
মন্তব্য করুন